প্রধান মেনু খুলুন
জাভা দ্বীপের ছায়াচিত্রে প্রদর্শিত ভীমের প্রতিকৃতি

ভীম মহাভারতের একটি চরিত্র। পঞ্চ পাণ্ডব ভ্রাতাদের মধ্যে ভীম ২য়।ঋষি দুর্বাষা হতে প্রাপ্ত বরের মাধ্যমে বায়ু দেবকে আহ্বান করে তার বরে ভীমের জন্ম হয়। বিশাল দেহ ও প্রবল শক্তির জন্য ভীম বিখ্যাত।

কাম্যক বনের রাজা ভীম (রাজা রবি বর্মা)

পাণ্ডব ভাইদের বনবাসের সময়ে ভীম হিড়িম্বা নামের রাক্ষসীকে বিয়ে করেন, এবং তাদের ঘটোৎকচ নামের একটি পুত্র সন্তান হয়। দ্রৌপদী ও ভীমের সন্তান সুতসোম৷ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ভীম একা শতকৌরবকে বধ করেন৷ অপরিসীম বলশালী ভীম মল্লযুদ্ধে রাজগৃৃহের চক্রবর্তী সম্রাট জরাসন্ধ ও অজ্ঞাতবাস কালে বিরাটের সেনাপতি কীচককে বধ করেন৷ গদা চালনায় ভীম ও দুর্যোধন সমান পারদর্শী ছিলেন৷ এ'বিষয়ে তাদের শিক্ষাগুরু ছিলেন কৃষ্ণর অগ্রজ হলধারী বলরাম৷ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের শেষপর্বে ভীম ও দুর্যোধন গদাযুদ্ধের দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং যুদ্ধরীতি উল্লঙ্ঘন করে ভীম জয়ী হন৷ যুধিষ্ঠীরের রাজসূয় যজ্ঞের সময় ভীম পূর্বভারতে অভিযানে নেতৃত্ব দেন৷ কুরুক্ষেত্রর যুদ্ধ ৩৬ বছর পর মহাপ্রস্থানের পথে ভীমের মৃত্যু হয়৷

জন্ম ও শৈশব জীবনসম্পাদনা

ভীমের পিতা পান্ডু একদা শিকারে গিয়ে হরিণ মারতে গিয়ে ভুল বশত মিলনরত এক সাধুকে মেরে ফেলেন। মৃত্যুর আগে সাধু তাকে অভিশাপ দেন যে যদি তিনি স্ত্রী সহবাস করেন তাহলে তার মৃত্যু ঘটবে। এই অভিশাপের কারণে পান্ডু সন্তানের পিতা হতে অক্ষম ছিলেন। হত্যাকান্ডের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে পান্ডু হাস্তিনাপুরের সিংহাসন ত্যাগ করেন এবং তার অন্ধ ভাই,ধৃতরাষ্ট্র, রাজ্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।[১] পান্ডুর অক্ষমতার পরও পান্ডবরা একটি অসাধারণ উপায়ে জন্মগ্রহণ করে। তার স্ত্রী, রাণী কুন্তি, কিশোরী বয়সে দুর্বাসা মুনি থেকে দেবতাদের আহ্বান করার ক্ষমতা অর্জন করেন। ধর্মের দ্বারা যুধিষ্ঠির লাভের পর পাণ্ডু এক শক্তিমান পুত্র চাইলেন। দেবতাদের মধ্যে পবন দেব বা বায়ু দেব সবচাইতে শক্তিশালী ছিলেন। তিনি কুন্তীর সাথে মিলিত হলের তার ঔরসে ভীমের জন্ম হয়। অবশ্য অনেক কাহিনীকারের মতে ইনি পবন দেবতা নন, দেবসুলভ গন্ধর্ব, যিনি কুন্তীকে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি পবন, তার রাজ্যের ইন্দ্র বা রাজা। কুন্তী এনার সাথে দুইবার শারীরিক সম্পর্ক করেন ও ভীমারজ্জুনের জন্ম দেন। ( মহাভারত বিশেষজ্ঞের মতে)

তথসূত্রসম্পাদনা

  1. Lochtefeld, James G. (২০০২)। The illustrated encyclopedia of Hinduism. (1st. ed. সংস্করণ)। New York: Rosen। পৃষ্ঠা 194–196। আইএসবিএন 9780823931798