ইথিওপিয়া

(Ethiopia থেকে পুনর্নির্দেশিত)

স্থানাঙ্ক: ৯° উত্তর ৪০° পূর্ব / ৯° উত্তর ৪০° পূর্ব / 9; 40

ইথিওপিয়া (আমহারিক: ኢትዮጵያ?, ʾĪtyōṗṗyā, এই শব্দ সম্পর্কেশুনুন , আফার ভাষায়: Itiyoophiyaa, Ge'ez: ኢትዮጵያ, ওরোমো ভাষায়': Itoophiyaa,সোমালি ভাষায়: Itoobiya, তিগ্রিনিয়া ভাষায়: ኢትዮጵያ)) উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার একটি রাষ্ট্র। এর পূর্ণ সরকারী নাম ইথিওপিয়া যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। দেশটি "আফ্রিকার শিং" তথা সোমালি উপদ্বীপ অঞ্চলটিতে অবস্থিত। ইথিওপিয়ার উত্তর সীমান্তে ইরিত্রিয়া, উত্তর-পূর্বে জিবুতি, পূর্বে সোমালিয়া, দক্ষিণে কেনিয়া, পশ্চিমে দক্ষিণ সুদান ও উত্তর-পশ্চিম সীমানায় সুদান। এর আয়তন প্রায় ১১,২৭,১২৭ বর্গকিলোমিটার (বাংলাদেশের প্রায় ৮ গুণ)। এখানে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লক্ষ লোকের বাস; এটি আফ্রিকা মহাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল রাষ্ট্র (নাইজেরিয়ার পরেই)। দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম নগরীর নাম আদ্দিস আবাবা; অন্যান্য প্রধান নগরীগুলি হল দিরে দাওয়া, নাজরেত, গোন্দের, দেসে এবং মেকেলে। অতীতে আবিসিনিয়া নামে পরিচিত এই দেশটি সমগ্র ইতিহাস জুড়েই বিদেশী পরাশক্তির শাসন থেকে স্বাধীন ছিল, যা দেশটির জাতীয় ঐক্যের অন্যতম ভিত্তি।[৫] আধুনিক ইথিওপিয়া রাষ্ট্রটি ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। এখানে একটি দুইকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা আছে; রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান।

ইথিওপিয়া যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র

የኢትዮጵያ ፌዴራላዊ
ዲሞክራሲያዊ ሪፐብሊክ
ye-Ītyōṗṗyā Fēdēralāwī
Dīmōkrāsīyāwī Rīpeblīk
ইথিওপিয়ার জাতীয় পতাকা
পতাকা
ইথিওপিয়ার জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
নীতিবাক্য: নেই
ইথিওপিয়ার অবস্থান
রাজধানী
ও বৃহত্তর শহর
আদ্দিস আবাবা
সরকারি ভাষাআমহারী
স্বীকৃত আঞ্চলিক ভাষাঅন্যান্য ভাষাসমূহ আলাদার মধ্যে আধিকারিক ইথি্নসিটিস এবং তাদের নিজ নিজ অঞ্চলসমূহ
জাতিগোষ্ঠী
অরমো ৩৪.৫%, এমহারা ২৬.৯১%, সোমালি ৬.২০%, তিগ্রিনিয়া ৬.০৭%; সেদামা ৪%, গ্রেজ ২.৫%, ওয়েলেডা ২.৩%[১][২] এবং আসে পাশে অন্যান্য আশিটি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক দলা আছে।
সরকারকেন্দ্রীয় প্রজাতন্ত্র সংসদীয় প্রজাতন্ত্র
Girma Wolde-Giorgis
আবি আহমেদ
প্রতিষ্ঠিত 
প্রায় ১০ম শতাব্দী খ্রীষ্টপূর্বাব্দ
• ঐতিহ্যবাহী তারিখ
৯৮০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ
৮ম শতাব্দী খ্রীষ্টপূর্বাব্দ
প্রায় ৪ম শতাব্দী খ্রীষ্টপূর্বাব্দ
১১৩৭
• আংশিকভাবে ইতালি দ্বারা অধিকৃত অঞ্চল
১৯৩৬–১৯৪১
• United Nations Trusteeship আধীনে যুক্তরাজ্য দ্বারা শাসিত হয়েছে
১৯৪১–১৯৪৪
১৯৩৩, ১৯৫৫(রাজতন্ত্র), ১৯৮৭ (PDRE),১৯৯৫ (FDRE)
• গণপ্রজাতন্ত্র
১৯৯১
• পানি (%)
০.৭%
জনসংখ্যা
• ২০০৯ আনুমানিক
৮৫,২৩৭,৩৩৮[৩] (১৪তম)
• ২০০৭ আদমশুমারি
৭৩,৯১৮,৫০৫
জিডিপি (পিপিপি)২০০৯ আনুমানিক
• মোট
$৭৭.৬০৫ বিলিয়ন[৪] (৬৯তম)
• মাথাপিছু
$৯৫৫.২৯[৪] (১৭৩তম)
এইচডিআই (২০০৮)বৃদ্ধি ০.৩৮৯
ত্রুটি: মানব উন্নয়ন সূচক-এর মান অকার্যকর · ১৬৯তম
মুদ্রাবির (ETB)
সময় অঞ্চলইউটিসি+৩ (EAT)
• গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি)
ইউটিসি+৩ (পর্যবেক্ষণ করা হয়নি)
কলিং কোড২৫১
ইন্টারনেট টিএলডি.et
1Ethiopia is ostensibly a democracy, but has a dominant-party system led by the Ethiopian People's Revolutionary Democratic Front.
2Rank based on 2005 population estimate by the United Nations

ইথিওপিয়া একটি স্থলবেষ্টিত দেশ, এর কোনও সামুদ্রিক উপকূল নেই। ইথিওপিয়ার মধ্যভাগ ও উত্তরভাগে উচ্চভূমি এবং পূর্বে ও পশ্চিমে নিম্নভূমি। মধ্যভাগের উচ্চ মালভূমিকে ভেদ করে মহা গ্রস্ত উপত্যকা নামের নিম্নভূমিটি দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে চলে গিয়েছে এবং একে পূর্ব উচ্চভূমি ও পশ্চিম উচ্চভূমিতে বিভক্ত করেছে। মহা গ্রস্ত উপত্যকার পূর্বের উচ্চভূমির পূর্ব দিকে মরুময় নিম্নভূমি এবং উত্তর-পশ্চিমে পার্বত্য অঞ্চল অবস্থিত। ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ রাস দেজেন পর্বতের উচ্চতা ৪৬২০ মিটার। উচ্চভূমির জলবায়ু মৃদু, তবে নিম্নভূমিগুলিতে জলবায়ু অপেক্ষাকৃত উষ্ণ। বছরে দুইটি বর্ষাকাল আছে। কিন্তু মাঝে মাঝেই দেশটিতে ভয়াবহ খরার সৃষ্টি হয়। উঁচু পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে তুহিন জমাট বাঁধে ও তুষারপাত হয়।

ইথিওপিয়ার সিংহভাগ এলাকাই তৃণভূমিতে আচ্ছাদিত। উচ্চভূমিগুলিতে ক্রান্তীয় অরণ্যের দেখা মেলে, তবে কৃষিক্ষেত্র নির্মাণের জন্য অনেক অরণ্য নিধন করা হয়েছে। ইথিওপিয়াতে অনেক বিরল প্রজাতির প্রাণী আছে, যেগুলিকে জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত অঞ্চল সৃষ্টি করে সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে ওয়ালিয়া আইবেক্স নামের এক প্রজাতির পাহাড়ি ছাগল, সিমিয়েন প্রজাতির খেঁকশিয়াল ও জেলাদা প্রজাতির বানর উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ইথিওপিয়াতে সিংহ, হাতি, চিতাবাঘ, জেব্রা, মহিষ, গণ্ডার ও জিরাফ আছে, যেগুলির অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন।

ইথিওপিয়াতে প্রায় ৮০টি ভিন্ন জাতির লোক বাস করে এবং এরা প্রায় ৯০টি স্বতন্ত্র ভাষায় কথা বলে, যেগুলির অনেকগুলির আবার একাধিক উপভাষা আছে। জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ ওরোমো জাতি এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৭%) আমহারা জাতির লোক। অন্যান্য জাতির মধ্যে সোমালি, তিগ্রে ও সিদামা জাতি উল্লেখযোগ্য। আমহারীয় ও ওরোমো ভাষা দেশটির সবচেয়ে বেশি প্রচলিত দুইটি ভাষা; এছাড়া তিগ্রিনিয়া, গুয়ারাগিঙ্গা, সোমালি ও আরবি ভাষাগুলিও উল্লেখ্য। ওরোমো সর্বাধিক ব্যক্তির মাতৃভাষা হলেও বিভিন্ন জাতির লোক আমহারীয় ভাষাতেই ভাবের আদান প্রদান করে এবং কেন্দ্রীয় সরকারও এই ভাষাই ব্যবহার করে। অন্যদিকে সুপ্রাচীন গে-এজ ভাষা (ও গে-এজ লিপি) ইথিওপীয় খ্রিস্টান গির্জার ধর্মীয় ভাষা হিসেবে এখনও গুরুত্বপূর্ণ।[৬] ইথিওপিয়ার জনগণের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৩%) লোক খ্রিস্টান, এবং এদের সিংহভাগ ইথিওপীয় প্রথাগত খ্রিস্টান মন্ডলীর সদস্য, বাকীরা প্রতিবাদী মন্ডলীর সদস্য। ইথিওপিয়াতে খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। তবে বর্তমানে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোক ইসলাম ধর্মাবলম্বী। তিন-চতুর্থাংশ লোক গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে উচ্চভূমি অঞ্চলে বাস করে। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ ইতিহাসের অধিকার ইথিওপিয়াতে আফ্রিকার সমস্ত দেশের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যাক ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে।[৭]

ইথিওপিয়া বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলির একটি। মাথাপিছু আয় মাত্র প্রায় ১ হাজার ডলার। দেশের অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণ কৃষিনির্ভর। কিন্তু অনুর্বর জমি, যুদ্ধের কারণে অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং কিছু বছর পর পর ভয়াবহ খরার কারণে কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি দুরূহ। ভুট্টা, আখ, গম, যব ও জোয়ার এখানকার প্রধান খাদ্যশস্য। কিন্তু দেশটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, বরং খাদ্য সাহায্যের উপর বহির্বিশ্বের উপরে অতি-নির্ভরশীল। ইথিওপিয়াতে উৎপাদিত কফি ও পশুচর্ম বিদেশে রফতানি হয়। গবাদি পশু, ভেড়া ও ছাগল থেকে মাংস ও চামড়ার চাহিদা পূরণ হয়। শিল্পখাতের আয়তন অত্যন্ত ছোট। এখানে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পানীয়, বস্ত্র, চামড়ার দ্রব্য ও রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন করা হয়। এছাড়া খনিতে লবন, সোনা ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ উত্তোলন করা হয়। ইথিওপিয়ার মুদ্রার নাম বির (১ বির = ১০০ সেন্ট)। ২০১০ সালে এসে দেশটি কেনিয়াকে ছাড়িয়ে পূর্ব আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়।[৮][৯][১০] এত উন্নতি সত্ত্বেও ইথিওপিয়া বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলির একটি।[১১] এখানে দারিদ্র্য, খাদ্যাভাব, দুর্নীতি, দুর্বল অবকাঠামো, মানবাধিকার লঙ্ঘন, শিক্ষা (সাক্ষরতার হার মাত্র ৫১%) ও স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা আজও বিরাট কিছু সমস্যা।[১২] মানব উন্নয়ন সূচকে দেশটির অবস্থান দেশের তালিকার শেষ চতুর্থাংশেই ওঠানামা করে।

ইথিওপিয়াতে জীবাশ্মবিদরা সবচেয়ে প্রাচীন কিছু মানুষ বা মানুষ-সদৃশ প্রাণীর জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন।[১৩] লুসি নামের একটি এপ-জাতীয় প্রাণীর যে অস্থিগুলি পাওয়া গেছে, সেগুলির বয়স ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ বছর। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে আধুনিক মানব প্রজাতি এই ইথিওপিয়া অঞ্চল থেকেই প্রথমে মধ্যপ্রাচ্য ও পরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।[১৪][১৫][১৬] ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে নব্যপ্রস্তর যুগে এখানে আফ্রো-এশীয় ভাষা পরিবারের আদি ভাষাগুলিতে কথা বলা মানুষেরা বসতি স্থাপন করে।[১৭] খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে এলাকাটিকে কুশ হিসেবে উল্লেখ করা আছে। একদা এটি প্রাচীন মিশরীয় রাজার অধীনে ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ২য় সহস্রাব্দ থেকেই ইথিওপিয়াকে বিভিন্ন স্থানীয় রাজবংশ শাসন করে এসেছে। মৌখিক সাহিত্য অনুযায়ী শেবার রাণী ও রাজা সলোমনের উত্তরসূরী রাজা ১ম মেনেলিক এখানে সর্বপ্রথম রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, যে রাজ্যের নাম ছিল আবিসিনিয়া।[১৮] খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতকে এখানে গে-এজ ভাষাভাষী ও কৃষিনির্ভর দা-আমাত রাজ্যের শাসকেরা শাসন করতেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতক নাগাদ এখানে আকসুম রাজ্য ছিল। ৪র্থ শতকে আকসুম যখন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে, তখন এটি ছিল রোম ও গ্রিসের বাইরে প্রাচীন যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণকারী অন্যতম প্রধান রাজ্য। খ্রিস্টীয় প্রথম শতকগুলিতে আকসুম রাজ্য অঞ্চলটিতে একটি একীভূত সভ্যতা বজায় রাখে।[১৯][২০][২১][২২] নিকটবর্তী আরব দেশ থেকে খ্রিস্টীয় ৭ম শতকে যখন ইসলাম ধর্ম ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখনও ইথিওপিয়ার জনগণের অংশবিশেষ ইসলাম ধর্ম বরণ করেছিল। আফ্রিকাতে মুসলমানদের সর্বপ্রাচীন বসতি নেগাশ এই ইথিওপিয়াতেই অবস্থিত। পরবর্তীতে ১১৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ইথিওপীয় সাম্রাজ্য দেশটিকে একত্রিত রাখে। ১৫শ শতকে পর্তুগিজদের আগমনের সাথে সাথে ইউরোপের সাথে ইথিওপিয়ার সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। ১৬শ শতকে আরব সেনারা ইথিওপিয়া আক্রমণ করলে পর্তুগিজেরা ইথিওপীয়দেরকে সেই যুদ্ধে জয়ী হতে সাহায্য করে। সম্রাট ২য় তেওদোরোসসের অধীনে ইথিওপিয়ার জাতিগুলি একত্রিত হয় একটি সংঘবদ্ধ দেশে পরিণত হয়। ১৯শ শতকের শেষভাগে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলি যখন আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল দখলের লড়াইয়ে লিপ্ত ছিল, তখন কেবলমাত্র লাইবেরিয়া ও ইথিওপিয়া তাদের সার্বভৌমত্ব ধরে রেখেছিল। সেসময় ইতালি সমগ্র ইথিওপিয়াকে একটি উপনিবেশ বানাতে চেয়েছিল, যার উদ্দেশ্যে তারা দেশটির উপকূলীয় অংশে উপনিবেশ স্থাপন করে। কিন্তু সম্রাট ২য় মেনিলেকের নেতৃত্বে ইথিওপীয়রা আক্রমণকারী ইতালীয় সেনাদেরকে পরাজিত করে এবং ১৮৯৬ সালে তাদেরকে উৎখাত করে। ইতালীয়রা আবার ১৯৩৫ সালে ইথিওপিয়া আক্রমণ করে এবং ১৯৩৬ সালে ইতালীয় পূর্ব আফ্রিকা নামক অঞ্চলের একটি অংশ হিসেবে ঘোষণা দেয়। ইতালীয় শাসনের সময় ইথিওপিয়া থেকে দাসপ্রথা রদ করা হয় এবং নগরায়ন বৃদ্ধি পায়।[২৩] ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ সেনারা ইতালীয়দেরকে অঞ্চলটি থেকে বিতাড়িত করে। ১৯৪৫ সালে ইথিওপিয়া প্রথম স্বাধীন আফ্রিকান রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেছিল (এর আগে লিগ অভ নেশনসেও তাই হয়েছিল)।[২৪] ১৯৫২ সালে ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়া নামের অঞ্চলটি দখলে নেয়। ১৯৭৪ সালে ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী সম্রাট হাইলে সেলাসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং এর ফলে দেশটিতে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে। দের্গ নামের এই সামরিক সরকারটি ইথিওপিয়াকে একটি মার্ক্সবাদী সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করে, যার পেছনে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থন ছিল। ১৯৭০ ও ১৯৮০-র দশকে বিদ্রোহী কিছু দল সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালায়। একই সময়ে বহু হাজার হাজার ইথিওপীয় খরা ও দুর্ভিক্ষের কারণে মৃত্যুবরণ করে। ১৯৮৭ সালে সামরিক সরকার দেশটিতে গণতন্ত্রের প্রবর্তন করে।১৯৯১ সালে বিদ্রোহীরা ইথিওপীয় জনগণের বিপ্লবী গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নামক দলের নেতৃত্বে সামরিক সরকারের পতন ঘটায়। তখন থেকে এই দলটিই ইথিওপীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। ১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়া থেকে পৃথক হয়ে যায় ও স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৯৫ সালে ইথিওপিয়াতে প্রথমবারের মত গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া মধ্যে একট সীমান্ত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ২১শ শতকে এসেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। প্রতিবেশী সোমালিয়ার সাথেও দেশটির সংঘাত আছে।

ইথিওপিয়া জাতিসংঘের পাশাপাশি জি-২৪, জোট নিরপেক্ষে আন্দোলন, জি-৭৭ এবং আফ্রিকান ঐক্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবাতে আফ্রিকান ঐক্য (আফ্রিকান ইউনিয়ন), সর্ব-আফ্রিকা চেম্বার অভ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, আফ্রিকাতে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক কমিশন এবং আরও বহু আফ্রিকাভিত্তিক আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থার প্রধান কার্যালয়গুলি অবস্থিত।

রাজনীতিসম্পাদনা

ইথিওপিয়ার রাজনীতি একটি কেন্দ্রীয় সরকার-শাসিত যুক্তরাষ্ট্রীয় সংসদীয় প্রজাতন্ত্রের কাঠামোয় সংঘটিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহসম্পাদনা

ভূগোলসম্পাদনা

অর্থনীতিসম্পাদনা

জনসংখ্যাসম্পাদনা

সংস্কৃতিসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. 2007 Census, jimmatimesপিডিএফ (৫১.৭ KB) . প্রতিবেদন প্রকাশিত হেয়েছে ৩রা মে ২০০৯.
  2. ইথিওপিয়ার দূতাবাস, ওয়াশিংটন, ডিসি ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩০ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে. প্রতিবেদন প্রকাশিত হেয়েছে ৬ই এপ্রিল ২০০৬.
  3. সিআইএ পৃথিবীর ফেক্টবুক: ইথিওপিয়া
  4. "Ethiopia"। International Monetary Fund। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-১০-০১ 
  5. Kessler, David F. (২০১২)। The Falashas : a Short History of the Ethiopian Jews.। Routledge। আইএসবিএন 1-283-70872-8ওসিএলসি 819506475 
  6. Page, Willie F. (২০০১)। Encyclopedia of African history and culture: African kingdoms (500 to 1500), Volume 2। Facts on File। পৃষ্ঠা 230। আইএসবিএন 978-0-8160-4472-6 
  7. "Ethiopia: Most World Heritage Sites in Africa"Deep from an Ethiopian – An Ethiopian blog 
  8. "Ethiopia surpasses Kenya to become East Africa's Biggest Economy"। Nazret.com। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১০ 
  9. Ethiopia GDP purchasing power 2010: 86 billion. International Monetary Fund (14 September 2006). Retrieved on 3 March 2012.
  10. Kenya GDP purchasing power 2010: 66 Billion. International Monetary Fund (14 September 2006). Retrieved on 3 March 2012.
  11. "Ethiopia Poverty Assessment"World Bank (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-১৭ 
  12. "Major problems facing Ethiopia today"www.africaw.com 
  13. Hopkin, Michael (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫)। "Ethiopia is top choice for cradle of Homo sapiens"। Naturedoi:10.1038/news050214-10 
  14. Li, J.Z.; Absher, D.M.; Tang, H.; Southwick, A.M.; Casto, A.M.; Ramachandran, S.; Cann, H.M.; Barsh, G.S.; Feldman, M.; Cavalli-Sforza, L.L.; Myers, R.M. (২০০৮)। "Worldwide Human Relationships Inferred from Genome-Wide Patterns of Variation"। Science319 (5866): 1100–04। doi:10.1126/science.1153717PMID 18292342বিবকোড:2008Sci...319.1100L 
  15. "Humans Moved From Africa Across Globe, DNA Study Says"Bloomberg News। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮। ২৯ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০০৯ 
  16. Kaplan, Karen (২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮)। "Around the world from Addis Ababa"Los Angeles TimesStar Tribune। ৩ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০০৯ 
  17. Zarins, Juris (১৯৯০)। "Early Pastoral Nomadism and the Settlement of Lower Mesopotamia"। Bulletin of the American Schools of Oriental Research280 (280): 31–65। doi:10.2307/1357309জেস্টোর 1357309 
  18. "In search of the real Queen of Sheba"। ৩ ডিসেম্বর ২০১৮। 
  19. Ancient India, A History Textbook for Class XI, Ram Sharan Sharma, National Council of Educational Research and Training, India
  20. Munro-Hay, p. 57
  21. Henze, Paul B. (2005) Layers of Time: A History of Ethiopia, আইএসবিএন ১-৮৫০৬৫-৫২২-৭.
  22. Smaller nations that have claimed a prior official adoption of Christianity include Osroene, the Silures, San Marino, Armenia and Caucasian Albania. See Timeline of official adoptions of Christianity
  23. Shivley, K. "Addis Ababa, Ethiopia" Macalester.edu. Retrieved 15 May 2008.
  24. "The Reporter – English Edition" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে. thereporterethiopia.com.

বহিঃসংযোগসম্পাদনা


  আফ্রিকা বিষয়ক এই নিবন্ধটি অসম্পুর্ণ, আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।