বুদাপেস্ট

হাঙ্গেরির রাজধানী

বুদাপেস্ট (হাঙ্গেরীয় ভাষায়: Budapest বুদাপেস্ট আ-ধ্ব-ব: ['budɒpɛʃt]) বা বুদাপেস্ট হাঙ্গেরির রাজধানী এবং হাঙ্গেরীর সবচেয়ে জনবহুল শহর এবং জনসংখ্যার দিক থেকে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের নবম বৃহত্তম শহর। শহরটির জনসংখ্যা ১৭,৫২,২৮৬ জন এবং এর আয়তন ৫২৫ বর্গ কিলোমিটার (২৭৩ বর্গ মাইল)

বুদাপেস্ট
View from Gellért Hill to the Danube, Hungary - Budapest (28493220635).jpg
Heroes Square Budapest 2010 01 (cropped).jpg
Budapest, St. Stephen's Basilica C16.jpg
Hungarian Parliament By River Danube.jpeg.jpg
View of Budapest Chain Bridge With Buda Castle In The Background.jpg
বুদাপেস্টের পতাকা
পতাকা
বুদাপেস্টের প্রতীক
প্রতীক
ডাকনাম: Paris of the East",
"Pearl of the Danube"
or "Queen of the Danube
হাঙ্গেরিতে বুদাপেস্ট-এর অবস্থান
হাঙ্গেরিতে বুদাপেস্ট-এর অবস্থান
দেশহাঙ্গেরি
হাঙ্গেরির কাউন্টিপেস্ট
সরকার
 • মেয়রগ্যাবর ডেমস্কি
জনসংখ্যা (2017)
 • মোট১৭,৫২,২৮৬[১]
সময় অঞ্চলCET (ইউটিসি+1)
 • গ্রীষ্মকালীন (দিসস)CEST (ইউটিসি+2)
ওয়েবসাইটwww.budapest.hu

দানিয়ুব নদীর দুই তীরের শহর - পশ্চিম তীরের বুদা ও পুরানো বুদা, এবং পূর্ব তীরের পেস্ট--- এই শহরগুলি একত্রিত হয়ে ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর ১৭ তারিখে বুদাপেস্ট নগরীর পত্তন হয়। বর্তমানে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর ৮ম বৃহত্তম শহর।

বুদাপেস্ট ইউরোপের অন্যতম সুন্দর শহর।[১][২] এই শহরের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে দানিয়ুব নদীর তীর, বুদা প্রাসাদ, আন্দ্রেসি এভিনিউ, হিরো’স স্কয়ার এবং মিলেনিয়াম পাতাল রেলপথ। মিলেনিয়াম পাতাল রেলপথ বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীন পাতাল রেলপথ।[১][৩] বুদাপেস্টে অবস্থিত হাঙ্গেরীয় সংসদ ভবন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সংসদ ভবন। প্রতিবছর বুদাপেস্টে ৪.৩ মিলিয়ন পর্যটন আসে। ইউরোমনিটর-এর এক জরিপ অনুসারে পর্যটকদের কাছে বুদাপেস্ট বিশ্বের ২৫তম জনপ্রিয় শহর।[৪]

বুদাপেস্ট ইউরোপীয় ইনস্টিটিউট অফ ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজির সদর দফতর, ইউরোপীয় পুলিশ কলেজ এবং চীন বিনিয়োগ প্রচার সংস্থার প্রথম বিদেশী অফিস। বুদাপেস্টে এটভিস লোরান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সেমেলওয়েস বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুদাপেস্ট প্রযুক্তি ও অর্থনীতি বিশ্ববিদ্যালয় সহ ৪০ টিরও বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত ।

বুদাপেস্ট মধ্য ইউরোপের একটি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র।[৫] মাস্টারকার্ডের উদীয়মান অঞ্চল সূচকে শহরটির স্থান ছিল তৃতীয়।[৬] এছাড়া জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে এটি মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর হিসেবে বিবেচিত হয়।[৭][৮] ফোর্বস ম্যাগাজিন বুদাপেস্টকে বসবাসের জন্য ইউরোপের ৭তম উপযুক্ত শহর হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে।[৯] ইউসিটিগাইড এর জরিপ অনুসারে এটি বিশ্বের ৯ম সুন্দর শহর।[১০] ইনোভেশন সিটিস-এর শীর্ষ একশটি শহরের তালিকায় বুদাপেস্টের অবস্থান প্রথম।[১১][১২]

ইতিহাসসম্পাদনা

বুদাপেস্টে প্রথম মানব বসতি খ্রিস্টের জন্মের আগে সেল্টস কর্তৃক স্থাপিত হয়েছিল। এটি পরে রোমানদের দখলে ছিল। রোমান বন্দোবস্তে প্রথমদিকে এটি একটি সামরিক শিবির ছিল। পরবর্তীতে, ধীরে ধীরে শহরটি এর চারপাশে প্রসারিত হতে থাকে। এক সময় বাণিজ্যিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় শহরটি। রোমানরা এই দুর্গযুক্ত সামরিক শিবিরকে কেন্দ্র করে রাস্তা,নাট্যমঞ্চ, স্নানাগার এবং উষ্ণ ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছিল। অ্যাকুইঙ্কাম, হাঙ্গেরিতে রোমান প্রত্নতাত্তিক শহরগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ।

মধ্যযুগে ধারাবাহিক তাতার আক্রমণের ফলে হাঙ্গেরির রাজা বালা চতুর্থ শহরটির আশেপাশে শক্তিশালী পাথরের দেয়াল নির্মাণ করেছিলেন। বুদার সুরক্ষিত পাহাড়ের চূড়ায় তাঁর নিজের রাজপ্রাসাদ স্থাপন করেন। ১৩৬১ সালে এটি হাঙ্গেরির রাজধানী হয়ে ওঠে।

অটোমানরা ১৫২৬ সালে বুদা জয় করে এবং ১৫২৯ সাল থেকে পুরোপুরিভাবে শহরটি শাসন করে থাকে। তুর্কি শাসন দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী ছিল। অটোমান তুর্কিরা শহরের মধ্যে স্নানের জন্য অনেকগুলি হাম্মামখানা তৈরি করেছিল। তুর্কিরা তাদের শাসনকালে যে স্নানাগার তৈরি করেছিল তার কয়েকটি ৫০০ বছর পরেও ব্যবহার করা হয়। এর উল্লেখযোগ্য রুদাস বাথস এবং কিরলি বাথস।

বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ১৯৮০-১৯৯০-এর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় (আয়রন কার্টেনের পতন) নাগরিক সমাজ এবং বুদাপেস্টের জন-জীবনের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়। একনায়কতন্ত্রের স্মৃতিস্তম্ভগুলি সরকারী স্থান থেকে মেমেন্টো পার্কে সরানো হয়। নতুন গণতন্ত্রের প্রথম 20 বছরে, শহরটি উন্নয়নে মেয়র গ্যাবার ডেমস্কি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Nomination of the banks of the Danube and the district of the Buda Castle" (PDF)। International Council on Monuments and Sites। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০০৮ 
  2. Lyman, Rick (৩ অক্টোবর ২০০৬)। "Budapest Is Stealing Some of Prague's Spotlight"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০০৮ 
  3. "World Heritage Committee Inscribes 9 New Sites on the World Heritage List"। Unesco World Heritage Centre। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০০৮ 
  4. "Euromonitor International's top city destinations ranking"। Euromonitor। 
  5. "Doing Business: Budapest, the soul of Central Europe"। International Herald Tribune। ৪ আগস্ট ২০০৪। ৩ নভেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০০৮ 
  6. "New MasterCard Research Ranks 65 Cities in Emerging Markets Poised to Drive Long-Term Global Economic Growth"। MasterCard। ২২ অক্টোবর ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০০৯ 
  7. "Index - Külföld - Budapest a legélhetőbb európai nagyváros"। Index.hu। ৭ জুলাই ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০০৯ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  8. "Gazdaság: EIU: Budapest, London és New York között a legjobban élhető városok listáján"। HVG.hu। ১ জানুয়ারি ১৯৭০। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  9. Beckett, Edward; Olson, Parmy। "In Pictures: Europe's Most Idyllic Places To Live"Forbes 
  10. "The 10 Most Beautiful Cities in the World"। UCityGuides.com। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০১৩ 
  11. "Innovation Cities™ Top 100 Index » Innovation Cities Index & Program – City data training events from 2THINKNOW for USA Canada America Europe Asia Mid-East Australia"। Innovation-cities.com। ১ সেপ্টেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  12. "CEE City Ranking puts capitals under the spotlight | Local and regional publications"। Rolandberger.at। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা