কুরআন

ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ

কুরআন, কুরআ-ন মাজী-দ বা কোরআন (আরবি: القرآن‎‎ আল্-কুর্'আন্[টী১]) ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, যা আল্লাহ’র বাণী বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করে।[১] এটিকে আরবি শাস্ত্রীয় সাহিত্যের সর্বোৎকৃষ্ট রচনা বলে মনে করা হয়।[২][৩][৪][৫] কুরআনকে প্রথমত: অধ্যায়ে (আরবিতে সূরা) ভাগ করা হয় এবং অধ্যায়গুলো (সূরা) আয়াতে বিভক্ত করা হয়েছে।

কুরআন
A paper Quran opened halfwise on top of a brown cloth
তথ্য
ধর্মইসলাম
ভাষাআরবি
যুগ৬০৯–৬৩২
অধ্যায়১১৪টি

এই গ্রন্থটি ফেরেশতা জিবরাইল এর মাধ্যমে ইসলামের শেষ নবি মুহাম্মাদের কাছে মৌখিকভাবে ভাষণ আকারে আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়, [৬][৭] কুরআনের প্রথম আয়াত অবতীর্ণ হয় ৬০৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর যখন মুহাম্মাদের বয়স ৪০ বছর[৮] এবং অবতরণ শেষ হয় মুহাম্মাদের তিরোধানের বছর অর্থাৎ ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে।[১][৯][১০] দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে সম্পূর্ণ কুরআন অবতীর্ণ হয়। মুসলমানরা বিশ্বাস করে কুরআন হচ্ছে মুহাম্মাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলৌকিকত্ব যা তার নবুয়তের প্রমাণস্বরূপ[১১] এবং ঐশ্বরিক বার্তা প্রেরণের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায় যা আদম থেকে শুরু হয়ে মুহাম্মাদের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। কুরআনের আয়াতসমূহে কুরআন শব্দটি ৭০ বার এসেছে।[১২]

ইসলামি ইতিহাস অনুসারে দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে খণ্ড খণ্ড অংশে এটি ইসলামের নবি মুহাম্মাদের নিকট অবতীর্ণ হয়। ইসলামের অনুসারীদের জন্য কুরআনকে একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। কুরআনে সর্বমোট ১১৪টি সূরা আছে। আয়াত বা পঙ্‌ক্তি সংখ্যা ৬,৬৬৬ টি; মতান্তরে ৬,২৩৬ টি। এটি মূল আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়।[১৩][১৪][১৫][১৬] মুসলিম চিন্তাধারা অনুসারে কুরআন ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বশেষ এবং গ্রন্থ অবতরণের এই ধারা ইসলামের প্রথম নবী আদম থেকে শুরু হয়। কুরআনে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে যার সাথে বাইবেলসহ অন্যান্য ধর্মীয়গ্রন্থের বেশ মিল রয়েছে। তবে কুরআনে কোনো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা নেই। ইসলামি ভাষ্যমতে কুরআন অপরিবর্তনীয় এবং এ সম্পর্কে মুসলিমরা কুরআনের সূরা আল-হিজরের (১৫ নং সূরা), ৯ নং আয়াতের কথা উল্লেখ করে থাকে যেখানে বলা আছে;

اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا الذِّکۡرَ وَاِنَّا لَہٗ لَحٰفِظُوۡنَ

অনুবাদ; নিশ্চয়ই, আমরা অবর্তীণ করেছি এই উপদেশ[১৭] এবং নিশ্চয়ই আমরা তার জন্যে অবশ্যই সংরক্ষক।[১৮]

এই উপদেশ এর উৎস সম্পর্কে আল্লাহ, পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

...এবং তোমরা স্মরণ করো তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহকে এবং যা অবর্তীন করেছেন তোমাদের উপর এই কিতাব[১৯] এবং এই প্রঙ্গা[২০] থেকে, তোমাদেরকে তিনি উপদেশ দিচ্ছেন তা দিয়ে এবং এবং তোমরা জেনে রাখো যে, আল্লাহ সব কিছুর সম্পর্কে খুব অবহিত।[সূরা আল-বাকারা এর ২৩১ নাম্বার আয়াতের শেষ অংশ][২১]

কুরআন এর পাণ্ডুলিপি, ব্রুকলিন যাদুঘর
ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ১১ শতকের উত্তর আফ্রিকার কুরআন.
ইরানের মাশহাদে কুরআন, যা আলি কৃর্তক লিখিত
"রিড ওয়াটার"(Yam suph),[২২][২৩] যা ইস্রায়েলীয়দের বহির্গমন কাহিনীতে হিব্রু তোরাতে বিশ্রামের স্থান হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, এটি শতাব্দী ধরে ইস্রায়েলীয়দের কিংবদন্তী লাল সাগর ক্রসিংয়ে পরিণত হয়। (26: 52-68)[২৪](Aivazovsky)

ব্যুৎপত্তি ও অর্থসম্পাদনা

কুরআনে কুর'আন শব্দটি কয়েকটি অর্থে প্রায় ৭০ বার এসেছে। আরবি ব্যাকরণে "কুর'আন" শব্দটি একটি "মাসদার",যা ভাববাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ৭৫:১৭,১৮ আয়াতে এটি,(قرأ) ক্বারা'আ ('পাঠ করা', 'আবৃত্তি করা' বা 'অনুসরণ করা') ক্রিয়ার ভাববাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ক্রিয়াপদটিকেই কুরআন নামের মূল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।[২৫] এই শব্দটির "মাসদার" (الوزن) হচ্ছে غفران তথা "গুফরান"। এর অর্থ হচ্ছে অতিরিক্ত ভাব, অধ্যবসায় বা কর্ম সম্পাদনার মধ্যে একাগ্রতা। উদাহরণস্বরুপ, (غفر) নামক ক্রিয়ার অর্থ হচ্ছে "ক্ষমা করা"; কিন্তু এর আরেকটি মাসদার রয়েছে যার যা হলো (غفران), এই মাসদারটি মূল অর্থের সাথে একত্রিত করলে দাঁড়ায় ক্ষমা করার কর্মে বিশেষ একাগ্রতা বা অতি তৎপর বা অতিরিক্ত ভাব। সেদিক থেকে কুরআন অর্থ কেবল পাঠ করা বা আবৃত্তি করা নয় বরং একাগ্র ভঙ্গীতে পাঠ বা আবৃত্তি করা। কুরআনের মধ্যেও এই অর্থেই কুরআন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। কুরআনের সূরা আল-কিয়ামাহের (৭৫ নং সূরা) ১৮ নং আয়াতে এই শব্দটি উল্লেখিত আছে:"অতঃপর, আমি যখন তা পাঠ করি (ক্বুরা'নাহু), তখন আপনি সেই পাঠের (কুরআ'নাহ্‌) অনুসরণ করুন।"[২৬]

কুরআনে যেখানেই এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে সেখানেই এর যথার্থ বিশেষ্য বা বিশেষণ পাওয়া যায়। ক্বারা'আ ক্রিয়াপদ কুরআনে পুনঃপুনঃ ব্যবহৃত হয়েছে। ১৭:৯৩ আয়াতে এর অর্থ 'পাঠ করা'; কিন্তু এর বহুল প্রচলিত অর্থটি হল,'আবৃত্তি করা' (তিলাওয়াঃ),৭৫: ১৬,১৭। মুহাম্মাদের আবৃত্তি সমন্ধেও এই শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি তাঁর নিজের উপর অবতীর্ণ ওহী আবৃত্তি করেন (৭ঃ২০৪; ১৬ঃ৯৮; ১৭ঃ৪৫; ৮৪ঃ২১; ৮৭ঃ৬)। শব্দটি মুমিনদের আবৃত্তি সমন্ধেও ব্যবহৃত হয়েছে , তারা সালাতে ওহী আবৃত্তি করেন (৭৩ঃ২০)। এ থেকে বোঝা যায়, কুরআন শব্দের অর্থ হল 'আবৃত্তি করা' যা মুহাম্মাদ আল্লাহর নিকট হতে প্রাপ্ত হয়ে আবৃত্তি করেছেন (৭৫ঃ১৮; ৮৬ঃ৬) এবং মানুষের সম্মুখেও আবৃত্তি করেছেন। যদিও কুরআন বলতে সাধারভাবে তাঁর উপর অবতীর্ণ ওহীর সমষ্টিকে বুঝায়। তবে শব্দটি (কুরআন) তাঁর উপর অবতীর্ণ পৃথক পৃথক ওহী (১০ঃ১৫; ১২ঃ৩; ৭২ঃ১; ২ঃ১৮৫) সমন্ধে বা খন্ডে খন্ডে অবতীর্ণ (১৭ঃ১০৬; ২০ঃ১; ৭৬ঃ২৩; ২৫ঃ৩২ ; ৫৯ঃ২১) আল্লাহর ওহী সমন্ধে বলা হয়েছে যা তিনি আল্লাহ কর্তৃক পেয়েছিলেন (২৭ঃ৬; ২৮ঃ৮৫)।

আল কিতাব (ধর্ম গ্রন্থ বা পুস্তক) শব্দটি আল-কুরআনের প্রতিশব্দ হিসাবে একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। আল-কিতাব সমন্ধে বলা হয়েছে "ইহা এক কল্যানময়ী রাত্রিতে (৪৪ঃ২) অবতীর্ণ হইয়াছে" (৪০ঃ২; ৪৫ঃ২)। ১৫ঃ১ আয়াতে বলা হয়েছে, "এইগুলি আল-কুরআন এবং সুস্পষ্ট অর্থবোধক আল-কিতাবের অলৌকিক নিদর্শনসমূহ।" বিষয়বস্তু হিসেবে কুরআনকে প্রায়ই 'যি'কর' বলা হয়েছে। এখানে এর অর্থ উপদেশ, সাধারণ বাণী (২১ঃ২৬,৪২; ৩৮ঃ৮৭)। যি'করকে 'অবতীর্ণ' (২১ঃ৫০; ৩৮ঃ৮) এবং 'মহান পবিত্র গ্রন্থ' (৪১ঃ৪১) বলা হয়েছে। আবার ৩৬ঃ ৬৯ আয়াতে কুরআন সমন্ধে বলা হয়েছে, "ইহা এক (মহান) যি'কর এবং সুস্পষ্ট অর্থবোধক কুরআন"। ২১ঃ৭ আয়াতে আহ্'লুল-কিতাবকে আহ্'লুয যি'কর বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আল-হি'কমাঃ শব্দটি উল্লেখ করা যেতে পারে। ২ঃ১২১,১৫১; ৩ঃ১৬৪; ৬২ঃ২ -এ আল-কিতাবের সাথে হি্'কমাঃ উল্লেখ করা হয়েছে। ২ঃ২৩৯; ৪ঃ১১৩ -এ কুরআনের সঙ্গে হি'কমাতের অবতীর্ণ হওয়ার উল্লেখ আছে। কুরআনে, কুরআনকে "আল-ফুরকা'ন"-ও বলা হয়েছে।

"সূরাঃ" শব্দটি আরবী সূর (নগর প্রাচীর) হতে গৃহীত একবচনজ্ঞাপক() যোগ করিয়া গঠিত। সূরার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নির্দিষ্ট অংশকে আয়াত বলা হয়। হিব্রু 'ওত' শব্দের ন্যায় ইহা বিশেষ অর্থে নিদর্শন, বিশ্বাসের নিদর্শন (২ঃ২৪৮; ৩ঃ৪১; ২৬ঃ১৯৭) বিশেষত আল্লাহর অস্তিত্ব ও ক্ষমতার নিদর্শন (১২ঃ১০৫; ৩৬ঃ৩৩) বুঝায়। তাই এটি দ্বারা অলৌকিক ঘটনাকে'ও (মু'জিযাঃ) বুঝায় (৩ঃ৪৯; ৪৩ঃ৪৬)। মুহাম্মদ যে আল্লাহর নবী এর প্রমাণস্বরুপ মক্কার পৌত্তলিকরা তার নিকট অলৌকিক ক্রিয়া (মু'জিযাঃ) দেখানোর দাবী করত। যেহেতু প্রেরিত ওহীগুলোই তার অন্যতম মু'জিযাঃ (৬ঃ১৫৮; ৭ঃ২০৩; ২০ঃ১৩৩; ২৯ঃ৫০) সেজন্যই এগুলোর নাম আয়াত হয়েছে। আয়াতগুলো উর্ধ-জগত হতে (২ঃ৯৯; ২৮ঃ৮৭) আল্লাহর নবীর নিকট (২ঃ২৫২; ৩ঃ৫৮; ৪৫ঃ৫) পাঠানো হত এবং পূর্ববর্তী নবীগনের ন্যায় (২৮ঃ৫৯) তিনিও উহা লোকদেরকে আবৃত্তি করে শোনাতেন (২ঃ১৫১; ৩ঃ১৬৪; ৬৫ঃ১১)।

 
স্ট্যানফোর্ড '07 বাইনারি পান্ডুলিপির ডান পৃষ্ঠা উপরের স্তরটি হচ্ছে সূরা বাকার 265-271 আয়াত দ্বৈত স্তর কুরআনের প্রথম পাঠ্যে সংযোজন এবং আজকের কুরআনের সাথে পার্থক্য প্রকাশ করে।
 
কোরান, অতিবেগুনী আলোতে সানা 'পুঁথি; ইউ.ভি এবং এক্স রে ব্যবহার করে, উপ-পাঠ্য এবং পাঠ্যের উপর করা পরিবর্তনগুলি যা খালি চোখে দেখা যায় না তা প্রকাশিত হতে পারে

আরও বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্ তাঁর আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা করেন, (২ঃ১৮৭) ; "মুমিনগণ রাত্রিতে ইহা পাঠ করেন" (৩ঃ১১৩); "একমাত্র কাফিরগণই আমার আয়াতগুলির সত্যতা অস্বীকার করে" (২৯ঃ৪৭)। আবার কিছু যায়গায় গুরুত্ব বোঝানোর জন্য আয়াতসমূহের প্রতিই দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। যেমন,"সূরার ভিতর সুস্পষ্ট আয়াত-সমূহ নাযিল করিয়াছি"(২৪ঃ১); "একটি কিতাব যাহা আমি পাঠাইয়াছি, যেন তাহারা ইহার আয়াতগুলি সমন্ধে চিন্তা করিতে পারে" (৩৮ঃ২১); "এইগুলি হইল জ্ঞানময় কিতাবের আয়াত" (১০ঃ১; ৩১ঃ১) ; " এইগুলি সুস্পষ্ট অর্থবোধক কিতাবের আয়াত (১২ঃ১; ২৬ঃ১; ২৮ঃ১) ; "এইগুলি আল-কিতাব ও স্পষ্ট বিবরণদানকারী কু'রআনের আয়াত" (১৫ঃ১) ; "এইগুলি আল-কু'রআন ও স্পষ্ট বিবরণদানকারী" (কিতাব) (২৭ঃ১)। "একটি কিতাব যার আয়াতগুলি দৃড়রূপে প্রথিত ", (১১ঃ১, ১৩,১)। কিতাবে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ এবং বিভিন্ন অর্থবোধক আয়াতসমূহ আছে (৩ঃ৭)। যেমন, " এবং যদি আমি একটি আয়াত বাতিল করে অথবা ভুলিয়ে দেই তবে সেই স্থানে তদপেক্ষা উত্তম অথবা অনুরূপ একটি আয়াত আনয়ন করি" (২ঃ১০৬)। "যদি আমি এক আয়াত অন্য আয়াত দ্বারা বদল করি (১৬ঃ১০১)।

এইসব বিবরণ হতে মুহাম্মাদের উপর অবতীর্ণ ওহীর বিষয়বস্তু সমন্ধে জানা যায় "উহা সুরক্ষিত ফলক বা লাওহ' মাহ্'ফুজ' হইতে অবতীর্ণ হইয়াছে" (৮৫ঃ২২)। " ইহা একটি সুরক্ষিত পুস্তকে রহিয়াছে" (৫৬ঃ৭৯)। "ইহা আমার নিকট মূল কিতাবে রহিয়াছে" (৪৩ঃ৪; ৩ঃ৭)। আল-কুরআন সমন্ধে বলা হয়েছে, "ইহা একটি উপদেশ-গ্রন্থ যাহা সম্মানিত, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং পবিত্র পত্রসমূহে মহান ন্যায়নিষ্ঠ লেখকদের হস্তে লিপিবদ্ধ" (৮০; ১১-১৬)। ৫২ঃ৮২ আয়াতে বিস্তারিত পত্রে লিখিত কিতাবের শপথ করা হয়েছে এবং ৬৮ঃ১ -এ বলা হয়েছেঃ "কলম ও যাহা দ্বারা লেখা হয় তাহার শপথ" এবং ৯৬ঃ৪-৫ এ বলা হয়েছে "কলম দ্বারা তিনি মানবকে শিক্ষা দিয়েছেন যাহা সে জানিত না" তাঁকে আরও বলা হয়েছে, "তোমার রাব্ব- এর কিতাব হইতে যাহা তোমার প্রতি ওয়াহ্'য়িরূপে পাঠানো হইয়াছে তাহা পাঠ কর"। "আল্লাহর কথা কেহ পরিবর্তন করিতে পারে না " (১৮ঃ২৭)। ৪ঃ১৬৪; ৪০ঃ৭৮ - এ বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁহাকে কতক নবীর কথা বলিয়াছেন এবং কতক নবীর কথা বলেন নাই।

রাসূল এর উপর অবতীর্ণ ওহী থেকেই উম্মুল কিতাব (৪৩ঃ৪) এর মূল বিষয়বস্তু ধারণা করে নেয়া যায়। সেগুলো হল, আল্লাহর সত্তা, বিশ্ব সৃষ্টি - বিশেষত মানব সৃজন, ভাল ও মন্দ আত্না-সমূহের সৃষ্টি, শেষ বিচার, জান্নাত,জাহান্নাম, পূর্ববর্তী নবী গনের অভিজ্ঞতা, আল্লাহর ইবাদত ও সামাজিক জীবন সম্বন্ধীয় যাবতীয় আইন-কানুন এবং বিশেষ বিশেষ আইন (৪ঃ১০৩, ১২৭,১৩৮; ৩৩ঃ৬)। বার মাসের উল্লেখ প্রসঙ্গে (৯ঃ৩৬) এবং ২২ঃ৪ -এ শয়তান কর্তৃক মানবকে প্রলুব্ধ করার প্র‍য়াস প্রসঙ্গে বিশ্ব সৃজন-তত্ত্বের আভাষ দেয়া হয়েছে। এমনকি, বিশ্বে যা কিছু সংঘটিত হয়েছে এবং সংঘটিত হবে তার সব কিছুই ঐ উম্মুল কিতাবে আছে (১০ঃ৬১; ২৭ঃ৭৫; ৩৪ঃ৩; ৬ঃ৩৮,৫৯; ১১ঃ৬; ২০ঃ৫১; ১৭ঃ৫৮)।

 
জোসেফ এবং তাঁর ভাইয়েরা ফেরাউনের উপস্থিতিতে। (জেমস টিসোট) আহমেদ ওসমানের মতে, ইউয়া (ফেরাউন) এর কাহিনীটি ইউসুফ হিসাবে তওরাত ও কোরানে গেছে। [২৭]

কুরআনের অনেকগুলি নামের মধ্যে বিশেষ চারটি নাম হল আল-কুরআন, আল-ফুরকান, আল-কিতাব ও আয-যিক্'র। ‘আল-কুরআন’ নামের অর্থ 'যাহা পঠিত হয়'। এটি বহু আয়াত ও সূরার সংকলন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কুরআনের প্রথম আয়াতের প্রথম শব্দটি হল ‘ইকরা’-'পাঠকর'। ‘আল-ফুরকান’ নামের অর্থ পার্থক্যকারী, সত্য ও মিথ্যার, আলো ও অন্ধকারের এবং ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্যকারী। ‘আল্-কিতাব’ অর্থ লিখিত গ্রন্থ যা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ‘আয-যিক্'র’ নামের অর্থ উপদেশ যা আল্লাহ্-তা‘আলা স্বীয় বান্দাগণকে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের নিমিত্তে দিয়েছেন।

মুসলমানদের মতে এটি আল্লাহর বাণী বা বক্তব্য, যা ইসলামের নবী ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়। তাদের মতে এটি একটি মুজিজা বা অলৌকিক গ্রন্থ যা মানব জাতির পথনির্দেশক। মুসলমানদের বিশ্বাস, কুরআনে মানব জীবনের সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে এবং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান।[২৮]

কুরআনের সূরা সমূহের তালিকাসম্পাদনা

কুরআনে সর্বমোট ১১৪টি সূরা রয়েছে।[২৯] কুরআনে সূরার অবস্থান ক্রম ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান এর নেতৃত্বে নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়। সূরাগুলোর নামের পাশের কলামে বাংলা অর্থ দেয়া আছে।

কোরআনে অবস্থান বাংলা উচ্চারণ নাম (আরবি) বাংলায় নামের অর্থ আয়াত সংখ্যা অবতীর্ণের স্থান অবতীর্ণের অনুক্রম
আল ফাতিহা الفاتحة সূচনা মক্কা ০০৫
আল বাকারা البقرة বকনা-বাছুর ২৮৬ মদীনা ০৮৭
আল ইমরান آل عمران ইমরানের পরিবার ২০০ মদীনা ০৮৯
আন নিসা النّساء মহিলা ১৭৬ মদীনা ০৯২
আল মায়িদাহ المآئدة খাদ্য পরিবেশিত টেবিল ১২০ মদীনা ১১২
আল আনআম الانعام গৃৃহপালিত পশু ১৬৫ মক্কা ০৫৫
আল আরাফ الأعراف উচু স্থানসমূহ ২০৬ মক্কা ০৩৯
আল আনফাল الأنفال যুদ্ধে-লব্ধ ধনসম্পদ ৭৫ মদীনা ০৮৮
আত-তাওবাহ্‌ التوبة অনুশোচনা ১২৯ মদীনা ১১৩
১০ ইউনুস يونس নবী ইউনুস ১০৯ মক্কা ০৫১
১১ হুদ هود নবী হুদ ১২৩ মক্কা ০৫২
১২ ইউসুফ يوسف নবী ইউসুফ ১১১ মক্কা ০৫৩
১৩ আর-রাদ الرّعد বজ্রনাদ ৪৩ মদীনা ০৯৬
১৪ ইব্রাহীম إبراهيم নবী ইব্রাহিম ৫২ মদীনা ০৭২
১৫ সূরা আল হিজর الحجر পাথুরে পাহাড় ৯৯ মক্কা ০৫৪
১৬ আন নাহল النّحل মৌমাছি ১২৮ মক্কা ০৭০
১৭ বনী-ইসরাঈল الإسرا ইসরায়েলের সন্তানগণ ১১১ মক্কা ০৫০
১৮ আল কাহফ الكهف গুহা ১১০ মক্কা ০৬৯
১৯ মারইয়াম مريم মারিয়াম (নবী ঈসার মা) ৯৮ মক্কা ০৪৪
২০ ত্বোয়া-হা طه ত্বোয়া-হা ১৩৫ মক্কা ০৪৫
২১ আল আম্বিয়া الأنبياء নবীগণ ১১২ মদীনা ০৭৩
২২ আল হাজ্জ্ব الحجّ হাজ্জ ৭৮ মদীনা ১০৩
২৩ আল মু'মিনূন المؤمنون বিশ্বাসীগণ ১১৮ মদীনা ০৭৪
২৪ আন নূর النّور আলো,জ্যোতি ৬৪ মদীনা ১০২
২৫ আল ফুরকান الفرقان সত্য মিথ্যার পার্থক্য নির্ধারণকারী গ্রন্থ ৭৭ মক্কা ০৪২
২৬ আশ শুআরা الشّعراء কবিগণ ২২৭ মক্কা ০৪৭
২৭ আন নম্‌ল النّمل পিপীলিকা ৯৩ মক্কা ০৪৮
২৮ আল কাসাস القصص ঘটনা,কাহিনী ৮৮ মক্কা ০৪৯
২৯ আল আনকাবূত العنكبوت মাকড়সা ৬৯ মদীনা ০৮৫
৩০ আর রুম الرّوم রোমান জাতি ৬০ মদীনা ০৮৪
৩১ লোক্‌মান لقمان একজন জ্ঞানী ব্যক্তি ৩৪ মক্কা ০৫৭
৩২ আস সেজদাহ্ السّجدة সিজদাহ ৩০ মদীনা ০৭৫
৩৩ আল আহ্‌যাব الْأحزاب জোট ৭৩ মদীনা ০৯০
৩৪ সাবা سبا রানী সাবা ৫৪ মক্কা ০৫৮
৩৫ ফাতির فاطر আদি স্রষ্টা ৪৫ মক্কা ০৪৩
৩৬ ইয়াসীন يس ইয়াসীন ৮৩ মক্কা ০৪১
৩৭ আস ছাফ্‌ফাত الصّافات সারিবদ্ধভাবে দাড়ানো ১৮২ মক্কা ০৫৬
৩৮ ছোয়াদ ص আরবি বর্ণ ৮৮ মক্কা ০৩৮
৩৯ আয্‌-যুমার الزّمر দল-বদ্ধ জনতা ৭৫ মক্কা ০৫৯
৪০ আল মু'মিন غافر বিশ্বাসী ৮৫ মক্কা ০৬০
৪১ হা-মীম সেজদাহ্‌ فصّلت সুস্পষ্ট বিবরণ ৫৪ মক্কা ০৬১
৪২ আশ্‌-শূরা الشّورى পরামর্শ ৫৩ মক্কা ০৬২
৪৩ আয্‌-যুখরুফ الزّخرف সোনাদানা ৮৯ মক্কা ০৬৩
৪৪ আদ-দোখান الدّخان ধোঁয়া ৫৯ মক্কা ০৬৪
৪৫ আল জাসিয়াহ الجاثية নতজানু ৩৭ মক্কা ০৬৫
৪৬ আল আহ্‌ক্বাফ الأحقاف বালুর পাহাড় ৩৫ মক্কা ০৬৬
৪৭ মুহাম্মদ محمّد নবী মুহাম্মদ ৩৮ মদীনা ০৯৫
৪৮ আল ফাত্‌হ الفتح বিজয় (মক্কা বিজয়) ২৯ মদীনা ১১১
৪৯ আল হুজুরাত الحجرات বাসগৃহসমূূহ ১৮ মদীনা ১০৬
৫০ ক্বাফ ق আরবি বর্ণ ক্বাফ ৪৫ মক্কা ০৩৪
৫১ আয-যারিয়াত الذّاريات বিক্ষেপকারী বাতাস ৬০ মক্কা ০৬৭
৫২ আত্ব তূর الطّور পাহাড় ৪৯ মদীনা ০৭৬
৫৩ আন-নাজম النّجْم তারা ৬২ মক্কা ০২৩
৫৪ আল ক্বামার القمر চন্দ্র ৫৫ মক্কা ০৩৭
৫৫ আর রাহমান الرّحْمن অনন্ত করুণাময় ৭৮ মদীনা ০৯৭
৫৬ আল-ওয়াকিয়াহ الواقعة নিশ্চিত ঘটনা ৯৬ মক্কা ০৪৬
৫৭ আল-হাদীদ الحديد লোহা ২৯ মদীনা ০৯৪
৫৮ আল-মুজাদালাহ المجادلة অনুযোগকারিণী ২২ মদীনা ১০৫
৫৯ আল-হাশর الحشْر সমাবেশ ২৪ মদীনা ১০১
৬০ আল-মুমতাহিনাহ الممتحنة নারী, যাকে পরীক্ষা করা হবে ১৩ মদীনা ০৯১
৬১ আস-সাফ الصّفّ সারবন্দী সৈন্যদল ১৪ মদীনা ১০৯
৬২ আল-জুমুআ الجمعة সম্মেলন/শুক্রবার ১১ মদীনা ১১০
৬৩ আল-মুনাফিকুন المنافقون কপট বিশ্বাসীগণ ১১ মদীনা ১০৪
৬৪ আত-তাগাবুন التّغابن মোহ অপসারণ ১৮ মদীনা ১০৮
৬৫ আত-তালাক الطّلاق তালাক,বন্ধনমুক্তি ১২ মদীনা ০৯৯
৬৬ আত-তাহরীম التّحريم নিষিদ্ধকরণ ১২ মদীনা ১০৭
৬৭ আল-মুলক الملك সার্বভৌম কর্তৃত্ব ৩০ মক্কা ০৭৭
৬৮ আল-কলম القلم কলম ৫২ মক্কা ০০২
৬৯ আল-হাক্কাহ الحآقّة নিশ্চিত সত্য ৫২ মক্কা ০৭৮
৭০ আল-মাআরিজ المعارج উন্নয়নের সোপান ৪৪ মক্কা ০৭৯
৭১ নূহ نوح নবী নূহ ২৮ মক্কা ০৭১
৭২ আল জ্বিন الجنّ জ্বিন সম্প্রদায় ২৮ মক্কা ০৪০
৭৩ আল মুজাম্মিল المزّمّل বস্ত্র আচ্ছাদনকারী ২০ মক্কা ০০৩
৭৪ আল মুদ্দাস্সির المدّشّر পোশাক পরিহিত ৫৬ মক্কা ০০৪
৭৫ আল-ক্বিয়ামাহ القيامة পুনরুথান ৪০ মক্কা ০৩১
৭৬ আদ-দাহর الدَّهْرِ মানুষ ৩১ মদীনা ০৯৮
৭৭ আল-মুরসালাত المرسلت প্রেরিত পুরুষবৃন্দ ৫০ মক্কা ০৩৩
৭৮ আন নাবা النّبا মহাসংবাদ ৪০ মক্কা ০৮০
৭৯ আন নাযিয়াত النّزعت প্রচেষ্টাকারী ৪৬ মক্কা ০৮১
৮০ আবাসা عبس তিনি ভ্রুকুটি করলেন ৪২ মক্কা ০২৪
৮১ আত-তাকভীর التّكوير অন্ধকারাচ্ছন্ন ২৯ মক্কা ০০৭
৮২ আল-ইনফিতার الانفطار বিদীর্ণ করা ১৯ মক্কা ০৮২
৮৩ আত মুত্বাফ্‌ফিফীন المطفّفين প্রতারকগণ ৩৬ মক্কা ০৮৬
৮৪ আল ইন‌শিকাক الانشقاق খন্ড-বিখন্ড করণ ২৫ মক্কা ০৮৩
৮৫ আল-বুরুজ البروج নক্ষত্রপুঞ্জ ২২ মক্কা ০২৭
৮৬ আত-তারিক্ব الطّارق রাতের আগন্তুক ১৭ মক্কা ০৩৬
৮৭ আল আ'লা الأعلى সর্বোর্ধ্ব ১৯ মক্কা ০০৮
৮৮ আল গাশিয়াহ্‌ الغاشية বিহ্বলকর ঘটনা ২৬ মক্কা ০৬৮
৮৯ আল ফাজ্‌র الفجر ভোরবেলা ৩০ মক্কা ০১০
৯০ আল বালাদ البلد নগর ২০ মক্কা ০৩৫
৯১ আশ-শাম্‌স الشّمس সূর্য্য ১৫ মক্কা ০২৬
৯২ আল লাইল الليل রাত্রি ২১ মক্কা ০০৯
৯৩ আদ-দুহা الضحى পূর্বাহ্নের সূর্যকিরণ ১১ মক্কা ০১১
৯৪ আল ইনশিরাহ الشرح বক্ষ প্রশস্তকরণ মক্কা ০১২
৯৫ ত্বীন التين ডুমুর মক্কা ০২৮
৯৬ আলাক্ব العلق রক্তপিন্ড ১৯ মক্কা ০০১
৯৭ ক্বদর القدر পরিমাণ মক্কা ০২৫
৯৮ বাইয়্যিনাহ البينة সুস্পষ্ট প্রমাণ মদীনা ১০০
৯৯ যিলযাল الزلزلة ভূমিকম্প মদীনা ০৯৩
১০০ আল-আদিয়াত العاديات অভিযানকারী ১১ মক্কা ০১৪
১০১ ক্বারিয়াহ القارعة মহাসংকট ১১ মক্কা ০৩০
১০২ তাকাসুর التكاثر প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা মক্কা ০১৬
১০৩ আছর العصر অপরাহ্ন মক্কা ০১৩
১০৪ হুমাযাহ الهمزة পরনিন্দাকারী মক্কা ০৩২
১০৫ ফীল الفيل হাতি মক্কা ০১৯
১০৬ কুরাইশ قريش কুরাইশ গোত্র মক্কা ০২৯
১০৭ মাউন الماعون সাহায্য-সহায়তা মক্কা ০১৭
১০৮ কাওসার الكوثر প্রাচুর্য মক্কা ০১৫
১০৯ কাফিরুন الكافرون অস্বীকারকারীগণ মক্কা ০১৮
১১০ নাসর النصر বিজয়,সাহায্য মদীনা ১১৪
১১১ লাহাব المسد জ্বলন্ত অঙ্গার মক্কা ০০৬
১১২ আল-ইখলাস الإخلاص একনিষ্ঠতা মক্কা ০২২
১১৩ আল-ফালাক الفلق নিশিভোর মদীনা ০২০
১১৪ আন-নাস الناس মানবজাতি মক্কা ০২১

ইতিহাসসম্পাদনা

নবীর যুগসম্পাদনা

ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, হেরা গুহায় অবস্থানকালে মুহাম্মাদের নিকট প্রথম কুরআনের বাণী প্রেরিত হয়। এরপর ২৩ বছর ধরে তাঁর নিকট কুরআনের বাণী প্রেরিত হয়। হাদিস ও মুসলিম ইতিহাস অনুসারে, মুহাম্মাদ মদীনায় হিজরত করে একটি স্বাধীন মুসলিম সম্প্রদায় গঠন করার পর তিনি তাঁর অনেক সাহাবাকে কুরআন তেলাওয়াত ও এর শিক্ষা গ্রহণ করে ছড়িয়ে দিতে আদেশ দেন, যা নিয়মিত অবতীর্ণ হতো। বলা হয় যে, কিছু কুরাইশ যাদেরকে বদর যুদ্ধে বন্দী করা হয়েছিল, তারা কিছু মুসলিমকে তৎকালীন সরল লিখন পদ্ধতি শেখানোর পর তাদের স্বাধীনতা ফিরে পায়। এইভাবে মুসলমানদের একটি দল ধীরে ধীরে সাক্ষর হয়ে ওঠে। প্রাথমিকভাবে, খেজুরের ডাল, হাড় ইত্যাদিতে কুরআনের আয়াত লিখিত হয়। যাইহোক, ৬৩২ সালে মুহাম্মাদের মৃত্যুর সময় কুরআন বইয়ের আকারে লিপিবদ্ধ ছিল না।[৩০][৩১][৩২] আলেমদের মধ্যে এ ব্যাপারে ঐকমত্য আছে যে মুহাম্মাদ নিজে আয়াতগুলো লেখেননি।[৩৩]

সংকলনসম্পাদনা

মুহাম্মাদ এর জীবদ্দশায় তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রথম পূর্ণ কুরআন লিপিবদ্ধ হয়। কিন্তু এগুলো এক জায়গায় একত্রিত করা হয়নি। প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর এর যুগে দ্বাদশ হিজরি সালে ইয়ামামার যুদ্ধ সত্তর জন হাফেজে কুরআন শাহাদাত বরণ করেন। এতে হযরত ওমর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি খলিফা আবু বকর কে বলেন,

প্রথমে আবু বকর]] রাজি না হলেও ওমর এর অনুরোধে রাজি হন। কুরআন সংরক্ষণের এ দায়িত্ব মুহাম্মাদের সময়ের ওহি লেখক সাহাবি যায়েদ ইবনে সাবিত এর ওপর ন্যস্ত প্রদান করা হয়। যায়েদ ইবনে সাবিত নিজে হাফেজে কুরআন ছিলেন। তিনি কুরআন সংকলন করার ব্যাপারে দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করেন। একটি হলো কুরআনের আয়াতটি সংশ্লিষ্ট সাহাবা মুখস্থ বলবেন, অপরটি হলো তিনি মুহাম্মাদ এর সময়ে লিখিত ঐ আয়াতটি প্রদর্শন করবেন। তিনি লিখিত ছাড়া কুরআনের আয়াত সত্যায়নের জন্য যথেষ্ট মনে করেননি। তিনি বহু যাচাই বাছাই করার পর সাহাবায়ে কেরামের নিকট রক্ষিত মুহাম্মাদের জীবদ্দশায় লিখিত বিভিন্ন পান্ডুলিপি থেকে সে সময়ের আবিষ্কৃত বিশেষ কাগজে গ্রন্থাকারে কুরআন লিপিবদ্ধ করেন (যা সউফ নামে পরিচিত)।[৩৪]) লিপিবদ্ধ কুরআনটি খলিফা হযরত আবু বকরের এর তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। তার ওফাতের পর এটি খলিফা হযরত ওমর এর হেফাজতে থাকে। তার শাহাদাতের পর তারই ওসিয়ত অনুসারে কুরআনের এ প্রতিলিপিটি মুহাম্মাদের স্ত্রী বিবি হাফস’র নিকট গচ্ছিত থাকে। ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমানের যুগে ইসলামি সম্রাজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটে। ইসলামের এ হেন প্রসারের ফলে বিভিন্ন জাতি ও ভাষাভাষী লোকেরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে। তাদের অনেকের পক্ষেই কুরআনের গঠন পদ্ধতি অনুসরণ করে কুরআনের বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করা সম্ভবপর ছিল না। বিশেষ করে আরমেনিয়া এবং আজারবাইজান যুদ্ধে সমবেত মুসলমানদের কুরআন পাঠ পদ্ধতির বিভিন্নতা দেখে বিশিষ্ট সাহাবি হুযাইফা তদানীন্তন খলিফা উসমানকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি অবিলম্বে এ নিয়ে নেতৃস্থানীয় সাহাবাদের সাথে পরামর্শ করে চার জন বিশিষ্ট সাহাবা সমন্বয়ে একটি পর্ষদ গঠন করেন। এ চারজন সাহাবা হচ্ছেন:—

 
মুহাম্মদের প্রথম ওহি সূরা আল-আলাককে কুরআনের 96 তম সারিতে স্থাপন করা হয়েছিল।

হযরত উসমান এর উদ্যোগে হিজরি ২৪ সালে শেষবারের মতো কুরআন সংকলনের এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ বোর্ড হযরত হাফসা এর নিকট সংরক্ষিত মূল কপিটি সংগ্রহ করেন।[৩৬][৩৭] উক্ত বোর্ড পূর্বলিখিত প্রতিলিপিটি অনুসরণ করে পাঠ ও উচ্চারনের বিভিন্নতা দূর করার জন্য শুধু কুরাইশি উচ্চারণ ও ভাষায় তার আরও সাতটি প্রতিলিপি প্রস্তুত করেন। বর্ণিত আছে যে, সাতটি প্রতিলিপি তৈরি করে মক্কা, শাম, ইয়েমেন,বাহরাইন, বসরাকুফা প্রদেশে একটি করে প্রেরণ করা হয়। আর রাজধানী মদিনাতে একটি কপি খলিফার নিকট সংরক্ষিত রাখা হয়।[৩৮] এরপর বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য বিক্ষিপ্তভাবে সংরক্ষিত প্রতিলিপিগুলো সকলের কাছ থেকে সংগ্রহ করে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়।[৩৯] এভাবে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান রা.-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পবিত্র কুরআন সংকলিত ও বিভিন্ন প্রদেশে প্রেরিত হয় বিধায় তাকে "جمع القرآن " বা কুরআন সংগ্রহকারী বলা হয়।

ইসলামে কুরআনের গুরুত্বসম্পাদনা

অননুকরণীয়তাসম্পাদনা

ইসলামী পরিভাষা অনুযায়ী, কুরআনের অলৌকিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, এই বিশ্বাসকে ইজায বলা হয়। মুসলমানরা বিশ্বাস করে আল কুরআন একটি ঐশ্বিক গ্রন্থ যা কোনো মানুষের পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয় ও যা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত কার্যকর এবং এর মাধ্যমে এই গ্রন্থ মুহাম্মাদের নবীত্বের মর্যাদার অনুমোদনে প্রদত্ত মূল প্রমাণ। কুরআনেই অননুকরণীয়তা ধারণাটির উৎপত্তি, যেখানে পাঁচটি ভিন্ন আয়াতে এর বিরোধীদের কুরআনের মত কিছু তৈরী করতে আহ্বান করা হয়: "যদি এই কুরআনের অনুরূপ কুরআন রচনা করার জন্য মানুষ ও জ্বীন সমবেত হয় এবং তারা পরস্পরকে সাহায্য করে তবুও তারা এর অনুরূপ কুরআন রচনা করতে পারবেনা।"[৪০] নবম শতাব্দী থেকে অসংখ্য রচনা প্রকাশিত হয়েছে যাতে কুরআন ও এর শৈলী ও বিষয়বস্তু নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। আল জুরজানি (মৃত্যু ১০৭৮) ও আল বাকিলানি (মৃত্যু ১০১৩) সহ মধ্যযুগীয় মুসলিম পণ্ডিতেরা এই বিষয়ে লিখেছেন, এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কুরআন অধ্যয়নের জন্য ভাষাগত পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এছাড়াও অন্যরা বলেছেন যে কুরআনে মহৎ ধারণা আছে, অন্তর্নিহিত অর্থ আছে, এই গ্রন্থ যুগ যুগ ধরে এর সতেজতা বজায় রেখেছে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে এবং ইতিহাসে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। কিছু পণ্ডিত বলেন যে কুরআনে বৈজ্ঞানিক তথ্য আছে যা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কুরআনের অলৌকিকতার মতবাদ প্রমাণে মুহাম্মাদের নিরক্ষরতার উপর আরো জোর দেওয়া হয় যেহেতু নিরক্ষর মুহাম্মাদের পক্ষে এই গ্রন্থ রচনা মোটেই সম্ভব নয়।[৪১][৪২]

 
মোহাম্মদ মাসটি দেখায়। 16 শতক।

কিছু কবিদের কথাও কোরআনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হ'ল কবি ইমরুল কায়েস এর অভিব্যক্তি। , "কেয়ামত এসে গেছে এবং চাঁদ দু'ভাগ হয়ে গেছে।"[৪৩]

নামাজে কুরআন তেলাওয়াতসম্পাদনা

নামাজে বিশুদ্ধভাবে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা আবশ্যক। নামাজে কিরাআত তিলাওয়াতের বিষয়াবলী জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব। ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাআতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে সুরা মিলানো ওয়াজিব। কমপক্ষে তিন আয়াত বা তিন আয়াতের সমপরিমাণ বড় এক আয়াত তিলাওয়াত করতে হবে।

ইসলামী শিল্পকলায়সম্পাদনা

এছাড়াও কুরআন ইসলামী শিল্প ও বিশেষ করে তথাকথিত কুরআনী চারুলিপি ও চিত্রায়নের পদ্ধতিকে অনুপ্রাণিত করেছে।[৪৪] কুরআনে কখনোই চিত্র ব্যবহার করা হয়নি তবে অনেক কুরআনে পাতার প্রান্তে, সূরার মাঝখানে বা শুরুতে বিভিন্ন ধাঁচে অলঙ্করণ করে সজ্জিত করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থাপনা, মসজিদের বাতি, ধাতব বা মৃৎপাত্রে কুরআনের আয়াত মুদ্রিত হয়েছে।

পাঠ্য ও বিন্যাসসম্পাদনা

 
সূরা আল-ফাতিহা, কুরআন এর প্রথম সূরা।

কুরআনে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের মোট ১১৪টি সূরা রয়েছে। সকল সূরা মিলিয়ে মোট আয়াতের (আয়াত আরবি শব্দ, এর সাহিত্যিক অর্থ নিদর্শন) সংখ্যা ৬,২৩৬ টি।[৪৫] প্রত্যেকটি সূরার একটি নাম রয়েছে। নামকরণ বিভিন্ন উপায়ে করা হয়েছে; তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সূরার অভ্যন্তরে ব্যবহৃত কোনো শব্দকেই নাম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এমন নামও পাওয়া যায় যা সূরার অভ্যন্তরে ব্যবহৃত হয় নি যেমন সূরা ফাতিহা। ফাতিহা শব্দটি এ সূরার কোথাও নেই। সূরাগুলোর একটি সুনির্দিষ্ট সজ্জা রয়েছে। সজ্জাকরণ তাদের অবতরণের ধারাবাহিকতা অনুসারে করা হয় নি। বরং দেখা যায় অনেকটা বড় থেকে ছোট সূরা অনুযায়ী সাজানো। অবশ্য একথাও পুরোপুরি সঠিক নয়। সজ্জার প্রকৃত কারণ কারও জানা নেই। অনেক ক্ষেত্রে বড় সূরাও ছোট সূরার পরে এসেছে। তবে একটি সূরা বা তার বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ধারাবাহিকতার সাথেই অবতীর্ণ হয়েছিল বলে মুসলমানদের ধারণা। কুরআনের সজ্জাটি মানুষের মুখস্থকরণের সুবিধার সৃষ্টি করেছে।

হিজ্‌ব বা মানজিল হচ্ছে কুরআনের প্রথম সূরা (সূরা ফাতিহা) ব্যতীত অন্য সূরাগুলো নিয়ে করা একটি শ্রেণি। হিজ্‌ব মুফাস্‌সিল একটি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করা। এতে ৭টি মানজিলের মাধ্যমে সবগুলো সূরাকে একসাথে করা হয়েছে।[৪৬] মানজিলগুলো হচ্ছে:

  • মানজিল ১ = ৩ টি সূরা, যথা, ২—৪
  • মানজিল ২ = ৫ টি সূরা, যথা, ৫—৯
  • মানজিল ৩ = ৭ টি সূরা, যথা, ১০—১৬
  • মানজিল ৪ = ৯ টি সূরা, যথা, ১৭—২৫
  • মানজিল ৫ = ১১ টি সূরা, যথা, ২৬—৩৬
  • মানজিল ৬ = ১৩ টি সূরা, যথা, ৩৭—৪৯
  • মানজিল ৭ = ৬৫ টি সূরা, যথা, ৫০—১১৪

কুরআনে মোট ৩০ টি পারা বা অধ্যায় রয়েছে। ১১৪টি পূর্নাঙ্গ সূরা রয়েছে। সূরাগুলো বিভিন্ন আকারের হলেও কুরআনের পারাগুলো প্রায় সমান আকারের। কুরআন মুখস্থকরণের ক্ষেত্রে সাধারণতম পারা অনুযায়ী শিক্ষা করানো হয়। যে সকল স্থানে সমগ্র কুরআন পাঠের আয়োজন করা হয় সেখানেও এই পারা অনুযায়ী করা হয়।

বিষয়বস্তুসম্পাদনা

কুরআনের বিষয়বস্তু আল্লাহর অস্তিত্ব এবং পুনরুত্থান সহ মৌলিক ইসলামী বিশ্বাসসমূহ বর্ণনা করে। পূর্বের নবিগণের বিবরণ, নৈতিক ও আইনগত বিষয়, মুহাম্মাদের সময়ের ঐতিহাসিক ঘটনা, দানশীলতা ও নামাজের কাহিনীও কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। কুরআনের আয়াতে ঠিক-বেঠিক সম্পর্কে সাধারণ উপদেশ রয়েছে এবং এতে বর্ণিত ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো সাধারণ নৈতিক পাঠের রূপরেখা প্রদান করে। প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কিত আয়াতগুলোকে মুসলিমরা কুরআন এর বার্তার সত্যতার ইঙ্গিত হিসাবে ব্যাখ্যা করে।[৪৭]

 
সমান্তরাল গল্প; মোশি, যার নাম কুরআনে ১৩6 বার উল্লেখ করা হয়েছে, নীল নদ থেকে উদ্ধার পেয়েছিলেন।, Alma-Tadema.(Al-Qasas;7-9/Exodus1; 15-22) আক্কাদিয়ান রাজা, আক্কাদীয় সরগন সম্পর্কেও একইরকম গল্প বলা হয়েছিল।[৪৮]

পরলোকতত্ত্বসম্পাদনা

ইহুদি, খ্রিস্টান এবং ইসলামী চিন্তার ইতিহাসে andropomorphic (attribশ্বরকে মানুষের গুণাবলীর সাথে উল্লেখ করে) ভাষা ব্যবহার করা বা না করা তীব্র বিতর্কের বিষয় হয়েছে।আব্রাহামিক ধর্মের পবিত্র বইগুলিতে এমন উদাহরণ রয়েছে যা মানুষের মতো গুণাবলীর সাথে mentionশ্বরকে উল্লেখ করে এবং এমন কিছু বিবৃতিও রয়েছে যা তাকে জীবিত বস্তুর অনুরূপ থেকে বিভ্রান্ত করে। একটি সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে, এটা বলা যেতে পারে যে তানজীহের তুলনায় কুরআন এবং বাইবেলে বেশি উপমা আছে।[৪৯]

নবী এবং তাদের বই, যা কোরানে আল্লাহ পাঠিয়েছেন বলে বলা হয়েছে, তারা নিজেদেরকে অন্য দেবতাদের (যেমন যিহোবার) উপর নির্ভরশীল হিসেবে উপস্থাপন করে।[৫০] উদাহরণস্বরূপ, এলিয় একটি হিব্রু শব্দ যার অর্থ "আমার godশ্বর ইয়াহ (Yahweh)" .[৫১][৫২] কুরআনে, গ্যাব্রিয়েল এবং মাইকেলের মতো দেবদূতদের নাম অন্যান্য আব্রাহামিক ধর্মের মতো এল (বা ইল) এর সাথে যুক্ত।

একেশ্বরবাদসম্পাদনা

কুরআনের কেন্দ্রীয় ধারণা হলো একেশ্বরবাদ। আল্লাহ জীবন্ত, শাশ্বত, সর্বব্যাপী এবং সর্বশক্তিমান হিসেবে বর্ণিত (দেখুন কুরআন ২:২০, ২:২৯, ২:২৫৫)। আল্লাহর শক্তিমত্তা তার সৃষ্টির ক্ষমতায় সর্বোপরি আবির্ভূত হয়। তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর স্রষ্টা (দেখুন কুরআন ১৩:১৬, ২:২৫৩, ৫০:৩৮ ইত্যাদি)। কুরআন এর মতে আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ নির্ভরতার দিক দিয়ে সকল মানুষ সমান এবং এই সত্যকে স্বীকার করা ও তদনুযায়ী জীবন পরিচালনার মধ্যেই মানুষের কল্যাণ নিহিত।

কুরআনে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য বিভিন্ন আয়াতে সৃষ্টিতাত্ত্বিক যুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ,মহাবিশ্ব প্রবর্তিত হয়েছে সুতরাং এর একজন প্রবর্তক প্রয়োজন এবং যা কিছু বিদ্যমান, সবকিছুর অস্তিত্বের জন্যই একটি যথার্থ কারণ থাকতে হবে। এছাড়া, এক্ষেত্রে মহাবিশ্বের কথাও প্রায়ই উল্লেখ করা হয়েছে: "যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোন অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তুমি আবার দৃষ্টি ফিরাও, কোন ত্রুটি দেখতে পাও কি?"[৫৩][৫৪]

নবীগণসম্পাদনা

 
বালিকলিগোল, সানলিউরফা/তুরস্ক

উরফার একটি কিংবদন্তি অনুসারে, আব্রাহাম মূর্তিগুলি ভেঙেছিলেন এবং নিমরোদের সাথে তর্ক করেছিলেন। নিমরোদ একটি বড় ক্যাটপাল্ট বানিয়ে আগুন জ্বালাল। তারা আব্রাহামকে আগুনে নিক্ষেপ করার জন্য এই যন্ত্রটি ব্যবহার করেছিল, কিন্তু আব্রাহামের দেবতা আগুনকে পানিতে এবং 'জ্বলন্ত কাঠের টুকরো'কে একটি মাছের মধ্যে পরিণত করেছিলেন, সেই মুহূর্তে তিনি একটি আদেশ দিয়েছিলেন।[৫৫][৫৬] কুরআনে বিষয়টির বক্তব্য নিম্নরূপ; আমরা বললাম, "হে আগুন, ইব্রাহিমের জন্য শান্ত ও নিরাপদ থাক! (21:66-70)

 
নোহ এর জাহাজ, (Zubdetü't-Tevarih)।উদার পণ্ডিতদের মতে, গিলগামেশ বন্যার কল্পকাহিনী ব্যাবিলোনীয়দের কাছ থেকে ধার করা হয়েছিল এবং তাওরাত ও কুরআনে পুনরায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।[৫৭][৫৮][৫৯]
 
আইয়্যাব, (Léon Bonnat 1880), "মুয়াজ্জেজ আলমিয়া" অনুসারে আইয়্যাপের গল্পটি ছিল সুমেরীয় কিংবদন্তির তোরাত অভিযোজন।[৬০]

নৈতিকতাত্ত্বিক ধারণাসম্পাদনা

যুদ্ধে বন্দী মহিলাদের পরিস্থিতি ধর্মের দিক থেকে একটি সমালোচনামূলক বিষয়। কুরআনের প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুসারে, এই মহিলাগুলি অধিকারযুক্ত দাসত্ব রয়েছে। এই মহিলাগুলি অন্যের সাথে বিবাহিত হয় বা না তা বিবেচনায় নেওয়া হয় না এবং অন্য অধিকারী মহিলাদের মতো অধিকার অধিকারী (যোদ্ধা বা তাদের ক্রেতারা) তাদের সম্মতি ছাড়াই তাদের দেহের উপর যৌন আচরণ করতে পারে।(সূরা আল-মু'মিনূন;5-6)[৬১](দেখুন: যুদ্ধাপরাধ)

বিচার; (হত্যা ও জখম করার অপরাধের জন্য): কিসাস ছিল একটি প্রথা যা "উপজাতীয় সামাজিক ব্যবস্থায়" প্রতিশোধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং "সামাজিক সমতার" ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। খুন হওয়া ব্যক্তি কিনা, (পুরুষ, মহিলা, ক্রীতদাস, মুক্ত, অভিজাত বা সাধারণ) এর উপর নির্ভর করে হত্যাকারীর গোত্রের কাউকে (যা সামাজিকভাবে নিহত ব্যক্তির সমতুল্য) হত্যা করা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, একজন ক্রীতদাসের জন্য শুধুমাত্র একজন দাসকে হত্যা করা যেতে পারে, এবং একজন মহিলাকে একজন মহিলার জন্য হত্যা করা যেতে পারে[৬২] কিসাসে সামাজিক সমতার শর্তের অর্থ হল; "যদি কোন সামাজিকভাবে নিকৃষ্ট ব্যক্তি উচ্চ শ্রেণীর কাউকে হত্যা করে, তাহলে কিসাস প্রয়োগ করা হবে", যেখানে "যদি উচ্চ শ্রেণীর কেউ নিম্ন শ্রেণীর কাউকে হত্যা করে, তবে তা প্রয়োগ করা যাবে না"। এক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে।

কোরানে এসব অপরাধ সম্পর্কে বেশ কিছু কিসাস আয়াত আছে। যদিও খুনের অপরাধে প্রতিশোধ নেওয়া নিশ্চিত, (আয়াত অনুসারে "হে believeমানদারগণ! খুনের জন্য প্রতিশোধ নেওয়া আপনার জন্য নির্ধারিত; স্বাধীন পুরুষ, দাসের কাছে দাস, নারী মহিলার কাছে"। (2: 178) ), ক্ষতবিক্ষত অপরাধে পরিস্থিতি পরিষ্কার নয়। যেমন (একটি চোখের জন্য একটি চোখ, একটি দাঁতের জন্য একটি দাঁত, ইত্যাদি) শাস্তির জন্য, অভিব্যক্তি "এইভাবে আমরা তাদের (ইসরায়েল সন্তানদের) বইয়ে লিখেছিলাম", ব্যবহার করা হয়। (5: 45)

বিজ্ঞানের জন্য উৎসাহসম্পাদনা

 
পৃথিবী কেন্দ্রিক বা উপরের গ্রাউন্ড মহাবিশ্ব।C. Flammarion, Paris 1888,ধারণা করা হয় যে মহাবিশ্বকে কুরআনে পৃথিবী কেন্দ্রিক (উপরের স্থল) মহাবিশ্বের মডেল হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।[৬৩]

সাহিত্যিক গঠনসম্পাদনা

ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি সাহিত্য এবং ইসলাম শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ইসা বাউলাতা কুরআনের সাহিত্যিক গঠনপ্রণালি সম্বন্ধে নিম্ন প্রকারের মন্তব্য করেছেন।[৬৪]

কুরআনের ব্যাখ্যা কোরআন নিজেই দেয়।

ব্যাখ্যাসম্পাদনা

 
একটি মুদ্রা, মহান আলেকজান্ডার কে আমুন শিং দিয়ে মিশরের বিজয়ী হিসাবে চিত্রিত করছে। আলেকজান্ডারকে প্রাচীন মিশরে দেবতা আমুনের পুত্র হিসাবে বিবেচনা করা হত। অধিকাংশ কোরানের মতে ভাষ্যকারগণ, ধু আল-কার্নায়েন এর অর্থ আলেকজান্ডার।[৬৫]

কুরআনের আয়াতের অর্থ, ব্যাখ্যা এবং তাদের তাৎপর্য খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাষ্য প্রকাশিত হয়েছে যাকে তাফসীর বলা হয়। তাফসীর মুসলিমদের প্রাচীনতম কেতাবি কার্যক্রমগুলির একটি। কুরআন অনুসারে, মুহাম্মাদ প্রথম ব্যক্তি যিনি মুসলমানদের জন্য আয়াতের অর্থ বর্ণনা করেন।[৬৬] অন্যান্য প্রারম্ভিক দৃষ্টান্তের মধ্যে কয়েকজন সাহাবা যেমন আবু বকর, উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবন আফফান, আলী, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, উবাই ইবনে কাব, জায়েদ ইবনে সাবিত, আবু মুসা আশয়ারী এবং আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের[৬৭] সে সময় ব্যাখ্যা-পদ্ধতি, আয়াতের সাহিত্যিক দিকগুলির ব্যাখ্যা, এর শানে নুযূল এবং মাঝে মাঝে অন্য আয়াতের সাহায্যে কোনো আয়াতের ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। যদি আয়াতটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনা সম্বন্ধীয় হয়, তাহলে কখনও কখনও মুহাম্মাদ এর কিছু হাদিস বর্ণনা করে এর অর্থ স্পষ্ট করা হতো।[৬৮]

যেহেতু কুরআন ধ্রুপদী আরবী ভাষায় উচ্চারিত হয়, পরবর্তী ধর্মান্তরিতদের অনেকেই (অধিকাংশই অ-আরব) সবসময় কুরআন এর আরবি বুঝতো না, আরবী ভাষায় সাবলীল ব্যক্তির কাছে যেসব অভিব্যক্তি সুস্পষ্ট তা তারা বুঝতে সক্ষম ছিলো না। আরবী ভাষার ভাষ্যকাররা এই অভিব্যক্তিগুলো ব্যাখ্যা করেছেন এবং মুহাম্মাদের নবীত্বের শুরুতে কোন আয়াতগুলো প্রকাশিত হয়েছে, যা প্রাচীনতম মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য উপযুক্ত, এবং কোনগুলো পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়েছে তা চিহ্নিত করেছেন, এর ভিত্তিতে পুরাতন পাঠ্যগুলো (মানসুখ) বাতিল (নাসিখ) করা হয়েছে।[৬৯][৭০] তবে অন্যান্য কিছু আলেমগণ মনে করেন যে কুরআনের কোন আয়াত বাতিল করা হয়নি।[৭১]

বিভিন্ন আলেমদের দ্বারা কুরআনের বেশ কিছু ভাষ্য প্রকাশিত হয়েছে। জনপ্রিয় কয়েকটি হলো তাফসির ইবনে কাসির, তাফসির আল জালালাইন, তাফসির আল-তাবারি, তাফসির আল কবির। তাফসীরের আরো আধুনিক কাজ হলো মাআরিফুল কুরআন

গূঢ় ব্যাখ্যাসম্পাদনা

সুফি ধারাভাষ্যের ইতিহাসসম্পাদনা

অর্থের স্তরসম্পাদনা

পুনঃগ্রাসসম্পাদনা

অনুবাদসম্পাদনা

কুরআন অনুবাদ করা সবসময়ই সমস্যাজনক এবং জটিল বলে প্রমাণিত হয়েছে। অনেকে বলেন যে কুরআনের পাঠ্য অন্য ভাষায় রূপান্তর করা সম্ভব নয়।[৭২] উপরন্তু, প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একটি আরবি শব্দের বিভিন্ন অর্থ থাকতে পারে, যা একটি যথাযথ অনুবাদ প্রাপ্তির সম্ভাবনাকে আরো কঠিন করে তোলে।[৭৩]

তা সত্ত্বেও, কুরআন অধিকাংশ আফ্রিকান, এশীয় এবং ইউরোপীয় ভাষায় অনুবাদিত হয়েছে।[৪১] ইসলামের প্রথম যুগে, সপ্তম শতাব্দীতে, সালমান আল-ফারসি সূরা ফাতিহাকে ফারসি ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে সর্বপ্রথম কুরআন অনুবাদের সূচনা করেন।[৭৪] ইতোপূর্বে মুহাম্মাদ, আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশী বা নিগাস ও বাইজেন্টাইনের সম্রাট হিরাক্লিয়াসের নিকট পাঠানো চিঠিতে কুরআনের আংশিক অনুবাদ প্রেরণ করেন।[৭৩] হিন্দু রাজা মেহরুকের অনুরোধে আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আব্দুল আজিজের নির্দেশে ৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে আলওয়ারে (সিন্ধু, ভারত, বর্তমানে পাকিস্তান) ভারতীয় উপমহাদেশের অধিবাসীদের জন্য কুরআনের আরেকটি অনুবাদ সম্পন্ন হয়।[৭৫]

কুরআনের প্রথম সম্পূর্ণ অনুবাদ ফার্সি ভাষায় ১০ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। সামানি সম্রাট প্রথম মনসুরের শাসনামলে (৯৬১-৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ), তার উদ্যোগে, খোরাসানের একদল পণ্ডিত আরবী ভাষায় লিখিত তাফসির আল-তাবারী কে ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করেন। পরবর্তীতে একাদশ শতাব্দীতে আবু মনসুর আব্দুল্লাহ আল-আনসারির একজন ছাত্র ফার্সি ভাষায় কুরআনের একটি সম্পূর্ণ তাফসীর লেখেন। দ্বাদশ শতাব্দীতে, নাজম আল-দীন আবু হাফস আল-নাসাফি ফার্সি ভাষায় কুরআন অনুবাদ করেন। তিনটি বইয়ের পাণ্ডুলিপিই পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।

১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ১০২ টি ভাষায় কুরআন অনুবাদিত হয়েছিল।[৭৩] বর্তমানে পৃথিবীর প্রধান ভাষাগুলোর প্রায় সবগুলোতেই কুরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ রয়েছে। ২০১০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত ১৮তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রদর্শনীতে ১১২টি ভাষায় অনুবাদিত কুরআন উপস্থাপিত হয়।[৭৬]

১১৪৩ খ্রিস্টাব্দে পিটার দ্য ভেনারেবল এর জন্য লাতিন ভাষায় রবার্ট কেটন এর করা কুরআন এর অনুবাদটি পাশ্চাত্য ভাষায় কুরআন এর প্রথম অনুবাদ ছিল।[৭৭] ১৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি ভাষায় আন্দ্রে দু রায়ার এর অনুবাদটি ব্যবহার করে ১৬৪৯ খ্রিস্টাব্দে আলেকজানডার রস্‌ কুরআনের প্রথম ইংরেজী অনুবাদটি সম্পন্ন করেন। ১৭৩৪ সালে জর্জ সেল কুরআনের প্রথম পাণ্ডিত্যপূর্ণ অনুবাদ ইংরেজিতে প্রকাশ করেন; আরেকটি ১৯৩৭ সালে রিচার্ড বেল কর্তৃক এবং আরো একটি ১৯৫৫ সালে আর্থার জন আর্বেরি কর্তৃক প্রকাশিত হয়। এই সকল অনুবাদকেরাই অমুসলিম ছিলেন। মুসলিমদের দ্বারাও ইংরেজিতে কুরআন অনুবাদিত হয়েছে। আধুনিক ইংরেজিতে মুসলিম অনুবাদকদের প্রকাশিত কুরআন এর মধ্যে রয়েছে দ্য অক্সফোর্ড ওয়ার্ল্ড ক্লাসিক কর্তৃক প্রকাশিত মুহাম্মাদ আবদেল হালিম এর অনুবাদ, ড. মুস্তাফা খাত্তাব এর অনুবাদ দ্য ক্লিয়ার কুরআন, সহিহ ইন্টারন্যাশনাল অনুবাদ ইত্যাদি।

পাঞ্জাবের মোগা জেলায় কুরআন এর প্রাচীনতম গুরমুখী অনুবাদ পাওয়া গিয়েছে, যা ১৯১১ সালে মুদ্রিত হয়েছিল।[৭৮]

বাংলা ভাষায় কুরআনের প্রধান অনুবাদসমূহসম্পাদনা

প্রথম আংশিক কোরআনের অনুবাদক

প্রথম পূর্ণাঙ্গ কুরআনের অনুবাদক

পঠনসম্পাদনা

পঠনের নিয়মসম্পাদনা

কুরআনের যথাযথ তেলাওয়াত হলো তাজবিদ নামের একটি পৃথক শৃঙ্খলার বিষয় যা কীভাবে কুরআন তেলাওয়াত করা উচিত, প্রতিটি স্বতন্ত্র বর্ণনামূলক উচ্চারণ কীভাবে করা উচিত, যে স্থানে বিরতি থাকা উচিত সেখানে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন, উচ্চারণের ক্ষেত্রে যেখানে উচ্চারণটি দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত, যেখানে বর্ণগুলি এক সাথে শোনা উচিত এবং যেখানে সেগুলি পৃথক রাখা উচিত ইত্যাদি বিষয়গুলি বিশদভাবে নির্ধারণ করে। বলা যেতে পারে যে, এই অনুশাসনটি কুরআনের সঠিক তেলাওয়াতের আইন ও পদ্ধতিগুলি অধ্যয়ন করে এবং তিনটি মূল ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে: ব্যঞ্জনধ্বনি এবং স্বরধ্বনির যথাযথ উচ্চারণ (কুরআনীয় ধ্বনির উচ্চারণ), আবৃত্তিতে বিরতি দেওয়ার নিয়ম এবং পুনরায় শুরুকরণের নিয়ম, এবং আবৃত্তির বাদ্যযন্ত্র এবং সুমধুর বৈশিষ্ট্য।[৭৯]

কুরআনের ভুল তেলাওয়াত এড়াতে, তেলাওয়াতকারীরা একজন উপযুক্ত শিক্ষকের সাথে প্রশিক্ষণের একটি প্রোগ্রাম অনুসরণ করেন। তাজবিদ বিধিগুলির জন্য উল্লেখ হিসাবে ব্যবহৃত দুটি জনপ্রিয় গ্রন্থ হলো ইবনে আল-জাজারি রচিত মাতন আল-জাজারিয়াহ[৮০] এবং সুলায়মান আল জামজুরি রচিত তুহফাত আল-আতফাল।

এল মিনশাবি, আল-হুসারি, আবদুল বাসিত, মোস্তফা ইসমাইল এর মতো কয়েকজন মিশরীয় তেলাওয়াতকারীর তেলাওয়াত, তেলাওয়াতের বর্তমান শৈলীর বিকাশে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিল।[৮১][৮২][৮৩][৮৪]:৮৩ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিশ্ব-স্তরের তেলাওয়াতের জন্য সুপরিচিত, যা প্রমাণিত হয়েছে জাকার্তার মারিয়া উলফাহ এর মতো মহিলা তেলাওয়াতকারীদের জনপ্রিয়তায়।[৭৯]

তেলাওয়াত দুই প্রকার:

  1. মুরাত্তাল, যা ধীর গতিতে, অধ্যয়ন এবং অনুশীলনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
  2. মুজাওয়াদ, একটি ধীর তিলাওয়াতকে বোঝায় যা প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞদের দ্বারা জনসাধারণের পরিবেশনার মতো উচ্চতর প্রযুক্তিগত শৈল্পিকতা এবং সুরেলা মড্যুলেশন স্থাপন করে।[৮৫]

বৈকল্পিক পাঠসম্পাদনা

লিখন ও মুদ্রণসম্পাদনা

লিখনসম্পাদনা

১৯ শতকে ব্যাপকভাবে মুদ্রণ প্রচলিত হওয়ার পূর্বে, কুরআন ক্যালিগ্রাফার ও অনুলিপিকারীদের তৈরিকৃত অনুলিপির মাধ্যমেই হস্তান্তরিত হতো। প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিগুলো হেজাজি লিপিতে লেখা হয়েছিল। হেজাজি শৈলীর পাণ্ডুলিপি অন্তত এটা নিশ্চিত করে যে লিখিতভাবে কোরআন এর প্রসার প্রাথমিক পর্যায়েই শুরু হয়েছিল। সম্ভবত নবম শতাব্দীতে, লেখাগুলোতে পুরু রেখার ব্যবহার শুরু হয়, যা ঐতিহ্যগতভাবে কুফিক লিপি নামে পরিচিত। নবম শতাব্দীর শেষের দিকে, কুরআনের অনুলিপিগুলোতে নতুন ধরণের লিপি আবির্ভূত হতে শুরু করে যা পূর্ববর্তী লিপিকে প্রতিস্থাপন করে। পূর্ববর্তী শৈলীর ব্যবহার বন্ধ করার কারণ ছিল যে, ঐ পদ্ধতিতে অনুলিপি তৈরী করতে অনেক সময় লাগতো কিন্তু সেসময় অনুলিপির চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছিল। অনুলিপিকারীরা তাই লেখার সহজ শৈলীটিই বেছে নেয়। একাদশ শতাব্দী থেকে শুরু করে, ব্যবহৃত শৈলী ছিল প্রাথমিকভাবে নাসখ, মুহাক্কাক, রায়হানি এবং কিছু বিরল ক্ষেত্রে সুলুস লিপি। নাসখ খুব ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। উত্তর আফ্রিকা এবং ইবেরিয়াতে, মাগরিবি শৈলী অধিক জনপ্রিয় ছিল। আরো স্বতন্ত্র হলো বিহারী লিপি যা শুধুমাত্র ভারতের উত্তরাঞ্চলেই ব্যবহৃত হয়েছিল। নাস্তালিক শৈলী ফার্সি বিশ্বে খুব কমই ব্যবহৃত হয়।[৮৬][৮৭]

শুরুতে, কুরআন বিন্দু বা হরকত সহ লেখা হতো না। এই বৈশিষ্ট্য সর্বশেষ সাহাবাহদের জীবদ্দশার শেষ পর্যায়ে যোগ করা হয়। যেহেতু অধিকাংশ মুসলিমদের জন্যই পাণ্ডুলিপি কেনা খুবই ব্যয়বহুল ছিল, তাই কুরআনের কপিগুলো মসজিদে রাখা হতো যাতে তা জনগণের কাছে সুলভ হয়। উৎপাদনশীলতার দিক থেকে, উসমানীয় অনুলিপিকারীরাই সর্বোত্তম নিদর্শন তৈরী করে। এর কারণ ছিল ব্যাপক চাহিদা, মুদ্রণ পদ্ধতির অজনপ্রিয়তা এবং নান্দনিকতা।[৮৮][৮৯]

মুদ্রণসম্পাদনা

সমালোচনাসম্পাদনা

অন্যান্য সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্কসম্পাদনা

 
কুরআনের অলৌকিকতার প্রমাণ হিসাবে দেখানো আয়াতগুলির মধ্যে;মেরি, যার জন্ম নিকটে, তাজা তারিখের ফলের জন্য গাছকে কাঁপায়, থিমটি "লিয়ার-ম্যাথু বাইবেল" থেকে নেওয়া হয়েছে.[৯০]
 
ইউনুস এবং মাছ, ইসলামিক ক্ষুদ্রাকৃতি। "ইউনুসের বই" অনুসারে, ইউনূস, যিনি ভূমধ্যসাগরে জাহাজ থেকে নিক্ষেপ করেছিলেন এবং মাছ দ্বারা গিলে ফেলেছিলেন এবং কয়েক দিন সেখানে ছিলেন, তাকে "টাইগ্রিস" এর প্রান্তে, নিনেভে তীরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। খ্রিস্টধর্মে শিক্ষার উদ্দেশ্যে (মিড্র্যাশ) ব্যবহৃত কিংবদন্তি কোরানেও তার স্থান খুঁজে পায়।

কিছু অমুসলিম দল যেমন বাহাই এবং দ্রুজরা কোরআনকে পবিত্র মনে করে। একেশ্বর সার্বজনীনবাদীরাও কুরআন থেকে অনুপ্রেরণা চাইতে পারেন। কুরআনের সাথে ডায়াতেসারন, জেমসের প্রোটোয়েভেঞ্জেলিয়াম, ইনফ্যান্সি গসপেল অব থমাস, স্যুডো-ম্যাথিউ গসপেল এবং আরবী ইনফ্যান্সি গসপেলের সাথে কিছু আখ্যানের মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।[৯১][৯২][৯৩] একজন পণ্ডিত পরামর্শ দিয়েছেন যে একটি গসপেল হারমনি হিসেবে ডায়াতেসারনকে ক্রিশ্চিয়ান গসপেলের একটি পাঠ্য হিসেবে ধারণা করা হয়েছে।[৯৪]

বাইবেলসম্পাদনা

তিনি সত্যসহ তোমার প্রতি গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন, যা পূর্ববর্তী বিষয়ের সত্যতা প্রতিপাদনকারী। এবং এর পূর্বে তাওরাত ও ইঞ্জীল অবতীর্ণ করেছিলেন।[৯৫]

কুরআনে পূর্বের কিতাবগুলোর (তওরাত ও ইঞ্জিল) সাথে তার সম্পর্ককে তাদের অনন্য উৎপত্তি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে এগুলো সবই এক আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ হয়েছে।[৯৬]

ক্রিস্টোফ লাক্সেনবার্গের (দ্য সিরো-আরামাইক রিডিং অব দ্য কোরান বইয়ে) মতে কুরআনের ভাষা সিরিয়াক ভাষার অনুরূপ ছিল। কুরআনে ইহুদী ও খ্রিস্টানদের পবিত্র বই (তানাক, বাইবেল) এবং ভক্তিমূলক সাহিত্যে বর্ণিত অনেক মানুষের কাহিনী এবং ঘটনার বর্ণনা রয়েছে, যদিও এর বিস্তারিত বিবরণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।[৯৭] অ্যাডাম, এনোচ, নূহ, ইবার, শেলা, অব্রাহাম, লূত, ইসমাইল, ইস্ হাক, যাকোব, যোষেফ, জেথ্রো, দায়ূদ, শলোমন, এলিয়, ইলীশায়, যোনা, হারোণ, মোশি, জাকারিয়া, বাপ্তিস্মদাতা ও যীশুকে ঈশ্বরের নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বস্তুত, কুরআনে অন্য যে কোন ব্যক্তির তুলনায় মূসাকে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।[৯৮] ঈসাকে মুহাম্মদ (সাঃ) এর চেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয় (মুহাম্মদ নামকে প্রায়ই "নবী" বা "রসূল" বলে উল্লেখ করা হয়), অন্যদিকে মরিয়মকে নতুন টেস্টামেন্টের চেয়ে কুরআনে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।[৯৯]

আরও দেখুনসম্পাদনা

টীকাসম্পাদনা

  • ^[টী১] সাহিত্যিক আরবি উচ্চারণ আঞ্চলিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে থাকে। প্রথম স্বরের শব্দ "ও" বা "উ" হতে পারে, আর দ্বিতীয় স্বরের শব্দ "অ্যা" বা "আ" হতে পারে। উদাহরণে : মিশরে উচ্চারণ হবে "কোর'আন" আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে উচ্চারণ হবে "কুর'অ্যান"।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Nasr, Seyyed Hossein (২০০৭)। "Qurʼān"Encyclopædia Britannica Online। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-১১-০৪ 
  2. Margot Patterson, Islam Considered: A Christian View, ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩১ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে Liturgical Press, 2008 p.10.
  3. Mir Sajjad Ali, Zainab Rahman, Islam and Indian Muslims, Guan Publishing House 2010 p.24, citing N. J. Dawood's judgement.
  4. Alan Jones, The Koran, London 1994, আইএসবিএন ১৮৪২১২৬০৯১, opening page.

    "Its outstanding literary merit should also be noted: it is by far, the finest work of Arabic prose in existence."

  5. Arthur Arberry, The Koran Interpreted, London 1956, আইএসবিএন ০৬৮৪৮২৫০৭৪, p. 191.

    "It may be affirmed that within the literature of the Arabs, wide and fecund as it is both in poetry and in elevated prose, there is nothing to compare with it."

  6. Lambert, Gray (২০১৩)। The Leaders Are Coming!। WestBow Press। পৃষ্ঠা 287। আইএসবিএন 9781449760137। ৩ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  7. Roy H. Williams; Michael R. Drew (২০১২)। Pendulum: How Past Generations Shape Our Present and Predict Our Future। Vanguard Press। পৃষ্ঠা 143। আইএসবিএন 9781593157067। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  8. *Chronology of Prophetic Events, Fazlur Rehman Shaikh (2001) p. 50 Ta-Ha Publishers Ltd. *Quran 17:105 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৫ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে
  9. Living Religions: An Encyclopaedia of the World's Faiths, Mary Pat Fisher, 1997, page 338, I.B. Tauris Publishers.
  10. কুরআন ১৭:১০৬
  11. Peters, F.E. (২০০৩)। The Words and Will of GodPrinceton University Press। পৃষ্ঠা 12–13। আইএসবিএন 978-0-691-11461-3 
  12. Brannon M. Wheeler (১৮ জুন ২০০২)। Prophets in the Quran: An Introduction to the Quran and Muslim Exegesis। A&C Black। পৃষ্ঠা 2। আইএসবিএন 978-0-8264-4957-3। ৩ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  13. Chejne, A. (1969) The Arabic Language: Its Role in History, University of Minnesota Press, Minneapolis.
  14. Nelson, K. (1985) The Art of Reciting the Quran, University of Texas Press, Austin
  15. Speicher, K. (1997) in: Edzard, L., and Szyska, C. (eds.) Encounters of Words and Texts: Intercultural Studies in Honor of Stefan Wild. Georg Olms, Hildesheim, pp. 43–66.
  16. Taji-Farouki, S. (ed.) (2004) Modern Muslim Intellectuals and the Quran, Oxford University Press, Oxford
  17. "আয়াতের ৪নং শব্দের অর্থ (ইংরেজিতে) | আয়াতে کِتٰبِ শব্দ না থাকায় এই শব্দের বাংলা অর্থ "এই উপদেশ গ্রন্থ" নয়"www.qurapp.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-২০ 
  18. "(ইংরেজি ভাষায়) সূরা হিজর এর ৯নং আয়াতের শাব্দিক বিশ্লেষণ। Analysis of the words of verse number 9 of Surah Al-Hijr | QuranX.com"quranx.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-২০ 
  19. "আয়াতের الْكِتَابِ শব্দের অর্থ (২;২৩১) [ইংরেজিতে] الْ → এই (The)"https://www.qurapp.com/#!/word/2:231/34/। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-০৪  |ওয়েবসাইট= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  20. "আয়াতের وَالْحِكْمَةِ শব্দের অর্থ (২;২৩১) [ইংরেজিতে]"www.qurapp.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-০৪ 
  21. "সূরা আল বাকারা, আয়াত 231, শব্দের অর্থ সহ | 2:231 البقرة - Quran O"qurano.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-০৪ 
  22. Seiglie, Mario (৩ জুন ১৯৯৭)। "The Bible and Archaeology: The Red Sea or the Reed Sea?"The Good NewsUnited Church of God। ১৫ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  23. http://archive.wikiwix.com/cache/index2.php?url=http%3A%2F%2Fba.21.free.fr%2Fseptuaginta%2Fexode%2Fexode_13.html
  24. Slackman, Michael (3 April 2007). "Did the Red Sea Part? No Evidence, Archaeologists Say". The New York Times. Retrieved 27 October 2016.
  25. BYU Studies, vol. 40, number 4, 2001. Page 52
  26. মাআরিফুল কুরআনের বাংলা অনুবাদ।
  27. Yuya's titles included "Overseer of the Cattle of Amun and Min (Lord of Akhmin) "," Bearer of the Ring of the King of Lower Egypt "," Mouth of the King of Upper Egypt ", and" The Holy Father of the Lord of the Two Lands ", among others. For more see: Osman, A. (1987). "Stranger in the Valley of the Kings: solving the mystery of an ancient Egyptian mummy". San Francisco: Harper & Row. pp.29-30
  28. "আল-ইহকাম, আল-আমিদি"। ২৮ মে ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১০ 
  29. Hughes, Thomas Patrick (১৮৮৫)। A Dictionary of Islam: Being a Cyclopædia of the Doctrines, Rites, Ceremonies, and Customs, Together with the Technical and Theological Terms, of the Muhammadan Religion (ইংরেজি ভাষায়)। W.H. Allen। পৃষ্ঠা ৪৯। 
  30. Ṭabāṭabāʼī, Muḥammad Ḥusayn,। The Qurʼan in Islam : its impact and influence on the life of Muslims। London। আইএসবিএন 0-7103-0265-7ওসিএলসি 59243765। ২৩ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২১ 
  31. Ṭabāṭabāʼī, Muḥammad Ḥusayn,। The Qurʼan in Islam : its impact and influence on the life of Muslims। London। পৃষ্ঠা ৩১–৫১। আইএসবিএন 0-7103-0265-7ওসিএলসি 59243765। ২৩ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২১ 
  32. The Cambridge history of Islam। Holt, P. M. (Peter Malcolm),, Lambton, Ann K. S., 1912-2008,, Lewis, Bernard, 1916-2018,। Cambridge [England]: Cambridge University Press। ১৯৭৭। পৃষ্ঠা ৩২। আইএসবিএন 0-521-29135-6ওসিএলসি 3549123। ২৩ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২১ 
  33. The Cambridge history of Islam। Holt, P. M. (Peter Malcolm),, Lambton, Ann K. S., 1912-2008,, Lewis, Bernard, 1916-2018,। Cambridge [England]: Cambridge University Press। ১৯৭৭। আইএসবিএন 0-521-29135-6ওসিএলসি 3549123। ২৩ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২১ 
  34. Universiti Sultan Azlan Shah, Perak, Malaysia; Roslan, Abdul-Rahim (২০১৭-১২-০১)। "Demythologizing the Qur'an Rethinking Revelation Through Naskh al-Qur'an" (PDF)Global Journal Al Thaqafah7 (2): 51–78। আইএসএসএন 2232-0474ডিওআই:10.7187/GJAT122017-2  
  35. ইতকান(পৃষ্ঠা-৭৯),১ম খন্ড,জালালুদ্দিন সুয়ুতি
  36. "Sahih Bukhari : Book of "Virues of Al-Quran""www.sahih-bukhari.com। ২০১৬-০২-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২৩ 
  37. Tabatabai, Sayyid M. H. (১৯৮৭)। The Qurơan in Islam : its impact and influence on the life of Muslims। Internet Archive। London : Zahra। আইএসবিএন 978-0710302663 
  38. ইতকান(পৃষ্ঠা-৮০),১ম খন্ড,জালালুদ্দিন সুয়ুতি
  39. Rippin, Andrew (২০০৬)। The Blackwell companion to the Qurʼan। Internet Archive। Malden, Mass. : Blackwell Pub.। 
  40. "Surah Al-Isra - 17:88"quran.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-৩১ 
  41. Leaman, Oliver (২০০৬)। The Qur'an: an Encyclopedia । New York: Routledge। আইএসবিএন 978-0-415-32639-1 
    • For God in the Quran (Allah), see "Allah," by Zeki Saritoprak, pp. 33–40.
    • For eschatology, see "Eschatology," by Zeki Saritoprak, pp. 194–99.
    • For searching the Arabic text on the internet and writing, see "Cyberspace and the Qur'an," by Andrew Rippin, pp. 159–63.
    • For calligraphy, see by "Calligraphy and the Qur'an" by Oliver Leaman, pp. 130–35.
    • For translation, see "Translation and the Qur'an," by Afnan Fatani, pp. 657–69.
    • For recitation, see "Art and the Qur'an" by Tamara Sonn, pp. 71–81; and "Reading," by Stefan Wild, pp. 532–35.
  42. Vasalou, Sophia (2002-10)। "The Miraculous Eloquence of the Qur'an: General Trajectories and Individual Approaches"Journal of Qur'anic Studies4 (2): 23–53। আইএসএসএন 1465-3591ডিওআই:10.3366/jqs.2002.4.2.23। সংগ্রহের তারিখ 2021-01-31  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  43. https://www.islamic-awareness.org/quran/sources/bbqais
  44. Akerman, Iain; Akerman, Iain। "Arabic calligraphy: Ancient craft, modern art"www.arabnews.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-২৩ 
  45. Sydney Nettleton Fisher, The Middle East: a history, p.55
  46. Jaffer, Abbas (২০০৯)। An introduction to Qurʼanic sciences = ʻUlūm al-Qurʼan (ইংরেজি ভাষায়)। ICAS Press। পৃষ্ঠা 16। আইএসবিএন 9781904063308 
  47. Saeed, Abdullah. (২০০৮)। The Qurʼan : an introduction। London: Routhledge। পৃষ্ঠা ৬২। আইএসবিএন 978-0-415-42124-9ওসিএলসি 145431783। ২৩ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২১ 
  48. Otto Rank (1914). The myth of the birth of the hero: a psychological interpretation of mythology
  49. http://www.tlck.org.tr/wp-content/uploads/2015/04/III_TLCK_2._kitap_BASKI.pdf
  50. "মূল হিব্রু গ্রন্থগুলি YHVH 6,828 বার ব্যবহার করে। " Wilhelm Gesenius (Hrsg.): Hebräisches und Aramäisches Handwörterbuch über das Alte Testament. Zweite Teillieferung. 18. Auflage. Springer, 1995, ISBN 3-540-58048-4, S. 446.
  51. New Bible Dictionary. 1982 (second edition). Tyndale Press, Wheaton, IL, USA. ISBN 0-8423-4667-8, p. 319
  52. টেমপ্লেট:Kitap kaynağı entry "Elijah"
  53. "Surah Al-Mulk - 67:3"quran.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-২৬ 
  54. The Qurʼan : an encyclopedia। Leaman, Oliver, 1950-। London: Routledge। ২০০৬। পৃষ্ঠা ৩৩–৪০। আইএসবিএন 0-203-17644-8ওসিএলসি 68963889 
  55. https://www.kulturportali.gov.tr/turkiye/sanliurfa/gezilecekyer/balikligol
  56. https://www.hurriyet.com.tr/seyahat/galeri-asirlardir-dilden-dile-aktarilan-balikligol-efsanesi-sanliurfa-40423052/19
  57. http://sssjournal.com/DergiTamDetay.aspx?ID=811&Detay=Ozet
  58. https://dergipark.org.tr/tr/download/article-file/557354
  59. https://www.icr.org/article/noah-flood-gilgamesh/
  60. M.İlmiye Çığ. İbrahim Peygamber s. 19.
  61. https://sorularlaislamiyet.com/cariye-ne-demektir-ve-cariyeler-ile-cinsel-iliski-gunah-midir-0
  62. https://www.academia.edu/6708946/KADIN_BAKI%C5%9E_A%C3%87ISIYLA_KURANI_YEN%C4%B0DEN_OKUMA_DENEMES%C4%B0_-AM%C4%B0NA_WEDUD-KURAN_VE_KADIN
  63. https://web.archive.org/web/20150712102135/http://wikiislam.net/wiki/The_Geocentric_Qur'an
  64. ইসা বাউলাতা, Literary Structure of Qur'an, এনসাইক্লোপিডিয়া অফ দ্য কুরআন, vol.3 p.192, 204
  65. http://turkoloji.cu.edu.tr/mine_mengi_sempozyum/ismail_avci_iskenderi_zulkarneyn_ve_hizir.pdf
  66. "Surah Al-Baqarah - 2:151"quran.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-৩১ 
  67. الحوري, محمد رضا حسن (২০১৮)। "آيات الاستفهام المتكرر في القرآن الكريم : دراسة بلاغية"دراسات - علوم الشريعة والقانون: ৫২৫। ডিওআই:10.35516/0272-045-002-006 
  68. "Tafsir Al-Mizan - Allamah Muhammad Hussein Tabatabai"almizan.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-৩১ 
  69. "How can there be abrogation in the Quran?"web.archive.org। ২০০৮-০৬-০৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-৩১ 
  70. "Are the verses of the Qur'an Abrogated and/or Subtituted?"web.archive.org। ২০০৮-০৫-০১। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-৩১ 
  71. "Monthly Renaissance - Content"www.monthly-renaissance.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-৩১ 
  72. Aslan, Reza (২০০৮-১১-২০)। "A new translation of the Quran."Slate Magazine (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-০১ 
  73. The Qurʼan : an encyclopedia। Internet Archive। London ; New York : Routledge। ২০০৬। পৃষ্ঠা ৬৫৭–৬৯। আইএসবিএন 978-0-415-32639-1 
  74. An-Nawawi, Al-Majmu', (Cairo, Matba‘at at-Tadamun n.d.), পৃ.৩৮০.
  75. "English Translations of the Quran » Crescent"web.archive.org। ২০১৪-০৪-২৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-০১ 
  76. "More than 300 publishers visit Quran exhibition in Iran"Hürriyet Daily News and Economic Review। ১২ আগস্ট ২০১০। 
  77. Bloom, Jonathan; Blair, Sheila (২০০২)। Islam: A Thousand Years of Faith and Power । New Haven: Yale University Press। পৃষ্ঠা 42 
  78. Service, Tribune News। "Gurmukhi translation of Quran traced to Moga village"Tribuneindia News Service (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-০১ 
  79. Leaman, Oliver, ed. 2006. The Qur'an: an Encyclopedia. New York: Routledge. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-৩২৬৩৯-১:
    • "Art and the Qur'an" by Tamara Sonn, pp. 71–81;
    • "Reading," by Stefan Wild, pp. 532–35.
  80. Thānawi, Qāri Izhār (২১ জানুয়ারি ২০১৯)। "The Great Imām of Qirā'ah: Muhammad Ibn al-Jazari"IlmGate। ২৮ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  81. Taha Shoeb (২ ফেব্রু ২০১৮)। "Khalaf from Hamzah – A look at the features of recitation of al-Qur'an by Shahzada Husain Bhaisaheb"thedawoodibohras.com। ১৯ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  82. Ejaz Taj (৬ সেপ্টে ২০১৮)। "A Meeting with the Egyptian Giants, al-Minshāwī, al-Huṣrī, Muṣṭafā Ismāʿīl and ʿAbdul-Bāsit ʿAbdus-Ṣamad"islam21c.com। ১৮ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২০ 
  83. "Best Quran Recitation Competition for Students Planned in Egypt"iqna.ir। ৪ মে ২০২০। ১৯ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  84. Frishkopf, Michael (২৮ ডিসে ২০০৯)। "Mediated Qur'anic Recitation and the Contestation of Islam in Contemporary Egypt"। Nooshin, Laundan। In Music and Play of Power in the Middle East (ইংরেজি ভাষায়)। London: Routledge। আইএসবিএন 978-0754634577। ১৯ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা – pdfslide.net-এর মাধ্যমে। 
  85. Nelson, Kristina (২০০১)। The art of reciting the Qur'an (New সংস্করণ)। Cairo [u.a.]: American Univ. in Cairo Press। আইএসবিএন 978-9774245947 
  86. The Blackwell companion to the Qurʼān। Rippin, Andrew, 1950-2016.। Malden, Mass.: Blackwell Pub। ২০০৬। পৃষ্ঠা ১৭২–৮৭। আইএসবিএন 978-1-4051-1752-4ওসিএলসি 61303476 
  87. Islam : essays on scripture, thought, and society : a festschrift in honour of Anthony H. Johns। Riddell, Peter G., Street, Tony., Johns, Anthony H. (Anthony Hearle)। Leiden: Brill। ১৯৯৭। পৃষ্ঠা ১৭০–৭৪। আইএসবিএন 90-04-10692-8ওসিএলসি 36438935 
  88. Faroqhi, Suraiya, 1941- (২০০৫)। Subjects of the Sultan : culture and daily life in the Ottoman Empire (New ed সংস্করণ)। London: I.B. Tauris। পৃষ্ঠা ১৩৪–৩৬। আইএসবিএন 1-85043-760-2ওসিএলসি 59356203 
  89. Faroqhi, Suraiya, 1941- (২০০৫)। Subjects of the Sultan : culture and daily life in the Ottoman Empire (New ed সংস্করণ)। London: I.B. Tauris। পৃষ্ঠা ১১১–১২। আইএসবিএন 1-85043-760-2ওসিএলসি 59356203 
  90. Leirvik 2010, pp. 33–34.
  91. Griffith, Signey. 2008. "Christian Lore and the Arabic Qur'an." In The Qurʼān in its Historical Context, edited by G. S. Reynolds. Psychology Press. p. 112.
  92. Ben-Chanan, Ami. 2011. Qur'an-Bible Comparison: A Topical Study of the Two Most Influential and Respectful Books in Western and Middle Eastern Civilizations. Trafford Publishing. pp. 197–98.
  93. New Catholic Encyclopaedia 7. Washington DC: The Catholic University of America. 1967. p. 677.
  94. Ibn Rawandi. 2002. "On pre-Islamic Christian strophic poetical texts in the Koran." In What the Koran Really Says: Language, Text and Commentary, edited by Ibn Warraq. Prometheus Books. আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৭৩৯২-৯৪৫-৫
  95. 3:3 نزل عليك الكتاب بالحق مصدقا لما بين يديه وانزل التوراة والانجيل
  96. কুরআন ২:২৮৫
  97. Luxenberg, Christoph (২০০৭)। The Syro-Aramaic reading of the Koran : a contribution to the decoding of the language of the Koran। Berlin: H.Schiler। আইএসবিএন 978-3899300888 
  98. Annabel Keeler, "Moses from a Muslim Perspective", in: Solomon, Norman; Harries, Richard; Winter, Tim (eds.), Abraham's children: Jews, Christians and Muslims in conversation, T&T Clark Publ. (2005), pp. 55–66.
  99. Esposito, John L. 2010. The Future of Islam. US: Oxford University Press. আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫১৬৫২১-০. p. 40. [[iarchive:futureofislam0000espo/page/40|]]

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

অনুবাদসমূহসম্পাদনা

তথ্যানুসন্ধানসম্পাদনা

  • quran.gov.bd গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রনয়নকৃত কুরআন ওয়েবসাইট