আলী

সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহনকারী পুরুষ সাহাবী, চতুর্থ খলিফা ও প্রথম ইমাম

আলী ইবনে আবী তালিব (আরবি: علي بن أبي طالب‎‎; জন্মঃ ১৩ সেপ্টেম্বর ৬০০[৫] – মৃত্যুঃ ২৯ জানুয়ারি ৬৬১),[৬][৭] ছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মাদের চাচাতো ভাই, জামাতা ও সঙ্গী (সাহাবী)। তিনি তার হত্যার আগ (৬৫৬ – ৬৬১) পর্যন্ত সঠিকভাবে পরিচালিত চতুর্থ খলিফা হিসেবে মুসলিম বিশ্বকে শাসন করেন। এছাড়াও তিনি শিয়া ইসলামের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। শিয়া ইসলাম অনুসারে তিনি মুহাম্মদের ন্যায্য স্থলাভিষিক্ত ও প্রথম ইমামের ন্যায্য তাৎক্ষণিক উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন।[৮] তিনি আবু তালিবফাতিমা বিনতে আসাদের পুত্র, ফাতিমার স্বামী[৯] এবং হাসানহোসাইনের পিতা।[৬]

আলী
খলিফা, আমীরুল মুমিনীন, হজরত, হায়দর, আবু তুরাব, আসাদুল্লাহ, আল-মুর্তজা, আল-ওয়াসী, আল-ওয়ালী, ওয়ালীউল্লাহ, আবুল হাসান, মুশকিল কুশা, উলিল আমর, ইমামুল মুত্তাকীন, বাব-ই-মদিনাতুল ইলম, ইমাম
Rashidun Caliph Ali ibn Abi Talib - علي بن أبي طالب.svg
আলীর নাম সংবলিত আরবি চারুলিপি
৪র্থ খলিফা, রাশিদুন খিলাফতের
খিলাফত৬৫৬–৬৬১
পূর্বসূরিউসমান ইবনে আফফান
উত্তরসূরিহাসান ইবনে আলী
১ম ইমাম, শিয়া ইসলামের
ইমামত৬৩২–৬৬১
উত্তরসূরিহাসান ইবনে আলী
জন্ম১৫ সেপ্টেম্বর ৬০০ (১৩ রজব ২১ হিজরি)
মক্কা, হেজাজ, আরব উপদ্বীপ[১]
মৃত্যু২৯ জানুয়ারি ৬৬১ (২১ রমজান ৪০ হিজরি)
(বয়স ৫৯)[২][৩]
কুফা, ইরাক, রাশিদুন খিলাফত
সমাধি
দাম্পত্য সঙ্গিনী
সন্তানহাসান, হোসাইন, জয়নব, উম্মে কুলসুম, মুহসিন, মুহম্মদ, আব্বাস, রুকাইয়া, আব্দুল্লাহ, হিলাল, আঊন, মুহম্মদ ইবনে আবী বকর (পালক পুত্র)
পূর্ণ নাম
ʿআলী ইবনে ʾআবু ত়ালেব ইবনে ʾআব্দুল মুত্তালিব
আরবি: عَلِيّ ٱبْن أَبِي طَالِب ٱبْن عَبْد ٱلْمُطَّلِب‎‎
স্থানীয় নামعَلِيّ ٱبْن أَبِي طَالِب
বংশআহল আল-বাইত
বংশবনু হাশিম
রাজবংশকুরাইশ
পিতাআবী তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব
মাতাফাতিমা বিনতে আসাদ
ধর্মইসলাম
মৃত্যুর কারণহত্যা
সমাধিইমাম আলী মসজিদ, নাজাফ, ইরাক
৩১°৫৯′৪৬″ উত্তর ৪৪°১৮′৫১″ পূর্ব / ৩১.৯৯৬১১১° উত্তর ৪৪.৩১৪১৬৭° পূর্ব / 31.996111; 44.314167
স্মৃতিস্তম্ভইমাম আলী মসজিদ, নাজাফ প্রদেশ, ইরাক
অন্যান্য নামবিরিঞ্জি আলী (প্রথম আলী)
তুর্কী: Birinci Ali
পরিচিতির কারণজ্ঞান, প্রজ্ঞা, বীরত্ব, সাহসিকতা, নেতৃত্ব, আধ্যাত্মিকতা, দার্শনিকতা, বাগ্মিতা, ন্যায়বিচার
উল্লেখযোগ্য কর্ম
মুসহাফ আলী, আল-জাফর, নাহজুল বালাগা, গুরার আল-হিকাম ওয়া দুরার আল-কালিম, দীওয়ান আল-ইমাম আলী ইবনে আবী তালিব, সহিফা আল-আলবিয়া
প্রতিদ্বন্দ্বীমুয়াবিয়া ইবনে আবী সুফিয়ান
আত্মীয়মুহ়ম্মদ ইবনে ʾআব্দুল্লাহ (চাচাতো ভাই ও শ্বশুর)

ছোটবেলায় মুহাম্মদ তাঁর যত্ন নিতেন। মুহাম্মদের নিকট আত্মীয়দের আমন্ত্রণের পর আলী প্রায় ৯ থেকে ১১ বছর বয়সে ইসলামে প্রথম বিশ্বাসীদের একজন হন।[৭] এরপর তিনি প্রকাশ্যে ইয়াওম আল-ইনজারের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং মুহাম্মদ তাকে তার ভাই, অভিভাবক[১০] এবং উত্তরসূরি বলে অভিহিত করেন।[৭] তিনি মুহাম্মাদকে তার জায়গায় ঘুমিয়ে লাইলাত আল-মাবিতের রাতে হিজরত করতে সাহায্য করেছিলেন। মদিনায় চলে যাওয়ার পর এবং মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বচুক্তি প্রতিষ্ঠার পর মুহাম্মদ তাকে তার ভাই হিসেবে বেছে নেন।[৬] মদিনায় তিনি বেশিরভাগ যুদ্ধে পতাকাবাহক ছিলেন এবং সাহসিকতার জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন।[৭]

মুহাম্মদ-পরবর্তী খিলাফতে তার অধিকারের বিষয়টি মুসলমানদের মধ্যে একটি বড় ফাটল সৃষ্টি করে এবং তাদের শিয়াসুন্নি গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে।[৬] বিদায় হজ্জ থেকে ফিরে গাদীর খুম্মে মুহাম্মদ এই বাক্যটি উচ্চারণ করেন, "আমি যার মাওলা, এই আলী তার মাওলা।" কিন্তু মাওলার অর্থ শিয়া ও সুন্নিরা বিতর্কিত করেছিল। এই ভিত্তিতে, শিয়ারা আলী সম্পর্কিত ইমামতে এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাস করে এবং সুন্নিরা শব্দটিকে বন্ধুত্ব এবং ভালবাসা হিসাবে ব্যাখ্যা করে।[৬][১১] আলী যখন মুহাম্মদের মরদেহ দাফনের জন্য প্রস্তুত করছিলেন, তখন একদল মুসলমান সকীফাতে মিলিত হয় এবং আবু বকরের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করে।[১২] আলী ছয় মাস পর আবু বকরের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেন, কিন্তু তৃতীয় খলিফা উসমানের নির্বাচন ব্যতীত যুদ্ধ ও রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশ নেননি।[১৩] তবে, তিনি তিন খলিফাকে যখনই চান ধর্মীয়, বিচারিক এবং রাজনৈতিক বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন।

উসমান মিশরীয় বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হওয়ার পর আলী পরবর্তী খলিফা নির্বাচিত হন, যা মুসলমানদের মধ্যে প্রথম গৃহযুদ্ধের সাথে মিলে যায়। আলী দুটি পৃথক বিরোধী শক্তির মুখোমুখি হন: মক্কায় আয়িশা, তালহা এবং জুবাইরের নেতৃত্বে একটি দল, যারা খিলাফত নির্ধারণের জন্য একটি কাউন্সিল ডাকতে চেয়েছিল; এবং লেভানতের মুয়াবিয়ার নেতৃত্বে আরেকটি দল, যারা উথমানের রক্তের প্রতিশোধ দাবি করে। তিনি উটের যুদ্ধে প্রথম দলকে পরাজিত করেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত, প্রথম মুয়াবিয়ার সাথে সিফফিনের যুদ্ধ সামরিকভাবে অকার্যকর ছিল, এবং একটি সালিশির দিকে পরিচালিত করে যা রাজনৈতিকভাবে তার বিরুদ্ধে শেষ হয়। এরপর, ৩৮ খ্রিস্টাব্দে, তিনি খারিজিদের সাথে লড়াই করেন - যিনি আলির সালিশি গ্রহণকে বিধর্মী বলে মনে করেন, ও তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন - নাহরাওয়ানে এবং তাদের পরাজিত করেন।[৭] অবশেষে আলীকে কুফার মসজিদে অন্যতম খরিজি আব্দুল আল-রহমান ইবনে মুলজাম তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করে এবং কুফা শহরের বাইরে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। পরে তার মাজার এবং নাজাফ শহর তার সমাধির চারপাশে নির্মিত হয়।[৭]

মুসলিম ইতিহাস লিখনধারের উপর ধর্মীয় পার্থক্যের প্রভাবের সত্ত্বেও, সূত্রগুলি একমত যে আলি কঠোরভাবে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং পার্থিব সম্পদ এড়িয়ে ছিলেন।[৬] কিছু লেখক তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দক্ষতা এবং নমনীয়তার অভাবের অভিযোগ করেছেন। উইলফার্ড মাদেলুং-এর মতে, আলী রাজনৈতিক প্রতারণার খেলায় নিজেকে জড়িত করতে চাননি, যা যদিও তাকে জীবনে সাফল্য থেকে বঞ্চিত করেছিল, কিন্তু তার সগুণগ্রাহীদের দৃষ্টিতে তিনি প্রাথমিক অদুর্নীতিগ্রস্ত ইসলামের ধর্মভীরুতার পাশাপাশি প্রাক-ইসলামিক আরবের শৌর্যের উদাহরণ হয়ে উঠেছিলেন। বেশ কিছু গ্রন্থ তাঁর বর্ণিত হাদিস, উপদেশ ও প্রার্থনার প্রতি উৎসর্গীকৃত, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত নাহজুল আল-বালাগা

জন্ম ও বংশপরিচয়সম্পাদনা

আলী মক্কায় কুরাইশ বংশে আনুমানিক ৬০১ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। এই বংশের দ্বায়িত্ব ছিল পবিত্র কাবার রক্ষণাবেক্ষণ করা। এই বংশের একটি শাখা হচ্ছে হাশেমি। আলীর মাতা ও পিতা উভয়েই হাশেমি বংশের ছিলেন। আলীর পিতা আবু তালিব কাবা'র প্রহরী এবং শক্তিশালী কুরাইশ গোত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা বানু হাশিমের শেখ ছিলেন৷ আলীর দাদা বনি হাশিম বংশের কিছু সদস্যসহ হানিফ ছিলেন বা উত্থানের পূর্বে একেশ্বরবাদী বিশ্বাস পদ্ধতির অনুসারী ছিলেন। আলী ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবার অভ্যন্তরে জন্মগ্রহণ করেন।[১৪] তাঁর পিতা ছিলেন আবু তালিব ইবনে আবদুল মুত্তালিব এবং মাতা ফাতিমা বিনতে আসাদ[১৫]

১৩ রজব, শুক্রবার, আবু তালিবের স্ত্রী ফাতেমা বিনতে আসাদ কাবা প্রান্তে প্রবেশ করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেনঃ “হে রক্ষক, আমার যন্ত্রণা কমিয়ে দিন।” হঠাৎ কাবার প্রাচীর খুলে যায় এবং তিনি যেন কোনও অদেখা বাহিনীর দ্বারা কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন এবং প্রাচীরটি বন্ধ হয়ে গেল। অতঃপর আলী, আবু তালিবের কনিষ্ঠ পুত্র পবিত্র কাবার অভ্যন্তরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সদ্যোজাত শিশু তার মায়ের সাথে তিন দিন কাবার ভিতরে অবস্থান করেছিলেন। তৃতীয় দিন তিনি দরজা দিয়ে বেরিয়ে এসে দেখলেন মুহাম্মদ বাইরে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন। মুহাম্মদ তাকে অভুক্ত দেখে তার মুখ থেকে প্রথম খাবার দিয়েছিলেন। তিনি যখন জন্মগ্রহণ করেছিলেন তখন মুহাম্মদ তার নাম প্রস্তাব করেছিলেন "আলী", যার অর্থ "উন্নতমান"। এ কারণেই তার নামটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। তার পরে তার চাচা আবু তালিবকে বললেন যে, তিনি শিশুটিকে দত্তক নিতে চান।

শিশু বয়স থেকেই আলী মুহাম্মদের কাছে লালিত-পালিত হন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি সর্বপ্রথম নবুয়ত ডাকে সাড়া দিয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম পুরুষ মানুষ যিনি ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেছিলেন ও তিনি পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি মুহাম্মাদের সাথে নামাজ আদায় করেন। আলী শুরু থেকেই মুহাম্মদের সুরক্ষায় কাজ করেছিলেন এবং মুসলমানদের প্রায় সকল যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। বদর যুদ্ধ বিশেষ বীরত্বের জন্য মুহাম্মদ তাঁকে জুলফিকার নামক তরবারি উপহার দেন। খাইবারের সুরক্ষিত কামুস দুর্গ জয় করলে মুহম্মদ তাঁকে আসাদুল্লাহ বা “আল্লাহর সিংহ” উপাধিতে ভূষিত করেন। এছাড়া নবী করিম গাদীর খুমের ভাষণ তাঁকে মুমিনদের “মওলা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।[১৬][১৭]

বংশতালিকাসম্পাদনা

কিলাব ইবনে মুররাহফাতিমা বিনতে সা'দ
বনু আজদ
কুসাই ইবনে কিলাবহুব্বা বিনতে হুলাইল
বনু খুজা'আ
আব্দ মনাফ ইবনে কুসাইআতিকা বিনতে মুররাহ
বনু হওয়াজিন
সালমা বিনতে আমর
বনু নজ্জার
হাশিম ইবনে আব্দ মনাফকায়লা বিনতে আমর
বনু খুজা'আ
ফাতিমা বিনতে আমর
বনু মখজুম
আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিমআসাদ ইবনে হাশিম
আবী তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিবফাতিমা বিনতে আসাদ
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিবতালিব ইবনে আবী তালিবআকীল ইবনে আবী তালিবফাখিতা বিনতে আবী তালিব
মুহম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ (ﷺ)জা'ফর ইবনে আবী তালিবজুমানা বিনতে আবী তালিব
ফাতিমা বিনতে মুহম্মদআলী ইবনে আবী তালিব

মক্কায় জীবনসম্পাদনা

প্রারম্ভিক বর্ষসমূহসম্পাদনা

আলীর মা-বাবার সাথে মুহাম্মাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মুহাম্মাদ যখন এতিম হয়েছিলেন এবং পরে তার দাদা আবদুল মুত্তালিবকে হারিয়েছিলেন, আলীর বাবা তাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। মুহাম্মাদ খাদিজাহ বিনতে খুওয়ালিদকে বিয়ে করার দুই-তিন বছর পরে আলীর জন্ম হয়। যখন আলীর পাঁচ বছর বয়স হয়েছিল, মুহাম্মাদ আলীকে তার বাড়িতে নিয়ে গেলেন। আলীর বাবা যিনি আর্থিকভাবে সুস্থ ছিলেন, অপরিচিত লোকদের খাবার দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন যদি তারা ক্ষুধার্ত ছিল। আলী দত্তকের পরেই মুহাম্মাদের নিকট থাকতেন।

মুহাম্মাদের যেখানেই গেছেন আলী সারাক্ষণ তার সাথে ছিলেন। এমনকি হেরা পর্বতমালায়ও যখন তিনি ধ্যানের জন্য গিয়েছিলেন আলী বেশিরভাগ সময় তার সাথে যেতেন। কখনও কখনও তারা ৩ বা ৪ দিন পাহাড়ে থাকতেন। মাঝে মাঝে আলী তার খাবার সেখানে নিয়ে যেতেন। নাহজুল বালাগায় আলী বলেছেন যে, “আমি নবীজির সাথে যেতাম যেমনটা বাচ্চা উট তার মায়ের সাথে যায়।”

বাবা দিবসসম্পাদনা

ইসলাম গ্রহণসম্পাদনা

যখন মুহাম্মাদ জানিয়েছিলেন যে তিনি ওহি পেয়েছিলেন, তখন হযরত আলীর মাত্র ৯ বছর বয়সে, তাকে বিশ্বাস করে এবং ইসলামের প্রতি দাবী করে। আলী ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম পুরুষ হন। তিনি খাদিজা পরে দ্বিতীয় ব্যক্তি, ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ইসলাম ও মুসলমানদের ইতিহাসের পুনঃস্থাপনে সৈয়দ আলী আসগর রাজউয়ের মতে, "মুহাম্মাদ এবং খাদিজার ঘরে যমজ হয়ে আলী এবং কুরআন একসাথে বড় হয়েছিল।" কাবায় মুসলমান হিসেবে নামাজে যে তিনজন ব্যক্তিকে প্রথম দেখা যায় তারা হলেন মুহাম্মাদ, খাদিজা ও আলী, কারণ অন্য কেউ সেই সময় ইসলাম গ্রহণ করে নাই। তাই আলী পরিবারকে আহলে বাইত বলা হয়।

আলীর জীবনের দ্বিতীয় সময়টি ৬১০ সালে শুরু হয়েছিল যখন তিনি ৯ বছর বয়সে বিনা দ্বিধায় ইসলাম ঘোষণা করেছিলেন এবং ৬২২ সালে মুহাম্মাদ এর হিজরতের সাথে মদীনায় এসে শেষ করেছিলেন। শিয়া মতবাদ দৃঢ়ভাবে দাবি করে যে, আলী কোনও পুরানো মক্কানীয় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, মুসলমানরা তাকে বহুশাস্ত্রবাদী বা পৌত্তলিক হিসাবে বিবেচনা করে। আলীর গ্রহণযোগ্যতাকে প্রায়শই ধর্মান্তরিত বলা হয় না কারণ তিনি মক্কার জনগণের মতো কোনও মূর্তি পূজারী ছিলেন না। তিনি ইব্রাহিমের ছাঁচে মূর্তি ভাঙা বলে পরিচিত ছিলেন এবং লোকদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তারা নিজেদের তৈরি মূর্তিকে কেন উপাসনা করে। এটি আলীর মহান বীরত্ব ও অন্তর্দৃষ্টি দেখায়, যিনি অবিশ্বাসীদের প্রহসনার বিষয়ে চিন্তা করেননি এবং খুব অল্প বয়সেই সঠিক ও ভুল সম্পর্কে চমৎকার পরিমাণে উপলব্ধি করেছিলেন।

জুল আশিরার ভোজনোৎসবসম্পাদনা

সতর্কতার হাদীস যা মুহাম্মাদ নিকটবর্তী পরিবারগুলির দাওয়াত হিসাবেও পরিচিত (দাওয়াত দুল-আশিরাহ), হাদীসটি ছিল যাতে ইসলামের নবী মুহাম্মদ তার সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন আত্মীয়দের মুসলিম হওয়ার জন্য। আল্লাহর রাসূল কে তার নিজের পরিবার থেকেই ইসলামের প্রচার শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রকাশ্যে দাওয়াত দেওয়ার আগে মুহাম্মাদ তিন বছর লোককে গোপনে ইসলামে দাওয়াত করেছিলেন। তার প্রচারের চতুর্থ বছরে, যখন মুহাম্মাদকে তার নিকটাত্মীয়দের ইসলামে আসতে আমন্ত্রণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি একটি অনুষ্ঠানে বনু হাশিম বংশকে জড়ো করলেন। মুহাম্মদ তাদের কাছে ইসলাম ঘোষণা করলেন এবং তাদেরকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান। এই উদ্দেশ্যে তিনি সকলের নিকট জিজ্ঞাসা করলেন:

আমি তার করুণার জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাই। আমি আল্লাহর প্রশংসা করি এবং তার হেদায়েতের সন্ধান করি। আমি তাকে বিশ্বাস করি এবং আমি তার উপরে আমার ভরসা রাখি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তার কোন অংশীদার নেই; আর আমি তার প্রেরিত রসূল। আল্লাহ আমাকে তার ধর্মের দিকে আহবান করার জন্য আমাকে এই আদেশ দিয়েছিলেন: আর তোমার নিকটতম আত্মীয়-স্বজনকে সতর্ক কর। অতএব, আমি আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছি এবং আপনাকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহবান করছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং আমিই তার রসূল। হে আবদুল মুত্তালিবের ছেলেরা, আমি তোমাদের কাছে যে জিনিস এনেছি তার চেয়ে ভাল আর কেউ আগে কখনও তোমার কাছে আসেনি। এটি গ্রহণ করে, আপনার কল্যাণ দুনিয়া ও আখেরাতে নিশ্চিত হবে। আপনার মধ্যে কে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে আমাকে সমর্থন করবেন? আমার সাথে এই কাজের বোঝা কে ভাগ করে নেবে? আমার ডাকে সাড়া দেবে কে? কে আমার উপ-উত্তরসূরি এবং উত্তরাধিকারী হবে? সর্বশক্তিমান আল্লাহর পথে কে আমার সাথে যোগ দেবে?[১৮]

পুরো সমাবেশটি চুপ করে রইল, কিন্তু তরুণ আলী দারুণভাবে উঠে দাঁড়ালেন। সাহস এবং সকলের সামনে পরিচিত ধার্মিকতার বাক্যে তার দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি কে বললেন, “যদিও এখানে উপস্থিত সকলের মধ্যে আমিই সবচেয়ে কম বয়সী, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার পাশে দাঁড়াব।” তিনি তৃতীয়বারের মত জিজ্ঞাসা করলেন আলী তখনও একমাত্র সমর্থক ছিলেন৷ মুহাম্মদ তখন আলীকে গ্রহণ করেছিলেন সুতরাং তিনিই প্রথম যুবক হয়ে ইসলামের পথে প্রবেশ করলেন। এটি দেখে বনু হাশিম বংশের সকলে মুহাম্মাদের কথায় বিদ্রূপ করে ভোজের কাছ থেকে চলে গেলেন, আবু লাহাব রসিকভাবে আবু তালিবকে বলেছিলেন, যাও এবং তোমার পুত্রের আনুগত্য কর যা আবু তালেব হাসিমুখে গ্রহণ করেছিলেন। আলী মুহাম্মদকে তার প্রচারে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সারা জীবন এই প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন।

মুসলমানদের ওপর নীপিড়নকালেসম্পাদনা

মক্কায় মুসলমানদের উপর অত্যাচার ও বনু হাশিম বর্জনের সময় আলী মুহাম্মদের সমর্থনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। আলী ইসলামের শত্রুদের অপব্যবহার থেকে মুহাম্মদকে রক্ষা করেছেন। মুহাম্মদ যখন নিকটবর্তী শহরে তায়েফের কাছে ইসলাম প্রচার করতে গিয়েছিলেন তায়েফের বাচ্চারা তার প্রতি পাথর নিক্ষেপ করেছিল এবং ‘আলি যিনি নবীকে রক্ষা করেছিলেন এবং শিশুদেরকে নবী থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। যৌবনে আলী ছিলেন দৃঢ়ভাবে নির্মিত, শক্ত বাহু, প্রশস্ত বুক এবং খুব শক্ত সাহসী ও চকচকে চেহারার অধিকারী। তার বয়সের বা তার চেয়েও বড় শিশুরা তাকে ভয় পেত এবং যখনই তারা নবীকে উপহাস করার চেষ্টা করত, তারা সর্বদা পালিয়ে যেত যখন তারা দেখত নবীর সুরক্ষার জন্য আলী দাঁড়িয়ে আছেন। যখন মুহাম্মাদ ইসলাম প্রচার শুরু করলেন তখন আলীর অন্তর্ভুক্ত কিছু লোক ব্যতীত সবাই তার বিরোধী ছিলেন। আলী কখনই তার চাচাত ভাইয়ের সাথে সহযোগিতা করতে এবং তার প্রতি তার ভালবাসা এবং আনুগত্য স্বীকার করতে পিছপা হননি। প্রতিটি অনুষ্ঠানে তিনি মুহাম্মাদের সকল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে ঢাল হিসাবে ছিলেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় এলো যখন মুহাম্মাদের শত্রুরা দৃঢ়ভাবে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই হতাশাজনক হয়েছিল যে এমনকি তাদের জীবনও চরম বিপদে পড়েছিল। তিনি সর্বদা শৈশব থেকেই নবী মুহাম্মদকে রক্ষা করেছিলেন। মুহাম্মাদ তাকেও খুব ভালোবাসতেন। তার বাড়ির চারপাশে উপজাতিরা ঘেরাও করেছিল, যারা তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল। তারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসা যে কোনও ব্যক্তিকে হত্যা করতে প্রস্তুত ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নির্দেশে নবী মুহাম্মদ আবু বকরের সাথে মক্কা ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং রাতে, মুহাম্মাদ আলীকে সকল গচ্ছিত সম্পত্তি তাদের মালিকদের কাছে হস্তান্তর করতে বললেন। মুহাম্মাদ, আলীকে তার বিছানায় শুতে বললেন, তিনি আনন্দের সাথে আদেশটি অনুসরণ করলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিছানায় শুয়ে পড়লেন। আলী ছদ্মবেশ ধারণের জন্য মুহাম্মাদের বিছানায় ঘুমিয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন, ফলে একটি হত্যার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং মুহাম্মাদের হিযরত নিশ্চিত হয়। এই রাতটিকে লাইলাত আল-মবিত বলা হয়। আলী কেবলমাত্র তার নবী মুহাম্মাদের জন্য তার জীবনকে নির্দ্বিধায় ঝুঁকিপূর্ণ করেছিলেন কারণ তিনি জানতেন যে সে রাতে মুহাম্মাদের বিছানায় বিশ্রাম নেওয়ার সময় কাফেররা তাকে হত্যা করতে পারে। এটি আলীর অসাধারণ ও অতুলনীয় নির্ভীকতার পরিচয় দেয় যিনি নিজের জীবন সম্পর্কে উদ্বিগ্ন ছিলেন না, বরং তিনি তার অস্তিত্বকে মুহাম্মাদের খেদমত করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছিলেন কারণ তিনি পরের দিন যারা ছিলেন তাদের মুহাম্মাদের সকল গচ্ছিত সম্পত্তি সফলভাবে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে মক্কার মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। আলীর সাথে তার মা ফাতেমা বিনতে আসাদ, তার খালা, হামজার স্ত্রী এবং মুহাম্মাদের এর কন্যা ফাতেমা এবং আরও অনেক মহিলা ছিলেন। মক্কার কাফেররা ‘আলীকে থামানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু আলী লড়াই করে, কাফেরদের তাড়িয়ে দিয়েছেন এবং তারা নিরাপদে মদীনায় পৌঁছেছিলেন। মুহাম্মদ শহরের সীমানার বাইরে পরিবারের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি আলী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে শহরে প্রবেশ করলেন। কিছু সূত্র মতে, তিনি মদীনা পৌঁছে মুহাম্মাদের প্রথম মক্কা অনুসারীদের মধ্যে একজন ছিলেন।

মদীনায় হিজরতসম্পাদনা

মহানবি হযরত মুহাম্মদ হিজরত করে মদিনা যাওয়ার সময় হযরত আলি-কে আমানতের মালের দায়িত্ব দিয়ে তার বিছানায় রেখে যান । জীবনের কঠিন ঝুঁকি সত্ত্বেও তিনি এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। নবীর দেওয়া দায়িত্বের চেয়ে তিনি তাঁর জীবনের মূল্য তুচ্ছ বলে মনে করেছেন। দায়িত্ব পালনই ছিল তাঁর কাছে বড় ব্যাপার। আলী যখন মদিনায় হিজরত করেছিলেন তখন তার বয়স ২২ বা ২৩ বছর ছিল।

মদীনায় জীবনসম্পাদনা

মুহম্মদের যুগসম্পাদনা

আলী যখন মদিনায় হিজরত করেছিলেন তখন তার বয়স ২২ বা ২৩ বছর ছিল। মুহাম্মদ যখন তার সাহাবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করছিলেন, তখন তিনি আলীকে তার ভাই হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে, "আলী ও আমি একই গাছের যখন মানুষ বিভিন্ন গাছের অন্তর্গত হয়।" দশ বছর ধরে মুহাম্মদ মদীনাতে সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে ছিলেন, আলী তার সম্পাদক এবং প্রতিনিধি হিসাবে ছিলেন,প্রতিটি যুদ্ধে ইসলামের পতাকার আদর্শ বাহক ছিলেন, আক্রমণে যোদ্ধাদের দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং বার্তা এবং আদেশ বহন করেছিলেন। মুহম্মদের একজন প্রতিনিধি হিসাবে এবং পরে তার ছেলে আইন অনুসারে, আলী মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তি ছিলেন৷

ফাতিমার সাথে বিবাহসম্পাদনা

মদিনায় হিজরতের দ্বিতীয় বছরে মুহাম্মাদ তার কন্যা ফাতিমার জন্য বহু বৈবাহিক প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর আদেশে তাকে আলীর সাথে বিবাহের সিদ্ধান্ত নেন। বদরের যুদ্ধের বেশ কয়েকদিন আগে তার সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। তবে তিন মাস পরে এই বিবাহ উদযাপিত হয়েছিল। আলীর বয়স প্রায় ২৩ বছর এবং ফাতেমার বয়স ১৮ বছর। এটি সবচেয়ে আনন্দময় এবং উদযাপিত বিবাহ ছিল। তারা ছিলেন আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট দম্পতি। তাদের দুই পুত্র সন্তানের নাম যথাক্রমে হাসান (আল-হ়াসান ইবনে ʿআলী ইবনে ʾআবী ত়ালিব) এবং হুসাইন (হোসাইন ইবনে আলী )।

সামরিক কর্মজীবনসম্পাদনা

তাবউকের যুদ্ধ ব্যতীত আলী সমস্ত যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ইসলামের পক্ষে যুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। সেই যুদ্ধগুলিতে মানদণ্ডী হওয়ার পাশাপাশি আলী শত্রুদের দেশে অভিযান চালিয়ে যোদ্ধাদের দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। আলী প্রথমে ৬২৪ সালে বদরের যুদ্ধে নিজেকে সাহসী যোদ্ধা হিসাবে প্রতিপন্ন করেছিলেন। মক্কার বীর যোদ্ধা ওয়ালিদ ইবনে উতবাকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে তিনি যুদ্ধ শুরু করেছিল। আলী উহুদ যুদ্ধের পাশাপাশি অন্যান্য অনেক যুদ্ধেও মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন, যেখানে তিনি জুলফিকার নামে পরিচিত দ্বিখণ্ডিত তরোয়াল চালিত করেছিলেন। উহুদ যুদ্ধ যুদ্ধের সময় মুসলিম বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তিনি নবীকে রক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি খন্দকের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন, যেখানে তিনি কিংবদন্তি আরব যোদ্ধা আমর ইবনে আবদ-ওদকে পরাজিত করেছিলেন। ইহুদীদের বিরুদ্ধে খাইবার যুদ্ধ|খাইবার যুদ্ধের]] সময় মুসলমানরা খাইবারের শক্তিশালী ইহুদি দুর্গটি দখলের চেষ্টা করেছিল। রাসূল ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি সেই ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেবেন যিনি আল্লাহ ও তার রাসূলকে ভালবাসেন এবং তারাও তাকে ভালবাসে। পরের দিন মুহাম্মদ আলীর তুলনাহীন লড়াইয়ের ক্ষমতাকে বিশ্বাস করে তাকে দায়িত্ব দেন এবং তাকে মুসলিম নির্দেশ দিতেন। ইহুদিরা কেবল তার ইসলামের দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছিল তাই নয়, তারা তাদের প্রখ্যাত ও সাহসী যোদ্ধা, মহারাবকে সামনে পাঠিয়েছিল, যারা আলীকে যুদ্ধার্থে আহ্বান করেছিল। আরবগণ আলীর অবিশ্বাস্য শক্তি ও শক্তি প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যিনি তার তরোয়ালটির প্রবল আঘাতের দ্বারা মাহরবকে হত্যা করেছিলেন। অতঃপর, মুহাম্মাদ তাকে “আসাদুল্লাহ” উপাধি দিয়েছিলেন, যার অর্থ “আল্লাহর সিংহ”।

ইসলামের জন্য আত্মোৎসর্গসম্পাদনা

মুহম্মদ আলীকে কুরআনের পাঠ্য রচনাকারীদের একজন হিসাবে মনোনীত করেছিলেন, যা পূর্ববর্তী দুই দশকে মুহাম্মদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল। ইসলাম যেভাবে আরব জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল, আলী নতুন ইসলামিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিলেন। ৬২৮ সালে তাকে হুদায়বিয়ার সন্ধি, মুহাম্মদ ও কুরাইশের মধ্যে সন্ধি রচনা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আলী এতটাই বিশ্বাসযোগ্য ছিলেন যে মুহাম্মদ তাকে বার্তা বহন করতে ও আদেশগুলি ঘোষণা করতে বলেছিলেন। ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে আলি মক্কায় তীর্থযাত্রীদের বিশাল সমাবেশে কুরআনের একটি অংশ আবৃত্তি করেছিলেন যা মুহাম্মদ এবং ইসলামী সম্প্রদায়কে আরব মুশরিকদের সাথে পূর্ববর্তী চুক্তি দ্বারা আবদ্ধ ঘোষণা করে না। ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা বিজয়ের সময় মুহাম্মদ আলীকে নিশ্চয়তা দিতে বলেছিলেন যে এই বিজয় রক্তহীন হবে। তিনি আলীকে বনু আউস, বানু খাজরাজ, তায়ে এবং কাবা'র সমস্ত পূজা মূর্তি ভাঙার আদেশ দিয়েছিলেন যা পুরাতন কালের শিরক দ্বারা এটি অশুচি হওয়ার পরে এটিকে পবিত্র করা হয়েছিল। ইসলামের শিক্ষার প্রচারের জন্য এক বছর পর আলীকে ইয়েমেনে প্রেরণ করা হয়েছিল। তিনি বিভিন্ন বিবাদ নিষ্পত্তি এবং বিভিন্ন উপজাতির বিদ্রোহ রোধের দায়িত্ব পালন করেন।

মুবাহিলার ঘটনাসম্পাদনা

গাদীর খুমসম্পাদনা

মুহাম্মাদ ৬৩২ সালে তার শেষ তীর্থস্থান থেকে ফিরে আসার সময় তিনি আলী সম্পর্কে এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন যা সুন্নি ও শিয়াদের দ্বারা খুব আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি গাদির খুম্মে কাফেলাটি থামিয়ে দিয়ে, প্রত্যাবর্তনকারীদেরকে সাম্প্রদায়িক নামাজের জন্য জড়ো করলেন এবং তাদের সম্বোধন শুরু করলেন। ইসলামের বিশ্বকোষ অনুসারে: আলীকে হাত ধরে মুহাম্মদ তার বিশ্বস্ত অনুসারীদের জিজ্ঞাসা করলেন, হে ঈমানদারগণ! আমি কি মুমিনদের নিকটবর্তী ছিলাম না যতটানা তারা তাদের নিজেদের নিকটবর্তী ছিল; মুমিনরা চিৎকার করে কান্না করা বলে উঠল: জ্বী ছিলেন "আল্লাহর প্রেরিত দূত!" অতঃপর তিনি ঘোষণা করলেন: "যার মধ্যে আমি মাওলা, তার মধ্যে আলীও মাওলা৷

শিয়াগণ এই বক্তব্যগুলিকে মুহাম্মাদ এর উত্তরসূরি এবং প্রথম ইমাম হিসাবে আলীর পদবি গঠন হিসাবে বিবেচনা করে; বিপরীতে, সুন্নিরা এগুলিকে মুহাম্মদ এবং আলীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ আধ্যাত্মিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে গ্রহণ করে এবং তার ইচ্ছা যে আলী তার চাচাত ভাই এবং জামাই হিসাবে তার মৃত্যুর পরে তার পারিবারিক দায়িত্ব অর্পণ করে। অনেক সূফীরা এই বক্তব্যটির ব্যাখ্যা করেছেন মুহাম্মদ আধ্যাত্মিক শক্তি এবং আলীর কাছে কর্তৃপক্ষকে স্থানান্তর হিসাবে, যাকে তারা শ্রেষ্ঠত্ব হিসাবে কদর করেন।

খিলাফতসম্পাদনা

নির্বাচনসম্পাদনা

মদীনায় উদ্বোধনী ভাষণসম্পাদনা

প্রথম ফিতনাসম্পাদনা

 
রাশিদুন খিলাফতে চার রাশিদুন খলিফার অধীনস্থ এলাকাসমূহ। উক্ত বিভক্ত এলাকাগুলো খলিফা আলির খিলাফতকালীন সময়ের প্রথম ফিতনার সাথে সম্পর্কিত।
  প্রথম ফিতনার সময় রাশিদুন খলিফা আলি ইবনে আবি তালিবের অধীনস্থ এলাকা
  প্রথম ফিতনার সময় মুয়াবিয়ার অধীনস্থ এলাকা
  প্রথম ফিতনার সময় আমর ইবনুল আসের অধীনস্থ এলাকা

উসমান ঘাতক কর্তৃক নিহত হলে অনেক ব্যক্তিবর্গ আলিকে হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট, একথা বলাবলি করতে থাকে। আলি সরাসরি এ কথা অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে জনগণ তাকে খলিফা নিযুক্ত করতে চাইলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তবুও জণগণ জোরপূর্বক তাকে খলিফা মনোনীত করে। এরপরেও হত্যার সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে আলির সম্পর্ক বিষয়ে তর্ক বিতর্ক চলতে থাকে। একপর্যায়ে তা চরম আকার ধারণ করতে থাকে এবং আয়িশা ও তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। হত্যার প্রতিশোধ নেওবার উদ্দেশ্যে তিনি জনগণের সাথে এক হন এবং বসরার ময়দানে আলির বিরুদ্ধে যুদ্ধের আয়োজনে শরিক হন। আলির বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে তিনি পেছন থেকে নির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেন। ইসলামের ইতিহাসে এ যুদ্ধটি বসরার যুদ্ধ বা উটের যুদ্ধ নামে পরিচিত। যুদ্ধে আলির বিরুদ্ধবাহিনী পরাজিত হয় কিন্তু পরবর্তী ইতিহাসে এ যুদ্ধের প্রভাব ছিল ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী।[১৯][যাচাই প্রয়োজন]

নীতিমালাসম্পাদনা

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ও সাম্যবাদী নীতিমালাসম্পাদনা

জোট গঠনসম্পাদনা

শাসনতান্ত্রিক তত্ত্বসম্পাদনা

কুফায় গুপ্তহত্যাসম্পাদনা

 
আলী ইবনে আবি তালিবের সমাধি

৪০ হিজরীর ১৯শে রমজান বা ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে জানুয়ারী মসজিদে কুফায় নামাজ পড়ার সময় তিনি, খারেজী আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম কর্তৃক হামলার শিকার হন। তিনি নামাজে সেজদা দেওয়ার সময় ইবনে মুলজামের বিষ-মাখানো তরবারী দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হন।[২০] আলী তার পুত্রকে নির্দেশ দেন কেউ যেন খারেজীদের আক্রমণ না করে, তার বদলে তিনি নির্দেশ দেন যে, যদি তিনি বেঁচে যান, তবে যেন ইবনে মুলজামকে ক্ষমা করে দেয়া হয়; আর যদি তিনি মারা যান, তবে ইবনে মুলজামকে যেন নিজ আঘাতের সমতুল্য একটি আঘাত করা হয় (তাতে ইবনে মুলজামের মৃত্যু হোক বা না হোক।)।[২১] আলী হামলার দুদিন পর ২৯শে জানুয়ারী ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে (২১শে রমজান ৪০ হিজরী) মৃত্যুবরণ করেন।[২০] আল-হাসান তার নির্দেশনা অনুযায়ী কিসাস পূর্ণ করেন এবং আলীর মৃত্যুর পর ইবনে মুলজামকে সমপরিমাণ শাস্তি প্রদান করেন।

দাফনসম্পাদনা

ঐশী জ্ঞানসম্পাদনা

দিব্যজ্ঞানসম্পাদনা

বাগ্মিতাসম্পাদনা

দাড়ি ও আলিফবিহীন খুৎবাসম্পাদনা

সমবেদনাসম্পাদনা

গ্রন্থপঞ্জিসম্পাদনা

পারিবারিক জীবনসম্পাদনা

আলীর নয়টি স্ত্রী এবং বেশ কিছু উপপত্নীর থেকে চৌদ্দোটি পুত্র ও উনিশটি কন্যা ছিল, তাদের মধ্যে হাসান, হুসাইন এবং মুহাম্মদ ইবনে আল হানাফিয়াহ ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে এবং তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচজন বংশধর রেখে গেছেন।[২২] আলী, মুহাম্মদের ছোট মেয়ে ফাতিমার কাছ থেকে চারটি সন্তান ছিলঃ হাসান, হুসাইন, জায়নব এবং উম্মে কুলসুম।

বংশধরসম্পাদনা

দৃষ্টিভঙ্গিসম্পাদনা

মুসলিম দৃষ্টিভঙ্গিসমূহসম্পাদনা

কোরআনে আলীর উল্লেখসম্পাদনা

শিয়া দৃষ্টিভঙ্গিসম্পাদনা

আলী রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে শিয়া সম্প্রদায়ের নিকট গুরুত্বপূর্ণ। আলী সম্পর্কিত অসংখ্য আত্মজৈবনিক সূত্র প্রায়শই সাম্প্রদায়িক ধারায় পক্ষপাতদুষ্ট, তবে তারা একমত যে তিনি ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান, ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এবং কোরআনসুন্নাহর অনুসারী ন্যায়পরায়ণ শাসক। আলী উসলামেরর চতুর্থ খলিফা হলেও শিয়ারা তাঁকে নবীপরবর্তী প্রথম খলিফা ও ইমাম হিসেবে গণ্য করে। শিয়া মুসলমানেরা আরও বিশ্বাস করে যে, আলী ও অন্য ইমামগণ—যাদের সকলেই মুহম্মদের পরিবার তথা আহল আল-বাইতের অন্তর্ভুক্ত—হলেন মুহম্মদের ন্যায্য উত্তরাধিকারী।

সুন্নি দৃষ্টিভঙ্গিসম্পাদনা

সুফি দৃষ্টিভঙ্গিসম্পাদনা

খেতাবসমূহসম্পাদনা
দেবতারূপসম্পাদনা
আলাওয়ীসম্পাদনা
আলী-ইলাহীবাদসম্পাদনা
দ্রুজসম্পাদনা

ইতিহাসলিখনধারাসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

উদ্ধৃতিসম্পাদনা

  1. Rahim, Husein A.; Sheriff, Ali Mohamedjaffer (১৯৯৩)। Guidance From Qur'an (ইংরেজি ভাষায়)। Khoja Shia Ithna-asheri Supreme Council। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৭ 
  2. Shad, Abdur Rahman. Ali Al-Murtaza. Kazi Publications; 1978 1st Edition. Mohiyuddin, Dr. Ata. Ali The Superman. Sh. Muhammad Ashraf Publishers; 1980 1st Edition. Lalljee, Yousuf N. Ali The Magnificent. Ansariyan Publications; January 1981 1st Edition.
  3. Sallaabee, Ali Muhammad। Ali ibn Abi Talib (volume 2)। পৃষ্ঠা 621। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  4. Badruddīn, Amir al-Hussein bin (20th Dhul Hijjah 1429 AH)। The Precious Necklace Regarding Gnosis of the Lord of the Worlds। Imam Rassi Society।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  5. Muslim Jama'at ২০০৯, পৃ. ১৯।
  6. "ʿALĪ B. ABĪ ṬĀLEB"www.iranicaonline.org। ২০১১-০৪-২৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-০১ 
  7. Gleave, Robert M. (২০০৮-১২-০১)। "ʿAlī b. Abī Ṭālib"Encyclopaedia of Islam, THREE (ইংরেজি ভাষায়)। Brill। 
  8. "Ali | Biography, History, & Facts"Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-০১ 
  9. "Martyrdom of Fatima Zehra (sa), Prophet Muhammad (saw), Imam Ali (as), Imam Hassan (as), Imam Hussain (as), Asma bint Umays, Will of Fatimah Zehra (sa)"www.ezsoftech.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-০১ 
  10. Momen, Moojan (১৯৮৫)। An Introduction to Shiʻi Islam: The History and Doctrines of Twelver Shiʻism (ইংরেজি ভাষায়)। Yale University Press। পৃষ্ঠা ১২। আইএসবিএন 978-0-300-03531-5 
  11. Al-Tabataba'i, Muhammad H.; Ṭabāṭabāʼī, Muḥammad Ḥusayn; Tabataba'i, Muhammad Husayn; Al-Taba-Tabai, Muhammad-Husayn; Ṭabāṭabā'ī, Muḥammad Ḥusain al-; al-Ṭabāṭabāʼī, Muḥammad Ḥusayn; Ṭabāṭabā'ī, Sayyid Muḥammad Ḥusayn; Tabatabai, Seyyed Muhammad Husayn (১৯৭৫)। Shiʻite Islam (ইংরেজি ভাষায়)। State University of New York Press। পৃষ্ঠা ৪০। আইএসবিএন 978-0-87395-272-9 
  12. Madelung, Wilferd (১৯৯৭)। The Succession to Muhammad: A Study of the Early Caliphate (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা ২৬–২৭, ৩০–৪৩, ৩৫৬–৩৬০। আইএসবিএন 978-0-521-64696-3 
  13. The encyclopaedia of Islam. Volume I, Volume I, (English ভাষায়)। Leiden; London: E. J. Brill ; Luzac। ১৯৫৪। পৃষ্ঠা ৩৮১–৩৮৬। আইএসবিএন 978-90-04-08114-7ওসিএলসি 495469456 
  14. Biographies of the Prophet's companions and their successors, Ṭabarī, translated by Ella Landau-Tasseron, pp. 37–40, Vol:XXXIX.
  15. Sallabi, Dr Ali M (২০১১)। Ali ibn Abi Talib (volume 1)। পৃষ্ঠা 52–53। 
  16. Razwy, Sayed Ali Asgher। A Restatement of the History of Islam and Muslims। পৃষ্ঠা 274–276। 
  17. Tahir-ul-Quadri, Muhammad। The Ghadir Declaration 
  18. রাজউই, সৈয়দ আলী আসগর। A Restatement of the History of Islam & Muslims। পৃষ্ঠা ৫৪–৫৫। 
  19. Black 1994, পৃ. 34 ( ইংরেজি ভাষায়)
  20. Tabatabaei 1979, পৃ. 192
  21. Kelsay 1993, পৃ. 92
  22. The encyclopaedia of Islam. Volume I, Volume I, (English ভাষায়)। Leiden; London: E. J. Brill ; Luzac। ১৯৫৪। পৃষ্ঠা ৩৮৫। আইএসবিএন 978-90-04-08114-7ওসিএলসি 495469456 

গ্রন্থপঞ্জিসম্পাদনা

আরও পড়ুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

আলী
কুরাইশ এর ক্যাডেট শাখা
জন্ম: আনু. ৬০০ মৃত্যু: আনু. ২৮ জানুয়ারি ৬৬১
সুন্নি ইসলাম পদবীসমূহ
পূর্বসূরী
উসমান ইবন আফফান
ইসলামের খলিফা
৪র্থ রাশেদীন

৬৫৬
উত্তরসূরী
হাসান ইবনে আলী
শিয়া ইসলামী পদবীসমূহ
পূর্বসূরী
মুহাম্মাদ
শেষ নবী হিসেবে
বারো ইমাম
জায়েদি ইমাম
কায়সানাইটস ইমাম
বাতিনিয়া ইসমাইলি ইমামগণ

৬৩২–৬৬১
উত্তরসূরী
হাসান ইবনে আলী
ইমাম হিসেবে
Asās/Wāsih
in মুস্তালি ইসমাইলিজম ইসমাইলি

৬৩২–৬৬১
নিজারি ইসমাইলি ইসমাইলি ইমামগণ
৬৩২–৬৬১
উত্তরসূরী
হাসান ইবনে আলী
মুস্তাউদা হিসেবে
উত্তরসূরী
হোসাইন ইবনে আলী
ইমাম হিসেবে
রাজনৈতিক দপ্তর
পূর্বসূরী
মুহাম্মদ
— TITULAR —
মুহাম্মাদের স্থলাভিষেক
৬৩২–৬৫৬
খেলাফতের নির্বাচন
পূর্বসূরী
উসমান ইবন আফফান
খুলাফায়ে রাশেদীন
৬৫৬–৬৬১
উত্তরসূরী
হাসান ইবনে আলী
উপজাতীয় উপাধি
পূর্বসূরী
আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব
বনু হাশিমের প্রধান
৬৫৩–৬৬১
উত্তরসূরী
?