প্রধান মেনু খুলুন

বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী

সমাজ সংস্কারক
চিত্র:বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী.jpg
বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী

ভারতের ইতিহাসে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী ছিলেন একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের অন্যতম আচার্য। শিক্ষার প্রসার ও কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।[১]

পরিচ্ছেদসমূহ

জন্ম ও শিক্ষাসম্পাদনা

১৮৪১ খ্রিস্টাব্দের ২ আগস্ট নদিয়া জেলার দহকুল গ্রামে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অদ্বৈতাচার্যের বংশধর ছিলেন। বিজয়কৃষ্ণ শান্তিপুরে গোবিন্দ গোস্বামীর টোলে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন। তিনি কলকাতায় সংস্কৃত কলেজে পড়াশোনা করেন। তারপর কিছুদিন তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন।

ব্রাহ্মসমাজে যোগদানসম্পাদনা

বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উৎসাহে ব্রাহ্মসমাজে যোগদান করেন। ব্রাহ্মধর্ম প্রচারের কাজে তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেন। ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র সেনের সঙ্গেও তিনি কাজ করেন। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি ব্রহ্মসমাজের আচার্য হন। তাঁর উদ্যোগে শান্তিপুর, ময়মনসিংহ, গয়া প্রভৃতি অঞ্চলে ব্রাহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়।[২]

নব্যবৈষ্ণব আন্দোলনসম্পাদনা

বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী গয়াতে সাধুদের সংস্পর্শে এসে বৈষনবধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন। ফলে তাঁর সঙ্গে ব্রাহ্মসমাজের মতবিরোধ হয় এবং তিনি ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মধর্ম ত্যাগ করে বৈষ্ণব সাধনায় মগ্ন হন। তিনি যে বৈষ্ণবধর্ম প্রচার করেন তা নব্যবৈষ্ণবধর্ম নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন নব্যবৈষ্ণব আন্দোলনের প্রধান ব্যক্তিত্ব। নারীর উন্নতি ও স্ত্রীশিক্ষার পক্ষপাতী আধুনিক মানুষ ছিলেন তিনি[১][২]

শিষ্যসম্পাদনা

বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর উল্লেখযোগ্য শিষ্যরা ছিলেন কিরণ চাঁদ দরবেশ, বিপিনচন্দ্র পাল, অশ্বিনীকুমার দত্ত, সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।[২]

মৃত্যুসম্পাদনা

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ২২জ্যেষ্ঠ (১৮৯৯খ্রি:) বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী পুরীতে মারা যান।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "গোস্বামী, বিজয়কৃষ্ণ"। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারী ২০১৮ 
  2. ইতিহাস সহায়িকা। দি ক্যালকাটা পাবলিশার্স। জানুয়ারি ২০১৬। পৃষ্ঠা ৯০।