কাবা

সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত ইমারত, যা মুসলমানদের কিবলা

কাবা, কাবাঘর, কাবা শরীফ (আরবি: الكعبة‎‎ al-Ka‘bah; আ-ধ্ব-ব: ['kɑʕbɑ]), আরও যে নামে পরিচিত al-Kaʿbatu l-Mušarrafah (الكعبة المشرًّفة), al-Baytu l-ʿAtīq (البيت العتيق "আদিম বাড়ি"), অথবা al-Baytu l-Ḥarām (البيت الحرام "পবিত্র বাড়ি"), একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত, যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।

কাবা
স্থানাঙ্ক: ২১°২৫′২১″ উত্তর ৩৯°৪৯′৩৪″ পূর্ব / ২১.৪২২৫° উত্তর ৩৯.৮২৬১৮১° পূর্ব / 21.4225; 39.826181
অবস্থান সৌদি আরব মক্কা, সৌদি আরব
শাখা/ঐতিহ্য ইসলাম

ইসলাম ধর্ম মতে কাবা কে সবচেয়ে পবিত্র স্থান হিসেবে মনে করা হয়।[১] এটি মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ পরেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।[১]

ভৌগোলিক অবস্থানসম্পাদনা

এটি সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে 'মসজিদ আল হারেম' নামক মসজিদের মাঝখানে অবস্থিত। এর ভৌগোলিক অবস্থান ২১°২৫′২১″ উত্তর ৩৯°৪৯′৩৪″ পূর্ব / ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব / 21.4224935; 39.8262013

বাস্তবিক কাঠামোসম্পাদনা

কাবা একটি বড় পাথরের কাজ করা কাঠামো যার আকৃতি প্রায় একটি ঘনক এর মত। কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকা'আব অর্থ ঘন থেকে। এটি কাছের পাহাড়ের গ্রানাইট দ্বারা তৈরি যা দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২৫সেঃমিঃ (১০ ইঞ্চি) মার্বেল পাথরের ভিত্তির উপর যা বাইরের দিকে ৩০সেঃমিঃ (১ ফুট) বাড়িয়ে আছে।[১] কাঠামোতে জায়গার পরিমাণ প্রায় ১৩.১০ মিঃ (৪৩ ফুট) উচ্চতা, পাশাপাশি ১১.০৩ মিঃ X ১২.৬২ মিঃ[২][৩] চারটি কোন কম্পাসের প্রায় চার বিন্দু বরাবর মুখ করা।[১] কাবার পূর্ব কোনা হচ্ছে রুকন-আল- আসওয়াদ" (কাল পাথর অথবা "আল-হাজারুল-আসওয়াদ"), একটি উল্কাপিন্ডের অবশেষ; উত্তর কোনা হল "রুকন-আল-ইরাকি" (ইরাকি কোণ); পশ্চিমে রয়েছে "রুকন-আল-সামী" (পূর্ব-ভূমধ্য সাগরীয় কোণ) এবং দক্ষিণে "রুকন-আল-ইয়ামানী" ('ইয়েমেনী কোণ')।[১][৩]

কাবা শরীফের গিলাফসম্পাদনা

কাবা কালো সিল্কের উপরে স্বর্ণ-খচিত ক্যালিগ্রাফি করা কাপড়ের গিলাফে আবৃত থাকে। কাপড়টি কিসওয়াহ নামে পরিচিত ; যা প্রতিবছর পরিবর্তন করা হয়।[৪][৫] কালেমা শাহাদাত এ কাপড়ের মধ্যে সুতা দিয়ে লিখার কাঠামো তৈরি করা হয়। এর দুই তৃতীয়াংশ কোরানের বাণী স্বর্ণ দিয়ে এম্রোয়ডারি করা হয়।

কিবলাসম্পাদনা

কিবলা হচ্ছে নামাজের জন্য মুসলমানদের যেদিকে মুখ করা দাঁড়াতে হয়, সেই দিকটি। অনেক ধর্মেই উপাসনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিক থাকে। সেরকমই মুসলমানদের জন্য কিবলা হচ্ছে মক্কায় অবস্থিত মসজিদুল হারাম, যা কাবা শরিফ নামে বেশি পরিচিত। তবে মজার ব্যাপার হলো, প্রথমে কাবা শরিফ কিবলা ছিল না। বরং প্রথম কিবলা ছিল জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদুল আকসা। মদীনায় হিজরতের ষোল মাস পর কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী কিবলা পরিবর্তিত হয়ে বর্তমানের কিবলা অর্থাৎ কাবা শরীফ কিবলা হিসেবে নির্ধারিত হয়।

তাওয়াফসম্পাদনা

তাওয়াফ হল কাবা ঘরের চারপাশে ৭ বার প্রদক্ষিণ করা, ঘড়ির বিপরীতমুখী হয়ে। কাবার চারদিকে একত্রে ঘুরে মুসলমানেরা এক আল্লাহ্‌র একাত্মতা প্রকাশ করার জ্বলন্ত উদাহরণ । তাওয়াফ শুরুর পূর্বে হাজারে আসওয়াদে চুমু দেয়া নিয়ম। তবে ভিড়ের কারণে এর কাছে যাওয়া সম্ভব না হলে হাত দিয়ে ইশারা করে তাওয়াফ শুরু করতে হয়।

হজের গুরুত্বপূর্ণ রোকন তাওয়াফ। তাছাড়া হজ নির্দিষ্ট ৫ দিনে সম্পন্ন হয়। কিন্তু হজের সফরে হাজিগণ দীর্ঘ দিন মক্কায় অবস্থান করে। এ সময়ে প্রতিনিয়ত তাঁরা তাওয়াফ করবেন।

তাওয়াফের অনেক ফজিলত রয়েছে। সে কারণেই তাওয়াফ যেন সঠিক এবং সহিহ হয়ে সে জন্য তাওয়াফের নিয়ম-কানুন জানা জরুরি। তাই ধারাবাহিকভাবে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করার পদ্ধতি তুলে ধরা হলো-

তাওয়াফ শুরু স্থানপবিত্র কাবা শরিফের যে কোনায় হাজরে আসওয়াদ স্থাপিত, সেই কোনা থেকে মাতআফের (তাওয়াফের জায়গার) ওপর দিয়ে মসজিদে হারামের দিকে একটা দাগ দিয়ে চিহ্নিত করে দেয়া আছে এবং কাবা শরিফের গিলাফের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত আরবিতে ‘আল্লাহু আকবার’ শব্দের ক্যালিগ্রাফি খচিত লেখা রয়েছে। সে বরাবর দাগের ওপর দাঁড়ানো।

তাওয়াফ শুরু করাতাওয়াফ শুরু করার আগে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা অথবা স্পর্শ করা; সম্ভব না হলে দাগের ওপর দাঁড়িয়ে চলা শুরু করার সময় নামাজের নিয়ত বাঁধার মতো করে উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাজরে আসওয়াদের দিকে ইশারা করে মুখে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার` বলে চক্কর দেয়া শুরু করা।

যেদিকে যাবে হাজরে আসওয়াদ থেকে পবিত্র কাবা শরিফের দরজার দিকে অগ্রসর হওয়া। এর পর হাতিমে কাবা বাহিরে দিয়ে রুকনে শামি ও ইরাকি অতিক্রম করে রুকনে ইয়ামেনি বরাবর এসে তা স্পর্শ করা। যদি সম্ভব না হয়ে তবে হাতে ইশারা করা।

রুকনে ইয়ামেনি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত আসতে এই দোয়া পড়া-‘রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আ’জাবান নার।’ অর্থাৎ ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়া এবং পরকালের কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আগুণ থেকে মুক্তি দান করুন।’

হাজরে আসওয়াদের কোনায় এসে আগের মতো আবারো স্পর্শ বা ইশারার মাধ্যমে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে চক্কর শুরু করা। এভাবে সাত চক্করের মাধ্যমে তাওয়াফ সম্পন্ন করা।

তাওয়াফ আদায়কালে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে।

>> ইযতিবা করাযারা ইহরাম বেঁধে হজ ও ওমরার জন্য ফরজ তাওয়াফ করবেন, তাঁদেরকে তাওয়াফের সময় অবশ্যই ইযতিবা করতে হবে। আর তাহলো বীর-বাহাদুরিসূলভ চাদর পরিধান করা। চাদরের মধ্যভাগ থাকবে ডান বগলের নিচে।

আর ফরজ তাওয়াফ না হলে সাধারণ তাওয়াফের বেলায় যে কোনো পোশাকেই তাওয়াফ করা যাবে।

>> হাতিমে কাবাসহ তাওয়াফরোকনে শামি ও রোকনে ইরাকির মধ্যে অবস্থতি অর্ধবৃত্তাকার অংশটিকে হাতিমে কাবা বলা হয়। বাইতুল্লাহ তাওয়াফকালে হাতিমে কাবাকেও প্রদক্ষিণ করা।

>> হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু এবং শেষতাওয়াফ হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু হয়ে মুলতাযেম, কাবা শরিফের দরজা, হাতিমে কাবা হয়ে রুকনে শামি ও ইরাকি শেষ করে রুকনে ইয়েমেনি অতিক্রম করে আবার হাজরে আসওয়াদে এসে শেষ করা। বাইতুল্লাহ প্রদক্ষিণ করার সময় রুকনে ইয়েমেনি কর্নার অতিক্রমকালে সম্ভব হলে চুম্বন করা বা হাতে স্পর্শ করা। ভিড় থাকলে ইশারা করাই যথেষ্ট।

>> রমল করাবাইতুল্লাহকে সাতবার চক্করের মাধ্যমে তাওয়াফ শেষ হয়। এ সাত চক্করের প্রথম তিন চক্করে রমল করতে হবে। প্রথম তিন চক্বরকে রমল বলে। অর্থাৎ বীর দর্পে দ্রুততার সঙ্গে তাওয়াফ করা। পরবর্তী চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেটে তাওয়াফ সম্পন্ন করা

ইতিহাসসম্পাদনা

 
১৭১৮ সালের কাবার দৃশ্য।

উৎপত্তিসম্পাদনা

ব্যুৎপত্তিসম্পাদনা

কাবা শব্দের আভিধানিক অর্থ ( আরবি: كعبة‎‎ ) হল ঘনক[৬]কোরানে, মুহাম্মদের জীবনের যুগ থেকে, কাবাকে নিম্নলিখিত নামে উল্লেখ করা হয়েছে:

১.আল-বাইত (আরবি: ٱلْبَيْت, lit. 'ঘর') ২:১২৫-এ আল্লাহ কর্তৃক।[১]

২.বাইতি (আরবি: بَيْتِي, lit. 'আমার ঘর') ২২:২৬ আল্লাহর দ্বারা।[২]

৩.বায়তিক আল-মুহররম (আরবি: بَيْتِكَ ٱلْمُحَرَّم, lit. 'তোমার অলঙ্ঘনীয় ঘর') ১৪:৩৭ ইব্রাহিম দ্বারা।[৩]

৪.আল-বায়ত আল-হারাম (আরবি: ٱلْبَيْت ٱلْحَرَام, lit. 'পবিত্র ঘর') ৫:৯৭ এ আল্লাহর দ্বারা।[৪]

৫.আল-বাইত আল-আতীক (আরবি: ٱلْبَيْت ٱلْعَتِيق, lit. 'প্রাচীন বাড়ি') ২২:২৯ এ আল্লাহর দ্বারা।[৫]

ঐতিহাসিক এডুয়ার্ড গ্লেসারের মতে, "কাবা" নামটি দক্ষিণ আরব বা ইথিওপিয়ান শব্দ " মিকরাব " এর সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, যা একটি মন্দিরকে নির্দেশ করে। [৭]লেখিকা প্যাট্রিসিয়া ক্রোন এই ব্যুৎপত্তির বিরোধিতা করেছেন। [৮]

পটভূমি

শহরটি ইসলামের উত্থানের তিন শতাব্দী আগে লিখিত কোনো পরিচিত ভৌগলিক বা ইতিহাস থেকে অনুপস্থিত, যদিও অনেক মুসলিম এবং শিক্ষাবিদ ঐতিহাসিক প্রাক-ইসলামী মক্কার শক্তি ও গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তারা এটিকে একটি শহর হিসাবে চিত্রিত করেছে যা মশলা ব্যবসার আয়ের উপর সমৃদ্ধ হয়েছে। প্যাট্রিসিয়া ক্রোন বিশ্বাস করেন যে এটি একটি অতিরঞ্জন এবং মক্কা শুধুমাত্র চামড়া, কাপড় এবং উটের মাখনের জন্য যাযাবরদের সাথে ব্যবসার জন্য একটি ফাঁড়ি ছিল।ক্রোন যুক্তি দেন যে মক্কা যদি বাণিজ্যের একটি সুপরিচিত কেন্দ্র হত, তবে এটি পরবর্তী লেখক যেমন প্রকোপিয়াস, নননোসাস, বা সিরিয়াক গির্জার ক্রনিকলাররা সিরিয়াক ভাষায় লিখতেন বলে উল্লেখ করতেন। [৮]এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে, "ইসলামের উত্থানের আগে, এটি একটি পবিত্র অভয়ারণ্য হিসাবে সম্মানিত ছিল এবং এটি একটি তীর্থস্থান ছিল।" [৯]

ইসলামের আগে, কাবা সমগ্র আরব উপদ্বীপ জুড়ে বিভিন্ন বেদুইন উপজাতিদের জন্য একটি পবিত্র স্থান ছিল।প্রতি চান্দ্র বছরে একবার বেদুইনরা মক্কায় তীর্থযাত্রা করত।যে কোন উপজাতীয় বিবাদকে একপাশে রেখে, তারা কাবায় তাদের দেবতাদের পূজা করবে এবং শহরে একে অপরের সাথে ব্যবসা করবে। [১০]কাবার অভ্যন্তরে বিভিন্ন ভাস্কর্য ও চিত্রকর্ম রাখা হয়েছিল।হুবালের একটি মূর্তি (মক্কার প্রধান মূর্তি) এবং অন্যান্য পৌত্তলিক দেব-দেবীর মূর্তি কাবার বা তার আশেপাশে স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা যায়। [১১]দেয়ালে মূর্তি আঁকা ছিল।ফেরেশতাদের ছবি, 'ইব্রাহিম(আ:) এর ভবিষ্যদ্বাণীর তীর ধারণকারী, এবং 'ঈসা (আ:) ( যীশু ) এবং তার মা মরিয়ম ( মেরি ) এর চিত্রও কাবার অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিল এবং পরে মক্কা বিজয়ের পর মুহাম্মদ(স:) এর নির্দেশে ধ্বংস করা হয়েছিল। [১১]অনির্ধারিত সাজসজ্জা, টাকা এবং একজোড়া মেষের শিং কাবার ভিতরে থাকার কথা প্রমাণ করা হয়েছিল। [১১]কথিত আছে যে, মেষের শিং জোড়া ইব্রাহিম কর্তৃক তার পুত্র ইসমাইলের স্থলে কোরবানি করা মেষের অন্তর্গত ছিল, যেমনটি ইসলামিক ঐতিহ্য অনুসারে।[১১]

আল-আজরাকি তার পিতামহের কর্তৃত্বে নিম্নলিখিত বর্ণনা প্রদান করেছেন: [১১]

আমি শুনেছি যে "আল-বাইত" (কাবাকে নির্দেশ করে) মরিয়ম এবং 'ঈসা'র একটি ছবি(আরবি: تمثال‎, প্রতিবর্ণী. Timthal, অনুবাদ 'Depiction'‎) স্থাপন করা হয়েছিল।['তিনি'] বলেছেন: হ্যাঁ, এতে মরিয়মের একটি সুশোভিত ছবি ছিল ('মুজাওওয়াকান'); তাঁর কোলে, তাঁর পুত্র ঈসা শোভিত হয়ে বসেছিলেন।"

— আল-আজরাকি, আখবার মক্কা: মক্কার ইতিহাস[১২]

কারেন আর্মস্ট্রং তার বই ইসলাম: এ শর্ট হিস্ট্রি -এ দাবি করেছেন যে কাবা আনুষ্ঠানিকভাবে হুবাল, একজন নাবাতেন দেবতাকে উত্সর্গীকৃত ছিল এবং এতে ৩৬০টি মূর্তি ছিল যা সম্ভবত বছরের দিনগুলিকে প্রতিনিধিত্ব করে। [১৩]যাইহোক, মুহাম্মদ(স:) এর যুগে,কাবাকে মহান আল্লাহর ফর হিসকরা হয়েছিল।বছরে একবার, আরব উপদ্বীপের চারপাশ থেকে উপজাতিরা হজ পালন করার জন্য মক্কায় একত্রিত হত।এই সময়ে মুসলিমরা মুহাম্মদ(স:) এর নির্দেশ অনুসারে, জেরুজালেমের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করত এবং কাবাঘরের পৌত্তলিক সংঘের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিত। [১৩]আলফ্রেড গুইলাউম তার ইবনে ইসহাকের সিরাহ-এর অনুবাদে বলেছেন যে কাবাকেই হয়তো স্ত্রীলিঙ্গাত্মক হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে।[১৪] তাওয়াফ প্রায়ই নগ্ন পুরুষদের দ্বারা এবং প্রায় নগ্ন মহিলাদের দ্বারা কৃত হত। [১৫]আল্লাহ ও হুবল একই উপাস্য নাকি ভিন্ন ছিল তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।উরি রুবিন এবং ক্রিশ্চিয়ান রবিনের একটি অনুমান অনুসারে, হুবাল শুধুমাত্র কুরাইশদের দ্বারাই পূজা করা হতো এবং কাবা প্রথমে আল্লাহর কাছে উৎসর্গ করা হয়েছিল, যা বিভিন্ন গোত্রের লোকদের সর্বোচ্চ দেবতা ছিল, যখন কুরাইশদের দেবতাদের প্যান্থিয়ন কাবাতে স্থাপন করা হয়েছিল। তারা মুহাম্মদ(স:) এর সময়ের এক শতাব্দী আগে মক্কা জয় করেছিল। [১৬]

ইমোতি দাবি করেছেন যে এক সময়ে আরবে এমন অসংখ্য কাবা অভয়ারণ্য ছিল, কিন্তু এটিই ছিল একমাত্র পাথরের তৈরি। [১৭]অন্যদেরও ব্ল্যাক স্টোনের প্রতিপক্ষ ছিল বলে অভিযোগ।দক্ষিণ আরবের ঘাইমান শহরের কাবাতে একটি "লাল পাথর" ছিল; এবং "সাদা পাথর" আল-আবালাতের কাবার (আধুনিক দিনের তাবালার কাছে)।ধ্রুপদী ইসলামে গ্রুনবাউম উল্লেখ করেছেন যে সেই সময়ের দেবত্বের অভিজ্ঞতা প্রায়শই পাথর, পর্বত, বিশেষ শিলা গঠন বা "অদ্ভুত বৃদ্ধির গাছ" এর ফেটিসিজমের সাথে যুক্ত ছিল। [১৮]আর্মস্ট্রং আরও বলেছেন যে কাবাকে বিশ্বের কেন্দ্রে বলে মনে করা হয়েছিল, যার সরাসরি উপরে জান্নাতের দরজা রয়েছে।কাবা সেই স্থানটিকে চিহ্নিত করেছে যেখানে পবিত্র বিশ্ব অপবিত্রের সাথে ছেদ করেছে; এমবেডেড ব্ল্যাক স্টোনটি এটির আরও একটি প্রতীক ছিল একটি উল্কাপিণ্ড যা আকাশ থেকে পড়েছিল এবং স্বর্গ ও পৃথিবীকে সংযুক্ত করেছিল। [১৯]

সারওয়ারের মতে, মুহাম্মদের জন্মের প্রায় ৪০০ বছর আগে, আমর বিন লুহায় নামক একজন ব্যক্তি, যিনি কাহতান থেকে এসেছেন এবং হিজাজের রাজা ছিলেন তিনি কাবার ছাদে হুবালের একটি মূর্তি স্থাপন করেছিলেন।এই মূর্তিটি কুরাইশ গোত্রের অন্যতম প্রধান দেবতা ছিল।মূর্তিটি লাল এগেট দিয়ে তৈরি এবং মানুষের মতো আকৃতির, কিন্তু ডান হাতটি ভেঙে সোনার হাত দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছিল।যখন মূর্তিটি কাবার ভিতরে স্থানান্তরিত হয়েছিল, তখন এর সামনে সাতটি তীর ছিল যা ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য ব্যবহৃত হত। [২০]যেখানে কাবার ৩০ কিলোমিটার (২০ মা) চিরকাল যুদ্ধরত উপজাতিদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্য, মক্কাকে একটি অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।এই যুদ্ধ-মুক্ত অঞ্চলটি মক্কাকে কেবল তীর্থস্থান হিসাবেই নয়, একটি বাণিজ্য কেন্দ্র হিসাবেও উন্নতি করতে দেয়। [২১]

সামারিটান সাহিত্যে, সামারিটান বুক অফ দ্য সিক্রেটস অফ মোজেস ( আসাতির ) বলে যে ইসমাইল এবং তার জ্যেষ্ঠ পুত্র নেবাইওথ কাবা এবং মক্কা শহরও নির্মাণ করেছিলেন।" [২২]আসাতির বইটি সম্ভবত ১০ ম শতাব্দীতে সংকলিত হয়েছিল, [২৩] যদিও মোসেস গ্যাস্টার ১৯২৭ সালে প্রস্তাব করেছিলেন যে এটি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের পরে লেখা হয়েছিল। [২৪]

স্থাপত্য এবং অভ্যন্তরসম্পাদনা

কাবা হল একটি কিউবয়েড আকৃতির কাঠামো যা পাথর দিয়ে তৈরি।এটি প্রায় ১৩.১ মিটার (৪৩ ফুট ০ ইঞ্চি) লম্বা (কিছু দাবি করে ১২.০৩ মিটার বা ৩৯ ফুট ৫+১⁄২ ইঞ্চি), যার বাহুগুলি ১১.০৩ মি × ১২.৮৬ মিটার (৩৬ ফুট ২+১⁄২ ইঞ্চি × ৪২ ফুট ২+ ১⁄২ ইঞ্চি)।কাবার ভিতরের মেঝে মার্বেল ও চুনাপাথর দিয়ে তৈরি।অভ্যন্তরীণ দেয়াল, পরিমাপ ১৩ মি × ৯ মি (৪৩ ফু × ৩০ ফু), ছাদের অর্ধেক পথ টাইল্ড, সাদা মার্বেল দিয়ে পরিহিত, মেঝে বরাবর গাঢ় ছাঁটাই সহ।অভ্যন্তরের মেঝে প্রায় ২.২ মি (৭ ফু ৩ ইঞ্চি) দাঁড়িয়েছে স্থলভাগের উপরে যেখানে তাওয়াফ করা হয়।

কাবার প্রবেশপথের সরাসরি সংলগ্ন দেয়ালে শিলালিপি সহ ছয়টি ফলক রয়েছে এবং অন্যান্য দেয়াল বরাবর আরও বেশ কয়েকটি ফলক রয়েছে। দেয়ালের উপরের কোণে সোনার কোরানের আয়াত দিয়ে সূচিকর্ম করা একটি কালো কাপড় আছে।তত্ত্বাবধায়করা মার্বেল ক্ল্যাডিংকে একই সুগন্ধযুক্ত তেল দিয়ে অভিষেক করে যা কালো পাথরের বাইরে অভিষেক করতে ব্যবহৃত হয়।কাবার অভ্যন্তরে তিনটি স্তম্ভ (কিছু ভুলভাবে দুটি রিপোর্ট করে) আছে, একটি এবং অন্য দুটির মধ্যে একটি ছোট বেদি বা টেবিল সেট করা আছে।বাতির মতো বস্তু (সম্ভাব্য লণ্ঠন বা ক্রুসিবল সেন্সার ) সিলিং থেকে ঝুলে থাকে।সিলিং নিজেই গাঢ় রঙের, নিচের ছাঁটাইয়ের মতো রঙের।বাব উত-তওবাহ— ডান দেয়ালে (প্রবেশের ডানদিকে) একটি সিঁড়ি আছে, তার মাধ্যমে কাবার ছাদে যাওয়া যায় ।ছাদ এবং সিলিং উভয়ই (সম্মিলিতভাবে দ্বৈত স্তরযুক্ত) তৈরি স্টেইনলেস স্টীল- ক্যাপড সেগুন কাঠ দ্বারা।

 
কাবার একটি প্রযুক্তিগত অঙ্কন যেখানে মাত্রা এবং উপাদান দেখানো হয়েছে
 
রুকন আল-ইয়ামানি (ইয়েমেনি কর্নার)

https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Kaaba.png#/media/File:Kaaba.png


নিম্নলিখিত তালিকার প্রতিটি সংখ্যাযুক্ত আইটেম ডায়াগ্রাম ছবিতে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে মিলে যায়।

  1. হাজার আল-আসওয়াদ ( আরবি: الحجر الأسود‎, প্রতিবর্ণী. al-Hajar al-Aswad, অনুবাদ 'The Black Stone'‎ : الحجر الأسود , রোমানাইজড : আল-হাজার আল-আসওয়াদ , আলোকিত'কালো পাথর'), কাবার পূর্ব কোণে অবস্থিত। এটি সেই স্থান যেখানে মুসলমানরা তাদের কাবা প্রদক্ষিণ শুরু করে, যা তাওয়াফ নামে পরিচিত।
  2. প্রবেশদ্বারে একটি দরজা ২.১৩ মি[রূপান্তর: অজানা একক] মাটির উপরে কাবার উত্তর-পূর্ব দেয়ালে, যাকে বলা হয় বাব আর-রাহমাহ ( আরবি: باب الرحمة‎‎ : باب الرحمة , রোমানাইজড : বাব আর-রহমাহ , লিট'রহমতের দরজা'), এটিও প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে)।[১] ১৯৭৯ সালে, ৩০০ কেজি (৬৬০ পা) সোনা দ্বারা শিল্পী আহমদ বিন ইব্রাহিম বদর কর্তৃক তৈরি সোনার দরজা, যা ১৯৪২ সালে তার পিতা ইব্রাহিম বদরের তৈরি পুরানো রূপার দরজা প্রতিস্থাপন করে বসানো হয়। বনু শায়বার খিলান আকৃতির গেট এবং জমজম কূপের মধ্যে মসজিদে একটি কাঠের সিঁড়ি রয়েছে।প্রাচীনতম টিকে থাকা দরজাটি ১০৪৫ সালের পূর্বের। [২৫]
  3. মিজাব আল-রাহমাহ, যাকে সাধারণত মিজাব বলা হয় । এটি সোনার তৈরি একটি বৃষ্টির স্পাউট।১৬২৭ সালে যখন কাবা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল, ১৬২৬ সালে একটি বন্যার কারণে চারটি দেয়ালের মধ্যে তিনটি ভেঙে পড়ার পরে যোগ করা হয়েছিল।
  4. কাবার তিন দিকের এই তির্যক কাঠামোটি শাদেরওয়ান নামে পরিচিত ( আরবি: شاذروان‎‎ : شاذروان ) এবং ১৬২৭ সালে মিজাব আল-রাহমাহ এর সাথে বৃষ্টির পানি থেকে ভিত্তি রক্ষা করার জন্য যুক্ত করা হয়েছিল।
  5. হাতিম (হাতেম নামেও রোমানীকৃত ) এবং হিজর ইসমাইল নামেও পরিচিত, এটি একটি নিম্ন প্রাচীর যা মূল কাবার অংশ ছিল।এটি একটি অর্ধবৃত্তাকার দেয়াল বিপরীত দিকে, কিন্তু কাবার উত্তর-পশ্চিম দেয়ালের সাথে সংযুক্ত নয়।এটা১.৩১ মি (৪ ফু   ইঞ্চি) উচ্চতা এবং ১.৫ মি (৪ ফু ১১ ইঞ্চি) প্রস্থ বিশিষ্ট, এবং সাদা মার্বেল দিয়ে গঠিত।হাতিম এবং কাবার মধ্যবর্তী স্থানটি মূলত কাবার অংশ ছিল এবং তাই তাওয়াফের সময় এখানে প্রবেশ করা হয় না।
  6. আল-মুলতাজাম, হাজরে আসওয়াদ এবং প্রবেশ দরজার মধ্যে মোটামুটি২ মি (  ফু) জায়গা রয়েছে।একজন হাজীর জন্য কাবার এই অঞ্চলটি স্পর্শ করা বা এখানে দুআ করা অনেক আকাঙ্ক্ষিত।
  7. ( মাকামে ইব্রাহিম ) হল একটি কাঁচ এবং ধাতব ঘের যার মধ্যে ইব্রাহিম (আঃ) এর পায়ের ছাপ রয়েছে।কাবার উপরের অংশগুলি নির্মাণের সময় ইব্রাহিম(আঃ) এই পাথরের উপর দাঁড়িয়েছিলেন এবং উপরের অংশগুলির জন্য ইসমাইল(আঃ)কে তার কাঁধে তুলেছিলেন।
  8. কালো পাথরের কোণে।এটি কাবার কেন্দ্র থেকে খুব সামান্য দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মুখ করে।কাবার চারটি কোণ মোটামুটিভাবে কম্পাসের চারটি মূল দিক নির্দেশ করে। [১]
  9. রুকন আল-ইয়ামানি ( আরবি: الركن اليمني‎, প্রতিবর্ণী. ar-Rukn al-Yamani, অনুবাদ 'The Yemeni Corner'‎ : الركن اليمني , রোমানাইজড : আর-রুকন আল-ইয়ামানি , লিট'ইয়েমেনি কর্নার'), যা রুকন-ই-ইয়ামানি বা রুকন-ই-ইয়েমেনি নামেও পরিচিত, কাবার কেন্দ্র থেকে সামান্য দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে মুখ করা কাবার কোণ।[১][৩]
  10. রুকন উশ-শামি ( আরবি: الركن الشامي‎‎ : الركن الشامي , রোমানাইজড : আর-রুকন আশ-শামি , লিট'দ্য লেভানটাইন কর্নার'), যা রুকন-ই-শামি নামেও পরিচিত, কাবার কেন্দ্র থেকে খুব সামান্য উত্তর-পশ্চিম দিকে মুখ করা কাবার কোণ।[৩]
  11. রুকন আল-ইরাকি ( আরবি: الركن العراقي‎‎ : الركن العراقي , রোমানাইজড : আর-রুকন আল-ইরাকি , lit. 'দ্য ইরাকি কর্নার'), হল কাবার কেন্দ্র থেকে সামান্য উত্তর-পূর্ব দিকে মুখ করা কাবার কোন।
  12. কিসওয়াহ, এমব্রয়ডারি করা আবরণ।কিসওয়া হল একটি কালো রেশম এবং সোনার পর্দা যা প্রতি বছর হজ যাত্রার সময় প্রতিস্থাপন করা হয়। এর দুই-তৃতীয়াংশ হল হিজাম, সোনার সূচিকর্ম করা কোরানিক পাঠের একটি ব্যান্ড, শাহাদা সহ, ঈমানের ইসলামী ঘোষণা।কাবার দরজার পর্দা বিশেষভাবে অলংকৃত এবং সিতারা বা বোরকু' নামে পরিচিত। হিজাম এবং সিতারায় সোনা ও রূপার তারে সূচিকর্ম করা শিলালিপি রয়েছে, কুরআনের আয়াত এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা সহ।
  13. মার্বেল স্ট্রাইপ প্রতিটি প্রদক্ষিণের শুরু এবং শেষ চিহ্নিত করে।

দ্রষ্টব্য: কাবার প্রধান (দীর্ঘ) অক্ষটি ক্যানোপাস নক্ষত্রের উত্থানের সাথে সারিবদ্ধ হতে পরিলক্ষিত হয়েছে যার দিকে এর দক্ষিণ প্রাচীর নির্দেশিত হয়েছে, যখন এর ছোট অক্ষ (এর পূর্ব-পশ্চিম সম্মুখভাগ) মোটামুটি গ্রীষ্মের সূর্যোদয়ের সাথে সারিবদ্ধ। এবং শীতকালীন সূর্যাস্তের সূর্যাস্ত।

 
বাব আত-তওবাহ, "তাওবার দরজা"
 
সৌদি আরবে ৫০০-রিয়ালের (প্রায় ১৩৩ ডলার ) নোটের উল্টো দিকে একই রকম দৃশ্য ছাপা হয়েছে।
 
মাকামে ইব্রাহিম
 
মিজাব আল-রাহমাহ


পরিষ্কারসম্পাদনা

"পবিত্র কাবা পরিষ্কার" ( আরবি: تنظيف الكعبة المشرفة‎, প্রতিবর্ণী. Tanzif al-Ka'bat al-Musharrafah, অনুবাদ 'Cleaning of the Sacred Cube'‎ : تنظيف الكعبة المشرفة , রোমানাইজড : তানযীফ আল-কাবাত আল-মুশাররাফাহ , লি .'কাবা পরিষ্কার করা'). অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ইসলামিক ক্যালেন্ডারের অষ্টম মাস শা'বানের ১ তারিখে, রমজান মাস শুরু হওয়ার প্রায় ত্রিশ দিন আগে এবং প্রথম মাস মুহাররমের ১৫ তারিখে।কাবার চাবি বনি শায়বাহ ( আরবি: بني شيبة‎‎ : بني شيبة) এর কাছে রয়েছে

) গোত্রের কাছে, এটি একটি সম্মান যা তাদের উপর মুহাম্মদ(স:) দ্বারা অর্পিত। পরিচ্ছন্নতার অনুষ্ঠান উপলক্ষে উপজাতির সদস্যরা কাবার অভ্যন্তরে দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা জানায়।

মক্কা প্রদেশের গভর্নর এবং সহকারী গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওদ সুগন্ধি দিয়ে জমজমের পানিতে ডুবানো কাপড় ব্যবহার করে কাবার অভ্যন্তর পরিষ্কার করেন।তায়েফ গোলাপ, আউদ ও কস্তুরী সহ বেশ কিছু বিলাসবহুল পারফিউমের সাথে জমজমের পানির মিশ্রণের সাথে নির্ধারিত তারিখের একদিন আগে ধোয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়।গোলাপের সুগন্ধি মিশ্রিত জমজমের পানি মেঝেতে ছড়িয়ে খেজুর পাতা দিয়ে মুছে দেওয়া হয়।সাধারণত, পুরো প্রক্রিয়াটি দুই ঘন্টার মধ্যে সম্পন্ন হয়।

ইসলামে তাৎপর্যসম্পাদনা

কাবা হল ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান, এবং প্রায়ই বাইতুল্লাহ ( আরবি: بيت الله‎, প্রতিবর্ণী. Bayt Allah, অনুবাদ 'House of Allah'‎ : بيت الله নামে ডাকা হয়।  'আল্লাহর ঘর'). এবং বাইত আল্লাহ আল-হারাম (আরবি: بيت الله الحرام‎, প্রতিবর্ণী. বাইত আল্লাহ ইল-হারাম, অনুবাদ 'আল্লাহর পবিত্র ঘর'‎'আল্লাহর পবিত্র ঘর').

তাওয়াফসম্পাদনা

হাজীরা হজের সময় কাবার চারপাশে তাওয়াফ করছেন (ভিডিও)
 
২০০৮ সালে হজ্জের সময় কাবা এবং মসজিদ আল-হারাম


তাওয়াফ ( আরবি: طَوَاف‎, অনুবাদ 'going about'‎ : طَوَاف , lit. ' যাচ্ছে '

) তীর্থযাত্রার একটি ইসলামী আচার এবং হজ এবং ওমরাহ উভয় সময়েই এটি বাধ্যতামূলক।হাজীরা কাবার (ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান ) চারপাশে সাতবার ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে যান; প্রথম তিনটি দ্রুত গতিতে মাতাফের বাইরের অংশে এবং পরেরটি চারবার অল্প গতিতে কাবার কাছাকাছি। প্রদক্ষিণটি আল্লাহর উপাসনায় বিশ্বাসীদের একতা প্রদর্শন করে বলে বিশ্বাস করা হয়, কারণ তারা কাবার চারপাশে একসাথে চলাফেরা করে, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার সময়। তাওয়াফ করার সময় ওজু অবস্থায় থাকা (অযু) বাধ্যতামূলক কারণ এটিকে একটি ইবাদত ( 'ইবাদাহ ) বলে মনে করা হয়।

কাবার কোণের কালো পাথর থেকে তাওয়াফ শুরু হয়।সম্ভব হলে, মুসলমানরা এটিকে চুম্বন করতে বা স্পর্শ করতে পারে, কিন্তু বেশি ভিড়ের কারণে এটি প্রায়শই সম্ভব হয় না।প্রতিবার একটি প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করার সময় তারা বাসমালাতাকবীর উচ্চারণ করবে।হজযাত্রীদের সাধারণত অন্তত দুবার "তাওয়াফ করার" পরামর্শ দেওয়া হয় - একবার হজের অংশ হিসেবে এবং আবার মক্কা ছাড়ার আগে।

পাঁচ প্রকার তাওয়াফ হল:

  • ত্বওয়াফ আল-কুদুম (আগমন তাওয়াফ) যারা পবিত্র নগরীর বহিরাগত এবং মক্কায় বসবাস করবে না তারা এ ধরনের তাওয়াফ করে।
  • তাওয়াফ আত-তাহিয়াহ (সালাম ত্বওয়াফ) যেকোনো সময়ে আল-মসজিদ আল-হারামে প্রবেশ করার পরে করা হয় এবং এটি মুস্তাহাব
  • ত্বওয়াফ আল- ওমরাহ (উমরাহ তাওয়াফ) বিশেষভাবে ওমরাহর জন্য করা তাওয়াফকে বোঝায়।
  • মক্কা ত্যাগ করার আগে তাওয়াফ আল-ওয়াদা' ("বিদায় তাওয়াফ") করা হয়।
  • তাওয়াফ আয-জিয়ারাহ (দর্শনের তাওয়াফ), তাওয়াফ আল-ইফাদ (ক্ষতিপূরণের তাওয়াফ) বা তাওয়াফ আল- হাজ (হজ তাওয়াফ) হজ শেষ করার পরে করা হয়।

কিবলা হিসেবেসম্পাদনা

নামাজের সময় যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়া হয় তাই কিবলা[কুরআন ২:১৪৩–১৪৪] নামাযের সময় প্রার্থনাকারী ব্যক্তির সাপেক্ষে যে দিকে মুখ করা হয় তা হল কাবার দিক। প্রার্থনা ছাড়াও, মুসলমানরা কেবলার দিকে মুখ করে কুরআন তেলাওয়াত করাকে ভাল শিষ্টাচারের অংশ বলে মনে করে।

গ্রন্থপঞ্জিসম্পাদনা

  • আর্মস্ট্রং, কারেন (২০০০,২০০২)।ইসলামঃ একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাসআইএসবিএন ০-৮১২৯-৬৬১৮-X
  • ক্রোন, প্যাট্রিসিয়া (২০০৪)।মক্কান বাণিজ্য এবং ইসলামের উত্থান ।পিসকাটাওয়ে, নিউ জার্সি: গর্গিয়াস।
  • এলিয়ট, জেরি (১৯৯২)।আরবে তোমার দরজাআইএসবিএন ০-৪৭৩-০১৫৪৬-৩
  • গুইলাম, এ (১৯৫৫)।মুহাম্মদের জীবন ।অক্সফোর্ড: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস।
  • গ্রুনবাউম, জি.ই. ভন (১৯৭০)। ধ্রুপদী ইসলাম: একটি ইতিহাস ৬০০ এডি থেকে ১২৫৮ এডি । অ্যালডাইন পাবলিশিং কোম্পানি। আইএসবিএন 978-0-202-30767-1 
  • হাউটিং, জিআর; কাবা।কোরানের বিশ্বকোষ
  • হিশাম ইবন আল-কালবি দ্য আইডলস বই, নাবিহ আমিন ফারিস ১৯৫২ এর ভূমিকা এবং নোট সহ অনুবাদ করেছেন
  • ম্যাকোলে-লুইস, এলিজাবেথ, দ্য কাবা (টেক্সট), স্মার্টহিস্ট্রি ।
  • মোহাম্মদ, মামদুহ এন. (১৯৯৬)।হজ থেকে ওমরাহ: এ থেকে জেড পর্যন্ত । আমানা পাবলিকেশন্স।আইএসবিএন ০-৯১৫৯৫৭-৫৪-X
  • পিটারসন, অ্যান্ড্রু (১৯৯৭)।ইসলামিক আর্কিটেকচারের অভিধান লন্ডন: রাউটলেজ।
  • ওয়েনসিঙ্ক, এ জে; কাবা।ইসলাম এনসাইক্লোপিডিয়া IV
  • [১৯১৫] দ্য বুক অফ হিস্ট্রি, এ হিস্ট্রি অফ অল নেশনস ফ্রম দ্য আর্লিয়েস্ট টাইমস টু দ্য প্রেজেন্ট, ভিসকাউন্ট ব্রাইস (পরিচয়), দ্য গ্রোলিয়ার সোসাইটি।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Wensinck, A. J; Ka`ba. Encyclopaedia of Islam IV p. 317
  2. Peterson, Andrew (১৯৯৬)। Dictionary of Islamic Architecture.। London: Routledge। ১১ মে ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০০৭ 
  3. Hawting, G.R; Ka`ba. Encyclopaedia of the Qur'an p. 76
  4. "'House of God' Kaaba gets new cloth"। The Age Company Ltd.। ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৮-১৭ 
  5. "The Kiswa - (Kaaba Covering)"। Al-Islaah লPublications। ২০০৩-০৭-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৮-১৭ 
  6. Hans Wehr, Dictionary of Modern Written Arabic, 1994.
  7. Wensinck, A. J; Kaʿba. Encyclopaedia of Islam IV p. 318 (1927, 1978)
  8. Crone, Patricia (২০০৪)। Makkan Trade and the Rise of Islam। Gorgias।  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "Patricia Crone" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  9. Britannica 2002 Deluxe Edition CD-ROM, "Ka'bah".
  10. Timur Kuran (২০১১)। "Commercial Life under Islamic Rule"। The Long Divergence : How Islamic Law Held Back the Middle East। Princeton University Press। পৃষ্ঠা 45–62। 
  11. King, G. R. D. (২০০৪)। "The Paintings of the Pre-Islamic Kaʿba": 219–229। জেস্টোর 1523357  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে ":2" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  12. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; :0 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  13. Karen Armstrong (২০০২)। Islam: A Short History। পৃষ্ঠা 11আইএসবিএন 0-8129-6618-X 
  14. Ibn Ishaq, Muhammad (১৯৫৫)। Ibn Ishaq's Sirat Rasul Allah – The Life of Muhammad Translated by A. Guillaume। Oxford: Oxford University Press। পৃষ্ঠা 85 footnote 2। আইএসবিএন 9780196360331The text reads 'O God, do not be afraid', the second footnote reads 'The feminine form indicates the Ka'ba itself is addressed' 
  15. Ibn Ishaq, Muhammad (১৯৫৫)। Ibn Ishaq's Sirat Rasul Allah – The Life of Muhammad Translated by A. Guillaume। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 88–9। আইএসবিএন 9780196360331 
  16. Christian Julien Robin (২০১২)। Arabia and Ethiopia. In The Oxford Handbook of Late Antiquity। Oxford University Press USA। পৃষ্ঠা 304–305। আইএসবিএন 9780195336931 
  17. Imoti, Eiichi. "The Ka'ba-i Zardušt", Orient, XV (1979), The Society for Near Eastern Studies in Japan, pp. 65–69.
  18. Grunebaum, Classical Islam, p. 24
  19. Armstrong, Jerusalem, p. 221
  20. Francis E. Peters, Muhammad and the origins of Islam, SUNY Press, 1994, p. 109.
  21. Armstrong, Jerusalem: One City, Three Faiths, pp. 221–22
  22. Gaster, Moses (১৯২৭)। The Asatir: the Samaritan book of Moses। The Royal Asiatic Society। পৃষ্ঠা 262, 71। 
  23. Crown, Alan David (2001). Samaritan Scribes and Manuscripts. Tübingen: Mohr Siebeck. p. 27.
  24. M. Gaster, The Asatir: The Samaritan Book of the "Secrets of Moses", London (1927), p. 160
  25. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Al Arabiya নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

টেমপ্লেট:Holiest sites in Shia Islam