লেবানন জাতীয় ফুটবল দল

লেবানন জাতীয় ফুটবল দল (আরবি: المنتخب اللبناني لكرة القدم‎‎, ফরাসি: Équipe du Liban de football, ইংরেজি: Lebanon national football team) হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে লেবাননের প্রতিনিধিত্বকারী পুরুষদের জাতীয় দল, যার সকল কার্যক্রম লেবাননের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা লেবানীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই দলটি ১৯৩৬ সাল হতে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার এবং ১৯৬৪ সাল হতে তাদের আঞ্চলিক সংস্থা এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য হিসেবে রয়েছে।[৩][৪] ১৯৪০ সালের ২৭শে এপ্রিল তারিখে, লেবানন প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ করেছে; মেন্ডেটরি প্যালেস্টাইনের তেল আবিবে অনুষ্ঠিত উক্ত ম্যাচে লেবানন ফিলিস্তিনের কাছে ৫–১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।

লেবানন
দলের লোগো
ডাকনামرجال الأرز‎ (কেদার)
অ্যাসোসিয়েশনলেবানীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন
কনফেডারেশনএএফসি (এশিয়া)
প্রধান কোচজামাল তাহা
অধিনায়কহাসান মাতুক
সর্বাধিক ম্যাচহাসান মাতুক (৮৫)
শীর্ষ গোলদাতাহাসান মাতুক (২১)
মাঠকামিল শাময়ুন স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়াম
ফিফা কোডLBN
ওয়েবসাইটthe-lfa.com
প্রথম জার্সি
দ্বিতীয় জার্সি
ফিফা র‌্যাঙ্কিং
বর্তমান ৯৭ হ্রাস ২ (৩১ মার্চ ২০২২)[১]
সর্বোচ্চ৭৭ (সেপ্টেম্বর ২০১৮)
সর্বনিম্ন১৭৮ (এপ্রিল–মে ২০১১)
এলো র‌্যাঙ্কিং
বর্তমান ১১৯ হ্রাস ১৩ (৩০ এপ্রিল ২০২২)[২]
সর্বোচ্চ৪৬ (এপ্রিল ১৯৪০)
সর্বনিম্ন১৬৪ (জুলাই ২০১১)
প্রথম আন্তর্জাতিক খেলা
 ফিলিস্তিন ৫–১ লেবানন 
(তেল আবিব, মেন্ডেটরি প্যালেস্টাইন; ২৭ এপ্রিল ১৯৪০)
বৃহত্তম জয়
 লেবানন ৮–১ পাকিস্তান 
(ব্যাংকক, থাইল্যান্ড; ২৬ মে ২০০১)
 লেবানন ৭–০ লাওস 
(সাইদা, লেবানন; ১২ নভেম্বর ২০১৫)
বৃহত্তম পরাজয়
 চীন ৬–০ লেবানন 
(ছুংছিং, গণচীন; ৩ জুলাই ২০০৪)
 লেবানন ০–৬ কুয়েত 
(বৈরুত, লেবানন; ২ জুলাই ২০১১)
 দক্ষিণ কোরিয়া ৬–০ লেবানন 
(কোয়াং, দক্ষিণ কোরিয়া; ২ সেপ্টেম্বর ২০১১)
এএফসি এশিয়ান কাপ
অংশগ্রহণ২ (২০০০-এ প্রথম)
সেরা সাফল্যগ্রুপ পর্ব (২০০০, ২০১৯)
ডাব্লিউএএফএফ চ্যাম্পিয়নশিপ
অংশগ্রহণ৭ (২০০০-এ প্রথম)
সেরা সাফল্যগ্রুপ পর্ব (২০০০, ২০০২, ২০০৪, ২০০৭, ২০১২, ২০১৪, ২০১৯)

৪৯,৫০০ ধারণক্ষমতাবিশিষ্ট কামিল শাম'য়ুন স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে কেদার নামে পরিচিত এই দলটি তাদের সকল হোম ম্যাচ আয়োজন করে থাকে। এই দলের প্রধান কার্যালয় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত। বর্তমানে এই দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন জামাল তাহা এবং অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন আল আনসারের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হাসান মাতুক

লেবানন এপর্যন্ত একবারও ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। অন্যদিকে, এএফসি এশিয়ান কাপে লেবানন এপর্যন্ত ২ বার অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে প্রত্যেকবার তারা শুধুমাত্র গ্রুপ পর্বে অংশগ্রহণ করেছে।

আব্বাস আহমদ আতউই, ইউসুফ মুহাম্মদ, হাসান মাতুক, মুহাম্মদ গাদ্দার এবং হিলাল আল-হিলউইয়ের মতো খেলোয়াড়গণ লেবাননের জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন।

ইতিহাসসম্পাদনা

১৯৩৩ সালের ২২শে মার্চ তারিখে ১৩টি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা মিনা আল হোসন শহরে লেবানীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গঠনের জন্য একত্রিত হন।[৫][৩] লেবাননের সাংবাদিক নাসিফ মাজদালানী এটি গঠনে সর্বাত্মক সহায়তা করেছিলেন। এটি ১৯৩৫ সালে ফিফা এবং ১৯৬৪ সালে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনে (এএফসি) যোগদান করে।[৩]

মাঠসম্পাদনা

লেবানন জাতীয় ফুটবল দল সারা দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে তাদের হোম ম্যাচ আয়োজন করতো। লেবাননের মূল স্টেডিয়াম হচ্ছে কামিল শাম'য়ুন স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়াম। ১৯৫৭ সালে কামিল শাম'য়ুনের রাষ্ট্রপতিত্বকালে নির্মিত এই স্টেডিয়ামটি দেশের বৃহত্তম স্টেডিয়াম, যেখানে সর্বমোট ৪৯,৫০০ জন দর্শক একত্রে খেলা উপভোগ করতে পারে।[৬] ১৯৫৭ সালে এই স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী খেলায় লেবানন ও এনার্জিয়া ফ্লাকারা প্লোইয়েসটি মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে লেবানন ১–০ গোলে লেবানন জয়লাভ করেছিল; উক্ত ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছিলেন জোসেফ আবু মুরাদ। এই স্টেডিয়ামটি লেবাননে অনুষ্ঠিত ২০০০ এএফসি এশিয়ান কাপের মূল স্টেডিয়াম ছিল, যেখানে উদ্বোধনী এবং ফাইনাল খেলাসহ সর্বমোট ছয়টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।[৭][৮] ২০১১ সালে এই স্টেডিয়ামে ২০১৪ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের এক খেলায় লেবানন দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ২–১ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল, যার ফলে লেবানন প্রথমবারের মতো বাছাইপর্বের চতুর্থ পর্বে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছিল। উক্ত ম্যাচটি দেখার জন্য ৪০,০০০-এরও বেশি দর্শক স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়েছিল।

র‌্যাঙ্কিংসম্পাদনা

ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে লেবানন তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থান (৭৭তম) অর্জন করে এবং ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা ১৭৮তম স্থান অধিকার করে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিংয়ে লেবাননের সর্বোচ্চ অবস্থান হচ্ছে ৪৬তম (যা তারা ১৯৪০ সালে অর্জন করেছিল) এবং সর্বনিম্ন অবস্থান হচ্ছে ১৬৪। নিম্নে বর্তমানে ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং এবং বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিংয়ে অবস্থান উল্লেখ করা হলো:

ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং
৩১ মার্চ ২০২২ অনুযায়ী ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং[১]
অবস্থান পরিবর্তন দল পয়েন্ট
৯৫     কিরগিজস্তান ১২১৮.৪৮
৯৬     ভিয়েতনাম ১২১৫.৩৮
৯৭     লেবানন ১২১১.৭১
৯৮     কঙ্গো ১২১১.৩৩
৯৯     বিষুবীয় গিনি ১২১০.০৭
বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিং
৩০ এপ্রিল ২০২২ অনুযায়ী বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিং[২]
অবস্থান পরিবর্তন দল পয়েন্ট
১১৭     লিবিয়া ১৩৩৮
১১৭   ২৪   লাতভিয়া ১৩৩৮
১১৯   ১৩   লেবানন ১৩৩৭
১১৯   ১১   সুরিনাম ১৩৩৭
১২১     সাইপ্রাস ১৩৩৫

প্রতিযোগিতামূলক তথ্যসম্পাদনা

ফিফা বিশ্বকাপসম্পাদনা

ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
সাল পর্ব অবস্থান ম্যাচ জয় ড্র হার স্বগো বিগো ম্যাচ জয় ড্র হার স্বগো বিগো
  ১৯৩০ অংশগ্রহণ করেনি অংশগ্রহণ করেনি
  ১৯৩৪
  ১৯৩৮
  ১৯৫০
  ১৯৫৪
  ১৯৫৮
  ১৯৬২
  ১৯৬৬
  ১৯৭০
  ১৯৭৪
  ১৯৭৮
  ১৯৮২
  ১৯৮৬ প্রত্যাহার প্রত্যাহার
  ১৯৯০ অংশগ্রহণ করেনি অংশগ্রহণ করেনি
  ১৯৯৪ উত্তীর্ণ হয়নি
  ১৯৯৮
    ২০০২ ২৬
  ২০০৬ ১১
  ২০১০ ১৭
  ২০১৪ ১৩ ১৬ ২২
  ২০১৮ ১২
  ২০২২ অনির্ধারিত অনির্ধারিত
মোট ০/২১ ৫৩ ১৯ ১৩ ২১ ৮৬ ৭১

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "ফিফা/কোকা-কোলা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং"ফিফা। ৩১ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মার্চ ২০২২ 
  2. গত এক বছরে এলো রেটিং পরিবর্তন "বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিং"eloratings.net। ৩০ এপ্রিল ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২২ 
  3. لمحة عن الإتحاد [About the Federation]। الاتحاد اللبناني لكرة القدم (আরবি ভাষায়)। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  4. تاريخ تاسيس الاتحاد اللبناني لكرة القدم؟ [The date of the establishment of the Lebanese Football Federation?]। Elsport News (আরবি ভাষায়)। ২ মার্চ ২০১৩। ৫ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  5. الإعلام الرياضي في لبنان بين شباك السياسة والإهمال [Sports media in Lebanon between politics and neglect]। الأخبار (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  6. "Camille Chamoun Sports City"। ১৪ অক্টোবর ২০১৭। ২০১৭-১০-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  7. "Libanon – Iran 0:4 (Asian Cup 2000 Libanon, Gruppe A)"weltfussball.de (জার্মান ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৯ 
  8. "Japan – Saudi-Arabien 1:0 (Asian Cup 2000 Libanon, Finale)"weltfussball.de (জার্মান ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৯ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা