শান্তিপুর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদিয়া জেলার একটি শহর ও পৌরসভা এলাকা। শান্তিপুর মূলত তাঁতশিল্প-তন্তুবায়, মেয়েদের রূপচর্চা-কেশবিন্যাস এবং বৈষ্ণবাচার্য অদ্বৈত মহাপ্রভু তথা সংস্কৃত বিদ্বদসমাজের জন্য বিখ্যাত ছিল।বর্তমানেও. শিক্্ষা সংস্্ককৃতির পীঠস্থথান.

শান্তিপুর
নগর
শান্তিপুর পশ্চিমবঙ্গ-এ অবস্থিত
শান্তিপুর
শান্তিপুর
পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপুরের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°১৫′ উত্তর ৮৮°২৬′ পূর্ব / ২৩.২৫° উত্তর ৮৮.৪৩° পূর্ব / 23.25; 88.43স্থানাঙ্ক: ২৩°১৫′ উত্তর ৮৮°২৬′ পূর্ব / ২৩.২৫° উত্তর ৮৮.৪৩° পূর্ব / 23.25; 88.43
দেশ ভারত
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
জেলানদিয়া
উচ্চতা১৫ মিটার (৪৯ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট২,৮৮,৭১৮
ভাষা
 • দাপ্তরিকবাংলা, ইংরেজি
সময় অঞ্চলভাঃপ্রঃসঃ (ইউটিসি+5:30)
পিন৭৪১৪০৪
কলিং কোড০৩৪৭২
লোকসভা নির্বাচনী ক্ষেত্ররাণাঘাট
বিধানসভা নির্বাচনী ক্ষেত্রশান্তিপুর

[১]

ইতিহাস ও সংস্কৃতিসম্পাদনা

নদীয়ার শান্তিপুর একটি সুপ্রাচীন ও ঐতিহাসিক গঙ্গা তীরবর্তী জনপদ। মহাপুরুষ চৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষাগুরু অদ্বৈত আচার্যর সাধনপীঠ নিকটবর্তী বাবলা গ্রামে। চৈতন্যদেব, নিত্যানন্দ মহাপ্রভু ও অদ্বৈতাচার্যের মিলন ঘটেছিল এই বাবলায়। সন্ন্যাস গ্রহণের পর এখানেই চৈতন্যের সঙ্গে দেখা হয়েছিল শচীমায়ের। অদ্বৈতাচার্যের বংশেই জন্ম আরেক বৈষ্ণবসাধক বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর। তারও স্মৃতিমন্দির রয়েছে শান্তিপুরে। শান্তিপুরের কাছে বাগয়াচড়ায় কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ফুলিয়ায় আদি কবি রামায়ণ রচয়িতা কৃত্তিবাস ওঝার জন্মস্থান। এছাড়া শান্তিপুরের রাস যাত্রাধূলোট উৎসব জগৎ বিখ্যাত[২]। অদ্বৈতপাড়ায় অদ্বৈত প্রভুর মন্দির ও গোকুলচাঁদের আটচালা মন্দির, চৈতন্যদেবের ষড়ভূজ মূর্তি এবং মথুরেশ প্রতিষ্ঠিত রাধারমণ বিগ্রহ বর্তমান।

তন্ত্রসিদ্ধ কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের বংশধর শান্তিপুরে দক্ষিণাকালীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন; তিনি একটি দালান-মন্দিরে দেবী আগমেশ্বরী নামে অধিষ্ঠিত। পটেশ্বরীতলায় আছেন দেবী পটেশ্বরী (চার-পাঁচশো বছর আগে তান্ত্রিক সাধকরা রাসপূর্ণিমাতে পঞ্চমুণ্ডির আসন স্থাপন করে তার উপর বৃহৎ বৃহৎ পটে আঁকা দক্ষিণাকালীমূর্তি 'পটেশ্বরী'র পূজা করতেন; পরে বারোয়ারি পূজা প্রবর্তিত হলে রাসোৎসবে পটেশ্বরী কালীমূর্তির শোভাযাত্রা শুরু হয়)। এছাড়া এখানে মহিষখাগী, শ্যামাচাঁদুনী, ঘাটচাঁদুনী, বিল্বেশ্বরী, সিদ্ধেশ্বরী প্রভৃতি লোকায়ত কালীমূর্তি অধিষ্ঠিতা আছেন।

মতিগঞ্জ-বেজপাড়ায় অষ্টাদশ শতকের গোড়ার দিকে প্রতিষ্ঠিত নিপুণ হাতের পোড়ামাটির কারুকাজযুক্ত জলেশ্বর শিবমন্দির বিদ্যমান। বউবাজার পাড়ায় আছে দক্ষিণাকালীর পঞ্চরত্ন মন্দির

শ্যামচাঁদ পাড়ায় ১৭২৬ খ্রিষ্টাব্দে তন্তুবায় সম্প্রদায়ের রামগোপাল খাঁ চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত কোষ্ঠীপাথরের কৃষ্ণমূর্তি শ্যামচাঁদের আটচালা মন্দির আছে। মন্দিরটি তৈরী করতে সেসময় ২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল।

এছাড়া, শান্তিপুরে ১৭০৩-০৪ খ্রিষ্টাব্দে (১১১৫ হিজরী) তখনকার স্থানীয় ফৌজদার গাজী মহম্মদ ইয়ার খাঁ নির্মিত 'তোপখানা মসজিদ' বিখ্যাত। এর গম্বুজ ও মিনার এখনো অক্ষত আছে।

দানবীর বলে খ্যাত শরিয়ৎসাহেব নতুনহাট এলাকায় ১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দে একটি মসজিদ ও একটি অতিথিশালা নির্মাণ করেন। ডাকঘর-পাড়ায় দুশো বছরেরও প্রাচীন একটি মসজিদ এবং তার পাশে ফকির তোপসেনিয়ার সমাধি আছে।[১]

ভৌগোলিক উপাত্তসম্পাদনা

শহরটির অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হল ২৩°১৫′ উত্তর ৮৮°২৬′ পূর্ব / ২৩.২৫° উত্তর ৮৮.৪৩° পূর্ব / 23.25; 88.43[৩] সমুদ্র সমতল হতে এর গড় উচ্চতা হল ১৫ মিটার (৪৯ ফুট)।

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

ভারতের ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুসারে শান্তিপুর শহরের জনসংখ্যা হল ১৩৮,১৯৫ জন।[৪] এর মধ্যে পুরুষ ৫১% এবং নারী ৪৯%।

এখানে সাক্ষরতার হার ৬৪%। পুরুষদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৬৯% এবং নারীদের মধ্যে এই হার ৫৮%। সারা ভারতের সাক্ষরতার হার ৫৯.৫%, তার চাইতে শান্তিপুর এর সাক্ষরতার হার বেশি।

এই শহরের জনসংখ্যার ১২% হল ৬ বছর বা তার কম বয়সী।

ধর্মবিশ্বাসসম্পাদনা

শান্তিপুরের প্রায় ৭৯.১৫ % মানুষ হিন্দুধর্মে বিশ্বাসী। এখানে ইসলামে ২০.২৫ %, খ্রিস্ট ধর্মে ০.০৪ %, শিখধর্মে ০.০২ %, বৌদ্ধ ধর্মে ০.০১ %, জৈন ধর্মে ০.০১ % মানুষ বিশ্বাসী। এছাড়া অন্যান্য ধর্মে ০.৪২ % মানুষ বিশ্বাসী ও বিবৃতি নেই এমন মানুষ ০.১১ %।

শান্তিপুরের ধর্মবিশ্বাস (২০১১)[৫]

  হিন্দুধর্ম (৭৯.১৫%)
  ইসলাম (২০.২৫%)
  শিখধর্ম (০.০২%)
  জৈন ধর্ম (০.০১%)
  অন্যান্য (০.৪২%)
  বিবৃতি নেই (০.১১%)

যোগাযোগসম্পাদনা

শান্তিপুর শহর বাস ও রেল যোগাযোগের মাধ্যমে রাজ্য রাজধানী কলকাতা ও জেলা সদর কৃষ্ণনগরের সাথে যুক্ত। কলকাতা হতে শান্তিপুরের ওপর দিয়ে ৩৪ নং জাতীয় সড়ক অতিক্রম করেছে। রেলপথে শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন হতে সরাসরি শান্তিপুর বিদ্যুৎচালিত ট্রেনের মাধ্যমে সংযুক্ত। অতীতে শান্তিপুর - কৃষ্ণনগর - নবদ্বীপ ঘাট ন্যারো গেজ রেলপথ ছিল। অধুনা তা ব্রড গেজে রূপান্তরিত হয়েছে। ভাগীরথী নদীর অপর পাড়ে বর্ধমান জেলাকালনাহুগলী জেলাস্থিত গুপ্তিপাড়ার সাথে শান্তিপুর নৌকা পথে যুক্ত।[৬]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ১০৬-১০৯
  2. "শান্তিপুর" (ইংরেজি ভাষায়)। বিকাশপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২২.০১.১৭  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  3. "Santipur"Falling Rain Genomics, Inc (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ১৫, ২০০৬ 
  4. "ভারতের ২০০১ সালের আদমশুমারি" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ১৫, ২০০৬ 
  5. "Santipur Religion 2011" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৭ 
  6. "ভুটভুটিতে ফেরি ,পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন"। এই সময়। ১৮ ২ মে ০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মে ২০১৭  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)