প্রধান মেনু খুলুন

নটর ডেম কলেজ

বাংলাদেশের অবস্থিত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
(নটর ডেম কলেজ, ঢাকা থেকে পুনর্নির্দেশিত)

নটর ডেম কলেজ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত একটি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কলেজগুলোর মধ্যে একটি যেখানে বি.এ. পড়ার সুযোগও আছে। হলি ক্রস সংঘের খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের দ্বারা নটর ডেম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে কলেজটির ৭০ বছর পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে এটি কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি মতিঝিল-আরামবাগে অবস্থিত।

নটর ডেম কলেজ
Notre Dame College entrance.jpg
নটর ডেম কলেজের প্রবেশমুখ
প্রাক্তন নামসমূহ
সেন্ট গ্রেগরী কলেজ
নীতিবাক্যজ্ঞানের আলোকে ভালোবাসো
ধরনউচ্চ মাধ্যমিক
স্থাপিত১৯৪৯ (1949)
ধর্মীয় অধিভুক্তি
খ্রিস্টান ক্যাথলিক গির্জা
অধ্যক্ষহেমন্ত পিউস রোজারিও, সিএসসি[১]
শিক্ষার্থী৬০০০+
অবস্থান, ,
শিক্ষাঙ্গনশহর
ভাষাবাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম
সংক্ষিপ্ত নামএনডিসি
ওয়েবসাইটnotredamecollege-dhaka.com
নটর ডেম কলেজের লোগো.jpg

ইতিহাসসম্পাদনা

১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের[২] নভেম্বর মাসে ঢাকা শহরের লক্ষ্মীবাজারে হলি ক্রসের সিদ্ধান্ত অনুসারে রোমান ক্যাথলিক পাদ্রি সম্প্রদায় কর্তৃক নটর ডেম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমদিকে সেন্ট গ্রেগরিজ কলেজ[২] নামে পরিচিত ছিল, যা ছিল সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলের পরিবর্ধন। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে এটি আরামবাগে স্থানান্তর করা হয়। তখন এটির নামকরণ করা হয় নটর ডেম কলেজ।[৩]

কলেজটি প্রথমে কলা ও বাণিজ্য বিষয়ে পড়ালেখা চালু করলেও পরবর্তীতে ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে বি.এ এবং ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে বি.এস.সি চালু করে। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে নটর ডেম কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়ে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহে নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করে এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে সেরা কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।[২] বর্তমানে এটি দেশের প্রথম সারির কলেজের মধ্যে পরিগণিত হয়।

নামকরণ, মূলনীতি ও প্রতীকসম্পাদনা

নটর ডেম কলেজের 'নটর ডেম' শব্দ দুটো ফরাসি ভাষা থেকে নেয়া হয়েছে। ইংরেজিতে যার অনুবাদ হলো 'Our Lady'। রোমান ক্যাথলিকগণ 'আওয়ার লেডি' বলতে যিশুখ্রিষ্টের মা মারিয়া বা ম্যারিকে বুঝিয়ে থাকেন। তাই ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত এই কলেজটির নাম সেই মহীয়সী নারীকে উৎসর্গ করে রাখা হয়।[৪]

কলেজের মূলনীতি হলো: Diligite Lumen Sapientiae, যার অর্থ জ্ঞানের আলোকে ভালোবাসো। ক্যাথলিক ধর্মমতে, যিশুখ্রিস্টের মা ম্যারি হলেন জ্ঞানের প্রতীক। "জ্ঞান" (Sapientiae) শব্দটি কলেজের মুখ্য উদ্দেশ্য একাধারে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানের উৎস স্রষ্টাকে লাভ করার প্রতি ইঙ্গিত করে। "আলো" (Lumen) শব্দটি দ্বারা অন্ধকারকে দূরীভূত করা ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতে পারার প্রতি ইঙ্গিত করে। আর "ভালোবাসো" (Diligite) শব্দটি দ্বারা ভালোবাসার সাথে জ্ঞান আহরণের প্রতি ইঙ্গিত করে।[৪]

নটর ডেম কলেজের প্রতীকের সবচেয়ে উপরে রয়েছে একটি খোলা বই, যার বাম পাতায় বড় ছাদের গ্রিক অক্ষর 'আলফা' (Α) এবং ডান পাতায় বড় ছাদের 'ওমেগা' (Ω) রয়েছে। আলফা-ওমেগা হলো গ্রিক বর্ণমালার, যথাক্রমে প্রথম ও শেষ অক্ষর। এর দ্বারা একই সাথে সমগ্র জ্ঞান[৪] এবং বাইবেল এর রহস্যোদ্ঘাটন অধ্যায়ের যিশুর একটি উক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে। এছাড়া বই হচ্ছে জ্ঞানের বাহন। সম্মিলিতভাবে এই প্রতীকগুলো প্রকাশ করছে: যুগ যুগ ধরে আহরিত যাবতীয় জ্ঞান বইয়ের মধ্যে সঞ্চিত হয়ে আছে এবং তা অর্জন করতে পারলেই জীবন আলোকময় হয়ে উঠবে। এই প্রতীকটির নিচের অংশে তিনটি ক্ষেত্র রয়েছে। বাম দিকের ক্ষেত্রে দেখা যায় ৭টি 'পদ্মফুল'। পদ্ম হলো বিশুদ্ধতার প্রতীক। যিশুর মা ম্যারি ছিলেন পদ্মের ন্যায় শুচি এবং পবিত্র। প্রতীকে, ৭টি পদ্ম দ্বারা ম্যারির জীবনের সাতটি শোককে প্রকাশ করা হয়েছে। তার জীবনের সাতটি দুঃখময় ঘটনার স্মরণে তাকে "সপ্তশোকের জননী" বলা হয়ে থাকে। এই প্রতীকগুলো একত্রে কষ্টসাধ্য জ্ঞানার্জনকে ইঙ্গিত করে। ডানদিকের ক্ষেত্রটির জলময় নদী, চলমান নৌকা, সোনালি ধানক্ষেত আর সীমাহীন নীলাকাশ-শোভিত দৃশ্যটি সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের বুকে কলেজটির অবস্থান প্রতিকায়িত করে। নিচের ক্ষেত্রটিতে আড়াআড়িভাবে স্থাপিত দুটি নোঙরের বুকে স্থাপিত ক্রুশ হলিক্রস সন্ন্যাস-সংঘের প্রতীক। এই প্রতীক দ্বারা প্রতিকায়িত করা হয়: ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে যিশুখ্রিস্টের মৃত্যু যেমন মানব জাতিকে মুক্তি এনে দিয়েছিলেন, তেমনি ক্রুশার্পিত সেই যিশুকে নোঙরের ন্যায় আঁকড়ে ধরে পরিত্রাণ লাভ সম্ভব। নোঙর আশার প্রতীক। ক্রুশ থেকে চারদিকে যে আলো ছড়িয়ে পড়েছে, তা যিশুখ্রিস্টের আলো ও মহানুভবতার প্রতীক।[৪]

কলেজের দর্শনসম্পাদনা

সর্বজনীন শিক্ষার ভিত্তি হচ্ছে জীবন সম্বন্ধে গভীর প্রত্যয়। তাই তার মূলে থাকে বিশেষ এক দর্শন৷ নটর ডেম কলেজ প্রতিষ্ঠার মূলনীতি হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা দিয়ে ছাত্রদের গড়ে তোলা। এ প্রতিষ্ঠান শুধু জীবিকা উপার্জনের জন্য ছাত্রদের প্রস্তুত করবে তা নয় বরং কীভাবে জীবন যাপন করতে হয়, তা-ও শিক্ষা দেবে। নটর ডেম কলেজের উদ্দেশ্য কেবল সম্ভাব্য উত্তম বিদ্যা শিক্ষাদানই নয়, উপরন্তু ছাত্রদের আদর্শ চরিত্রের অধিকারী করে গড়ে তোলাও এর প্রধান লক্ষ্য।[৪]

পোশাক বিবরণীসম্পাদনা

নটর ডেম কলেজে সকল ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত পোশাক পরা আবশ্যক। ছাত্রদের ক্রিমসন রঙের শার্ট এবং কালো রঙের প্যান্ট এবং এবং কালো রঙের সু পরা বাধ্যতামূলক। তবে ডিগ্রি অধ্যায়নরত ছাত্রদের জন্য আকাশি রঙের শার্ট প্রযোজ্য।

বিবরণসম্পাদনা

 
গাঙ্গুলী ভবন
 
প্রশাসনিক ও একাডেমিক হ্যারিংটন ভবন
 
ফাদার টিম ভবন
 
ম্যাথিউস ভবন

নটর ডেম কলেজ, রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত হলেও সকল ধর্মাবলম্বী ছাত্ররাই এখানে অধ্যয়নের সুযোগ পান। কলেজটিতে শুধুমাত্র ছাত্ররা পড়তে পারে। কলেজটি পরিচালিত হয় পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘের ধর্মযাজক দ্বারা পরিচালিত হয়। কলেজে সন্ন্যাসব্রতী ধর্মযাজক ছাড়াও অযাজকীয় শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন।[৪]

গ্রুপ বিভাজনসম্পাদনা

নটর ডেম কলেজে বর্তমানে মোট ২৫টি গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি বিজ্ঞান শাখার, ৬টি ব্যবসায় শিক্ষা, ৩টি মানবিক বিভাগের গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু বিজ্ঞান বিভাগে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম চালু আছে।

কলেজের সময়-সূচিসম্পাদনা

প্রতি সপ্তাহে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা হতে ১২:৪০ পর্যন্ত প্রথম বর্ষ এবং দুপুর ১টা হতে বিকেল ৫:৪৫ পর্যন্ত দ্বিতীয় বর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতি শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। তবে কলেজের ক্লাব কর্মসূচির বেশিরভাগই শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় কলেজ খোলা থাকে। কলেজটিতে ব্যবহারিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং সকল বিভাগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ল্যাব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা আবশ্যক।

গ্রন্থাগারসম্পাদনা

কলেজের সূচনালগ্নেই ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে কলেজের অভ্যন্তরে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়, যার প্রাক্তন নাম ছিল, কলেজের প্রাক্তন নামেই, "সেন্ট গ্রেগরিজ কলেজ লাইব্রেরি"। পরবর্তীতে ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে, কলেজের নাম পরিবর্তন করে নটর ডেম কলেজ রাখা হলে গ্রন্থাগারের নামও পরিবর্তন করে রাখা হয় "নটর ডেম কলেজ লাইব্রেরি"। কলেজের নতুন ভবনের (গাঙ্গুলী ভবন) নির্মাণ কাজ শুরু হলে ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ২১ আগস্ট গ্রন্থাগারটি, কলেজের যুক্তিবিদ্যার প্রাক্তন অধ্যাপক ফাদার রিচার্ড নোভাক-এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে তাকে উৎসর্গ করে রাখা হয় "ফাদার রিচার্ড নোভাক মেমোরিয়াল লাইব্রেরি"

রিচার্ড নোভাকের বড় ভাই মাইকেল নোভাক তার সংগ্রহের অনেক বই এই গ্রন্থাগারে দান করেছেন এবং গ্রন্থাগারের জন্য নিয়মিত অর্থ অনুদান দিয়ে আসছেন। নতুন গ্রন্থাগার-কক্ষ নির্মাণের জন্যও তিনি অনুদান দিয়েছেন।[৪] আর্চবিশপ গাঙ্গুলি ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত লাইব্রেরিটির মোট ১৩০ আসনবিশিষ্ট দুটি পাঠকক্ষ রয়েছে। কলেজে ভর্তির সাথে সাথে ছাত্ররা গ্রন্থাগারের সদস্য হয়ে যান এবং লাইব্রেরি কার্ড পেয়ে যান। গ্রন্থাগারে নিয়মিত ৬টি দৈনিক পত্রিকা, ৪টি সাপ্তাহিক ও ৪টি মাসিক ম্যাগাজিন রাখা হয়। এছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ জার্নাল ও ম্যাগাজিন অনিয়মিতভাবে রাখা হয়। বইসমূহ লাইব্রেরি কার্ডের প্রেক্ষিতে ধার নেয়া যায়, তবে অভিধান, এনসাইক্লোপিডিয়া, হ্যান্ডবুক ইত্যাদি দুষ্প্রাপ্য বইসমূহ কেবল গ্রন্থাগারেই ব্যবহার্য। গ্রন্থাগারে ফটোকপিরও ব্যবস্থা আছে।[৪]

খেলাধুলাসম্পাদনা

 
হ্যারিংটন ভবনের সামনে অবস্থিত বাস্কেটবল মাঠ

কলেজ পর্যায়ের খেলাধুলায় নটর ডেম কলেজ বিভিন্ন সময় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। কলেজ প্রাঙ্গণে ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি আউটডোর খেলার সুবিধা দিতে বিশাল মাঠ রয়েছে। এছাড়া আছে বাস্কেটবল মাঠ। কলেজের ছাত্রদেরকে খেলাধুলার সুবিধা দিতে রয়েছে একটি খেলার সরঞ্জাম ধার দেয়ার অফিস। সেখানে ছাত্ররা নিজেদের কলেজ আইডি কার্ড প্রদর্শনপূর্বক বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলার সামগ্রী বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন।

ধর্মচর্চাসম্পাদনা

 
বাস্কেটবল মাঠের পাশে পাঞ্জেগানা মসজিদ

ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় কলেজের খ্রিষ্টান ছাত্রদেরকে প্রতি রবিবার বিশেষ প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করতে হয়। তবে সকল ধর্মাবলম্বী ছাত্রদেরই নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা কলেজে রয়েছে। কলেজ প্রাঙ্গণে বাস্কেটবল মাঠের পাশেই বাগানের মধ্যে একটি একতলা পাঞ্জেগানা মসজিদ এবং ওজুখানা রয়েছে। এছাড়া, কলেজের গাঙ্গুলি ভবন-এর নিচতলায় একটি ধর্মবিষয়ক পাঠাগার রয়েছে। সেখানে সকল ধর্মের পুস্তকাদি সংরক্ষিত রয়েছে।

প্রশাসনসম্পাদনা

ঢাকা হলি ক্রসের আদেশ অনুসারে খ্রিষ্টধর্মের ক্যাথলিক সন্ন্যাসী ও ধর্মপ্রচারকদের দ্বারা এটি পরিচালিত হয়। স্থাপনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন সন্ন্যাসী এই কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

  1. জন হ্যারিংটন, ১৯৪৯-৫৪
  2. জেমস মার্টিন, ১৯৫৪-৬০
  3. থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলী, মার্চ ১৯৬০ - অক্টোবর ১৯৬০
  4. উইলিয়াম গ্রাহাম, ১৯৬০-৬৭
  5. জন ভ্যান্ডেন বোস, ১৯৬৭-৬৯
  6. জোসেফ পিশোতো, ১৯৬৯-৭০
  7. রিচার্ড উইলিয়াম টিম, ১৯৭০-৭১
  8. অ্যামব্রোস হুইলার, ১৯৭১-৭৬
  9. জোসেফ পিশোতো, ১৯৭৬-৯৮
  10. বেঞ্জামিন কস্তা, ১৯৯৮-২০১২
  11. হেমন্ত পিউস রোজারিও, ২০১২-বর্তমান

শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রমসম্পাদনা

লেখাপড়ার পাশাপাশি নটর ডেম কলেজে শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রমকেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। এ কারণে প্রতিবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় ভালো ফল অর্জনের পাশাপাশি দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এ কলেজের ছাত্ররা বরাবরই ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করে আসছে।

নটর ডেম কলেজের ক্লাবসমূহসম্পাদনা

নটর ডেম কলেজে বর্তমানে (২০১৮) ২৪ টি ক্লাব রয়েছে।[৫] কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ এখানে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করলেও ছাত্ররাই এসব ক্লাবের প্রাণ। সারা বছর জুড়ে এই ক্লাবগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন ও কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে কলেজের ছাত্রদের উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে যাচ্ছে। এইসব ক্লাবের আয়োজিত কিছু কিছু অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান হিসাবে মর্যাদা লাভ করেছে। দেশের বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ এ কার্যক্রমগুলোকে ভিন্নমাত্রা দান করে।

এই কলেজের ক্লাবসমূহ হলো:[৪]

ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মডারেটর ছিলেন কলেজের তৎকালীন জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রিচার্ড উইলিয়াম টিম, সিএসসি। [৬][৭] ক্লাবটির বর্তমান মডারেটর হলেন বাংলা বিভাগের শহীদুল হাসান পাঠান ও ইংরেজি বিভাগের শুভাশীষ সাহা।

ক্লাবের বার্ষিক মুখপত্র দ্বৈরথ। ক্লাবের দ্বৈমাসিক দেয়ালিকা সুবচন। এছাড়া ক্লাব প্রতিবছর দ্রোহ নামে একটি বিতর্ক কড়চা প্রকাশ করে। ক্লাব প্রতিবছর ডিবেটার'স লীগ, মিক্স-আপ, ইন্টার গ্রুপ ডিবেট, পালাবদলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

১৯৫৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ জীববিজ্ঞানী রিচার্ড উইলিয়াম টিম সিএসসি নটর ডেম বিজ্ঞান ক্লাবের উদ্বোধন করেন। "মানুষের সেবায় বিজ্ঞান" এটি এই ক্লাবের মূল লক্ষ্য। এটি বাংলাদেশের তথা উপমহাদেশের প্রথম বিজ্ঞান ক্লাব। ক্লাবটির বর্তমান মডারেটর হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মি. ভিনসেন্ট তিতাস রোজারিও।

ক্লাবের প্রকাশনাগুলো হল অদ্রি (বার্ষিক), কসমস (সাময়িকী; প্রথম প্রকাশ ১৯৭০), স্পুটনিক, আবিষ্কার (দেয়ালিকা)। অত্র কলেজের ৩টি কুইজ টিম - এনডিসি গোল্ড, এনডিসি ব্লু ও এনডিসি গ্রিন নটর ডেম বিজ্ঞান ক্লাবের মাধ্যমেই পরিচালনা করা হয়।[৮]

অজানাকে জানা,অচেনাকে চেনার আকাঙ্খা মানুষের মধ্যে চিরন্তন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নটরডেম অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৬৬ সালের ১১ই অক্টোবর। শুরুতে এই ক্লাবের সাথে ছিলেন উপমহাদেশের প্রতীথযশা বিজ্ঞানী রিচার্ড উইলিয়াম টিম, সিএসসি। এরপর ক্লাবের মডারেটর হিসেবে বেশ কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেন ভূগোল বিভাগের শিক্ষক মি. নির্মল সরকার আর পরবর্তীতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ড. ফাদার লেনার্ড শংকর রোজারিও, সিএসসি। ক্লাবটির বর্তমান মডারেটর হিসেবে দায়িত্বে আছেন রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মি. স্টিফেন ডন সরকার। ছাত্রদের নিয়ে বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক জায়গায় শিক্ষা সফরের আয়োজন, বৃক্ষরোপন ক্লাবের, রোমাঞ্চকর নানাবিধ ইভেন্ট আয়োজন ইত্যাদি ক্লাবটির উল্লেখযোগ্য কাজ। এছাড়া ক্লাবটি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ছাত্রছাত্রীদের জন্য আয়োজন করে "National Adventure Festival"। ক্লাবের বার্ষিক প্রকাশনা অ্যাডভেঞ্চার এবং ত্রৈমাসিক দেয়ালিকা টুকটাক

  • নটর ডেম রোভার দল (প্রতিষ্ঠা: ১৯৭২)

বাংলাদেশ স্কাউটস এর রোভার অঞ্চল গঠনের পর ঢাকা জেলা রোভার ১ ও ২ নামে দুটি ইউনিট গঠন করে এবং রোভার অঞ্চলের দ্বিতীয় ইউনিট হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করে 'নটর ডেম রোভার দল' পথচলা আরম্ভ করে।

ক্লাবের প্রকাশনা উন্মেষ, সেবাব্রতী, মাধবীলতা, ইমপিমা ইত্যাদি।

  • নটর ডেম বিজনেস ক্লাব (নটর ডেম ব্যবসায় সংঘ) (প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৩)

'কারবারই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি' -এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে কলেজের তৎকালীন ছাত্র উপদেষ্টা এবং সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষক স্টিফেন গোমেজ, প্রাক্তন অধ্যক্ষ বেঞ্জামিন কস্তা এর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং প্রাক্তন শিক্ষক ম. নূরন্নবীর ঐকান্তিক চেষ্টায় 'নটর ডেম বিজনেস ক্লাব' প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ক্লাবটির মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফারজানা হোসেন।

ক্লাবটি প্রতি বছর বিজনেস ফেস্ট বাংলাদেশ[৯] আয়োজনের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার ও শিক্ষা সফরের আয়োজন করে। নবীনবরণ উপলক্ষে দেয়ালিকা বিপণন এবং ক্লাব দিবস উপলক্ষে বিজনেস হরাইজন প্রকাশ করা হয়।

ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা মডারেটর কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন শিক্ষক এরিক ফ্রান্সিস। বর্তমান মডারেটর হলেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক স্বপন হালদার। ক্লাবটির বার্ষিক আয়োজন "ইন্টার স্কুল এন্ড কলেজ চেস ফেস্টিভ্যাল"। এছাড়া প্রতি বছর ক্লাবটি কলেজের ছাত্রদের নিয়ে 'ইন্ট্রা কলেজ চেস ফেস্টিভ্যাল', নবীন ছাত্রদের জন্য ফ্রেশার'স চেস টুর্নামেন্ট এবং বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করে। ক্লাবের বার্ষিক প্রকাশনা যুধিষ্ঠির ও দেয়ালিকা দুর্দান্ত

এ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মডারেটর ছিলেন গোপীনাথ কর্মকার।[১০] বর্তমানে ক্লাবটির মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক মি. নিখিলেশ ঘোষ। ক্লাবের মুখপত্র মানববার্তা, বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রদাহ এবং দেয়ালিকা অনির্বাণ

  • নটর ডেম নেচার স্টাডি ক্লাব (নটর ডেম প্রকৃতি নিরীক্ষণ সংঘ) (প্রতিষ্ঠা: ২৯ আগস্ট, ১৯৮৪)

ক্লাবের স্লোগান Diligite Naturae Pul-chritudincem (প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ভালোবাসো)।

দেশের প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন তত্ত্ব ও তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার করা এবং এ বিষয়ে দেশের ছাত্র ও জনগণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালের ২৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় নটর ডেম নেচার স্টাডি ক্লাব (নটর ডেম প্রকৃতি নিরীক্ষণ সংঘ)। নটর ডেম কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক জনাব মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, তৎকালীন মাত্র ২০ জন ছাত্র নিয়ে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশে, এই ক্লাবটিকেই এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রথম ক্লাব হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এই ক্লাব থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৈরি হয়েছে আরো বিভিন্ন নেচার স্টাডি ক্লাব, ঢাকার বিভিন্ন কলেজে।

নিয়মিতভাবে ক্লাবের তরফ থেকে বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ছাত্র সদস্যদের মাঝে গঠনমূলক মনোবৃত্তির বিকাশই এসব কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। এ ক্লাবের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে দৈনিক সংবাদ সংগ্রহ, সাপ্তাহিক ক্লাস ও সভা, পাক্ষিক ন্যাচার স্টাডি স্থান পরিদর্শন, মাসিক দেয়ালিকা, ত্রৈমাসিক পত্রিকা "নিসর্গ" প্রকাশ, মাসিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, মাসিক সভা ও মাসিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, বার্ষিক সভা ও সেমিনার, বার্ষিক পত্রিকা প্রকাশ। ক্লাবের সদস্যদের উদ্যোগে প্রকাশিত বার্ষিক পত্রিকা "প্রকৃতি" সারা বছরের ক্লাব কার্যক্রমের বহিঃপ্রকাশ।[৪] এছাড়া ক্লাবটি ছাত্রদের বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী করে তোলার জন্য প্রায়ই বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করে থাকে, যেমন: গ্রাউন্ড ট্রেনিং প্রোগ্রাম (GTP), ফটোগ্রাফি ট্রেনিং প্রোগ্রাম (PTP), অফিস ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম (OMTP), ফিল্ড ওয়ার্ক ট্রেনিং প্রোগ্রাম (FWTP), নিউজলেটার পাবলিকেশন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (NPTP), ন্যাচার জার্নালিজম ট্রেনিং প্রোগ্রাম (NJTP), কম্পিউটার ট্রেনিং প্রোগ্রাম (CTP), ক্লাব ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম (CMTP), সায়েন্টিফিক রিসার্চ প্রিপেয়ার্ডনেস ট্রেনিং প্রোগ্রাম (SRPTP) ইত্যাদি। প্রকৃতি সংরক্ষণে নটর ডেম নেচার স্টাডি ক্লাব শুধু নটর ডেম কলেজ ক্যাম্পাসেই নয়, এ ক্লাবের চেতনা ছড়িয়ে দিয়েছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। এই ক্লাবের আজীবন সদস্যরা মিলিত হয়ে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ আগস্ট গড়ে তুলেছেন "নেচার স্টাডি সোসাইটি অফ বাংলাদেশ" (NSSB) নামে একটি সংগঠন, যা নটর ডেম নেচার স্টাডি ক্লাবকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে।[১১]

  • নটর ডেম ডিগ্রি ক্লাব (প্রতিষ্ঠা: ২০ এপ্রিল, ১৯৮৬; প্রতিষ্ঠাতা: ফাদার জে এস পিশোতো, সিএসসি)

কলেজের ডিগ্রি (বি.এ ও বি.এস.এস) পর্যায়ের ছাত্রদের নিয়ে গড়ে ওঠা এ ক্লাবটির দেয়ালিকা ও বার্ষিক মুখপত্র সপ্তডিঙ্গা

রেড ক্রিসেন্ট প্রতি বছর রক্ত দান কর্মসূচি, বিভিন্ন সেমিনার ও শিক্ষা সফরের আয়োজন করে। ক্লাবটির বর্তমান মডারেটর রণজিত কুমার নাথ। দ্বিমাসিক দেয়ালিকা কল্যাণ

এটি বাংলাদেশে কলেজ পর্যায়ের প্রথম রোটার‌্যাক্ট ক্লাব। ক্লাবটির মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাঁধন প্লাসিড রোজারিও। ক্লাবটি বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতা, কর্মশালা, সেমিনার আয়োজন এবং দেয়ালিকা প্রকাশ করে।

  • নটর ডেম নাট্য দল (প্রতিষ্ঠা: ১৯৯১)

অভিনয় দক্ষতাকে শিল্পে পরিণত করার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় 'নটর ডেম নাট্যদল'। ২০০৬ সালের নভেম্বরে নাট্যদলের সাথে যুক্ত হয় নতুন স্লোগান 'সৃজনশীল নাট্যচর্চায় একত্রিত হই'। ২০০৭ থেকে কলেজে, কলেজের বাইরে ও বিটিভিতে প্রায় ৯০টি নাটক মঞ্চস্থ করে। ২০০৯ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত হয় 'জাতীয় নাট্যোৎসব ও নাট্যকর্মশালা ২০০৯'। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত আয়োজন করা হয় ৭টি জাতীয় নাট্যকর্মশালা ও উৎসব।

ক্লাবের ম্যাগাজিন মঞ্চ, দেয়ালিকা থার্ড থিয়েটার ও ছবির অ্যালবাম নাটুয়া

১৯৯২ সালের ১৮ আগস্ট বাংলা বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক মিসেস মারলিন ক্লারা পিনেরো-র নেতৃত্বে ছাত্রদের আবৃত্তি ও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার উদ্দেশ্যে গঠিত হয় নটর ডেম আবৃত্তি দল। তখন থেকেই ছাত্রদের সৃজনশীলতা, মনন ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। নিয়মিত সভা, কর্মশালা, প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রদের মাঝে বাংলা সাহিত্যকে ছড়িয়ে দেয়াই নটর ডেম আবৃত্তি দলের প্রধান লক্ষ্য। অন্তঃকলেজ ও আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আবৃত্তিচর্চা-কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য নটর ডেম আবৃত্তি দল বদ্ধপরিকর। জাতীয় আবৃত্তি উৎসব দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিভবান আবৃত্তিকার খুঁজে পেতে অনেক সাহায্য করে। এছাড়া ছাত্রদের মাঝে বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য-কে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য-ও জাতীয় আবৃত্তি উৎসব-এর জুড়ি নেই।

ক্লাবের বার্ষিক মুখপত্র বৃন্দ ও দেয়ালিকা নৈবেদ্য

ক্লাবের বার্ষিক প্রকাশনা প্রজ্ঞা ও দেয়ালিকা ঐতিহ্য

পূর্ব নাম: নটর ডেম এনভায়রনমেন্টাল প্রমোশন ক্লাব ক্লাবের স্লোগান Know the World। বার্ষিক প্রকাশনা লাইকেন এবং দেয়ালিকা অবণী। মডারেটর জীববিজ্ঞানের প্রভাষক মোঃ নাজমুল হোসেন। ক্লাবটি 'ন্যাশনাল স্পেস ক্যাম্প','ইকো এন্ড ওশান কার্নিভাল','ফ্রুট ফেস্টা' ছাড়াও বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার, শিক্ষা সফর, আকাশ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প, প্ল্যান্ট আইডেন্টিফিকেশন, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ইত্যাদির আয়োজন করে।

ক্লাবের বার্ষিক প্রকাশনা যোগাযোগ এবং দেয়ালিকা বন্ধন। মডারেটর ইংরেজি বিভাগের মিসেস রিটা যোসেফিন রোজারিও।

ক্লাব মডারেটর হলেন গণিতের প্রভাষক মোঃ আজিজুর রহমান (ফয়সাল আজিজ)

২০০৯ সাল থেকে ক্লাবের স্লোগান 'অক্ষরে আঁকি সৃষ্টির সৌন্দর্য'। ক্লাবের ত্রৈমাসিক প্রকাশনা ঢাক-ঢোলChit-Chat, দেয়াল পত্রিকা A2Z Campus, অক্ষরছবিয়াল। ক্লাব মডারেটর বাংলা বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ড. মিজানুর রহমান।

'নটর ডেম ইংলিশ ক্লাব' কলেজের ১৯তম ক্লাব হিসেবে ১৯ নভেম্বর ২০০৫ সালে আত্মপ্রকাশ করে। ক্লাবের দেয়ালিকা Insight। ক্লাব মডারেটর হলেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মিসেস সুরঞ্জিতা বড়ুয়া এবং সহ-মডারেটর ইংরেজি বিভাগের হুমায়ুন কবির।

'রং তুলিতে স্বপ্ন আঁকি' এই স্লোগান নিয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 'নটর ডেম আর্ট ক্লাব' এর যাত্রা শুরু হয়। ক্লাবের মডারেটর কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মিসেস নাদিরা আক্তার। ক্লাবের দেয়ালিকা স্বপ্ন ও স্বাধীনতা

  • নটর ডেম ম্যাথ ক্লাব (প্রতিষ্ঠা: ১৪ মার্চ, ২০১৭)

২০১৭ সালের ১৪ মার্চ বিশ্ব পাই দিবসে শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ হেমন্ত পিউস রোজারিও ঠিক দুপুর ১:৫৯ মিনিটে ম্যাথ ক্লাবের উদ্বোধন করেন। ক্লাব মডারেটর হলেন গণিত বিভাগের জনপ্রিয় শিক্ষক মোঃ রেজাউল করিম। ক্লাবের স্লোগান 'Mighty Math to feel Almighty and His Creation'। ক্লাবের হাতে লেখা সাময়িকী The Number, দেয়ালিকা The Plane এবং বার্ষিক প্রকাশনা The Function

  • নটর ডেম এথিক্স ক্লাব (প্রতিষ্ঠা:৩ এপ্রিল ২০১৭)

ক্লাবটি বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার, কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এবং দেয়ালিকা প্রকাশ করে।

  • নটর ডেম ফটোগ্রাফি ক্লাব (প্রতিষ্ঠা:৯ আগস্ট ২০১৭)

ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন ও বর্তমান মডারেটর হলেন কলেজটির জীববিজ্ঞানের সিনিয়র শিক্ষক মঈন উদ্দীন আহসান হাবীব। ক্লাবটি ফটোগ্রাফি বিষয়ক কর্মশালা, ফটোওয়াক, সফর ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ক্লাবটির বার্ষিক উৎসব 'অ্যাপারচার'[১২]

ক্লাবের স্লোগান ‘‘ইনোভেটিভ এন্ড এনকোড ইয়োর আইডিয়াস’’। ক্লাবটির মডারেটর কলেজের আইসিটি বিভাগের প্রভাষক সৈকত লরেন্স রোজারিও।[৪] ক্লাবটি NDITC_init নামক আন্তঃকলেজ আইটি উৎসবের আয়োজন করে থাকে।[১৩]

নটর ডেম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনসম্পাদনা

২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে নটর ডেম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সংক্ষেপে এনডিএএ। অবশ্য নটর ডেমের প্রাক্তণ ছাত্ররা Old Boys কলেজের খ্রিষ্টীয় দীক্ষা ও আদর্শের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিপ্রায়ে এরকম একটি সংগঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের দিকে। তারই প্রেক্ষিতে তৎকালীন অধ্যক্ষ জে. এল. মার্টিন এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি খসড়া গঠনতন্ত্র তৈরি করেন। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে কলেজের ৫০ বছর (সুবর্ণ জয়ন্তী) এবং ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে ৬০ বছর (হীরক জয়ন্তী) উদযাপনের সময় ছাত্রগণ এ ব্যাপারে পুনরায় উৎসাহ প্রকাশ করলে তৎকালীন অধ্যক্ষ বেঞ্জামিন কস্তা, সিএসসি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি কলেজের প্রাক্তণ ১৬ জন ছাত্রের সাথে একটি সভা করত এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এরপর কলেজের প্রাক্তন ছাত্র কামাল হোসেনকে সাম্মানিক সভাপতি[১], বেঞ্জামিন কস্তাকে সভাপতি, অধ্যাপক রাশিদউদ্দিন আহমেদকে সহসভাপতি (১ম), ড. আব্দুল মঈন খানকে সহসভাপতি (২য়), ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জন গোমেজকে সাধারণ সম্পাদক[১৪], বকুল এস. রোজারিও, সিএসসি-কে কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক এবং অ্যাডাম এস. পেরেরা, সিএসসি-কে কোষাধ্যক্ষ করে সর্বমোট ১৯জন সদস্য নিয়ে গঠিত অ্যাড-হক কমিটি দিয়ে যাত্রা শুরু হয় সংগঠনের।[১৫] এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর কলেজ প্রাঙ্গণে বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন আয়োজনের[৩] মধ্য দিয়ে সংগঠনের যাত্রার আনুষ্ঠানিক প্রচারণা করা হয়। সংগঠনের গঠনতন্ত্র হিসেবে জে. এল. মার্টিন, সিএসসি কর্তৃক ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর প্রণিত গঠনতন্ত্রের ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুনের পরিমার্জিত সংস্করণ গ্রহণ করা হয়[১৬][১৭]

কৃতি শিক্ষার্থীসম্পাদনা

নটর ডেম লিটারেসি স্কুলসম্পাদনা

 
লিটারেসি স্কুল

নটর ডেম কলেজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয় এরকম একটি সেবামূলক উদ্যোগ হলো নটর ডেম লিটারেসি স্কুল, যা মূলত একটি নৈশ স্কুল। প্রকল্পটি নটর ডেম কলেজের 'স্টুডেন্ট ওয়ার্কিং প্রোগ্রাম'-এর অংশ। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এখানে চলছে কর্মজীবী এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিক্ষাদান। সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পুরোহিতদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই স্কুল। প্রথম দিকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার সুযোগ থাকলেও পরবর্তীতে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত তা উন্নীত করা হয়। বর্তমানে (২০১২) প্রায় ৪৫০জন শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করছে। এখান থেকে পাশ করে অনেকে নটর ডেম কলেজেও পড়ার মতো যোগ্যতাও অর্জন করে থাকে। মূলত নটর ডেম কলেজের ছাত্ররাই স্বেচ্ছায় শিক্ষাদান করছেন এখানে। তবে নটর ডেম কলেজ ছাড়াও পড়ান বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া অনেক শিক্ষকও। কলেজশিক্ষক, ছাত্র এবং বিভিন্ন অনুদান থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন-ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এই স্কুলে রয়েছে মর্নিং শিফ্‌ট, ডে শিফ্‌ট ও ইভনিং শিফ্‌ট। এছাড়াও এই উদ্যোগের সাথে রয়েছে নটর ডেম জাগরণী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড, নটর ডেম ন্যাভিন সিক শেল্টার, নটর ডেম ফিডিং প্রোগ্রাম, নটর ডেম সিউইং সেন্টার, এবং নটর ডেম বয়েজ' হোম

ছবিয়ালসম্পাদনা

 
৭০ বছর পূর্তিতে ফাদার টিম ভবনের আলোকসজ্জা
 
৭০ বছর পূর্তিতে হ্যারিংটন ভবনের আলোকসজ্জা

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. নটর ডেম কলেজের নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১০ জুলাই ২০১৫ তারিখে, দৈনিক সংগ্রাম, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। প্রকাশকাল: ১৩ ডিসেম্বর ২০১২।
  2. নটর ডেম কলেজ, এস. এম. মাহফুজুর রহমান, বাংলাপিডিয়া, ইন্টারনেট সংস্করণ।
  3. নটর ডেমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলন[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ], নিউজ ডেস্ক, ঢাকানিউজ২৪.কম। প্রকাশকাল: ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ খ্রিস্টাব্দ। পরিদর্শনের তারিখ: ০৪ জানুয়ারি ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।
  4. নবীন বরণ ও ছাত্র-অভিভাবক নির্দেশিকা, নটর ডেম কলেজ, ১৪ আগস্ট ২০০১ খ্রিস্টাব্দ, ঢাকা।
  5. নটর ডেম কলেজের ক্লাব দিবস ও পঞ্চম যুগপূর্তি উৎসব, দৈনিক প্রথম আলো, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯ খ্রি.।
  6. BIOGRAPHY of Fr. Richard William Timm, CSC ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৯ আগস্ট ২০১২ তারিখে, The 1987 Ramon Magsaysay Award for International Understanding, rmaf.org.ph; পরিদর্শনের তারিখ: ০৪ জানুয়ারি ২০১৩।
  7. CITATION for Fr. Richard William Timm, CSC ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ জুলাই ২০১২ তারিখে, Ramon Magsaysay Award Foundation, Manila, Philippines। প্রকাশকাল: ৩১ আগস্ট ১৯৮৭ খ্রি.। পরিদর্শনের তারিখ: ০৪ জানুয়ারি ২০১২ খ্রি.।
  8. নবীন বরণ ও ছাত্র-অভিভাবক নির্দেশিকা, নটর ডেম কলেজ, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ, ঢাকা। পৃ.৩৬,৩৭,৩৮
  9. http://epaper.thedailystar.net/all.php?opt=view&page=39&date=2018-12-27
  10. আনন্দলোকে, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা।
  11. চারদিক: নটর ডেমের প্রকৃতি উৎসবে[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ], শেখর রায়, দৈনিক প্রথম আলো; প্রকাশকাল: ২৯ অক্টোবর ২০০৯ খ্রি.। পরিদর্শনের তারিখ: ০৪ জানুয়ারি ২০১৩ খ্রি.।
  12. https://www.youthop.com/bd/miscellaneous/aperture-f-1-the-beginningphotography-competitionnotre-dame-collegedhaka-2018
  13. https://www.nditc.org/nditcinit.php
  14. জন গোমেজ ফিলিপাইনে বাংলাদেশের নয়া রাষ্ট্রদূত, দৈনিক মানবজমিন, প্রকাশকাল: ০৪ অক্টোবর ২০১২ খ্রি.; পরিদর্শনের তারিখ: ৪ জানুয়ারি ২০১৩ খ্রি.।
  15. গঠিত হলো নটর ডেম কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। প্রকাশকাল: ৭ মার্চ ২০১১ খ্রি.। পরিদর্শনের তারিখ: ০৪ জানুয়ারি ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।
  16. Constitution of The Notre Dame Alumni Association, Prepared by: Father J. L. Martin, CSC, Principal (1954-1960) on December 8, 1959; Revised Edition: June 30, 2012. পরিদর্শনের তারিখ: ৪ জানুয়ারি ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
  17. স্মরণিকা, নটর ডেম এ্যালামনাই এসোসিয়েশন (এনডিএএ), নটর ডেম কলেজ, ঢাকা। প্রকাশকাল: ২২ ডিসেম্বর ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

নটর ডেম কলেজসম্পাদনা

নটর ডেমিয়ানসম্পাদনা

ক্লাবসমূহসম্পাদনা

অনুষ্ঠানাদিসম্পাদনা

নটর ডেম সংক্রান্ত সংবাদসম্পাদনা

স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৩′৪৮″ উত্তর ৯০°২৫′১৬″ পূর্ব / ২৩.৭৩০০° উত্তর ৯০.৪২১১° পূর্ব / 23.7300; 90.4211