প্রধান মেনু খুলুন

প্রশান্ত মহাসাগর

পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর

প্রশান্ত মহাসাগর (ইংরেজি: Pacific Ocean; লাতিন ভাষায়: Mare Pacificu) পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর। এটি দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিকা পর্যন্ত বিস্তৃত; পশ্চিমে এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া ঘেরা; এবং এর পূর্বে রয়েছে দুই আমেরিকা মহাদেশ। প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন ১৬৯.২ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার (৬৫.৩ মিলিয়ন বর্গমাইল), যা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রায় ৩২ শতাংশ, সমস্ত জলভাগের ৪৬% [১] এবং পৃথিবীর সমস্ত ভূমি পৃষ্ঠের চেয়ে আয়তনে বেশি। ভু-মধ্যরেখা একে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে ভাগ করেছে।[২] এর গভীরতা ৪,০০০ মিটার (১৩,০০০ ফুট)[৩] এবং পশ্চিম উত্তর প্রশান্ত সাগরের মারিয়ানা টেঞ্চ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম বিন্দু যার গভীরতা ১০,৯১১ মিটার (৩৫,৭৯৭ ফুট)[৪]

প্রশান্ত মহাসাগর
Map of the Pacific Ocean
স্থানাঙ্ক০° উত্তর ১৬০° পশ্চিম / ০° উত্তর ১৬০° পশ্চিম / 0; -160স্থানাঙ্ক: ০° উত্তর ১৬০° পশ্চিম / ০° উত্তর ১৬০° পশ্চিম / 0; -160
পৃষ্ঠতল অঞ্চল১৬,৫২,৫০,০০০ কিমি (৬,৩৮,০০,০০০ মা)
গড় গভীরতা৪,২৮০ মি (১৪,০৪০ ফু)
সর্বাধিক গভীরতা১০,৯১১ মি (৩৫,৭৯৭ ফু)
পানির আয়তন৭১,০০,০০,০০০ কিমি (১৭,০০,০০,০০০ মা)
জনবসতিAuckland, Guayaquil, Honolulu, Ilagan, Lima, Los Angeles, Shanghai, Sydney, Tokyo, Vancouver
প্রশান্ত মহাসাগরের আগ্নেয়গিরি ও গিরিখাতের ছবি

প্রশান্ত মহাসাগরে মোট দ্বীপের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার[তথ্যসূত্র প্রয়োজন], যা বাকি চারটি মহাসাগরের সম্মিলিত দ্বীপের সংখ্যার চেয়ে বেশি। বেশির ভাগ দ্বীপ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত। প্রশান্ত মহাসাগরে মাইক্রোনেশিয়া, পলিনেশিয়ার মতো ছোট দ্বীপ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে তাইওয়ান, নিউ গায়ানার মতো বড় দ্বীপ। নাম প্রশান্ত হলেও বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ আগ্নেয়গিরি এই মহাসাগরে অবস্থিত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] গ্রেট বেরিয়ার রিফ বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরাল রিফ, যা প্রশান্ত মহাসাগরের অন্তর্গত। প্রশান্ত মহাসাগরে রয়েছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নৌ রুট ও বন্দর। বন্দরগুলোর মধ্যে সিডনি হারবার, সাংহাই, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, সানফ্রান্সিসকো ও লস অ্যাঞ্জেলেস অন্যতম।

প্রশান্ত মহাসাগরকে দেখতে অনেকটা ত্রিভূজের মতো । প্রশান্ত মহাসাগরের স্রোতগুলির বৈশিষ্ট্য লক্ষ করলে দেখা যায়ঃ ১. এই মহাসাগরের উত্তরভাগের স্রোতসমূহ ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তিত হয় । ২. কিন্তু দক্ষিণভাগের স্রোতসমূহ ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে আবর্তিত হয় ।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভিন্ন প্রকার স্রোতসম্পাদনা

১। কুমেরু স্রোত (শীতল): কুমেরু মহাসাগরের একটি শীতল স্রোত পশ্চিমাবায়ুর প্রভাবে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে শীতল কুমেরু স্রোত রূপে পশ্চিমদিক থেকে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়।

২। পেরু স্রোত বা হ্যামবোল্ড স্রোত (শীতল): পশ্চিমাবায়ুর প্রভাবে পূর্ব অষ্ট্রেলীয় স্রোত বা নিউ সাউথ ওয়েলস স্রোত দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে পৌঁছায় এবং দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্তে বাধা পেয়ে চিলির উপকূল ধরে উত্তরদিকে পেরু উপকূলে এসে পেরু স্রোত বা শীতল হ্যামবোল্ড-স্রোত নামে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের সঙ্গে মিলিত হয়।

৩। দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত (উষ্ণ): পেরু স্রোত বা শীতল হ্যামবোল্ড স্রোত ক্রমশ উত্তরদিকে এগিয়ে নিরক্ষরেখার কাছাকাছি পৌঁছুলে দক্ষিণ-পূর্ব আয়নবায়ুর প্রভাবে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত নামে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূল থেকে পশ্চিমদিকে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দিকে প্রবাহিত হয়।

৪। নিঊ সাউথ ওয়েলস স্রোত বা পূর্ব অস্ট্রেলীয় স্রোত (ঊষ্ণ): উষ্ণ দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত পশ্চিমদিকে গিয়ে ওশিয়ানিয়ার কাছে পৌঁছোলে এই স্রোত দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে এর একটি শাখা দক্ষিণদিকে ঘুরে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল ও নিঊজিল্যান্ডের মধ্যে দিয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস স্রোত বা পূর্ব অস্ট্রেলীয় স্রোত নামে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে কুমেরু স্রোতের সঙ্গে মিশে যায়। এর অপর শাখাটি উত্তর-পশ্চিমদিকে গিয়ে এশিয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে এবং পূর্ব-ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে বাধা পায় এবং উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের সঙ্গে মিলিত হয়।

৫। উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত (উষ্ণ): উত্তর-পূর্ব আয়নবায়ুর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরে উষ্ণ উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের উৎপত্তি হয়েছে। এই স্রোতটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূল থেকে এশিয়া মহাদেশের দিকে প্রবাহিত হয়।

৬। জাপান স্রোত বা কুরোশিয়ো (উষ্ণ): উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত ইন্দোনেশিয়ার কাছে এসে উত্তরমুখী হয়ে এশিয়া মহাদেশের জাপান ও তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল ধরে উষ্ণ জাপান স্রোত বা কুরোশিয়ো স্রোত নামে উত্তরে প্রবাহিত হয় । জাপান স্রোত বা কুরোশিয়ো স্রোতের একটি শাখা জাপানের পূর্ব উপকূল থেকে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূল বরাবর উত্তর দিকে সুসিমা স্রোত নামে অগ্রসর হয়।

৭। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত (উষ্ণ): পশ্চিমাবায়ুর প্রভাবে জাপান স্রোত বা কুরোশিয়ো স্রোতের অপর শাখাটি উষ্ণ উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত নামে জাপানের পূর্ব উপকূল থেকে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূলের দিকে প্রবাহিত হয়।

৮। ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত (শীতল): উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোতটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছানোর পর ক্যালিফোর্নিয়ার কাছে দক্ষিণমুখী হয়ে শীতল ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত নামে প্রবাহিত হয়।

৯। আলাস্কা বা অ্যালুশিয়ান স্রোত (উষ্ণ): উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোতের একটি শাখা আরও উত্তরে অগ্রসর হয়ে আলাস্কা বা অ্যালুশিয়ান স্রোত নামে আলাস্কা উপকূল ও অ্যালুশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ বরাবর প্রবাহিত হয়। এই স্রোত পরে শীতল বেরিং স্রোতের সঙ্গে মিলিত হয়।

১০। বেরিং স্রোত (শীতল): অতি শীতল মেরুবায়ুর প্রভাবে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের সুমেরু অঞ্চল থেকে আগত শীতল বেরিং স্রোতটি বেরিং প্রণালীর মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে উষ্ণ কুরোশিয়ো স্রোতের উত্তর শাখার সঙ্গে মিলিত হয়। দুটি আলাদা উষ্ণতার বাঊর মিলনে এই অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও ঝড়বৃষ্টির সৃষ্টি হয়।

১১। নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত বা প্রতিস্রোত (উষ্ণ): উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে একটি অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও ক্ষীণ স্রোত পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় যা নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত বা প্রতি স্রোত নামে পরিচিত।

১২। প্রশান্ত মহাসাগরীয় শৈবাল সাগর: উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত, জাপান স্রোত, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্রোতের ডিম্বাকৃতি গতিপথের বিশাল অঞ্চল জুড়ে সৃষ্টি হওয়া সারকুলার কারেন্ট বা ঘূর্ণস্রোতের অভ্যন্তর ভাগের জলাবর্ত একেবারে স্রোতবিহীন সমুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। এই স্রোতহীন সমুদ্রের স্থির জলে নানারকম শৈবাল, আগাছা, তৃণ, উদ্ভিদ এবং অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ জন্মায়। স্রোতহীন শৈবালে পরিপূর্ণ অঞ্চলকে শৈবাল সাগর বলে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Pacific Ocean". Britannica Concise. 2006. Chicago: Encyclopædia Britannica, Inc.
  2. International Hydrographic Organization (১৯৫৩)। "Limits of Oceans and Seas" (PDF)Nature (3rd সংস্করণ)। 172 (4376): 484। doi:10.1038/172484b0বিবকোড:1953Natur.172R.484.। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১০ 
  3. Administration, US Department of Commerce, National Oceanic and Atmospheric। "How big is the Pacific Ocean?"oceanexplorer.noaa.gov (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১০-১৮ 
  4. "Japan Atlas: Japan Marine Science and Technology Center"। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০০৭ 

স্থানাঙ্ক: ০° উত্তর ১৬০° পশ্চিম / ০° উত্তর ১৬০° পশ্চিম / 0; -160