মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী

মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী (১৯৩৫ - ২২ জানুয়ারি ২০১৩) বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ ও সমাজ কর্মী। তিনি ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৩০ নং আসামী ছিলেন।[১]

মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী
জন্ম১৯৩৫
মাধবপুর, হবিগঞ্জ, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান: বাংলাদেশ)
মৃত্যু২২ জানুয়ারি ২০১৩
জাতীয়তাবাংলাদেশী Flag of Bangladesh.svg
পেশাসরকারি চাকুরী
রাজনীতিবিদ
নিয়োগকারীপাকিস্তান সেনাবাহিনী (পরবর্তীতে: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী)
পরিচিতির কারণআগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী
রাজনীতিবিদ
রাজনৈতিক দলন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর)
গণফোরাম

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতিসম্পাদনা

মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী ১৯৩৫ সালে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম: আজিজ উদ্দিন চৌধুরী। তার ছোট ভাই শহিদ উদ্দিন চৌধুরী হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন।

শিক্ষা জীবনসম্পাদনা

তিনি পড়াশোনা করেছেন হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার দ্বীননাথ ইনস্টিটিউট ও করাচি ইসলামীয়া কলেজে। তিনি ১৯৫৩ সনে দ্বীননাথ ইনস্টিটিউট থেকে মেট্রিক পাশ করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশুনার উদ্দেশ্যে ম্যাট্রিক পাশ করার পর তিনি কুমিল্লা ন্যাশনাল মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হন। প্রায় এক বছর মেডিকেল স্কুলে পড়ার পর ১৯৫৪ সনে জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর জন্য তিনি বাহুবলে চলে আসেন। এরপর তিনি আর মেডিকেল স্কুলে গমন করেননি। ১৯৫৮ সনে তিনি করাচি ইসলামীয়া কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৬১ সনে আইএ এবং ১৯৬৩ সনে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রী লাভ করেন।

কর্ম জীবনসম্পাদনা

১৯৫৫ সনের শেষ দিকে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং প্রশিক্ষণের জন্য করাচি চলে যান। কিন্তু এক বছর সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর চাকুরী ছেড়ে দেন।

রাজনৈতিক জীবনসম্পাদনা

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বামপন্থী রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। করাচি ইসলামীয়া কলেজে অধ্যয়নকালে ঈস্ট পাকিস্তান এসোসিয়েশনের সেন্ট্রাল কমিটির মেস্বার ছিলেন। বাহুবল-আজমিরিগঞ্জ আসন থেকে তার চাচা রফিক উদ্দিন চৌধুরী ১৯৫৪ সনে যুক্ত-ফ্রন্টের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। এই নির্বাচনের প্রচার কাজে তিনি কারাভোগ করে ১৯৬৯ সনে মুক্তিলাভ করেন। কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করার পর সরাসরি রাজনীতি করার উদ্দেশ্যে তিনি দীর্ঘদিন ন্যাপ(মোজাফুফর) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯৩ সনে গণফোরামের জন্মের সময় তিনি গণফোরামে যোগদান করেন এবং পরবর্তিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭০, ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সনে সাধারণ নির্বাচনে ন্যাপের প্রার্থী এবং ১৯৯৬ সনে গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে মাধবপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১১ সনের ২৯ অক্টোবর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক কর্মীদের জাতীয় কনভেশনের মধ্য দিয়ে গণমানুষের সংগঠন গণঐক্যের জন্ম হয়। ঐ কনভেশনে মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী গণঐক্যের সদস্য-সচিব নির্বাচিত হন। এর পূর্বে জাতীয় কনভেশন প্রস্তুতির জন্য গঠিত কমিটিতেও তিনি সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। কনভেশনের প্রস্তুতির জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক বছর বিভিন্ন সভা সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। গণঐক্য প্রতিষ্ঠার পরও তিনি বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক সফর অব্যাহত রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধঃ

১৯৭১ সনে মাধবপুরে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন এবং ৩নং সেক্টরে কর্মীদের রাজনৈতিকভাবে উদ্বৃদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ছিলেন মুজিবনগর সরকার কর্তৃক নিয়োজিত পলিটিক্যাল মবিলাইজার।

মৃত্যুসম্পাদনা

মাহবুব উদ্দিন শেষ বয়সে ঢাকায় বসবাস করতেন। তিনি ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি শ্যামলী এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি বাস তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তিনি মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়ে রাস্তায় পড়ে অচেতন হয়ে যান; তখন পথচারিরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।[২] তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার শোক প্রকাশ করেছেন।[১]

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহি:সংযোগসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা