প্রধান মেনু খুলুন

শাড়ি

দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের ঐতিহ্যবাহী পরিধেয় বস্ত্র
ঐতিহ্যগত মহারাষ্ট্রীয় শাড়িতে নারী, আনুমানিক ১৯২৪ সালে

শাড়ি[টীকা ১] ভারত, বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের[১] নারীদের ঐতিহ্যবাহী ও নিত্যনৈমিত্তিক পরিধেয় বস্ত্র। শাড়ি লম্বা ও সেলাইবিহীন কাপড় দিয়ে তৈরি হয়। সাধারণত‍ একটি শাড়ি ১৮ ফুট (৫.৫ মি) থেকে ২১ ফুট (৬.৪ মি)[২] দীর্ঘ এবং ৬০ থেকে ১২০ সেন্টিমিটার (২ থেকে ৪ ফুট) চত্তড়া[৩] কাপড় দিয়ে তৈরি, যা বিভিন্নভাবে ভাঁজ করে পরা হয়ে থাকে। সবচেয়ে সাধারণ ভাঁজ হচ্ছে কোমরে জড়িয়ে একপ্রান্ত কাঁধের উপর দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা, যাকে আঁচল বলা হয়।[৪][৫][৬] শাড়ি সাধারণত পেটিকোটের (উত্তর ভারতে লেহেঙ্গা/ঘাগরা এবং বাংলাদেশসহ পূর্ব ভারতে সায়া নামেও পরিচিত) উপরে পরা হয়ে থাকে।[৭] উপরের অংশের পোশাক হিসাবে ব্লাউজ (ভারতে ছোলি নামেও পরিচিত) পরা হয়।

আবহমান বাংলার ইতিহাসে শাড়ির স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কালের বিবর্তনে বদলেছে শাড়ির পাড়-আঁচল, বুনন এবং পরিধান কৌশল।[৮] ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাধারণত‍ শাড়ি সবচেয়ে উপযোগী পোষাক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সেনাবাহিনীতে নারী সেনারা শাড়ি পরলে কোমরে শার্ট বেধে রাখেন। শাড়ি বাঙালি ঐতিহ্যবাহী পোষাক। এই পোষাকের রয়েছে সৌন্দর্য। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শাড়িকে নারীদের মূল পোষাক হিসাবেও বিবেচনা করা হয়।[৯]

ব্যুৎপত্তিসম্পাদনা

শাড়ি শব্দটি সংস্কৃত শাটী[৮] शाटी śāṭī[১০] হতে উদ্ভুত, যার অর্থ 'কাপড়ের টুকরা'[১১] এবং পালি শব্দ शाडी śāḍī বা साडी sāḍī, এবং যা আধুনিক ভারতীয় ভাষায় sāṛī হিসাবে পরিণত হয়েছে।[১২] 'সাত্তিক' শব্দটি সংস্কৃত সাহিত্যে এবং জাতক নামক বৌদ্ধ সাহিত্যে প্রাচীন ভারতে মহিলাদের পোশাক বর্ণনার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে।[১৩] এটি আধুনিক সময়ের 'শাড়ির' সমার্থক এবং সমতুল্য হতে পারে।[১৩] নারীদের উর্ধাঙ্গের পোষাকের বর্ণনায় প্রাচীন স্তনপাট্টা শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে যা থেকে চোলির উদ্ভব হয়েছিল।[১৪][১৫] কলহনার দশম শতাব্দীর সাহিত্যকর্ম রজনাঙ্গিনী (অর্থ 'রাজাদের নদী') বলে যে, কাশ্মীরে রাজকীয় আদেশ অনুসারে ডেকান (দক্ষিণাপথ) থেকে আসা চোলির প্রচলন হয়েছিল।[৭]

মারাঠিতে পেটিকোটকে পার্কার (परकर) বলা হয়, তামিল ভাষায় উলপাওয়াদাই (உள்பாவாடை) (pavada in other parts of South India: মালয়ালম: പാവാട, তেলুগু: పావడ, প্রতিবর্ণী. pāvāḍai, কন্নড়: ಪಾವುಡೆ, প্রতিবর্ণী. pāvuḍe) এবং পূর্ব ভারতে বাংলায় সায়া বলা হয়। এছাড়াও পেটিকোট-কে "ভিতরের স্কার্ট" বলা যেতে পারে।[১৬]

উৎপত্তি এবং ইতিহাসসম্পাদনা

 
খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রাচীন ব্রজ-মথুরা মহিলার ভাস্কর্য

শাড়ি উৎপত্তির ইতিহাস খুব একটা স্পষ্ট নয়।[৮] শাড়ির মতো পোষাকের ইতিহাস পাওয়া যায় সিন্ধু সভ্যতায়, যার প্রচলন ভারত উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে বেড়ে ওঠে।[৪][৫][৬] খ্রিস্টপূর্ব ৫ম সহস্রাব্দের কাছাকাছি সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে তুলার প্রথম চাষ ও বোনা হয়েছিল।[১৭] সেই সময়ের মধ্যে ব্যবহৃত রঞ্জকগুলি এখনও ব্যবহৃত হয়, বিশেষত নীল, লক্ষ, রুবিয়া কর্ডিফোলিয়া এবং হলুদ[১৮] রেশম বোনা হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ২৪৫০ থেকে ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।[১৯][২০]

 
তারা প্রাচীন তিন টুকরো বেশভূষা চিত্রিত হয়েছে, আনু. ১১শ শতাব্দী।

'শাড়ি' শব্দটি জৈন ও বৌদ্ধ সাহিত্যে মহিলাদের পোশাক হিসাবে উল্লিখিত 'সাত্তিক' থেকে উদ্ভূত হয়েছিল।[১৩][২১] শাড়ি বা সাত্তিক নীচের পোশাক অন্ত্রিয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি তিন অংশের একত্রে পরিধেয় পোষাক; কাঁধ বা মাথার উপর একটি পর্দা উত্তরিয়া পরা; এবং স্তনপাট্টা বা বুকবন্ধনী। খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীর সংস্কৃত এবং বৌদ্ধ পালি সাহিত্যে শাড়ির উল্লেখ রয়েছে।[২২] এই সম্পূর্ণ তিন টুকরো পোষাক একটি পূর্ণাঙ্গ পরিধেয় পোষাক হিসাবে পরিচিত।[২৩] প্রাচীন ধুতি সাদৃশ অন্ত্রিয় "মাছের লেজের" মতোন পেচিয়ে পড়া হয় যা ঢিলে ভাবে পা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পা আবৃত রাখে এবং যার সামনের পায়ের অংশে আলংকারিক পরিধেয় শৈলী চর্চা করা হয়।[৪][২৪][২৫] কালক্রমে এটি ভৈরনিবাসানী স্কার্টে বিবর্তিত হয়েছে, যা এখনকার যূগে ঘাগড়া এবং লেহেঙ্গা নামে পরিচিত।[২৬] উত্তরিয় কাঁধ বা মাথার উপরে একটি শাল জাতীয় পর্দা ছিল, যার ব্যবহার প্রসারিত হয়েছিল এবং আজকেন সময়ে ওরনা নামে পরিচিত।[২৭] একইভাবে, স্তনপাত্তা প্রথম শতাব্দীর সময়ে চোলিতে বিবর্তিত হয়েছে।[১৪][১৫] খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে প্রথম শতাব্দীর মধ্যে, অন্ত্রিয় এবং উত্তরিয়কে একীভূত করে পালি সাহিত্যে উল্লিখিত শাড়ি হিসাবে পরিচিত একটি পোশাক তৈরি করা হয়েছিল, যা এক টুকরোতে দুটি পোশাকের উদ্দেশ্য পূরণ করে।[২৮][২৯]

প্রাচীন সংস্কৃত রচনা, বাণভট্ট রচিত কাদম্বরী এবং সিলাপোধিকারামের মতো প্রাচীন তামিল কাব্যে নারীদের নিদারূণ বর্ণনায় আচ্ছাদন বা শাড়ির বর্ণনা দেয়।[৭][৩০][৩১][৩২] প্রাচীন ভারতে মহিলারা মধ্যচ্ছাদন হিসেবে শাড়ি পরার পরেও ধর্মশাস্ত্র লেখকরা বলেছিলেন যে নারীদের এমন পোশাক পরিধান করা উচিত যাতে নাভিটি কখনই দৃশ্যমান হয় না।[৩৩][৩৪] এরপর থেকে কিছু সময়ের জন্য নাভি প্রদর্শন একটি ট্যাবু হয়ে উঠেছিল এবং নাভি গোপন করা হতো।[৫][৩৫][৩৬] প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যে এবং নাট্য শাস্ত্রে (একটি প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ যা প্রাচীন নৃত্য এবং পোশাক বর্ণনা করে), পরম সত্তার নাভিকে জীবন এবং সৃজনশীলতার উৎস হিসাবে বিবেচনা করা হয়, তাই শাড়ি পড়ার সময় মধ্যচ্ছাদন উন্মুক্ত রাখা হয়।[৩৭][৩৮]

 
রাজা রবি বর্মা অঙ্গিত ১৯৯১ সালের চিত্রকর্মে শাড়ি পর িহিত নারী।

প্রারম্ভিক সংস্কৃত সাহিত্যে নারীদের ব্যবহৃত ওড়নার জন্য বিস্তৃত শব্দভাণ্ডার রয়েছে, যেমন অবগুন্ঠন (oguntheti/oguṇthikā), যার অর্থ আলখাল্লা-ঘোমটা, উত্তরিয় অর্থ কাঁধের ওড়না, মুখ-পাটা অর্থ মুখের পর্দা এবং শীরবস্ত্র অর্থ মাথার ঘোমটা।[৩৯] ভাষা রচিত প্রতীমানাটক নাটকে অবগুণ্ঠন ঘোমটার প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে যে "কোনও ধর্মীয় অধিবেশন, বিবাহ উত্সব, বিপর্যয় ও বনের মধ্যে কোনও মহিলাকে কোনও দোষ ছাড়াই (সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য) দেখা যেতে পারে"।[৩৯] একই সংবেদনটি পরবর্তী সংস্কৃত সাহিত্যে আরো উদারতার সাথে প্রকাশিত হয়।[৪০] খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত মৃচ্ছকটিক নাটকের লেখক শূদ্রক বলেছেন যে নারীরা নিত্যদিন অবগুন্ঠ ব্যবহার করতেন না। তিনি বলেছিলেন যে একজন বিবাহিত মহিলা জনসাধারণের মধ্যে চলাফেরা করার সময় ওড়না পড়তো।[৪০] এটি ইঙ্গিত করে যে অবিবাহিত মহিলাদের জন্য পর্দা করা প্রয়োজন ছিল না।[৪০] বিবাহিত মহিলাদের ওড়না পড়ার এই রীতি এখনও হিন্দিভাষী অঞ্চলে প্রচলিত এবং এটি ঘুঙ্গাট নামে পরিচিত, যেখানে একটি শাড়ির আলগা প্রান্তটি মুখের ওড়না হিসাবে কাজ করার জন্য মাথার উপরে টানানো হয়।[৪১]

বাঙালি ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে অষ্টম শতাব্দীতে শাড়ি ছিল প্রাচীন ভারতের প্রচলিত পোশাক। যেখানে তখনকার মেয়েরা আংটি, দুল, হার এসকল অংলকারের সঙ্গে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত শাড়ি পরিধান করত, এবং উপরে জড়ানো থাকত আধনা (আধখানা)। পাহাড়পুর থেকে প্রাপ্ত পাল আমলের কিছু ভাস্কর্য অনুমান করে এ ধারণা করা যায়।[৮]

পরিধান শৈলীসম্পাদনা

 
১৯২৮ সালের চিত্রে শাড়ির বিভিন্ন শৈলী অঙ্কণ
 
লাইফ সাময়িকীর জন্য ভারতীয় অভিনেত্রী বেগম পারার শাড়ি পরার দৃশ্য

শাড়ি পরার প্রায় ৮০টিরও অধিক নথিভুক্ত উপায় প্রচলিত রয়েছে।[৪২] কোমরের চারপাশে শাড়ি জড়ানোর সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতিটি হল শাড়ির এক প্রান্ত কোমড়ে পেচিয়ে অপর আলগা প্রান্তটি অর্থাৎ আঁচল কাঁধের উপর দিয়ে পেছনে ঝুলিয়ে পরিধান করা।[৪৩] তবে, শাড়ি বেশ কয়েকটি পদ্ধতিতে পেচিয়ে পড়া যেতে পারে, যদিও কিছু শৈলীর জন্য নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য বা আকারের শাড়ি প্রয়োজন। শাড়ির ইতিহাসবিদ এবং স্বীকৃত বস্ত্রশিল্প পন্ডিত আতা কাপুর চিশতী তার শাড়িস: ট্র্যাডিশন অ্যান্ড বিয়ন্ড গ্রন্থে শাড়ি পরিধানের ১০৮টি পদ্ধতি নথিভুক্ত করেছেন। এই গ্রন্থে গুজরাত, মহারাষ্ট্র, গোয়া, কর্ণাটক, কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ছত্তীসগঢ়, মধ্যপ্রদেশ, এবং উত্তরপ্রদেশ মোট ১৪টি রাজ্যের শাড়ি পরিধানের পদ্ধতি নথিভূক্ত হয়েছে।[৪৪] ফরাসি সাংস্কৃতিক নৃতাত্ত্বিক এবং শাড়ি গবেষক চ্যান্টাল বোলঞ্জার নিচের পরিধান পদ্ধতিগুলি শ্রেণীবদ্ধ করেছেন:[৫]

  • নিভি – মূলত অন্ধ্রপ্রদেশে এই পরিধান শৈলীতে শাড়ি পরা হয়; আধুনিক নিভি শৈলীর পাশাপাশি রয়েছে কাচ্চা নিভি নামে আরেকটি শৈলী, যেখানে দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে শাড়ির এক প্রান্ত জড়িয়ে পেছনে কোমড়ের অংশে যুক্ত করে রাখা হয়। এতে সহজেই পা নাড়াচাড়া করে চলাফেরার সুবিধা পাওয়া যায়।
  • বাঙালি এবং ওড়িয়া শৈলীতে কোনও ভাজ বা পাট করা ছাড়াই শাড়ি পরা হয়।[৪৫] ঐতিহ্যগতভাবে বাঙালি শৈলীতে ভাঁজ বা কুঁচি ছাড়াই পরা হয় যেখানে শাড়িটির এক প্রান্ত কোমরের চারদিকে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত পেচিয়ে পরা হয় এবং অপর দীর্ঘ প্রান্তটি সাধারণত বাম কাঁধের উপর দিয়ে পেছনে পেচিয়ে বা ঝুলিয় রাখা হয়। এই পেঁচানো বা ঝুলন্ত অংশটিকে আঁচল বলে, যেটি সম্পূর্ণ মাথা ঢাকার উপযোগি দীর্ঘ্য হয়ে থাকে। শাড়ি পরার আধুনিক শৈলী এসেছে ঠাকুর পরিবার থেকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ভাই সত্যেন্দ্রনাথের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবী বোম্বেতে অধ্যয়নকালে থাকার পর কলকাতায় শাড়ি পরার শাড়ি ভিন্ন শৈলীর প্রচলন ঘটান। এই পদ্ধতির জন্য শাড়ির নিচে সেমিজ বা জ্যাকেট (ব্লাউজের পুরাতন নাম) এবং পেটিকোট পরার প্রয়োজন ছিল এবং এই পোশাকে তৎকালীন নারীদের অন্তরমহল থেকে বাইরে আসার প্রচলন ঘটেছিল।
  • গুজরাতি/রাজস্থানি – নিভি শৈলীর অনুরূপ সুখগুলি টুকটাক করার পরে, শাড়ির আলগা প্রান্তটি পিছন দিক থেকে এনে, ডান কাঁধের উপারে ঝুলিয়ে রাখা হয়, এবং প্রায়শই পেছন দিক থেকে শেষ প্রাপ্ত টেনে সামনে আনা হয়।
  • হিমালয়ান - কুলুভি পাট্টু হিমাচল প্রদেশের পশমী শাড়ি পরার ঐতিহ্যবাহী রূপ। উত্তরাখণ্ডেও এক শাড়ি পরা হয়।
  • নেপালি - নেপালে শাড়ির বিভিন্ন ধরনের পরিধান পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে। তবে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল নিভি শৈলী। গুজরাতি শৈলীর মতো ভোজপুরিঅবধি ভাষী সম্প্রদায় সোজা আঁচলে শাড়ি পরে থাকে। মিথিলা সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী মৈথিলি পরিধান শৈলী রয়েছে যেমন মধুবানী এবং পূর্নিয়া শৈলী, তবে বর্তমানে সেগুলি বিরল এবং বেশিরভাগ শাড়ির আঁচল সামনের অংশে রেখে বা নিভি শৈলীতে পরা হয়।[৪৬] রাজবংশী সম্প্রদায়ের নারীরা ঐতিহ্যগতভাবে কোনও শৈলী ছাড়াই শাড়ি পরেন এবং ঘাড়ের নিচে বেঁধে রাখেন তবে বর্তমানে শুধু বয়স্কদের মাঝেই এর প্রচলন রয়েছে। নিভি এবং বাঙালি শৈলীই আজকাল বেশি জনপ্রিয়। ঐতিহ্যবাহী নেওয়ারি শাড়ি শৈলীতে শাড়িটি নীচের হাঁটুর দৈর্ঘ্য পর্যন্ত ভাঁজ করা থাকে এবং এটি নিভি শাড়ির মতো পরা হয় তবে এর আঁচলটি বুক জুড়ে থাকার পরিবর্তে বেঁধে রেখে দেওয়া হয় যাতে এটি হাঁটুর কাছে নেমে না যায়। আঁচলটি শালের মতো বুক জুড়ে বেঁধে ডান কাঁধের পেছনে পিছন থেকে নামিয়ে আনা হয়। শাড়ি সাধারণত ব্লাউজের সাথে পরা হয়। নিভি শৈলীটি নেপালে শাহ এবং রাণাদের দ্বারা জনপ্রিয় হয়েছিল।
  • মহারাষ্ট্রীয়; শৈলী মহারাষ্ট্রীয় পুরুষদের ধুতির সাথে মিল রয়েছে, যদিও এখানে অনেক আঞ্চলিক ও সামাজিক ভিন্নতাও রয়েছে। শাড়ির মাঝখানের (দৈর্ঘ্যের দিক থেকে) অংশ মাঝ দিয়ে পিছনের কেন্দ্রে রাখা হয়, এর প্রান্ত সামনে এনে বেঁধে রাখা হয়, অতপর দুই প্রান্ত ধুতির মতো পায়ে জড়িয়ে দেওয়া হয়। শাড়ি হিসাবে পরার জন্য ধুতির তুলনায় নয় গজ অতিরিক্ত দীর্ঘ কাপড় ব্যবহার করা হয় এবং এর প্রান্তটি কাঁধ এবং শরীরের উপর দিয়ে পেছনে রাখা হয়। ব্রাহ্মণ নারীদের পরিধান শৈলীর সাথে মারাঠাদের ভিন্নতা রয়েছে। তেমনি সম্প্রদায় ভেদে শাড়ি পরিধান শৈলীর পার্থক্য রয়েছে। এই শৈলীটি মহারাষ্ট্র এবং গোয়ায় জনপ্রিয়।
  • মাদিসার – এই শৈলীটি তামিলনাড়ুর আয়েঙ্গার/আইয়ার ব্রাহ্মণ নারীদের ঐতিহ্যবাহী শৈলী যা সাধারণত ৯ গজ দৈর্ঘ্যের হয়েথাকে।[৪৭]
  • পিন কোসুভাম - ঐতিহ্যবাহী তামিলনাড়ু শৈলী
  • কোডাগু – শৈলীতে কর্ণাটকের কোডাগু জেলা থেকে উদ্ভুত মহিলাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই শৈলীতে শাড়ির ভাঁজ সামনের পরিবর্তে পিছনে করা হয়। শাড়ির আঁচল ডান কাঁধের উপর দিয়ে পিছন থেকে সামনের দিকে এনে রাখা হয় এবং শাড়ির বাকী অংশে পিন দিয়ে আটকানো থাকে।
  • মণিপুরি - শৈলীতে তিন টুকরো কাপরের পোশাক ইন্নাফি ভাইল হিসাবে পরিচিত । অন্যদিকে ফানেক লম্বা হাতা চোলির সঙ্গে নাভির নিচে পরিহিত শাড়ি।
  • খাসি - খাসি শৈলীত শাড়ি জৈনসেম নামে পরিচিত বিভিন্ন টুকরো কাপড়ে তৈরি পোষাক যা দেহকে নলাকার আকার দেয়।
  • গোব্বে সেরে – শৈলী মালনাড বা সহ্যাদ্রি এবং কর্ণাটকের মধ্য অঞ্চলে মহিলারা পরিধান করে থাকে। এই শাড়ি তিন-চার বার কোমরে জড়িয়ে তারপর কাঁধের উপর দিয়ে কোনাকুনি করে গলায় একটি গিঁট দিয়ে পরা হয়।
  • আসামি – শাড়ির মূলত তিন-অংশের পোশাক, যা মেখেলা চাদর নামে পরিচিত। কোমর থেকে নিচের দিকে টানা অংশটিকে মেখেলা বলা হয় এবং ওড়নার মতো অংশটি চাদর নামে পরিচিত এবং এর সঙ্গে লম্বা হাতা ছোলি পরে হয়ে থাকে।
  • মালায়ালি শৈলী – কেরালায় পরিহিত দুই অংশের শাড়ি বা মুন্ডুম ন্যারিয়াথুম। সাধারণত অধৌত সুতা দিয়ে তৈরি এবং এর পাড় সোনার বা রঙিন ফিতে দিয়ে নকশা সজ্জিত। এছাড়াও রয়েছে এক ধরনের মুন্ডুম ন্যারিয়াথুম কেরালা শাড়ি
  • উপজাতীয় শৈলী - প্রায়শই বুকের অংশে দৃঢ়ভাবে বেঁধে বক্ষ আবৃত রেখে পড়া হয়ে থাকে।
  • কুন্বি শৈলী বা ডেন্থলি: গোয়ান গৌড় এবং কুনবিস এবং অন্য রাজ্য থেকে এখানে স্থানান্তরিত হয়ে আসা নারীদের মধ্যে পরিহিত। এই পদ্ধতিতে শাড়ির একটি অংশ কাঁধের নীচে গিঁট বেঁধে এবং আরেকটি অংশ কাধে ঝুলিয়ে পরা হয়।[৪৮]

ঐতিহাসিক আলোকচিত্র এবং আঞ্চলিক পরিধান শৈলীসম্পাদনা

বাংলাদেশসম্পাদনা

 
২০১৩ সালে মস্কোর ক্রেমলিনে রাজশাহী সিল্ক শাড়িতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শাড়ি বাংলাদেশী নারীদের জাতীয় পোশাক। বিবাহি ত বেশিরভাগ নারী তাদের নিত্য পোশাক হিসাবে শাড়ি পরেন এবং অবিবাহিত মেয়েরা প্রায়শই শাড়ি পরে থাকেন। সারা বাংলাদেশে নারীরা শাড়ি পরেন। নৈমিত্তিক এবং আনুষ্ঠানিকতায় শাড়ি বাংলাদেশের নারীদের সবচেয়ে জনপ্রিয় পোষাক। যদিও ঢাকাই জামদানি (হাতে তৈরি শাড়ি) বিশ্বব্যাপী পরিচিত এবং শাড়ি পড়েন এমন সমস্ত নারীর কাছে সর্বাধিক পরিচিত। এছাড়াও বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি রয়েছে। রেশম এবং সুতি উভয় ক্ষেত্রে শাড়ির আঞ্চলিক বৈচিত্র রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তাঁত/তাঁতের সুতি শাড়ি, ঢাকাই বেনারসি শাড়ি, রাজশাহী রেশম, টাঙ্গাইল, পাবনা, তাঁত, তসর সিল্ক, মণিপুর এবং কাতান শাড়ি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয়। শাড়ি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমানবালাদের পোষাক।

শ্রীলঙ্কাসম্পাদনা

 
ঐতিহ্যবাহী ক্যান্ডিয় শাড়ি (ওসারিয়া) পরিহিত সিংহলি নারী।

শ্রীলঙ্কার নারীরা বিভিন্ন পরিধানশৈলী অনুসারে শাড়ি পরেন। দুটি জনপ্রিয় আধিপত্যকারী পরিধানশৈলীর মধ্যে রয়েছে, ভারতীয় শৈলী (ধ্রুপদী নিভি প্যাচ) এবং ক্যান্ডিয় শৈলী যা সিংহলি ভাষায় ওসারিয়া নামে পরিচিত। ক্যান্ডিয় শৈলীটি সাধারণত পার্বত্য ক্যান্ডি অঞ্চলে বেশি জনপ্রিয়, যেখান থেকে শৈলীটির নামের উৎপত্তি হয়েছে। যদিও স্থানীয় পছন্দই মূল ভূমিকা পালন করে তবে বেশিরভাগ নারী নিজেদের ব্যক্তিগত পছন্দ বা তাদেরকে কোন পোশাকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বলে মনে হবে এই মনোভাবের তার উপর নির্ভর করেও শাড়ি পরে থাকেন।

ঐতিহ্যবাহী কান্দিয় (ওসরিয়া) শৈলীতে শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ পড়া হয় যা বক্ষ পুরোপুরি ঢাকা রাখে এবং শাড়ির সামনের দিকে আংশিকভাবে গোটান থাকে। তবে, বিভিন্ন শৈলীর আধুনিক সংমিশ্রণের ফলে বেশিরভাগ পরিধানকারী উপরিভাগে শাড়ি জড়িয়ে পরেন না। শাড়ির চূড়ান্ত আঁচলের অংশটি ছাড়া রাখা হয়। এটি দ্রাবিড় শৈলীর (নিবন্ধের নিচে উল্লিখিত) অনুরূপ।

কান্দিয় শৈলীটি সিংহলি নারীদের জাতীয় পোশাক হিসাবে বিবেচিত হয়। এটি শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের বিমানবালাদের ইউনিফর্ম।

১৯৬০-এর দশকে, 'হিপস্টার' শাড়ি নামে পরিচিত মিনি শাড়ি শ্রীলঙ্কার ফ্যাশনে প্রভাব তৈরি করেছিল, যেহেতু এটি নাভির নিচে পরা হতো এবং আঁচল এমনভাবে রাখা মূলত অসচেতন আবদেন প্রকাশের উদ্যেশ্যে। রক্ষণশীল লোকেরা 'হিপস্টার' শৈলীকে "একটি সুন্দর পোশাকের প্রায় অবমাননাকর পরম প্রহসন" এবং "একটি বীভৎস ও উদ্দেশ্যহীন পোশাক" হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।[৪৯][৫০]

নেপালসম্পাদনা

 
হাকু পাতাসি শাড়িতে নেপালি নারীরা

শাড়ি নেপালের সর্বাধিক নারী পরিহিত পোশাক। নেপালি নারীরা বিভিন্নভাবে শাড়ি পরেন, এর মধ্যে হাকু পাতাসি উল্লেখযোগ্য। এটি লাল পেড়ে কালো শাড়ি যা কোমরের চারপাশে জড়িয়ে পড়া হয় এবং শাড়ির উপরের অর্ধেক বা আঁচল দিয়ে উর্ধাঙ্গ ঢেকে রাখা হয়, যা ওড়নার প্রয়োজনীয়তা মেটায়।

পাকিস্তানসম্পাদনা

পাকিস্তানে শাড়ির স্থান সালোয়ার-কামিজ প্রায় সম্পূর্ণ দখল করে নিয়েছে। তবে শাড়ি এখনো জনপ্রিয় এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এখনও পরা হয়ে থাকে। যদিও দৈনন্দিন জীবনে পাকিস্তানে নারীরা সালোয়ার-কামিজ পরে থাকে। তবুও শাড়ি অনেক অনুষ্টানে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে জনপ্রিয় পোশাক হিসাবে রয়ে গেছে। শাড়ির সর্বাধিক প্রচলন করাচি এবং ইসলামাবাদের মতো মহানগর এলাকায় সাধারণত দেখা যায় এবং বিয়ে ও অন্যান্য ব্যবসায়িক ধরনের কাজের জন্যেও নিয়মিত পরা হয়। সাধারণত মোহাজির নামে পরিচিত ভারতীয় অভিবাসী পাকিস্তানীরা শাড়ীর ব্যবহার টিকিয়ে রেখেছে, যা প্রধানত করাচিতেই দেখা যায়। সিন্ধুতে অনেক মুসলিম নারীরা নিজের অবস্থান বা সৌন্দর্য বিকাশের জন্য শাড়ি পরেন।[৫১] প্রবীণ মুসলিম নারীরা ভারত বিভাজনের আগে ভারতে শাড়ি পরতেন।[৫২] কিছু নতুন প্রজন্ম শাড়ির প্রতি আগ্রহ ফিরিয়ে এনেছেন। শাড়ি পাকিস্তানি হিন্দু নারীদের প্রতিদিনের পোশাক হিসাবে পরিহিত।

এশিয়ার অন্যান্য পোশাকের সাথে মিলসম্পাদনা

শাড়ি ভারতীয় উপমহাদেশের মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলেও, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ মায়ানমার, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড এবং লাওসের মহিলারাও অনুরূপ পোষাক পরে থাকে। যেখানে একটি দীর্ঘ আয়তক্ষেত্রাকার কাপড়ের টুকরো শরীরের চারপাশে জড়িয়ে পরা হয়। এধরনের পোষাক শাড়ি থেকে আলাদা, কারণ এ ধরনের পোষাক অনেকটা স্কার্ট হিসাবে শরীরের (কোমড় থেকে) নিচের অর্ধেক অংশে জড়ানো থাকে এবং ব্লাউজ পড়প হয়। অনেকটা সারং-এর মতো, আবার কিছুটা বার্মিজ লুঙ্গির মতো। সাধারণত ফিলিপিনো মালং এবং তাপিস, লাওটিয় এক্সআউট লাও এবং সুয়া প্যাটে দেখা যায়, অন্যদিকে থাই সোবাই এবং সিনহ, কম্বোডিয় সাম্পোট এবং তিমুরের তাই-এর মতো। মূলত ভারতীয় উপমহাদেশে সাধারণত শাড়ির এক প্রান্ত কোমরের চারদিকে জড়িয়ে রাখা হয় এবং অন্য প্রান্তটি বুকের উপর দিকে কাঁধের উপর দিয়ে পেছনে ঝুুলিয়ে রাখঅ হয়।[৪][৫][৬]

বিভিন্ন ধরনের শাড়িসম্পাদনা

 
রাজা রবি বার্মার চিত্রাংকনে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ভাজের শাড়ি পরিহিতা রমনীকে দেখানো হয়েছে।

যদিও বিমানবালাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শাড়ি বলতে আধুনিক ঘরানার শাড়িকেই জনপ্রিয় করা হয়েছে, তবে উপমহাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই নিজস্ব ধরনের শাড়ির তৈরি ও জনপ্রিয় হয়েছে। নিচে কিছু পরিচিত ও জনপ্রিয় শাড়ির নাম দেয়া হয়েছে।

পূর্বাঞ্চলীয় শাড়িসম্পাদনা

 
তসর রেশম শাড়ি

পশ্চিমাঞ্চলীয়সম্পাদনা

 
কটা শাড়ি
 
গুজরাতের বন্ধনী শাড়ি

উত্তরাঞ্চলীয় শাড়িসম্পাদনা

 
কাস্তা শাড়িতে ভারতীয় অভিনেত্রী বিদ্যা বালান

দক্ষিণাঞ্চলীয় শাড়িসম্পাদনা

 
কেরল শাড়িতে একজন রুশ নৃত্যশিল্পী

মধ্যাঞ্চলীয় শাড়িসম্পাদনা

চিত্রসম্পাদনা

টীকাসম্পাদনা

  1. The name of the garment in various regional languages include:
    বাংলা: শাড়ি śāṛi, হিন্দি: साड़ी টেমপ্লেট:AST, ওড়িয়া: ଶାଢୀ sāddhi, কন্নড়: ಸೀರೆ, sīrē, টেমপ্লেট:Lang-knn, sāḍī, kāpaḍ, cīrē, মালয়ালম: സാരി sāri, মারাঠি: साडी sāḍī, নেপালি: सारी sārī, পাঞ্জাবী: ਸਾਰੀ sārī, তামিল: புடவை puṭavai, তেলুগু: చీర cīra, উর্দু: ساڑى‎‎, ইংরেজি: Sari, Saree, sāṛī

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Lynton, Linda (১৯৯৫)। The Sari। New York: Harry N. Abrams, Incorporated। আইএসবিএন 978-0-8109-4461-9 
  2. Boulanger, Chantal (১৯৯৭)। Saris: An Illustrated Guide to the Indian Art of Draping। New York: Shakti Press International। আইএসবিএন 978-0-9661496-1-6 
  3. Boulanger, Chantal (১৯৯৭)। Saris: An Illustrated Guide to the Indian Art of Draping। New York: Shakti Press International। পৃষ্ঠা 6। 
  4. Alkazi, Roshan (1983) "Ancient Indian costume", Art Heritage
  5. Boulanger, Chantal; (1997) Saris: An Illustrated Guide to the Indian Art of Draping, Shakti Press International, New York.
  6. Ghurye (1951) "Indian costume", Popular book depot (Bombay); (Includes rare photographs of 19th century Namboothiri and nair women in ancient saree with bare upper torso)
  7. Katiyar, Vijai Singh (২০০৯)। Indian saris : traditions, perspectives, design। New Delhi: Wisdom Tree in association with National Institute of Design, Ahmedabad। পৃষ্ঠা 211। আইএসবিএন 9788183281225। ১৭ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৫ 
  8. শাওয়াল খান (২০১২)। "শাড়ি"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীরবাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওসিএলসি 883871743 
  9. "Sari, Always in Vogue"Hinduism Today। ২০১৮-০৩-১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৩-০৯ 
  10. R. S. McGregor, সম্পাদক (১৯৯৭)। The Oxford Hindi-English Dictionary। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 1003। আইএসবিএন 978-0-19-864339-5 
  11. Monier-Williams, Monier (১৯৯৫)। A Sanskrit-English Dictionary। Delhi: Motilal Banarsidass। পৃষ্ঠা 1063। আইএসবিএন 978-81-208-0065-6। ৩ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১০ 
  12. Kapoor, Subodh (২০০২)। The Indian encyclopaedia: biographical, historical, religious, administrative, ethnological, commercial and scientific. Reunion-Satya Yauvana, Volume 20। Genesis Publishing Pvt Ltd। পৃষ্ঠা 6422 (pg no. starts from 6130)। আইএসবিএন 978-81-7755-257-7। ৪ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৯The etymology of the word sari is from the Sanskrit 'sati', which means strip of cloth. This evolved into the Prakriti 'sadi', and was later anglicised into sari 
  13. Sachidanand, Sahay (1975) Indian costume, coiffure, and ornament. Chapter 2 'Female Dress', Munshiram Manoharlal publishers Pvt Ltd. pp 31–55
  14. Prachya Pratibha, 1978 "Prachya Pratibha, Volume 6", p.121
  15. Agam Kala Prakashan, 1991 "Costume, coiffure, and ornaments in the temple sculpture of northern Andhra", p.118
  16. "How to wear saree perfectly - Glowpink"। ২৬ মার্চ ২০১৫। ২০ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  17. Stein, Burton (1998). A History of India. Blackwell Publishing. আইএসবিএন ০-৬৩১-২০৫৪৬-২, p. 47
  18. "What did the Indus people wear and what material were their clothes made of?"। Harappa.com। ২ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  19. Abbott, Phill (২০০৯-০২-১৯)। "Rethinking silk's origins : Nature News"। Nature457 (7232): 945। doi:10.1038/457945a PMID 19238684 
  20. Good, I.L.; Kenoyer, J.M.; Meadow, R.H. (২০০৯)। "New evidence for early silk in the Indus civilization"। Archaeometry50 (3): 457। doi:10.1111/j.1475-4754.2008.00454.x 
  21. Mohapatra, R. P. (1992) "Fashion styles of ancient India", B. R. Publishing corporation, আইএসবিএন ৮১-৭০১৮-৭২৩-০
  22. Prasad Mohapatra, Ramesh (১৯৯২)। Fashion Styles of Ancient India: A Study of Kalinga from Earliest Times to Sixteenth Century Ad। B.R. Publishing Corporation। পৃষ্ঠা 35। আইএসবিএন 9788170187233 
  23. Bhandari, Vandana (২০০৫)। Costume, textiles and jewellery of India: traditions in Rajasthan। Mercury Books। পৃষ্ঠা 84। আইএসবিএন 9780811810845। ৬ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৯ 
  24. Linda Lynton (1995) "The Sari: Styles, Patterns, History, Techniques.", p.170
  25. Prof. Dipak Sharma (2012) "SOUVENIR of 2nd International Science Congress (ISC-2012).", p.282
  26. J. Correia-Afonso, (1984) "Indica, Volume 21, Issue 2", p.126
  27. Chintaman Vinayak Vaidya, (2001) "Epic India : India as Described in the Mahabharata and the Ramayana", p.144
  28. Roshen Alkazi, 1996 "Ancient Indian Costume", p.48
  29. Levick, Melba; Crites, Mitchell; Nanji, Ameeta (২০০৮)। IndiaColor: Spirit, Tradition, and Style। Chronicle Books। পৃষ্ঠা 47। আইএসবিএন 978-0-8118-5316-3। ১ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৯ 
  30. Parthasarathy, R. (১৯৯৩)। The Tale of an Anklet: An Epic of South India – The Cilappatikaram of Ilanko Atikal, Translations from the Asian Classics। New York: Columbia Univ. Press। আইএসবিএন 978-0-231-07849-8 
  31. Emma Tarlo (1996) "Clothing Matters: Dress and Identity in India.", p.154
  32. Govind Sadashiv Ghurye (1951) "Indian Costume.", p.154
  33. Encyclopedia of Indian Women Through the Ages: Ancient India – Simmi Jain ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২ আগস্ট ২০১৮ তারিখে.
  34. Anant Sadashiv Altekar (১৯৫৬)। The Position of Women in Hindu Civilization, From Prehistoric Times to the Present Day। Motilal Banarsidass Publ। পৃষ্ঠা 380। আইএসবিএন 9788120803244। ২ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৯ 
  35. Sumner, William Graham (১ সেপ্টেম্বর ২০০৭)। Folkways: A Study of Mores, Manners, Customs and Morals। Cosimo, Inc.। আইএসবিএন 9781602067585। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০১৭ – Google Books-এর মাধ্যমে। 
  36. Linda Lynton, Sanjay K. Singh (2002) "The Sari: Styles, Patterns, History, Techniques.", p.40
  37. Bharata (1967). The Natyashastra [Dramaturgy], 2 vols., 2nd. ed. Trans. by Manomohan Ghosh. Calcutta: Manisha Granthalaya
  38. Beck, Brenda (১৯৭৬)। "The Symbolic Merger of Body, Space, and Cosmos in Hindu Tamil Nadu"। Contributions to Indian Sociology10 (2): 213–243। doi:10.1177/006996677601000202 
  39. Govind Sadashiv Ghurye (1951) "Indian Costume.", p.236
  40. Sulochana Ayyar (1987) "Costumes and Ornaments as Depicted in the Sculptures of Gwalior Museum.", p.152
  41. Kusumanjali Prakashan, 1993 "The Natyasastra tradition and ancient Indian society", p.63
  42. Anita Rao Kashi। "How to Wear a Sari in India"। World Hum। ২০ আগস্ট ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০১২ 
  43. "The History of Indian Sarees - Chappals UK"chappals.co.uk। ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০১৭ 
  44. Chishti, R̥ta Kapur; Singh, Martand (২০১০)। Saris of India: Tradition and Beyond (ইংরেজি ভাষায়)। Roli Books, Lustre Press। আইএসবিএন 9788174363749 
  45. "Regional Styles of Wearing A Sari By Indian Women"। ৭ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৯ 
  46. "Nivi Style Saree Draping"। Indian Wedding Saree। ১০ এপ্রিল ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ 
  47. "Madisar Pudavai"। Tamilnadu.com। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। ৯ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৯ 
  48. Sikka, Raghav। "Wendell Rodricks showcase"Hindustan Times। New Delhi। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  49. "Minisaree causes uproar in Ceylon"Gadsden Times। ১১ জুলাই ১৯৬৯। ১১ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১২ 
  50. "Eastern Miniskirt causes considerable uproar"Reading Eagle। ৬ জুলাই ১৯৬৯। ১১ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১২ 
  51. "Bollywood, saris and a bombed train"Asia Times। ৯ আগস্ট ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০০৭ 
  52. "The spread of the salwar"The Hindu। Chennai, India। ২৪ অক্টোবর ২০০৪। ৬ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০০৭ 
  53. "Hard earned Paisa Vasool shopping - Times of India"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৭-১০ 
  54. "History of Chanderi sarees"Bunkar Virasat Sanrkshan Sanstha [Weaver Heritage Conservancy]। Albira। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা