প্রধান মেনু খুলুন

অজন্তা মেন্ডিস

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার

অজন্তা মেন্ডিস (সিংহলি: අජන්ත මෙන්ඩිස්, তামিল: அஜந்த மென்டிஸ்; জন্ম: ১১ মার্চ, ১৯৮৫) শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটারমরতোয়ায় জন্মগ্রহণকারী অজন্তা ক্রিকেট খেলায় মূলতঃ একজন স্পিনার। তার পুরো নাম বালাপুয়াদুগে অজন্তা উইন্সলো মেন্ডিস

অজন্তা মেন্ডিস
Mendis bowling.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামবালাপুয়াদুগে অজন্তা উইন্সলো মেন্ডিস
উচ্চতা৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি ব্যাটসম্যান
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ-ব্রেক, লেগ-ব্রেক
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১০৯)
২৩ জুলাই ২০০৮ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট৮ মার্চ ২০১৩ বনাম বাংলাদেশ
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৩৪)
১০ এপ্রিল ২০০৮ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ ওডিআই১৩ জানুয়ারি ২০১৩ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ওডিআই শার্ট নং৪০
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০৭-বর্তমানওয়েয়াম্বা
২০০৬-বর্তমানশ্রীলঙ্কা আর্মি
২০১১সমারসেট
২০০৮-২০০৯কলকাতা নাইট রাইডার্স
২০১২-বর্তমাননাগেনাহিরা নাগাস
২০১৩-বর্তমানপুনে ওয়ারিয়র্স
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৭ ৬১ ৫৪ ১১০
রানের সংখ্যা ১৬৪ ১০৯ ১,০৪৫ ৫৭২
ব্যাটিং গড় ১৪.৯০ ৭.২৬ ১৬.০৭ ১৫.৮৮
১০০/৫০ ০/১ ০/০ ১/৩ ০/২
সর্বোচ্চ রান ৭৮ ১৫* ১০১ ৭১*
বল করেছে ৪,২৫১ ২,৮৬৩ ১১,০১৮ ৫,১৯৫
উইকেট ৬৪ ৯৮ ২৬৪ ২০১
বোলিং গড় ৩৪.২০ ২১.৩৭ ২১.৬৪ ১৭.১৩
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৬
ম্যাচে ১০ উইকেট n/a n/a
সেরা বোলিং ৬/১১৭ ৬/১৩ ৭/৩৭ ৭/২৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/– ৯/– ১৮/– ১৯/–
উৎস: CricketArchive, ২ মে ২০১৩

স্লো-মিডিয়াম বোলার হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। গুগলি, অফ-ব্রেক, টপ-স্পিন, ফ্লিপারসহ লেগ-ব্রেকের সংমিশ্রণে তিনি বোলিং করেন। শ্রীলঙ্কা আর্মি’র পক্ষ হয়ে ২০০৭-০৮ মৌসুমে ৬টি খেলায় ১০.৫৬ রান গড়ে ৪৬ উইকেট লাভ করেন, স্ট্রাইক রেট ছিল ৩১। অনন্য সাধারণ দক্ষতা প্রদর্শনের প্রেক্ষাপটে তিনি শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য হিসেবে এপ্রিল, ২০০৮ সালে ক্যারিবিয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

শ্রীলঙ্কার মরতোয়ার কাদালানা গ্রামে জন্মগ্রহণকারী অজন্তা'র পরিবারে পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তার অবস্থান তৃতীয়। তিনি ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী। সেন্ট এন্থনী'জ কলেজে মৌলিক শিক্ষালাভ করেন। ২০০০ সালে মরতোয়া মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৩ বছর বয়সে ক্রিকেট কোচিং ক্লাসে লাকী রজার্স নামীয় এক কোচের নজর কাড়েন। ২০০০ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

শ্রীলঙ্কা আর্মি ক্রিকেট কমিটি তার প্রতিভা সম্পর্কে অবগত হন যখন তিনি সেনাবাহিনীর অনূর্ধ্ব ২৩ ডিভিশন ১১ দলের বিরুদ্ধে ২০০৩-০৪ মৌসুমে খেলতে নামেন। এরপর তিনি শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী'র নিয়মিত সৈনিক হিসেবে যোগদানের জন্যে আমন্ত্রিত হন। এর প্রধান কারণ ছিল ঐ সময়ে কলম্বোর বিদ্যালয়গুলো থেকে সীমিতসংখ্যক ক্রিকেটার সেনাবাহিনীতে যোগদান করতো। এছাড়াও আংশিকভাবে পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম পিতার মৃত্যুজনিত কারণও জড়িত ছিল।[১]

মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে তিনি সেনা দলের পক্ষ হয়ে খেলতে থাকেন। শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর গোলন্দাজ বিভাগে গানার হিসেবে সামরিক দায়িত্ব পালন করেন। ৭ জুলাই, ২০০৮ সালে এশিয়া কাপ চূড়ান্ত খেলার পর তিনি সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পান।[২] এর পরদিনই তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে কমিশন্ড পান।[৩]

সাফল্য গাঁথাসম্পাদনা

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অজন্তা মেন্ডিসের সেরা সাফল্য আসে ২০০৮ সালের এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে। তার নিজস্ব ৮ম খেলায় ১৩ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট লাভ করেন। এ প্রতিযোগিতায় তিনি সর্বমোট ১৭ উইকেট লাভ করে ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার লাভ করেন।[৪]

১০ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এলজি আইসিসি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বছরের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০০৭ সাল থেকে প্রবর্তিত এ পুরস্কার লাভের জন্য আগস্ট ৯ থেকে পরবর্তী বছরকালের মধ্যে ৫টি টেস্ট ম্যাচের বেশী নয় অথবা ১০টি ওডিআই খেলতে হবে ও ২৬ বছরের বয়সের কম বয়সী খেলোয়াড় হতে হবে। এ পুরস্কারটি ব্যক্তিগত ৮টি পুরস্কারের একটি।[৫] অজন্তা মেন্ডিস ২৫ সদস্যবিশিষ্ট বিচারকমণ্ডলীর প্রথম পছন্দ হিসেবে স্টুয়ার্ট ব্রড, মরনে মরকেল এবং ইশান্ত শর্মাকে পিছনে ফেলে এ পুরস্কার অর্জন করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Soldier creating history in International cricket"। ২ জুলাই ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  2. Army’s Sensational Spinner Ajantha Mendis Promoted, Sri Lanka Army[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. "Promotion for new cricketing hero, Ajantha, Ministry of Defence"। ১২ জুলাই ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  4. Staff, Cricinfo. "Ajantha Mendis Profile Cricinfo". Retrieved 2008-06-28
  5. "Mendis named as ICC's Emerging Player". Cricinfo. 2008-09-10. Archived from the original on 15 September 2008. Retrieved 2008-09-18

বহিঃসংযোগসম্পাদনা