আবদুর রব সেরনিয়াবাত

বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

আবদুর রব সেরনিয়াবাত (১৯২১ - ১৫ আগস্ট ১৯৭৫) বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন ভূমি প্রশাসন, ভূমি সংস্কার ও ভূমি রাজস্ব ও বন্যানিয়ন্ত্রণ, পানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্নিপতি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপা। তিনি শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সময়ে নিহত হন।[১] তার এক পুত্র আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমানে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং কনিষ্ঠ পুত্র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তার পৌত্র।

আবদুর রব সেরনিয়াবাত
ভূমি প্রশাসন, ভূমি সংস্কার ও ভূমি রাজস্ব ও বন্যানিয়ন্ত্রণ, পানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১৯৭২ – ১৯৭৫
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম১৯২১
বরিশাল
মৃত্যু১৫ আগস্ট ১৯৭৫
ঢাকা

প্রথম জীবন

সম্পাদনা

আবদুর রব সেরনিয়াবাত ১৯২১ সালে বরিশালের তখনকার গৌরনদী উপজেলা বর্তমানে আগৈলঝারা উপজেলা গৈলা ইউনিয়নের সেরাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[২][৩]

তিনি বরিশালের আইনজীবী ছিলেন।[৪] তিনি পানিসম্পদ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ এবং ভুমিমন্ত্রী ছিলেন।[৫]

হত্যাকাণ্ড

সম্পাদনা

তার বাসভবন ২৭ মিন্টো রোডে, মেজর শাহরিয়ার রশিদ, মেজর আজিজ পাশা, ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা এবং ক্যাপ্টেন মাজেদ - এর নেতৃত্বে আনুমানিক ভোর ৫টায় আক্রমণ করা হয়। আবদুর রব সেরনিয়াবাতের মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, ভাগ্নে শহিদ সেরনিয়াবাত নিহত হন এবং অন্যান্যদের সাথে তার স্ত্রী জখম হন। তার পুত্র আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ দরজার পিছনে লুকিয়ে থেকে বেঁচে যান। ১৯৯৬ সালের ২১ অক্টোবর, রমনা থানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।[৬] তার পুত্র আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ১৯৯১ সালে প্রথম,১৯৯৬ সালে দ্বিতীয়, ২০১৪ সালে তৃতীয় বার এবং ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৭] তার মিন্টো রোডের বাসভবন বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরের অংশ।[৮]

তার নামে বরিশাল কাউনিয়া "আব্দুর রব সেরনিয়াবাত" একটি কলেজ রয়েছে। তার নামে একটি বরিশালের একটি স্টেডিয়ামের নাম রাখা হয়েছে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম[৯] এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের নামকরণ হয়েছে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাব। একটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনা করা হয় ২০১০ সালে। এছাড়াও, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি 'শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি' নামে নামকরণ করা হয়। বরিশালে তার নামে একটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে: শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বরিশাল।

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. banglatribune.com/national/news/131503
  2. Ahmed, Sirajuddin (১৯৯৮)। Sheikh Hasina, prime minister of Bangladesh। New Delhi: UBS Publishers' Distributors। পৃষ্ঠা 62। আইএসবিএন 9788174762207 
  3. "সেরনিয়াবাত, আবদুর রব"http://bn.banglapedia.org/http://bn.banglapedia.org/। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬  |প্রকাশক=, |ওয়েবসাইট= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  4. Mujibur Rahman, Sheikh। Sheikh Mujibur Rahman: The Unfinished Memoirs। UK: Penguin। আইএসবিএন 9788184757033। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  5. Momen, Nurul। Bangladesh, the first four years। Bangladesh Institute of Law & International Affairs। পৃষ্ঠা 141। এএসআইএন B007FDJQLE 
  6. "No justice yet in 3 other Aug 15 cases"archive.thedailystar.net। The Daily Star। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  7. "Abul Hasnat Abdullah"election.dhakatribune.com। Dhaka Tribune। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  8. Ali, Tawfique। "A heritage site in city heart overshadowed"archive.thedailystar.net। The Daily Star। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  9. "'Students to line up for president and PM only'"dhakatribune.com। Dhaka Tribune। ৬ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬