শাবনূর

বাংলাদেশী অভিনেত্রী
(শাবনুর থেকে পুনর্নির্দেশিত)

শাবনূর (জন্ম: ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭৯)[১] হলেন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম সফল অভিনেত্রী। তিনি ২০০৫ সালে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত দুই নয়নের আলো ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি ছয়বার বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি রেকর্ড সংখ্যক ১০ বার তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেছেন।

শাবনূর
Shabnur-actress.jpg
শাবনূরের মডেলিং ছবি
জন্ম
কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর

(1979-12-17) ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭৯ (বয়স ৪০)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
অন্যান্য নামনূপুর
পেশাঅভিনেত্রী
কর্মজীবন১৯৯৩–বর্তমান
উচ্চতা৫ ফু ৩ ইঞ্চি (১.৬০ মি)
দাম্পত্য সঙ্গীঅনিক মাহমুদ (বি. ২০১২)
সন্তানআইজান নেহান
পুরস্কারনিচে দেখুন

শাবনূরের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে চাঁদনী রাতে (১৯৯৩) চলচ্চিত্র দিয়ে। এই চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হলেও পরে সালমান শাহের সাথে জুটি বেধে তিনি সফলতা লাভ করেন। সালমান শাহের সাথে তার অভিনীত স্বপ্নের ঠিকানা (১৯৯৫) ও সত্যের মৃত্যু নাই (১৯৯৬) যথাক্রমে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শীর্ষ ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র।[২] ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত তিনি টানা পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন, তন্মধ্যে প্রথম তিন বছর কোন নির্দিষ্ট চলচ্চিত্রের জন্য পুরস্কার প্রদান করা হয়নি এবং পরের দুই বছর যথাক্রমে শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ (২০০১) ও স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ (২০০২) চলচ্চিত্রের জন্য। তার পরের পাঁচটি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার আসে ফুলের মত বউ (২০০৪), মোল্লা বাড়ীর বউ (২০০৫), আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), ১ টাকার বউ (২০০৮), ও বলবো কথা বাসর ঘরে (২০০৯) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য।

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

শাবনূর ১৯৭৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক ভাবে তার নাম রাখা হয় কাজী শারমিন নাহিদ নুপুর। চলচ্চিত্রে আগমনের পরে পরিচালক এহতেশাম তার নাম রাখেন শাবনূর। শাবনূর শব্দের অর্থ রাতের আলো। শাবনূরের পিতার নাম শাহজাহান চৌধুরী।[৩] তিন ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় তিনি। তার ছোট বোন ঝুমুর[৩] এবং ভাই তমাল দুজনেই নিজ নিজ পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী।

অভিনয় জীবনসম্পাদনা

প্রাথমিক কর্মজীবন: ১৯৯৩-২০০০সম্পাদনা

শাবনূরের প্রথম চলচ্চিত্র চাঁদনী রাতে ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায়। ছবিটি পরিচালনা করেন এহতেশাম এবং তার বিপরীতে নায়ক ছিল সাব্বির। এই ছবিটি ব্যর্থ হয়। পরে চিত্র নায়ক সালমান শাহের সাথে জুটি বেধে ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন যার প্রায় সবগুলোই ছিল ব্যবসায়িক মানদন্ডে সফল।[৪] সালমান শাহ-শাবনূর জুটির প্রথম ছায়াছবি জহিরুল হক পরিচালিত তুমি আমার ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়। একই বছর শাহ আলম কিরণ তাদের নিয়ে ফারুক-কবরী জুটির সুজন সখী চলচ্চিত্রের রঙিন পুনঃনির্মাণ সুজন সখি নির্মাণ করেন। ১৯৯৫ সালে এই জুটির স্বপ্নের ঠিকানা চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র।[৫] পরের বছর তিনি স্বপ্নের পৃথিবী চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন।[৬] এরপর তিনি সালমান শাহের বিপরীতে তোমাকে চাই (১৯৯৬) ও শিবলি সাদিক পরিচালিত আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।[৭] স্বপ্নের পৃথিবী পরে তিনি নায়ক রিয়াজ এর বিপরীতে অভিনয় করে দারুন সফলতা অর্জন করেন। রিয়াজের বিপরীতে ১৯৯৭ সালে মন মানেনাতুমি শুধু তুমি এবং ১৯৯৯ সালে অভিনীত ভালবাসি তোমাকেবিয়ের ফুল ছায়াছবিগুলো ব্যবসা সফল হয়। পাশাপাশি তিনি অভিনেতা ফেরদৌসের সাথেও সফল হন। এছাড়াও তিনি মান্না, শাকিব খানের সাথে অভিনয় করে সফল হয়েছেন। এসময়ে তিনি ভালবাসি তোমাকে চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন[৮] এবং ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালের চলচ্চিত্রের জন্য পর্যন্ত টানা দুইবার তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন।

জনপ্রিয়তা ও সাফল্য: ২০০০-২০০৯সম্পাদনা

২০০০ সালে শাবনূর রিয়াজের বিপরীতে মতিন রহমান পরিচালিত নারীর মনএ মন চায় যে..!, এফ আই মানিক পরিচালিত এ বাঁধন যাবেনা ছিঁড়ে, জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি, সাঈদুর রহমান সাঈদ পরিচালিত এরই নাম দোস্তি, শাকিব খানের বিপরীতে এফ আই মানিক পরিচালিত ফুল নেবে না অশ্রু নেবে এবং ইস্পাহানি আরিফ জাহান পরিচালিত গোলাম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০১ সালে তিনি রিয়াজের বিপরীতে দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত হাস্যরসাত্মক-রোম্যান্সধর্মী শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ, গাজী মাহবুব পরিচালিত রোম্যান্সধর্মী প্রেমের তাজমহল, ও এফ আই মানিক পরিচালিত রোম্যান্সধর্মী স্বপ্নের বাসর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পরের বছর আমজাদ হোসেন পরিচালিত সুন্দরী বধূ, এফ আই মানিক পরিচালিত হৃদয়ের বন্ধনস্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ, জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত মিলন হবে কত দিনেভালবাসা কারে কয়, শাহাদৎ হোসেন লিটন পরিচালিত ও প্রিয়া তুমি কোথায় এবং আজাদী হাসনাত ফিরোজ পরিচালিত সবার উপরে প্রেম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০০ থেকে ২০০২ সালের চলচ্চিত্রের জন্য তিনি টানা তিনবার যথাক্রমে ২০০০ সালের সকল চলচ্চিত্র, ২০০১ সালের শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ, এবং ২০০২ সালের স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ চলচ্চিত্রের জন্য তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৩ সালে অভিনয় করেন মতিন রহমান পরিচালিত মাটির ফুল, এফ আই মানিক পরিচালিত দুই বধূ এক স্বামী, আমজাদ হোসেন পরিচালিত প্রাণের মানুষ, আজাদী হাসনাত ফিরোজ পরিচালিত বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ, জিল্লুর রহমান পরিচালিত স্বপ্নের ভালবাসা, মহম্মদ হান্‌নান পরিচালিত নয়ন ভরা জল চলচ্চিত্রে। এ বছর বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ ছবিতে বর্ষা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন[৯] এবং দর্শক জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এর মনোনয়ন লাভ করেন। ২০০৪ সালে শাবনূর কাজী হায়াৎ পরিচালিত অপরাধ-নাট্যধর্মী অন্য মানুষ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত হাস্যরসাত্মক-নাট্যধর্মী ব্যাচেলর, আজাদী হাসনাত ফিরোজ পরিচালিত ফুলের মত বউ, মিজানুর রহমান খান দীপু পরিচালিত যত প্রেম তত জ্বালা, শিল্পী চক্রবর্তী পরিচালিত তোমার জন্য পাগল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ফুলের মত বউ ছবিতে রুবী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ষষ্ঠবারের মত দর্শক জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন এবং চতুর্থবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।[১০] ২০০৫ সালে তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আমজাদ হোসেন পরিচালিত নাট্যধর্মী কাল সকালে, সালাউদ্দিন লাভলু পরিচালিত হাস্যরসাত্মক-নাট্যধর্মী মোল্লা বাড়ীর বউ, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত বিয়োগান্তক-নাট্যধর্মী দুই নয়নের আলো এবং রোম্যান্টিক আমার স্বপ্ন তুমিদুই নয়নের আলো ছায়াছবিতে সেঁজুতি চরিত্রের অভিনয় করে অর্জন করেন প্রথমবারের মত শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এবং শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। এছাড়া মোল্লা বাড়ীর বউ চলচ্চিত্রে পারুল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য লাভ করেন দর্শক জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার[১১]

২০০৬ সালে শাবনূর খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস জনম জনম অবলম্বনে নির্মিত নিরন্তর ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। আবু সাইয়ীদ পরিচালিত এই ছবিতে তিথি চরিত্রে তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করে। ২০০৭ সালের ঈদে মুক্তি পায় মালেক বিশ্বাস পরিচালিত মেয়ে সাক্ষী,[১২] মহম্মদ হান্‌নান পরিচালিত ভালবাসা ভালবাসা, এবং পি এ কাজল পরিচালিত আমার প্রাণের স্বামী। তিনি আমার প্রাণের স্বামী চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার,[১৩] ও দর্শক জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন এবং সমালোচকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। ২০০৮ সালে পি এ কাজলের রোম্যান্টিকধর্মী ১ টাকার বউ ছবিতে অভিনয় করেন। এতে তার সহশিল্পী ছিল শাকিব খান ও রুমানা খান। ২০০৯ সালে রিয়াজের বিপরীতে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত তুমি আমার স্বামী, এটিএম শামসুজ্জামান পরিচালিত এবাদত ও আব্দুল মান্নান পরিচালিত মন বসে না পড়ার টেবিলে এবং শাকিব খানের বিপরীতে পি এ কাজল পরিচালিত স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা ও শাহ মোঃ সংগ্রাম পরিচালিত বলবো কথা বাসর ঘরে ছবিতে অভিনয় করেন। তিনি ১ টাকার বউ (২০০৮)[১৪] এবং বলবো কথা বাসর ঘরে (২০০৯) ছায়াছবির জন্য টানা দুইবার দর্শক জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার জিতে নেন।[১৫] এছাড়া তিনি ২০০৮ সালের বর্ষসেরা তারকা হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।[১৬]

২০১০-বর্তমানসম্পাদনা

শাবনূর ২০১০ সালে অভিনয় করেন মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত এভাবেই ভালোবাসা হয়, মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত চাঁদের মত বউ, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত মন ছুঁয়েছে মন, চন্দন চৌধুরী পরিচালিত ভালোবেসে বউ আনব এবং বি আর চৌধুরী পরিচালিত বধূ তুমি কার ছায়াছবিতে।[১৭] এ বছর এভাবেই ভালোবাসা হয় ছায়াছবির জন্য তিনি দর্শক জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এর মনোনয়ন লাভ করেন। ২০১২ সালের শেষের দিকে পাগল মানুষ ছায়ছবির কাজ শুরু করেন কিন্তু শ্যুটিং স্পটে পরিচালক এম এম সরকার মারা গেলে ছায়াছবিটির কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আবার নতুন করে ছায়াছবিটির জন্য চুক্তিবদ্ধ হন এবং পরিচালক বদিউল আলম খোকন ছায়াছবিটির কাজ শেষ করেন।[১৮] ২০১৩ সালে মুক্তি পায় ফেরদৌস ও মৌসুমীর সাথে অভিনীত মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত কিছু আশা কিছু ভালোবাসা[১৯] ২০১৬ সালে চুক্তিবদ্ধ হন পি এ কাজলের মন যারে চায় ছায়াছবিতে। এতে তাকে একজন নারী নেত্রীর ভূমিকায় দেখা যাবে।[২০] এছাড়া চুক্তিবদ্ধ হন মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের কতদিন দেখিনি তোমায় ছায়াছবিতে। এতে তার বিপরীতে কাজ করবেন ফেরদৌস।[২১]

জুঁটিসম্পাদনা

:

শাবনূর অনেক নায়কের সাথে জুটি বেঁধে কাজ করে জনপ্রিয়তা ও সফলতা পেয়েছেন এবং একইসাথে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পে রেখেছেন তার অসামান্য অবদান। তারমধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল অমর নায়ক সালমান শাহ'র সাথে জুঁটি। সালমান-শাবনূর জুঁটি ১৯৯০ দশকোত্তর চলচ্চিত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী জুঁটি বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৬ সালে সালমানের অকাল প্রয়াণের পরে শাবনূর রিয়াজ, সাকিল খান, ফেরদৌস, মান্না এবং শাকিব খানের সাথে সফল জুঁটি গড়ে তুলেন এবং বহু জনপ্রিয় ছবি দর্শকদের উপহার দেন।

শাবনূর-সালমান জুঁটি

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম কালজয়ী নায়ক সালমান শাহের সাথে শাবনূরের প্রথম জুটি গড়ে উঠে। সালমান শাহের মোট ২৭ টি চলচ্চিত্রের মধ্যে এই জুঁটির ছবি হল ১৪ টি। সালমান-শাবনূরের ১৪ টি ছবিই ছিল ব্যবসা সফল এবং দর্শক নন্দিত। ১৯৯৪ সালে তুমি আমার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এ জুঁটির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে এ জুঁটির স্বপ্নের ঠিকানা ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্রের ২য় সর্বোচ্চ সফল ছবি। এ জুটির অন্যান্য আলোচিত ছবিগুলো হল- আনন্দ অশ্রু, প্রেম পিয়াসী, চাওয়া থেকে পাওয়া, তোমাকে চাই, মহা মিলন, স্বপ্নের পৃথিবী, স্বপ্নের নায়ক, সুজন সখী, বিক্ষোভ, বিচার হবে, বুকের ভেতর আগুন ইত্যাদি। সালমান শাহ'র অকাল প্রয়াণে এ জুঁটি ভেঙ্গে গেলেও এখনো সকলের কাছে অনুসরণীয় জুঁটি সালমান-শাবনূর। তাদের সিনেমায় ব্যবহৃত বিভিন্ন স্টাইল, কস্টিউম, নাচের মুদ্রা, গানের লিরিক, ছবির নাম এখনো বহু চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা হয়। ১৯৯০ দশকে সালমান-শাবনূর জুঁটির ভিউকার্ড সংগ্রহ করা হত প্রচুর এবং ভক্তকূলের কাছে এ জুঁটি চির সবুজ জুঁটি হয়ে আছে।

শাবনূর-রিয়াজ জুটি

সালমান শাহের অকাল প্রয়াণে রোমান্টিক জুঁটির যে খরা হঠাৎ তৈরি হয় তা বেশ ভালোভাবে পূরণ করেন শাবনূর-রিয়াজ জুটি। এ জুটিটিও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও তুমুল জনপ্রিয় জুটি। বলা হয়ে থাকে সালমান শাহের পরে শাবনূরের সাথে জুটি হিসেবে রিয়াজ ই ছিল দর্শকের সবচেয়ে পছন্দ। এ জুটির প্রথম ছবি ছিল মন মানে না (১৯৯৭)। পরবর্তীতে টানা জুটি হয়ে ২০০৩ সাল পর্যন্ত অনেক ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দেয় শাবনূর-রিয়াজ জুটি। মাঝে একটু ভাঙ্গন ধরলেও পরবর্তীতে পুনরায় জুটি হয়ে একাধিক ছবি করেন তারা। এ জুটির একসাথে প্রায় ৪৩টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। যার মধ্যে অন্যতম হল- পৃথিবী তোমার আমাত, ভালোবাসি তোমাকে, নারীর মন, বিয়ের ফুল, কাজের মেয়ে, বুক ভরা ভালবাসা, এই মন চায় যে, এ বাধঁন যাবে না ছিড়ে, সুন্দরী বধূ , হৃদয়ের বন্ধন, স্বপ্নের ভালোবাসা, স্বপ্নের পুরুষ, মোল্লা বাড়ির বউ, শ্বশুর বাড়ি জিন্দাবাদ, প্রেমের তাজমহল, স্বপ্নের বাসর, এরই নাম দোস্তি, এবাদত, তোমাকে বউ বানাবো ইত্যাদি। শিরি ফরহাদ (২০১৩) এ জুটির শেষ ছবি। এই জুটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি পরিচিত। ১৯৯৭ সালে এই জুটির প্রথম ছবি মন মানেনা মুক্তি পায।[২৩] এটি পরিচালনা করেছেন চলচ্চিত্রকার মতিন রহমান।[২৩] এবং চলচ্চিত্রটি আশানুরূপ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। সালমান শাহ'র অকাল মৃত্যুর পর সালমানের পরিবর্তে এই ছবিতে অভিনয় করেন রিয়াজ। মৃত্যুর আগে ছবির প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ করেছিলেন সালমান।[২৪] ১৯৯৮ সালে মহাম্মদ হান্নান পরিচালিত ভালোবাসি তোমাকে চলচ্চিত্রটি দারুন জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০০১ সালে এই জুটির একটি সফল চলচ্চিত্র হল প্রেমের তাজমহল। গাজী মাহাবুব পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি বাংলা ছবির মন্দা কাটাতে দারুণ ভুমিকা রাখে। চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং তারা নতুন করে আলোচনায় উঠে আসেন।[৯০] এই জুটির আরো একটি চলচ্চিত্র ও প্রিয়া তুমি কোথায় এটি পরিচালনা করেছেন শাহাদাত হোসেন লিটন। এ চলচ্চিত্রে আরও অভিনয় করেন বর্তমান চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান। এটির নামকরণ করা হয় তারকা সংগীত শিল্পী আসিফ আকবর এর জনপ্রিয় গান ও প্রিয়া তুমি কোথায় শিরোনাম অনুসরণ করে।[৯১] ছবিটি সে সময় ব্যাবসায়িকভাবে ভালো সফলতা লাভ করে। হৃদয়ের বন্ধন এই জুটির অন্যতম একটি সফল চলচ্চিত্র। বিখ্যাত পরিচালক এফ আই মানিক পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি সেসময় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়। ২০০৫ সালে মুক্তি পায় মোল্লা বাড়ীর বউ চলচ্চিত্রটি, রিয়াজ-শাবনূর জুটিকে বড় আকারের সফলতা এনে দেয় এটিও।[৯২] চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন টিভি নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু।[৯২] এটি প্রযোজনা করেন মনের মাঝে তুমি ছবির পরিচালক মতিউর রহমান পানু।[৯২] এছাড়াও রয়েছে এই জুটির উল্লেখযোগ্য আরো বেশ কয়েকটি সফল চলচ্চিত্র। রিয়াজ-শাবনূর জুটি এই পর্যন্ত প্রায় চল্লিশটিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। রিয়াজ-শাবনূর জুটি অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র শিরি ফরহাদ মুক্তি পায় ২২শে মার্চ ২০১৩ সালে যা গাজী মাহবুব পরিচালনা করেন।[৯০][৯৩][৯৪]

শাবনূর-শাকিল খান জুঁটি

১৯৯০ দশকের শেষ দিকে রিয়াজের পাশাপাশি সাকিল খানের সাথে ও শাবনূরের একটু সুন্দর জুটি গড়ে উঠেছিল। এ জুটির অনেক ত্রিভুজ প্রেমের ছবি দর্শকের কাছে খুব জনপ্রিয় হয় এবংং ব্যবসায়িক ভাবেও ছবিগুলো সফল হয়। বিয়ের ফুল, নারীর মন, মন, বলোনা ভালোবা, দুষ্ট ছেলে মিষ্টি মেয়ে ইত্যাদি এ জুটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য ছবি।

শাবনূর-ফেরদৌস জুটি

বুকের ভেতর আগুন ছবিটি শাবনূর-ফেরদৌসের প্রথম ছবি। সালমান শাহের অকাল প্রয়াণের কারণে এ ছবিতে সালমানের সার্জারি করা রূপে আসেন ফেরদৌস। সুদর্শন নায়ক ফেরদৌসের সাথেও শাবনূরের জুটি ছিল দর্শক প্রিয় এবং তারা একত্রে প্রায় ৩৫ টি ছবি করেন। তাদের চলচ্চিত্র গুলো যেমন রোমান্টিক ছিল তেমন ছিল সামাজিক কাহিনী নির্ভর। এ জুটির রোমান্টিক ছবির অন্যতম হল- যত প্রেম তত জ্বালা, সবার উপরে প্রেম, এই মন চায় যে, প্রেমের জ্বালা, বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ, ফুলের মত বউ, দিল তো পাগল, তুমি বড় ভাগ্যবতী, আমার স্বপ্ন তুমি, ঘরের লক্ষী, দুই নয়নের আলো ইত্যাদি। সামাজিক বাস্তবতায় এবং সাহিত্য নির্ভর চলচ্চিত্রেও এই জুটি ছিলেন বেশ সফল। কাল সকালে, দুখনী জোহরা, জমেলা সুন্দরী, ঘর জামাই, বিয়াইন সাব, রঙিন রসের বাইদানি ইত্যাদি এ জুটির আরো কিছু জনপ্রিয় ছবি। এ জুটির সর্বশেষ ছবি কিছু আশা ভালোবাসা (২০১৩)।

শাবনূর-মান্না জুটি

শাবনূর ১৯৯০ দশকের শেষের দিকে কয়েকজন নায়কের সাথে সিনেমা করবেন না বলে ঘোষণা দেন যার মধ্যে মান্না ও ছিলেন। কেননা শাবনূর নারী প্রধান চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাইতেন বেশি। পরে মান্না শাবনূরকে তৎকালীন সময়ে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দিয়ে শাবনূরকে কাস্ট করেন তার প্রযোজিত স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ সিনেমায়। ২০০২ সালের এ সিনেমা ব্যবসা সফল হয় এবং শাবনূর-মান্না জুটি গড়ে উঠে। এ জুটির সিনেমার সংখ্যা অল্প হলেও, দুই বধু এক স্বামী, প্রেম সংঘাত, মোগলে আজমের মত দর্শক প্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন তাঁরা।

শাবনূর-শাকিব খান জুটি

শাবনূরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সর্বশেষ সফল জুঁটি গড়ে উঠে শাকিব খানের সাথে। ১৯৯৯ সালেই শাবনূর-শাকিব খান জুটির প্রথম ছবি গোলাম মুক্তি পায়। ছবিটি ব্যবসা সফল না হলেও পরের বছর ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্তএ জুটির ফুল নেব না অশ্রু নেব ছবিটি দর্শক নন্দিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা সফল ও হয় এবং এই ছবির গানগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়। পরবর্তীতে রিয়াজ-শাবনূর-শাকিব এবং ফেরদৌস-শাবনূর-শাকিব মিলে অনেক ত্রিভুজ প্রেমের ছবিও উপহার দেন দর্শকদের। এ জুটির অন্যতম সফল ছবি "আমার স্বপ্ন তুমি (২০০৫)" যা শাকিবের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবেও কাজ করে। এ ছবির পরে একক নায়ক হিসেবে শাকিব খান শাবনূরের সাথে অনেক হিট সিনেমা উপহার দেন। এ জুটির মোট মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার সংখ্যা ২৫ টি (প্রায়)। দুই নয়নের জল, আমার প্রাণের স্বামী, এক টাকার বউ, বলবো কথা বাসর ঘরে, কঠিম প্রেম, জন্ম, মায়ের মর্যাদা, স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা ইত্যাদি শাবনূর-শাকিব জুটির অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী অনিক মাহমুদের সঙ্গে শাবনূরের আংটি বদল হয় এবং ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাকে বিয়ে করেন।[২২] তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস শুরু করেন ও নাগরিকত্ব লাভ করেন।[২৩] ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি ১ম ছেলে সন্তানের মা হন। তার ছেলের নাম আইজান নিহান।[২৪]

চলচ্চিত্রের তালিকাসম্পাদনা

পুরস্কার ও মনোনয়নসম্পাদনা

শাবনূর দুই নয়নের আলো (২০০৫) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য একবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি ছয়টি বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন, তন্মধ্যে স্বপ্নের ঠিকানা (১৯৯৫), ভালবাসি তোমাকে (১৯৯৯), বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ (২০০৩), ফুলের মত বউ (২০০৪), আমার প্রাণের স্বামী (২০০৯) চলচ্চিত্রের অভিনয়ের জন্য পাঁচটি এবং ২০০৯ সালে বর্ষসেরা তারকা হিসেবে একটি। এছাড়া তিনি রেকর্ড সংখ্যক ১৩টি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের মনোনয়ন থেকে ১০টি পুরস্কার অর্জনসহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "শাবনূরের আজ জন্মদিন"প্রিয়.কম। ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০২০ 
  2. "সিনেমার আয়-ব্যয় ও ফাঁকা বুলি"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ৬ আগস্ট ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০২০ 
  3. সাহা, জয়ন্ত (৩০ ডিসেম্বর ২০১৩)। "সন্তান নিয়ে মার্চে ফিরছেন শাবনূর"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০২০ 
  4. শান্তা মারিয়া (৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "অন্তরে সালমান শাহ"বিডিনিউজ। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৬ 
  5. "চলচ্চিত্র ব্যবসা: লাভের গুড় কে খায়?"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০২০ 
  6. জোয়াদ ২০১০, পৃ. ৪৭৯।
  7. গোলাম রিয়াদ (৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। "অন্তরে সালমান শাহ"দৈনিক ভোরের পাতা। ২৮ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৬ 
  8. জোয়াদ ২০১০, পৃ. ৪৮০।
  9. আফসার আহমেদ (২৮ জুন ২০০৪)। "32nd BACHSAS Awards: A glitzy night: Recognition of outstanding media talents"দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৬ 
  10. জোয়াদ ২০১০, পৃ. ৪৮১।
  11. "Meril-Prothom Alo awards for 2005 given"দ্য ডেইলি স্টার। ১৩ মে ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০১৭ 
  12. এরশাদ কমল (৫ অক্টোবর ২০০৭)। "Eid releases: Dhaliwood predicts profit"দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১১ 
  13. জোয়াদ ২০১০, পৃ. ৪৮২।
  14. "Meril-Prothom Alo Award ceremony held [অনুষ্ঠিত হল মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার]"দ্য ডেইলি স্টার। ১১ এপ্রিল ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৬ 
  15. কামরুজ্জামান (১০ মে ২০১০)। "দশে ১০"। দৈনিক প্রথম আলো 
  16. জোয়াদ ২০১০, পৃ. ৪৮০-৮৩।
  17. "দেশে ফিরেছেন শাবনূর"দৈনিক প্রথম আলো। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৬ 
  18. মাজহার বাবু (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন শাবনূর"এনটিভি অনলাইন। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৬ 
  19. জয়ন্ত সাহা (৩১ আগস্ট ২০১৩)। "এক সিনেমায় মৌসুমী-শাবনূর-ফেরদৌস"বিডিনিউজ। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৬ 
  20. "নেত্রী হয়ে পর্দায় আসছেন শাবনূর"বাংলা ট্রিবিউন। ২০ মার্চ ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৬ 
  21. "অবশেষে নতুন ছবিতে শাবনূর"বাংলানিউজ। ২৭ এপ্রিল ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৬ 
  22. "অবশেষে স্বামীকে নিয়ে অনুষ্ঠানে শাবনূর"ভোরের কাগজ। ৩ জানুয়ারি ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৬ 
  23. মনজুর কাদের (৪ ডিসেম্বর ২০১৩)। "অবশেষে মুখ খুললেন শাবনূর!"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৬ 
  24. "মা হলেন শাবনূর"দৈনিক প্রথম আলো। ২৯ ডিসেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৬ 

গ্রন্থপঞ্জিসম্পাদনা

  • জোয়াদ, আবদুল্লাহ (২০১০)। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র: পাঁচ দশকের ইতিহাস। ঢাকা: জ্যোতিপ্রকাশ। আইএসবিএন 984-70194-0045-9 |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid prefix (সাহায্য) 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা