প্রধান মেনু খুলুন

বাংলার সংস্কৃতি ধারণ করে আছেন দক্ষিন এশিয়া অঞ্চলের বাঙালিরা, যার মধ্যে বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিম বাংলা, ত্রিপুরা এবং আসাম , যেখানে বাংলা ভাষা প্রধান এবং দাপ্তরিক। বাংলার রয়েছে ৪হাজার বছরের ইতিহাস।[১] বাঙালিরাই এখানের সমাজের প্রায় সবটা জুড়ে আছেন। ভারতীয় উপমহাদেশের এই অঞ্চলের রয়েছে স্বকীয় ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি। বাংলা ছিলো তৎকালীন সবচেয়ে ধনী অঞ্চল যারা উপমহাদেশীয় রাজনীতির এবং সংস্কৃতির রাজধানী। ১৯৪৭ এর দেশভাগের পর বাংলার সংস্কৃতি ক্ষয় হতে থাকে। বাংলাদেশ বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিমরাই বাংলাকে ধারন করে রাখেন যেখানে পুরো অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিলো হিন্দুদের। ইহা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে মুসলমান অধ্যুষিত বাংলাদেশে হিন্দুরা সংখ্যায় ছিলেন নগন্য আর পশ্চিবঙ্গে মুসলমান ছিলো নগন্য। এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীও ছিলো। এখনো বাংলা দক্ষিন এশীয় সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে এবং বাংলা সংস্কৃতির উৎসবগুলো পৃথিবীব্যাপি উদযাপিত হয়।

পরিচ্ছেদসমূহ

সাহিত্যসম্পাদনা

বাংলা সমগ্র এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী সমৃদ্ধ সাহিত্য। ১০০০-১২০০খ্রিস্টাব্দে সংস্কৃত এবং প্রাকৃত এর মধ্যে দিয়ে বাংলার উৎপত্তি। বাংলায় সুলতানী আমলে এটি কোর্টের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি পায়। মধ্যে ১৬ এবং ১৭শতাব্দীতে এটি আরো সমৃদ্ধ হয়। আরাকান রাজ্যেও এই ভাষার প্রচলন ছিলো। ১৯ এবং ২০ শতাব্দীর শেষে কলকাতায় এটির আধুনিকায়ন হয়। বাংলা সাহিত্যের প্রথম লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কাজী নজরুল ইসলাম হয়ে উঠেন ব্রিটিশদের বিরোধী লেখক।শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রমুখ লেখকেরা বাংলার গদ্য সাহিত্যকে উন্নত করেছেন।শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ট উপন্যাসিক ও কথা সাহিত্যিক হিসাবে পরিচিত হয়ে আছেন।বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক।সুকান্ত ভট্টাচার্য, মাইকেল মধুসুদন দত্ত,পল্লি কবি জসীমউদ্দিন , জীবানানন্দ দাস, সুভাষ মুখোপাধ্যায়-এর মত কবি, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের, বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের মত সাহিত্যিকেরা বাংলা সাহিত্যকে উন্নতির শিখরে পৌছে দিয়েছেন।বর্তমান যুগে, হুমায়ন আহম্মেদ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মত লেখক সাহিত্যকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ।

দর্শনসম্পাদনা

বাঙ্গালী দর্শনবিদদের কাজ চীনের তিব্বতে সংরক্ষিত হয়েছে। যার মধ্যে অতিশিয়া, তিলোপা উল্লেখযোগ্য।[২]

সুফী দর্শন হল বাঙ্গালী মুসলমানদের সৃষ্টি। যাদের মধ্যে রয়েছেন জালালউদ্দিন রুমি, আব্দুল কাদের জিলানী এবং মইনুদ্দিন চিশতী প্রমুখ। বিখ্যাত সূফী শাহ জালাল অন্তর্ভুক্ত।

সঙ্গীতসম্পাদনা

 
বাংলাদেশী সঙ্গীতদল

বাংলা জন্ম দিয়েছে বিখ্যাত ভারতীয় সংজ্ঞীতজ্ঞদের যাদের মধ্যে আলাউদ্দিন খাঁ, রবি শঙ্কর, আলি আকবর খান প্রমুখ। অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের সাথে সেতার, তবলা, সারদ উল্লেখযোগ্য। বাউলদের রয়েছে নিজস্ব ধাচ। বিখ্যাত বাউল লালন শাহের জন্ম এখানেই। ফোক ধাচের মধ্যে গম্ভীরা, ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া গান উল্লেখযোগ্য। একতারা, দোতরা সেতার,ঢোল, বাশি এবং তবলার ব্যবহার বেশী। রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল গীতি খুবই বিখ্যাত। সেইসাথে ব্যান্ড গানের জনপ্রিয়তাও কম নয়।

থিয়েটারসম্পাদনা

বাংলায় থিয়েটারে সংস্কৃত নাটিকা গুপ্তচর সর্বপ্রথম পরিচালিত হয়। নাচ, গান, যাত্রা সবই মঞ্ছস্থ হয় এখানে।

নাচসম্পাদনা

বাংলার নাচের সংস্কৃতি অতিপ্রাচীন। ক্লাসিকাল,ফোক এবং বাদ্যায়িত নাচের প্রচলন রয়েছে।[৩][৪]

আকা আকিসম্পাদনা

পালা, মূঘল সাম্রাজ্য থেকেই এখানে আকাআকির প্রচলন। কলকাতায় আধুনিক ছিবি আকার স্কুল রয়েছে। পূরব পাকিস্তানের জয়নুল আবেদীনের জন্মও বাংলায়। বাংলার ছবি দক্ষিন এশিয়ায় বহুল প্রচলিত যাদের মধে এস এম সুলতান, সাহাবুদ্দিন, কনক চাপা চাকমা, কফিল আহামেদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ, কাইয়ুম চৌধুরি, রশিদ চৌধুরি, কামরুল হাসান,হাশেম খান উল্লেখযোগ্য। ।

স্থাপত্যসম্পাদনা

 
দক্ষিণেশ্বর কালি মন্দির
 
আদিনা মসজিদ,মালদা
 
শিব মন্দির, পুথিয়া, রাজশাহী
 
বেলুর মঠ, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ

মহাস্থানগড়ের মত পুরনো স্থাপত্যশৈলি নির্মাণ এই বাংলার। টেরাকোটার কারুকাজ বাংলার আদি সংস্কৃতির অংশ। প্রাসাদ, মসজিদ, মন্দির সবজায়গা জূড়েই আছে এসব। মুঘলদের সময়ে বাংলা পরিচিত ছিলো পশ্চিমের ভেনিস এবং মসজিদের শহর নামে। ব্রিটিশ কলকাতা ছিলো প্রাচ্যের রাজধানী নামে পরিচিত যা পরে মাজহারুল ইসলাম এবং লুইস কাহনের মত স্থপতিদের নাম ছড়িয়ে দেয়।

স্বর্ণালঙ্কারসম্পাদনা

প্রাকৃতিক ঝিনুক উৎপাদিত হয় চট্টগ্রামে। বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজার প্রায় ৬০০মিলিয়ন ডলারের।[৫] বাংলায় হীরকের প্রসার ঘটায় ঢাকার নবাব পরিবার যা সংরক্ষিত আছে জাদুঘরে।[৬]

কাপড়সম্পাদনা

 
Kantha, a Bengali cotton textile

বাংলা অঞ্ছল সুতা রপ্তানীতে শীর্ষে ছিল সেই সময়ে।[৭]

বাংলার সিল্ক এখনো বিশ্বসেরা।[৮] জাপানের সিল্কের কদরে বাংলার বিশেষ করে রাজশাহী সিল্কের কদর কমে যায়। মুরশিদাবাদ এবং মালদহতে সিল্কের ব্যাবসা হত। মুঘলরা মসলিন কাপড়ের উৎপাদন করে রপ্তানী করত এই বাংলা থেকেই। জামদানী ইউনেস্কো খ্যাতাবপ্রাপ্ত মূল্যবান কাপড়। আধুনিক বাংলাদেশ বিশ্বের পোষাক চাহিদার অনেকটাই রপ্তানীর মাধ্যমে মিটাচ্ছে।

পোষাকসম্পাদনা

বাংলা নারীদের প্রধান পোষাক শাড়ী আর পুরুষদের লুঙ্গি, ধুতি, পাঞ্জাবী। এছাড়া উপজাতীয়রা নিজেদের পোষাকও ব্যবহার করেন।

মৃৎশিল্পসম্পাদনা

আদিকাল থেকেই বাংলায় এর প্রসার।[৯] নোভেরা আহমেদ, নিতুন কুন্ডুদের মত শিল্পীরা এর সাথে জড়িত।

নৌকাসম্পাদনা

আরও দেখুন: বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প

বাংলায় ১৫০রকমের নৌকা রয়েছে। এখানে নোকা বানানো ভাঙ্গা দুটোই বেশ সাশ্রয়ী।জারুল, শাল,সুন্দরী গাছ থেকে স্থানীয়রা নৌকা তৈরী করেন।

রিকশাসম্পাদনা

আরও দেখুন: বাংলাদেশে রিকশাচিত্র

রিকশা ব্যবহারে বাংলা সবার থেকে এগিয়ে। রঙ্গিন সাজের রিকশা এখানের অন্যতম আকর্ষণ। ঢাকাকে বলা হয় পৃথিবীর রিকশার রাজধানী।

খাবারসম্পাদনা

 
Various Bengali fish and seafood served with rice and dessert

বাঙ্গালীদের প্রধান খাবার ভাত, ডাল, মাছ সেইসাথে তরকারী,রুটি সবই খায় বাঙ্গালীরা।

চলচ্চিত্রসম্পাদনা

কলকাতা,ঢাকা দুই মহানগরী বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য বিখ্যাত। মূলত কলকাতাতেই প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র নির্মিত হত। পরে ১৯৫৬ সাল থেকে ঢাকায় বাংলা চলচ্চিত্র নির্মান শুরু হয়। বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিত রায়, মৃনাল সেন থেকে তারেক মাসুদ পর্যন্ত সবাই কমবেশ সুপরিচিত।

বিয়েসম্পাদনা

মুসলিম বাঙালি দম্পতি
হিন্দু বাঙালি বিয়ে

মুসলিম এবং হিন্দুদের রয়েছে পৃথক বিয়ের রীতি।[১০][১১] বাঙ্গালী বিয়ের প্রধান আকর্ষণ গায়ে হলুদ।বাঙালি হিন্দু বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ধীরে ধীরে মুসলিম বিবাহে গৃহীত হয়েছে।বাংলা ছাড়া আর কোথাও মুসলিম বিবাহে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয় না।

উৎসবসম্পাদনা

পুরো বছরজুড়েই চলে বাঙ্গালীদের উৎসব আয়োজন।

মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সব বাঙ্গালীর
ঈদ দুর্গা পূজা বুদ্ধ পূর্ণিমা খ্রিস্টমাস পহেলা বৈশাখ
 
শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব (দোলযাত্র), পশ্চিমবঙ্গ
কুমিল্লায় ঈদের নামাজ
ঢাকায় পহেলা বৈশাখ
পহেলা ফাল্গুন
একুশে বইমেলা
বিশ্ব ইজতেমা
দূর্গা পুজোয় আলোক সজ্জা ,কলকাতা
কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ প্যভিলোন

খেলাধূলাসম্পাদনা

 
পাখির চোখে ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়াম, কলকাতা।এটি ভারতীয় উপমহাদেশের সর্ব বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম
 
সল্ট লেক স্টেডিয়াম বা বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন হল ভারতের তথা ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম
 
শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর, ঢাকা

ক্রিকেট, ফুটবল এখানে খুবই জনপ্রিয় কলকাতা, ঢাকা চট্টগ্রাম এ অঞ্ছলের বিখ্যাত ভ্যানু এবং ক্লাবের নিয়ন্ত্রনঘর। ভারতে কলকাতা খেলাধুলার রাজধানী।কলকাতা ভারতে ফুট বলের মক্কা হিসাবে পরিচিত। এই শহরে ফুট বল সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ।বর্তমানে ক্রিকেটও এখানে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।চুনি গোস্বামি মত ফুটবল খেলোয়ার ও সৌরভ গাঙ্গুলি ]] মত ক্রিকেটারের জন্য কলকাতা পরিচিত খেলাধূলার জগৎ-এ।সাকিব আল-হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাশরাফি, তামিম বাংলাদেশের বিখ্যাত খেলোয়াড়। পঙ্কজ,সৌরভ গাঙ্গুলি ঋদ্ধীমান সাহা ক্রিকেটার হিসাবে সারা বিশ্বে পরিচিত।অনির্বান লাহির মত গলফ খেলোয়ার ও লিয়ান্ডার পেজ এর মত ব্রঞ্জ জয়ী অলেম্পিক খেলোয়ার রয়েছেন এই বাংলায়।[১২] খো খো, কাবাডি আঞ্চলিক খেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

মিডিয়াসম্পাদনা

প্রথম আলো একইসাথে সারাবিশ্বে এবং বাংলাদেশে সর্বাধিক পঠিত এবং প্রচলিত বাংলা সংবাদপত্র। আনন্দবাজার প্রত্রিকা ভারতে সবচেয়ে প্রচলিত বাংলা সংবাদপত্রিকা। বর্তমান, প্রতিদিন,ইত্তেফাক,জনকন্ঠ, ইত্যাদিও বহুল প্রচলিত। The Daily Star, New Age, Dhaka Tribune, এবং Holiday বিখ্যাত ইংরেজী পত্রিকা। The Statesman কলকাতা থেকে প্রচলিত যা এই বাংলা বা বঙ্গ অঞ্চলের প্রাচীনতম ইংরাজি দৈনিক।

আরো দেখুনসম্পাদনা

নোটসম্পাদনা

  1. Minahan, James B. (২০১২)। Ethnic Groups of South Asia and the Pacific: An Encyclopedia। ABC-CLIO। আইএসবিএন 9781598846607 
  2. Islam, Aminul (২০১২)। "Philosophy"Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh 
  3. Hasan, Sheikh Mehedi (২০১২)। "Dance"Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh 
  4. Ahmed, Wakil (২০১২)। "Folk Dances"Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh 
  5. "Only right policy can help earn $1bn from gold jewellery export"। ১৭ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০১৭ 
  6. Alamgir, Mohammad (২০১২)। "Daria-i-Noor"Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh 
  7. name="auto1">Snodgrass, Mary Ellen (২০১৫)। World Clothing and Fashion: An Encyclopedia of History, Culture, and Social Influence। Routledge। আইএসবিএন 9781317451679 
  8. Van Schendel, Willem (২০১২)। "Silk"Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh 
  9. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; auto1 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  10. "বাঙ্গালী হিন্দু বিয়ে" 
  11. "ভারতীয় বিয়ে"। www.weddingsinindia.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১১-২১ 
  12. Prabhakaran, Shaji (১৮ জানুয়ারি ২০০৩)। "Football in India - A Fact File"। LongLiveSoccer.com। ২৩ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১০-২৬