বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দল

বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দল (ফরাসি: L'équipe belge de football; ওলন্দাজ: Het Belgisch voetbalelftal; জার্মান: Die Belgische Fußballnationalmannschaft) আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ১৯০৪ সাল থেকে বেলজিয়ামের জাতীয় ফুটবল দলের প্রতিনিধিত্ব করছে। সমর্থকদের কাছে দলটি রেড ডেভিলস (ওলন্দাজ: Rode Duivels [ˈroːdə ˈdœy̯vəɫs]; ফরাসি: Diables Rouges; জার্মান: Rote Teufel) ডাকনামে পরিচিত। বেলজিয়াম ফুটবলে পরিচালনা পরিষদরূপে রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক বেলজিয়াম দল পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। ব্রাসেলসে অবস্থিত কিং বৌদোইন স্টেডিয়াম দলের নিজস্ব স্টেডিয়াম ও অনুশীলনী মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শুরুতে সহকারী ম্যানেজারের দায়িত্বে নিয়োজিত মার্ক উইলমটস মে, ২০১২ সাল থেকে জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন।[২]

বেলজিয়াম
শার্ট ব্যাজ/অ্যাসোসিয়েশন কুলচিহ্ন
ডাকনাম(সমূহ)ডে রোডে ডইভেলস
লে দিয়াব্লো রজ
ডাই রটেন টেউফেল
(লাল শয়তান)
অ্যাসোসিয়েশনরয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল এসোসিয়েশন (কেবিভিবি/ইউআরবিএসএফএ/কেবিএফভি)[ক]
কনফেডারেশনউয়েফা (ইউরোপ)
প্রধান কোচস্পেন রবের্তো মার্তিনেজ
অধিনায়কবেলজিয়াম এদেন আজার
সর্বাধিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়বেলজিয়াম ইয়ান ভের্তোনেন (১১৮)
শীর্ষ গোলদাতাবেলজিয়াম রোমেলু লুকাকু (৫২)
স্বাগতিক স্টেডিয়ামনির্দিষ্ট কোন স্টেডিয়াম নেই
ফিফা কোডBEL (বিইএল)
প্রথম জার্সি
দ্বিতীয় জার্সি

ইতিহাসসম্পাদনা

১ মে, ১৯০৪ তারিখে অনুষ্ঠিত ইভেন্স কপি ট্রফি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বেলজিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রথম খেলায় অংশ নেয়। ঘটনাবহুল খেলায় ফ্রান্সের সাথে খেলাটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়। এ খেলাটি উভয় দলের জন্য প্রথম ছিল। বেলজিয়ামের আক্কলে স্টেড ভিভিয়ের দ্য’ওই (গুজ পন্ড স্টেডিয়াম) মাঠে অনুষ্ঠিত খেলায় প্রায় দেড় হাজার দর্শকের সমাগম হয়েছিল। হাত উত্তোলনের মাধ্যমে এ ট্রফিটির প্রতীকি পুরস্কার প্রদান করা হয়।[৩] বিশদিন পর বেলজিয়াম ও ফ্রান্স দল ফিফা প্রতিষ্ঠায় সাত জনকের অন্যতম হিসেবে অংশগ্রহণ করে।[৪] ৩-৩ ড্রয়ের পূর্বে ফ্রান্সের সাথে বেলজিয়ামের নির্বাচিত খেলোয়াড়েরা চারটি খেলায় অংশ নিলেও দলে কয়েকজন ইংরেজ খেলোয়াড় থাকায় তা ফিফা কর্তৃক স্বীকৃত হয়নি।[৫] ২৮ এপ্রিল, ১৯০১ তারিখে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত খেলোয়াড়দেরকে নিয়ে বেলজিয়াম দল নেদারল্যান্ডসকে ৮-০ গোলে পরাভূত করে।[৬] ঐসময় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, ১৯০৫ সাল থেকে বছরে দু’বার একে-অপরের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। অ্যান্টিয়ার্পরটেরড্যামে (পরবর্তীকালে আমস্টারডাম) একবার করে খেলা হয়েছিল। ৬ অথবা ৭টি প্রধান ক্লাব দলের প্রতিনিধি নেয়া গড়া কমিটির মাধ্যমে জাতীয় দলের খেলোয়াড় নির্ধারিত হতো। ১৯৩২ সাল পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে বেলজিয়ান-ডাচ কাপ ট্রফি প্রতিযোগিতার প্রচলন ছিল।

আনুষ্ঠানিকভাবে দল প্রতিষ্ঠার মাত্র দুই বছর পর পিঁয়েরে ওয়াকিয়ার্স নামীয় এক সাংবাদিক দলের ডাকনাম দ্য রেড ডেভিলস নামে আখ্যায়িত করেন। ১৯০৬ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৫-০ ও ৫-০ এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয়ের ফলেই পিঁয়েরে এ নামকরণ করেছিলেন।[৭] দলের জার্সির মূল রঙ লাল রাখা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯১৫ থেকে ১৯১৮ সময়কালের মধ্যে জাতীয় দলের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।

সাফল্যগাঁথাসম্পাদনা

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বেলজিয়ামের প্রধান সফলতা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে ছয়বার ফিফা বিশ্বকাপের বাছাই-পর্বে উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করা। ১৯৮২ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে তারা এ সাফল্য পায়। তন্মধ্যে ১৯৮৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য হিসেবে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিল। এছাড়াও একবার ১৯৮০ সালে ইউরোপীয় রানার্স-আপ হয়েছিল দলটি। স্বাগতিক দল হিসেবে ১৯২০ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে বেলজিয়াম দল স্বর্ণপদক লাভ করে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে পূর্বতন চার শিরোপাধারী দলের বিপক্ষে জয়লাভ করা। ১৯৫৪ নালে পশ্চিম জার্মানিকে ২-০, ১৯৬৩ সালে ব্রাজিলকে ৫-১, আর্জেন্টনাকে ১-০ এবং ফ্রান্সকে ২০০২ সালে পরাজিত করা।[৮]

খেলোয়াড়সম্পাদনা

বর্তমান দলসম্পাদনা

নিম্নলিখিত ২৯ জন খেলোয়াড়কে যথাক্রমে ২০১৯ সালের ১৬ এবং ১৯ নভেম্বর তারিখে রাশিয়া এবং সাইপ্রাসের বিপক্ষে উয়েফা ইউরো ২০২০ বাছাইপর্বের জন্য দলে ডাকা হয়েছিল।[৯]
ম্যাচ, গোল এবং খেলোয়াড়ের জার্সি নম্বর ১৯ নভেম্বর ২০১৯ (2019-11-19) অনুযায়ী পর্যন্ত সঠিক।

0#0 অব. খেলোয়াড় জন্ম তারিখ (বয়স) ম্যাচ গোল ক্লাব
1গো থিবো কোর্তোয়া (1992-05-11) ১১ মে ১৯৯২ (বয়স ২৮) ৭৯   রিয়াল মাদ্রিদ
১২ 1গো সিমোন মিয়োলেট (1988-03-06) ৬ মার্চ ১৯৮৮ (বয়স ৩২) ২৩   ক্লাব ব্রুজ
১৩ 1গো মাতজ সেলস (1992-02-26) ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ (বয়স ২৮)   স্ত্রাসবুর আলজাস
1গো হেন্ড্রিক ভান ক্রমব্রুখে (1993-04-30) ৩০ এপ্রিল ১৯৯৩ (বয়স ২৭)   আন্ডারলেখট

2 টবি অল্ডারওয়েরেল্ড (1989-03-02) ২ মার্চ ১৯৮৯ (বয়স ৩১) ৯৮   টটেনহ্যাম হটস্পার
2 টমাস ভের্মালেন (1985-11-14) ১৪ নভেম্বর ১৯৮৫ (বয়স ৩৪) ৭৮   ভিসেল কোবে
2 দেদ্রিক বোয়াতা (1990-11-28) ২৮ নভেম্বর ১৯৯০ (বয়স ২৯) ১৭   হের্টা বিএসসি
2 জেসন ডেনায়ের (1995-06-28) ২৮ জুন ১৯৯৫ (বয়স ২৫) ১৩   ওলাঁপিক লিওঁ
২১ 2 টিমোথি কাস্তায়নে (1995-12-05) ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৫ (বয়স ২৪)   আতালান্তা
১৫ 2 এলিয়াস কোবাউত (1997-11-24) ২৪ নভেম্বর ১৯৯৭ (বয়স ২২)   আন্ডারলেখট
2 ব্রেন্ডন মেখেলে (1993-01-28) ২৮ জানুয়ারি ১৯৯৩ (বয়স ২৭)   ক্লাব ব্রুজ

3 আক্সেল ভিটসেল (1989-01-12) ১২ জানুয়ারি ১৯৮৯ (বয়স ৩১) ১০৫   বরুসিয়া ডর্টমুন্ড
3 কেভিন ডি ব্রুইন (সহ-অধিনায়ক) (1991-06-28) ২৮ জুন ১৯৯১ (বয়স ২৯) ৭৪ ১৯   ম্যানচেস্টার সিটি
3 নাসের শাদলি (1989-08-02) ২ আগস্ট ১৯৮৯ (বয়স ৩০) ৫৯   আন্ডারলেখট
১১ 3 ইয়ানিক কারাস্কো (1993-09-04) ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ (বয়স ২৬) ৪১   আতলেতিকো মাদ্রিদ
3 ইউরি তিলেমান্স (1997-05-07) ৭ মে ১৯৯৭ (বয়স ২৩) ২৮   আন্ডারলেখট
3 লেয়ান্ডার ডেন্ডনকার (1995-04-15) ১৫ এপ্রিল ১৯৯৫ (বয়স ২৫)   উভারহ্যাম্পটন
১৯ 3 ডেনিস প্রাট (1994-05-14) ১৪ মে ১৯৯৪ (বয়স ২৬)   লেস্টার সিটি
১৮ 3 হান্স ভানাকেন (1992-08-14) ১৪ আগস্ট ১৯৯২ (বয়স ২৭)   ক্লাব ব্রুজ
২২ 3 ইয়ারি ভেরস্খারেন (2001-07-12) ১২ জুলাই ২০০১ (বয়স ১৯)   আন্ডারলেখট
3 মাকসিম লেস্টিয়েন (1992-06-17) ১৭ জুন ১৯৯২ (বয়স ২৮)   স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজ

১০ 4 এদেন আজার (অধিনায়ক) (1991-01-07) ৭ জানুয়ারি ১৯৯১ (বয়স ২৯) ১০৬ ৩২   রিয়াল মাদ্রিদ
১৪ 4 ড্রিস মের্টেনস (1987-05-06) ৬ মে ১৯৮৭ (বয়স ৩৩) ৯০ ১৮   নাপোলি
4 রোমেলু লুকাকু (1993-05-13) ১৩ মে ১৯৯৩ (বয়স ২৭) ৮৪ ৫২   ইন্টার মিলান
২০ 4 খ্রিস্টিয়ান বেন্টেকে (1990-12-03) ৩ ডিসেম্বর ১৯৯০ (বয়স ২৯) ৩৭ ১৫   ক্রিস্টাল প্যালেস
২৩ 4 মিশি বাতশুয়ায়ি (1993-10-02) ২ অক্টোবর ১৯৯৩ (বয়স ২৬) ২৯ ১৬   চেলসি
১৭ 4 ডিভোক ওরিগি (1995-04-18) ১৮ এপ্রিল ১৯৯৫ (বয়স ২৫) ২৮   লিভারপুল
১৬ 4 তোরগান আজার (1993-03-29) ২৯ মার্চ ১৯৯৩ (বয়স ২৭) ২৬   বরুসিয়া ডর্টমুন্ড
4 লেয়ান্ড্রো ট্রোসার্ড (1994-12-04) ৪ ডিসেম্বর ১৯৯৪ (বয়স ২৫)   ব্রাইটন

পাদটীকাসম্পাদনা

  1. কেবিভিবি, ইউআরবিএসএফএ এবং কেবিএফভি, সংক্ষিপ্ত রূপগুলো ওলন্দাজ ভাষায় কনিঙ্কলিয়েকে বেলজিসে ভোয়েতবালবন্ড, ফরাসি ভাষায় ইউনিয়ন রয়্যালে বেলজে দে সোভিয়েতে দে ফুটবল-অ্যাসোসিয়েশন এবং জার্মান ভাষায় কনিশলিশে বেলজিশে ফুসবালভেরবান্ড নাম থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
    ১৯২০ সালের সংস্থাটির ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে "রয়্যাল ইউনিয়ন" উপাধি লাভ করেছিল।[১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "The RBFA's History"RBFA। ২৮ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০১৪ 
  2. M., Jan (১৫ মে ২০১২)। "Leekens verlaat Rode Duivels voor Club Brugge"De Standaard (Dutch ভাষায়)। 
  3. "Belgium v France − a 109-year-old rivalry"UEFA। ১৩ আগস্ট ২০১৩। 
  4. "History of FIFA - Foundation"FIFA.com। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মে ২০১৪ 
  5. Hubert, Christian (১৯৮০)। Les diables rouges (French ভাষায়)। Brussels: Arts & voyages। পৃষ্ঠা 13। আইএসবিএন 978-28-016-0046-7 
  6. Hubert, Christian (১৯৮০)। Les diables rouges (French ভাষায়)। Brussels: Arts & voyages। পৃষ্ঠা 12। আইএসবিএন 978-28-016-0046-7 
  7. Guldemont, Henry; Deps, Bob (১৯৯৫)। 100 ans de football en Belgique: 1895–1995, Union royale belge des sociétés de football association (French ভাষায়)। Brussels: Vif। পৃষ্ঠা 65। আইএসবিএন 90-5466-151-8 
  8. "Belgium - List of International Matches"। RSSSF। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  9. "Martinez neemt verrassend Elias Cobbaut op in selectie Rode Duivels" [Martinez surprisingly adds Elias Cobbaut to Red Devils squad]। sporza.be। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

টেমপ্লেট:Belgium national football team টেমপ্লেট:Olympics Men's Football Winners টেমপ্লেট:Football in Belgium table cells

টেমপ্লেট:National sports teams of Belgium


স্বীকৃতি
পূর্বসূরী
১৯১২ যুক্তরাজ্য  
অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন
১৯২০ (প্রথম শিরোপা)
উত্তরসূরী
১৯২৪ উরুগুয়ে  
পূর্বসূরী
১৯৯৮ জাপান  
কিরিন কাপ চ্যাম্পিয়ন
১৯৯৯ (প্রথম শিরোপা, যৌথভাবে)
উত্তরসূরী
২০০০ স্লোভাকিয়া