আইসিসি পুরুষ বিশ্ব টুয়েন্টি২০

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট
(আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ থেকে পুনর্নির্দেশিত)

আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বা আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি২০ বা আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ(ইংরেজি: ICC World Twenty20) ক্রিকেটের টুয়েন্টি২০ পদ্ধতির আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতাবিশেষ। এটি কখনো কখনো 'টি২০ বিশ্বকাপ' নামে পরিচিতি পেয়ে থাকে। প্রতিযোগিতাটি ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি কর্তৃক পরিচালিত হয়। প্রতিযোগিতায় ১২ দলের অংশগ্রহণ থাকে। তন্মধ্যে ১০টি আইসিসি'র পূর্ণ সদস্যভূক্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বাকী দুইটি দলের অংশগ্রহণের জন্যে আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ যোগ্যতা নির্ধারণী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হয়। অতঃপর শীর্ষস্থানীয় দুই দল আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি২০ খেলায় অংশ নেয়। বর্তমানে প্রতিযোগিতাটি প্রতি দুই বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপ
ব্যবস্থাপকআন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল
খেলার ধরনটুয়েন্টি২০
প্রথম টুর্নামেন্ট২০০৭, দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টুর্নামেন্ট২০১৬, ভারত
পরবর্তী টুর্নামেন্ট২০২১, ভারত
প্রতিযোগিতার ধরনরাউন্ড-রবিন,সুপার-১২ পর্ব ও নক-আউট
দলের সংখ্যা১৬
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ (দ্বিতীয় শিরোপা)
সর্বাধিক সফল ওয়েস্ট ইন্ডিজ (দুটি শিরোপা লাভ)
সর্বাধিক রানশ্রীলঙ্কা মাহেলা জয়াবর্ধনে (১,০১৬)
সর্বাধিক উইকেটপাকিস্তান শহীদ আফ্রিদি (৩৯)

নিয়ম-কানুনসম্পাদনা

গ্রুপ পর্ব এবং সুপার এইটে ফলাফল নির্ধারণের জন্যে নিম্নবর্ণিত পয়েন্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে:

ফলাফল পয়েন্ট
জয় ২ পয়েন্ট
ফলাফল না হলে ১ পয়েন্ট
পরাজয় ০ পয়েন্ট

কোন কারণে যদি টাই হয়, তাহলে সুপার ওভারের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। আবার সুপার ওভারেও যদি একই ধরনের ঘটনা ঘটে তাহলে যে দল তাদের ইনিংসে সর্বাধিক ছয় বা ছক্কা মেরেছে, তাদেরকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হবে। এ প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতার সবগুলো খেলার জন্যেই প্রযোজ্য হবে। ২০০৭ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় এ নিয়ম প্রবর্তিত ও প্রচলন ঘটানো হয়নি। তখন বোল-আউটের মাধ্যমে টাই ভাঙ্গা হতো।

প্রত্যেক গ্রুপ ও সুপার এইট পর্বে দলের শীর্ষস্থান নির্ধারণে নিম্নবর্ণিত শর্তাদি রাখা হয়েছে:

  1. সর্বোচ্চসংখ্যক পয়েন্ট সংগ্রহ
  2. সমান হলে, সর্বাধিক জয়
  3. তারপরও সমান হলে, সর্বোচ্চ নেট রান রেট
  4. তারপরও সমান হলে, সর্বনিম্ন বোলিং স্ট্রাইক রেট
  5. তারপরও সমান হলে, একে-অপরের বিরুদ্ধে ফলাফল

স্বাগতিক দেশসম্পাদনা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নির্বাহী পরিষদ ভোটের মাধ্যমে আগ্রহী দেশের দরপত্র পর্যবেক্ষণপূর্বক তাদের আগ্রহে এ প্রতিযোগিতার স্বাগতিক দেশ নির্ধারণ করে থাকেন। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০০৯ সালে ইংল্যান্ড, ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কা স্বাগতিক দেশের মর্যাদা পায়। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ স্বাগতিক দেশের মর্যাদা লাভ করে।[১] আইসিসি দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডকে প্রথম দুইটি প্রতিযোগিতা আয়োজনে প্রথমদিককার স্বাগতিক দেশ হিসেবে ঘোষণা করে যারা এ পদ্ধতিকে শুরু থেকেই গ্রহণ করে।[২] ২০১৬ সালে ভারতকে প্রতিযোগিতার স্বাগতিক দেশ হিসেবে মনোনীত হয়।[৩]

ফলাফলসম্পাদনা

সাল স্বাগতিক দেশ চূড়ান্ত খেলার মাঠ চূড়ান্ত খেলা
বিজয়ী ফলাফল রানার-আপ
২০০৭
সার-সংক্ষেপ
 
দক্ষিণ আফ্রিকা
ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম, জোহানেসবার্গ   ভারত
১৫৭/৫ (২০ ওভার)
ভারত ৫ রানে জয়ী
স্কোরকার্ড
  পাকিস্তান
১৫২ (১৯.৩ ওভার)
২০০৯
সার-সংক্ষেপ
 
ইংল্যান্ড
লর্ডস, লন্ডন   পাকিস্তান
১৩৯/২ (১৮.৪ ওভার)
পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী
স্কোরকার্ড
  শ্রীলঙ্কা
১৩৮/৬ (২০ ওভার)
২০১০
সার-সংক্ষেপ
 
ওয়েস্ট ইন্ডিজ
কেনসিংটন ওভাল, বার্বাডোস   ইংল্যান্ড
১৪৮/৩ (১৭ ওভার)
ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী
স্কোরকার্ড
  অস্ট্রেলিয়া
১৪৭/৬ (২০ ওভার)
২০১২
সার-সংক্ষেপ
 
শ্রীলঙ্কা
আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, কলম্বো   ওয়েস্ট ইন্ডিজ
১৩৭/৬ (২০ ওভার)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৬ রানে জয়ী
স্কোরকার্ড
  শ্রীলঙ্কা
১০১/১০ (১৮.৪ ওভার)
২০১৪
সার-সংক্ষেপ
 
বাংলাদেশ
শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা   শ্রীলঙ্কা
১৩৪/৪ (১৭.৫ ওভার)
শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে জয়ী
স্কোরকার্ড
  ভারত
১৩০/৪ (২০ ওভার)
২০১৬
সার-সংক্ষেপ
 
ভারত
ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা   ওয়েস্ট ইন্ডিজ
১৬১/৬ (১৯.৪ ওভার)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে বিজয়ী   ইংল্যান্ড
১৫৫/৯ (২০ ওভার)
২০২১
সার-সংক্ষেপ
  সংযুক্ত আরব আমিরাত
এবং
  ওমান
নির্ধারিত হয়নি নির্ধারিত হয়নি নির্ধারিত হয়নি নির্ধারিত হয়নি
২০২২
সার-সংক্ষেপ
 
অস্ট্রেলিয়া
নির্ধারিত হয়নি নির্ধারিত হয়নি নির্ধারিত হয়নি নির্ধারিত হয়নি

দলীয় অবস্থানসম্পাদনা

নীচের সারণীতে আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতাসমূহে অংশগ্রহণকারী দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে:

দল অংশগ্রহণ শুরু সর্বশেষ সেরা ফলাফল খেলা সংখ্যা জয় পরাজয় টাই ফলাফল হয়নি শতাংশ (%)
  পাকিস্তান ২০০৭ ২০১২ চ্যাম্পিয়ন, ২০০৯ ২৬ ১৬ ১ (০) ৬৩.৪৬
  ভারত ২০০৭ ২০১৪ চ্যাম্পিয়ন, ২০০৭ ২৭ ১৭ ১ (১) ৬২.৯৬
  ইংল্যান্ড ২০০৭ ২০১২ চ্যাম্পিয়ন, ২০১০ ২২ ১০ ১১ ৪৫.৪৫
  ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০০৭ ২০১২ চ্যাম্পিয়ন, ২০১২ ২০ ১ (১) ৪৭.৫০
  শ্রীলঙ্কা ২০০৭ ২০১৪ চ্যাম্পিয়ন, ২০১৪ ৩১ ২১ ১ (১) ৬৯.৩৫
  অস্ট্রেলিয়া ২০০৭ ২০১২ রানার-আপ, ২০১০ ২১ ১৩ ৬১.৯০
  দক্ষিণ আফ্রিকা ২০০৭ ২০১২ সেমি-ফাইনাল, ২০০৭ ২১ ১৩ ৬১.৯০
  নিউজিল্যান্ড ২০০৭ ২০১২ সেমি-ফাইনাল, ২০০৭ ২১ ১০ ২ (০) ৪৭.৬২
  আয়ারল্যান্ড ২০০৯ ২০১২ সুপার এইট, ২০০৯ ১১.১১
  বাংলাদেশ ২০০৭ ২০১৪ সুপার এইট, ২০০৭, সুপার টেইন, ২০১৪ ১৮ ১৫ ১৬.৬৭
  নেদারল্যান্ডস ২০০৯ ২০১৪ সুপার টেইন, ২০১৪ ৪৪.৪৪
  জিম্বাবুয়ে ২০০৭ ২০১৪ গ্রুপ পর্ব ১৬.৬৭
  স্কটল্যান্ড ২০০৭ ২০০৯ গ্রুপ পর্ব ০.০০
  আফগানিস্তান ২০১০ ২০১৪ গ্রুপ পর্ব ০.০০
  কেনিয়া ২০০৭ ২০০৭ গ্রুপ পর্ব ০.০০
  • বন্ধনীতে সুপার ওভার কিংবা বোল আউট অথবা টি২০ ক্রিকেটে টাই ম্যাচে জয় নির্ধারণে ব্যবহৃত অন্য যে-কোন পদ্ধতিতে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ধরনের বিষয়গুলোর মাধ্যমে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হলেও তা অর্ধ-জয় হিসেবে গণনা করা হয়।

নতুন দলের আত্মপ্রকাশসম্পাদনা

বছর নতুন দল মোট
২০০৭   অস্ট্রেলিয়া,   বাংলাদেশ,   ইংল্যান্ড,   ভারত,   কেনিয়া,   নিউজিল্যান্ড,   পাকিস্তান,   স্কটল্যান্ড,   দক্ষিণ আফ্রিকা,   শ্রীলঙ্কা,   ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং   জিম্বাবুয়ে ১২
২০০৯   আয়ারল্যান্ড এবং   নেদারল্যান্ডস
২০১০   আফগানিস্তান
২০১৪   হংকং,     নেপাল এবং   সংযুক্ত আরব আমিরাত
২০১৬   ওমান
২০২১   নামিবিয়া এবং   পাপুয়া নিউগিনি
২০২২ নির্ধারিত হয়নি নির্ধারিত হয়নি
মোট ২১

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা