প্রধান মেনু খুলুন
বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ
কসোভোয় জুমার দৃশ্য

জুমার নামাজ (আরবি: صلاة الجمعة‎‎ ṣalāt al-jum`ah, "শুক্রবারের সালাত") ইসলামের অন্যতম একটি নামাজ। جُمُعَة (জুমু'আহ) শব্দটি আরবী । এর অর্থ একত্রিত হওয়া, সম্মিলিত হওয়া, কাতারবদ্ধ হওয়া । যেহেতু, সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন শুক্রবারে প্রাপ্তবয়স্ক মু'মিন-মুসলমান একটি নির্দিষ্ট সময়ে একই স্থানে একত্রিত হয়ে জামা'আতের সাথে সে দিনের যুহরের নামাজের পরিবর্তে এই নামাজ ফরযরূপে আদায় করে, সে জন্য এই নামাযকে "জুমু'আর নামায" বলা হয়।[১] সময় একই হলেও যোহরের সাথে জুমার নামাজের নিয়মগত কিছু পার্থক্য রয়েছে।

কোরআনেসম্পাদনা

কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে:

(৯) হে বিশ্বাসিগণ, যখন তোমরা জ্বোমোয়া ( শুক্রবার ) দিবসের নামাজের জন্য আহূত হও, তখন আল্লাহ স্মরণের দিকে সত্বর হইও, এবং ক্রয় বিক্রয় পরিত্যাগ করিও; যদি তোমরা বুঝিতেছ, তবে ইহাই তোমাদের পক্ষে কল্যাণ।
(১০) যখন নামাজ সমাপ্ত হয়, তখন ভূতলে বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িও, এবং সৃষ্টিকর্তা (আল্লাহর) করুণায় ( জীবিকা ) অন্বেষণ করিও ও আল্লাহ কে প্রচুররূপে স্মরণ করিও; সম্ভবতঃ তোমরা উদ্ধার পাইবে।

— কোরআন, সূরা : ৬২ (আল-জুমুআ), আয়াত ৯-১০[২]

নিয়মসম্পাদনা

জুমার নামাজে দুই রাকাত ফরজ রয়েছে। এছাড়া ফরজ নামাজের পূর্বে চার রাকাত কাবলাল জুমআ এবং পরে চার রাকাত বা'দাল জুমআ (সুন্নাত নামাজ) আদায় করতে হয়। যোহরের মত ব্যক্তি চাইলে এসময় অতিরিক্ত নফল নামাজ আদায় করতে পারে। তবে এসকল নফল নামাজ জুমার অংশ হিসেবে পড়া হয় না এবং তা আবশ্যকীয়ও নয় বরং ব্যক্তি তা স্বেচ্ছায় করতে পারে এবং না করলে তার দোষ হয় না।

জুমার নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা আবশ্যিক এবং তা একাকী আদায় করার নিয়ম নেই। কুরআনে জুমার নামাজের সময় হলে কাজ বন্ধ করে নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তি যদি কারণবশত (যেমন খুব অসুস্থ ব্যক্তি) জুমা আদায় করতে না পারে তবে তার ক্ষেত্রে যুহরের নামাজ আদায় করা নিয়ম। তাছাড়া কিছু ক্ষেত্রে সুস্থ ব্যক্তির উপর, যেমন মুসাফির অবস্থায় জুমার আবশ্যকতা থাকে না এবং সেক্ষেত্রে যুহরের নামাজ আদায় করলে তা গ্রহণীয় হয়। তবে মুসাফির চাইলে জুমা আদায় করতে পারে।

খুতবাসম্পাদনা

জুমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল খুতবা। এতে ইমাম সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও কুরআন-হাদীসের আলোকে দিকনির্দেশনা দেন। যে ইমাম খুতবা দেন তাকে বলা হয় খতিব। এসময় দুইটি খুতবা দেয়া হয়। দুই খুতবার মাঝখানে অল্প কিছু সময়ের বিরতি নেয়া হয়। মসজিদের প্রতিদিনের ইমাম খুতবা দিতে পারেন বা জুমার দিন বিশেষ কেউ খুতবা দিতে পারেন। খুতবা সাধারণত আরবি ভাষায় দেয়া হয়। তবে কিছু স্থানে স্থানীয় ভাষায় খুতবা দেয়ার প্রথা দেখা যায়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম । ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দশম সংস্করণ : ফেব্রুয়ারি ২০১২, পৃষ্ঠা. ২৫২ আইএসবিএন ৯৮৪-০৬-০৫৬০-৭
  2. "সূরা জ্বোমোয়া, দ্বাষষ্টিতম অধ্যায়"। কোর্‌-আন্‌ শরীফগিরিশ চন্দ্র সেন কর্তৃক অনূদিত (চতুর্থ সংস্করণ)। নববিধান পাবলিকেশন কমিটী। ১৯৩৬। পৃষ্ঠা ৬৬০। 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা