বিপন্ন প্রজাতি

বিপন্ন প্রজাতি হল এমন একটি প্রজাতি যাদের অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন দ্বারা শ্রেণিবদ্ধ করা (আইইউসিএন) লাল তালিকাভুক্ত বিপন্ন (ইএন) হল আইইউসিএন এর পরিকল্পনায় বন্য জনসংখ্যার জন্য দ্বিতীয় সবচেয়ে গুরুতর সংরক্ষণ অবস্থা। এর আগে আছে মহা বিপন্ন (সিআর) অবস্থা। ২০১২ সালে, আইইউসিএন লাল তালিকায় বিশ্বব্যাপী বিপন্ন হিসাবে ৩,০৭৯ প্রাণী এবং ২,৬৫৫ উদ্ভিদ প্রজাতিকে বিপন্ন (ইএন) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।[২] ১৯৯৮ সালে এই পরিসংখ্যানটি ছিল যথাক্রমে ১,১০২ এবং ১,১৯৭। অনেক দেশেই আইন আছে, যা সংরক্ষণ-নির্ভরশীল প্রজাতিকে রক্ষা করে: উদাহরণ স্বরূপ, শিকারে নিষেধাজ্ঞা, ভূমি উন্নয়ন সীমাবদ্ধ করা বা সুরক্ষিত অঞ্চল তৈরি করা। প্রাণীগনণার মাধ্যমে পাওয়া জীবের তালিকা থেকে প্রাণীসংখ্যার উপাত্ত, প্রবণতা এবং প্রজাতির সংরক্ষণের স্থিতি পাওয়া যায়।

সাইবেরিয়ার বাঘ একটি অতি বিপন্ন প্রজাতি। ইতোমধ্যেই বাঘের ৩টি উপ-প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। [১]
আইবেরিয়ান লিঙ্কস (লিংস পার্ডিনাস), একটি বিপন্ন প্রজাতি।

সংরক্ষণ অবস্থাসম্পাদনা

একটি প্রজাতির সংরক্ষণ অবস্থা থেকে এটির বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বোঝা যায়। একটি প্রজাতির স্থিতি মূল্যায়ন করার সময় অনেকগুলি বিষয় বিবেচনা করা হয়; যেমন, অবশিষ্ট সংখ্যা কত আছে এই রকম পরিসংখ্যান, সময়ের সাথে সাথে প্রাণীসংখ্যার সামগ্রিক বৃদ্ধি বা হ্রাস, প্রজনন হারের সাফল্য, বা জানা কোন বিপদ আছে কি না।[৩] বিপন্ন প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা হল বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক পরিচিত সংরক্ষণের অবস্থার তালিকা এবং ক্রম পদ্ধতি।[৪]

বিশ্বের ৫০% প্রজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি রয়েছে বলে অনুমান করা হয়।[৫] আন্তর্জাতিকভাবে, ১৯৯ টি দেশ জীববৈচিত্র্য কর্ম পরিকল্পনা তৈরির জন্য একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এটি বিপন্ন এবং অন্যান্য বিপদগ্রস্ত প্রজাতিকে সুরক্ষা দেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই জাতীয় পরিকল্পনাগুলিকে সাধারণত প্রজাতি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বলা হয়।

বন্দী অবস্থায় প্রজননসম্পাদনা

বন্দী অবস্থায় প্রজনন হল মানব নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিয়ন্ত্রিত বিন্যাসে, বিরল বা বিপন্ন প্রজাতির প্রজনন প্রক্রিয়া। এর মধ্যে পড়ে বন্যজীবনের সংরক্ষণ, চিড়িয়াখানা এবং অন্যান্য সংরক্ষণের সুবিধা। বন্দী অবস্থায় প্রজননের উদ্দেশ্য বিপন্ন প্রজাতিগুলিকে বিলুপ্তি থেকে বাঁচানো এবং প্রজাতির জনসংখ্যা স্থিতিশীল করা, যাতে এটি বিলুপ্ত না হয়।[৬]

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কিছু প্রজাতির জন্য উপকার পাওয়া গেছে, সম্ভবত প্রাচীনতম এই জাতীয় বন্দী অবস্থায় প্রজননের উদাহরণ হল ইউরোপীয় এবং এশিয়ান শাসকদের প্রদর্শনীর জন্য বন্দী করে রাখা বন্য প্রাণীর সংগ্রহ, এর একটি উদাহরণ হল পেরে ডেভিডের হরিণ। কিন্তু, বন্দী প্রজনন কৌশলগুলি উচ্চ গতিময় প্রজাতি, যেমন - কিছু পরিযায়ী পাখি (উদাহরণস্বরূপ সারস) এবং মাছ (যেমন ইলিশ), এদের জন্য সাধারণত কার্যকর করা কঠিন। অতিরিক্ত হিসাবে, বন্দী প্রজননের সংখ্যা যদি খুব কম হয়, তাহলে প্রজননের ফলে জিন পুল হ্রাস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। ১৯৮১ সালে, চিড়িয়াখানা ও অ্যাকোয়ারিয়ামস অ্যাসোসিয়েশন (এজেডএ) একটি প্রজাতি বেঁচে থাকার পরিকল্পনা (এসএসপি) তৈরি করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল বন্দী প্রজননের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিপন্ন এবং বিপদগ্রস্ত প্রজাতি সংরক্ষণে সহায়তা করা। ৪৫০ এরও বেশি এসএসপি পরিকল্পনা নিয়ে, কিছু বিপন্ন প্রজাতিকে এজেডএ এর ছাতার তলায় আনা হয়েছে। এদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে প্রাণীসংখ্যা ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যগুলি পূর্ণ করা এবং ট্যাক্সন উপদেষ্টা সংস্থার সুপারিশ মত স্বাস্থ্যকর প্রজননের মাধ্যমে প্রাণীসংখ্যার বৃদ্ধি করা। এই কার্যক্রমগুলি একটি শেষ অবলম্বন প্রচেষ্টা হিসাবে তৈরি করা হয়েছে। এসএসপি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে প্রজাতি পুনরুদ্ধার, বন্যজীবনে রোগের প্রকোপের জন্য পশুচিকিৎসকের যত্ন, এবং কিছু অন্যান্য বন্যজীবন সংরক্ষণ প্রচেষ্টায় অংশ নেয়। এজেডএ এর প্রজাতি সংরক্ষণ পরিকল্পনায় প্রজনন এবং স্থানান্তর কার্যক্রমও রয়েছে, উভয় কার্যক্রমই এজেডএ এর - শংসাপত্রযুক্ত চিড়িয়াখানা এবং অ্যাকোয়ারিয়ামের ভিতরে এবং বাইরে চলে। এসএসপি কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত কিছু প্রাণী হল বৃহৎ পান্ডা, নিম্নভূমি অঞ্চলের গরিলা এবং ক্যালিফোর্নিয়া কন্ডর[৭]

গ্যালারীসম্পাদনা

আরো দেখুনসম্পাদনা

IUCN Red List

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. প্রকল্প: সুন্দরবনের বাঘ। ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৮ জুন ২০০৯ তারিখে বিপন্ন বাঘের তথ্য আছে এই ওয়েব সাইটের বাঘ বিষয়েক শ্রেণীতে
  2. "IUCN Red List version 2012.2: Table 2: Changes in numbers of species in the threatened categories (CR, EN, VU) from 1996 to 2012 (IUCN Red List version 2012.2) for the major taxonomic groups on the Red List" (PDF)IUCN। ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১২-৩১ 
  3. "NatureServe Conservation Status"। NatureServe। এপ্রিল ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১২ 
  4. "Red List Overview"। IUCN। ফেব্রুয়ারি ২০১১। মে ২৭, ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১২ 
  5. "Threatened Species"। Conservation and Wildlife। সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১২ 
  6. "Captive Breeding Populations - National Zoo"। Nationalzoo.si.edu। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-১২-০৬ 
  7. "Association of Zoos and Aquariums Species Survival Programs"। ২০০৯-০৮-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 

আরো পড়ুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

টেমপ্লেট:Threatened species টেমপ্লেট:Zoos