হাঙ্গেরি জাতীয় ফুটবল দল

হাঙ্গেরির জাতীয় পুরুষ ফুটবল দল

হাঙ্গেরির জাতীয় ফুটবল দল (হাঙ্গেরিয়ান: Magyar Labdarúgó-válogatott) আন্তর্জাতিক ফুটবলে হাঙ্গেরির প্রতিনিধিত্ব করে এবং হাঙ্গেরি ফুটবল ফেডারেশন দ্বারা এটি নিয়ন্ত্রিত হয়।

Hungary
শার্ট ব্যাজ/অ্যাসোসিয়েশন কুলচিহ্ন
ডাকনাম(সমূহ)Magyarok (Magyars)
Nemzeti Tizenegy (National Eleven)
অ্যাসোসিয়েশনMagyar Labdarúgó Szövetség (MLSZ)
কনফেডারেশনUEFA (Europe)
প্রধান কোচMarco Rossi[১]
অধিনায়কBalázs Dzsudzsák
সর্বাধিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়Gábor Király (108)
শীর্ষ গোলদাতাFerenc Puskás (84)
স্বাগতিক স্টেডিয়ামGroupama Arena (interim)
Puskás Aréna (2019–)
ফিফা কোডHUN
প্রথম জার্সি
দ্বিতীয় জার্সি
ফিফা র‌্যাঙ্কিং
বর্তমানটেমপ্লেট:FIFA World Rankings
সর্বোচ্চ18 (April–May 2016)
সর্বনিম্ন87 (July 1996)
এলো র‌্যাঙ্কিং
বর্তমানটেমপ্লেট:World Football Elo Ratings
সর্বোচ্চ1 (1953–57, 1958, 1964, 1965)
সর্বনিম্ন80 (November 2003)
প্রথম আন্তর্জাতিক খেলা
 অস্ট্রিয়া 5–0 হাঙ্গেরি 
(Vienna, Austria; 12 October 1902)
বৃহত্তম জয়
 হাঙ্গেরি 13–1 ফ্রান্স 
(Budapest, Hungary; 12 June 1927)
বৃহত্তম হার
 নেদারল্যান্ডস 8–1 হাঙ্গেরি 
(Amsterdam, Netherlands; 11 October 2013)
বিশ্বকাপ
উপস্থিতি9 (প্রথম 1934)
সেরা সাফল্যRunners-up (1938, 1954)
European Championship
উপস্থিতি3 (প্রথম 1964)
সেরা সাফল্যThird place (1964)

হাঙ্গেরির একটি সম্মানজনক ফুটবল ইতিহাস আছে, তিনটি অলিম্পিক শিরোপা জিতেছে, ১৯৩৮ ও ১৯৫৪ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয় এবং ১৯৬৪ উয়েফা ইউরোপীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় হয়। হাঙ্গেরি ১৯৫০-এর দশকে এই খেলাটির বিপ্লব ঘটিয়েছিল, টোটাল ফুটবলের কৌশলগত মৌলিক ভিত্তি স্থাপন করে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসাধারণ সোনালী দলের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করে যার মধ্যে আছেন বিশ শতকের শীর্ষ গোলদাতা কিংবদন্তি ফেরেন্তস পুসকাস, যার নামে ফিফা তার নতুন পুরস্কার, পুসকাস অ্যাওয়ার্ড চালু করে। সেই যুগের দিক দিয়ে ১৯৫৪ সালে ২২৩০ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বের সর্বকালের সর্বোচ্চ ফুটবল এলো র‌্যাঙ্কিংএ ছিল এবং ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘতম সময় অপরাজিত দলগুলির মধ্যে একটি, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে শতাব্দীর ম্যাচ সহ একটানা ৩১ টি খেলায় অপরাজিত ছিল তারা।

এই সাফল্য সত্ত্বেও, হাঙ্গেরি দলটি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বাছাইপর্বে তাদের বিদায় থেকে শুরু করে মারাত্মক সাফল্য খরার মুখোমুখি হয়, ৩০ বছর যাবৎ তারা কোন বড় টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ১৯৯৬ সালে তাদের সর্বনিম্ন ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে (৮৭) পৌঁছে এবং ২০১৬ ইউরোর চূড়ান্ত পর্বে খেলার আগে তারা ২০০৮ ইউরোর বাছাইপর্বে তাদের গ্রুপে ষষ্ঠ হয়, ২০১৬ সালে ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের পর তারা তাদের সেরা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা সাফল্য দেখিয়ে ইউরোর  চূড়ান্ত পর্বে তারা রাউন্ড-১৬তে উত্তীর্ণ হয়।

ইতিহাসসম্পাদনা

মূল নিবন্ধ: হাঙ্গেরি জাতীয় ফুটবল দলের ইতিহাস

যদিও অস্ট্রিয়া এবং হাঙ্গেরি দ্বৈত রাজতন্ত্রের অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচিত দেশগুলির অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে তারা বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পৃথক ফুটবল এসোসিয়েশন এবং দল গঠন করে।

১৯১০ এর দশকসম্পাদনা

জাতীয় দল ১৯১২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসে প্রথম অংশ গ্রহণ করে। গেমসে যাওয়ার জন্য দলটিকে অনুদানের জন্য জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। হাঙ্গেরি ইংল্যান্ডের কাছে ৭-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়। অলিম্পিক গেমসের পরে হাঙ্গেরি মস্কোয় রাশিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলে। প্রথম ম্যাচে ৯-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ১২-০ গোলে জয় লাভ করে তারা, যা এখনও জাতীয় দলের রেকর্ড। দুটি ম্যাচের শীর্ষ গোলদাতা ছিলেন ইমরে শ্লোসার। তিনি সাতটি গোল করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা সমৃদ্ধ হাঙ্গেরীয় ফুটবলে গভীর প্রভাব ফেলে। দেশ এবং ক্লাব উভয়ই আর্থিক সমস্যায় ভুগে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় হাঙ্গেরি ১৬ বার অস্ট্রিয়ার সাথে খেলে। ১৯১৯ সালে ইংল্যান্ড কেন্দ্রীয় শক্তির (হাঙ্গেরি সহ) দেশগুলোকে ফিফা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি করে। ফিফা ইংল্যান্ডের আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে, ব্রিটিশ (ইংরেজ, স্কটিশ, ওয়েলস এবং আইরিশ) এসোসিয়েশন ফিফা থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯২০ এর দশকসম্পাদনা

বুদাপেস্টকে ১৯২০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আয়োজক হওয়ার সুযোগ দিতে অস্বীকার করা হয়, যা বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত। কেন্দ্রীয় শক্তির দেশগুলি (জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, উসমানীয় সাম্রাজ্য এবং বুলগেরিয়া) অলিম্পিক থেকে বাদ পড়ে। এই সময়ে ফোগল ভাইদ্বয় (জোসেফ এবং ক্যারোলি ফোগল) জাতীয় দলে খেলেছে। হাঙ্গেরিয়ানরা এসময়ে ২-৩-৫ পদ্ধতিতে খেলত যা তখনকার সময়ে অনন্য ছিল। জাতীয় দল ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ১৯২৪ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে খেলে। প্রথম ম্যাচে হাঙ্গেরি পোল্যান্ডকে হারায় কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা মিশরের কাছে হেরে যায়। ফলস্বরূপ, প্রধান কোচ এবং হাঙ্গেরির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান উভয়ই পদত্যাগ করেন।

১৯২৭ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে হাঙ্গেরি প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হিসাবে বিবেচিত ইউরোপা কাপে অংশ নেয়, এতে অংশ নেওয়া অন্যান্য দেশগুলো ছিল অস্ট্রিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া এবং যুগোস্লাভিয়া। ফাইনালে হাঙ্গেরি রাশিয়ার কাছে হারে। ১৯২৭ সালের ১২ জুন হাঙ্গেরি ফ্রান্সকে ১৩-১ গোলে হারায়, যা এখনও রেকর্ড। জোসেফ তাকাস ছয় গোল করেন।

১৯৩০ এর দশকসম্পাদনা

প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত হয়, তবে হাঙ্গেরি আমন্ত্রিত পায়নি এবং টুর্নামেন্টে অংশ নেয়নি; সেবার কোন বাছাই পর্ব ছিল না। হাঙ্গেরি ১৯৩৪ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথম বারের মতো অংশ নেয়। বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির প্রথম ম্যাচ খেলে ২৭ শে মে ১৯৩৪ সালে মিশরের বিপক্ষে, এতে তারা ৪-২ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে। গোল করেন পল তেলেকি, গেজা টল্ডি (২) এবং জেনো ভিনজে। কোয়ার্টার ফাইনালে হাঙ্গেরি প্রতিবেশী শক্ত-প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হয়, তবে ২-১ গোলে হেরে যায়, গিওর্গি সেরোসি হাঙ্গেরির পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন।

হাঙ্গেরি ১৯৩৬ সালের অলিম্পিকে অংশ নেয়, সেখানে প্রথম রাউন্ডে তারা পোল্যান্ডের কাছে ০-৩ গোলে পরাজিত হয়ে বিদায় নেয়।

১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপ ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ম্যাচটি ডাচ ইস্ট ইন্ডিজের (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) বিপক্ষে খেলে এবং হাঙ্গেরি ৬-০ গোলের ব্যবধানে জিতে। সেরোসি এবং জিউলা জেসেঙ্গেলার দুটি করে এবং ভিলমোস কোহাট এবং তোলদি একটি করে গোল করেন। কোয়ার্টার ফাইনালে হাঙ্গেরি সুইজারল্যান্ডকে সেরোসি এবং জেসেঙ্গেলারের গোলে ২-০ গোলে হারায়। প্যারিসের পার্ক ডেস প্রিন্সেস মাঠে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে হাঙ্গেরি সুইডেনকে ৫-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে, ফেরেন্ক সাস এবং সেরোসি একটি করে গোল করেন আর জেসেঙ্গেলার করেন হ্যাট্রিক। প্যারিসের স্টেড অলিম্পিক ডি কলম্বেসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে হাঙ্গেরি  ইতালির মুখোমুখি হয়, তবে ৪-২ গোলে তারা হেরে যায়। হাঙ্গেরির পক্ষে গোল দুটি করেন পল টিটিকোস এবং সেরোসি।

১৯৫০ এর দশকসম্পাদনা


১৯৬০ এর দশকসম্পাদনা

১৯৭০ এর দশকসম্পাদনা

১৯৮০ এর দশকসম্পাদনা

পতনের যুগসম্পাদনা

১৯৯০ এর দশকসম্পাদনা

২০০০ এর দশকসম্পাদনা

পুনরূত্থানসম্পাদনা

২০১০ এর দশকসম্পাদনা

দ্বন্দ্বসম্পাদনা

সমর্থকসম্পাদনা

হোম স্টেডিয়ামসম্পাদনা

জার্সিসম্পাদনা

সাম্প্রতিক ফলাফল এবং আসন্ন খেলারসূচিসম্পাদনা

মূল নিবন্ধ: হাঙ্গেরি জাতীয় ফুটবল দলের ফলাফল

২০১৮সম্পাদনা

২০১৯সম্পাদনা

খেলোয়াড়সম্পাদনা

বর্তমান দলসম্পাদনা

সাম্প্রতিক ডাক পাওয়াসম্পাদনা

প্রশিক্ষকবৃন্দসম্পাদনা

প্রতিদ্বন্দীতাপূর্ণ রেকর্ডসম্পাদনা

ফিফা বিশ্বকাপসম্পাদনা

মূল নিবন্ধ: ফিফা বিশ্বকাপে হাঙ্গেরি      Champions       Runners-up       Third place       Fourth place  

ফিফা বিশ্বকাপ রেকর্ড ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব রেকর্ড
বছর রাউন্ড অবস্থান খেলা W D L GF GA অবস্থান েলা W D L GF GA
  ১৯৩০ সুযোগ পায়নি আমন্ত্রণ জানায়নি
  ১৯৩৪ কোয়ার্টার-ফাইনাল ষষ্ঠ প্রথম
  ১৯৩৮ রানার-আপ দ্বিতীয় ১৫ প্রথম ১১
  ১৯৫০ সুযোগ পায়নি -
  ১৯৫৪ রানার-আপ দ্বিতীয় 5 4 0 1 27 10 1st Qualified automatically (Poland withdrew)
  ১৯৫৮ গ্রুপ পর্ব দশম 4 1 1 2 7 5 1st 4 3 0 1 12 4
  ১৯৬২ কোয়ার্টার-ফাইনাল পঞ্চম 4 2 1 1 8 3 1st 4 3 1 0 11 5
  ১৯৬৬ ষষ্ঠ 4 2 0 2 8 7 1st 4 3 1 0 8 3
  ১৯৭০ যোগ্যতা অর্জন করেনি P/O 7 4 1 2 17 11
  ১৯৭৪ তৃতীয় 6 2 4 0 12 7
  ১৯৭৮ গ্রুপ পর্ব ১৫তম 3 0 0 3 3 8 P/O 6 4 1 1 15 6
  ১৯৮২ ১৪তম 3 1 1 1 12 6 1st 8 4 2 2 13 8
  ১৯৮৬ ১৮তম 3 1 0 2 2 9 1st 6 5 0 1 12 4
  ১৯৯০ যোগ্যতা অর্জন করেনি তৃতীয় 8 2 4 2 8 12
  ১৯৯৪ চতুর্থ 8 2 1 5 6 11
  ১৯৯৮ P/O 10 3 3 4 11 20
   ২০০২ চতুর্থ 8 2 2 4 14 13
  ২০০৬ চতুর্থ 10 4 2 4 13 14
  ২০১০ চতুর্থ 10 5 1 4 10 8
  ২০১৪ তৃতীয় 10 5 2 3 21 20
  ২০১৮ তৃতীয় 10 4 1 5 14 14
  ২০২২ নির্ধারণ করা হবে নির্ধারণ করা হবে
      2026
মোট রানার-আপ ৯/২৩ ৩২ ১৫ ১৪ ৮৭ ৫৭ মোট ১২২ ৫৮ ২৬ ৩৮ ২১৬ ১৬৩

উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপসম্পাদনা

উয়েফা নেশনস লিগসম্পাদনা

গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকসম্পাদনা

সম্মাননাসম্পাদনা

আন্তর্জাতিক খেতাবসম্পাদনা

প্রীতি খেতাবসম্পাদনা

রেকর্ডসম্পাদনা

বিংশ শতাব্দীর শীর্ষ আন্তর্জাতিক গোলদাতারাসম্পাদনা

অপরাজিত থাকাসম্পাদনা

খেলোয়াড়দের ইতিহাসসম্পাদনা

শীর্ষ উপস্থিতিসম্পাদনা

শীর্ষ গোলদাতাসম্পাদনা

প্রধান কোচসম্পাদনা

সর্বকালের দলগত রেকর্ডসম্পাদনা

ফিফা র‌্যাঙ্কিংসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Marco Rossi veszi át a válogatott irányítását"mlsz.hu (Hungarian ভাষায়)। MLSZ। ১৯ জুন ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১৮ 

বহিঃ সংযোগসম্পাদনা