গম (ইংরেজি: Wheat) বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত একটি ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ যার আদি উৎপত্তি মধ্যপ্রাচ্যের লেভান্ট অঞ্চলে, কিন্তু এখন গম সারাবিশ্বে চাষ করা হয়। ২০০৭ সনে গমের বিশ্ব উৎপাদন ছিল ৬০৭ মিলিয়ন টন, যা ছিল বিশ্বের ৩য় সর্বাধিক উৎপাদিত শস্য। ১ম ও ২য় অবস্থানে ছিল যথাক্রমে ধান ও ভুট্টা। [১] বিশ্বব্যাপী গম এখন প্রোটিনের নিরামিষ উৎস হিসেবে জন্যে অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ যা মানুষের খাদ্যে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, গমে অধিক পরিমানে প্রোটিন থাকে, এছাড়াও ধান ও ভূট্টাতেও এই প্রোটিন পাওয়া যায়। খাবার জন্যে ব্যবহৃত মোট উৎপাদিত শস্য অনুযায়ী, গম রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে যখন থেকে ভুট্টাকে পশু খাদ্যের জন্যে ব্যবহার শুরু হয় এবং ধান রয়েছে প্রথম অবস্থানে যেহেতু ধান মানুষ্য খাদ্যের প্রধান শস্য।

গম
Wheat close-up.JPG
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Plantae
বিভাগ: Angiosperms
শ্রেণী: Monocots
(শ্রেণীবিহীন): Commelinids
বর্গ: Poales
পরিবার: Poaceae
উপপরিবার: Pooideae
গোত্র: Triticeae
গণ: Triticum
L.
Species

References:
  Serial No. 42236 ITIS 2002-09-22

গম মানবসভ্যতার শুরুতে নগরভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার উদ্ভবের প্রধান হেতু ছিল কারণ গম ছিল আদি শস্য উপাদানের মধ্যে একটি যে শস্য বৃহৎ পরিমানে চাষ করা যায় এবং অতিরিক্ত ফসল অনেক দিন পর্যন্ত গুদামজাত করে রাখা যায়। গম দানা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার উপাদান যা গুড়ো করে তৈরি আটা নানারকম রুটি, বিস্কুট, কুকিজ, কেক, পিঠা, পাস্তা, নুডলস, তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বিয়ার, ভদকা ইত্যাদি মদ্য এবং জৈবজ্বালানী তৈরি করতেও গম ব্যবহৃত হয়। গমের খড় গৃহপালিত পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং খড়ের ছাউনির জন্য নির্মাণ সামগ্রী হিসেব ব্যবহার করা হয়।

উৎস এবং ইতিহাসসম্পাদনা

 
Spikelets of a hulled wheat, einkorn
 
গম ফসল গোলাজাত করার সময় একজন মহিলা– রায়সেন জেলা, মধ্যপ্রদেশ, ভারত
 
গম খামার– বেবাহা, ইরান

খাদ্য হিসেবে গমসম্পাদনা

 
গম বিভিন্ন ধরণের খাবারে ব্যবহার করা হয়
Wheat, hard red winter
প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স)-এ পুষ্টিমান
শক্তি১,৩৬৮ কিজু (৩২৭ kcal)
৭১.১৮ g
চিনি০.৪১
খাদ্য আঁশ১২.২ g
১.৫৪ g
১২.৬১ g
ভিটামিনপরিমাণ দৈপ%
থায়ামিন (বি)
৩৩%
০.৩৮৩ মিগ্রা
রাইবোফ্লেভিন (বি)
১০%
০.১১৫ মিগ্রা
নায়াসিন (বি)
৩৬%
৫.৪৬৪ মিগ্রা
প্যানটোথেনিক
অ্যাসিড (বি)
১৯%
০.৯৫৪ মিগ্রা
ভিটামিন বি
২৩%
০.৩ মিগ্রা
ফোলেট (বি)
১০%
৩৮ μg
কোলিন
৬%
৩১.২ মিগ্রা
ভিটামিন ই
৭%
১.০১ মিগ্রা
ভিটামিন কে
২%
১.৯ μg
খনিজপরিমাণ দৈপ%
ক্যালসিয়াম
৩%
২৯ মিগ্রা
লৌহ
২৫%
৩.১৯ মিগ্রা
ম্যাগনেসিয়াম
৩৫%
১২৬ মিগ্রা
ম্যাঙ্গানিজ
১৯০%
৩.৯৮৫ মিগ্রা
ফসফরাস
৪১%
২৮৮ মিগ্রা
পটাসিয়াম
৮%
৩৬৩ মিগ্রা
সোডিয়াম
০%
২ মিগ্রা
জিংক
২৮%
২.৬৫ মিগ্রা
অন্যান্য উপাদানপরিমাণ
পানি১৩.১ g
Selenium70.7 µg

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মার্কিন সুপারিশ ব্যবহার করে শতাংশ অনুমান করা হয়েছে।
উৎস: ইউএসডিএ ফুডডাটা সেন্ট্রাল

গম উৎপাদক দেশসমূহসম্পাদনা

চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকা, নেপালভূটানসহ বেশ কিছু দেশ গম উৎপাদন করে থাকে। তবে গম উৎপাদনে শীর্ষ দেশসমূহ হচ্ছে:

গমের প্রধান উৎপাদক দেশসমূহ
(মিলিয়ন মেট্রিক টন ; ১ মিলিয়ন = ১০ লাখ)
স্থান দেশ ২০০৯ ২০১০ ২০১১ ২০১২
  গণচীন ১১৫ ১১৫ ১১৭ ১২৬
  ভারত ৮০ ৮০ ৮৬ ৯৫
  যুক্তরাষ্ট্র ৬০ ৬০ ৫৪ ৬২
  ফ্রান্স ৩৮ ৪০ ৩৮ ৪০
  রাশিয়া ৬১ ৪১ ৫৬ ৩৮
  অস্ট্রেলিয়া ২১ ২২ ২৭ ৩০
  কানাডা ২৬ ২৩ ২৫ ২৭
  পাকিস্তান ২৪ ২৩ ২৫ ২৪
  জার্মানি ২৫ ২৪ ২২ ২২
১০   তুরস্ক ২০ ১৯ ২১ ২০
১১   ইউক্রেন ২০ ১৬ ২২ ১৬
১২   ইরান ১৩ ১৩ ১৩ ১৪
১৩   কাজাখস্তান ১৭ ২২ ১৩
১৪   যুক্তরাজ্য ১৪ ১৪ ১৫ ১৩
১৫   আর্জেন্টিনা ১৫ ১৪ ১১
বিশ্ব ৬৮৬ ৭৫১ ৭০৪ ৬৭৫
সূত্র: জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি[২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Faostat"। ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৫-০৫ 
  2. "Production of Wheat by countries"UN Food & Agriculture Organization (FAO)। ২০১১। ১৩ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৩