কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থা

কলকাতার পরিবহন

কলকাতার পরিবহন ব্যবস্থায় এক মিশ্র প্রভাব দেখা যায় এখানে যেমন বয়েছে হাতে টানা রিক্সা তেমনি রয়েছে অত্যাধুনিক মেট্রো রেল ও সড়কে রয়েছে এসি বাস। এই শহরে পরিবহনের পরিচিত প্রতীকটি হল হলুদ ট্যাক্সি। কলকাতায় পরিবহনে প্রচুর বেসরকারি বাস ও সরকারি বাস যুক্ত আছে। শহরটি জাতীয় সড়ক ও রেল পথ দ্বারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এছাড়া আকাশ পথে দেশের বিভিন্ন শহর ও বিদেশের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে।

কলকাতা মেট্রোর এসি ট্রেন
কলকাতার সড়ক পথ

সড়ক পরিবহণসম্পাদনা

শহরটি বিদ্যাসাগর সেতু ও হাওড়া ব্রিজ দ্বারা সড়ক পথে হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত। সড়ক পথে এখনে চলমান আছে ট্রাম।শহরটির সঙ্গে জেলার যোগাযোগ রক্ষাকরে বাস। এছাড়া শহরটির বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে সাধারন বাস ও এসি বাস চলাচল করে। শহরটির উত্তর প্রান্তে অবস্থিত বিবেকানন্দ সেতু ও নিবেদিতা সেতু ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ককে ২ ও ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত করেছে। শহরটির দক্ষিণ দিকের ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক বিদ্যাসাগর সেতু দ্বারা ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত। শহরের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তকে যুক্ত করেছে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস।

বেসরকারি পরিবহনসম্পাদনা

কলকাতায় সুলভ বেসরকারি বাস পরিষেবা রয়েছে। তার ভাড়ার তালিকা নিম্নরূপ[১] :

দূরত্ব(কিমি) ভাড়া(রুপি)
০-৪
৪-৮
৮-১২
১২-১৬ ১০
১৬-২০ ১১
২০-২৪ ১২

রেল পথসম্পাদনা

কলকাতার প্রধান দুই রেল ট্রার্মিনাল হল হাওড়া রেল স্টেশন ও শিয়ালদহ রেল টার্মিনাল। এই দু রেল স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন প্রন্তে রয়েছে রেল পরিসেবা। এছাড়া শহরটিতে আরও দুটি রেল টার্মিনাল হল শালিমার রেল স্টেশন ও কলকাতা রেল স্টেশন। শহরটিতে রয়েছে চক্ররেল ।শহরটিতে রেল পরিসেবা প্রদান করে পূর্ব রেল ও দক্ষিণ পূর্ব রেল।

চক্র রেলসম্পাদনা

কলকাতার চক্র রেল, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী শহরের ধারেপাশে প্রাপ্ত পরিবহনের এক অন্যতম সুবিধাজনক উপায়। পূর্বে, অন্যান্য বড় বড় শহরগুলোর ন্যায় কলকাতার কেন্দ্রীয় অংশে কোনও রেল সংযোগ ব্যবস্থা ছিল না। ক্রমবর্ধিত জনসংখ্যার সাথে সাথে শহরে একটি রেল সংযোগ ব্যবস্থার চাহিদাও বাড়তে থাকে। প্রয়োজনীয় সমস্যাপূরণে চক্র রেল কলকাতায় হুগলী নদীর তীর বরাবর চালিত রয়েছে। পূর্ব রেল দ্বারা পরিচালিত এই চক্র রেল এখন সারা শহর জুড়ে চমৎকার সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। তবে, পশ্চিমবঙ্গের আর অন্য কোনও স্থানে এই চক্র রেল পরিষেবা নেই।

চক্র রেলের তার নিজস্ব স্টেশন রয়েছে; যেমন - দমদম, পাতিপুকুর, বেলগাছিয়া, টালা, উল্টোডাঙ্গা রোড, বাগবাজার, শোভাবাজার, চিৎপুর, বড়বাজার, বিবাদী বাগ, প্রিন্সেপ ঘাট, হ্যাসটিঙ্গস, খিদিরপুর, রিমাউন্ট রোড, মাঝেরহাট, নিউ আলিপুর, টালিগঞ্জ, লেক গার্ডেনস, বালিগঞ্জ, স্যার গুরুদাস ব্যানার্জ্জী হল্ট, বিধাননগর রোড হয়ে পুনরায় দমদমে ফেরৎ যায়।

কলকাতা শহরতলি রেলসম্পাদনা

কলকাতা শহরতলি রেল কলকাতা শহর ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে প্রসারিত রেলব্যবস্থা। ভারতীয় রেলের পূর্ব রেল ও দক্ষিণ পূর্ব রেল শহরতলি রেল পরিচালনা করে। কলকাতায় একটি চক্ররেল পরিষেবাও রয়েছে। ১৮৫৪ সালে এই পরিষেবা চালু হয়। হাওড়া, শিয়ালদহ, শালিমার ও কলকাতা (চিৎপুর) এই চারটি প্রধান স্টেশন এবং একাধিক স্থানীয় স্টেশনের মাধ্যমে এই পরিষেবা চালু রয়েছে।

কলকাতা মেট্রোসম্পাদনা

কলকাতা মেট্রো হল দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ও এশিয়ার পঞ্চম মেট্রো।বর্তমানে কলকাতা মেট্রোর মোট দৈর্ঘ্য ২৮.১৪ কিলোমিটার ও এর স্টেশন সংখ্যা ২৫ টি।এটি প্রতিদিন সারে ৬ লক্ষ যাত্রি পরিবহন করে।কবি সুভাস থেকে নোয়াপাড়া পর্যন্ত মেট্রো চলাচল করে ।এছাড়া ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো বা কলকাতা মেট্রো লাইন ২ এর নির্মাণ চলছে ।২০১৮ সালে লাইন ২ চালু হয়ে যাবে।

বিমান বন্দরসম্পাদনা

 
কলকাতা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল
 
কলকাতা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হল কলকাতার এক মাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।এই বিমানবন্দর দ্বারা কলকাতার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন শহর ও বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।বিমানবন্দরটি ২০১৫ সালো মোট ১২.৪ মিলিওন যাত্রি পরিবহন করেছে।এটি দেশের পঞ্চম বৃহত্তম বিমানবন্দর।বিমানবন্দরটি থেকে প্রধান শহর মুম্বাই,দিল্লি,চেন্নাই,ব্যাঙ্গালোর,হায়দ্রাবাদ,পুনে,আহমেদাবাদ এ নিয়মিত বিমান চলাচল করে।বিমানবন্দরটি থেকে দেশের বাইরে মধ্যপাচ্যের দুবাই,রিয়াদ পূর্ব এশিয়ার কুনমিং,হংকংগুয়াংঝাও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর,ব্যাঙ্কক,কুয়ালাম্পুর,ইয়াঙ্গুন প্রভৃতি শহরের সঙ্গে বিমান যোগ রয়েছে।এছাড়া কলকাতার বেহালায় একটি বিমান বন্দর রয়েছে।এটি যাত্রি পরিবহনে ব্যবহিত হয়না তবে এখানে বিমান চালানোর প্রশিক্ষন দেওয়া হয়।

জলপথ ও বন্দরসম্পাদনা

 
কলকাতা জলপথ পরিবহনের দপ্তরের যাত্রীবাহি লঞ্চ।

কলকাতা বন্দর কলকাতা শহরে অবস্থিত একটি নদীবন্দর। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই বন্দরটির গোড়াপত্তন করেছিলেন। বর্তমানে ভারতের চালু বন্দরগুলির মধ্যে এই বন্দরটি প্রাচীনতম। ঊনবিংশ শতাব্দীতে কলকাতা বন্দর ছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রধান বন্দর। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে পশ্চাদভূমি হ্রাসপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে এই বন্দরের সাময়িক অবনতি ঘটে। তবে বিংশ শতাব্দীর সূচনায় পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও পরিকাঠামোোগত উন্নতি্র ফলে বর্তমানে কলকাতা বন্দর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মালবাহী বন্দরে পরিণত হয়েছে।কলকাতা বন্দর পূর্ব ভারতের একটি প্রধান নদীবন্দরকলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট কলকাতা ও হলদিয়া ডকের দায়িত্বপ্রাপ্ত। কলকাতা বন্দর থেকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ার পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন পরিষেবা ও ভারত ও বহির্ভারতের বন্দরগুলিতে শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে পণ্য পরিবহন পরিষেবা চালু আছে।[২]কলকাতা থেকে হাওড়া, বালি প্রভৃতি শহরে লঞ্চ পরিসেবা রয়েছে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  • [url=http://রাজ্যস্ক্রিপ্ট ত্রুটি: "Category handler" নামক কোন মডিউল নেই।স্ক্রিপ্ট ত্রুটি: "Category handler" নামক কোন মডিউল নেই।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] পরিবহনে ঝোর উন্নয়ন চায় রাজ্য সরকার] (বাংলা ভাষা) আনন্দবাজার প্রত্রিকা|০৩-০৭-২০১৬| সংগৃহীত ০৫-০৭-২০১৬।
  1. "শহরে প্রতি ধাপে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া"। ৮ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৮ 
  2. "Salient Physical Features"Kolkata Port Trust। Kolkata Port Trust,। ১৩ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-১৫