আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানে দায়ের করা একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আওয়ামী লীগ নেতা ও পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিল।[১] ১৯৬৮ সালের প্রথম ভাগে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, শেখ মুজিব ও অন্যান্যরা ভারতের সাথে মিলে পাকিস্তানের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এই মামলাটির পূর্ণ নাম ছিল "রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য মামলা "। তবে এটি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসাবেই বেশি পরিচিত, কারণ মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল যে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় কথিত ষড়যন্ত্রটি শুরু হয়েছিল।

মামলা নিষ্পত্তির চার যুগ পর মামলার আসামি ক্যাপ্টেন এ. শওকত আলী ২০১১ সালে প্রকাশিত একটি স্বরচিত গ্রন্থে এ মামলাকে সত্য মামলা বলে দাবি করেন।[২]

প্রেক্ষাপটসম্পাদনা

৬ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে ২ জন সি. এস. পি অফিসারসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের গ্রেফতার সম্পর্কে সরকারি প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয় যে,

তৎকালীন পাকিস্তান সরকার এই ষড়যন্ত্রকে "আগরতলা ষড়যন্ত্র" নামে অভিহিত করে। এই একই অভিযোগে ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও গ্রেফতার করা হয়।[৩] ৩৫ জনকে আসামি করে সরকার পক্ষ মামলা দায়ের করে।[১]

নামকরণসম্পাদনা

তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটিকে সরকারিভাবে নামকরণ করেছিল রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্যদের বিচার। এই মামলায় ৩৫জনকে আসামী করা হয়।[১]

আসামীরা সকলেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। তারা হলেন -বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; আহমেদ ফজলুর রহমান, সিএসপি; কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন; স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান; সাবেক এলএস সুলতানউদ্দীন আহমদ; এলএসসিডিআই নূর মোহাম্মদ; ফ্লাইট সার্জেন্ট মফিজ উল্লাহ; কর্পোরাল আবদুস সামাদ; সাবেক হাবিল দলিল উদ্দিন; রুহুল কুদ্দুস , সিএসপি; ফ্লাইট সার্জেন্ট মোঃ ফজলুল হক; বিভূতি ভূষণ চৌধুরী (ওরফে মানিক চৌধুরী); বিধান কৃষ্ণ সেন; সুবেদার আবদুর রাজ্জাক; সাবেক কেরানি মুজিবুর রহমান; সাবেক ফ্লাইট সার্জেন্ট মোঃ আব্দুর রাজ্জাক; সার্জেন্ট জহুরুল হক; এ. বি. খুরশীদ; খান মোহাম্মদ শামসুর রহমান, সিএসপি; একেএম শামসুল হক; হাবিলদার আজিজুল হক; মাহফুজুল বারী; সার্জেন্ট শামসুল হক; শামসুল আলম; ক্যাপ্টেন মোঃ আব্দুল মোতালেব; ক্যাপ্টেন এ. শওকত আলী; ক্যাপ্টেন খোন্দকার নাজমুল হুদা; ক্যাপ্টেন এ. এন. এম নূরুজ্জামান; সার্জেন্ট আবদুল জলিল; মাহবুব উদ্দীন চৌধুরী; লেঃ এম রহমান;মহসিন চৌধুরী;

সাবেক সুবেদার তাজুল ইসলাম; আলী রেজা; ক্যাপ্টেন খুরশীদ উদ্দীন এবং ল্যাঃ আবদুর রউফ।[৪]

বিচার প্রক্রিয়াসম্পাদনা

প্রথমে আসামিদেরকে 'দেশরক্ষা আইন' থেকে মুক্তি দেয়া হয়। পরবর্তীতে 'আর্মি, নেভি অ্যান্ড এয়ারফোর্স অ্যাক্টে' শেখ মুজিবুর রহমান, সার্জেন্ট জহুরুল হক-সহ অন্যান্য আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করে সেন্ট্রাল জেল থেকে কুর্মিটোলা সেনানিবাসে স্থানান্তর করা হয়।মামলার বিচারের জন্য ফৌজদারি দণ্ডবিধি সংশোধন করে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়। ১৯ জুন, ১৯৬৮ সালে ৩৫ জনকে আসামি করে ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলাটির শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়।[১]

অভিযোগনামাসম্পাদনা

'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য' শিরোনামের মামলার অভিযোগনামায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে,

মামলার স্থান হিসেবে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে অবস্থিত 'সিগন্যাল অফিসার মেসে' নির্ধারণ করা হয়। মামলাটির শেষ তারিখ ছিল ৬ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে।[১]

ফলাফলসম্পাদনা

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠে সাধারণ জনতা। প্রবল গণ-আন্দোলন তথা উত্তাল ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খানের সরকার পিছু হটতে শুরু করে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করতে একান্ত বাধ্য হয়। ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবুর রহমান-সহ অন্যান্যদের মুক্তির দাবি করেছিল। ফলশ্রুতিতে, সরকারপ্রধান হিসেবে আইয়ুব খান সমগ্র পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছিলেন।[১] ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করা হয়। সাথে সাথে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল কারাবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়। পরেরদিন, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমানসহ মামলায় অভিযুক্তদের এক গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। একই দিনে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এ উপাধিতে ভূষিত করেন তৎকালীন ডাকসু ভিপি এবং সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ

'ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান' নামক এই গণ-আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ শে মার্চ পাকিস্তানের শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং ক্ষমতায় আসেন ইয়াহিয়া খান। ঐতিহাসিকগণ এই মামলা এবং মামলা থেকে সৃষ্ট গণ-আন্দোলনকে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পেছনে প্রেরণাদানকারী অন্যতম প্রধান ঘটনা বলে গণ্য করে থাকেন।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ফলাফলসম্পাদনা

ভূমিকা : যে সকল ঘটনা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছে তার মধ্যে ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা অন্যতম। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ তাদের অধিকার ও দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য একের পর এক সংগ্রাম শুরু করে। এই সকল ন্যায্য দাবি ও অধিকারকে দমন করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন যড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এ সময় পূর্ব পাকিস্তানে আবির্ভাব ঘটে শেখ মুজিবুর রহমান নামক এক অবিসংবাদিত বাঙালি নেতার। তার নেতৃত্বে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে এবং শুরু হয় ছয় দফা ভিত্তিক দুর্বার আন্দোলন। এ সময় শেখ মুজিবসহ বাঙালি নেতাদেরকে ঠেকাতে পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী তাদের উপর চাপিয়ে দেয় আগরতলা যড়যন্ত্র মামলা। নিম্নে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ফলাফল আলােচনা করা হলাে :

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ঘটনা। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে আন্দোলন আরাে বেগবান করলে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

১. পাঞ্জাবি ষড়যন্ত্র ফাঁসসম্পাদনা

আইয়ুব খান ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন কূটকৌশল গ্রহণ করেন। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারে যে, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল পাঞ্জাবিদের একটি ষড়যন্ত্র। তাই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের জন্য সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুললে আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

২. ছয় দফা আন্দোলন পুনরায় সক্রিয়সম্পাদনা

১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি পেশ করে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান সফর করে জনগণের মাঝে ছয় দফার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার এ সফরের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ছয় দফার প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন সৃষ্টি হয়। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছয় দফা ভিত্তিক আন্দোলনে অংশ নেয়। কিন্তু আইয়ুব.সরকারের ব্যাপক ধরপাকড়ের ফলে জনগণ কিছুটা দমে যায়। এজন্য ১৯৬৭ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল কিছুটা শান্ত। এ সময় সমগ্র পাকিস্তান আইয়ুব সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীনে ছিল । এমনি সময়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করলেন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আগরতলা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যখন শেখ মুজিবুর রহমানের। রাজনৈতিক অস্তিত্ব ধ্বংস করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছিল ঠিক তখনই ছয় দফা ভিক্তিক আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।

৩. হিতে-বিপরীতসম্পাদনা

পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী ভেবেছিল আগরতলা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একদিকে শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানে ছয় দফা ভিত্তিক যে আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালিত হচ্ছিল তা স্তিমিত হয়ে যাবে। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিমা শাসকদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে উল্টা আগরতলা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যায় । আন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

৪. শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিসম্পাদনা

আগরতলা ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ধ্বংস করে জনগণকে ছয় দফা আন্দোলন থেকে ফিরিয়ে আনা। কিন্তু আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কারণে শেখ মুজিবুর রহমানের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। মামলায় শেখ মুজিবকে আসামি করায় বাংলার জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং শেখ মুজিব অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। এই মামলার ফলেই শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু’ উপাধি লাভ করেন।

৫. গণসচেতনতা বৃদ্ধিসম্পাদনা

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কার্যক্রম দীর্ঘ আট মাসব্যাপী পরিচালিত হয় এবং জনগণ ছিল এই মামলার ব্যাপারে ভীষণ উদগ্রীব। দৈনিক পত্রিকাগুলাে ধারাবাহিকভাবে এ মামলার কার্যক্রম তুলে ধরত। ফলে এই মামলার আসামীগণ পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসন ও এর পিছনে যে যৌক্তিকতা তুলে ধরেন তা জনগণের মনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। যার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের গণসচেতনতা উল্লেখযােগ্য হারে বৃদ্ধি পায় ।

৬. গণঅভ্যুত্থান সংঘটিতসম্পাদনা

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় প্রত্যক্ষ ফলশ্রুতিতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় । ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করার সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্তানে সরকার বিরােধী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়। আর এই ঐক্যবদ্ধতার কারণেই ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। যে ঐক্যবদ্ধতা থেকে বাঙালি আর বিচ্ছিন্ন হয় নি।

৭. গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ গঠনসম্পাদনা

শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা ও ছাত্রসমাজের এগারাে দফার প্রতি সমর্থন জানাতে ১৯৬৯ সালের ৮ই জানুয়ারি পাকিস্তানের ৮টি রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন। এই সংগ্রাম পরিষদ আইয়ুব বিরােধী গণআন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

৮. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসম্পাদনা

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বিরােধিতা করার জন্য আইয়ুব সরকার কিছুটা নমনীয় হয়ে বহু।নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। এ সময় পূর্ব পাকিস্তানের জনপ্রিয় পত্রিকা ইত্তেফাক এর উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।। ঢালাওভাবে যে গ্রেফতারি পরােয়ানা জারি করা হয়েছিল তা শিথিল করা হয়। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর থেকে কারফিউ ও ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। অর্থাৎ আইয়ুব সরকার ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হতে থাকে ।

৯. আইয়ুব খানের বিদায় ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনসম্পাদনা

পূর্ব পাকিস্তানে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে যে গণআন্দোলন শুরু হয় তার পরিসমাপ্তি ঘটে আইয়ুব খানের পতনের মধ্য দিয়ে। গণআন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২৪শে মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়ার হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে পাকিস্তানের রাজনীতি থেকে চিরবিদায় নেন । ইয়াহিয়ার শাসনামলে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭টি এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

১০. চুড়ান্ত বিজয়সম্পাদনা

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ঐক্যবদ্ধতা আরাে সুদৃঢ় হলে ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল একটি প্রতারণামূলক মিথ্যা মামলা। জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বিকাশ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট সৃষ্টির ক্ষেত্রে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ফলাফল ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মামলার ফলে সৃষ্ট গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতায় রূপ নেয়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান, সম্পাদক: সেলিনা হোসেন ও নূরুল ইসলাম, ২য় সংস্করণ, ২০০৩, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃ. ১৭২
  2. প্রথম আলো
  3. চ্যানেল আই অনলাইন ডট কম
  4. বাংলাপিডিয়া

বহিঃসংযোগসম্পাদনা