কলকাতা মেট্রো

কলকাতা শহরের মেট্রো ট্রেন সংযোগ ব্যবস্থা

কলকাতা মেট্রো পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী উত্তর চব্বিশ পরগনাদক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার অংশবিশেষে পরিষেবা প্রদানকারী দ্রুত পরিবহণ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় ৩৩.০২ কিলোমিটার পথে ৩০ টি মেট্রো স্টেশন বিদ্যমান, যার মধ্যে ১৫টি স্টেশন ভূগর্ভস্থ, ১৩ টি স্টেশন উত্তোলিত এবং ২ টি স্টেশন ভূমিগত। কলকাতা মেট্রো ব্যবস্থার ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি ব্রড গেজ ট্র্যাকে ভূগর্ভস্থ, ভূমিগত এবং উত্তোলিত, তিন প্রকারের স্টেশনই রয়েছে।

কলকাতা মেট্রো
কলকাতা মেট্রোর লোগো.png
Salt Lake Stadium Merto Station 19.jpg
তথ্য
অবস্থানকলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
ধরনদ্রুত গণপরিবহণ
লাইনের সংখ্যা২ (কার্যকরী)
৩ (নির্মাণাধীন)
১ (পরিকল্পিত কিন্তু নির্মাণ শুরু হয়নি)
বিরতিস্থলের সংখ্যা৩০ (সক্রিয়)
৩৮ (নির্মাণাধীন)
২৬ (পরিকল্পিত কিন্তু নির্মাণ শুরু হয়নি)
দৈনিক যাত্রীসংখ্যা৭,০০,০০০ এর বেশি[১]
সদরদপ্তরএইচআরবিসি ভবন, মুন্সি প্রেমচাঁদ সরণি, কলকাতা[২]
ওয়েবসাইট
কাজ
কাজ শুরু২৪ অক্টোবর ১৯৮৪; ৩৫ বছর আগে (24 October 1984)
পরিচালককলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন
মেট্রো রেলওয়ে, কলকাতা
গাড়ির সংখ্যা৪১
দৈর্ঘ্য৬ কোচ, ৮ কোচ
প্রযুক্তি
লাইনের দৈর্ঘ্য৩৩.০২ কিমি (২০.৫ মা) (কার্যকরী)
৯৭ কিলোমিটার (৬০ মা) (নির্মাণাধীন)
গতিপথ গেজ১,৬৭৬ মিমি (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) (ব্রড গেজ)
লাইন ১, ৩, ৪, ৫, ৬ এর জন্য
১,৪৩৫ মিমি (৪ ফুট ৮ ১/২ ইঞ্চি) (স্ট্যান্ডার্ড গেজ)
লাইন ২ জন্য
গড় গতিবেগ৫৫–৬০ কিলোমিটার (৩৪–৩৭ মা)
সর্বোচ্চ গতিবেগ৮০ কিলোমিটার (৫০ মা)
ব্যবস্থার মানচিত্র

কলকাতা মেট্রোর মানচিত্র

কলকাতা মেট্রোর একটি ভূগর্ভস্থ স্টেশনে একটি পুরাতন মেট্রো রেল।

১৯৮৪ সালে চালু হওয়া কলকাতা মেট্রো ভারতের প্রথম মেট্রো রেল পরিষেবা (দ্বিতীয় মেট্রো পরিষেবা দিল্লি মেট্রো চালু হয় ২০০২ সালে)। এটি ভারতীয় রেলের অধীনস্থ এবং ভারতীয় রেলের একটি ক্ষেত্রীয় রেলওয়ের মর্যাদা ভোগ করে।

কলকাতা মেট্রোর উত্তর-দক্ষিণ লাইনটি উত্তরে নোয়াপাড়া থেকে দক্ষিণে কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) পর্যন্ত প্রসারিত। এই পথটির দৈর্ঘ্য ২৭.২২ কিলোমিটার। মোট স্টেশনের সংখ্যা ২৩ টি। এই লাইনে ভূগর্ভস্থ ও উড়াল – উভয় প্রকার ট্র্যাকেই ট্রেন চলাচল করে। প্যারিস মেট্রোর মতো কলকাতা মেট্রোতেও দেশের বিভিন্ন মণীষী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে স্টেশনের নামকরণ করা হয়ে থাকে। পার্ক স্ট্রিট অঞ্চলের মেট্রো ভবনে কলকাতা মেট্রোর সদর কার্যালয় অবস্থিত। ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতা মেট্রোর দ্বিতীয় লাইন হিসাবে পূর্ব-পশ্চিম লাইনের সেক্টর ৫ থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত ৫.৮ কিলোমিটার পথ খোলা হয়। এই পথে মোট ৬ টি স্টেশন রয়ছে এবং প্রতিটি স্টেশন সহ রেলপথটি উত্তোলিত ভাবে নির্মিত।

বর্তমানে কলকাতা মেট্রোর একাধিক সম্প্রসারণ প্রকল্প ও নতুন লাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে।

ইতিহাসসম্পাদনা

 
কলকাতা মেট্রোর বিবর্তন
 
সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের বহির্গাত্রের ম্যুরাল

প্রাক-স্বাধীনতাসম্পাদনা

কলকাতা শহরের জন্য একটি পূর্ব-পশ্চিম রেলপথ সংযোগ হিসাবে “ইস্ট-ওয়েস্ট টিউব রেলপথ” ১৯২১ সালে ব্রিটিশ রাজ আমলে হার্লি হিউ ডালরিম্পল হে দ্বারা প্রস্তাবিত হয়, তবে শেষ পর্যন্ত ১৯২৩ সালে তহবিলের অভাবে এটি নেওয়া হয়নি।[৩] যদিও প্রাথমিক প্রচেষ্টা করা হয় ১৯১৯ সালে, মানুষকে সময়মতো তাদের কর্মস্থলে পৌঁছানোর সুবিধা দিতে। সিমলাতে সে বছর ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে স্যার ডব্লু ই ক্রাম একটি কমিটি গঠন করেন, যা কলকাতার জন্য একটি মেট্রো লাইনের প্রস্তাব করে। এই লাইনটি হুগলি নদীর নীচে একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে পূর্বের বাঘমারি এবং হাওড়ার সলকিয়া বেনারস রোডকে সংযুক্ত করার কথা ছিল। নির্মাণ ব্যয় প্রাক্কলিত £৩৫,২৬,১৫৪ পাউন্ড বা প্রায় ৪.২৮ কোটি (বর্তমান বিনিময় হারের ভিত্তিতে), এবং প্রস্তাবিত সময়সীমা ছিল ১৯২৫-২৬ সাল। প্রস্তাবিত লাইনটি ১০.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ (বর্তমান পূর্ব-পশ্চিম করিডোরের চেয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার কম), যা বঘমারীতে ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে এবং বেনারস রোডে ভারতীয় রেলকে সংযুক্ত করবে। তিনি তখন উত্তর-দক্ষিণ লাইনের কথাও উল্লেখ করেন। ১৯২২ সালে রব জে কুক অ্যান্ড হ্যামন্ড প্রকাশিত তাঁর বই কলকাতা টিউব রেলওয়েতে সমস্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। রেলপথটিতে সম্পূর্ণ ভ্রমণের জন্য টিকিটের দাম ধরা হয় তিন আনা।[৪][৫]

স্বাধীনতা পরবর্তীসম্পাদনা

১৯৪৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের তদনীন্তন মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধানচন্দ্র রায় কলকাতার ক্রমবর্ধমান ট্রাফিক সমস্যার সমাধানে শহরে একটি ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের কথা বিবেচনা করেন। এই মর্মে একটি ফরাসি বিশেষজ্ঞ দলকে দিয়ে সমীক্ষা চালানো হলেও, কোনো সুসংহত সমাধানসূত্র পাওয়া যায়নি।[৬] এরপর ১৯৬৯ সালে কলকাতার ট্রাফিক সমস্যা সমাধানে মেট্রোপলিটান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (রেলওয়ে) নামে একটি প্রকল্প গৃহীত হয়। এই প্রকল্পের প্রতিবেদনে কলকাতার ট্রাফিক সমস্যার সমাধানে দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই বলে জানানো হয়। ১৯৭১ সালে প্রকাশিত প্রকল্পের মাস্টার প্ল্যানে কলকাতার জন্য মোট ৯৭.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাঁচটি মেট্রো লাইনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।[৬] এই পাঁচটি পথের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপিত হয় ১৬.৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য্যবিশিষ্ট দমদম-টালিগঞ্জ লাইনটির উপর।[৬] ১৯৭২ সালের ১ জুন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। ১৯৭৩-৭৪ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়।[৬][৭]

প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ১৯৭৭-৭৮ সালে অর্থের জোগান বন্ধ থাকা, ভূগর্ভস্থ পরিষেবাগুলির স্থানান্তরণ, আদালতের নানা স্থগিতাদেশ, কাঁচামালের অনিয়মিত সরবরাহ ইত্যাদি কারণে প্রকল্প রূপায়ণে অযথা দেরি হতে থাকে। অবশেষে তদানীন্তন রেলমন্ত্রী আবু বারকাত আতাউর গণী খান চৌধুরীর বিশেষ উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা, ও কূটনৈতিক দূরদৃষ্টির ফলে প্রকল্পের কাজে দ্রুততা আসে, এবং ১৯৮৪ সালের ২৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এসপ্ল্যানেড-ভবানীপুর (নেতাজি ভবন) ৩.৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য্যবিশিষ্ট রুটে ভারতের প্রথম তথা এশিয়ার পঞ্চম মেট্রো পরিষেবা কলকাতা মেট্রোর উদ্বোধন করেন।[৬] ওই বছরই ১২ নভেম্বর চালু হয় দমদম-বেলগাছিয়া ২.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য্যবিশিষ্ট রুটটিও। উল্লেখ্য, এটিই কলকাতা মেট্রোর দীর্ঘতম স্টেশন দূরত্ব।[৬] ১৯৮৬ সালের ২৯ এপ্রিল টালিগঞ্জ অবধি মেট্রো সম্পসারিত হলে এসপ্ল্যানেড থেকে টালিগঞ্জ অবধি ১১টি স্টেশন নিয়ে ৯.৭৯ কিলোমিটার পথের কাজ সম্পূর্ণ হয়।[৬]

২২ নভেম্বর ১৯৯২ তারিখে দমদম-বেলগাছিয়া অংশটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ এই বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র অংশটি খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। টালিগঞ্জ অবধি সম্প্রসারণের দীর্ঘ আট বছর পরে ১৩ অগস্ট ১৯৯৪ তারিখে দমদম-বেলগাছিয়া শাখাটিকে ১.৬২ কিলোমিটার সম্প্রসারিত করে শ্যামবাজার অবধি নিয়ে আসা হয়। সেই বছরের ২ অক্টোবর তারিখে ০.৭১ কিলোমিটার এসপ্ল্যানেড-চাঁদনি চক শাখাটি চালু হয়। শ্যামবাজার-শোভাবাজার-গিরিশ পার্ক (১.৯৩ কিলোমিটার) ও চাঁদনি চক-সেন্ট্রাল (০.৬০ কিলোমিটার) শাখাদুটি চালু হয় ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ তারিখে। গিরিশ পার্ক থেকে সেন্ট্রালের মধ্যবর্তী ১.৮০ কিলোমিটার পথ সম্পূর্ণ হয় ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ তারিখে। এর ফলে বর্তমান মেট্রোলাইনটির কাজ সম্পূর্ণ হয়।

২০০৯ সালে টালিগঞ্জ (বর্তমানে মহানায়ক উত্তমকুমার) স্টেশন থেকে গড়িয়া বাজার (বর্তমানে কবি নজরুল) স্টেশন পর্যন্ত সম্প্রসারিত নতুন মেট্রোপথের সূচনা করা হয়। ২০১৩ সালে দমদম থেকে নোয়াপাড়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত নতুন মেট্রোপথের সূচনা করা হয়।

নেটওয়ার্কসম্পাদনা

প্রয়োগগতসম্পাদনা

লাইন প্রথম উদ্বোধন শেষ সম্প্রসারণ স্টেশন দৈর্ঘ্য (কিলোমিটার) পরিচালনাগত প্রান্তিক রোলিং স্টক ট্র্যাক গেজ (মিমি) বিদ্যুত গড় ফ্রিকোয়েন্সি (মিনিট)
লাইন ১ ২৪ অক্টোবর ১৯৮৪[৮] ১৪ মার্চ ২০১৩ ২৪ ২৭.২২ নোয়াপাড়া দমদম কবি সুভাষ আই.সি.এফ ১৬৭৬ ৭৫০ ভোল্ট ডিসি ১০
লাইন ২ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০[৯] ৫.৮ সল্টলেক সেক্টর ৫ সল্টলেক স্টেডিয়াম বি.ই.এম.এল ১৪৩৫ ২০
মোট ৩০ ৩৩.০২

সম্পূর্ণসম্পাদনা

আরও দেখুন: কলকাতা মেট্রোর স্টেশনগুলির তালিকা
লাইন প্রথম চালু/প্রত্যাশিত প্রথম চালু শেষ প্রসার স্টেশন দৈর্ঘ্য

(কি মি)

প্রান্তিক রোলিং স্টক ট্র্যাক গেজ বিদ্যুত মন্তব্য
লাইন ১ ২৪ অক্টোবর ১৯৮৪[৮] নোয়াপাড়া (২০১৩) ২৬ ৩১.৩৬৫[১০] কবি সুভাষ দক্ষিণেশ্বর আই.সি.এফ., এম.সি.এফ., সি.আর.আর.সি. ডালিয়ান ১,৬৭৬ মিলিমিটার (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) ৭৫০ ভোল্ট ডিসি (তৃতীয় রেল) এছাড়াও উত্তর-দক্ষিণে মেট্রো নামে পরিচিত
লাইন ২ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ (সল্টলেক সেক্টর ৫ - সল্টলেক স্টেডিয়াম)[১১] ১৭ ২২.১ হাওড়া ময়দান তেঘরিয়া (হালদিরাম) বি.ই.এম.এল ১,৪৩৫ মিলিমিটার (৪ ফুট   ইঞ্চি) এটিকে পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোও বলা হয়
লাইন ৩ ২০২১ (জোকা - মাঝেরহাট)[১২] ১৪ ১৬.২১৫[১০] ডায়মন্ড পার্ক এসপ্ল্যানেড ১,৬৭৬ মিলিমিটার (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) এছাড়াও জোকা মেট্রো নামে পরিচিত
লাইন ৪ ২০২১ (নোয়াপাড়া - বিমানবন্দর)[১২] ১০ ১৬.৮৭৬[১০] নোয়াপাড়া বারাসত বিমানবন্দর মেট্রো
লাইন ৫ ১১ ১২.৪০[১০] বরানগর ব্যারাকপুর এছাড়াও ব্যারাকপুর মেট্রো নামে পরিচিত
লাইন ৬ ২০২১ (কবি সুভাষ - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়)[১২] ২৪ ২৯.৮৭[১০] কবি সুভাষ বিমানবন্দর বিমানবন্দর মেট্রো
মোট ৯৪ টি (১০২ টি, ইন্টারচেঞ্জগুলি একাধিকবার নিলে) ১২৮.৮২৬

রেলপথসম্পাদনা

কলকাতা মেট্রো
ব্যারাকপুরের দিকে
নোয়াপাড়া
দমদম
শিয়ালদহের দিকে মেন লাইন
বেলগাছিয়া
শ্যামবাজার
শোভাবাজার সুতানুটি
গিরিশ পার্ক
মহাত্মা গান্ধী রোড
সেন্ট্রাল
চাঁদনি চক
এসপ্ল্যানেড
পার্ক স্ট্রিট
ময়দান
রবীন্দ্র সদন
নেতাজী ভবন
যতীন দাস পার্ক
কালীঘাট
রবীন্দ্র সরোবর
মহানায়ক উত্তমকুমার
নেতাজি
মাস্টারদা সূর্য সেন
গীতাঞ্জলি
কবি নজরুল
শহিদ ক্ষুদিরাম
কবি সুভাষ

 লাইন ১  উত্তর-দক্ষিণ মেট্র করিডোরসম্পাদনা

 
কবি নজরুল (গড়িয়া বাজার) মেট্রো স্টেশন।

কলকাতা মেট্রোর উত্তর-দক্ষিণ করিডোরের স্টেশনসমূহ হল :

২২২.৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দমদম থেকে দক্ষিণেশ্বর (৬.২০ কিমি) অবধি মেট্রোর উত্তরমুখী সম্প্রসারণ ও অনুমোদিত হয় ২০১০-১১ সালের রেল বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দমদম থেকে নোয়াপাড়া (২.০৯ কিমি) পর্যন্ত কাজটি ১০.৭.২০১৩ সালেচালু হয় এবং বারানগরে (২.৩৮ কিলোমিটার) লাইন ৫ এর সাথে আন্তঃবদল'সহ নোয়াপাড়া থেকে দক্ষিণেশ্বরের অবধি আরভিএনএল দ্বারা নির্মিত হচ্ছে। এই বিভাগটি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে খোলার কথা থাকলেও, তা সম্ভব হয়নি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই অংশের যাত্রী সংখ্যা হবে আনুমানিক ৫৫,০০০ জন।[১৩]

বিভাগে প্রস্তাবিত স্টেশনগুলি নিম্নরূপ:

  1. বরানগর
  2. দক্ষিণেশ্বর

সংকেত ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ: আনুমানিক ৫৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কলকাতা মেট্রোর বিদ্যমান ভারতীয় রেলওয়ের সংকেত ব্যবস্থা থেকে যোগাযোগ ভিত্তিক ট্রেন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় উন্নীত কররা পরিকল্পনার প্রস্তাবটি কলকাতার মেট্রো রেলওয়ে সম্প্রতি ভারতীয় রেল প্রেরণ কঢ়ে, যাতে দুটি ট্রেন পরিচালনার মধ্যে সময়ের ব্যবধানটি ৫ মিনিট থেকে হ্রাস করে মাত্র ৯০ সেকেন্ডে করা যায়। ভারতীয় রেল প্রস্তাবটি এগিয়ে নিয়ে গেছে এবং সংকেত ব্যবস্থার কাজ ২-৩ বছরের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।[১৪]

 লাইন ২  পূর্ব-পশ্চিম মেট্র করিডোরসম্পাদনা

হুগলি নদীর জলতলের তলদেশে মেট্রো লাইনের মাধ্যমে কলকাতাকে হাওড়ার সাথে সংযুক্ত করার জন্য ৪৮৭৪.৬ কোটি ($৭৫০ মিলিয়ন) টাকার প্রকল্প পূর্ব-পশ্চিম মেট্রো কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারার নির্মিত হচ্ছে।[১৫] এই মেট্রো লাইনের দৈর্ঘ্য ১৪.৬৭ কিলোমিটার (৮.৯ কিমি ভূগর্ভস্থ এবং ৫.৭৭ কিমি উত্তোলিত) হওয়ার কথা ছিল। এই লাইনটি কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন (কেএমআরসি) নামে একটি পৃথক সংস্থা তৈরি করবে। তবে, ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে এই লাইনের কাজগুলি কলকাতার মেট্রো রেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখন ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সর্বাধিক অংশীদারত্ব ভারতীয় রেলওয়ের অধীনে রয়েছে এবং বাকি অংশটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য জাপান ব্যাংক থেকে ঋণ হিসাবে রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার এর আগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন করার জন্য দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেডকে নিয়োগ করে, তারপরে তহবিলের কারণে সরকারকে প্রকল্পটি স্থগিত রাখতে হয়। ১৯৮৪ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যখন কলকাতায় প্রথম মেট্রো পরিষেবা উদ্বোধন করেন তখন জলের তলদেশে মেট্রো রেলের পরিকল্পনার কথা ভাবা হয়। রুটটি ১২ টি স্টেশন (৬ টি উত্তোলিত, ৬ টি ভূগর্ভস্থ) নিয়ে গঠিত এবং একটি সুড়ঙ্গের মাধ্যমে নদী অতিক্রম করে। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালে রেলপথটি নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।

লাইন ২-এর নির্মাণ কাজ ২০০৯ সালের মার্চ মাসে শুরু হয়। তবে জমি অধিগ্রহণ ও বস্তি স্থানান্তরের সমস্যার কারণে প্রকল্পটি বেশ কয়েকবার স্থগিত হয়। জুন, ২০১৬ সালে রেলপথের নকশার একটি পুনর্নির্মাণ করা হয়, যার ফলে রেলপথের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৬.৫৫ কিমি (ভূগর্ভস্থ ১০.৮১ কিমি, ৫.৭৭ কিমি উত্তোলিত)। লাইন ১ এবং লাইন ৩ এর সাথে প্রস্তাবিত সংযোগটি এসপ্ল্যানেডে থাকবে। বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান সহ সাথে বিলম্বের ফলে প্রকল্পের নির্মাণ খরচ ৮০% ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ₹৯০০০ কোটি টাকায় ($১.৫ বিলিয়ন ডলার) পৌঁছেছে।[১৬]

মহাকরণ (লাল দিঘি) এবং হাওড়া স্টেশনের মধ্যে হুগলি নদীর তলদেশে মেট্রো চলবে – ভারতের প্রথম জলের নীচে চলাচলকারী মেট্রো। লাইনটি সল্টলেক সেক্টর ৫ এবং সল্টলেক স্টেডিয়ামের মধ্যে উত্তোলিত পথে এবং বাকি অংশটি ভূগর্ভস্থ পথে নির্মিত। স্থানান্তর বা অদলবদল স্টেশনগুলি শিয়ালদা এবং হাওড়ায় অবস্থিত। সল্টলেক সেক্টর ৫ থেকে তেঘোরিয়ায় (হালদিরাম) পর্যন্ত একটি নতুন উত্তোলিত পথের অনুমোদিত হয়েছে। ₹৬৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সম্প্রসারিত ৫.৫ কিলোমিটার অংশটি নির্মিত হবে।[১৭] তবে এখন পরিকল্পনাটি পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সল্টলেক সেক্টর ৫ থেকে লাইনটি প্রসারিত করা হবে।[১০] তেঘোরিয়া (হালদিরাম) থেকে যাত্রীরা লাইন ৬ দ্বারা (ভিআইপি রোড স্টেশন) দমদম বিমানবন্দরে যেতে পারবেন। নতুন সম্প্রসারিত অংশের স্টেশনগুলি হ'ল[১০]

  1. কেষ্টপুর
  2. দম দম পার্ক
  3. বাগুইহাটি
  4. রঘুনাথপুর
  5. তেঘোরিয়া (হালদিরাম) (লাইন ৬ এর সাথে অদলবদল)

২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি লাইনটি সল্টলেক সেক্টর-৫ থেকে সল্টলেক স্টেডিয়াম পর্যন্ত রেল মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল উদ্বোধন করেন, নির্মাণ শুরুর ১১ বছর পরে।[১১]

 Line 3  জোকা-বিবাদি বাগ মেট্রো

কলকাতা মেট্রো লাইন ৩ বা জোকা-বিবাদি বাগ মেট্রো হল কলকাতা মেট্রো এর একটি নির্নিয়মান লাইন।এটি দক্ষিণ কলকাতার জোকা থেকে মধ্য কলকাতার বিবাদি বাগ পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে।এই পথের মোট দৈর্ঘ্য্য হবে ১৬.৭২ কিলোমিটার।এর মধ্যে ৮.২২ কিলোমিটার হল ভূগর্ভোস্থ ও ৮.৩২ কিলোমিটার হল উত্তলিত পথ।[১৮]।এই মেট্রো পথের জোকা থেকে মোমিনপুর পর্যন্ত উত্তলিত পথে ও মোমিনপুর থেকে বিবাদিবাগ পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ পথে নির্মাণ করা হবে। এই যাত্রাপথে প্রস্তাবিত স্টেশন: [16]

১। জোকা ২। ঠাকুরপুকুর ৩। সখেরবাজার ৪। বেহালা চৌরাস্তা ৫। বেহালা বাজার ৬। তারাতলা ৭। মাঝেরহাট ৮। মোমিনপুর ৯। খিদিরপুর ১০। ভিক্টোরিয়া ১১। পার্ক স্ট্রিট - লাইন ১লাইন ৩ এর সংযোগ ১২। ধর্মতলা (এসপ্ল্যানেড)। এই নির্মাণাধীন মেট্রো স্টেশন টি লাইন ১ এর এসপ্ল্যানেড থেকে আলাদা হবে।

 লাইন ৪  নোয়াপাড়া-বারাসাত মেট্রোসম্পাদনা

কলকাতা মেট্রো লাইন ৪ বা নোয়াপাড়া-বারাসাত মেট্রো দমদমের নোয়াপাড়া, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরবারাসাতকে যুক্ত করবে।[১৯] এই পথের মোট দৈর্ঘ্য ১৭.১৩ কিলোমিটার এবং এই মোট্রো পথে ৯ টি মেট্রো স্টেশন তৈরি হবে।

এই রুটের স্টেশন গুলি হল[২০] -

 লাইন ৫  (বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো)সম্পাদনা

বরানগর এবং ব্যারাকপুর এর মাঝে নির্মিত হবে বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো বা কলকাতা মেট্রো লাইন ৫। এই ১২.৪০ কিমি পথে মোট ১১ টি মেট্রো স্টেশন থাকবে যেগুলি হল ১। বরানগর মেট্রো স্টেশন- বরানগর রোড রেলওয়ে স্টেশন এর সংলগ্ন এই মেট্রো স্টেশনটি কলকাতা শহরতলি রেল এর সাথে সংযোগবিন্দু হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া এটি লাইন ১/১লাইন ৫ এর সংযোগ। ২। কামারহাটি মেট্রো স্টেশন ৩। আগড়পাড়া মেট্রো স্টেশন ৪। সোদপুর মেট্রো স্টেশন ৫। পানিহাটি মেট্রো স্টেশন ৬। সুভাষনগর মেট্রো স্টেশন ৭। খড়দহ মেট্রো স্টেশন ৮। টাটা গেট মেট্রো স্টেশন ৯। টিটাগড় মেট্রো স্টেশন ১০। তালপুকুর মেট্রো স্টেশন ১১। বারাকপুর মেট্রো স্টেশন

 লাইন ৬   (কবি সুভাষ-জয় হিন্দ মেট্রো)সম্পাদনা

নিউ গড়িয়া স্টেশন থেকে শুরু হয়ে ইএম বাইপাস বরাবর কালিকাপুর, আনন্দপুর, রুবি, ভিআইপি বাজার, পরমা আইল্যান্ড, চিংড়িঘাটা হয়ে ডানদিকে বেঁকে নিকোপার্ক সেক্টর ফাইভ, টেকনোপলিস, নিউ টাউন হয়ে ভিআইপি রোডের ওপর হলদিরাম ছুঁয়ে মেট্রো পৌঁছবে দমদম বিমানবন্দরে। ৩২ কিলোমিটার রেলপথে মোট ২৬টি স্টেশন তৈরি হবে।[২১] পুরো রাস্তায় মেট্রো যাবে মাটির ওপর দিয়ে এলিভেটেড ট্র্যাকে শুধু মাত্র বিমানবন্দর এর কাছে এসে এই মেট্রো লাইন সুড়ঙ্গ পথে প্রবেশ করবে এবং বিমান বন্দরটি মাটির নীচে নির্মাণ করা হবে। বিমানবন্দর স্টেশনটি নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতানৈক্য মিটতেই এ বার এই প্রকল্পের জন্য কাজের বরাত দিয়ে দিল রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড. ২২ অক্টোবর তিনটি ঠিকাদার সংস্থাকে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার বরাত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ২০১১-২০১২ আর্থিক বছরের বাজেটে মোট ১৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রেল বোর্ড. আরভিএনএল এবং মেট্রো কর্তাদের আশা, নভেম্বর থেকেই কাজ শুরু করে দেবে ওই তিন ঠিকাদার সংস্থা. কাজ শুরুর তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ হয়ে যাবে বলেও তাদের আশা.

সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৮ সালের জুন মাস নাগাদ নিউ গড়িয়া থেকে রুবি পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারিত হবে। [২২]

ইতিমধ্যেই নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর হয়ে বারাসত মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দান পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর কাজও চলছে. সবকটি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেলে মেট্রোর যাত্রীরা বেশ কয়েকটি স্টেশন থেকে ট্রেন বদল করে অন্য রুটের মেট্রোয় চড়তে পারবেন। ট্রেন বদলের সুযোগ থাকবে যে স্টেশনগুলিতে, সেগুলি হল-

বৈশিষ্ট্যসমূহসম্পাদনা

কারিগরি বৈশিষ্ট্যসমূহ ও নির্মাণপদ্ধতিসম্পাদনা

মেট্রো পরিকাঠামোো বিনির্মাণ একটি অত্যন্ত জটিল কাজ। কারণ, এই কাজে একযোগে প্রয়োগ করতে হয় সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রের একাধিক আধুনিক প্রযুক্তি। ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারগণ তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও বিদেশ থেকে আহরিত জ্ঞানকে সম্বল করে ভারতে প্রথম কয়েকটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটান কলকাতা মেট্রো সংস্থাপনকালে।

  • ডায়াফ্রাম দেওয়াল ও শিট পাইলের সাহায্যে কাট অ্যান্ড কভার অর্থাৎ খনন ও ভরাটকরণ পদ্ধতিতে নির্মাণকাজ চালানো হয়।
  • মাটির নিচে যখন খননকার্য চলছিল, তখন উপরের রাস্তায় ট্র্যাফিক পরিষেবা সচল রাখার জন্য প্রশস্ত ডেকিং-এর ব্যবস্থা করা হয়।
  • বায়ুচাপ ও এয়ারলক ব্যবহার করে সিল্ড টানেলিং করা হয়।
  • ইলাস্টিক ফাস্টেনিং, রাবার প্যাড, এপক্সি মর্টার এবং নাইলন ইনসার্টস ব্যবহার করে ব্যাল্যাস্টবিহীন ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়।
  • স্টেশন ও সুড়ঙ্গের পরিবেশ নিয়ণকল্পে শীততাপ-নিয়ন্ত্রণ ও বায়ুচলনের ব্যবস্থা করা হয়।
  • ট্র্যাকশনের জন্য তৃতীয় রেল কারেন্ট কালেকশনের ব্যবস্থা করা হয়।
  • শুষ্ক ধরনের ট্রান্সফর্মার ও সিএফ-৬ সার্কিট ব্রেকার্স সহ ভূগর্ভস্থ সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়।
  • টানেল ট্রেন ভিএইচএফ-রেডিও সংযোগ ব্যবস্থা রাখা হয়।
  • মাইক্রোপ্রসেসর-ভিত্তিক ট্রেন নিয়ন্ত্রণ ও সাবস্টেশনগুলির জন্য তত্ত্বাবধায়কীয় রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থা চালু করা হয়।
  • স্বয়ংক্রিয় টিকিট বিক্রয় ও পরীক্ষণ বা চেকিং-এর ব্যবস্থা করা হয়।

সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহসম্পাদনা

সামগ্রিক ট্র্যাক দৈর্ঘ্য্য ২২.৩ কিলোমিটার
স্টেশন ২১ (১৫টি মাটির তলায়, ১টি ভূপৃষ্ঠে, ৫টি উত্তোলিত)
গেজ ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (১৬৭৬ মিলিমিটার) ব্রডগেজ
প্রতি ট্রেনের কামরাসংখ্যা
সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতি ৫৫ কিলোমিটার/ঘণ্টা
গড় গতি ৩০ কিলোমিটার/ঘণ্টা
ভোল্টেজ ৭৫০ ভোল্ট ডিসি
বিদ্যুৎ সংগ্রহ পদ্ধতি ৭৫০ ভোল্ট ডিসি ব্যবহার করে তৃতীয় রেল
ভ্রমণ সময় : দমদম থেকে কবি নজরুল ৪১ মিনিট (প্রায়)
প্রতি কামরার লোকধারণ ক্ষমতা ২৭৮ জন দণ্ডায়মান ও ৪৮ জন উপবিষ্ট
প্রতি ট্রেনের লোকধারণ ক্ষমতা ২৫৯০ জন যাত্রী (প্রায়)
দুটি ট্রেনের আগমনের মধ্যে সময়ান্তর অফিস টাইমে ৫ মিনিট ও ৬-৮ মিনিট অন্যান্য সময়ে
প্রকল্প রূপায়ণে সামগ্রিক ব্যয় ১৮২৫ কোটি ভারতীয় টাকা (প্রায়)
পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ পরিশুদ্ধ ও শীতল বায়ুযুক্ত কৃত্রিম বায়ুচলন

রোলিং স্টকসম্পাদনা

সমগ্র রেকটি ভেস্টিবিউল-বেষ্টিত। রোলিং স্টক সরবরাহ করে চেন্নাইয়ের আইসিএফ এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে বেঙ্গালুরুর এনজিইএফ। এই রোলিং স্টকগুলি অদ্বিতীয়, কারণ ডবলিউএজি-৬ সিরিজের কয়েকটি লোকোমোটিভ ছাড়া এগুলি ভারতের একমাত্র এন্ড-মাইন্টেড ক্যাব দরজা-বিশিষ্ট।

কলকাতা মেট্রোর ভূগর্ভস্থ রেল পরিষেবার জন্য আইসিএফ এই কোচগুলি বিশেষ নকশায় নির্মিত করে সরবরাহ করে। এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল :

  • ট্র্যাকশনের বিদ্যুৎসংযোগ তৃতীয় রেল বিদ্যুৎ সংগ্রহ ব্যবস্থায় লব্ধ হয়।
  • স্বয়ংক্রিয় দরজা খোলা/বন্ধ হওয়ার ব্যবস্থা ও নিরবিচ্ছিন্ন ট্রানজিট পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে।
  • কোনওরকম মানবিক ব্যর্থতার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ট্রেন রক্ষণব্যবস্থা লব্ধ, এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক প্রযুক্ত হয়ে হয়।
  • ট্রেনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে। ড্রাইভার কেবল তত্ত্বাবধান করে থাকেন।
  • আসন্ন স্টেশনের নাম ঘোষণা করে গণসম্বোধন ব্যবস্থাও চালু আছে। ট্রেন স্টেশনে উপস্থিত হলে সেই স্টেশনের নামও ঘোষণা হয়ে থাকে। এই ঘোষণা হয় বাংলায় এবং তারপর ঘোষণার হিন্দিইংরেজি অনুবাদও সম্প্রচারিত হয়। ট্রেনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ট্রেন ক্রিউ-এর যে কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং এই ব্যবস্থায় সরাসরি যাত্রীদের সম্বোধন করে ঘোষণা করতে পারেন।

এই সকল অত্যাধুনিক কলাকৌশলবিশিষ্ট কোচগুলির নকশা ও নির্মাণ অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও উচ্চমানের। সুরক্ষা ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে বিবেচিত হয়। কোনওরকম কারিগরি সহযোগিতা ছাড়াই যা লব্ধ হয়ে থাকে। সমগ্র ব্যবস্থাটি ২৩৫৬ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন।

পরিষেবাসম্পাদনা

আসন সংরক্ষণসম্পাদনা

২০০৮ সালে, কলকাতা মেট্রো রেল মহিলাদের জন্য দুটি সম্পূর্ণ কোচ সংরক্ষণের করার ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। ৪১ এই ব্যবস্থাটি অকার্যকর বলে প্রমাণিত হয় এবং প্রচুর যাত্রীদের (মহিলা সহ) অসুবিধার কারণ হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনাটি মেট্রো কর্তৃপক্ষ বাতিল করে দেয়।

এখন প্রতিটি কোচের মধ্যে আসনের একটি নির্দিষ্ট অংশ মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত। কোচের প্রতিটি প্রান্তে ৪ টি আসন বিভাগ প্রবীণ নাগরিকদ ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত এবং কোচের মাঝের দুটি দরজার মধ্যবর্তী আসন বিভাগ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।

কোচ বিন্যাস
প্র না এবং শা প্র
আসন (৩)
দরজা
সাধারণ আসন (৮) দরজা
মহিলাদের জন্য
সংরক্ষিত আসন (৮)
দরজা
সাধারণ আসন (৮) দরজা
প্র না এবং শা প্র
আসন (৩)
করিডোর/দাঁড়িয়ে থাকার
এলাকায়
প্র না এবং শা প্র
আসন (৩)
দরজা
সাধারণ আসন (৮) দরজা
মহিলাদের জন্য
সংরক্ষিত আসন (৮)
দরজা
সাধারণ আসন (৮) দরজা
প্র না এবং শা প্র
আসন (৩)


ভাড়া কাঠামোসম্পাদনা

 
কলকাতা মেট্রোর পুরানো টিকিট

মেট্রো রেলের ভাড়া নির্দিষ্ট নয়। দুরত্ব অনুসারে এই ভাড়া পরিবর্তিত হয়ে থাকে। একটি ত্রিবার্ষিক বিরতির পর সর্বশেষ ১ অক্টোবর ২০০১ তারিখে মেট্রোর ভাড়া পর্যালোচিত হয়েছিল। বর্তমানের ভাড়া কাঠামোটি নিম্নরূপ:

 
কলকাতা মেট্রোর টোকেন
জোন দুরত্ব (কিলোমিটারে) ভাড়া (টাকায়)
০ – ২ ৫.০০
> ২ – ৫ ১০.০০
> ৫ – ১০ ১৫.০০
> ১০ – ২০ ২০.০০
> ২০ – ৩০ ২৫.০০

টোকেনসম্পাদনা

১৯৮৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চৌম্বকীয় টিকিটিং স্ট্রিপ সিস্টেমটি ব্যবহার করার পরে, কলকাতা মেট্রো ২০১১ সাল থেকে সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেমস (সিআরআইএস) দ্বারা রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) টোকেন চালু করেছিল। পুরানো চৌম্বকীয় স্ট্রিপ রিডার গেটগুলি নতুন আরএফআইডি পাঠক দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়।

স্মার্ট কার্ডসম্পাদনা

নিরাপত্তাসম্পাদনা

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেসম্পাদনা

কলকাতা মেট্রোতেও কয়েকটি সিনেমার শুটিং হয়েছিল। ঐগুলি[২৩]-

  • আমি আফিয়া (বাংলা)
  • কাহানী (হিন্দি)
  • যুবা (হিন্দি)
  • রাস্তা (বাংলা)
  • খুসি (বাংলা)

পাদটীকাসম্পাদনা

  1. Kolkata Metro's expansion plan to change life and times of commuters
  2. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৩ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৩ 
  3. "শতবর্ষ আগেই বীজ বপন মেট্রোর"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  4. https://www.telegraphindia.com/states/west-bengal/metro-missed-the-train-to-piccadilly/cid/1286509
  5. Feb 5, Jayanta Gupta | TNN | Updated:; 2020; Ist, 13:28। "Kolkata's Tube Railway plan nipped in bud a century ago | Kolkata News - Times of India"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-১১ 
  6. "History of Kolkata Metro"। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১০ 
  7. "মেট্রো রেল", বাংলার ঐতিহ্য:কলকাতার অহংকার, পল্লব মিত্র, পারুল প্রকাশনী, কলকাতা, ২০১০
  8. "Metro prepares completion calendar for city projects"। Times of India। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০১৭ 
  9. Chakraborty, Ajanta; Feb 5, Jayanta Gupta | TNN | Updated:; 2020; Ist, 11:33। "Kolkata Metro: 8am on Valentine's Day;Your date with East-West Metro | Kolkata News - Times of India"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-০৫ 
  10. "New System Map of Kolkata Metro" 
  11. "East west metro will be started to run from 13 th february"Sangbad Pratidin (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০২-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-০৩ 
  12. "Kolkata: Work on fast track as East-West Metro eyes new links in next two years | Kolkata News - Times of India"The Times of India 
  13. B, Krishnendu; yopadhyay; Jun 10, Ajanta Chakraborty | TNN | Updated; 2019; Ist, 10:39। "Kolkata: Work on fast track as East-West Metro eyes new links in next two years | Kolkata News - Times of India"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৯ 
  14. Kolkata Metro to run trains at every 90 Seconds on North-South Corridor! (ইংরেজি ভাষায়), সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-১১ 
  15. "Hindustan Times - Archive News"Hindustan Times। ১০ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  16. "East West Metro project cost to shoot up to nearly Rs 9,000 cr - Times of India"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৯-২৫ 
  17. "Mixed bag for Bengal in Railway Budget 2016; Kolkata gets new Metro route" (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৬-০২-২৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৯-২৫ 
  18. "কলকাতার লাইফলাইন এবং টাউনশিপ লেভেল প্রজেক্ট"আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ১৬-১০-২০১৬  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  19. Mandal, Sanjay (২৯ জুলাই ২০০৯)। "Circle of Metro commute"The Telegraph। Calcutta, India। 
  20. "Dum Dum-Barrackpore Metro project awaits state nod"। Thestatesman.net। ২০১২-০৬-০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৭-০৭ 
  21. "রুট ভেঙে যাত্রা শুরুর পথে দুই মেট্রো"আনন্দবাজার প্রত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ২৬-১২-২০১৬  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  22. "metro sets june 2018 date for new garia ruby line"এইসময়। সংগ্রহের তারিখ ০৯-০৮-২০১৭  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  23. "Metro too expensive for Tollywood! - Times of India"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২২ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা