নামাজ

মুসলিমদের প্রধান ইবাদাত

নামাজ/নামায বা সালাত বা সালাহ ইসলাম ধর্মের একটি দৈনিক নিয়মিত ইবাদত। একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করতে হয় যা কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত আছে। এটি মুসলমানদের জন্য প্রতিদিন অবশ্যকরণীয় একটি ধর্মীয় কাজ। তবে প্রতিদিন আবশ্যকরণীয় বা ফরজ ছাড়াও বিবিধ নামাজ রয়েছে যা সময়ভিত্তিক বা বিষয়ভিত্তিক।

বাংলাদেশের একটি মসজিদে মুসলমান পুরুষদের নামাজের দৃশ্য।

সালাত একটি সুনির্দিষ্ট প্রকৃতির ইবাদত যার পদ্ধতি ‘ইসলামী শরী‘আতে পরিপূর্ণভাবে বর্ণিত হয়েছে। নামাজ ‘তাকবিরে তাহরিমা’ দ্বারা শুরু হয় ও ‘সালাম ফিরানো’ দ্বারা শেষ হয়’।[১]

নামাজ (সালাত) ইসলামের পাঁচটি রোকনের মধ্যে দ্বিতীয় রোকন৷ নামাজ প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধি-জ্ঞান সম্পন্ন, নারী পুরুষ নির্বিশেষে, প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ বা অবশ্যকরণীয়।

শব্দতত্ত্বসম্পাদনা

সালাত বা সালাহ (আরবি: الصلوة‎‎ আস-স্বলাহ্, আস-স্বলাত্, আরবি: ٱلصَّلَوَات‎‎ আস-সালাওয়াত, অর্থ "প্রার্থনা", "দোয়া" বা "প্রশংসা"[২]) -এর আভিধানিক অর্থ দোয়া, রহমত, ক্ষমা প্রার্থনা করা[৩] ইত্যাদি। কোরআনে ইসলামী আনুষ্ঠানিক প্রার্থনা হিসেবে সালাত শব্দটিকেই ব্যবহার করা হয়েছে। আরবি ভাষায় অন্যান্য ধর্মেও এবং ধর্মনিরপেক্ষভাবে প্রার্থনা বা উপাসনা বোঝাতে সালাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

নামাজ (ফার্সি: نماز‎‎) শব্দটি প্রাচীন ইরান বা পারস্যে প্রচলিত ইন্দো-ইরানীয় আদি আর্য ধাতুমূল নমস্ (নমস্কারও একই ধাতুমূল হতে উদ্ভূত) থেকে[৪] ইসলাম পরবতী মধ্যযুগীয় পারস্য বা ইরানে ইসলাম ধর্মের প্রসারের ফলে নিকটবর্তী আরব উপদ্বীপের আরব্য উচ্চারণশৈলীতে বিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়ে ফার্সি ভাষায় প্রবেশকৃত একটি ইসলামী পারিভাষিক শব্দ যা ইসলামী সালাতকে বোঝাতেই মুসলিম ফার্সি সাহিত্যে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে, এবং কালক্রমে মোগল আমলে ব্যবহারক্রমে বাংলা ভাষায় পরিগৃহীত হয়েছে। আরবি ভাষার সালাত শব্দের (আরবি: صلاة‎‎, কুরআনিক আরবি:صلاة,) ফারসি প্রতিশব্দ নামাজ, যা প্রায় বিগত এক হাজার বছর ধরে ইরানি ও তুর্কি মুসলিম শাসক ও ধর্মপ্রচারকদের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য ভাষার সাথে সাথে বাংলা ভাষাতেও ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। তুর্কিকস্লাভীয় ভাষাতেও নামাজ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

লাকআভার ভাষাতে, চাক (чак) ও কাক (как) ব্যবহৃত হয়, সালাতের প্রতিশব্দ হিসেবে। মালয়শিয়ায়ইন্দোনেশিয়ায়, সোলাত পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়, পাশাপাশি স্থানীয় পরিভাষা, সেমবাহহ্যায়াং ও ব্যবহৃত হয় (অর্থ "the উপাসনাকর্ম", সেমবাহ - উপাসনা, ও হ্যায়াং - ঈশ্বর বা দেবতা - শব্দ দুটি থেকে)।[৫]

ইতিহাসসম্পাদনা

ইসলামের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী মুহাম্মাদ (সা.) ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন এবং অব্যবহিত পরে সূরা মু’মিন-এর ৫৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে সকাল ও সন্ধ্যায় দৈনিক দুই ওয়াক্ত নামাজ মুসলিমদের জন্য ফরজ (আবশ্যিক) হওয়ার নির্দেশনা লাভ করেন। তিনি ৬১৪ খ্রিষ্টাব্দে সকাল, সন্ধ্যা ও দুপুরে দৈনিক তিন ওয়াক্ত নামাজের আদেশ লাভ করেন। ৬১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে রজব তারিখে মিরাজের সময় পাঁচওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। উল্লেখ্য যে, এ সময় যুহর, আসরইশা ২ রাকাত পড়ার বিধান ছিল। ৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে আল্লাহর তরফ থেকে ২ রাকাত বিশিষ্ট যুহর, আসর ও ইশাকে ৪ রাকাতে উন্নীত করার আদেশ দেয়া হয়।[৬]

শর্তসম্পাদনা

কারো উপর নামাজ ফর‌জ বা অবশ্যকরণীয় হওয়ার জন্য শর্তগুলো হলো:–

নিম্নের পাঁচটি কারণ সংঘটিত হলে নামাজ বৈধ হয়।[৭]

  • নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হলে। অনিশ্চিত হলে নামাজ হবে না, যদি তা ঠিক ওয়াক্তেও হয়।
  • কাবামুখী হয়ে দাঁড়ানো। তবে অসুস্থ এবং অপারগ ব্যক্তির জন্য এই শর্ত শিথিলযোগ্য।
  • সতর ঢাকা থাকতে হবে। পুরুষের সতর হল নাভির উপর থেকে হাঁটুর নিচ (টাখনুর উপরে) পর্যন্ত, আর নারীর সতর হল মুখমণ্ডল, দুই হাতের কব্জি ও দুই পায়ের পাতা ব্যতীত সারা শরীর।[৮]
  • পরিধেয় কাপড়, শরীর ও নামাজের স্থান পরিষ্কার বা পাক-পবিত্র হতে হবে।
  • অযু, গোসল বা তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে।

নিয়মসম্পাদনা

নামাজের প্রধান ধাপগুলোকে 'রাকাত' বলা হয়। নামাজ দুই বা তিন বা চার রাকাত হতে পারে। ইসলামের বিভিন্ন মাজহাবে নামাজ পড়ার রীতিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। তবে মূল আঙ্গিক অভিন্ন।

প্রথমে দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে নামাজ শুরু করতে হয়। তারপর সানা পড়তে হয়। সানা কেবল প্রথম রাকাতে পাঠ করতে হয়। প্রতি রাকাতে প্রথমে সুরা ফাতিহা ও অপর একটি সুরা বা অংশ বিশেষ পাঠের পর রুকু করতে হয় অর্থাৎ হাঁটুতে হাত রেখে ভর দিয়ে পিঠ আনুভূমিক করে অবনত হতে হয়। রুকু থেকে দাঁড়িয়ে ছোটো একটা বিরতি দিয়ে সিজদা করতে হয়। সিজদা দুুইবার করতে হয়, আর দুটি সিজদার মাঝে ছোট্ট একটা বৈঠক করতে হয়। ঠিক একই ভাবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাত সম্পূর্ণ করতে হয়।

দুই রাকআত নামাজের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় রাকাতের দুই সিজদা সম্পূর্ণ করার বসে যথাক্রমে "আত্তাহিয়াতু (তাশাহুদ)" ও "দরূদ শরীফ" ও "দোয়া মাসুরা" পড়তে হয়। অতঃপর প্রথমে ডানে ও পরে বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়।

তিন বা চার রাকাতের নামাজের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় রাকাতে সিজদার পর বসে তাশাহুদ ("আত্তাহিয়াতু") দোয়া পড়তে হয় এবং পাঠ শেষে দাঁড়িয়ে উঠে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাত পড়তে হয়। শেষ রাকাতের দুই সিজদা সম্পূর্ণ করার বসে যথাক্রমে "আত্তাহিয়াতু (তাশাহুদ)" ও "দরূদ শরীফ"ও "দোয়া মাসুরা" পড়তে হয়। অতঃপর প্রথমে ডানে ও পরে বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়।

নামাজ শেষে মুনাজাত করা আবশ্যকীয় নয়। তবে এটি একটি প্রচলিত প্রথা।

নামাজের ফরজসম্পাদনা

নামাজের ফরজ মোট ১৩টি। আহকাম ৭ টি। আরকান ৬ টি। নামাজের বাহিরের কাজগুলিকে আহকাম বলে। আর নামাজের ভিতরের কাজগুলোকে আরকান বলে।

আহকামসম্পাদনা

  • শরীর পবিত্র হওয়া।
  • কাপড় বা বস্ত্র পবিত্র হওয়া।
  • নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া।
  • সতর ঢেকে রাখা।
  • কিবলামুখী হওয়া।
  • ওয়াক্তমত নামাজ আদায় করা
  • নামাজের নিয়্যত করা।

আরকানসম্পাদনা

  • তাকবীরে তাহরীমা (আল্লাহু আকবার) বলে নামাজ শুরু করা।
  • দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া।
  • সুরা ফাতিহার সাথে কুরআন পড়া।
  • রুকু করা।
  • দু্ই সিজদা করা।
  • শেষ বৈঠক করা।

ওয়াক্ত ও রাকাতসম্পাদনা

 
১ ফযর, ২ যোহর, ৩ আসর, ৪ মাগরিব, ৫ ইশা

প্রতিদিন একজন মুসলিমকে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হয়। প্রথম ওয়াক্ত হল "ফজর নামাজ" সুবহে সাদিক হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত এর ব্যপ্তিকাল। এরপর "যুহর ওয়াক্ত" বেলা দ্বিপ্রহর হতে "আসর ওয়াক্ত"-এর আগ পর্যন্ত যার ব্যপ্তি। তৃতীয় ওয়াক্ত "আসর ওয়াক্ত" যা সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত পড়া যায়। চতুর্থ ওয়াক্ত হচ্ছে "মাগরিব ওয়াক্ত" যা সূর্যাস্তের ঠিক পর পরই আরম্ভ হয় এবং এর ব্যপ্তিকাল প্রায় ৩০-৪৫ মিনিট। "মাগরিব ওয়াক্ত" এর প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পর আরম্ভ হয় "ইশা ওয়াক্ত" এবং এর ব্যপ্তি প্রায় "ফজর ওয়াক্ত"-এর আগ পর্যন্ত।

উপর্যুক্ত ৫ টি ফরজ নামাজ ছাড়াও ইশা'র নামাজের পরে বিতর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি সুন্নত নামাজ ও মুসলিমরা আদায় করে থাকে।

কোন ওয়াক্ত-এর নামাজ কয় রাকাত তা দেয়া হল :

নাম সময় ফরযের পূর্বে ফরয ফরযের পর
ফযর (فجر) ঊষা থেকে সূর্যোদয় ২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ২ রাকাত -
যুহর (ظهر) ঠিক দুপুর থেকে আসরের পূর্ব পর্যন্ত ৪ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ৪ রাকাত ২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা
আসর (عصر) যোহরের শেষ ওয়াক্ত থেকে সূর্য হলুদ বর্ণ পূর্ব পর্যন্ত অন্য মতে সূর্যস্তের পূর্ব পর্যন্ত ৪ রাকাত সুন্নাতে গায়ের মুয়াক্কাদা ৪ রাকাত -
মাগরিব (مغرب) সূর্যাস্তের পর থেকে গোধূলি পর্যন্ত - ৩ রাকাত ২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা
ইশা (عشاء) গোধূলি থেকে অর্ধ রাত পর্যন্ত ৪ রাকাত সুন্নতে গায়ের মুয়াক্কাদা ৪ রাকাত ২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা
বিতর (وتر) ইশার পর থেকে ফজরের পূর্র পর্যন্ত ১ বা ৩ বা ৫ বা ৭ বা ৯ বা ১১ বা ১৩

সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতিদিন এ নামাজগুলো পড়তেন।

শুক্রবারে জুমা যুহর নামাজের পরিবর্তে পড়তে হয়

এশা নামাজ আদায় করার পর বেজোড় সংখ্যক রাকাত বিতর এর ওয়াজিব নামাজ আদায় করতে হয়।

অন্যান্য নামাজসম্পাদনা

নামাজের মধ্যে মূল হলো ফরয নামাজ ৷ এই ফরজ নামাজ ছাড়াও মুসলমানগণ আরো কিছু নামাজ আদায় করে থাকেন। আবশ্যকীয়তার স্তরভেদে সেগুলোকে বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়ে থাকে। তবে শ্রেণিবিভাগ অনুসারে ফরয ছাড়া বাকি নামাজগুলোকে ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল এই তিনভাগে ভাগ করা যায়।

ওয়াজিব নামাজসম্পাদনা

অধিকাংশ আলেমের মতে, নিয়মিত ওয়াজিব নামাজ হচ্ছে বিতর নামাজ, তবে বিতর নামাজকে সমস্ত মাযহাবে ওয়াজিব নামাজ হিসেবে গন্য করা হয় না। যেমন সালাফি আলেমগণের মতে এটি সুন্নত নামাজের অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যেকদিন এশার নামাজের পর হতে সুবহে সাদিক পর্যন্ত এই ওয়াজিব নামাজের সময় থাকে। এছাড়া কোন নফল নামাজের নিয়ত করে নামাজ শুরু করলে তা আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়। এছাড়া দুই ঈদের নামাজ আদায় করাও ওয়াজিব ।

সুন্নাত নামাজসম্পাদনা

নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) যেই নামাজগুলো আদায় করতেন, তাকে সুন্নাত নামাজ বলে। সুন্নাত নামাজ দুই প্রকার। ১. সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ ২. সুন্নাতে যায়েদাহ

  • সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলতে ঐসব নামাজকে বুঝায়, যেগুলো নবী (সা:) নিয়মিত আদায় করতেন। কখনো পরিত্যাগ করতেন না ৷
  • সুন্নাতে যায়েদাহ বলতে বুঝায়, ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সা:) যেসব সুন্নাত নিয়মিত আদায় করতেন না। বরং প্রায় সময় আদায় করতেন ৷

নফল নামাজসম্পাদনা

  • নফল নামাজ হলো এক প্রকার ঐচ্ছিক নামাজ। নামাজের নিষিদ্ধ সময় ব্যতিত অন্য যেকোন সময়ে তা আদায় করা যায় ৷
  • বিভিন্ন প্রকারের নফল নামাজ আদায়ের প্রমাণ হাদিস সমূহে বর্ণিত আছে।
  • নফল নামাজ সমূহ সাধারণত ২ রাকাত করে আদায় করতে হয়। তবে চার রাকাত করেও আদায় করা যায় ৷

জানাযার নামাজসম্পাদনা

জানাযা একটি বিশেষ প্রার্থনা যা কোনো মৃত মুসলমানকে কবর দেয়ার পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামের পরিভাষায় এটি জানাযার নামাজ নামে অভিহিত হয়। মুসলমান অর্থাৎ ইসলাম ধর্মামলম্বীদের জন্য এটি ফরযে কেফায়া ৷ সমাজের মুসলমানদের জন্য আবশ্যকীয় দায়িত্ব হলো কোনো মুসলমানের মৃত্যু বরণ করলে তাকে দাফন করার পূর্বে অবশ্যই জানাযার নামাজ আদায় করতে হবে। তবে কোনো এলাকা বা গোত্রের পক্ষ থেকে কয়েকজন আদায় করলে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়।

জানাযার নামাজ একজন ইমামের নেতৃত্বে জামাতের সাথে দলবদ্ধভাবে হয়। অংশগ্রহণকারীরা কাতারবদ্ধ বা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এ নামায আদায় করেন। এটি ৪ তকবিরের সাথে আদায় করতে হয়। দাঁড়িয়ে এ নামাজ আদায় করতে হয় ৷ জানাযা শেষে মৃতব্যক্তিকে অবিলম্বে গোরস্থানে নিয়ে যেতে হয় এবং ইসলামী রীতিতে কবর তৈরী করে দাফন করতে হয়।

জানাজা নামাজের নিয়মসম্পাদনা

ইসলামের বিধান অনুসারে—প্রথমে দাড়িয়ে এই নিয়ত করতে হয় যে, "আমি এই ইমামের পিছনে চার তাকবিরের সাথে জানাজার ফরজ নামাজ আদায় করিতেছি "৷ এরপর আল্লাহু আকবার বলে তাকবির দিবে ৷ প্রথম তাকবিরের পর "সানা" পড়বে ৷ দ্বিতীয় তাকবিরের পর "দুরুদ শরীফ" ও তৃতীয় তাকবিরের পর "জানাজার দোয়া" পড়বে ৷ এরপর চতুর্থ তাকবিরের পর সালাম ফিরাবে ।

সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের নামাজসম্পাদনা

ইসলামে নামজের গুরুত্বসম্পাদনা

নামাজ (সালাত) ইসলামের পাঁচটি রোকন মধ্যে দ্বিতীয় রোকন৷ এ বিষয়ে ইবনে ওমর রাঃ বলেন, আমি রাসুল (সঃ) কে বলতে শুনেছি— ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি , "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" এর সাক্ষ্য প্রদান করা, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমজান মাসের রোজা পালন করা এবং সামর্থ থাকলে হজ্বব্রত পালন করা ৷ (সহিহ মুসলিম; কিতাবুল ইমান) অপর হাদিসে রাসুল (সঃ) বলেছেন, দ্বীনের মূল বিষয় হলো ইসলাম, এবং মূল স্তম্ভ হলো নামাজ, আর তার সর্বোচ্চ চূড়া হলো জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ৷ (সহিহ মুসলিম, তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ)। অন্য আরেক হাদিসে এসেছে– আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ)-কে বলতে শুনেছেন, বলতো যদি তোমাদের কারো বাড়ির সামনে একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রত্যহ পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তাঁর দেহে কোন ময়লা থাকবে? তারা বললেন, তাঁর দেহে কোনরূপ ময়লা বাকী থাকবে না। আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ) বললেন: এ হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদহারণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাআলা বান্দার গুনাহসমুহ মিটিয়ে দেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫২৮)

নামাজ না-পড়ার বা নামাজে অবহেলার শাস্তিসম্পাদনা

কুরআনে বর্ণিত নামাজ তরককারীর শাস্তির কথাগুলো মানুষ জানতে পারলে নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে নিয়োজিত রাখবে। তাই কুরআনে ঘোষিত বেনামাজির শাস্তির কথাগুলো তুলে ধরা হলো-

আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘তাদের পরে যারা তাদের স্থলাভিষিক্ত হল, তারা নামাজ নষ্ট করল (একেবারে নামাজ পড়ে না কিংবা মন চাইলে ) এবং নফসের লালসা-বাসনার অনুসরণ করল। সুতরাং তারা অচিরেই এই কুকর্মের (নামাজ নষ্টের ও প্রবৃত্তিপরায়ন হওয়ার) শাস্তি ভোগ করবে। অবশ্য যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্মশীল হয়েছে তারা ব্যতিত।’ (সুরা মারইয়াম : আয়াত ৫৯)

> বেনামাজির অবস্থান হবে সাকার জাহান্নামআল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি কাজের হিসাব নেবেন। আর প্রতি কাজের হিসাব দিতে না পারলে শাস্তি অবধারিত। শাস্তি প্রাপ্ত মানুষকে তাদের অপরাধে কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তারা তাদের অপরাধগুলোও বলতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে সে কথা তুলে ধরেন এভাবে-

‘কোন জিনিস (কাজ) তোমাদেরকে (সাকার) জাহান্নামে নিয়ে এল? তারা বলবে আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। (সুরা আল-মুদ্দাচ্ছির : আয়াত ৪২-৪৩)

কোন জিনিস (কাজ) তোমাদেরকে (সাকার) জাহান্নামে নিয়ে এল? তারা বলবে আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। (সুরা আল-মুদ্দাচ্ছির : আয়াত ৪২-৪৩)

> যথাযথভাবে নামাজ না পড়ার শাস্তিযারা মোটেও নামাজ পড়ে না বা পড়লেও করে অবহেলা। আবার কোনো কোনো সময় নামাজ পড়ে আবার নামাজে দেরি করে। এমনকি নামাজে বিনয় ও নম্রতা না থাকলেও তা যথাযথভাবে আদায় বলে বিবেচিত হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘সুতরাং দুর্ভোগ (ওয়াইল নামক জাহান্নামের কঠিন শাস্তি) সেসব নামাজ আদায়কারীদের জন্য যারা তাদের নামায সম্পর্কে উদাসিন।’ (সুরা মাউন : আয়াত ৪-৫)

> হাশরের ময়দানে যেসব বেনামাজি অপমাণিত হবেদুনিয়াতে যারা যথাযথভাবে নামাজ আদায় করবে, পরকালে তারা আল্লাহর নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গে সেজদায় লুটিয়ে পড়বে। আর যারা দুনিয়াতে যথাযথভাবে নামাজ পড়বে না, লোক দেখানো কিংবা সুনাম লাভের আশায় নামাজ পড়তো তারা সে দিন সেজদা করতে পারবে না। বরং তারা হবে অপমানিত ও লাঞ্ছিত। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘(স্মরণ কর) সেই চরম সংকটময় কিয়ামত দিবসের কথা যেই দিন তাদেরকে আহবান করা হবে সেজদা করার জন্য কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবেনা। তাদের দৃষ্টি অবনত হবে, হীনতা তাদের আচ্ছন্ন করবে অথচ যখন তারা নিরাপদ ছিল, তখন তো তাদের সেজদা করার আহ্বান করা হতো (কিন্তু তারা সেজদা করেনি)।’ (সুরা আল-কালাম : আয়াত ৪২-৪৩)

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "ছালাতুর রাসূল (ছা:)- ছালাত বিষয়ে জ্ঞাতব্য"www.at-tahreek.com। ২০১৯-১১-২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১২ 
  2. Lane, Edward William (১৯৬৮)। An Arabic-English Lexicon। Beirut, Lebanon: Librairie du Liban। পৃষ্ঠা 1721। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  3. Murata, Sachiko; Chittick, William C. (১৯৯৪)। The vision of Islam (ইংরেজি ভাষায়)। Paragon House। আইএসবিএন 978-1-55778-516-9 
  4. ইংরেজি উইকিঅভিধানে نماز
  5. YOUSOF, GHULAM-SARWAR (৩০ ডিসেম্বর ২০১৫)। One Hundred and One Things Malay। Partridge Publishing Singapore। আইএসবিএন 9781482855340 
  6. "রাসূলুল্লাহ সা:-এর সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি"। ২৯ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১৩ 
  7. Ramzy, Sheikh (২০১২-০৭-২৩)। The Complete Guide to Islamic Prayer (Salāh) (ইংরেজি ভাষায়)। Author House। আইএসবিএন 978-1-4772-1465-7 
  8. Salīm, ʻAmr ʻAbd al-Munʻim (২০০৫)। Important Lessons for Muslim Women (ইংরেজি ভাষায়)। Darussalam। আইএসবিএন 978-9960-732-35-0