শিরোনামহীন

বাংলাদেশের স্বাধীন রক ব্যান্ড।

শিরোনামহীন বাংলাদেশের একটি রক ব্যান্ড। তারা তাদের ক্লাসিকাল রক, প্রোগ্রেসিভ রক, এবং ফোক ধাঁচের সঙ্গীতের জন্য খ্যাতি অর্জন করে। গানের কথা, কম্পোজিশন এবং জনবহুল লাইভ শোর জন্য তারা বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যন্ডসমূহের মধ্যে অন্যতম স্থান অর্জন করেছে। সঙ্গীতের কাজে তাদের ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে সরোদ, স্যালো, সরাজ, বেহালা এবং আরও অনেক। ২০১০ সালে শিরোনামহীন ব্যান্ডের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৮ সালের ১ আগস্ট তারা বামবার সদস্যপদ লাভ করে।[১]

শিরোনামহীন
Group photo of Shironamhin band members 04.jpg
শিরোনামহীনের সদস্যবৃন্দ (বাম থেকে ডানে): দিয়াত খান, কাজী আহমাদ সাফিন, শেখ ইশতিয়াক, জিয়াউর রহমান জিয়া এবং রাসেল কবীর।
প্রাথমিক তথ্য
উদ্ভবঢাকা, বাংলাদেশ
ধরন
কার্যকাল১৯৯৬-বর্তমান
লেবেল
ওয়েবসাইটshironamhin.net
সদস্যবৃন্দ
প্রাক্তন সদস্যবৃন্দ

১৯৯৬ সালে জিয়াউর রহমান, জুয়েল ও বুলবুলকে সাথে নিয়ে ব্যন্ড দলটি গিঠন করেন।[২] ২০০৪ সালে তাদের প্রথম অ্যালবাম জাহাজী মুক্তি পায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা ৫টি একক অ্যালবাম এবং কিছু যৌথ অ্যালবাম প্রকাশ করেছে। তার সর্বশেষ অ্যালবাম শিরোনামহীন শিরোনামহীন প্রকাশিত হয় ১৯শে জুলাই ২০১৩ সালে। ব্যান্ডের বর্তমান সদস্যগণ হলেন, জিয়াউর রহমান জিয়া (বেজ ও সম্পাদনা), কাজী আহমাদ সাফিন (ড্রাম), দিয়াত খান (গিটার), রাসেল কবীর (কিবোর্ড) এবং শেখ ইশতিয়াক (কণ্ঠ)।

২০১৪ সালে চুয়েটে একটি কনসার্টে

১৯৯৬: প্রারম্ভিক বছরসম্পাদনা

গঠনসম্পাদনা

১৯৯৬ সালে জুয়েলকে গিটারিস্ট হিসেবে এবং বুলবুলকে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিয়ে জিয়াউর রহমান শিরোনামহীন গঠন করেন। প্রথমদিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয় আঙিনা এবং কাছাকাছি জনাকীর্ণ স্থানে পরিবেশন করতেন। পরবর্তীতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় আঙিনাতে সরাসরি মঞ্চ পরিবেশনা শুরু করেন যার ফলে তাদের বাদ্যযন্ত্রেও কিছু যরিবর্তন আসে। সে সময়ই তারা তাদের পরিবেশনায় প্লাগ্ড গিটার, সারোদ ও ড্রামের ব্যবহার শুরু করেন। মঞ্চে পরিবেশন করা তাদের সব গানই তাদের নিজেদের লেখা ছিলো সুতরাং সেসময় সেগুলো শ্রুতাদের কাছে নতুন ছিলো। তাদের ভিন্নধর্মী সঙ্গীতের ধারা ও গানের কথা সেসময় তাদের খ্যাতি অর্জনে সহায়তা করে।

২০০২ সালে তানযীর তুহীন শিরোনামহীনের প্রধান ভোকাল হিসেবে যোগদান করেন।[৩] তুহীন বুয়েটে অধ্যয়নরত অবস্থায় জিয়ার সহপাঠী ছিলেন। ২০০৩ সালে ফারহান এবং তুষারকে যোগদান করেন। ফারহান সারদ ও দোতারা বাজাতেন এবং তুষার গিটার বাজাতেন। একই সময়ে শাফিন ডা্রম বাদক হিসেবে যোগদান করেন। দিয়াত খান গিটার বাদক হিসেবে এবং রাসেল কবীর কিবোর্ডিস্ট হিসেবে যথাক্রমে ২০০৯ এবং ২০১০ সালে যোগদান করেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে প্রধান ভোকাল তানযির তুহিন অন্তর্দ্বন্দ্বে[৪][৫] ব্যান্ড ত্যাগ করেন[৫] এবং শেখ ইশতিয়াক নতুন ভোকাল হিসেবে যোগ দেন।[৬]

নামকরণসম্পাদনা

ব্যান্ডটি টিএসসি অডিটোরিয়াম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন নাম ছাড়াই তাদের প্রথমদিকে সরাসরি পরিবেশন করতো। তাদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে দর্শকরা তাদের ব্যান্ডের নাম জানতে চান। কিন্তু তারা তাদের ব্যান্ডটির নাম ঠিক করতে পারছিলেন না। একসময় তারা তাদের ব্যান্ডটির নাম শিরোনামহীন রাখেন যার অর্থ কোন নাম নেই।[৭]

২০০৪-বর্তমানসম্পাদনা

ব্যান্ড গঠনের প্রায় আট বছর পরে শিরোনামহীন তাদের প্রথম এ্যালবাম প্রকাশ করে। তাদের সর্বশেষ এলবামের নাম "শিরোনামহীন শিরোনামহীন" যা ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই প্রকাশ পায়।

জাহাজী (২০০৪)সম্পাদনা

ইচ্ছে ঘুড়ি (২০০৬)সম্পাদনা

বন্ধ জানালা (২০০৯)সম্পাদনা

শিরোনামহীন রবীন্দ্রনাথ (২০১০)সম্পাদনা

শিরোনামহীন শিরোনামহীন (২০১৩)সম্পাদনা

সদস্যসম্পাদনা

বর্তমান সদস্যসম্পাদনা

প্রাক্তন সদস্যসম্পাদনা

  • বুলবুল (১৯৯৬–১৯৯৮; ২০০৩-২০০৫)
  • জুয়েল - গিটার (১৯৯৬-১৯৯৯)
  • তানযীর তুহীন - কণ্ঠ (২০০০-২০১৭)
  • ফারহান - সারদ, দোতারা (২০০৪-২০০৬)
  • তুষার - গিটার (২০০৪-২০০৯)
  • প্রিন্স - কিবোর্ড (২০০৫-২০০৬)
  • রাজিব - কিবোর্ড (২০০৬-২০১০)

অর্জনসম্পাদনা

শিরোনামহীন বাংলাদেশের সর্বাধিক বাণিজ্যিকভাবে সফল এবং প্রভাবশালী রক ব্যান্ডগুলির একটি। ২০০৫ সালে কালচারাল জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ শিরোনামহীনকে দেশের সেরা ব্যান্ড হিসেবে নির্বাচন করে। ২০০৬ সালে শিরোনামহীন তাদের "পাখি" মিউজিক ভিডিওর জন্য সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক এওয়ার্ড লাভ করে।[৩]

অ্যানড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনসম্পাদনা

এপ্রিল ২০১৪ সালে, ব্যান্ডটি শিরোনামহীন নামে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন চালু করে। ব্যান্ড সদস্যদের সম্পর্কে বিস্তারিত, পঞ্চম অ্যালবামের গানসমূহ, গানের কথা, আলোকচিত্র এবং ব্যান্ডের কার্যক্রমের হালনাগাদ এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।[৮]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১২ নভেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১১ 
  2. "Shironamhin music, videos, stats, and photos - Last.fm"Last.fm 
  3. Kantho, Kaler। "দুই দশকের শিরোনামহীন - কালের কণ্ঠ" 
  4. https://www.channelionline.com/%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B9%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B9/
  5. "Tuhin reveals the reason behind leaving Shironamhin"Dhaka Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১০-০৭ 
  6. মোহাম্মদ তারেক। "২০ বছরে শিরোনামহীন"ananda-alo। আনন্দ আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  7. Dhaka Tribune
  8. "Shironamhin launches android app" [শিরোনামহীন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ চালু করেছে]। নিউএজ। এপ্রিল ১৪, ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা