প্রধান মেনু খুলুন
তাইওয়ানের তাইপেই শাহী মসজিদে ঈদের নামাজ।
২০১১ সালের ঈদুল আযহায় বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত দেবীদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় জামায়ত।
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গ্রামের ঈদের নামাজ পড়ার দৃশ্য।

ঈদের নামায আরবী ভাষায় সালাতুল ঈদ (আরবি: صلاة العيد‎‎) এবং দুই ঈদের নামায আরবীতে সালাতুল ঈদাইন (আরবি: صلاة العيدين‎‎) নামে আখ্যায়িত। ঈদ মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ঈদের দিন আল্লাহর উদ্দেশে মুসলমানগণ মাঠে জমায়েত হয়ে যে নামাজ পড়ে তাকে ঈদের নামাজ বলা হয়। মুসলমানদের জন্য ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের নামাজ সাধারণত ঈদগাহে পড়া হয়। ঈদগাহ হচ্ছে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য নির্ধারিত খোলা স্থান। এই স্থানে দুই ঈদ যথা ঈদুল ফিত্‌র এবং ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করা হয়।

  • ঈদুল ফিত্‌র - (عيد الفطر‎) হিজরী সনের দশম মাস, শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে উদযাপন করা হয়।
  • ঈদুল আজহা - ( عيد الأضحى‎) ইসলামী বর্ষপঞ্জীর দ্বাদশ মাস জ্বিলহজ্ব মাসের দশম দিনে উদযাপন করা হয়। এবং এ উৎসব ১০/১১/১২ তারিখ পর্যন্ত থাকে।

গুরুত্বসম্পাদনা

ঈদের নামাজের গুরুত্বের ব্যাপারে ইসলামী চিন্তাবিদগণ বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন। হানাফী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ওয়াজিব, মালিকি ও শাফেয়ী মাযহাব অনুসারে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং হাম্ববলী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ফরজ। কোনো কোনো ইসলামী পণ্ডিতের মতে ঈদের নামাজ ফরজে আইন এবং কোনো কোনো ইসলামী পণ্ডিতের মতে ঈদের নামাজ ফরজে কেফায়া। কিন্তু কারো কারো মতে ঈদের দুই রাকায়াত নামাজ নফল

তবে বাস্তবে সকল দেশে মুসলিম সমাজে ঈদের নামাজ একটি ধর্মীয় উৎসব হিসেবে প্রতি বৎসর উদযাপিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সহ বহু দেশে নামাজ তো পড়াই হয়, অধিকন্তু ঈদের দিনটি উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়।

ঈদের নামাজ পড়ার নিয়মসম্পাদনা

ঈদের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হয়। ঈদের নামাজ সাধারণত খোলা মাঠে তথা ঈদগাহে পড়া হয়। তবে এরূপ স্থানের অভাবে বা আপৎকালে মাসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা যায়।

সময়সম্পাদনা

চোখের দেখায় সূর্য দিগন্ত থেকে আনুমানিক দুই মিটার উচ্চতায় পৌঁছালে ঈদের নামাজ পড়া হয়। জোহর নামাজের আগেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। সুন্নাত হিসেবে ঈদুল ফিতরের নামাজ কিছুটা দেরী করে এবং ইদুল আজহার নামাজ দ্রুত আদায় করা হয়। ইদুল ফিতরে ফিতরা প্রদান করতে হয়। ঈদ সকালে কিছুটা সময় পাওয়া গেলে ফিতরা আদায়ে সুবিধা হবে। অন্যদিকে ঈদুল আজহায় ঈদের নামাজ সম্পন্ন করে আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কুরবানী করা হয়। সেজন্য ঈদের নামাজ যত দ্রুত সম্ভব আদায় করতে হবে। এই ব্যাপারে হাদিসে সুস্পষ্ট বিধান প্রদত্ব রয়েছে।

অতিরিক্ত ছয় তাক্ববিরসম্পাদনা

ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয় তাক্ববির রয়েছে। প্রথম রাক্বাতের শুরুতে অতিরিক্ত তিন তাক্ববির এবং দ্বিতীয় রাক্বাতে অতিরিক্ত তিন তাক্ববির দিতে হয়। প্রথম রাক্বাতে ছানা পাঠের পর কানের লতি পর্যন্ত হাত তুলে পর পর তিন তাক্ববির বলতে হয়। দ্বিতীয় রাক্বাতে সুরা পাঠান্তে রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিন তাক্ববির বলতে হয়। অতিরিক্ত তাক্ববির বলার পর কানের লতি থেকে হাত নামিয়ে আনতে হয়।

খুৎবাসম্পাদনা

ঈদের নামাজে ইমাম কর্তৃক খুৎবা পড়া সুন্নত এবং মুসুল্লিদের খুৎবা শোনা ওয়াজিব। জুমার নামাজের ন্যায় প্রথমে বিষয় ভিত্তিক খুৎবা এবং পরে সানি খুৎবা পাঠ করতে হয়। খুৎবার মাধ্যমে ঈদের নামাজের সমাপ্তি হয়। সাধারণতঃ খুৎবার পরে দুয়া করা হয়।

মহিলাদের অংশগ্রহণসম্পাদনা

বেশিরভাগ ইসলামী চিন্তাবিদ মহিলাদের ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সহ ভারতীয় উপমহাদেশে মহিলাদের ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করার হার তুলনামূলক ভাবে কম।

শোলাকিয়া ঈদগাহসম্পাদনা

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। প্রতিবছর এ ময়দানে ঈদ-উল-ফিতরঈদুল আজহার নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কালের স্রোতে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানটি পরিণত হয়ে উঠেছে একটি ঐতিহাসিক স্থানে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এখানে। এ ময়দানের বিশাল জামাত গৌরবান্বিত ও ঐতিহ্যবাহী করেছে কিশোরগঞ্জকে। বর্তমানে এখানে একসঙ্গে তিন লক্ষাধিক মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শুরুর আগে শর্টগানের ফাঁকা গুলির শব্দে সবাইকে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সঙ্কেত দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্বে নরসুন্দা নদীর তীরে এর অবস্থান।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা