ইউনুস খান

পাকিস্তানী ক্রিকেটার

মোহাম্মদ ইউনুস খান (Pashto, Urdu: محمد یونس خان; জন্ম: ২৯ নভেম্বর ১৯৭৭) সাবেক প্রথিতযশা পাকিস্তানী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার এবং পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। ইউনুস নামকে প্রায়ই বানান ইউনিস খান করা হয়, কিন্তু তিনি তার নামের বানান "ইউনুস" শব্দকে বেশি পছন্দ করেন বলে উল্লেখ করেছেন।[২] তিনি হলেন একজন তৃতীয় পাকিস্তানি টেস্ট ক্রিকেটার যিনি টেস্ট ক্রিকেট একটি ইনিংসে ৩০০ বা ততোধিক রান করেছেন।[৩]

ইউনুস খান

یونس خان
Younus Khan 2010.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমোহাম্মদ ইউনুস খান
জন্ম (1977-11-29) ২৯ নভেম্বর ১৯৭৭ (বয়স ৪২)
মরদান, খাইবার পাখতুনখা, পাকিস্তান
ডাকনামমাইক
উচ্চতা৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনমিডিয়াম ফাস্ট, লেগ ব্রেক
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৫৯)
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০০ বনাম শ্রীলঙ্কা
শেষ টেস্ট৩১ ডিসেম্বর-৪ জানুয়ারি ২০১৩ বনাম শ্রীলঙ্কা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৩১)
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০০ বনাম শ্রীলঙ্কা
শেষ ওডিআই২৪ মার্চ ২০১৩ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই শার্ট নং৭৫
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৯৮–২০০৫পেশোয়ার ক্রিকেট দল
১৯৯৯–হাবিব ব্যাংক লিমিটেড ক্রিকেট দল
২০০৫নটিংহামশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব
২০০৬–পেশোয়ার পানথারস
২০০৭ইয়র্কশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব (দল নং ৭৫)
২০০৮রাজস্থান রয়্যালস
২০০৮/০৯–সাউদার্ন রেডব্যাকস
২০১০সারে কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব
২০০৫/৭-বর্তমানএবোটাবাদ ফ্যালকনস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৮৯ ২৫৩ ১৮৭ ৩২৩
রানের সংখ্যা ৯৯৭৭ ৭,০১৪ ১৩,৬৫৭ ৯,২৮২
ব্যাটিং গড় ৫১.৩৮ ৩১.৮৮ ৪৯.৪৮ ৩৩.৮৭
১০০/৫০ ২৩/২৮ ৬/৪৮ ৪৩/৫৪ ১১/৬১
সর্বোচ্চ রান ৩১৩ ১৪৪ ৩১৩ ১৪৪
বল করেছে ৮০৪ ২৭২ ৩,৫০২ ১,১৩৩
উইকেট ৪৪ ২৮
বোলিং গড় ৫৪.৫৫ ৯০.৩৩ ৪৯.৭০ ৩৮.৬৪
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ২/২৩ ১/৩ ৪/৫২ ৩/৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৯৮/– ১৩১/– ১৮৯/– ১৭৭/–
উৎস: ইএসপিএন ক্রিকইনফো, ২১ জানুয়ারি ২০১৪
প্রাইড অফ পারফরমেন্স
Younus Khan 2010.jpg
Younis Khan was recipient of the Pride of Performance Award 2010[১]
তারিখ২০১০
দেশপাকিস্তানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র
পুরস্কারদাতাপাকিস্তানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র

খেলোয়াড়ী জীবনীসম্পাদনা

আন্তর্জাতিক জীবনীসম্পাদনা

ইউনুস খান ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে করাচিতে অণুষ্ঠিতব্য শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওয়ানডে ক্রিকেটে আন্তর্জাতিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে ১৫০টি ওয়ানডে খেলেছেন। এছাড়াও তিনি ৫০টির উপরে টেস্ট ম্যাচে খেলেছেন। ইউনুস ২০০৩ সালের পাকিস্তানের বিপর্যয়মূলক বিশ্বকাপ অভিযান শেষে দলের মধ্যে তার জায়গা অপরিবর্তিত রাখা কয়েকজন ব্যাটসম্যানদের মধ্য একজন।

অধিনায়কত্ব পরিস্থিতিসম্পাদনা

ইউনুস ২০০৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তানের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম নেতৃত্বে দিয়েছিলেন।

অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগসম্পাদনা

পোস্ট অধিনায়কত্ব: বদল, সমস্যা এবং ফিরে আসা (২০১০)সম্পাদনা

নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজ: ২০১১সম্পাদনা

ইউনুস নিউজিল্যান্ড এর বিরুদ্ধে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছেন এবং ইউনুস প্রথম ইনিংসে ২৩ রান করেন এবং পাকিস্তানের সহজে ১০ উইকেটের জয়ে ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাটিং করার প্রয়োজন ছিল না। এরপর দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচের প্রথম ইনিংস চলাকালীন সময়ে ইউনুসের স্কোর যখন ৭৩ ছিল তখন শর্ট-লেগে ভুলভাবে কট আউট দেওয়া হয়। পোস্ট ম্যাচের একটি সাক্ষাৎকারে ইউনুস বলেন; আম্পায়ার তারাতো মানুষ এজন্য ভুল হতেই পারে, কিন্তু তারা যে ভুলগুলো করে সেগুলো কমানো উচিত। এছাড়াও তিনি ভুল সিন্ধান্ত এড়ানোর জন্য সকল টেস্টে রিভিউ সিস্টেম অর্থাৎ (আম্পায়ার ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) এর ব্যবহার করতে বলেন।[৪]

টুয়েন্টি-২০ ক্রিকেট (২০০৭–বর্তমান)সম্পাদনা

ঘরোয়া কর্মজীবনসম্পাদনা

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

২০০৮-৯ সিজনে ইউনুস একটি স্বল্পমেয়াদী ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া বর্তনীর মধ্যে "সাউদার্ন রেডব্যাক" দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ব্রিসবন এর মধ্যে শেফিল্ড শিল্ড ম্যাচের প্রথম ইনিংসে "কুইন্সল্যান্ড বুলস" দলের বিরুদ্ধে একটি শতরান করেন, যার ফলে বছরের তাদের প্রথম শিল্ড ম্যাচ জেতার জন্য রেডব্যাককে সাহায্য করেছিলেন।

কাউন্টি ক্রিকেটসম্পাদনা

 
ইউনুস ইংল্যান্ডে সারের হয়ে ব্যাট করছেন।

২০০৫ সালে ইউনুস খান ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্লাব নটিংহামশায়ারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন। ২০০৭ সালের ইংরেজি ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুমে তিনি একজন বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে ইয়র্কশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলেন। যার ফলে তিনি শচীন তেন্ডুলকরযুবরাজ সিং-সহ নিম্নলিখিত ইয়র্কশায়ার এর হয়ে খেলা তৃতীয় বিদেশী এশিয়ান ক্রিকেটার ছিলেন এবং পাকিস্তানী খেলোয়াড় ইনজামাম-উল-হক কর্তৃক অনুসৃত হয়েছিলেন।

ইয়র্কশায়ার দলের হয়ে তার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ আত্মপ্রকাশ ম্যাচে তিনি প্রথম ইনিংসে সারের রিকি ক্লার্কের বলে বোল্ড আউট হওয়ার আগে ৪ বল থেকে হতাশাদাজনকভাবে মাত্র ৪ রান করেন এবং ২য় ইনিংসে মাত্র ১২ রান করেন।[৫]

ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগসম্পাদনা

২০০৮ সালে ইউনুস ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ টি২০ ফরমেটে রাজস্থান রয়্যালসের এর সাথে $২২৫.০০০ ডলার এর বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হন। যাহোক তিনি কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব এর বিরুদ্ধে মাত্র ১টি ম্যাচ খেলেছিলেন; যেখানে তিনি মাত্র ১ রান করতে সামর্থ্য হন। ইউনুস খানকে এরপর থেকে আর আইপিএল খেলতে দেখা যায়নি।[৬]

খেলার ধরনসম্পাদনা

ইউনুস খান স্পিন বোলিং এর জগতে সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসাবে গণ্য করা হয়, বিশেষ করে লেগ সাইডে অত্যন্ত শক্তিশালী। তার প্রিয় এবং ট্রেডমার্ক শট হচ্ছে ফ্লিক করা।

পরিসংখ্যানসম্পাদনা

 
ইউনুস খানের টেস্ট ম্যাচ জীবনীর ইনিংস বাই ইনিংস ওঠানামা দেখান হয়েছ যেখানে রান (লাল বার) এবং এভারেজ শেষ ১০ ইনিংস (ব্লু বার) দেখান হয়েছে।

ক্যারিয়ার সেরা পারফরমেন্সসম্পাদনা

২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বরের হিসাব অণুয়ায়ী:

ব্যাটিং বোলিং
স্কোর ফিক্সার মাঠ মৌসুম স্কোর ফিক্সার মাঠ মওসুম
টেস্ট ৩১৩   পাকিস্তান বনাম   শ্রীলঙ্কা করাচী ২০০৯ ২–২৩   পাকিস্তান বনাম   শ্রীলঙ্কা গালে ২০০৯
ওয়ানডে ১৪৪   পাকিস্তান বনাম   হংকং কলম্বো (এসএসসি) ২০০৪ ১–৩   পাকিস্তান বনাম   হংকং করাচী ২০০৮
টি২০আই ৫১   পাকিস্তান বনাম   শ্রীলঙ্কা জোহেন্সবার্গ ২০০৭ ৩–১৮   পাকিস্তান বনাম   কেনিয়া নাইরোবী ২০০৭
এফসি ৩১৩   পাকিস্তান বনাম   শ্রীলঙ্কা করাচী ২০০৯ ৪–৫২ ইয়র্কশায়ার বনাম হ্যাম্পশায়ার রোজ বোল ২০০৭
লিস্ট এ ১৪৪   পাকিস্তান বনাম   হংকং কলম্বো (এসএসসি) ২০০৪ ৩–৫ নটিংহামশায়ার বনাম গ্লুচেস্টারশায়ার চেলটেনহ্যাম ২০০৫
টি২০ ৭০ পেশোয়ার প্যান্থার্স বনাম ইসলামাবাদ লিওপার্ডস লাহোর ২০০৯ ৩–১৮   পাকিস্তান v   কেনিয়া নাইরাবি ২০০৭

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

ইউনুস খান ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ তারিখে আমনা এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের ছেলে সন্তান ওয়েইস ২০০৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।[৭]

ইউনুস ২০০৫ এবং ২০০৬ সালের সময়ে তার পরিবারের কয়েকটি মৃত্যুকে মোকাবেলা করতে হয়েছিল। ২০০৫ সালের প্রথম দিকে অস্ট্রেলিয়ার সফরে থেকে ফিরে আসার সময় তার পিতা মৃত্যুবরণ করেছিলেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান দলের ইংল্যান্ডের সফর চলাকালীন সময়ে ৪১ বছর বয়সী ইউনুস বড় ভাই মোহাম্মদ শরীফ খান ইউক্রেনে একটি মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান।[৮] এছাড়াও তার আরও এক বড় ভাই ফরমান আলী খান মাত্র ৩৯ বছর বয়সে জার্মানিতে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Khan gets Pride of Performance award"। En.wikipedia.org। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২  অজানা প্যারামিটার |1= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  2. Younus or Younis Khan?. Retrieved on 22 Oct 2013.
  3. "Cricinfo – Record-eyeing Younis puts team first"Cricinfo। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ 
  4. DAWN.COM 17 January 2011 (১৭ জানুয়ারি ২০১১)। "Younis philosophical after umpiring howler | Sport"। Dawn.Com। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  5. County Championship Division One, 2007 Season, Surrey v Yorkshire. Cricinfo.com. Retrieved on 7 May 2007.
  6. http://www.espncricinfo.com/ci/content/player/43652.html
  7. Warne's captaincy has impressed me ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১০ জুলাই ২০০৮ তারিখে. bigstarcricket.com. Retrieved on 6 May 2007.
  8. "Bigstar Players : Younis Khan : On the Spot"। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০০৯ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

পূর্বসূরী
শোয়েব মালিক
পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক (ওডিআই এবং টেস্ট)
২০০৯
উত্তরসূরী
মোহাম্মদ ইউসুফ
পূর্বসূরী
শোয়েব মালিক
পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক (টি২০আই)
২০০৯
উত্তরসূরী
শহীদ আফ্রিদি