কাছাড় জেলা

আসাম রাজ্যের একটি জেলা

কাছাড় জেলা (সিলেটি: ꠇꠣꠍꠣꠠ, বাংলা: কাছাড়, অসমীয়া: কাছাৰ), ভারতের উত্তরপূর্বে অবস্থিত আসাম রাজ্যের একটি জেলা। এই জেলাটির সদর শিলচর শহরে রয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে জেলাটি দক্ষিণ ডিমাসার হিড়িম্ব রাজ্যের অংশ ছিলো৷ কাছাড় জেলার আয়তন ৩৭৮৬ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ২০১১ এর জনগণনা অনুযায়ী ১,৭৩৬,৩৯১। বাংলা ভাষা এই জেলায় সরকারী ভাষা হিসাবে স্বীকৃত।

কাছাড়
ꠇꠣꠍꠣꠠ
জেলা
View from an aeroplane
বৈমানিক দৃৃষ্টিতে শিলচর শহর
আসামের মানচিত্রে কাছাড় জেলার অবস্থান
আসামের মানচিত্রে কাছাড় জেলার অবস্থান
রাষ্ট্র ভারত
রাজ্যঅসম
বিভাগবরাক উপত্যকা
জেলাসদরশিলচর
আয়তন
 • মোট৩৭৮৬ কিমি (১৪৬২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১৭,৩৬,৩৯১
 • জনঘনত্ব৪৬০/কিমি (১২০০/বর্গমাইল)
ভাষা
 • সরকারীবাংলা, ইংরাজী
 • স্থানীয়সিলেটি উপভাষা (বাংলা)
সময় অঞ্চলভারতীয় প্রমান সময় (ইউটিসি+৫:৩০)
আইএসও ৩১৬৬ কোডIN-AS-CA (আইএন-এএস-সিএ)
ওয়েবসাইটhttp://cachar.gov.in/

কাছাড়ের সদর শহর শিলচর, আসামের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। এই জেলার একমাত্র বিমানবন্দর শিলচরে অবস্থিত। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, শিলচর, ভারতের অন্যতম সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। বরাক নদী এই অঞ্চলের প্রধান নদী। কাছাড় সহ করিমগঞ্জহাইলাকান্দি জেলা নিয়ে গঠিক দক্ষিণ আসামের বরাক উপত্যকা বিভাগ৷ দেশভাগের পূর্বে এটি বৃহত্তর সিলেটের অন্তর্ভুক্ত ছিলো৷

নামকরণের ইতিহাসসম্পাদনা

কাছাড় নামটি একটি ডিমাসা শব্দ "কাছাড়ি" থেকে এসেছে৷ কাছাড়ের মুল ইতিহাস কাছাড়ি রাজ্য স্থাপনের সময় থেকে শুরু হয়৷ জেলাটিতে একটি নগর এবং দুটি ছোট শহর রয়েছ, এগুলি হলো যথাক্রমে- শিলচর, লক্ষীপুর এবং সোনাই৷

ইতিহাসসম্পাদনা

প্রাচীন সময়কালসম্পাদনা

কাছাড়ি রাজারা নিজেদের 'হেড়ম্বের প্রভু' বলে মনে করতো৷ এই কারণেই অনুমান করা হয় যে, কাছাড়ি রাজ্যের পুরানো নাম হেড়ম্ব ছিলো এবং ডিমাপুরের নামও এই হেড়ম্বপুর নামের অপভ্রংশ৷ হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতে উল্লেখযোগ্যভাবে হেড়ম্ব বা হিড়িম্ব রক্ষকুলের ও তার রাজত্বের বর্ণনা দেওয়া রয়েছে এবং তার ভগিনী হিড়িম্বার সাথে দ্বিতীয় পাণ্ডব ভীমের বিবাহ ও তাদের পুত্র ঘটোৎকচের কাহিনী বর্ণিত আছে৷ কাছাড় এবং ডিমা হাসাওয়ের কাছাড়িরা নিজেদের বোড়ো যাযাবর জাতির একটি অংশ বলে মনে করেন৷ ইয়াং সিকিয়াং নদীর উচ্চ অংশে জনপ্রিয় ও ক্ষমতাদখলের প্রতিযোগীতার ফলে তারা আসামে নেমে আসে এবং ত্রিপুরা রাজ্যের সন্নিকটে নিজেদের রাজ্য স্থাপন করে৷

খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে আসামে আগত শান-থাই পরিবারের অহোম জনগোষ্ঠীর লোকের আগমনের সাথে কাছাড়ের ইতিহাস জড়িত৷ ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষদিক থেকে বহু বছর দিখৌ নদী অহম ও কাছাড়ি সাম্রাজ্যের সীমানা নির্ধারণ করতো৷ এই নদীর তীরেই অহোম এবং কাছাড়ি রাজারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়৷ কাছাড়িরা অহমদের ওপর জয় লাভ করে ১২০ জনকে হত্যা করে ও বিজয়স্মরিক হিসাবে একটি মেয়ে, দুটি হাতি ও বারোজন ক্রীতদাস লাভ করে৷ ১৫২৪ খ্রিস্টাব্দে কাছাড়িরা আবার অহম অঞ্চলে আক্রমণ করে উদ্যত হয় এবং পরাজিত হয়, ফলে কাছাড়ি রাজা রাজকন্যার সাথে অহম রাজার বিবাহ নিশ্চিত করেন৷ ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে কাছাড়ের রাজা অহমের রাজাকে নিজের বোনকে দেন এবং পণ হিসাবে একটি হাতি, ৫০০ তলোয়ার, ১০০ কুলি ও নগদ হাজার মুদ্রা দেন৷

১৫৩৬ খ্রিস্টাব্দে কাছাড়িরা ধানসিঁড়ি উপত্যকা ও নগাঁওয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে আবার অহমরা কাছাড়িদের যুদ্ধে পরাস্ত করে রাজধানী ডিমাপুরের দখল নেয়৷ কাছাড়ি রাজধানী ডিমাপুর থেকে জঙ্গলাচ্ছাদিত মাহুর নদীর তীরে মাইবং-এ স্থানান্তরিত করেন৷

১৭০৬ খ্রিস্টাব্দে রাজা রুদ্র সিং পার্বত্য অঞ্চলে অভিযান চালান৷ কাছাড়িদের পক্ষে ৩৭৫০০ জনের সৈন্যদলকে আটকানো সহজ ছিলো না, ফলে কাছাড়ি রাজা তাম্রধ্বজ পরাস্ত হন৷[১] এরপর তিনি আরো দক্ষিণে খাসপুরে পলায়ন করেন৷ অনুমান করা হয় এই সময় থেকেই কাছাড়ি রাজ্যের রাজারা পাহাড় ছেড়ে কাছাড়ের সমতলে বসতিস্থাপন করে ও খাসপুরকে রাজ্যের রাজধানী বানায়৷ কাছাড়ি রাজা শূরদর্প নারায়ণ প্রজাদের মধ্যে খুব পরিচিতি পান৷ তিনি খাসপুরের মহলকে দুর্গবেষ্টিত করে তোলেন এবং বহুস্থানে ইটের তেরী মন্দির নির্মান করেন৷

ব্রিটিশ শাসনকালসম্পাদনা

মণিপুরের রাজা জয় সিংহ ব্রহ্মদেশের আক্রমণে ভীত হয়ে বর্তমান শিলচর নগরের নিকট যাত্রাপুরে আশ্রয় নিয়েছিলেন৷ ১৭৬২ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সৈন্য মণিপুরের রাজার অনুরোধে রাজ্য পুণর্দখল করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে শিলচর শহরে পৌছালে কাছাড়ে ত্রথম ব্রিটিশের আগমন ঘটে৷ ব্রিটিশ সৈন্যদল সেখানে একবছর যাবৎকাল স্থায়ী হয় কিন্তু প্রতিকুল পরিবেশে বহু সেনার মৃৃত্যু ও রোগগ্রস্থ হলে সেনাপ্রধান ভেরেলেস্ট ব্রহ্মদেশের দিকে অগ্রসর হননি৷

রাজা কৃৃষ্ণচন্দ্র ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুধর্মে দীক্ষিত হন৷ তার কিছুবছর পরে বর্মী সৈন্যদের সহযোগীতায় মণিপুরের রাজা মার্জিত সিংহ কাছাড়ের শেষ রাজা গোবিন্দচন্দ্রকে বিতাড়িত করেন৷ এরপর বর্মীদেরদ্বারা চালিত হয়ে মার্জিত সিং কাছাড় থেকে সুরমা উপত্যকার দিকে অগ্রসর হন৷ কিন্তু সুরমা উপত্যকাতে কর্তব্যরত দায়িত্বে আসীন ব্রিটিশ সেনা বর্মীসেনাদের বিতাড়িত করেন এবং গোবিন্দ চন্দ্রকে তার রাজত্ব হস্তান্তর করেন৷ এর প্রতিদান হিসাবে তিনি বার্ষিক ১০,০০০ টাকা কর দিতে রাজি হন৷ রাজা তার বাসভূমি হরিটিকরে স্থানান্তরিত করেন কিন্তু ১৮৩০ এ মণিপুরী আততায়ীদের হাতে হত হন৷ ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দের একটি চুক্তির মাধ্যমে এই অঞ্চল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা ভাবা হয় ও প্রয়াত রাজার কোনো উত্তরাধিকার না থাকার অযুহাতে ১৮৩২ এর ১৪ই আগস্ট তারিখে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়৷ এই প্রসঙ্গে ব্রিটিশ সরকার টমাস ফিশারকে ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক হিসাবে কাছাড়ে পাঠান৷ ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে কাছাড়ের পূর্বদিকের বিস্তৃত জিরিবাম অঞ্চল মণিপুরকে দিয়ে দেওয়া হয়৷ ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে তুলারামের রাজ্য বর্তমান ডিমা হাসাও অঞ্চলও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং হাফলং মহকুমা হিসাবে কাছাড় জেলার অঙ্গীভূত হয়৷ ইতিহাস বিদদের মতে ১৮৩৬ থেকে ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসনাধীন জেলা রূপে ঢাকা কমিশনের অধীন থাকে এই অঞ্চলটি৷[২]

স্বাধীনতা আন্দোলনসম্পাদনা

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকালে এই জেলার জনসাধারণের সক্রিয় কার্যকলাপ ও বিপুল সমর্থন জেলাটির ইতিহাসকে গৌরবান্বিত করেছে৷ নেতাদের মধ্যে কামিনী কুমার চন্দ, তারপুত্র অরুণ কুমার চন্দ এবং আবদুল মতলিব মজুমদার প্রমুখের নাম অগ্রগণ্য৷ যখন অরুণ কুমার চন্দ বাঙালি হিন্দুদের মতৈক্য গঠন করছিলেন তখন আবদুল মতলিব বাঙালি ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভাজন আটকাতে মুসলমানদের নেতৃত্ব দেন৷ মজুমদার এবং প্রাক্তন ভারতের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদর যুগ্ম প্রচেষ্টায় পূর্ব ভারতে মুসলিমদের জন্য আলাদা পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবীর বিরোধী একটি শক্তিশালী মুসলিম সংগঠন গড়ে ওঠে৷ উঠতি মুসলিম লীগকে জনপ্রিয়তাকে আটকাতে তাঁরা আসামে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ আন্দোলন করেন৷ জমিয়ত ছিলো একটি মুসলিম জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিদের সংগঠন যা কংগ্রেসের সাথে জোটবদ্ধ ছিলো৷ ভারতে স্বাধীনতার ঠিক পূর্বেই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ১৯৪৫ এর সাধারণ নির্বাচনে তিনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হাইলাকান্দি কেন্দ্রের ভবিষ্যত মুসলিম লীগমুক্ত করেন৷ তাঁর এই বিজয় মুসলিম লীগের কাছাড় সহ সমগ্র দক্ষিণ আসামকে পাকিস্তানে যুক্ত করার স্বপ্নে বধা হয়ে দাঁড়ায়

আসামের সুরমা উপত্যকা অঞ্চল (বর্তমানে বাংলাদেশ|বাংলাদেশে অবস্থিত) ছিলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ৷ ভারত বিভাজনকালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের উত্তেজিতা উভয়কেই প্রান্তীয় করে তুলেছিলো৷ সিলেটে গণভোটের মাধ্যমে সিলৈট অঞ্চল পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) দিয়ে দেওয়া হয়েছিলো৷ মজুমদার ও আসামের গৃহমন্ত্রী বসন্তকুমার দাস মিলিত প্রচেষ্টার বরাক অপত্যকার জায়গায় জায়গায় আলাপ ও পদযাত্রা করে জনসাধারণকে ধর্মের ভিত্তিকে বিভাজনের কুফল সম্পর্কে অবহিত করেন৷ ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২০শে ফেব্রুয়ারি মজুমদার শিলচরে আসাম নৈশনালিস্ট মুসলিম কনভেনশনের ডাক দেন৷ এরপরে ১৯৪৭ এর ৮ই জুন শালচরে একটি বড়ো আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়৷[৩] ২০শে ফেব্রুয়ারি ও ৮ই জুনে ডাকা আলোচনাসভা দুটিই সফল হয়৷ বাকী বেশকিছু নেতাদের মতো তিনিও বরাক উপত্যকা এবং বিশেষভাবে করিমগঞ্জ জেলাকে আসামের অন্তর্ভুক্ত রাখতে সহায়ক ছিলেন৷[৪][৫] তিনি রেডক্লিফ কমিশনের মাধ্যমে সিলেটের করিমগঞ্জকে ভারতের আসামে অন্তর্ভুক্ত রাখতে চেয়েছিলেন৷[৬] অরুণ কুমার চন্দ গোপীনাথ বড়দলুইয়ের ১৯৪৬ এ ডাকা ক্যাবিনেট মিশনে যোগ দিতে অস্বীকার করলেও আইনকর্তা হিসাবে সামাজিক কাজ করতে তাদের উদ্দীপিত করেন ও শিলচরে গুরুচরণ কলেজকে উন্নত করতে তৎপর হন৷ তার অকালপ্রয়ান ঘটলে বাঙালি হিন্দু সমাজ একজন ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদী নেতাকে হারায়৷

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়কালসম্পাদনা

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ১৫ই আগস্ট ভারতের স্বাধীনতার মুহূর্তে সারা পূর্বভারত জুড়ে চরম বিশৃৃঙ্খলা দেখা যায়৷ হিন্দুদের প্রবণতা ছিলো নবগঠিত পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতের দিকে পালিয়ে আসা আবার ভারতের মুসলিমদের প্রবণতা ছিলো আসাম থেকে পূর্ব পাকিস্তানে যাওয়ার৷ চরম বিশৃঙ্খলা ও দাঙ্গায় ব্যপক সংখ্যক প্রাণহানি হয়, যা ১৯৫০ আবারো হয়৷ একমাত্র মজুমদারই কাছাড়ের ক্যাবিনেট মিশনে সদস্য হিসাবে তার সহযোগী এবং সমমনষ্কদের নিয়ে কাছাড় জেলাতে হিন্দু এবং মুসলমান উভয়কে রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন৷ তিনি কাছাড়ে আগত শরণার্থীদের শরণার্থী শিবিরে নিরাপত্তা দেওয়া ও তাদের পুণর্বাসনের দায়িত্বও নিয়েছিলেন৷

১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে এবং পরবর্তীকালে কাছাড় জেলাতে ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৬ অবধি আসাম ক্যাবিনেটের সদস্য মইনুল হক চৌধুরী বেশ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেছিলেন৷ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অধীনে তিনি শিল্পমন্ত্রী ছিলেন৷ স্বর্গীয় অরুণ কুমার চন্দর স্ত্রী জ্যোৎস্না চন্দ ভারতীয় বিধানসভায় শিলচরকে উপস্থাপন করতেন৷

১৭ই আগস্ট ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে সিলেট জেলার সাড়েতিনটি থানা করিমগঞ্জ মহকুমারূপে ভারতের কাছাড় জেলাতে যুক্ত হয়৷ ১৯৮৩ তে জুলাই মাস পূর্বতন কাছাড় জেলা থেকে করিমগঞ্জ মহকুমা জেলাতে উন্নীত হয়৷[৭] আবার ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে কাছাড় জেলা থেকে নতুন হাইলাকান্দি জেলা ও কাছাড় জেলা তেরী করা হয়৷[৭] আবার ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে কাছাড় থেকে পৃৃথক করা জিরিবাম অঞ্চলটি ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে একটি নতুন ক্ষুদ্র জেলার মর্যাদা পায়৷

ভূপ্রকৃতিসম্পাদনা

কাছাড় জেলাটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে জেলাটির কেন্দ্র ও পশ্চিমভাগের সমতলভুমি অবধি ভূপ্রকৃৃতির তারতম্য লক্ষনীয়৷ জল জমে থাকার কারণে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সমগ্র জেলার ২০% জমিতে কৃৃষিকাজ সম্ভব নয়৷ আবার নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাসে বৃষ্টির অভাবে চাষজমিতে ক্ষরা দেখা যায়৷ মাটি ছিদ্রযুক্ত ফলে আর্দ্রতা ধারণক্ষমতা কম ফলে ভূমিক্ষয়প্রবণ৷ জেলাটির জলস্তর কম৷ কাছাড়ের প্রধান নদী বরাক নদী যা বড়বক্র নামেও পরিচিত৷ নদীটির একাধিক ছোটো উপনদী রয়েছে যা উত্তর ও দক্ষিণের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে এসে মিলিত হয়েছে৷ বরাক নদী জেলাটির অভ্যন্তরে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত এবং সাম মণিপুর সীমানা নির্ধারণ করেছে৷ বার্ষিক গড় বৃৃষ্টিপাত ৩০০০ মিলিমিটারের বেশি৷

বনভূমিসম্পাদনা

কাছাড় জেলার ২২৩৬ বর্গকিলোমিটার অঞ্চল বনভূমি দ্বারা আচ্ছাদিত, যা জেলাটির আয়তনের ৫৯%৷[৮] বরাইল বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য এই জেলার অন্যতম আকর্ষণ৷

কৃৃষিভূমিসম্পাদনা

কাছাড় জেলা একটি কৃৃষিপ্রধান জেলা এবং মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০% লোক কৃৃষিজীবি৷ ধান এই জেলার প্রধান উৎপাদিত ফসল, তাছাড়াও সরষে, দানাশষ্য, পাট ও ব্যপকহারে উৎপাদিত হয়৷ জেলাটিতে বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে ঋতুভিত্তিক ফসল ফলানো হয়৷ প্রাথমিকভাবে কৃৃষিকাজ থেকে জেলাটির মোট আয়ের সরাসরি ৪০% আসে আবার কৃৃষিজাত পদার্থ ১৪% আয়ের উৎস৷

অর্থনীতিসম্পাদনা

কাছাড় জেলা হলো আসামে অন্যতম শিল্প-অনুন্নত একটি জেলা৷[৯]

  • জেলাটিতে পুরানো ব্রিটিশ আমলের চা-বাগান কেন্দ্রিক শিল্প ছাড়া আর সেরকম কোনো ভারী শিল্প নেই৷ শিলচর শহরের অবস্থান, বাজার ও যোগাযোগের সুবিধার জন্য বিগত দশ বছরে জেলাটি শিল্পে উন্নতি করেছে৷ জেলাটির শিল্পগুলিকে এভাবে ভাগ করা যায়, ১) খাদ্য এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ২) বনজ সম্পদ, ৩) পরিবহন সামগ্রী প্রস্তুতকরণ এবং ৪) সুতিশিল্প৷ বড়ো সংখ্যায় লোক লৌহশিল্প, রংশিল্প, বস্ত্র প্রস্তুতি, মাদুর শিল্প প্রভৃৃতি কুটির শিল্পের সাথে যুক্ত৷ প্রচুর পরিমানে বাঁশ, আনারস এবং আখ উৎপাদন হওয়ার জন্য এখানে কৃৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠেছে৷ প্রায় ৪০ একর জমির ওপর সমস্ত বৃৃহত্তর শিল্পগুলি গড়ে উঠেছে৷
  • তৈল ও প্রাকৃৃতিক গ্যাস নিগম-এর উদ্যোগে শিলচর শহরের নিকট শ্রীকোণা অঞ্চলে একটি কেন্দ্র স্থাপিত হয়, যা কাছাড় ফরওয়ার্ড বেস নামে পরিচিত৷[১০]
  • কাছাড় কাগজ কারখানা (কাছাড় পেপার মিল) হলো শিলচর শহরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য শিল্পসংস্থান যা পার্শ্ববর্তী আসাম, ত্রিপুরা, মণিপুর, মেঘালয়তে দ্রব্য সরবরাহ করে৷ পরিকাঠামো পরিমাপের কথা বাদ দিলে এই শিল্পের উত্তরোত্তর শ্রীবৃৃদ্ধি ঘটছে ও তার বহু কর্মসংস্থান বৃৃদ্ধি করেছে৷ ২০০৬-০৭ খ্রিস্টাব্দে কাগজ কারখানাটি ১০৩১৫৫ মেট্রিকটন উৎপাদন বৃৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে যার হার গত বছরগুলির তুলনায় সর্বাধিক৷ ঐ বছর ১০৩% ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি হয় যা পূর্ব বছরের ১০০% বৃৃৃদ্ধির হারের থেকে বেশি৷[১১]

অবস্থানসম্পাদনা

ধর্মসম্পাদনা

ধর্ম অনুযায়ী ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনসংখ্যা:[১৩]

  • হিন্দু - ১০,৩৮,৯৮৫
  • মুসলিম - ৬,৫৪,৮১৬
  • খ্রিস্টান - ৩৭,৬৩৫

২০১১ সালে কাছাড় জেলা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী[১৩]

  হিন্দুধর্ম (৫৯.৮৩%)
  ইসলাম (৩৭.৭১%)
  বৌদ্ধধর্ম (০.০২%)
  জৈনধর্ম (০.০২%)
  শিখধর্ম (০.১%)
  অন্যান্য (০.১৭%)

ভাষাসম্পাদনা

আসাম রাজ্যের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই জেলাটি একটি বাঙালি প্রধান জেলা৷ বাঙালি ছাড়াও চাকরিসুত্রে আসা হিন্দিভাষী এবং মণিপুরীরা অনেক সংখ্যায় বাস করেন৷ জেলাটির ভাষাভিত্তিক পাইচিত্র নিম্নরূপ:

২০১১ সালে কাছাড় জেলা বিভিন্ন ভাষাভাষী[১৪]

  বাংলা (৭৫.১৪%)
  হিন্দি (১২.১৭%)
  মণিপুরী (৬.০৬%)
  ডিমাসা (১.১৯%)
  খাসি (০.৭৬%)
  হ্মার (০.৭০%)
  ওড়িয়া (০.৬০%)
  অন্যান্য (২.০৬%)

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

মোট জনসংখ্যা ১৪৪৪৯২১(২০০১ জনগণনা) ও ১৭৩৬৩৯১(২০১১ জনগণনা)৷ রাজ্যে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্রমাঙ্ক ৩৩ টি জেলার মধ্যে ২য়৷ আসাম রাজ্যের ৫.৫৭% লোক কাছাড় জেলাতে বাস করেন৷ জেলার জনঘনত্ব ২০০১ সালে ৩৮২ ছিলো এবং ২০১১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫৯ হয়েছে৷ জেলাটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২০০১-২০১১ সালের মধ্যে জনসংখ্যা বৃৃদ্ধির হার ২০.১৯% , যা ১৯৯১-২০১১ সালের ১৮.৮৯% বৃদ্ধির হারের থেকে বেশি৷ জেলাটিতে লিঙ্গানুপাত ২০১১ অনুযায়ী ৯৫৯(সমগ্র) এবং শিশু(০-৬ বৎ) লিঙ্গানুপাত ৯৫৪৷[১৫] জেলাটিতে ৬ বছর অনুর্দ্ধ শিশু সংখ্যা ২৫৬৭৭৪ জন, যা সমগ্র জনসংখ্যার ১৪.৭৯%৷

নদনদীসম্পাদনা

কাছাড় জেলার নদনদীগুলি নিম্নরূপ:

পরিবহন ও যোগাযোগসম্পাদনা

সড়কপথসম্পাদনা

কাছাড় জেলাতে অবস্থিত রাজ্য সড়ক ও জাতীয় সড়কগুলি হলো যথাক্রমে:

রেলপথসম্পাদনা

কাছাড় জেলা রেলপথে আসাম রাজ্যে রাজধানী গুয়াহাটি ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে যুক্ত৷ জেলার রেলপথটি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলপথের লামডিং রেলবিভাগের অন্তর্গত৷ জেলাটির ওপর দিয়ে আরোনাই সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস (২য় দীর্ঘতম), তিরুবনন্তপুরম-শিলচর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস (৩য় দীর্ঘতম), হামসফর এক্সপ্রেস (৯ম দীর্ঘতম), শিয়ালদহ-শিলচর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, নতুন দিল্লি-শিলচর সম্পর্কক্রান্তি এক্সপ্রেস প্রভৃৃতি ট্রেন দীর্ঘায়িত৷ জেলাটির স্টেশনগুলি হলো:

বিমানপথসম্পাদনা

শিলচর বিমানবন্দরটি শিলচর শহরের নিকটে অবস্থিত, যা মূল শহর থেকে প্রায় ২২কিলোমিটার দূরে কুম্ভীরগ্রামে অবস্থিত৷ এই বিমানবন্দর ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ সরকার চালু করে। এটি কিড়িগ্রাম এয়ার বেস হিসাবেও পরিচিত। এই বিমানবন্দর থেকে অসামরিক বিমান পরিবহন চালু রয়েছে। একই সঙ্গে এটি ভারতীয় বায়ু সেনার একটি বিমান ঘাটি।[১৬] এই বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ টি বিমান ওঠা-নামা করে এবং সপ্তাহে মোট প্রায় ৩০ টি বিমান চলাচল করে। এই বিমানবন্দরটি উত্তর-পূর্ব ভারত-এর চতুর্থ বৃহত্তম ও ব্যস্ততম বিমানবন্দর। ২০১৮-২০১৯ সালে এই বিমানবন্দরের যাত্রী পরিবহন সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬৬৫ এবং বিমান চলাচলের সংখ্যা ৩,৩৮০ টি। শিলচর বিমানবন্দরটি সমুদ্র পৃষ্ঠের থেকে ৩৩৮ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এটি ৩৬.৭০ একর জমির আওতাভুক্ত। বিমানবন্দরটিতে শুধুমাত্র একটি অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল আছে এবং এটি যাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধাগুলি দিয়ে সজ্জিত।

এই বিমানবন্দর থেকে গৌহাটি, কলকাতা, ইম্ফল, আগরতলাযোরহাট বিমানবন্দরে বিমান পরিচালনা করা হয়।

পর্যটন ও দর্শনীয়স্থলসম্পাদনা

  • বরাইল পার্বত্য অঞ্চল
  • খাসপুর:শিলচর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্বে খাসপুর নামে ডিমাসা-কাছাড়ি রাজাদের একটি বিরাট ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী গড়ে উঠেছিল। যার নির্মাণ ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দ মধ্যে হয়েছিল। এখানকার প্রধান দর্শনীয় বস্তুগুলি হলো সিংহদ্বার, সূর্যদ্বার এবং প্রাচীন রাজাদের মন্দির, যা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষন। মূল প্রাসাদটি বর্তমানে প্রায় অস্তিত্বহীন হলেও এর সংলগ্ন প্রধান প্রবেশদ্বার, সূর্যদ্বার ও অভ্যন্তরস্থ দেবালয়টি অক্ষত আছে। প্রবেশপথে হস্তীমূর্তিখচিত সুন্দর শিল্পনিদর্শন রয়েছে।
  • ইসকন(ISKCON –International Society for Krishna Consciousness ) মন্দির:বিশ্ববিখ্যাত সনাতন আধ্যাত্মিক সংগঠন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) দ্বারা পরিচালিত শিলচর শহরের অম্বিকাপট্টিতে স্থিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে উৎসর্গীকৃৃত একটি মন্দির আছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছাকাছি ইসকন মন্দির দ্বারা পরিচালিত “গোবিন্দভোজনালয়” নামে একটি নিরামিষ ভোজনালয় রয়েছে ।
  • গান্ধীবাগ পার্ক:গান্ধীবাগ পার্ক শিলচর শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত পার্ক রোডে অবস্থিত। পার্কটি মহাত্মা গান্ধীর নামে নামকরণ করা হয়। পার্কটিতে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ১৯ মে বাংলা ভাষা রক্ষার জন্য আসাম সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলাকালীন ভাষা-মিছিলে জীবন উৎসর্গ করা ভাষাশহিদদের উদ্দেশ্যে একটি শহিদমিনার আছে।
  • ভুবনেশ্বর মন্দির:এই মন্দিরটি সমগ্র দক্ষিণ আসামের ভগবান শিবের সবচেয়ে সুপ্রসিদ্ধ মন্দির। শিলচর শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এবং উত্তরে ভুবন পাহাড়ে এই তীর্থস্থানটি অবস্থিত। প্রতি বছর মার্চমাসে শিবরাত্রির সময় দূর-দূরান্ত থেকে বহুলোকের সমাগম হয় এই মন্দিরে। মন্দিররে পৌঁছাতে পাহাড়ি পথে ১৭ কিলোমিটার চড়াই-উতরাই পার করতে হয়৷
  • কাঁচাকান্তি কালী মন্দির: দক্ষিণ আসামের শিলচর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার উত্তরে উধারবন্দের নিকট মধুরা নদীর তীরে দেবী "মা কাঁচাকান্তি"-র এক ঐতিহাসিক ও সুপ্রসিদ্ধ মন্দির রয়েছে। স্থানীয়রা ও মায়ের ভক্তরা মনে করেন তিনি দুই মাতৃৃশক্তি ও হিন্দু দেবী মা দুর্গা এবং মা কালীর মিলিত রূপ। মূল মন্দিরটি কাছাড়ি রাজা ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মান করেছিলেন । ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই মন্দিরে মাতৃৃমূর্তিকে নরবলি নিবেদন করা হত। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে কোনো কারণে পুরানো মন্দিরটি তছনছ হয়ে যায় এবং ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে নতুন মন্দিরটি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়।
  • মণিহরণ সুড়ঙ্গ : ভুবনেশ্বর মন্দির থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মণিহরণ সুরঙ্গ একটি জনপ্রিয় ও পবিত্র পর্যটনস্থল৷ পৌরাণিক কাহিনি ও জনশ্রুতি অনুযায়ী মণিপুরে ভ্রমণকালে শ্রীকৃষ্ণ এই সুড়ঙ্গটি নির্মান করেন ও শীঘ্রপথ হিসাবে ব্যবহার করতেন৷ ত্রিবেণী নদী এই সুড়ঙ্গের তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে নিবেদিত মণিহরণ মন্দিরটির নামে সুড়ঙ্গটির নামকরণ করা হয়, তাছাড়া নিকটে একটি গরুড় মন্দিরও রয়েছে।
  • শহরেই রয়েছে ডলু হ্রদ, যা চিত্রগ্রাহকদের কাছে আকর্ষণীয়৷
  • শিলচর থেকে উত্তর পূর্বে কুম্ভীরাতে শিলচর বিমানবন্দর যাওয়ার পথে শালগঙ্গা বিষ্ণু মন্দিরটি পর্যটকদের অন্যতম তীর্থস্থান৷
  • জাতিঙ্গা পাখি প্রদর্শনকেন্দ্র
  • বরাইল বন্যপ্রাণ সংরক্ষনালয়
  • অরুণাচল কালীবাড়ি
  • শিলচর বঙ্গভবন

শিক্ষাসম্পাদনা

কাছাড় জেলাতে উত্তর পূর্ব ভারতের কিছু বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে৷ জেলাসদর শিলচর শহর আসামে শিক্ষার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র৷ শিলচর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে দরগাকোণাতে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যা একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়৷[১৭] শিলচর শহরে একটি রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠান রয়েছে৷[১৮] দক্ষিণ আসামের একমাত্র চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়টি শিলচর শহরে অবস্থিত৷[১৯]

মহাবিদ্যালয়সম্পাদনা

জেলাটিতে একাধিক ডিগ্রী কলেজ রয়েছে৷

বিদ্যালয়সম্পাদনা

জেলাটির কিছু বিখ্যাত বিদ্যালয় হলো:

  • সেন্ট ক্যাপিটানিও স্কুল
  • আধার চন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • কাছাড় উচ্চ বিদ্যালয়
  • ডন বসকো স্কুল, শিলচর
  • দীননাথ নবকিশোর উচ্চতর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (স্বদেশী স্কুল)
  • ওরিয়েন্ট হাই স্কুল
  • হোলি ক্রস স্কুল
  • জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, পাইলাপুল
  • শিলচর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়
  • মহাঋষি বিদ্যামন্দির
  • মুক্তশ্রী উচ্চ বিদ্যালয়
  • নরসিংহ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • প্রণবানন্দ হোলি চাইল্ড স্কুল
  • প্রণবানন্দ বিদ্যামন্দির
  • শিলচর কলেজিয়েট স্কুল
  • সোনাই যুবতী সিংহ মণিপুরী উচ্চ বিদ্যালয়
  • সাউথ পয়েন্ট স্কুল, শিলচর
  • অক্সফোর্ড স্কুল, শিলচর

প্রশাসনিক বিভাগসম্পাদনা

কাছাড় জেলা দুটি মহকুমাতে বিভক্ত , যথা:

  • শিলচর মহকুমা
  • সোনাই মহকুমা

পাঁচটি তশিল হলো : ১) কাটিগড়া তহশিল ২) উধারবন্দ তহশিল ৩) শিলচর তহশিল ৪) সোনাই তহশিল ৫) লক্ষীপুর তহশিল

জেলাটিতে ১৫ টি উন্নয়ন ব্লক রয়েছে৷ সেগুলি হল-

জীববৈচিত্রসম্পাদনা

কাছাড় জেলাটির উত্তর ও দক্ষিণ ভাগে বিস্তীর্ণ অতিবৃষ্টি অরণ্য অঞ্চল রয়েছে, যা ক্রান্তীয় চিরসবুজ বনাঞ্চল জলবায়ুর অন্তর্গত৷ জেলাটি বাঘ, এশীয় হাতি, উল্লুক, বনগরু প্রভৃতি প্রাণীর বাসস্থান৷ কাছাড়ের বনাঞ্চল কোনোকালের জীববৈচিত্র দ্বারা পরিপূর্ণ হলেও মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ ও তার কুফল এই বৈচিত্র হ্রাসের কারণ৷ প্রাপ্ত দুষ্পাপ্র কিছু প্রজাতি হলো, উল্লুক, চশমাপরা হনুমান, উল্টোলেজি বানর, খাটোলেজি বানর, কালোমুখ প্যারাপাখি, বাদি হাঁস প্রভৃৃতি৷ এশীয় হাতি বর্তমানে লুপ্তপ্রায় একটি প্রজাতি৷[২০][২১] দক্ষিণভাগের বনভূমি স্থানীয়দের কাছে ধলেশ্বরী বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত হলেও তা অনুমোদিত নয়৷[২২][২৩] কাছড় তথা সমগ্র বরাক উপত্যকা অঞ্চলের একমাত্র অভয়ারণ্য বরাইল বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যটি এই জেলাতেই অবস্থিত৷ ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত পরিবেশবিদ ডাঃ আনোয়ার উদ্দিন চৌধুরী এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন৷[২৪] অভয়ারণ্যটি ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞাপিত হয় ও ভারতীয় অভয়ারণ্যের তালিকাবদ্ধ হয়৷[২৫]

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

  1. censusindian.gov.in
  2. Chaudhuri Kalyan.(1999):New History of Assam & IndiaGuwahati: Oriental Book Company.
  3. Bhattacharjee, J. B. (1977). Cachar under British Rule in North East India. Radiant Publishers, New Delhi.
  4. Barua, D. C. (1990). Moulvi Matlib Mazumdar- as I knew him. Abdul Matlib Mazumdar – birth centenary tributes, pp. 8–9.
  5. Purkayashta, M. (1990). Tyagi jananeta Abdul Matlib Mazumdar. The Prantiya Samachar (in Bengali). Silchar, India.
  6. Roy, S. K. (1990). Jananeta Abdul Matlib Mazumdar (in Bengali). Abdul Matlib Mazumdar – birth centenary tributes, pp. 24–27.
  7. Law, Gwillim (২৫ সেপ্টেম্বর ২০১১)। "Districts of India"Statoids। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-১১ 
  8. http://asmenvis.nic.in/Database/Forest_1045.aspx
  9. Ministry of Panchayati Raj (৮ সেপ্টেম্বর ২০০৯)। "A Note on the Backward Regions Grant Fund Programme" (PDF)। National Institute of Rural Development। ৫ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  10. "ONGC :: ONGC Offices"। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০১৫ 
  11. http://www.hindpaper.in/mills/cachar.htm
  12. https://www.mapsofindia.com/maps/assam/tehsil/cachar.html
  13. "Religious demography of Assam Census 2011"। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রু ২০১৮ 
  14. http://www.censusindia.gov.in/2011census/C-16.html
  15. https://www.census2011.co.in/census/district/144-cachar.html
  16. "Silchar Airport"IndiaAirport। IndiaAirport। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৬ 
  17. Assam University, Official website
  18. Official NIT, Silchar website
  19. Official website of Silchar Medical College
  20. Choudhury, A.U. (1999). Status and Conservation of the Asian elephant Elephas maximus in north-eastern India. Mammal Review 29(3): 141-173.
  21. Choudhury, A.U. (2004). Vanishing habitat threatens Phayre’s leaf monkey. The Rhino Found. NE India Newsletter 6:32-33.
  22. Choudhury, A.U. (1983). Plea for a new wildlife refuge in eastern India. Tigerpaper 10(4):12-15.
  23. Choudhury, A.U. (1983). Plea for a new wildlife sanctuary in Assam. WWF - India Newsletter 4(4):15.
  24. Choudhury, A.U. (1989). Campaign for wildlife protection:national park in the Barails. WWF-Quarterly No. 69,10(2): 4-5.
  25. Choudhury, A.U. (2005). Amchang, Barail and Dihing-Patkai – Assam’s new wildlife sanctuaries. Oryx 39(2): 124-125.