আলম খান

বাংলাদেশী গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক

খুরশিদ আলম খান (জন্ম: ২২ অক্টোবর, ১৯৪৪), বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক[৩] চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার বিভাগে সাতবার বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।[৪]

আলম খান
জন্ম
খুরশিদ আলম খান

(1944-10-22) ২২ অক্টোবর ১৯৪৪ (বয়স ৭৫)[১]
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
পেশাগীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক
পরিচিতির কারণসঙ্গীতজ্ঞ
পিতা-মাতাআফতাব উদ্দিন খান (বাবা)
জোবেদা খানম (মা)
আত্মীয়আজম খান (ভাই)
পুরস্কারজাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
সঙ্গীত কর্মজীবন
ধরন
বাদ্যযন্ত্রসমূহ
লেবেলঅণুপম মিউজিক[২]
সহযোগী শিল্পী

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

আলম খান ১৯৪৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিরাজগঞ্জের বানিয়াগাতি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আফতাব উদ্দিন খান ছিলেন সেক্রেটারিয়েট হোম ডিপার্টমেন্ট এর এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার ও মা জোবেদা খানম ছিলেন গৃহিণী। তার মা জোবেদা খানম ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার দরবারের এক শিল্পীর বংশধর।[৫] সিরাজগঞ্জে কয়েক বছর থাকার পর বাবার চাকরি সুবাদে কলকাতায় চলে যান। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর বাবার সাথে ফিরে আসেন ঢাকায়। তারপর ঢাকাতেই স্থায়ী হন এবং সিদ্ধেশ্বরী স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকেই মেট্রিক পাস করেন। স্কুলে থাকাকালীন তার গানের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি হয়। বাবা আফতাব উদ্দিন প্রথমে অনাগ্রহ দেখালেও মায়ের উৎসাহে গানের চর্চা চালিয়ে যান। পরবর্তীতে তার বাবাই তাকে ওস্তাদ ননী চ্যাটার্জীর কাছে গানের তালিমের জন্য নিয়ে যান। পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে আলম খান মেজো। বাংলাদেশের প্রখ্যাত পপ সঙ্গীত শিল্পী আজম খান ছিলেন তার ছোট ভাই।[৬]

সঙ্গীত জীবনসম্পাদনা

আলম খান ১৯৬৩ সালে রবিন ঘোষের সহকারী হিসেবে তালাশ চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেন। ১৯৭০ সালে প্রথম চলচ্চিত্রকার আবদুল জব্বার খান পরিচালিত কাচ কাটা হীরে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এককভাবে সঙ্গীত পরিচালনা শুরু করেন। তার সুরকৃত প্রথম জনপ্রিয় গান স্লোগান ছায়াছবির "তবলার তেড়ে কেটে তাক"। এরপর ১৯৭৭ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন তার পরিচালিত সারেং বৌ চলচ্চিত্রের গান নিয়ে কথা বলার সময় তার ১৯৬৯ সালের সুর করা একটি মুখরা শুনালে ছবির পরিচালক তা নিতে আগ্রহী হন। ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবির আবদুল জব্বারের কণ্ঠে "ওরে নীল দরিয়া" গানটি তার এক অনন্য সৃষ্টি।[৭] ১৯৮২ সালে রজনীগণ্ধা চলচ্চিত্রে সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া "আমি রজনীগণ্ধা ফুলের মত" ও বড় ভালো লোক ছিল চলচ্চিত্রের সৈয়দ শামসুল হকের লেখা এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে "হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস" দর্শকদের মনোযোগ কাড়ে। বড় ভালো লোক ছিল চলচ্চিত্রের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার[৮] ১৯৮৫ সালে তার সুর করা তিন কন্যা চলচ্চিত্রের "তিন কন্যা এক ছবি" গান দিয়ে প্লেব্যাক শুরু করেন কলকাতার নামকরা সঙ্গীতশিল্পী কুমার শানু। নাগ পূর্ণিমা চলচ্চিত্রের এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া রক ধাঁচের "তুমি যেখানে আমি সেখানে", ভেজা চোখ চলচ্চিত্রের এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে "জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প" গানগুলো শ্রোতাপ্রিয়তা লাভ করে।[৯]

পারিবারিক জীবনসম্পাদনা

আলম খান ১৯৭৬ সালে হাবিবুননেসা গুলবানুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। গুলবানু একজন গীতিকার। আলম খানের সুরে সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে গাওয়া "তুমি তো এখন আমারই কথা ভাবছো" গানটির গীতিকার গুলবানু। তাদের দুই ছেলে আরমান খান ও আদনান খান দুজনেই সঙ্গীত পরিচালক এবং একমাত্র মেয়ে আনিকা খান।[১০]

ডিস্কোগ্রাফিসম্পাদনা

চলচ্চিত্রের গানসম্পাদনা

পুরস্কার ও সম্মাননাসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধেয় আলম খান !!!"মিডিয়া খবর। ২২ অক্টোবর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৩ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "এ প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে আলম খান-এর গান"দৈনিক ইত্তেফাক। ২০ জানুয়ারি ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৬ 
  3. "'পুরানো সেই দিনের কথা'য় আলম খান"দৈনিক ইত্তেফাক। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৬ 
  4. "ফুসফুসে ক্যানসার আক্রান্ত আলম খান"দৈনিক প্রথম আলো। ২৬ জুলাই ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৩ 
  5. ইমা খান (৬ আগস্ট ২০১১)। "আমার চাচা আলম খান"বাংলানিউজ। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৬ 
  6. নাইস নূর (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "আজম খুব সাধারণ ছিল : আলম খান"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৬ 
  7. "সোনালী দিনের সেইসব গান"চ্যানেল আই অনলাইন। ২০১৫-০৭-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-২৩ 
  8. "সম্পর্কের তিন যুগে গুরু-শিষ্য"দৈনিক যুগান্তর। ১৪ নভেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৬ 
  9. কবির বকুল (অক্টোবর ২৯, ২০১৫)। "আলম খানের গান ও গল্প"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৬ 
  10. রওশন আরা বিউটি (১২ নভেম্বর ২০১৫)। "সুরের জাদুকর আলম খান"দৈনিক আজাদী। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

বহিঃসংযোগসম্পাদনা