মধুর রেস্তোরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট ভবনের সামনে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁ
(মধুর ক্যান্টিন থেকে পুনর্নির্দেশিত)

মধুর রেস্তোরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট ভবনের সামনে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁ। এটি '"মধুর ক্যান্টিন"' নামে অধিক পরিচিত। প্রয়াত মধুসূদন দে'র স্মৃতি স্মরণে স্থাপিত একটি বিখ্যাত রেস্তোরাঁ। ১৩৭৯ বঙ্গাব্দের ২০শে বৈশাখ ক্যান্টিনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনীতি, সংস্কৃতি চর্চা এবং আড্ডার জন্য মধুর ক্যান্টিনের আলাদা খ্যাতি রয়েছে। ক্যান্টিনটির সামনেই মধু’র একটি ভাস্কর্য রয়েছে। মধুর ক্যান্টিন আধুনিক ওয়াই-ফাই সুবিধায় বেষ্টিত।

মধুর রেস্তোরা
Modhur Canteen 1.A.M.R.jpg
সাধারণ তথ্য
অবস্থানঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শহরঢাকা
দেশবাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক২৩°৪৩′৫৪″ উত্তর ৯০°২৩′৩৩″ পূর্ব / ২৩.৭৩১৫৪৭° উত্তর ৯০.৩৯২৪৯৭° পূর্ব / 23.731547; 90.392497স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৩′৫৪″ উত্তর ৯০°২৩′৩৩″ পূর্ব / ২৩.৭৩১৫৪৭° উত্তর ৯০.৩৯২৪৯৭° পূর্ব / 23.731547; 90.392497
ভূমিবিদারক১৮৭৩
সংস্কার ব্যয়বিনামূল্যে
গ্রাহকছাত্রছাত্রী
জমির মালিকঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মধুর রেস্তোরা ফটক
মধুর রেস্তোরা
মধুদা স্মৃতি ভাষ্কর্য

ইতিহাসসম্পাদনা

ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে বিক্রমপুরের শ্রীনগরের জমিদারদের সাথে নকরীচন্দ্রের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ব্যবসা প্রসারের উদ্দেশ্যে নকরীচন্দ্র তার দুই পুত্র আদিত্যচন্দ্র ও নিবারণ চন্দ্রকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। তারা জমিদার বাবুর জিন্দাবাজার লেনের বাসায় আশ্রয় নেন। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে নকরী চন্দ্র পুত্র আদিত্য চন্দ্রের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যবসা প্রসারের দায়িত্ব দেন।

নকরীচন্দ্রের মৃত্যুর পর আদিত্য চন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের মাধ্যমে তার ব্যবসা শুরু করেন। ব্রিটিশ পুলিশ এ সময় ক্যাম্পাসের আশপাশের ব্যারাক ও ক্যাম্প প্রত্যাহার করার উদ্যোগ নিলে আদিত্য চন্দ্র ব্রিটিশ পুলিশের কাছ থেকে ৩০ টাকার বিনিময়ে দুটি ছনের ঘর ক্রয় করে তার একটিতে বসবাস শুরু করেন।

তিনি ১৯৩৪-৩৫ সাল থেকে আদিত্য চন্দ্রের ছেলে মধুদা তার পিতার সঙ্গে খাবারের ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৩৯ সালে পক্ষাঘাতের কারণে পিতার মৃত্যু হলে মধুদা পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের দাবির প্রেক্ষিতে ডাকসু কার্যক্রম শুরু হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের পাশে মধুদার দায়িত্বে ক্যান্টিন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭১ সালে মধুর ক্যান্টিন পাক বাহিনীর রোষানলে পড়ে। এরই সূত্র ধরে ’৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মম ভাবে শহীদ হন মধুদা, তার স্ত্রী, বড় ছেলে ও তার নববিবাহিত স্ত্রী। মধুদার স্মরণে মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গনেই নির্মিত হয় শহীদ মধুদার স্মৃতি ভাস্কর্য। ভাস্কর্যটির গায়ে লেখা রয়েছে ‘আমাদের প্রিয় মধুদা’ বাক্যটি। এর ভাস্কর হলেন মোঃ তৌফিক হোসেন খান। ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল তৎকালীন উপাচার্য এমাজ উদ্দীন আহমেদ ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন। তবে পরবর্তীতে এটি পুনঃনির্মাণ করা হয় এবং ২০০১ সালের ১৭ মার্চ পুনঃনির্মিত ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন উপাচার্য এ. কে আজাদ চৌধুরী।[১]

শুরুতে এটি মধুর স্টল, মধুর টি-স্টল, মধুর রেস্তোরা ইত্যাদি নামেও পরিচিত ছিল। ১৩৭৯ বঙ্গাব্দের ২০ বৈশাখ ডাকসুর উদ্যোগে এই ক্যান্টিনের নামকরণ করা হয় “মধুর রেস্তোরা”।[১]

বর্তমান অবস্থানসম্পাদনা

জনশ্রুতি আছে, মধুর ক্যান্টিন ছিল বাগানবাড়ির নাচঘর। তবে হাকিম হাবিবুর রহমানের মতে, এটি ছিল বাগানবাড়ির দরবার কক্ষ। এখানেই ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুসলিম লীগ। আহসানউল্লাহ ঢাকার নবাব ছিলেন ১৮৪৬ থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত। ঢাকা শহরে বিস্তৃত তার তিনটি বাগান ছিল। এর মধ্যে একটি শাহবাগে অবস্থিত ছিল। শাহবাগের বাগানবাড়ির নাচঘরটিই বর্তমান মধুর ক্যান্টিন বলে ধারণা করা হয়। অন্য মত অনুযায়ী, সেই বাগানবাড়িতে মার্বেল পাথরের তৈরি একটি গোলাকার বৈঠকখানা ছিল। এই বৈঠকখানাটিই বর্তমানে মধুর ক্যান্টিন নামে পরিচিত।[২]

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মধুর ক্যান্টিনকে পুনর্গঠন করা হয়, কান্টিনকে তার মূল স্থান থেকে স্থানান্তরিত করে বর্তমান স্থানে আনা হয়।

গ্যালারিসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. জাহান মুক্তা, জাকিয়া (৭ নভেম্বর ২০১৭)। "বাংলাদেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট : মধুর ক্যান্টিন"dumcjnews.com। ২৯ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৮ 
  2. মুনতাসীর মামুন, "ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী", পরিবর্ধিত সংস্করণ, জুলাই ২০০৮, অনন্যা প্রকাশনী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৩৭, ২৫৫, আইএসবিএন ৯৮৪-৪১২-১০৪-৩