শেখ মুজিবুর রহমান

বাংলাদেশের জাতির জনক ও প্রথম রাষ্ট্রপতি
(শেখ মুজিবর রহমান থেকে পুনর্নির্দেশিত)

শেখ মুজিবুর রহমান (এই শব্দ সম্পর্কেশুনুন ) (১৭ মার্চ ১৯২০ - ১৫ আগস্ট ১৯৭৫), সংক্ষিপ্তাকারে শেখ মুজিব বা মুজিব, ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতিদক্ষিণ এশিয়ার একজন অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি বাঙালির অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ ভারত থেকে ভারত বিভাজন আন্দোলন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনের প্রয়াস এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেছনের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসাবে মুজিবকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসাবে কৃতিত্ব দেওয়া হয় এবং পাশাপাশি প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এসকল কারণে, তাকে বাংলাদেশের "জাতির জনক" বা "জাতির পিতা" হিসাবে গণ্য করা হয়।[১] জনসাধারণের কাছে তিনি “বঙ্গবন্ধু”, “শেখ মুজিব” এবং “শেখ সাহেব” নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। তার কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সভানেত্রী।

বঙ্গবন্ধু

শেখ মুজিবুর রহমান
Sheikh Mujibur Rahman in 1950.jpg
১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে শেখ মুজিবুর রহমান
বাংলাদেশের ১ম রাষ্ট্রপতি
কাজের মেয়াদ
১১ এপ্রিল ১৯৭১ – ১২ জানুয়ারি ১৯৭২
প্রধানমন্ত্রীতাজউদ্দিন আহমেদ
পূর্বসূরীরাষ্ট্রপতির পদ স্থাপিত
উত্তরসূরীসৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী)
বাংলাদেশের ২য় প্রধানমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১২ জানুয়ারি ১৯৭২ – ২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫
রাষ্ট্রপতিআবু সাঈদ চৌধুরী
মোহাম্মদউল্লাহ
পূর্বসূরীতাজউদ্দিন আহমেদ
উত্তরসূরীমুহাম্মদ মনসুর আলী
বাংলাদেশের ৪র্থ‌ রাষ্ট্রপতি
কাজের মেয়াদ
২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫
প্রধানমন্ত্রীমুহাম্মদ মনসুর আলী
পূর্বসূরীমোহাম্মদউল্লাহ
উত্তরসূরীখন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৯২০-০৩-১৭)১৭ মার্চ ১৯২০
টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ মহকুমা, ফরিদপুর জেলা, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমান টুঙ্গিপাড়া উপজেলা, গোপালগঞ্জ জেলা, বাংলাদেশ)
মৃত্যু১৫ আগস্ট ১৯৭৫(1975-08-15) (বয়স ৫৫)
নিজস্ব বাসভবন, ৩২নং সড়ক, ধানমন্ডি, ঢাকা, বাংলাদেশ
মৃত্যুর কারণগুপ্তহত্যা
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারত (১৯২০–১৯৪৭)
 পাকিস্তান (১৯৪৭–১৯৭১)
 বাংলাদেশ (১৯৭১–১৯৭৫)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (১৯৭৫)
অন্যান্য
রাজনৈতিক দল
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ (১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে)
আওয়ামী লীগ (১৯৪৯-১৯৭৫)
দাম্পত্য সঙ্গীবেগম ফজিলাতুন্নেসা
সন্তানশেখ হাসিনা
শেখ রেহানা
শেখ কামাল
শেখ জামাল
শেখ রাসেল
মাতাসায়েরা খাতুন
পিতাশেখ লুৎফুর রহমান
প্রাক্তন শিক্ষার্থীইসলামিয়া কলেজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
স্বাক্ষর

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হন।[২] সমাজতন্ত্রের পক্ষসমর্থনকারী একজন অধিবক্তা হিসেবে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ছয় দফা স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন যাকে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসাবে ঘোষণা করেছিল।[৩] ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রধান ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন যার কারণে তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকারের সাথে যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তার নামে আগরতলা মামলা করা হয়, তবে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কারণে তা প্রত্যাহার করা হয়।[৪] ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। তথাপি তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়া হয়নি।

পাকিস্তানের নতুন সরকার গঠন বিষয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে শেখ মুজিবের আলোচনা বিফলে যাওয়ার পর ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে গণহত্যা চালায়। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। একই রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।[৫] ব্রিগেডিয়ার রহিমুদ্দিন খান সামরিক আদালতে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলেও, তা কার্যকর করা হয়নি।[৬][৭] নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়। ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই জানুয়ারি তিনি সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।[৮] মতাদর্শগতভাবে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্রধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন; যা সম্মিলিতভাবে মুজিববাদ নামে পরিচিত। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভিত্তি করে সংবিধান প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী রাষ্ট্র চালনার চেষ্টা সত্ত্বেও তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সর্বব্যাপী অরাজকতা এবং সেই সাথে ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দমনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এক দলীয় রাজনীতি ঘোষণা করেন। এর সাত মাস পরে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট একদল সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে বিবিসি পরিচালিত একটি জরিপ মতে শেখ মুজিবুর রহমানকে “সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি” বলা হয়।[৯][১০][১১]

প্রারম্ভিক জীবন

জন্ম

 
টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের পৈতৃক ভিটা

শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই মার্চ (৩ চৈত্র, ১৩২৭ বঙ্গাব্দ) তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের বাইগার নদীর তীরবর্তী টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[১২] প্রকৃতপক্ষে বাইগার নদী মধুমতি নদীর একটি শাখা নদী। তার বাবা শেখ লুৎফুর রহমান গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার (যিনি আদালতের হিসাব সংরক্ষণ করেন) ছিলেন এবং মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয় সন্তান। শেখ মুজিবুর রহমান শেখ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। শেখ বোরহানউদ্দিন এই বংশের গোড়াপত্তন করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের বড় বোনের নাম ফাতেমা বেগম, মেজ বোন আছিয়া বেগম, সেজ বোন হেলেন ও ছোট বোন লাইলী; তার ছোট ভাইয়ের নাম শেখ আবু নাসের[১৩]

“শেখ মুজিবুর রহমান” এই নামকরণটি তার নানা শেখ আবদুল মজিদ করেন। শেখ মুজিবুরের ডাক নাম ছিল খোকা।[১৪][১৫] তিনি ছোট বেলা থেকেই মানুষের প্রতি সহমর্মী স্বভাবের ছিলেন। দুর্ভিক্ষের সময় নিজের গোলা থেকে ধান দান করতেন। সমিতি করে অন্যদের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করে গরিব ছাত্রদের মধ্যে বিলি করতেন।[১৪]

শিক্ষা

 
১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে ফুটবল খেলায় ট্রফি বিজেতা শেখ মুজিব

১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে শেখ মুজিব গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন যখন তার বয়স সাত বছর। নয় বছর বয়সে তথা ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন এবং এখানেই ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে গোপালগঞ্জে মাথুরানাথ ইনস্টিটিউট মিশন স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বেরিবেরি নামক জটিল রোগে আক্রান্ত হন এবং তার হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে তার চোখে গ্লুকোমা ধরা পড়ে। যার কারণে তার চোখে সার্জারি করাতে হয় এবং এ থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে বেশ সময় লেগেছিল। এ কারণে তিনি ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চার বছর বিদ্যালয়ের পাঠ চালিয়ে যেতে পারেননি। তিনি সুস্থ হবার পর পুনরায় স্কুলে ভর্তি হন। এই সময় হামিদ মাস্টার নামে একজন শেখ মুজিবুর রহমানের গৃহশিক্ষক ছিলেন, যিনি ছিলেন ব্রিটিশবিরােধী আন্দোলনে সক্রিয় এবং বহু বছর জেল খাটেন। পরবর্তীতে গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে তিনি ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।[১৬] তিনি ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান নাম মওলানা আজাদ কলেজ) থেকে আই.এ এবং ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।[১৭] কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই কলেজটি তখন বেশ নামকরা ছিল। ইসলামিয়া কলেজে ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি বেকার হোস্টেলের ২৪ নং কক্ষে থাকতেন। ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ২৩ ও ২৪ নাম্বার কক্ষকে একত্রিত করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষ’ তৈরি করে।[১৮] ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ ফেব্রুয়ারি এ কক্ষের সম্মুখে তার আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।[১৮] ভারত বিভাগের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন। তবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি দাওয়ার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঔদাসীন্যের বিরুদ্ধে তাদের বিক্ষোভ প্রদর্শনে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে।[১৯] তবে ১৪ আগস্ট, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।[২০]

ব্রিটিশ ভারতে রাজনৈতিক সক্রিয়তা

 
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে মহাত্মা গান্ধী ও হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর সাথে শেখ মুজিব (দণ্ডায়মান)

মুজিবের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। সে বছরই স্কুল পরিদর্শনে এসেছিলেন তদানীন্তন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং পরবর্তীতে বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী। তিনি স্কুলের ছাদ সংস্কারের দাবির উপর ভিত্তি করে একটি দল নিয়ে তাদের কাছে যান যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি নিজেই।[১৯] ব্যক্তিগত রেষারেষির জেরে ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রথম বারের মতো গ্রেফতার করা হয়। ৭ দিন হাজতবাস করার পর তিনি ছাড়া পান।[১৭] ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। সেখানে তিনি এক বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে ম্যাট্রিকুলেশন (এনট্র্যান্স) পাশ করার পর ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনাকালীন সময় তিনি হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর সংস্পর্শে আসেন এবং হলওয়ে মনুমেন্ট আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।[১৫] এই সময় থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।[১৭] ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বেঙ্গল মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অগ্রণী কাশ্মীরি বংশোদ্ভূত বাঙালি মুসলিম নেতা হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর সান্নিধ্যে আসেন। এখানে তার ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য বিষয় ছিল একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন। ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।[২১]

 
১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর সাথে শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্র লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে শেখ মুজিব বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি কলকাতায় বসবাসকারী ফরিদপুরবাসীদের নিয়ে তৈরি “ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের” সেক্রেটারি মনোনীত হন। এর দুই বছর পর ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের মহাসচিব নির্বাচিত হন।[২১]

পাকিস্তান আন্দোলন, যুক্তবঙ্গ ও দেশভাগ

১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের পর মুসলিম লীগ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য মাঠে নেমে পড়ে। মুসলিম লীগের তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিব এ সময় পাকিস্তান আন্দোলনে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন।[২২][২৩] “পাকিস্তান দাবির পক্ষে গণভোট” খ্যাত ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিব বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে লীগের ওয়ার্কার ইনচার্জ হিসেবে একনিষ্ঠভাবে কাজ করেন৷ একদম তৃণমূল পর্যায়ে, সাধারণ কৃষক সমাজের কাছে গিয়ে তিনি পাকিস্তান দাবির ন্যায্যতা প্রচার করে ভোট চান। এই নির্বাচনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোতে মুসলিম লীগ বিজয় লাভ করে। তবে একমাত্র বাংলায় তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়।[২৩]

১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ আগস্ট প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালনের সময় কলকাতায় ভয়ানক হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। এসময় মুজিব মুসলিমদের রক্ষা এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক তৎপরতায় শরিক হন।[২৪] সেই সময় সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, শরৎচন্দ্র বসু প্রমুখের নেতৃত্বে ভারত ও পাকিস্তান ডমিনিয়নের বাইরে অবিভক্ত স্বাধীন বাংলা গঠনের যে “যুক্তবঙ্গ আন্দোলন” সংগঠিত হয়, শেখ মুজিব তাতেও যুক্ত হন। [টীকা ১][২২]

পাকিস্তানে রাজনৈতিক সংগ্রাম

পাকিস্তান-ভারত পৃথক হয়ে যাওয়ার পর শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন।[১৭] ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।[২৫] যার মাধ্যমে তিনি উক্ত প্রদেশের অন্যতম প্রধান ছাত্রনেতায় পরিণত হন। এ সময় সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার নিম্নমানের উন্নয়নের জন্য এটিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে মনে করতে থাকেন।[২৬]

বাংলা ভাষা আন্দোলন

১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণকালে মওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবুর রহমান

বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্দোলনে অংশ নেয়ার মাধ্যমে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক তৎপরতার সূচনা ঘটে। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে উর্দু বা ইংরেজিতে বক্তব্য দেয়ার প্রস্তাব নাকচ করেন পূর্ব পাকিস্তানের কংগ্রেসের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি বাংলাকেও পরিষদের ভাষা করার দাবি তুলে ধরেন। ওই সময় পাকিস্তানের প্রধাননন্ত্রীর লিয়াকত আলী খান ও পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন বাংলা ভাষার বিরোধিতা করলে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।[২৭] এতে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদী শেখ মুজিব অবিলম্বে মুসলিম লীগের এই পূর্ব পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। একই বছরের ২ মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করা হয় যাতে শেখ মুজিব একটি প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। যা থেকে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।[২৮] এই পরিষদের আহ্বানে ১১ মার্চ ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘট পালনকালে শেখ মুজিবসহ আরও কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীকে সচিবালয় ভবনের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু ছাত্রসমাজের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ১৫ মার্চ শেখ মুজিব এবং অন্য ছাত্র নেতাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়।[২৯] এদের মুক্তি উপলক্ষে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় র‌্যালি হয় যাতে শেখ মুজিব সভাপতিত্ব করেন। তবে পুলিশ এই র‌্যালি অবরোধ করেছিল। পুলিশি কার্যক্রমের প্রতিবাদে শেখ মুজিব অবিলম্বে ১৭ মার্চ ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে দেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। ১৯ মার্চ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন। এতে ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তাকে আবার আটক করা হয়।[৩০] ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২১ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি আবার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন যার জন্য তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জরিমানা করা হয়। কিন্তু তিনি এই জরিমানাকে অবৈধ ঘোষণা করে তা প্রদান থেকে বিরত থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ এপ্রিল ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম লীগ বিরোধী প্রার্থী শামসুল হক টাঙ্গাইলে একটি উপ-নির্বাচনে বিজয় লাভ করেন।[৩১] শেখ মুজিব তার সেই আন্দোলনের সফলতার জন্য উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনের ধর্মঘট করেন যার জন্য তাকে আবার আটক করা হয়। এ সময়ই তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান। উল্লেখ্য যে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ আগস্ট তার হৃত ছাত্রত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফিরিয়ে দেয়।[২০][৩২]

 
২৬শে জুন, ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের পূর্ব পাকিস্তান আগমনকে উপলক্ষ করে আওয়ামী মুসলিম লীগ ঢাকায় দুর্ভিক্ষবিরোধী মিছিল বের করে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে এবারও শেখ মুজিবকে আটক করা হয় এবং দুই বছর জেলে আটক করে রাখা হয়।[৩৩] ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন আবারও ঘোষণা করেন, “উর্দুই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে।” এ ঘোষণার পর জেলে থাকা সত্ত্বেও জেল থেকে নির্দেশনা দেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আয়োজনে তিনি ভূমিকা রাখেন। এরপরই ২১ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রভাষার দাবী আদায়ের দিবস হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সময়ে শেখ মুজিব জেলে থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনশন পালনের সিদ্ধান্ত নেন। তার এই অনশন ১৩ দিন কার্যকর ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়।[৩৪]

আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা

 
১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে শেখ মুজিবুর রহমান (মাঝে)

১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী এবং মাওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করার পর শেখ মুজিব মুসলিম লীগ ছেড়ে দিয়ে এই নতুন দলে যোগ দেন। তাকে দলের পূর্ব পাকিস্তান অংশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।[৩৫] তিনি ২৬শে জুন জেল থেকে ছাড়া পান। ছাড়া পাওয়ার পরই খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে আটক করে রাখা হলেও অচিরেই ছাড়া পেয়ে যান। একই বছরের অক্টোবর মাসে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সাথে মিলে লিয়াকত আলি খানের কাছে একটি প্রতিনিধিদল প্রেরণের চেষ্টা করায় ভাসানী এবং তাকে আটক করা হয়।[৩৬]

যুক্তফ্রন্ট সরকার

যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রী হিসাবে শপথ পাঠ করছেন শেখ মুজিবুর রহমান
১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে নির্বাচিত যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান (বাম থেকে দ্বিতীয়)

১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জুলাই তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের শেষে দলের সেক্রেটারি জেনারেল বা মহাসচিব নির্বাচিত হন।[৩৭] একই বছরের ১৪ নভেম্বর সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অন্যান্য দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি আসনের মধ্যে ২২৩টিতে বিপুল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করে যার মধ্যে ১৪৩টি আসনই আওয়ামী লীগ লাভ করেছিল।[৩৮] শেখ মুজিব গোপালগঞ্জে আসনে ১৩,০০০ ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ করেন।[৩৯] সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল শক্তিশালী মুসলিম লীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামান। ১৫ মে তাকে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।[৪০] ২৯ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট ভেঙে দেয়। ৩১ মে করাচি থেকে ঢাকা ফেরার পর বিমান বন্দর থেকেই তাকে আটক করা হয়। ২৩ ডিসেম্বর মুক্তি লাভ করেন। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ৫ জুন শেখ মুজিব প্রথমবারের মতো গণপরিষদের সদস্য হন।[৪১] ১৭ জুন আওয়ামী লীগ পল্টন ময়দানে আয়োজিত এক সম্মেলনে ২১ দফা দাবি পেশ করে, যার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২৩ জুন দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জিত না হলে আইন সভার সকল সদস্য পদত্যাগ করবেন। ২৫ আগস্ট পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশনে শেখ মুজিব বলেন:[১২]

(ইংরেজি)

«Sir (President of the Constituent Assembly), you will see that they want to place the word ‘East Pakistan’ instead of ‘East Bengal’. We have demanded so many times that you should use Bengal instead of Pakistan. The word ‘Bengal’ has a history, has a tradition of its own. You can change it only after the people have been consulted. If you want to change it then we have to go back to Bengal and ask them whether they accept it. So far as the question of One-Unit is concerned it can come in the constitution. Why do you want it to be taken up just now? What about the state language, Bengali? What about joint electorate? What about Autonomy? The people of East Bengal will be prepared to consider One-Unit with all these things. So, I appeal to my friends on that side to allow the people to give their verdict in any way, in the form of referendum or in the form of plebiscite.[২৪]»

(বাংলা)

«স্যার [গণপরিষদের প্রেসিডেন্ট], আপনি দেখবেন ওরা “পূর্ব বাংলা” নামের পরিবর্তে “পূর্ব পাকিস্তান” নাম রাখতে চায়। আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছি যে; পাকিস্তানের পরিবর্তে আপনাদের বাংলা [বঙ্গ] ব্যবহার করতে হবে। “বাংলা” শব্দটার একটি নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য আছে। আপনারা এই নাম আমাদের জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরিবর্তন করতে পারেন। আপনারা যদি ঐ নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে আমাদের বাংলায় আবার যেতে হবে এবং সেখানকার জনগণের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে তারা নাম পরিবর্তনকে মেনে নেবে কিনা। এক ইউনিটের প্রশ্নটা গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আপনারা এটাকে এখনই কেন তুলতে চান? বাংলা ভাষাকে, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে কি হবে? যুক্ত নির্বাচনী এলাকা গঠনের প্রশ্ননটাই কি সমাধান? আমাদের স্বায়ত্তশাসন সম্বন্ধে ভাবছেন? পূর্ব বাংলার জনগণ অন্যান্য প্রশ্নগুলোর সমাধানের সাথে এক ইউনিটের প্রশ্নটাকে বিবেচনা করতে প্রস্তুত। তাই আমি আমার ঐ অংশের বন্ধুদের কাছে আবেদন জানাবো তারা যেন আমাদের জনগণের রেফারেন্ডাম অথবা গণভোটের মাধ্যমে দেয়া রায়কে মেনে নেন।»

১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ২১-২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগের বিশেষ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে দলের নাম থেকে “মুসলিম” শব্দটি বাদ দেয়া হয় ও শেখ মুজিবকে পুনরায় দলের মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়।[৪২] ৩ ফেব্রুয়ারি মুখ্য মন্ত্রীর সাথে আওয়ামী লীগের বৈঠকে দল থেকে খসড়া সংবিধানে স্বায়ত্তশাসন অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। ১৪ জুলাই রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব রাখা হয় যা তিনিই সরকারের কাছে পেশ করেন। সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখ তার নেতৃত্বে একটি দুর্ভিক্ষ বিরোধী মিছিল বের হয়। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের কারণে এই মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে কমপক্ষে চারজন নিহত হয়।[৪৩] ১৬ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিব কোয়ালিশন সরকারে যোগ দিয়ে একযোগে শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতিরোধ এবং গ্রামীণ সহায়তা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ জানুয়ারি পাক-ভারত বাণিজ্য চুক্তি সম্মেলনে যোগদান করার জন্য নয়াদিল্লি যান। তিনি দলের জন্য সম্পূর্ণ সময় ব্যয় করার তাগিদে ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ৩০ মে মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন।[৪৪][৪৫] শেখ মুজিবুর রহমান তার রাজনৈতিক জীবনের প্রথম থেকেই গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ৭ আগস্ট ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সরকারি সফরে চীন এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন গমন করেন। চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক নাগরিক জীবন-যাপনের সুবিধা শেখ মুজিবুর রহমানকে উদ্দীপ্ত করে তোলে। ১৯৫৭-৫৮ খ্রিষ্টাব্দের জন্য তিনি পাকিস্তানের চা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।[১৭]

সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন

 
১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন-লাই (পেছনে), হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর (বামে) সাথে শেখ মুজিব

১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই অক্টোবর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা এবং সেনাবাহিনী প্রধান আইয়ুব খান দেশে সামরিক আইন জারি করে। আইয়ুব খানের সমালোচনা করার জন্য ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ অক্টোবর তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ৫ ডিসেম্বর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আইয়ুব খান ৬ বছরের জন্য সকল ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। জেলে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়। ১২ সেপ্টেম্বরে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৪ মাস একটানা আটক থাকার পর তাকে মুক্তি দেয়া হলেও জেলের ফটক থেকে পুনরায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করার মাধ্যমে তিনি ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে জেল থেকে ছাড়া পান।[৪৬][৪৭] এবার তিনি গুপ্ত রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন। অন্যান্য সাধারণ ছাত্রনেতাদের নিয়ে গোপনে নিউক্লিয়াস এবং স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ নামে সংগঠন গড়ে তোলেন। যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করা।[৪৬][৪৮] শেখ মুজিব ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার স্বাধীনতার জন্য জহরলাল নেহরুর সাহায্য চাইলে নেহেরু সাহায্য করতে অস্বীকার করেন।[৪৭] ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জানুয়ারি সামরিক সরকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমান দলকে পুনরায় সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ফেব্রুয়ারি জননিরাপত্তা আইনে তাকে আবার আটক করা হয়েছিল। জুনের ২ তারিখে চার বছরব্যাপী মার্শাল ল' অপসারণের পর একই মাসের ১৮ তারিখে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।[৩৩][৪৯] ২৫ জুন তিনি অন্য রাজনৈতিক নেতাদের সাথে মিলে আইয়ুব খান আরোপিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুর বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমে পড়েন। ৫ জুন তিনি পল্টন ময়দানে আয়োজিত এক সম্মেলনে আইয়ুব খানের সমালোচনা করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি লাহোরে যান এবং সেখানে শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী সাথে মিলে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গড়ে তোলেন। এটি মূলত বিরোধী দলসমূহের একটি সাধারণ কাঠামো হিসেবে কাজ করেছিল।

 
শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর সাথে প্রিয় শিষ্য শেখ মুজিব

পুরো অক্টোবর মাস জুড়ে শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর সাথে মিলে এই যুক্তফ্রন্টের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে তিনি বাংলার বিভিন্ন স্থান সফর করেন। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে লন্ডন যান, শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী সেখানে চিকিৎসারত ছিলেন। এই বছরের ৫ ডিসেম্বর তিনি বৈরুতে মৃত্যুবরণ করেন।[৫০] হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জানুয়ারিতে মুজিবের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আওয়ামী লীগকে পুনরায় সংহত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই বৈঠকের প্রস্তাবের ভিত্তিতে শেখ মুজিব তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মহাসচিব[৫১]মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১১ মার্চ ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে একটি সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় যার মাধ্যমে মুজিব সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধকল্পে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সেনাশাসক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সামরিক শাসন, রাজনীতির নামে মৌলিক গণতন্ত্র প্রচলন (বেসিক ডেমোক্রেসি) এবং পাকিস্তানের কাঠামোতে এক-ইউনিট পদ্ধতির বিরোধী নেতাদের মধ্যে অগ্রগামী ছিলেন শেখ মুজিব। মৌলিক গণতন্ত্র অনুযায়ী সারা দেশ থেকে ৮০ হাজার প্রতিনিধি নির্বাচন করা হত যাদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতো। এই পদ্ধতি অনুযায়ী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং প্রদেশগুলোকে একত্রে জুড়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।[৫২] এ সময় সামরিক বাহিনীর গণহত্যা আর বাঙালিদের চাহিদা পূরণে সামরিক শাসকদের ঔদাসীন্য পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।[৫৩] অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কাজ করতে গিয়ে মুজিব আইয়ুব-বিরোধী সর্বদলীয় প্রার্থী ফাতিমা জিন্নাহকে সমর্থন করেন।[৫৪] ভারতের দালাল অভিযুক্ত করে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পূর্বে, ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ৭ নভেম্বর তাকে আটক করা হয়। শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং আপত্তিকর প্রস্তাব পেশের অভিযোগে অভিযুক্ত করে এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।[২৪] অবশ্য উচ্চ আদালতের এক রায়ে তার আগেই তিনি মুক্তি পেয়ে যান।

ছয় দফা আন্দোলন

 
শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করছেন

১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের একটি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।[১২] এ সম্মেলনেই শেখ মুজিব তার ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন যা ছিল কার্যত পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের পরিপূর্ণ রূপরেখা। ছয় দফার দাবিগুলো ছিল-

  1. যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাধীনে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার হবে। সসর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠান।
  2. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কেবল মাত্র দুইটি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে- দেশরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি। অবশিষ্ট সকল বিষয়ে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলির ক্ষমতা থাকবে নিরঙ্কুশ।
  3. সমগ্র দেশের জন্যে দুইটি পৃথক, অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা, না হয় বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে একই ধরনের মুদ্রা প্রচলন
  4. ফেডারেশনের অঙ্গরাজ্যগুলির কর বা শুল্ক ধার্যের ব্যাপারে সার্বভৌম ক্ষমতা থাকবে। তবে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গ-রাষ্ট্রীয় রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাপ্য হবে।
  5. অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার মালিক হবে, এর নির্ধারিত অংশ তারা কেন্দ্রকে দেবে।
  6. আঞ্চলিক সংহতি ও শাসনতন্ত্র রক্ষার জন্য শাসনতন্ত্রে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলিকে স্বীয় কর্তৃত্বাধীনে আধা সামরিক বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন ও রাখার ক্ষমতা দিতে হবে।[৫৫]

শেখ মুজিব এই দাবিকে আমাদের বাঁচার দাবী শিরোনামে প্রচার করেছিলেন। এই দাবির মূল বিষয় ছিল একটি দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত পাকিস্তানী ফেডারেশনে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন।[৫২] এই দাবি সম্মেলনের উদ্যোক্তারা প্রত্যাখান করেন এবং শেখ মুজিবকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেন।[৩] এ কারণে তিনি উক্ত সম্মেলন বর্জন করে পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসেন।

 
ছয় দফা দাবি পেশের পর তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে সাথে নিয়ে লাহোর থেকে ফিরছেন বঙ্গবন্ধু

১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের পহেলা মার্চে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনের পর তিনি ছয় দফার পক্ষে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রচার কার্য পরিচালনা করেন ও প্রায় পুরো দেশই ভ্রমণ করে জনসমর্থন অর্জন করেন। এই ভ্রমণের সময় তিনি সিলেট, ময়মনসিংহ এবং ঢাকায় বেশ কয়েকবার পুলিশের হাতে বন্দী হন। বছরের প্রথম চতুর্থাংশেই তাকে আটবার আটক করা হয়েছিল। এই বছরের মে মাসের ৮ তারিখে নারায়ণগঞ্জে পাট কারখানার শ্রমিকদের এক র‍্যালিতে অংশগ্রহণের জন্য তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়।[৫৬] তার মুক্তির দাবিতে ৭ জুন দেশব্যাপী ধর্মঘট পালিত হয়। পুলিশ এই ধর্মঘট চলাকালে গুলিবর্ষণ করে যার কারণে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জে আনুমানিক তিনজনের মৃত্যু হয়।[৫৭]

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা

 
আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের পর তাজউদ্দিনের সাথে শেখ মুজিব

সেনাবাহিনী কর্তৃক আটক হয়ে জেলে দুই বছর থাকার পর ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবসহ ৩৫জন বাঙালি সামরিক ও সিএসপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে যা ইতিহাসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে সুপরিচিত।[৪] মামলায় পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১ ও ১৩১ ধারা অনুসারে উল্লেখ করা হয়েছিল শেখ মুজিবসহ এই কর্মকর্তারা ভারতের ত্রিপুরা অঙ্গরাজ্যের অন্তর্গত আগরতলা শহরে ভারত সরকারের সাথে এক বৈঠকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছে।[১২] এতে শেখ মুজিবকে এক নম্বর আসামি করা হয় এবং পাকিস্তান বিভক্তিকরণের এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অভিযুক্ত সকল আসামিকে ঢাকা সেনানিবাসে অন্তরীণ করে রাখা হয়। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ জুন ঢাকা সেনানিবাসের এক বিশেষ ট্রাইবুনালে এ মামলার শুনানি শুরু হয়।[৪] এই মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে ২৬ জন কৌশলী ছিলেন। শেখ মুজিবের প্রধান কৌশলী ছিলেন আব্দুস সালাম খান। একটি সেশনের জন্য ব্রিটেন থেকে আসেন আইনজীবী টমাস উইলিয়াম। তাকে সাহায্য করেন তরুণ ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম ও মওদুদ আহমেদ। মামলাটির মোট ১০০টি অনুচ্ছেদ ছিল। ১১ জন রাজসাক্ষী ও ২২৭ জন সাক্ষীর তালিকা আদালতে পেশ করা হয়। এই মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঞ্জুর কাদের, এম আর খান ও মুকসুদুল হাকিম।[৪] এর অব্যবহিত পরেই সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এই মামলাকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে সর্বস্তরের মানুষ শেখ মুজিবসহ অভিযুক্ত সকলের মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসে।

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান

বিচারকার্য চলাকালীন সময়ে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাদের এগার দফা দাবি পেশ করে যার মধ্যে শেখ মুজিবের ছয় দফার সবগুলোই দফাই অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৫৮][৫৯] এই পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের প্রস্তুতি গৃহীত হয়। এই সংগ্রাম এক সময় গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। এই গণ আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। মাসব্যাপী প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আন্দোলন, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ, কারফিউ, পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং বেশ কিছু হতাহতের পর আন্দোলন চরম রূপ ধারণ করলে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান রাজনৈতিক নেতাদের সাথে এক গোলটেবিল বৈঠকের পর এই মামলা প্রত্যাহার করে নেন। এর সাথে শেখ মুজিবসহ অভিযুক্ত সকলকে মুক্তি দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার এই সম্মেলনে শেখ মুজিবকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধি প্রদান করা হয়। উপাধি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ[৬০] এই সভায় রাখা বক্তৃতায় শেখ মুজিব ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগার দফা দাবির পক্ষে তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে আইয়ুব খানের আহ্বানে অনুষ্ঠিত একটি সর্বদলীয় সম্মেলনে মুজিব তার ছয়-দফাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চাহিদাগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং তা প্রত্যাখ্যাত হলে সম্মেলন থেকে বের হয়ে আসেন। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় মুজিব ঘোষণা করেন যে এখন থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে “বাংলাদেশ” নামে অভিহিত করা হবে:

“একটা সময় ছিল যখন এই মাটি আর মানচিত্র থেকে 'বাংলা' শব্দটি মুছে ফেলার সব ধরণের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। 'বাংলা' শব্দটির অস্তিত্ব শুধু বঙ্গোপসাগর ছাড়া আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আজ ঘোষণা করছি যে, এখন থেকে এই দেশকে 'পূর্ব পাকিস্তানের' বদলে 'বাংলাদেশ' ডাকা হবে।”[২৪]

মুজিবের এই ঘোষণার ফলে সারা দেশে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিম পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ এবং সামরিক কর্তারা তাকে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করতে শুরু করেন। মুজিবের বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতিগত আত্মপরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ প্রাদেশিক স্বায়ত্বশাসনের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। অনেক বুদ্ধিজীবী ব্যক্তিত্বের মতে, বাঙালিদের আন্দোলন দ্বিজাতিতত্ত্বকে অস্বীকার করার নামান্তর। যে দ্বিজাতিতত্ত্বের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। বাঙালিদের জাতিগত ও সংস্কৃতিগত এই আত্মপরিচয় তাদেরকে একটি আলাদা জাতিসত্তা প্রদান করে।[৬১] তবে মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে সমর্থ হন এবং ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ কার্যত ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।

৭০-এর সাধারণ নির্বাচন

 
৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণায় শেখ মুজিব

১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মার্চ আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেন।[৬২] ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান উক্ত পদে আসীন হয়।[৬৩] তিনি ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ এক ঘোষণায় পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দেন। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ৭ ডিসেম্বর (জাতীয়) ও ১৭ ডিসেম্বর (প্রাদেশিক) “এক ব্যক্তির এক ভোটের ভিত্তিতে” নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।[৬৪] জাতীয় পরিষদে সদস্য সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন। এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ১৬৯ জন এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ১৪৪ জন প্রতিনিধি থাকতেন।[৬৫][৬৬] ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক আইনসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পূর্ব পাকিস্তানের বরাদ্দকৃত ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসনে বিজয়ী হয়। ১৭ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক নির্বাচনের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসনে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে।[৬৪][১২][১৯] পূর্ব পাকিস্তানের কোটার ২টি আসন ছাড়া বাকি সবগুলোতে জয়ী হওয়ার জন্য জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাও অর্জন করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের ফলাফল পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে মেরুকরণ সৃষ্টি করে। পশ্চিম পাকিস্তানের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতা জুলফিকার আলি ভুট্টো, মুজিবের স্বায়ত্বশাসনের নীতির প্রবল বিরোধিতা করেন। ভুট্টো এ্যাসেম্বলি বয়কট করার হুমকি দিয়ে ঘোষণা দেন যে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান মুজিবকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানালে তিনি সে সরকারকে মেনে নেবেন না। অধিকাংশ পশ্চিম পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা ও ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো শেখ মুজিবের আসন্ন প্রধানমন্ত্রিত্ব লাভের বিরোধিতা করে। এসময় শেখ মুজিব কিংবা আওয়ামী লীগ কেউই পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্বাধীনতার চিন্তা করেন নি, কিছুসংখ্যক জাতীয়তাবাদী দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা দাবি করে।[৬৭]

ভুট্টো গৃহযুদ্ধের ভয়ে শেখ মুজিব ও তার ঘনিষ্ঠজনদেরকে নিজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য একটি গোপন বার্তা পাঠান।[৬৮][৬৯] হাসান মুজিবের সঙ্গে গোপনে দেখা করে মুজিবকে ভুট্টোর সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠনে প্ররোচনা দেন, যেখানে ভুট্টো থাকবে রাষ্ট্রপতি এবং শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হবেন।[৭০] সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের অগোচরে সম্পূর্ণ গোপনে এই আলোচনা পরিচালিত হয়। একইসময়ে, ভুট্টো আসন্ন সরকার গঠনকে বানচাল করার জন্য ইয়াহিয়া খানের উপর চাপ দিতে থাকেন।[৭১]

৭ই মার্চের ভাষণ

 
সাতই মার্চের ভাষণ দিচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান

আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও সামরিক শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিলম্ব করতে শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, যে-কোনভাবে ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখা। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ১লা মার্চ এই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন।[৭২][৭৩][৭৪] পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা এর ফলে বুঝতে পারে যে, মুজিবের দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও সরকার গঠন করতে দেয়া হবে না।[৫১] এই সংবাদে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে একযোগে হরতাল পালিত হয়। তিনি ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সমগ্র পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ৬ মার্চ এক বেতার ভাষণে ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিতার কারণ বলে উল্লেখ করে সকল দোষ তার উপর চাপিয়ে দেন। এই পটভূমিতেই ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক একত্রিত হয়। সাধারণ জনতা এবং সার্বিকভাবে সমগ্র জাতির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন। তিনি ঘোষণা দেন-

“রক্ত যখন দিয়েছি আরও রক্ত দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে তুলবো ইনশাআল্লাহ। এবারেরা সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।”[৭৫]

৮ই মার্চ জনতার চাপে বেতার ও টেলিভিশনে এই ভাষণ প্রচার করা হয়।

ইয়াহিয়া-মুজিব-ভুট্টো বৈঠক

১০ মার্চ সংসদীয় গ্রুপের ১২ জন নেতাকে ইয়াহিয়া খান বৈঠকে ডাকলে শেখ মুজিব তা প্রত্যাখ্যান করেন। ১৫ মার্চে অসহযোগ আন্দোলনের জন্য সুনির্দিষ্ট ৩৫টি নির্দেশনা জারী করেন। ১৫ মার্চ, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন এবং ১৬ মার্চ শেখ মুজিবের সঙ্গে সরকার গঠন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেন।[৭৬] কিন্তু একই সঙ্গে সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চালানোর পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। বেলুচিস্তানের কসাই হিসেবে পরিচিত জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে ঢাকায় প্রেরণ করা হয় এবং পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র আনা হতে থাকে। ১৯ মার্চ ইয়াহিয়া-মুজিব তৃতীয় দফা বৈঠক হয়। ২১ মার্চ আলোচনায় যোগ দিতে জুলফিকার আলী ভুট্টো ও ১২ জন উপদেষ্টা ঢাকা আসেন। ২২ মার্চ ভুট্টো-মুজিবের ৯০ মিনিটের একটি বৈঠক হয়।[১৭] অনেক আশা সত্ত্বেও ভুট্টো-মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক সফল হয়নি। ২৩ মার্চ প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। ২৫ মার্চ ভুট্টো-ইয়াহিয়া রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে বাঙালি নিধনযজ্ঞের সবুজ সংকেত প্রদান করে সন্ধ্যায় গোপনে পশ্চিম পাকিস্তান যাত্রা করেন। উইং কমাণ্ডার এ. কে. খন্দকার শেখ মুজিবকে বিষয়টি জানান। ২৫ মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং ১টা ১০ মিনিটে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়।[৭৭][৭৮]

কারাভোগ

শেখ মুজিবুর রহমান তার রাজনৈতিক জীবনে ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাভোগ করেছেন। এর মধ্যে স্কুলের ছাত্র অবস্থায় ব্রিটিশ আমলে সাত দিন কারাভোগ করেন। বাকি ৪ হাজার ৬৭৫ দিন তিনি কারাভোগ করেন পাকিস্তান সরকারের আমলে। বঙ্গবন্ধু তার জীবনের প্রায় ১৩ বছর কারাগারে ছিলেন। তিনি ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম কারাগারে যান। এরপর ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাঁচ দিন কারাগারে ছিলেন। একই বছর ১১ সেপ্টেম্বর আটক হয়ে মুক্তি পান ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২১ জানুয়ারি। এ দফায় তিনি ১৩২ দিন কারাভোগ করেন। এরপর ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল আবারও কারাগারে গিয়ে ৮০ দিন কারাভোগ করে মুক্তি পান ২৮ জুন। ওই দফায় তিনি ২৭ দিন কারাভোগ করেন। একই বছরের ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৩ দিন এবং ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ ফেব্রুয়ারি টানা ৭৮৭ দিন কারাগারে ছিলেন।

১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে জয়লাভের পরও বঙ্গবন্ধু ২০৬ দিন কারা ভোগ করেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির পর বঙ্গবন্ধু ১১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। এ সময়ে টানা ১ হাজার ১৫৩ দিন তাকে কারাগারে কাটাতে হয়। এরপর ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ৬ জানুয়ারি আবারও গ্রেপ্তার হয়ে মুক্তি পান ওই বছরের ১৮ জুন। এ দফায় তিনি কারাভোগ করেন ১৫৮ দিন। এরপর ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে বিভিন্ন মেয়াদে তিনি ৬৬৫ দিন কারাগারে ছিলেন। ছয় দফা দেওয়ার পর জাতির পিতা যেখানে সমাবেশ করতে গেছেন, সেখানেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। ওই সময়ে তিনি ৩২টি জনসভা করে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ দিন কারাভোগ করেন। এরপর ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ৮ মে আবারও গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তি পান। এ সময় তিনি ১ হাজার ২১ দিন কারাগারে ছিলেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ দফায় তিনি কারাগারে ছিলেন ২৮৮ দিন।[৩৩]

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা

স্বাধীনতার ঘোষণা

ইয়াহিয়া খান সামরিক আইন জারি করেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং মুজিবসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।[টীকা ২][৭৯] পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক ও জনসাধারণের অসন্তোষ দমনে ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে। সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরু হলে মুজিবুর রহমান ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।[টীকা ৩][২৪][৮০] ধানমণ্ডির ৩২ নং বাড়ি থেকে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মূল ঘোষণার অনুবাদ নিম্নরূপ:

“এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক। জয় বাংলা।”[৮১][৮২]

এর কিছুক্ষণ পর তিনি বাংলায় একটি ঘোষণা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন-

“সর্ব শক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট আনসারদের সাহয্য চান। কোন আপােষ নাই। জয় আমাদের হবেই। পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রু বিতাড়িত করুন। সকল আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক লােকদের কাছে এই সংবাদ পৌছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।”[৮১][৮৩]

টেক্সাসে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত নথি সংগ্রাহক মাহবুবুর রহমান জালাল বলেন, “বিভিন্ন সূত্র ও দলিল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই প্রমাণিত হয় যে, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, যা ছিল তার বা অন্য কারো হয়ে ঘোষণা দেওয়ার অনেক পূর্বে।”[৮৪] মুজিবকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ফয়সালাবাদের (তৎকালীন লায়লপুর) একটি জেলে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়। পাকিস্তানি জেনারেল রহিমুদ্দিন খান মুজিবের মামলার পরিচালনা করেন। মামলার আসল কার্যপ্রণালী এবং রায় কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় নি। এ মামলাটি “লায়ালপুর ট্রায়াল” হিসাবে অভিহিত।[১২]

মুক্তিযুদ্ধ ও বন্দীজীবন

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ এপ্রিলে মুজিবনগরে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান ও অস্থায়ী সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[৮৫][৮৬]

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরিচালিত অভিযান অল্প সময়ের মধ্যেই হিংস্রতা ও তীব্র রক্তপাতে রূপ নেয়। রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাঙালি বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করে। বাঙালি ও অবাঙালি হিন্দুদেরকে লক্ষ্য করে বিশেষ অভিযানের কারণে সারা বছরজুড়ে প্রচুর হিন্দু জনগোষ্ঠী সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় আশ্রয় গ্রহণ করে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ও পুলিশ রেজিমেণ্টে কর্মরত পূর্ব বাংলার সদস্যবৃন্দ দ্রুত বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং লীগ সদস্যবৃন্দ কলকাতায় তাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্ব প্রবাসে বাংলাদেশ সরকার গঠন করে। পূর্ব পাকিস্তানে মুক্তি বাহিনীর নেতৃত্ব বড় রকমের বিদ্রোহ সংঘটিত হতে থাকে। আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানি সরকার মুজিবকে ছেড়ে দিতে এবং তার সাথে সমঝোতা করতে অস্বীকৃতি জানায়।[৮৭]

মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তান বাহিনীর ভিতরে সংঘটিত যুদ্ধটিই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নামে পরিচিত। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে ভারতীয় সরকারের অংশগ্রহণের পর, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ দলের কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ঢাকায় ফিরে সরকার গঠন করেন।[৮৮]

কারামুক্তি ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয় বরণ করার ফলশ্রুতিতে ২০ ডিসেম্বর ইয়াহিয়া খান ক্ষমতাচ্যুত হলে জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন।[৮৯] ক্ষমতা হস্তান্তরকালেও ইয়াহিয়া খান ভুট্টোর কাছে মুজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিতে অনুরোধ করেন।[টীকা ৪] কিন্তু ভুট্টো নিজের স্বার্থ, বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের পরিণতি ও আন্তর্জাতিক চাপের কথা চিন্তা করে শেখ মুজিবের কোন ক্ষতি করতে চাননি।[৮৯][৯০]

শেখ মুজিবের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো তাকে কারাগার থেকে দ্রুত নিরাপদ কোন স্থানে সরিয়ে ফেলতে চান এবং মিঁয়াওয়ালী কারাগারের প্রিজন গভর্নর হাবিব আলীকে সেরূপ আদেশ দিয়ে জরুরী বার্তা প্রেরণ করেন। ২২শে ডিসেম্বর শেখ মুজিবুর রহমানকে মিঁয়াওয়ালী কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং একটি অজ্ঞাত স্থানে গৃহবন্দি করে রাখা হয়ে। এরপর ২৬ ডিসেম্বর সিহালার পুলিশ রেস্ট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিন সেখানে ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করেন।[৮৯][৯০] পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজিজ আহমেদের সাথে এবং ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে আবার ভুট্টো সাথে মুজিবের বৈঠক হয়। ভুট্টো তাকে পশ্চিম পাকিস্তান ও নবগঠিত বাংলাদেশের সাথে ন্যূনতম কোন “লুস কানেকশন” রাখার অর্থাৎ শিথিল কনফেডারেশন গঠন করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু শেখ মুজিব ঢাকায় এসে জনগণের মত না জেনে কোন প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকার করেন। [৮৯][৯০]

১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জানুয়ারি ভুট্টো শেখ মুজিবের পাকিস্তান ত্যাগের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হন৷ সেদিন রাত ২টায় অর্থাৎ ৮ জানুয়ারি প্রথম প্রহরের দিকে শেখ মুজিবুর রহমান ও ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি কার্গো বিমান লন্ডনের উদ্দেশ্যে রাওয়ালপিন্ডি ছাড়ে। ভুট্টো নিজে বিমানবন্দরে এসে বঙ্গবন্ধুকে বিদায় জানান।[৮৯] লন্ডনে তিনি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি লন্ডন থেকে নয়াদিল্লিতে ফিরে আসেন এবং ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ভি. গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সাক্ষাতের পর জনসমক্ষে “ভারতের জনগণ, আমার জনগণের শ্রেষ্ঠ বন্ধু” বলে তাকে সাধুবাদ জানান।[৯১] তিনি ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রেসকোর্স ময়দানে এসে তিনি সেদিন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সামনে বক্তৃতা দেন।[৯১]

বাংলাদেশ শাসন

নবরাষ্ট্র পুনর্গঠন সংগ্রাম

শেখ মুজিবুর রহমান অল্পদিনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১১ জানুয়ারি তিনি ৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তান আইনসভার জন্য নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের নিয়ে নতুন রাষ্ট্রের প্রথম সংসদ গঠন করেন। ১২ জানুয়ারি সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করে তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।[১৭] মুক্তিবাহিনী এবং অন্যান্য মিলিশিয়াদের নিয়ে নতুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গঠিত হয়। তারই অনুরোধক্রমে ১৭ মার্চ ১৯৭২ ভারতীয় বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড ত্যাগ করে।[২৪]

সমগ্র ৭২ সালে, মাত্র এক বছরের মধ্যে দেশ গঠনের জন্য উল্লেখযােগ্য কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি মানুষের পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত নামমাত্র মূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, মদ্যপান জুয়া, ঘোড়দৌড় সহ সমস্ত ইসলাম বিরােধী কর্মকাণ্ড কার্যকরভাবে নিষিদ্ধকরণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, ১১০০০ প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ ৪০০০০ প্রাথমিক স্কুল সরকারিকরণ, দুঃস্থ মহিলাদের কল্যাণের জন্য নারী পুনর্বাসন সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযােদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ, বিনামূল্যে স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, পাকিস্তানীদের পরিত্যক্ত ব্যাংক, বীমা ও ৫৮০টি শিল্প ইউনিটের জাতীয় করণ ও চালু করার মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীর কর্মসংস্থান, ঘোড়াশাল সার কারখানা, আশুগঞ্জ কমপ্লেক্সের প্রাথমিক কাজ ও অন্যান্য নতুন শিল্প স্থাপন, বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুকরণসহ অন্যান্য সমস্যার মোকাবেলা করে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরি করে দেশকে ধীরে ধীরে একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস চালানো হয়। অতি অল্প সময়ে প্রায় সব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় ও জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ ছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযােগ্য সাফল্য। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়। ১০০ বিঘার বেশি জমির মালিকদের জমি এবং নতুন চর বিনামূল্যে ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বন্টন করা হয়। গ্রাম বাংলার ঋণে জর্জরিত কৃষকদের মুক্তির জন্য তিনি খাই-খালাসী আইন পাশ করেন। গ্রাম বাংলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও শিল্প-কৃষি উৎপাদনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বাের্ড প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধু স্থানীয় সরকারগুলোকে গণতন্ত্রায়ন করেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ পৌরসভায় গণভােটে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। এর ফলে প্রশাসনে জনগণ অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি নাগাদ ১৩ মাসে ১০ কোটি টাকা তাকাবী ঋণ বণ্টন, ৫ কোটি টাকার সমবায় ঋণ প্রদান, কৃষিক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন, ১০ লাখ বসতবাড়ি নির্মাণ, চীনের কয়েক দফা ভেটো সত্ত্বেও জাতিসংঘের সদস্য লাভ, ৩০ কোটি টাকার রিলিফ বিতরণ, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে মিত্রবাহিনীর সৈন্য প্রত্যাবর্তন শুরুসহ দেশের সাধারণ মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়ােজন করেন।[১৯]

অর্থনৈতিক নীতি

মুজিব সরকার গুরুতর সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যার মধ্যে ছিল, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর পুনর্বাসন, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা উপকরণ সরবরাহ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি। ১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব তখনো কাটেনি, এবং যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক অবস্থাও চরমভাবে ভেঙে পড়েছিল।[৯২] অর্থনৈতিকভাবে, মুজিব একটি বিস্তৃত পরিসরের জাতীয়করণ কার্যক্রম হাতে নেন। বছর শেষ হতেই, হাজার হাজার বাঙালি পাকিস্তান থেকে চলে আসে, হাজার হাজার অবাঙালি পাকিস্তানে অভিবাসিত হয়, এবং এরপরও হাজার হাজার মানুষ শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে রয়ে যায়। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে পুনর্বাসন করার জন্য বৃহৎ সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে এবং দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষ হওয়ার আশঙ্কাকে প্রতিহত করা সম্ভব হয়।[৯৩] ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে কৃষি, নগর অবকাঠামো ও কুটিরশিল্পের উপর রাষ্ট্রীয় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পাঁচ-বছরের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়।[৯৪] কিন্তু তারপরও ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে চালের দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে একটি দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়। যা ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত। উক্ত দুর্ভিক্ষের সময় রংপুর জেলায় খাদ্যাভাব ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের অব্যবস্থাপনাকে সেসময় এর জন্য দোষারোপ করা হয়।[৯৫] মুজিবের শাসনামলে দেশবাসী শিল্পের অবনতি, বাংলাদেশি শিল্পের উপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ এবং জাল টাকা কেলেঙ্কারি প্রত্যক্ষ করে।[৯৬]

বৈদেশিক নীতি

 
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎকালে শেখ মুজিবুর রহমান

চার বছরের কম সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়নে যে সাফল্য এনেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এখনো অদ্বিতীয় হয়ে আছে। যেসব দেশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের সঙ্গেও তিনি বন্ধুত্ব স্থাপন করেছেন। এমনকি পাকিস্তানের স্বীকৃতিও আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। “কারো সাথে বৈরিতা নয়, সকলের সাথে বন্ধুত্ব” ছিল মুজিব সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি।[৯৭] ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ প্রায় ১১৩টি দেশের স্বীকৃতি লাভ করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভের পর শেখ মুজিব পাকিস্তানের স্বীকৃতি এবং ওআইসি, জাতিসংঘজোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিশ্চিত করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে ভ্রমণ করে বাংলাদেশের জন্য মানবীয় ও উন্নয়নকল্পের জন্য সহযোগিতা চান।[২৪] ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ৬ সেপ্টেম্বর আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ দেশসমূহের শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু যোগ দেন।পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমান সোভিয়েত ইউনিয়নে রাষ্ট্রীয় সফরে যান। দেশটির শীর্ষ চার নেতা পোদগর্নি, কোসিগিন, ব্রেজনেভ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁন্দ্রে গ্রোমিকো তাকে অভ্যর্থনার জন্য ক্রেমলিনে সমবেত হন। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে তিনি জাপান সফর করেন। জাপানের সম্রাট হিরোহিতো বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনার জানান।[৯৮] ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গবন্ধু লাহোরে অনুষ্ঠিত ইসলামি সম্মেলন সংস্থার সম্মেলনে যোগ দেন।[৯৯] তিনি একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করেন এবং জাতিসংঘের ইতিহাসে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি ৫০টি ইস্যু তুলে ধরেন।[১০০] তিনি ভারতের সাথে একটি ২৫ বছর মেয়াদী মিত্রতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন যাতে অর্থনৈতিক ও মানব সম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক সাহায্যের আশ্বাস দেয়া হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৯১] মুজিব ইন্দিরা গান্ধীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন।[১০১] মুজিবের জীবদ্দশায় দুই সরকারের মধ্যে পারষ্পরিক সমঝোতা ছিল।[১০২]

সংবিধান প্রণয়ন

মুজিব তার অন্তর্বর্তী সংসদকে একটি নতুন সংবিধান রচনার দায়িত্ব দেন এবং চারটি মূলনীতি হিসেবে “জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র” ঘোষণা করেন যা মুজিববাদ নামেও পরিচিত।[১০২] মুজিব শতাধিক পরিত্যাক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানি রাষ্ট্রীয়করণ করেন এবং ভূমি ও মূলধন বাজেয়াপ্ত করে ভূমি পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে কৃষকদের সাহায্যের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।[১০৩] মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতে আশ্রয়গ্রহণকারী প্রায় ১ কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসনের জন্য বড় পদক্ষেপ নেয়া হয়। এর ফলে অর্থনৈতিক সঙ্কট অবসান হতে শুরু করে এবং সমূহ দুর্ভিক্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।[৯৩]

১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে শেখ মুজিব স্বাক্ষর করেন। ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদানের ঘোষণা দেন। ১৬ ডিসেম্বর থেকে নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয় এবং ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।[১০৪][১০৫] নির্বাচনে শেখ মুজিব ও তার দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত সরকার গঠন করেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, খাদ্য, স্বাস্থ্য, পানি ও বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি ঘটান। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রণীত বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চ-বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় কৃষি, গ্রামীণ অবকাঠামো ও কুটির শিল্প উন্নয়নে প্রাগ্রাধিকারমূলক সরকারি অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দেয়া হয়।[৯৪]

ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা থাকা স্বত্ত্বেও মুজিব ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামি অনুশাসনের পথে অগ্রসর হন।[১০৬] তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে আঁতাতের অভিযোগে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন পুনরায় চালু করেন।[১০৭] ইসলামি গোত্রগুলোর জোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মদ তৈরি ও বিপণন এবং জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করেন।[১০৬] তারই সিদ্ধান্তক্রমে বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কনফারেন্সইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সদস্যপদ গ্রহণ করে। মুজিব ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে তার মুক্তিযুদ্ধকালীন চরমতম প্রতিদ্বন্দ্বী জুলফিকার আলী ভুট্টোর আমন্ত্রণে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে যান এবং উক্ত সম্মেলনে ভুট্টো তার সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন,[১০৮] যা পাকিস্তানের সাথে কিছুমাত্রায় সম্পর্ক উন্নয়ন ও পাকিস্তানের স্বীকৃতি পেতে সহায়তা করে।[১০৬] জনসাধারণের সামনে উপস্থিতি ও ভাষণের সময় শেখ মুজিব ইসলামিক সম্ভাষণ ও শ্লোগান ব্যবহার বাড়িয়ে দেন এবং ইসলামিক আদর্শের উল্লেখ করতে থাকেন। শেষ বছরগুলোতে মুজিব তার স্বভাবসুলভ “জয় বাংলা” অভিবাদনের বদলে ধার্মিক মুসলিমদের পছন্দনীয় “খোদা হাফেজ” বলতেন।[১০৬]

সামরিক বাহিনী গঠন

 
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কুচকাওয়াজে শেখ মুজিব

শেখ মুজিবুর রহমান খাদ্য ক্রয়ের পাশাপাশি বিদেশ থেকে সেনাবাহিনীর জন্য সংগ্রহ করেছেন প্রয়ােজনীয় অস্ত্র ও সামরিক সামগ্রী। যুগোস্লাভিয়ায় সামরিক প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে পদাতিক বাহিনীর জন্য আনা হয় ক্ষুদ্র অস্ত্রশস্ত্র এবং সাজোঁয়া বাহিনীর জন্য ভারি অস্ত্র। ভারতের অনুদান ৩০ কোটি টাকায় সেনাবাহিনীর জন্য কেনা হয় কাপড় ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি। সােভিয়েত ইউনিয়ন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে মিগ বিমান, হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান। সে সময়ে মিগ-২১ ই ছিল এই উপমহাদেশের সবচেয়ে আধুনিক বিমান। এছাড়াও শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফলে মিসর থেকে আনা সম্ভব হয়েছে সাজোঁয়া গাড়ি বা ট্যাংক। উন্নত প্রযুক্তি ও উন্নত জ্ঞান লাভ করে দেশ যাতে আধুনিক সেনাবাহিনী গড়তে পারে সে উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু অফিসারদের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে প্রেরণ করেন। ব্রিটেন, সােভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত প্রভৃতি দেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন সেনাবাহিনীর অফিসাররা। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার সেনাবাহিনীর জন্য নগদ অর্থে আধুনিক বেতারযন্ত্র ক্রয় করেন এবং সিগন্যাল শাখাকে আরও আধুনিক করে গড়ে তােলেন। পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনকারী আরও ত্রিশ হাজারের অধিক সামরিক কর্মকর্তা ও জওয়ানদের তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পুনর্বাসিত করেন। আর প্রত্যাবর্তনকারী কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩০০। এই সকল অফিসার ও জওয়ানদের নিয়ে অর্ধ লক্ষের অধিক সদস্যের দেশের প্রথম সেনাবাহিনী গড়ে উঠেছিল। সামরিক সুবিধা বৃদ্ধি করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে “দিঘিনালা”, “রুমা”, “আলীকদম”-এর মতে সামরিক গুরুত্বপূর্ণ ৩টি ছাউনি শেখ মুজিবের নির্দেশে গড়ে তোলা হয়।[১৫]

জাতীয় রক্ষীবাহিনী

বিজয়ের অব্যবহিত পর শেখ মুজিবের ক্ষমতালাভের পরপরই, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-এর সশস্ত্র বিভাগ গণবাহিনী কর্তৃক সংগঠিত বামপন্থী বিদ্রোহীরা মার্ক্সবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য মুজিব সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।[১০৯][১১০] শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করে ক্ষমতা গ্রহণের পর ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার জাতীয় মিলিশিয়া গঠনের ব্যাপরে একটি আদেশ জারি করেন। এরপর ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠনের সরকারি আদেশ জারি করা হয়।[১১১][১১২] রক্ষীবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল সেনাবাহিনীর ছয় ভাগের এক ভাগ।[১৫] গোড়ার দিকে রক্ষীবাহিনী বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে অনেক অস্ত্রশস্ত্র, চোরাচালানের মালামাল উদ্ধার করে এবং মজুতদার ও কালোবাজারীদের কার্যকলাপ কিছুটা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। কিন্তু খুব শীঘ্রই বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট হতে থাকে। এর কারণ রক্ষিবাহিনীর সদস্যগণ রাজনৈতিক হত্যাকান্ড[১১৩][১১৪] গুম,গোলাগুলি,[১১৫] এবং ধর্ষণের[১১৪] সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। তাদের যথেচ্ছাচার নিয়ন্ত্রণ বা তাদের কার্যকলাপের জবাবদিহিতার আইনগত কোন ব্যবস্থা ছিল না। অপরাধ স্বীকার করানোর জন্য গ্রেফতারকৃত লোকদের প্রতি অত্যাচার, লুটপাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ অক্টোবর সরকার জাতীয় রক্ষীবাহিনী (সংশোধনী) অধ্যাদেশ-১৯৭৩ জারি করে রক্ষীবাহিনীর সকল কার্যকলাপ আইনসঙ্গত বলে ঘোষণা করে।[১১৬] রক্ষী সদস্যদের ভারতীয় সেনাবাহিনীর ন্যায় জলপাই রঙের পোশাক এবং বাহিনী গঠন ও প্রশিক্ষণে ভারতের সহায়তা জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। সেইসাথে রক্ষীবাহিনীর বিভিন্ন অনাচারের কারণে জনগণের কাছে শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়।[১১৭] রক্ষীবাহিনীকে বেশি সুযোগ-সুবিধা দেয়া এবং সেনাবাহিনীর প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর অভিযোগে সেনাবাহিনীর একাংশের মধ্যেও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার পরিণতি ঘটে বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে।[১১৮]

দ্বিতীয় বিপ্লব ও বাকশাল গঠন

স্বাধীনতা পর অচিরেই মুজিবের সরকারকে ক্রমশ বাড়তে থাকা অসন্তোষ সামাল দিতে হয়। তার রাষ্ট্রীয়করণ ও শ্রমভিত্তিক সমাজতন্ত্রের নীতি প্রশিক্ষিত জনবল, অদক্ষতা, মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতি আর দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[১০৩] মুজিব অতিমাত্রায় জাতীয় নীতিতে মনোনিবেশ করায় স্থানীয় সরকার প্রয়োজনীয় গুরুত্ব লাভে ব্যর্থ হয়। আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ করায় গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় তৃণমূল পর্যায়ে কোন নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হয় নি।[১১৯] আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে কমিউনিস্ট এবং ইসলামপন্থীরা অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষণা করায় ইসলামপন্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।[১২০] এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনজনদের নিয়োগ দেয়ার জন্য মুজিবের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনা হয়।[১০২] ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের দুর্ভিক্ষ খাদ্য সংকট আরো বাড়িয়ে দেয় এবং অর্থনীতির প্রধান উৎস কৃষিকে ধ্বংস করে ফেলে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব, দ্রব্যমূল্যের অসামঞ্জস্যতা, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যর্থতার কারণে মুজিবকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।[১০৩] রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সংঘাতের মাত্রা বাড়তে থাকায় মুজিবও তার ক্ষমতা বাড়াতে থাকেন। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে মুজিব জরুরি অবস্থা জারি করেন।[১২১] এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু নতুন যে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনে উদ্যোগী হন, একে তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বিপ্লব বলে আখ্যা দেন।[টীকা ৫][১২২]

দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির মধ্যে দুটি দিক ছিল সরকার ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কর্মসূচি এবং আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি।[১২২] ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতির স্থলে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। বঙ্গবন্ধু হলেন রাষ্ট্রপতি আর ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী হন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। পরিবর্তিত সংবিধানের আওতায় ৬ জুন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল দল, সরকারি-বেসরকারি এবং সামরিক অন্যান্য বাহিনীর কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্য নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবিশেষকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ নামে একটি জাতীয় দল গঠন করা হয়। মুজিব নিজেকে আমৃত্যু রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন।[টীকা ৬][১২২] ২১ জুন সকল মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করে পূর্বের ১৯টি জেলার স্থলে ৬১টি জেলা সৃষ্টি করা হয়। ১৬ জুলাই বঙ্গবন্ধু ৬১ জেলার প্রতিটির জন্য একজন করে গভর্নর নিয়োগদান করেন।[১২৩]

বাকশাল বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। চারটি বাদে সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়।[১২০] দলটি প্রত্যন্ত জনসাধারণ, কৃষক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের বিবেচিত করে রাষ্ট্রযন্ত্রের কর্তৃত্ব গ্রহণ করে। দলটি বৃহৎ সমাজতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড গ্রহণ করে। সরকারি বাহিনীর সাথে সমর্থকদের নিয়ে গঠিত জাতীয় রক্ষী বাহিনীর সহায়তায় মুজিব বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করেন এবং সারাদেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন।[১২৪] অনেকের মতে, তার এই নীতির ফলে অস্থিতিশীল অবস্থা আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং দুর্নীতি, কালোবাজারী এবং অবৈধ মজুদদারি অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়। তবে রক্ষী বাহিনী এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচার ও রাজনৈতিক হত্যার অভিযোগ ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারীরা মুজিবের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন[১২৫] এবং তার কর্মকাণ্ডকে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারবিরোধী বলে গণ্য করেন।[১০২] মুজিবের বিরোধীরা অসন্তোষ ও সরকারের ব্যর্থতার কারণে মুজিব-সরকারের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে ওঠে।[১২০]

হত্যাকাণ্ড

 
বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ

১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট প্রত্যূষে একদল সেনা কর্মকর্তা ট্যাঙ্ক দিয়ে রাষ্ট্রপতির ধানমণ্ডিস্থ বাসভবন ঘিরে ফেলে এবং শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবার এবং তার ব্যক্তিগত কর্মচারীদের হত্যা করে।[১২][১০২] নিহত পরিবার সদস্যরা হলেন- বেগম ফজিলাতুন্নেছা, শেখ কামাল ও তার স্ত্রী সুলতানা কামাল খুকী, শেখ জামাল ও তার স্ত্রী বেগম রোজী জামাল, শেখ রাসেল, শেখ মুজিবের ভাই শেখ আবু নাসের। এইদিন তার ভগ্নিপতি ও মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনিকেও পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ হত্যা করা হয়।[১২৬] কেবল তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করার কারণে বেঁচে যান। তাদের বাংলাদেশে ফিরে আসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।[১২৭]

শেখ মুজিবের শরীরে মোট ১৮টি বুলেটের দাগ দেখতে পাওয়া যায়। শেখ মুজিব ও তার পরিবারের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করতে সেনা সদর থেকে ঢাকা সেনানিবাসের তৎকালীন স্টেশন কমান্ডার লে. কর্নেল এম এ হামিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি গিয়ে আবিষ্কার করেন নির্দিষ্ট কফিনে শেখ মুজিবের মরদেহ মনে করে তার ভাই শেখ নাসেরে মরদেহ রাখা হয়েছে। দায়িত্বরত সুবেদার এর ব্যাখ্যা দেয় যে দুই ভাই দেখতে অনেকটা একরকম হওয়ায় ও রাতের অন্ধকারের কারণে মরদেহ অদলবদল হয়ে গিয়েছিল।[১২৮][১২৯] পরবর্তীতে শেখ মুজিবের মরদেহ জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সামরিক তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। অন্যান্যদের ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।[১২৮]

প্রতিক্রিয়া ও বিচার

সেনা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সামরিক কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শেখ মুজিবের প্রাক্তন সহকর্মী খন্দকার মোশতাক আহমেদ, যিনি পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির পদে স্থলাভিষিক্ত হন।

২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে মুজিব হত্যাকাণ্ডের বিচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে খন্দকার মোশতাক সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ (দায়মুক্তির অধ্যাদেশ) জারি করেন[১৩০] এবং জেনারেল জিয়াউর রহমান ও পাকিস্তানপন্থী প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে তার বৈধতা দেয়া হয়, যা ১২ আগস্ট ১৯৯৬ তারিখে সংসদে রহিত করা হয়। সংবাদ মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)-কে দায়ী করা হয়।[১৩১] বাংলাদেশে অবস্থিত তৎকালীন রাষ্ট্রদূত ইউজিন দিয়ে লরেন্স লিফসুল্জ সিআইএ-কে সামরিক অভ্যুত্থান ও গণহত্যার জন্য দোষারোপ করেন।[১৩২] মুজিবের মৃত্যুর পর বাংলাদেশে বহু বছরের জন্য চলমান রাজনৈতিক সংঘাতের সূচনা ঘটে। সেনাঅভ্যুত্থানের নেতারা অল্পদিনের মধ্যে উচ্ছেদ হয়ে যান এবং অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান আর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে দেশে চলমান অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং সেনাবাহিনীতে ব্যাপক অরাজকতা দেখা দেয়। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই নভেম্বর তৃতীয় সেনা অভ্যুত্থানের ফলশ্রতিতে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা আসীন হয়।[১৩৩] সেনাঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমানসহ ১৪ জন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাকিরা বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিলেন।[১২][১৩৪] ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে বিচারক কাজী গোলাম রসুল শেখ মুজিব হত্যার বিচারের এজলাস গঠন করেন। ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ১৫ জন আসামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে এ বিচারের চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়। ২৮ জানুয়ারি, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে সৈয়দ ফারুক রহমানসহ ৫ জন আসামীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।[১৩৫]

ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার

 
শেখ মুজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা

১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে দাদা আব্দুল হামিদের আদেশে শেখ মুজিবের বাবা ১৪ বছর বয়সী শেখ মুজিবকে তার ৩ বছর বয়সের সদ্য পিতৃমাতৃহীন চাচাতো বোন বেগম ফজিলাতুন্নেসার সাথে বিয়ে দেন।[১৩৬] বেগম ফজিলাতুন্নেছার বাবা শেখ জহিরুল হক ছিলেন মুজিবুর রহমানের চাচা। বিয়ের ৯ বছর পর ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে শেখ মুজিবের ২২ বছর বয়স ও ফজিলতুন্নেসার ১২ বছর বয়সে তারা দাম্পত্যজীবন শুরু করেন।[১৩৭] এই দম্পতির ঘরে দুই কন্যা এবং তিন পুত্রের জন্ম হয়- শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং সর্বকনিষ্ঠ শেখ রাসেল[১৬][১৩৮]

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই ডিসেম্বর শেখ পরিবারকে গৃহবন্দী করা হয়।[১৩৯] শেখ কামাল ও জামাল পাহারারত সেনাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান এবং মুক্তি সংগ্রামে যোগ দেন। শেখ কামাল ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিবাহিনীর গেরিলা যুদ্ধের একজন সমন্বয়ক ছিলেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধকালীন কমিশন লাভ করেন।[১৪০] তিনি মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর এডিসি ছিলেন।[১৪০] তাকে শেখ মুজিবের শাসনামলে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হত।[১৪১] শেখ জামাল যুক্তরাজ্যের রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্টে প্রশিক্ষণ নেন এবং এরপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনড অফিসারপদে যোগ দেন।[১৪২][১৪৩][১৪৪][১৪৫]

শেখ মুজিবের প্রায় পুরো পরিবারই ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট রাতে সেনা অভিযানে নিহত হন। কেবল দুই কন্যা শেখ হাসিনাশেখ রেহানা সেসময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থানের কারণে বেঁচে যান। শেখ হাসিনা দেশে এসে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থ মেয়াদে এবং ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন৷[১৪৬] তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসাবেও তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।[১৪৭]

শেখ হাসিনা
শেখ রেহানা
শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত দুই সন্তান

শেখ রেহানার কন্যা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেবার পার্টির রাজনীতিবিদ টিউলিপ সিদ্দিক,[১৪৮] যিনি ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে যুক্তরাজ্যের হাউস অফ কমন্স এর সদস্য (গ্রেটার লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে নির্বাচিত)।[১৪৯] শেখ মুজিবের ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত শ্রমিকনেতা ও তার মন্ত্রীসভার সদস্য ছিলেন।[১৫০][১৫১] ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুজিব বাহিনীর প্রধান নেতা ছিলেন ও ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন (দুজনই ১৫ আগস্ট নিহত হন)।[১৫১][১৫২] বর্তমানে শেখ মুজিবের ভাগ্নে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ[১৫০] এবং ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিনশেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বাংলাদেশের সাংসদ।[১৫৩] শেখ ফজলে নূর তাপস,[১৫২] মজিবুর রহমান চৌধুরী, নূর-ই-আলম চৌধুরী, আন্দালিব রহমান, শেখ তন্ময়, সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, শেখ ফজলে শামস পরশ,[১৫২] এবং শেখ ফজলে ফাহিম, যারা বাংলাদেশের প্রথম সারির রাজনীতিবিদ, সম্পর্কে তার নাতি হন।[১৫৩]

রাজনৈতিক দর্শন

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহানের মতে, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক চিন্তাধারার চারটি বৈশিষ্ট্য: বাঙালি জাতিসত্তা, জনসম্প্রীতি, অসাম্প্রদায়িকতা এবং সমাজতন্ত্র। এই চার বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সংবিধানের চার মূলনীতির মাধ্যমে: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র। এই চারটি মূলনীতিকে একসাথে অনেক সময় মুজিববাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।[১৫৪]

রচিত গ্রন্থাবলি

শেখ মুজিব দুই খণ্ডে আত্মজীবনী লিখেছিলেন, যেখানে তিনি নিজ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেছেন ও নিজের ব্যক্তিগত জীবনের বর্ণনা দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি তার চীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লিখেছিলেন। এইসব রচনা তার মৃত্যুর পর তার কন্যা ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করেন।[১৫৫][১৫৬] তার রচিত বইগুলোর রচনাশৈলীতে সাহিত্য মান খুঁজে পাওয়ায় তাকে লেখক হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।[১৫৭]

নাম প্রকাশকাল প্রকাশনী টীকা তথ্যসূত্র
অসমাপ্ত আত্মজীবনী জুন ২০১২ দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত নিজের জীবনী লিখেছেন। এই গ্রন্থটি ইংরেজিসহ আরও কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়। [১৫৮]
কারাগারের রোজনামচা মার্চ ২০১৭ বাংলা একাডেমি গ্রন্থটিতে শেখ মুজিব ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের কারাভোগের অভিজ্ঞতা লিখেছেন। গ্রন্থটির নামকরণ করেন শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা [১৫৯]
আমার দেখা নয়া চীন ফেব্রুয়ারি ২০২০ বাংলা একাডেমি ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত গণচীনের পিকিংয়ে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শান্তি সম্মেলনের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত [১৬০]
আমার কিছু কথা ২০২০ ইতিহাস প্রকাশন [১৬১]

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে

বই

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে অসংখ্য ফিকশন ও নন-ফিকশন বই, পুস্তিকা, প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রভৃতি প্রকাশিত হয়েছে। তার কন্যা শেখ হাসিনা রচনা করেছেন শেখ মুজিব আমার পিতা। তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণামূলক বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- এ বি এম মূসার বই মুজিব ভাই,[১৬২] বেবী মওদুদ রচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তাঁর পরিবার[১৬৩] মুজিবহত্যা নিয়ে গবেষণামূলক বইয়ের মধ্যে রয়েছে মিজানুর রহমান খানের মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড[১৬৪][১৬৫], এম আর আখতার মুকুল রচিত মুজিবের রক্ত লাল[১৬৬] প্রভৃতি। শেখ মুজিবের শাসনামলের বিবরণ উঠে এসেছে এমন বইয়ের মধ্যে রয়েছে মওদুদ আহমেদ রচিত বাংলাদেশ : শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল[১৬৭], অ্যান্থনি মাসকারেনহাস কর্তৃক রচিত বাংলাদেশ: রক্তের ঋণ[১৬৮], হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস দেয়াল[১৬৯][১৭০], নিয়ামত ইমাম রচিত উপন্যাস দ্য ব্ল্যাক কোট[১৭১] প্রভৃতি।

গান

শেখ মুজিবকে নিয়ে বিখ্যাত দুটি গান হল ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে ভারতীয় গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার রচিত “শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠ[১৭২][১৭৩] এবং ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে হাসান মতিউর রহমান কর্তৃক রচিত “যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই[১৭৪]। গান দুটিতে সুরারোপ করেন যথাক্রমে অংশুমান রায়[১৭৩] ও মলয় কুমার গাঙ্গুলী।[১৭৪]

চলচ্চিত্র

  • শেখ মুজিব রিসার্চ সেন্টার লন্ডনের অর্থায়নে লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী তার স্বলিখিত রাজনৈতিক উপন্যাস “পলাশী থেকে ধানমন্ডি” অবলম্বনে ২০০৭ সালে একই নামে একটি টেলিভিশন চলচ্চিত্র তৈরি করেন, যেখানে শেখ মুজিব চরিত্রে অভিনয় করেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়[১৭৫]
  • ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত পরিচালিত “যুদ্ধশিশু” নামক ভারতীয় বাংলা-হিন্দি চলচ্চিত্রে প্রদীপ গঙ্গোপাধ্যায় শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেন।[১৭৬][১৭৭]
  • ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “হাসিনা: এ ডটার'স টেল” তথ্যচিত্রে শেখ হাসিনা নিজ ভাষ্যে তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড বিবৃত করেন।[১৭৮]
  • ২০২০ সালে “আগস্ট ১৯৭৫” নামে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড পরবর্তী ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়, যা ১৫ আগস্ট ২০২০ তারিখে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও করোনা মহামারিজনিত জটিলতার কারণে এর মুক্তির তারিখ পিছিয়ে যায়।[১৭৯][১৮০]
  • নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল পরিচালনায় বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক “বঙ্গবন্ধু[১৮১] নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণাধীন রয়েছে।[১৮২] চলচ্চিত্রটি বাংলা, হিন্দি ও উর্দু ভাষায় অনূদিত হবে।[১৮৩][১৮৪]
  • শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী অবলম্বনে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “চিরঞ্জীব মুজিব” নির্মাণাধীন রয়েছে।[১৮৫][১৮৬]
  • ২০২০ সালে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা কেন্দ্রের অর্থায়নে শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিখিত "মুজিব আমার পিতা" গ্রন্থ অনুসরণে একই নামে একটি অ্যানিমেটেড কার্টুন চলচ্চিত্র নির্মাণাধীন রয়েছে।[১৮৭]
  • ২০২০ সালে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অ্যাগামীল্যাবস শেখ মুজিবকে নিয়ে “খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু” নামে ১৯ মিনিট ২০ সেকেন্ডের একটি অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র তৈরি করে।[১৮৮]

মুজিব বর্ষ

 
মুজিব বর্ষের লোগো

শেখ মুজিবুর রহমানের ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রধানমন্ত্রী ও শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বৈঠকে ২০২০-২১ খ্রিষ্টাব্দকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেন।[১৮৯][১৯০] ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত এ বর্ষ উদযাপন করা হয়।[১৯১][১৯২] ইউনেস্কোর ১৯৫টি সদস্য দেশে এই মুজিব বর্ষ পালন করা হয়।[১৯৩][১৯৪]

স্থাপনা

বাংলাদেশের প্রেরিত প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহবঙ্গবন্ধু-১” এর নামকরণ শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে করা হয়েছে।[১৯৫] বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু যমুনা বহুমুখী সেতুর নাম পরিবর্তন করে “বঙ্গবন্ধু সেতু” করা হয়।[১৯৬] এছাড়াও ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে গুলিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশের জাতীয় স্টেডিয়াম “ঢাকা স্টেডিয়াম”-এর নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম রাখা হয়।[১৯৭] ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার শেরে বাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে অবস্থিত চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে “বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র” পুনর্বহাল করা হয়।[টীকা ৭][১৯৮][১৯৯] ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে “ভাসানী নভো থিয়েটার” এর নাম পরিবর্তন করে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার” নামকরণ করা হয়।[২০০]

 
ঢাকার গুলিস্তানে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্কয়ার ভাস্কর্য

১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার “ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ”-কে (আইপিজিএমআর) মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নাম রাখা হয়।[২০১] বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই “জিন্নাহ সড়ক”-এর নাম পরিবর্তন করে “শেখ মুজিব সড়ক” নামে চট্টগ্রাম শহরের বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদের প্রধান সড়কের নামকরণ করা হয়।[২০২] এছাড়াও ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি সড়কের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মার্গ করা হয়। কনট প্লেসের নিকটবর্তী স্থানটি ইতোপূর্বে পার্ক স্ট্রিট নামে পরিচিত ছিল।[২০৩]

ক্রীড়া

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ নামে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে।[২০৪] মুজিববর্ষ উপলক্ষে নাম পরিবর্তনের পর ২০২০ সাল থেকে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগকে (বিপিএল) “বঙ্গবন্ধু বিপিএল” নামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড[২০৫] এছাড়াও মুজিববর্ষ উপলক্ষে শেখ মুজিবের নামে ২০২০ সালের বাংলাদেশ গেমসের ৯ম আসরের নামকরণ “বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস” করা হয়।[২০৬] তবে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন গেমস স্থগিত ঘোষণা করে।[২০৭]

মূল্যায়ন

উপাধি

  • ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ আগস্ট জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তাকে ‘বিশ্ব বন্ধু’ (ফ্রেন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড) হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।[২১১]

প্রাপ্তি ও পুরস্কার

শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্ব শান্তি পরিষদ “জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার”-এ ভূষিত করে। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশীয় শান্তি ও নিরাপত্তা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বিশ্ব শান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।[২১২][২১৩] এটি বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক পদক।[২১৩][২১৪] ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে ফিরে আসার পর ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তবে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে এ ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটে। তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন বাতিল করে দেয়। পরে ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবারও রাষ্ট্রীয়ভাবে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসলে আবারও ১৫ আগস্টকে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়।[২১৫] বাংলাদেশী প্রতিটি ধাতব মুদ্রা ও টাকায় শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি রয়েছে এবং বাংলাদেশের বহু সরকারি প্রতিষ্ঠান তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।[২১৬] শেখ মুজিবুর রহমান এখনও আওয়ামী লীগের আদর্শগত প্রতীক হয়ে আছেন এবং দলটি মুজিবের সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা ধারণ করে চলেছে। মুজিব তার রাজনৈতিক প্রচারণায় যে কোট পরতেন, সেটিকে “মুজিব কোট” নামে ডাকা হয় এবং আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলের রাজনীতিবিদগণ আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিব কোট পরিধান করে থাকেন।[২১৭] শেখ মুজিবুরের আদর্শে অনুপ্রাণিত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীবৃন্দ নিজেদের মুজিব সেনা বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ, ভারত ও বিশ্বের বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং পাকিস্তানের গোষ্ঠীগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বাঙালিদের আন্দোলনকে স্বাধীনতার পথে ধাবিত করার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।[১৩৪]

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজউইক পত্রিকা শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি বলে আখ্যায়িত করে লিখে:

তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষকে আকর্ষণ করতে পারেন, সমাবেশে এবং আবেগময় বাগ্মিতায় তরঙ্গের পর তরঙ্গে তাদের সম্মোহিত করে রাখতে পারেন। তিনি রাজনীতির কবি।[২১৮]

কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের নন-এলাইনড সামিটে শেখ মুজিবের ব্যক্তিত্বকে হিমালয় পর্বতমালার সাথে তুলনা করে বলেন:

আমি হিমালয় দেখিনি তবে আমি মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনি হিমালয়ের মতো।[২১৯][২২০]

২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে অক্টোবর, ইউনেস্কো শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[২২১]

সমালোচনা

কিছু কিছু ঐতিহাসিকদের মতে, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ভিতরের সংঘাত ও বৈষম্যগুলোকে শেখ মুজিব ও তার দল অতিরঞ্জিত করেছিল এবং স্বাধীনতা বাংলাদেশকে শিল্প ও মানবসম্পদের ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্মুখীন করে।[২২২] সৌদি আরব, সুদান, ওমানচীনা সরকার শেখ মুজিবের সমালোচনা করে মুজিবের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অনেক দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি।[২২২][৯৭]

বাংলাদেশের নেতা হিসাবে শাসনকালে, মুসলিম ধর্মীয় নেতারা মুজিবের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির কারণে তার সমালোচনা করেন। ভারতীয় সরকারের কাছ থেকে ব্যাপক সহযোগিতা গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে ভারতের সাথে একাত্মতার কারণে অনেকে মুজিবের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন। সমালোচকদের অনেকে আশঙ্কা করেন, বাংলাদেশ ভারতের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে একটি স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।[৯৩] তবে শেখ মুজিবের শাসন দক্ষতার জন্যই তা বাস্তবায়িত হয়নি।[২২৩] মুজিবের একদলীয় শাসন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমন জনগণের একটি বড় অংশের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায় যা বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে দীর্ঘসময়ের জন্য কক্ষচ্যুত করে।[৯৩] স্বাধীনতা ও শেখ মুজিবের শাসনের এক বছর পর, টাইম সাময়িকী লিখে:

মোটের উপর, বাংলাদেশের শুভ প্রথম জন্মদিন পালন করার তেমন কোন কারণ নেই। যদি এটি একসময় হেনরি কিসিঞ্জারের কথিত "তলাহীন ঝুড়ি" না হয়, তবে এটি মুজিবের স্বপ্ন দেখা সোনার বাংলাও হয়ে যায়নি। এতে মুজিবের ভুল কতটুকু সেটিই এখন একটি বিতর্কের বিষয়। এটা সত্য যে, বাংলাদেশের এই বিস্তর সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে লড়তে তিনি খুব অল্পই সময় পেয়েছেন। তবুও, কিছু সমালোচক দাবি করে যে, তিনি যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভূমিকা পালন করতে গিয়ে বেশ খানিকটা সময় নষ্ট করেছেন, (যেমন তিনি ব্যক্তিগতভাবে যে কোন আমন্ত্রণে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাড়া দিয়েছেন) যখন কিনা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা রাষ্ট্রের প্রতি তার আরও মনোযোগী হওয়া উচিৎ ছিল। যদি, আশানুরূপভাবে, তিনি মার্চের নির্বাচনে জয়ী হন, তবে তিনি একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন যে, তিনি কি শুধুই বাংলাদেশের জনক নাকি পাশাপাশি এর ত্রাণকর্তাও।[২২৪]

যুক্তরাষ্ট্রের টাইম সাময়িকী ২৫ আগস্ট ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তার মৃত্যুর দশ দিন পর "১৫ আগস্ট ১৯৭৫: মুজিব, স্থপতির মৃত্যু" শিরোনামে লিখে:

তার প্রশংসনীয় উদ্যোগ: স্বাধীনতার পরের তিন বছরে ৬ হাজারেরও বেশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। সহিংসতা সারাদেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরী হলে মুজিব রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেন। চরম-বাম ও চরম-ডানপন্থী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা হয়, পত্রিকাগুলোকে নিয়ে আসা হয় সরকারী নিয়ন্ত্রণে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। এ উদ্যোগগুলো বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে গৃহীত হলেও অনেকেই সমালোচনামুখর হয়ে উঠেন। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে মুজিব তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন- “ভুলে যেওনা আমি মাত্র তিন বছর সময় পেয়েছি। এই সময়ের মধ্যে তোমরা কোনো দৈব পরিবর্তন আশা করতে পারো না।” যদিও শেষ সময়ে তিনি নিজেই হতাশ ও বিরক্ত হয়ে কোন দৈব পরিবর্তন ঘটানোর জন্য অধৈর্য হয়ে পড়েছিলেন। সন্দেহাতীতভাবেই মুজিবের উদ্দেশ্য ছিলো তার দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়ন ঘটানো। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মুজিব একটা সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন, যে সোনার বাংলার উপমা তিনি পেয়েছিলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে, ভালোবেসে মুজিব সেই 'সোনার বাংলা'র স্বপ্নকে তার দেশের জাতীয় সংগীত নির্বাচন করেছিলেন।[২২৫]

২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রন্টলাইন সাময়িকীর একটি প্রবন্ধে লেখক ডেভিড লুডেন তাকে একজন “ফরগটেন হিরো” বা বিস্মৃত বীর বলে উল্লেখ করেন।[২২৬]

১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে মুজিব কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার পূর্বে মুজিবের মৃত্যুর পরবর্তী সরকারগুলোর মুজিব বিরোধিতা ও মুজিবের স্মৃতিচারণ সীমিতকরণের কারণে তার সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়। ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে ফিরে আসার পর শেখ মুজিবুরের ভাবমূর্তি আবার ফিরে আসে। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে ডিজিটাল আইন-২০১৬ মোতাবেক যেকোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আদালত কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত মীমাংসিত কোনো বিষয় এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রচারণা বা প্রোপাগান্ডা চালালে বা অবমাননা করলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।[২২৭][২২৮]

চিত্রশালা

আরও দেখুন

পাদটীকা

  1. অন্নদাশঙ্কর রায় লেখেন: ‘‘শেখ সাহেবকে আমরা প্রশ্ন করি, ‘বাংলাদেশের আইডিয়াটি প্রথম কবে আপনার মাথায় এল?’ ‘শুনবেন?’ তিনি (বঙ্গবন্ধু) মুচকি হেসে বললেন, ‘সেই ১৯৪৭ সালে। আমি সুহরবর্দী (সোহরাওয়ার্দী) সাহেবের দলে। তিনি ও শরৎচন্দ্র বসু চান যুক্তবঙ্গ। আমিও চাই সব বাঙালীর এক দেশ।... দিল্লী থেকে খালি হাতে ফিরে এলেন সুহরাবর্দী ও শরৎ বোস। কংগ্রেস বা মুসলিমলীগ কেউ রাজী নয় তাঁদের প্রস্তাবে।... তখনকার মতো পাকিস্তান মেনে নিই। কিন্তু আমার স্বপ্ন সোনার বাংলা।... হঠাৎ একদিন রব উঠল, আমরা চাই বাংলাভাষা। আমিও ভিড়ে যাই ভাষা আন্দোলনে। ভাষাভিত্তিক আন্দোলনকেই একটু একটু করে রূপ দিই দেশভিত্তিক আন্দোলনে। পরে এমন এমন একদিন আসে যেদিন আমি আমার দলের লোকদের জিজ্ঞেস করি, আমাদের দেশের নাম কী হবে? কেউ বলে, পাক বাংলা। কেউ বলে, পূর্ব বাংলা। আমি বলি, না বাংলাদেশ। তারপর আমি শ্লোগান দিই, ‘জয়বাংলা’।... ‘জয় বাংলা’ বলতে আমি বোঝাতে চেয়েছিলুম বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতির জয় বা সাম্প্রদায়িতকার উর্ধ্বে।’’ [বঙ্গবন্ধু কীভাবে আমাদের স্বাধীনতা এনেছিলেন, মাওলা ব্রাদার্স]
  2. সেদিন পাকিস্তান রেডিও ঘোষণা করে যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এবং বেশ কয়েকটি শহরে বিদ্রোহের পর পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয়বাদী নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
  3. টাইম ম্যাগাজিনের খবরে বলা হয়, ঢাকায় সেনাবাহিনী ২৪ ঘণ্টার কড়া কারফিউ জারি করেছে এবং অমান্যকারীদের তৎক্ষণাৎ গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শীঘ্রই, সম্ভবত চট্টগ্রামের কোনো স্টেশন থেকে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হয়। গোপন ওই বেতারকেন্দ্র থেকে মুজিব বাঙালি জাতির স্বাধীনতার ডাক দেন (টাইমের ভাষায় “sovereign independent Bengali nation”) এবং বাংলা দেশের জনগণকে দেশের প্রতিটি জায়গা থেকে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এই আহ্বানে যদিও প্রত্যক্ষ সামরিক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত নেই। এর পরই রাত ১.৩০ মিনিটের সময় শেখ মুজিবকে সেনারা তার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে।
  4. ইয়াহিয়া খান ভুট্টোর কাছে প্রার্থনা করেছিল যে, “আমার ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে শেখ মুজিবকে হত্যা করার অনুমতি দাও। আমার জীবনে যদি কোন ভুল করে থাকি তাহলো শেখ মুজিবকে ফাঁসি কাষ্ঠে না ঝোলানো।”
  5. বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা, মুজিবনগর সরকার গঠন, নয় মাস ব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধ, বিজয় অর্জন, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার ও পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসনভার গ্রহণ, সংবিধান প্রণয়ন করে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ইত্যাদিকে প্রথম বিপ্লব বা বাংলাদেশ বিপ্লব আখ্যা দেন শেখ মুজিব সরকার।
  6. টাইম সাময়িকীর ভাষ্যে, নতুন ব্যবস্থার অধীনে সমস্ত নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি, যিনি প্রতি পাঁচ বছর পরপর প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন, এবং রাষ্ট্রপতি নিয়োজিত মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত করা হয়। যদিও সংসদ আইন প্রণয়ন করতে পারবে, তবুও রাষ্ট্রপতি ভেটো ক্ষমতার অধিকারী হবেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সংসদ স্থগিত করে দিতেন পারবেন। তৎসত্ত্বেও সংসদ “সংবিধানের অবমাননা ও ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত কারণে” কিংবা মানসিক ও শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিন-চতুর্থাংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে পারবে। এই সংশোধনী মুজিবকে একক “জাতীয় দল” [বাকশাল] গঠনের ক্ষমতা দেয়, এবং এভাবে সকল রাজনৈতিক বিরোধীদলকে রুদ্ধ করে দেওয়া হয়।
  7. ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ন্যাম সম্মেলন উপলক্ষে নির্মীত এই কেন্দ্রের নাম “বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র” দেওয়া হয়েছিল। ২০০২ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর নাম পরিবর্তন করে “বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র” রাখা হয়।

তথ্যসূত্র

  1. "জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতি টাঙানো ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত নোটিশ" (পিডিএফ)আইন ও বিচার বিভাগ। বাংলাদেশ সরকার। ১ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  2. "জন্মলগ্ন থেকে যারা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক ছিলেন"। ইত্তেফাক। ২০ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  3. "৬ দফা ও বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত"জাগোনিউজ২৪। ৭ জুন ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  4. বেগম, সাহিদা। "আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা"বাংলাপিডিয়া। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  5. কৌশিক, এস এল; পাটনায়েক, রমা (১৯৯৫)। মডার্ন গভর্নমেন্টস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সিস্টেমস: গভর্নমেন্টস অ্যান্ড পলিটিক্স ইন সাউথ এশিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। মিত্তাল পাবলিকেশন্স। পৃষ্ঠা ২১০–। আইএসবিএন 978-81-7099-592-0 
  6. বদরুল আহসান, সৈয়দ (৮ আগস্ট ২০১৯)। "When Pakistan put Bangabandhu on trial" [পাকিস্তান বঙ্গবন্ধুর বিচার করে কখন]। ঢাকা ট্রিবিউন (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  7. হাসান, সোহরাব (৯ আগস্ট ২০১৫)। "শোকাবহ আগস্ট : পাকিস্তানিদের চোখে শেখ মুজিব: মুজিবকে শান্তিতে থাকতে দেননি ভুট্টো"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  8. ইসলাম, উদিসা (১২ জানুয়ারি ২০২০)। "১২ জানুয়ারি ১৯৭২: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ মুজিবুর রহমান"। বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  9. "Listeners name 'greatest Bengali'" (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি যুক্তরাজ্য। ২০০৪-০৪-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১১-০৯ 
  10. "The Hindu : International : Mujib, Tagore, Bose among 'greatest Bengalis of all time'" [দ্য হিন্দু: আন্তর্জাতিক: 'সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকা'য় মুজিব, ঠাকুর ও বসু]। www.thehindu.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১১-০৯ 
  11. "BBC Listeners' Poll: Bangabandhu judged greatest Bangali of all time" [বিবিসি শ্রোতাদের ভোট: বঙ্গবন্ধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত]। archive.thedailystar.net (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য ডেইলি স্টার। ১৬ এপ্রিল ২০০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১১-০৯ 
  12. রশীদ, হারুন-অর। "রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর"বাংলাপিডিয়া। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০০৬ 
  13. "বঙ্গবন্ধুর স্বলিখিত ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক তথ্য (১৯৪৯ সাল পর্যন্ত) | শেখ মুজিবের কয় ভাই বোন?"সংগ্রামের নোটবুক। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  14. "বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা"। ভোরের কাগজ। ১৭ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  15. হাসিনা, শেখ (ফেব্রুয়ারী ২০১৫)। শেখ মুজিব আমার পিতা। আগামী প্রকাশনী। আইএসবিএন 978-984-04-1730-8 
  16. কাদির, মুহাম্মদ নূরুল (২০০৪)। দুশো ছেষট্টি দিনে স্বাধীনতা। ঢাকা: মুক্ত পাবলিশার্স। পৃষ্ঠা ৪৪০। আইএসবিএন 984-32-0858-7 
  17. মোস্তফা কামাল, আবু হেনা (ডিসেম্বর ২০১৭)। বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পৃষ্ঠা ১৪। আইএসবিএন 978-984-06-1607-2 |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: checksum (সাহায্য) 
  18. আলম, ফখরে (১৫ আগস্ট ২০১৭)। "বঙ্গবন্ধু ও কলকাতা বেকার হোস্টেল"বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২০ 
  19. ইসলাম, আমীরুল (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭)। তুমি আমাদের পিতা। অনন্যা। আইএসবিএন 978-984-70105-0369-2 
  20. মিরাজ, ওয়ালিউর রহমান (১৪ আগস্ট ২০১০)। "শেখ মুজিবের ছাত্রত্ব বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার"। ঢাকা: বিবিসি বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  21. "The Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman" (ইংরেজি ভাষায়)। বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  22. মামুন, মুনতাসীর (ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। বঙ্গবন্ধু কীভাবে আমাদের স্বাধীনতা এনেছিলেন। মাওলা ব্রাদার্স। 
  23. "পাকিস্তান আন্দোলন, দাঙ্গা ও শেখ মুজিব"। দৈনিক কালের কণ্ঠ। ২৬ আগস্ট ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  24. "Political Profile of Bongobondhu Sheikh Mujibur Rahman" (ইংরেজি ভাষায়)। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ২৬ এপ্রিল ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০০৭ 
  25. "আজ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ৭২ বছরে পদার্পণ"। দৈনিক ইনকিলাব। ৪ জানুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  26. "Bangabandhu wanted to establish socialism within Democratic state framework: Amu" [বঙ্গবন্ধু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোয় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন: আমু]। দ্য ডেইলি সান (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৭ 
  27. আল হেলাল, বশীর। "ভাষা আন্দোলন"বাংলাপিডিয়া। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  28. "Mr. Chowdhury becomes President of Bangladesh. - Cabinet formed by Sheikh Mujib." [মন্ত্রীসভা গঠন করলেন শেখ মুজিব, চৌধুরী রাষ্ট্রপতি]। কিসিং'স রেকর্ড অব ওয়ার্ল্ড ইভেন্টস (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ (২): ২৫১১১। ফেব্রুয়ারি ১৯৭২। (সদস্যতা নেয়া প্রয়োজন (সাহায্য)) 
  29. "এক মহাজীবন"দৈনিক সমকাল (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  30. "১৯৪৮ সালের আজকের দিনে প্রথমবারের মত কারাবন্দী হন বঙ্গবন্ধু"। চ্যানেল আই অনলাইন। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  31. "টাঙ্গাইল জেলা - প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব"জাতীয় তথ্য বাতায়ন। বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  32. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (১৪ আগস্ট ২০১০)। "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: বঙ্গবন্ধুর ছাত্রত্ব বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার"। প্রথম আলো আর্কাইভ। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  33. "সংসদে তোফায়েল আহমেদ: বঙ্গবন্ধু ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে ছিলেন"। প্রথম আলো। ৭ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  34. হোসেন, মোকাম্মেল (১৭ মার্চ ২০২০)। "বঙ্গবন্ধুর জেলজীবন"। যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  35. "জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী"। বিভাগীয় বস্ত্র অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  36. "গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু"print.thesangbad.net (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ জানুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  37. "ডিজিটাল বাংলাদেশ: সোনার বাংলার আধুনিক রূপ"তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  38. ইসলাম, সায়েদুল (২৩ জুন ২০১৯)। "আওয়ামী লীগের ৭১ বছর: যেভাবে জন্ম হয়েছিল দলটির"। ঢাকা: বিবিসি বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  39. আহমেদ, সিরাজ উদ্‌দীন (১৬ মার্চ ২০২০)। "যুক্তফ্রন্টে বঙ্গবন্ধু"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  40. "শেখ মুজিবুর রহমান: ছবিতে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মুহূর্ত"। বিবিসি বাংলা। ১৫ আগস্ট ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  41. "এক মহাজীবন"। সমকাল। ১৭ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  42. সাহা, পার্থ শঙ্কর (২১ অক্টোবর ২০১৬)। "কেমন ছিল আ.লীগের আগের সম্মেলনগুলো"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  43. সাইয়িদ, ড. আবু (৩১ আগস্ট ২০১৪)। "ফিরে দেখা: ইতিহাস না জেনেই ইতিহাসের পাঠদান"। মুক্তমঞ্চ: সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  44. "কাগজে কলমে নয়, বাস্তবে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর নির্দেশ"। অর্থনীতি: জাগোনিউজ২৪। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  45. "বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীত্ব গ্রহণের স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত"। ঢাকা: সময় নিউজ (মহানগর সময়)। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  46. অধিকারী, বীরেন্দ্র নাথ (১১ আগস্ট ২০২০)। "সমতট থেকে ঝড়ের বেগে সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আরোহণ"। মতামত: বিডিনিউজ২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  47. "বঙ্গবন্ধু ১৯৬১ সালে স্বাধীনতার জন্য দিল্লীর সাহায্য চান। নেহেরুর অস্বীকৃতি। গোলাম মোরশেদের পদত্যাগপত্র"সংগ্রামের নোটবুক। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  48. রহমান, পীর হাবিবুর (৭ জুন ২০১৯)। "'আমি সিরাজুল আলম খান-৩': রাজনীতির রহস্যপুরুষের নিউক্লিয়াস তত্ত্বের বিতর্ক"। বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  49. "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বছরভিত্তিক জীবনের ঘটনাপ্রবাহ"বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  50. অর-রশিদ, হারুন। "সোহ্‌রাওয়ার্দী, হোসেন শহীদ"বাংলাপিডিয়া। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  51. জিয়া, খালেদা (১১ জুলাই ২০০৬)। "Mujib Notes" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০০৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  52. রাশিদুজ্জামান, এম (জুলাই ১৯৭০)। "The Awami League In The Political Development of Pakistan"। এশিয়ান সার্ভে [পাকিস্তানের রাজনৈতিক উন্নয়নে আওয়ামী লীগ] (ইংরেজি ভাষায়)। ১০। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া প্রেস। পৃষ্ঠা ৫৭৪-৫৮৭। ডিওআই:10.2307/2642956। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০০৬ 
  53. চৌধুরী, জি ডব্লিউ (এপ্রিল ১৯৭২)। "Bengali nationalism | Bangladesh: Why It Happened"। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (রয়েল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ১৯৪৪-) [বাঙালি জাতীয়তাবাদ: কেন এমন হলো] (ইংরেজি ভাষায়)। । অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ২৪২-২৪৯। ডিওআই:10.2307/2613440। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০০৬ 
  54. "বাক্স ভইরা ট্যাক্স দিবো ভোটের বেলায় নাই। ফাতেমা জিন্নাহর ইলেকশনের সময়কার ভোটের গান"সংগ্রামের নোটবুক। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  55. নুরুল, ইসলাম (১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬)। ছয় দফা (Speech)। পূর্ব পাকিস্তান: পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। 
  56. সেলিম, মোহাম্মদ (৯ এপ্রিল ২০১৭)। "'কারাগারের রোজনামচা': বাঙালির জাগরণের দলিল"। মতামত: বিডিনিউজ২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  57. মান্নান, ড. এম এ (১৯ মে ২০২০)। "বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফার তাৎপর্য"। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  58. খান, মুয়ায্‌যম হুসায়ন। "এগারো দফা"বাংলাপিডিয়া। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  59. শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (৭ জুন ২০২০)। "ছয় দফা বাঙালির 'স্বাধীনতার সনদ'"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  60. "'বঙ্গবন্ধু' উপাধি পান শেখ মুজিবুর রহমান"। বাংলানিউজ২৪ (ফিচার)। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  61. কেনেডি, চার্লস; বাক্সটার, ক্রেইগ (১১ জুলাই ২০০৬)। "Governance and Politics in South Asia" [দক্ষিণ এশিয়ার প্রশাসন ও রাজনীতি] (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০০৬ 
  62. আহমেদ, হেলাল উদ্দিন। "খান, ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আইয়ুব"বাংলাপিডিয়া। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  63. "১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া পাকিস্তানের ক্ষমতা নেন"সংগ্রামের নোটবুক। কিউরেটর। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  64. বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৬ শিক্ষাবর্ষ, পৃষ্ঠা: ১১। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, বাংলাদেশ।
  65. গোস্বামী, অরুণ কুমার (১৭ এপ্রিল ২০১৬)। "বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকার"। মুক্তচিন্তা: ভোরের কাগজ। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  66. মৃধা, রহমান (২ মার্চ ২০২০)। "২০২০ সালে আমাদের চেতনা হোক দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার চেতনা"। সুইডেন: পরবাস: যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  67. আহমেদ, সালাহউদ্দিন (২০০৪)। Bangladesh: Past and Present [বাংলাদেশ: অতীত ও বর্তমান] (ইংরেজি ভাষায়)। এপিএইচ পাবলিশিং। পৃষ্ঠা ৬৩। আইএসবিএন 978-81-7648-469-5 
  68. হাসান, মুবাশির (২০০০)। দ্য মিরেজ অব পাওয়ার: অ্যান ইনকোয়ারি ইনটু দ্য ভুট্টো ইয়ার্স (ইংরেজি ভাষায়)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ৩। আইএসবিএন 0-19-579300-5 
  69. লিটন, শাখাওয়াত (১২ জুলাই ২০১৬)। "Who was a liar – Yahya or Bhutto?" [কে ছিল মিথ্যাবাদী – ইয়াহিয়া নাকি ভুট্টো?] (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৭ 
  70. হক মজুমদার, জহিরুল (২১ জানুয়ারি ২০১৮)। "এক পূর্ণতার আকাঙ্ক্ষা ভরা প্রত্যাবর্তন"। বিডিনিউজ২৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  71. মুবাশির হাসান। দ্য মিরেজ অব পাওয়ার: অ্যান ইনকোয়ারি ইনটু দ্য ভুট্টো ইয়ার্স (ইংরেজি ভাষায়)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ১০৭। আইএসবিএন 0-19-579300-5 
  72. রহমান, মিজানুর; টিসা, নুসরাত (২৫ মার্চ ২০১৯)। "১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চের ঘটনাপ্রবাহ"। বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  73. "১ মার্চ, ১৯৭১"মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ট্রাস্ট। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  74. "উত্তাল মার্চ ১৯৭১- বাংলার জনগণ ইয়াহিয়ার ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে: বঙ্গবন্ধু"albd.org। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ২ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  75. আহমেদ, হেলাল উদ্দিন। "সাতই মার্চের ভাষণ"বাংলাপিডিয়া। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  76. হামিদ, আশিকুল (৯ ডিসেম্বর ২০১৯)। "স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা পর্ব"। দৈনিক সংগ্রাম আর্কাইভ। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  77. হক, মুহাম্মদ শামসুল (২৫ মার্চ ২০১৯)। "বঙ্গবন্ধুর গ্রেপ্তারবরণ ও স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ নিয়ে অযথা বিতর্ক"। বিডিনিউজ২৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  78. জাহিদ, আবদুল্লাহ (২৬ এপ্রিল ২০১৯)। "সংবাদপত্রের পাতা থেকে: বিশ্ব গণমাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধ (সপ্তম পর্ব)"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  79. "LEADER OF REBELS IN EAST PAKISTAN REPORTED SEIZED; Sheik Mujib Arrested After a Broadcast Proclaiming Region's Independence DACCA CURFEW EASED Troops Said to Be Gaining in Fighting in Cities -Heavy Losses Seen" [পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্রোহীদের নেতাকে আটক; অঞ্চলের স্বাধীনতা ঘোষণার পর শেখ মুজিব গ্রেফতার হলেন, ঢাকার কারফিউ শিথিল, সেনাবাহিনী মোতায়েনের খবর - ব্যাপক প্রাণহানি] (ইংরেজি ভাষায়)। নিউ ইয়র্ক টাইমস। ২৭ মার্চ ১৯৭১। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  80. "Pakistan: Toppling Over the Brink" [পাকিস্তান: খাদের কিনারায় হোঁচট] (ইংরেজি ভাষায়)। টাইম সাময়িকী। ৫ এপ্রিল ১৯৭১। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০০৭ 
  81. "The Declaration of Independence"bangabandhu.com। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  82. ইসলাম, সিরাজুল। "স্বাধীনতা ঘোষণা - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.orgবাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  83. Mithu, Rita Roy (২৯ এপ্রিল ২০১৪)। "তেতাল্লিশ বছরের না বলা কথা!"প্রিয়.কম (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  84. The Sheikh Mujib Declaration of Independence of Bangladesh : U.S. Government Records and Media Documentation (পিডিএফ)। Cbgr1971.org। পৃষ্ঠা ২। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  85. হোসেন তওফিক ইমাম (২০০৪)। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১। আগামী প্রকাশনী। আইএসবিএন 984-401-783-1 
  86. শামসুল হুদা চৌধুরী (২০০১)। একাত্তরের রনাঙ্গন। আহমদ পাবলিশিং হাউস। আইএসবিএন 9789841107062 
  87. ফ্রাঙ্ক, ক্যাথরিন (২০০২)। ইন্দিরা: দ্য লাইফ অব ইন্দিরা নেহরু গান্ধী (ইংরেজি ভাষায়)। যুক্তরাষ্ট্র: হাফটন মাফলিন। পৃষ্ঠা ৩৩৬। আইএসবিএন 0-395-73097-X 
  88. "The 1971 war"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০১১ 
  89. "বঙ্গবন্ধু যেভাবে পাকিস্তানি জেল থেকে মুক্ত হয়েছিলেন"। বিডিনিউজ২৪। ৯ জানুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  90. সাইয়িদ, আবু (ফেব্রুয়ারি ২০১১)। একাত্তরে বন্দী মুজিব : পাকিস্তানের মৃত্যুযন্ত্রণা। সূচীপত্র প্রকাশনী। আইএসবিএন 978-984-70022-0202-2 |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: length (সাহায্য) 
  91. ফ্রাঙ্ক, ক্যাথরিন (২০০২)। Indira: The Life of Indira Nehru Gandhi (ইংরেজি ভাষায়)। যুক্তরাষ্ট্র: হাফটন মাফলিন। পৃষ্ঠা ৩৪৩। আইএসবিএন 0-395-73097-X 
  92. লরেন্স বি লেসার (সেপ্টেম্বর ১৯৮৮)। "Economic Reconstruction after Independence"। জেমস হিটজম্যান; জেমস ওরডেন। A Country Study: Bangladesh [স্বাধীনতার পর অর্থনৈতিক পুনর্গঠন] (ইংরেজি ভাষায়)। লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, ফেডারেল রিসার্চ ডিভিশন।  এই প্রবন্ধটি এই উৎসের সাথে সম্পর্কিত, যা বর্তমানে পাবলিক ডোমেনে রয়েছে। অ্যাবাউট দ্য কান্ট্রি স্টাডিজ / এরিয়া হ্যান্ডবুকস প্রোগ্রাম: কান্ট্রি স্টাডিজ - যুক্তরাষ্ট্রীয় গবেষণা বিভাগ, কংগ্রেস লাইব্রেরি ফেডারেল রিসার্চ
  93. জাহান, রৌনক (ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩)। "গভর্ন্যান্স"। (এশিয়ান সার্ভে) বাংলাদেশ ইন ১৯৭২: নেশন বিল্ডিং ইন অ্যা নিউ স্টেট (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া প্রেস। পৃষ্ঠা ১৯৯–২১০। ডিওআই:10.2307/2642736। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০০৬ 
  94. ফরিদ, শাহ মোহাম্মদ। "Integration of Poverty Alleviation and Social Sector Development into the Planning Process in Bangladesh" [বাংলাদেশের পরিকল্পনা পদ্ধতিতে দারিদ্র‍্য নিরসন ও সমাজ উন্নয়নের সারকথা] (PDF)ইউনেসক্যাপ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০০৬ 
  95. সেন, অমর্ত্য (১৯৮২)। পোভার্টি অ্যান্ড ফেমিন: অ্যান এসে অ্যান্ড এন্টাইটলমেন্ট অ্যান্ড ডিপ্রাইভেশন [দারিদ্র‍্য ও দুর্ভিক্ষ] (ইংরেজি ভাষায়)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ১৩৮। আইএসবিএন 9780191596902 
  96. ইসলাম, মাইদুল (২০১৫)। লিমিটস অব ইসলামিজম (ইংরেজি ভাষায়)। ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ১৭২। আইএসবিএন 9781107080263 
  97. রহমান, এ কে এম আতিকুর (১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯)। "বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নেতৃত্বের প্রভাব"। কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  98. আহমেদ, তোফায়েল (১৭ মার্চ ২০২০)। "যে জন্য বঙ্গবন্ধু অবিসংবাদিত নেতা"। সমকাল (মুক্তমঞ্চ)। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  99. হাসান, মেহেদী (১৭ ডিসেম্বর ২০১৭)। "স্বীকৃতি ঠেকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা ছিল পাকিস্তানের: যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা ও যুদ্ধবন্দিদের মুক্তিই ছিল লক্ষ্য"। কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  100. আব্দুল মোমেন, এ কে (১৫ আগস্ট ২০১৬)। "জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু"। কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  101. ফ্রাঙ্ক, ক্যাথরিন (২০০২)। ইন্দিরা: দ্য লাইফ অব ইন্দিরা নেহরু গান্ধী (ইংরেজি ভাষায়)। যুক্তরাষ্ট্র: হাফটন মাফলিন। পৃষ্ঠা ৩৮৮। আইএসবিএন 0-395-73097-X 
  102. ফ্রাঙ্ক, ক্যাথরিন (২০০২)। ইন্দিরা: দ্য লাইফ অব ইন্দিরা নেহরু গান্ধী (ইংরেজি ভাষায়)। যুক্তরাষ্ট্র: হাফটন মাফলিন। পৃষ্ঠা ৩৮৮। আইএসবিএন 0-395-73097-X 
  103. উদ্দিন, শাহজাদ (৭ জুলাই ২০০৬)। "Mujib's policies: A Bangladeshi Soap Opera" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ জুন ২০০৭ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০১৬ 
  104. শেখ, এমরান হোসাইন (৮ জুলাই ২০১৮)। "একনজরে সংবিধানের ১৭টি সংশোধনী"। বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  105. "ফিরে দেখা ১০টি সংসদ নির্বাচন"। কালের কণ্ঠ। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  106. রমন, বি (২৯ আগস্ট ২০০৬)। "মুজিব অ্যান্ড ইসলাম" (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ জুন ২০০৭ তারিখে মূল (পিএইচপি) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ আগস্ট ২০০৬ 
  107. "ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচিতি"জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ৩ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  108. ডন মিডিয়া গ্রুপ (২ অক্টোবর ২০১৭)। "Special Report: Democracy in Disarray 1974-1977" [বিশেষ প্রতিবেদন: ছত্রভঙ্গ গণতন্ত্র ১৯৭৪-১৯৭৭]। DAWN.COM (ইংরেজি ভাষায়)। ডন। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  109. "JS sees debate over role of Gono Bahini" [গণবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জাতীয় সংসদে বিতর্ক]। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ জুলাই ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৫ 
  110. "Rizvi now blasts Inu at press briefing" [এবার প্রেস ব্রিফিংয়ে ইনুকে এক হাত নিলেন রিজভী]। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ইউএনবি। ১৫ জুন ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০১৬ 
  111. হোসেন, হামজা; কামরুল ইসলাম, এ টি এম (১৯৭৪)। Bangladesh: Jatiya Rakkhi Bahini Act (ইংরেজি ভাষায়)। 
  112. আহমেদ, ইমাজউদ্দিন (২০০৪)। The military and democracy in Bangladesh (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। সিডনি: অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ১০৮–১১০। 
  113. রক্ষীবাহিনীর নৃশংসতা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছিলআমার দেশ। ১৬ জানুয়ারি ২০১১। ১৭ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  114. ফেয়ার, ক্রিস্টাইন সি; রিয়াজ, আলি (২০১০)। Political Islam and Governance in Bangladesh। রুটলেজ। পৃষ্ঠা ৩০–৩১। আইএসবিএন 1136926240। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১৬ 
  115. চৌধুরী, আতিফ (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "Bangladesh: Baptism By Fire"হাফিংটন পোস্ট। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০১৬ 
  116. "Ignoring Executions and Torture : Impunity for Bangladesh's Security Forces" [উপেক্ষিত মৃত্যুদণ্ড ও নির্যাতন: বাংলাদেশের নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর অব্যাহতি] (PDF)হিউম্যান রাউটস ওয়াচ (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ মার্চ ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০১৩ 
  117. আহমেদ, মওদুদ (২০১৫) [প্রথম প্রকাশ: ১৯৮৩]। Bangladesh, Era of Sheikh Mujibur Rahman। ঢাকা: দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। পৃষ্ঠা ৬৯। আইএসবিএন 978-984-506-226-8 
  118. আলম, আনোয়ার উলরক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা। প্রথমা প্রকাশন। আইএসবিএন 9789849025399 
  119. রহমান, মোহাম্মদ হাবিবুর (৭ জুলাই ২০০৬)। "Decentralization and Access: Theoretical Framework and Bangladesh Experience" (PDF)। ১২ নভেম্বর ২০০৫ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০০৬ 
  120. আহমেদ, মওদুদ (১৯৮৩)। বাংলাদেশ : শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। আইএসবিএন 978-984-506-226-8 
  121. "টলিডো ব্লেড – গুগল নিউজ আর্কাইভ অনুসন্ধান"গুগল নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১৯ 
  122. "BANGLADESH: The Second Revolution" [বাংলাদেশ: দ্বিতীয় বিপ্লব] (ইংরেজি ভাষায়)। টাইম ম্যাগাজিন ইউএসএ। ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  123. অর-রশিদ, হারুন (আগস্ট ২০১৭)। "বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব : লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও পরিপ্রেক্ষিত"। উত্তরণ। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  124. কান্ট্রি স্টাডিজ, বাংলাদেশ (১২ সেপ্টেম্বর ২০০৬)। "Mujib's fall" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৬ 
  125. "Ziaur Rahman informed Sheikh Mujibur Rahman about earlier coup threat"। এখন সময়। ৫ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  126. রনি, আবু সালেহ (১৫ আগস্ট ২০১৮)। "থমকে আছে সেরনিয়াবাত, শেখ মনি হত্যার বিচারও"দৈনিক সমকাল (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  127. ফ্রাংক, ক্যাথরিন (২০০২)। ইন্দিরা: দ্য লাইফ অফ ইন্দিরা নেহরু গান্ধী (ইংরেজি ভাষায়)। যুক্তরাষ্ট্র: হাফটন মাফলিন। পৃষ্ঠা ৩৮৯। আইএসবিএন 0-395-73097-X 
  128. পারভীন, ফারহানা (১৫ আগস্ট ২০১৭)। "শেখ মুজিব সপরিবারে হত্যার পর ৩২নং রোডের বাড়ীর ভেতরের দৃশ্য কেমন ছিল?"। ঢাকা: বিবিসি বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  129. এম এ হামিদ পিএসসি, লে. কর্নেল (অব.) (ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা (হাওলাদার সংস্করণ)। হাওলাদার প্রকাশনী। আইএসবিএন 978-984-8964-58-3 
  130. মির্জা, সুলতান (২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯)। "ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: দায়ী কে?"। বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  131. "Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman" (ইংরেজি ভাষায়)। ডেকান হেরাল্ড। ৭ জুলাই ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০০৬ 
  132. লিফশুলজ, লরেন্স। "The long shadow of the August 1975 coup" (৪৩৪)। দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০০৭ 
  133. হাসান, সোহরাব (৭ নভেম্বর ২০১৮)। "৭ নভেম্বরের কুশীলবেরা কে কোথায়"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  134. "Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman"দ্য হিন্দু (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০৬-০৭-০৭। ৪ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০০৯ 
  135. "বঙ্গবন্ধুর ৫ খুনির ফাঁসি"বাংলাদেশ প্রতিদিন। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৭ 
  136. "SHEIKH MUJIBUR RAHMAN" 
  137. Mujibur Rahman 2012, পৃ. ৭।
  138. Kādira 2004, পৃ. 440।
  139. "Sheikh Fazilatunnesa Mujib's 81st birth anniversary today" [শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৮১তম জন্মদিন আজ]। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  140. আলম, খায়রুল (৫ আগস্ট ২০২০)। "শেখ কামাল: সৃষ্টি আর সম্ভাবনার তারুণ্য"। চ্যানেল আই অনলাইন। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  141. "Sheikh Kamal"The Asian Age। ৫ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  142. "Sheikh Jamal"। বঙ্গবন্ধু তথ্য কেন্দ্র। ১৮ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০১৯ 
  143. "Sheikh Jamal profile"। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ৪ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ 
  144. ইসলাম, এন (১ জানুয়ারি ২০০১)। বঙ্গবন্ধু ইন দ্য আই অব হিস পার্সোনাল ফিজিশিয়ান (ইংরেজি ভাষায়)। আনোয়ারা-নূর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। পৃষ্ঠা ১১৫। 
  145. Gupta 1981, পৃ. 5।
  146. রুখসানা, শায়লা (২৩ জুন ২০১৮)। "শেখ হাসিনা যেভাবে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হলেন"। ঢাকা: বিবিসি বাংলা। বিবিসি। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  147. রনি, রফিকুল ইসলাম (৮ জানুয়ারি ২০১৯)। "চারবারের রেকর্ড গড়লেন শেখ হাসিনা"। বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  148. নিল্ড, ব্যারি (১৫ জানুয়ারি ২০১৪)। "UK vote could create cross-border dynasty" [যুক্তরাজ্যের ভোট আন্তঃসীমান্ত সাম্রাজ্য তৈরি করতে পারত] (ইংরেজি ভাষায়)। আলজাজিরা। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  149. "Hampstead and Kilburn MP Tulip Siddiq set to back Owen Smith in Labour leadership contest"ক্যামডেন নিউ জার্নাল। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ 
  150. "মন্ত্রীর পদমর্যাদা পেলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ"। দৈনিক ইনকিলাব। ১০ মার্চ ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  151. ঘোষ, সুশান্ত; হাবিব, ওয়াসিম বিন (৯ জুন ২০২০)। "১৫ আগস্টের যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে ছিলেন শাহান আরা আবদুল্লাহ!"। দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  152. "রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়ছে শেখ মনি পরিবারের"। দৈনিক ইত্তেফাক। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  153. "বঙ্গবন্ধু পরিবারের ৯ সদস্যই নির্বাচনে জয়ী"। ঢাকা ট্রিবিউন। ইউএনবি। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  154. "বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক চিন্তাধারা"। দৈনিক প্রথম আলো। ১৫ জুলাই ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  155. "Autobiography of Mujibur handed over to Hasina" [মুজিবের আত্মজীবনী হাসিনার কাছে হস্তান্তর]। গালফ টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ জুন ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  156. "Karagarer Rojnamcha: A Jail Diary with a Difference" [কারাগারের রোজনামচা: ভিন্ন ধরনের কারাগারের দিনলিপি] (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য ডেইলি স্টার। ২০ মে ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৭ 
  157. খান, শামসুজ্জামান (১৬ মার্চ ২০১৮)। "লেখক বঙ্গবন্ধু"। অন্য আলো | প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  158. সরকার, মোনায়েম (২৬ আগস্ট ২০১২)। "ভালোবাসার টানেই বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি : ফকরুল আলম"যায়যায়দিন। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  159. হোসেন, তারিন। "কারাগারের রোজনামচা : জেল-যন্ত্রণা ও জীবন-জিজ্ঞাসা"। দৈনিক ইত্তেফাক। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৭ 
  160. "বঙ্গবন্ধুর 'আমার দেখা নয়া চীন' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী"। ইত্তেফাক। ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  161. "আমার কিছু কথা - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান"রকমারি.কম। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  162. আলী, ইয়াকুব (২৪ আগস্ট ২০২০)। "মুজিব ভাই: বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিজীবনের ছায়া"। চ্যানেল আই অনলাইন। 
  163. "ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে বেবী মওদুদকে স্মরণ"। বিডিনিউজ২৪। ২৫ জুলাই ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  164. "মিজানুর রহমান খান | মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড"। প্রথমা প্রকাশন। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  165. "মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড: পঁচাত্তরের পরিবর্তনের কথা আগেই বলেছিল সিআইএ"। প্রথম আলো। ৭ আগস্ট ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  166. হায়দার, মনি (১ ফেব্রুয়ারি ২০২০)। "মুজিবের রক্ত লাল: ১৫ আগস্টের পর প্রথম বই"। যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  167. "শেখ মুজিবর রহমানের শাসনকাল – মওদুদ আহমদ"মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  168. "মিজানুর রহমান খান: কারা সেই 'রাঘববোয়াল'?"। প্রথম আলো | কলাম। ১৬ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  169. "অবশেষে বইমেলায় হুমায়ূনের শেষ উপন্যাস 'দেয়াল'"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৮ 
  170. জামিল, নওশাদ (২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৩ - আগ্রহের কেন্দ্রে 'দেয়াল'"দৈনিক কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৮ 
  171. ঝা, আদিত্য মনি (১৫ জুন ২০১৩)। "In the famine-ravaged fields of Bangla, we are all Mujib" [দুর্ভিক্ষ-পীড়িত বাংলার মাঠে, আমরা সবাই মুজিব] (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য সানডে গার্ডিয়ান 
  172. পাঠ-পরিচিতি: শোন একটি মুজিবরের থেকে, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, পৃষ্ঠা ৭৬–৭৮, সপ্তবর্ণা, সপ্তম শ্রেণি, শিক্ষাবর্ষ ২০২০, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ
  173. ভট্টশালী, অমিতাভ (১৭ মার্চ ২০১৯)। "চায়ের আড্ডায় সিগারেটের কাগজে যেভাবে জন্ম হয় 'শোন একটি মুজিবরের থেকে' গানটির"। কলকাতা: বিবিসি বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  174. আকবর, জাহিদ (১০ মার্চ ২০২০)। "'যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই' গানের নেপথ্য-কথা"। আনন্দধারা: দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  175. পাণ্ডে, গৌতম (১১ আগস্ট ২০১৬)। "সেলুলয়েডে বঙ্গবন্ধু"। দৈনিক জনকণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  176. "Children of War (2014) - Cast - IMDB"ইন্টারনেট মুভি ডাটাবেজ। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  177. সুলতানা, আইরিন (৭ জুন ২০১৪)। "'চিলড্রেন অব ওয়ার' চলচ্চিত্রে যুদ্ধশিশু কতটা ব্যক্ত এবং ..."। বাংলানিউজ২৪। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  178. সাগর, হোসাইন মোহাম্মদ (৯ নভেম্বর ২০১৯)। "হাসিনা, আ ডটারস টেল: হার না মানার গল্প"। বাংলানিউজ২৪ | শিল্প-সাহিত্য। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  179. সিদ্দিক, হাবিবুল্লাহ (১৫ আগস্ট ২০২০)। "'August 1975' awaits censor board approval" [সেন্সর বোর্ড ছাড়পত্রের অপেক্ষায় ‘আগস্ট ১৯৭৫’] (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড | গ্লিটজ। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  180. "'আগস্ট ১৯৭৫' চলচ্চিত্রের টিজার ও পোস্টার প্রকাশ"। বাংলানিউজ২৪। ৬ আগস্ট ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  181. কাদের, মনজুর; ভট্টাচার্য, দেবারতি (২১ জানুয়ারি ২০২০)। "বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক, আসছে আগামী বছরের মার্চে"। ঢাকা, মুম্বাই: প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  182. ঘোষ, শুভ্রজ্যোতি (৭ অক্টোবর ২০১৮)। "শেখ মুজিবের বায়োপিকে অভিনয়ের জন্য 'রোগা চেহারার বঙ্গবন্ধু' খুঁজছেন পরিচালক শ্যাম বেনেগাল"। দিল্লি: বিবিসি বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  183. "বিনোদন: বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ছবি"। প্রথম আলো। ১৬ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  184. "ঢালিউড: বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নিয়ে ঢাকায় ব্যস্ত শ্যাম বেনেগাল"। প্রথম আলো। ৬ নভেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  185. "'চিরঞ্জীব মুজিব' চলচ্চিত্র স্পন্সর করছে সিকদার গ্রুপ"। ইউএনবি। ১২ জানুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  186. "নির্মিত হচ্ছে পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'চিরঞ্জীব মুজিব'"। ইত্তেফাক। ১৩ জানুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  187. "বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অ্যানিমেশন মুভি 'মুজিব আমার পিতা'"সময় নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  188. "বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র"দৈনিক সমকাল (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  189. "২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা"মহানগর সময় | সময় নিউজ। ৬ জুলাই ২০১৮। 
  190. "২০২০-২১ সাল হবে মুজিববর্ষ : প্রধানমন্ত্রী"যুগান্তর। ৭ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২০ 
  191. "মুজিববর্ষে যত আয়োজন"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ১০ জানুয়ারী ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারী ২০২০ 
  192. "মুজিব বর্ষে বছরব্যাপী আয়োজনে যা থাকছে"বণিক বার্তা অনলাইন। ১০ জানুয়ারী ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারী ২০২০ 
  193. "বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন হবে বিশ্বব্যাপী"। দৈনিক ইত্তেফাক। ২৮ নভেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  194. বাসস (২৮ নভেম্বর ২০১৯)। "বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে 'মুজিববর্ষ' উদযাপন করবে ইউনেস্কো"। ঢাকা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  195. "বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: নবযুগের নবসূচনা"। বাংলানিউজ২৪ | তথ্যপ্রযুক্তি। ১২ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  196. হোসেন, ইসমাইল (৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩)। "যমুনা ব্রিজ এখন বঙ্গবন্ধু সেতু!"। বাংলানিউজ২৪। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  197. "বদলে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম"। চ্যানেল২৪। ২৩ আগস্ট ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  198. "'বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র' নাম পুনর্বহাল"। বিডিনিউজ২৪। ২০ জুলাই ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  199. হক, এনামুল। "বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র"বাংলাপিডিয়া। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  200. আখতারুজ্জামান, মুহাম্মাদ (৩ মার্চ ২০১৯)। "বিনোদনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার'"। দৈনিক সংগ্রাম আর্কাইভ। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  201. "হোটেল শাহবাগ থেকে বিএসএমএমইউ"। প্রথম আলো। ৭ এপ্রিল ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  202. রাহমান, আল (১৫ আগস্ট ২০১৬)। "স্মারকে-স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধুর চট্টগ্রাম"। বাংলানিউজ২৪। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  203. তারিক হাসান (এপ্রিল ১০, ২০১৭)। "দিল্লিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব লেন"ইত্তেফাক। তাসমিমা হোসেন। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ১৪, ২০১৭ 
  204. কবির, শাহজাহান (১৫ জানুয়ারি ২০২০)। "বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের পর্দা উঠছে আজ"। কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  205. "খেলার সময়: এখন থেকে সব বিপিএল বঙ্গবন্ধুর নামে"। সময় নিউজ। ১৩ জানুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  206. "বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী"। বাংলা ট্রিবিউন। ৩ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  207. "করোনাভাইরাস: এবার স্থগিত হলো বাংলাদেশ গেমস"। বাংলানিউজ২৪। ১২ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  208. "চার ছাত্রনেতা যেভাবে চার খলিফা হয়ে উঠলেন"। দি ডেইলি ক্যাম্পাস। ১৫ জুলাই ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  209. "আ স ম আবদুর রব"প্রিয়.কম (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  210. "সংবিধানে শেখ মুজিব"। বিবিসি নিউজ। ১৫ আগস্ট ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  211. "বঙ্গবন্ধুকে 'বিশ্ব বন্ধু' আখ্যা"জাগো নিউজ। ১৬ আগস্ট ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-১৭ 
  212. রায়, সুভাষ সিংহ (২৭ মে ২০২০)। "জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু"এএলবিডি.কম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  213. "বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি পুরস্কার প্রাপ্তির ৪৭তম দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত"। ইত্তেফাক। ২১ মে ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  214. "বঙ্গবন্ধুর "জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার" বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মান"এএলবিডি.কম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ২৩ মে ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  215. "জাতীয় শোক দিবস আজ"। বাংলা ট্রিবিউন। ১৫ আগস্ট ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  216. "Bangladesh new note family confirmed"banknotenews.com 
  217. ফিরদৌসী, ইশরাত। দ্য ইয়ার দ্যাট ওয়াজ। বাস্তু প্রকাশন। ওসিএলসি 36884426 
  218. আমার বাংলা বই (নবম-দশম শ্রেণি) পৃষ্ঠা:২৫৬
  219. "Know thy Father"। দ্য ডেইলি স্টার। ১৭ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০১৯ 
  220. ইসলাম, উদিসা (১৭ মার্চ ২০১৬)। "আমি হিমালয় দেখিনি মুজিবকে দেখেছি"। বাংলা ট্রিবিউন। 
  221. "Unesco recognises Bangabandhu's 7th March speech" [বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দিল ইউনেস্কো] (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য ডেইলি স্টার। ৩১ অক্টোবর ২০১৭। ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৭ 
  222. বাক্সটার, ক্রেইগ (১১ জুলাই ২০০৬)। "বাংলাদেশ: ফ্রম অ্যা নেশন টু অ্যা স্টেট" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০০৬ 
  223. https://www.kalerkantho.com/print-edition/bangabandhu-birth-anniversary-special-number-2020/2020/03/17/886715
  224. "Bangladesh: Not Yet Shonar Bangla" [বাংলাদেশ: এখনও সোনার বাংলা নয়]। টাইম (ইংরেজি ভাষায়)। ১ জানুয়ারি ১৯৭৩। পৃষ্ঠা ৩২। 
  225. "BANGLADESH: Mujib: Death of the Founder" [বাংলাদেশ: মুজিব: প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু]। টাইম (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ আগস্ট ১৯৭৫। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৭ 
  226. লুডেন, ডেভিড (১ আগস্ট ২০০৩)। "FORGOTTEN HEROES" [বিস্মৃত বীর] (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ (১৫)। ফ্রন্টলাইন। দ্য হিন্দু। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭ 
  227. চৌধুরী, আফসান (২৯ আগস্ট ২০১৬)। "Must laws protect Sheikh Mujib's honour and 1971 history?" [শেখ মুজিবের সম্মাননা ও ১৯৭১ এর ইতিহাস সংরক্ষণে আইন করা উচিত?] (ইংরেজি ভাষায়) (১)। বিডিনিউজ২৪। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  228. "মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করলে যাবজ্জীবন"। প্রথম আলো। ২২ আগস্ট ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

গ্রন্থপঞ্জি

  • খতিব, এ.এল. (ফেব্রুয়ারি ২০১৪)। হু কিলড মুজিব। আবিষ্কার। আইএসবিএন 9789848962190 
  • মূসা, এ বি এম (২০১২)। মুজিব ভাইপ্রথমা প্রকাশনআইএসবিএন 9789849003960 
  • কাদির, মুহাম্মদ নুরুল (২০০৪)। দুশো ছেষট্টি দিনে স্বাধীনতা। ঢাকা: মুক্ত প্রকাশনী। আইএসবিএন 978-984-32-0858-3 
  • করিম, এস এ (২০০৫)। শেখ মুজিব: ট্রায়াম্ফ এন্ড ট্র্যাজেডি। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। আইএসবিএন 9789840517374 
  • মিলাম, উইলিয়াম বি (২০০৯)। পাকিস্তান অ্যান্ড বাংলাদেশ: ফ্লার্টিং উইথ ফেইলর। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস। আইএসবিএন 978-0-231-70066-5 
  • ফ্রাঙ্ক, ক্যাথরিন (২০০১)। ইন্দিরা: দ্য লাইফ অব ইন্দিরা নেহেরু গান্ধী । হার্পার কলিন্স। আইএসবিএন 978-0-395-73097-3 
  • আহমেদ, মওদুদ (১৯৮৩)। বাংলাদেশ : শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। আইএসবিএন 978-984-506-226-8 
  • আহমেদ, সালাহউদ্দিন (২০০৩)। বাংলাদেশ : অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ। নয়াদিল্লি: এপিএইচ পাবলিশিং কর্পোরেশন। আইএসবিএন 9788176484695 
  • এনাতুর রহিম; জয়েস এল রহিম, সম্পাদকগণ (২০১৩)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যান্ড স্ট্রাগল ফর ইন্ডিপেন্ডেন্স: ইউকে ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস, ডিক্লাসিফাইড ডকুমেন্টস, ১৯৬২–১৯৭১। হাক্কানী পাবলিশার্স। আইএসবিএন 978-7-02-140067-5 
  • সেনগুপ্ত, জ্যোতি (১৯৮১)। বাংলাদেশ, ইন ব্লাড অ্যান্ড টিয়ার্স। নয়া প্রকাশ। 
  • রহমান খান, মিজানুর (২০১৩)। মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড। প্রথমা প্রকাশ। আইএসবিএন 9789849025474 
  • মূসা, এ বি এম (২০১২)। মুজিব ভাইপ্রথমা প্রকাশনআইএসবিএন 9789849003960 
  • কাদির, মুহাম্মদ নুরুল (২০০৪)। দুশো ছেষট্টি দিনে স্বাধীনতা। ঢাকা: মুক্ত প্রকাশনী। আইএসবিএন 978-984-32-0858-3 
  • মজুমদার, রমেশচন্দ্র (২০০৩)। দ্য হিস্টরি অফ বেঙ্গল। বি আর পাবলিশিং কর্পোরেশন। আইএসবিএন 9788176462372 
  • করিম, এস এ (২০০৫)। শেখ মুজিব: ট্রায়াম্ফ এন্ড ট্র্যাজেডি। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। আইএসবিএন 9789840517374 
  • মাইলাম, উইলিয়াম বি. (২০০৯)। পাকিস্তান অ্যান্ড বাংলাদেশ: ফ্লারটিং উইথ ফেইলার। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস। আইএসবিএন 978-0-231-70066-5 
  • কৌশিক, এস. এল.; পাটনায়াক, রামা (১৯৯৫)। মডার্ন গভর্নমেন্ট অ্যান্ড পলিটিকাল সিস্টেমসঃ গভর্নমেন্টস অ্যান্ড পলিটিক্স ইন সাউথ এশিয়া 
  • মেঘনা ঘুতাকুরতা, উইলিয়েম ভ্যান শেন্ডেল (২০১৩)। দ্য বাংলাদেশ রিডার: হিস্টোরি, কালচার, পলিটিক্স। ডিউক ইউনিভার্সিটি প্রেস। আইএসবিএন 9780822353188 
  • জাহান, রওনক (২০০০)। বাংলাদেশঃ প্রমিজ অ্যান্ড পারফরমেন্স। জেড বুকস। আইএসবিএন 9781856498258 
  • গুপ্তা, জ্যোতি সেন (১৯৮১)। বাংলাদেশ, ইন ব্লাডস অ্যান্ড টিয়ারস। নয়ক প্রকাশ। 

বহিঃসংযোগ

পূর্বসূরী:
স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে গোড়াপত্তন
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি
১১ এপ্রিল ১৯৭১ – ১২ জানুয়ারি ১৯৭২
উত্তরসূরী:
আবু সাঈদ চৌধুরী
পূর্বসূরী:
তাজউদ্দীন আহমেদ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
১২ জানুয়ারি ১৯৭২ – ২৬ জানুয়ারি ১৯৭৫
উত্তরসূরী:
মোঃ মনসুর আলী