সহীহ বুখারী

সুন্নিদের ইসলামে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদীসের সংগ্রহ

সহিহ আল-বুখারি (আরবি: صحيح البخاري‎‎) একটি প্রসিদ্ধ হাদীস বিষয়ক গ্রন্থ। এর আসল ও পুরো নাম, الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه و سلم وسننه وأيامه আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মতে, এটি কুতুব আস-সিত্তাহ অর্থাৎ হাদীস বিষয়ক প্রধান ছয়টি গ্রন্থের অন্তর্গত অন্যতম একটি গ্রন্থ। পারস্যের স্বনামখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ইমাম বুখারি আল্লাহ তায়ালার রাসুল- হযরত মুহাম্মাদ(সা:)-এর বাণীসংবলিত এই গ্রন্থটি সংকলন করেছেন।[১] এই গ্রন্থটিকে ইসলামী বিধি-বিধান বিষয়ে পবিত্র কোরআন মাজিদের পরে সবচাইতে নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[২]

সহীহ বুখারী
SaheehAlBukhari.png
লেখকআবু’আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল
দেশউজবেকিস্তান
ভাষাআরবি
ধারাবাহিককুতুব আল-সিত্তাহ
বিষয়হাদিস
ধরনসুন্নাহ

ইতিহাসসম্পাদনা

ইমাম বুখারী স্বীয় শিক্ষক ইসহাক বিন রাহওয়াইহ থেকে এই গ্রন্থ রচনার প্রেরণা লাভ করেন। একদিন ইসহাক একটি এমন গ্রন্থের আশা ব্যক্ত করেন যাতে শুধু সহিহ হাদীস লিপিবদ্ধ থাকবে। তাঁর ছাত্রদের মাঝে ইমাম বুখারী তখন এই কঠিন কাজে অগ্রসর হন। ২১৭ হিজরী সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি মক্কা শহরের হারাম শরীফে এই গ্রন্থের জন্য হাদীস সংকলন শুরু করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২৩৩ হিজরী সনে এর সংকলনের কাজ সমাপ্ত হয়।

বুখারী শরীফের জন্য হাদীস সংকলনকালে তিনি প্রতিদিন রোজা রাখতেন এবং প্রতিটি হাদীস পাণ্ডুলিপিতে সন্নিবেশনের পূর্বে গোসল করে দু' রাকাত নফল নামাজ আদায় করে মুরাকাবা ও ধ্যানের মাধ্যমে হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন। এ গ্রন্থে তিনি কেবল ‘‘সহিহ হাদীস’’ সংকলন করেননি, বরং সহিহ হাদীসের মধ্যে যেগুলো তার নির্ধারিত শর্ত উত্তীর্ণ হয়েছে কেবল সেগুলো গ্রহণ করেছেন। তিনি স্বয়ং বলেছেন, "আমি জা'মে কিতাবে সহিহ হাদিস ব্যতীত অন্য কোন হাদিস বর্ণনা করিনি। তবে কলেবর বড় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সহিহ হাদিসকে বাদ দিয়েছি। তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমি আমার কিতাবে প্রতিটি হাদিস লেখার পূর্বেই গোসল করেছি এবং দু রাকাআত নামাজ আদায় করে নিয়েছি।’’

অপর বর্ণনা হতে জানা যায় যে, ইমাম বুখারী তার স্বীয় কিতাবের শিরোনামসমূহ রাসুলে করিম (সাঃ)-এর রওজা এবং মসজিদে নববীর মধ্যস্থলে বসে লিখেছিলেন। এ সময় তিনি প্রতিটি শিরোনামের জন্য দু’ রাকায়াত নফল নামাজ আদায় করতেন এবং মুরাকাবা করতেন।

আবুল ফজল মোহাম্মদ বিন তাহেরের বর্ণনা মতে, ‘‘ইমাম বুখারী তার হাদীস গ্রন্থ কাজ বুখারাতে বসে শেষ করেছেন। এক বর্ণ নায় বসরা শহরের কথা আছে।

তবে উল্লিখিত সকল বর্ণনা নির্ভুল। কেননা হাদীস সংকলন কালে তিনি উল্লিখিত সকল নগরীতে অবস্থান করেছেন।

ইমাম বুখারী স্বয়ং বলেছেন, ‘‘আমি আমার সহিহ বুখারি সঙ্গে নিয়ে বসরা শহরে ৫ বছর অবস্থান করেছি এবং আমার কিতাব প্রণয়ের কাজ শেষ করি। আর প্রতি বছরই হজ্ব পালন করি এবং মক্কা হতে বসরাতে ফিরে আসি।’’

হাদিস সংখ্যাসম্পাদনা

বুখারী শরীফের পুরো নাম হলোঃ আল-জামি আল-সাহীহ আল-মুসনাদ মিন উমুরি রাসূলিল্লাহ ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি। ইমাম বুখারীর প্রায় ৬ লাখ হাদীস মুখস্থ ছিল। তিনি ৬ লাখ হাদিস হতে যাচাই বাছাই করে সর্বসাকুলে ১৬ বছর নিরলস সাধনা করে এ প্রসিদ্ধ গ্রন্থখানি প্রণয়ন করেন।

ইবনে আল সালাহ-এর হিসাব মতে: "দ্বিরুক্তি সহ বুখারী শরীফে হাদীসের সংখ্যা ৭২৭৫। বলা হয়েছে যে মাত্র একবার বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ২,২৩০।

এটি মুসনাদ হাদিসকে বোঝানো হয়েছে।

ব্যাখ্যাকারী গ্রন্থসম্পাদনা

সহীহ বুখারী রচনার পর থেকে এ পর্যন্ত তার বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখা হয়েছে। এর মাঝে অন্যতম হলো আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রচিত ফাতহুল বারী এবং ইমাম বদরুদ্দীন আল-আইনি রচিত উমদাতুল ক্বারী। নিচে সহীহ বুখারীর উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহের একটি তালিকা দেয়া হলো:

  • আল-কিরমানী রচিত আল-কাউয়াকিব আল-দারারী ফী শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
  • হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রচিত ফাত্‌হ আল-বারী ফী শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
  • ইবনে বাত্তাল রচিত একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে ফাতহুল বারী নামে।
  • ইমাম বদরুদ্দীন আইনি রচিত উ'মদাতুল ক্বারী ফী শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
  • আল্লামা শিহাবুদ্দীন আল কাসতালানী রচিত ইরশাদ আল-সারী লি শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
  • আলাউদ্দীন মুগলতায়ী রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ
  • আনোয়ার শাহ কাশ্মিরির রচিত ফয়যুল বারী শরহে সহীহিল বুখারী
  • শাব্বির আহমদ উসমানির ফয়জুল বারি শরহে সহিহুল বুখারী
  • আহমদ রেজা খান বেরেলভীর তা'লিকুর রাজবী আলা সহীহীল বুখারী
  • আব্দুল্লাহ বিন আব্দুরাজ্জাক এর লিখিত সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা 'মিন্নাতুল বারী'

ব্যখ্যাকারী উর্দু গ্রন্থসম্পাদনা

উর্দুভাষায় অনেকেই বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

  1. নে'মাতুল বারী ফি শরহে সহীহিল বুখারী- শায়খুল হাদীস আল্লামা গোলাম রসূল সাঈদী
  2. কাশফুল বারী শরহে সহীহিল বুখারী- ইদরীস কাসেমী
  3. ইন'আমুল বারী- মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী
  4. নাসরুল বারী- মুহাম্মাদ উসমান গনি

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা