হাতিয়া উপজেলা

নোয়াখালী জেলার একটি উপজেলা

হাতিয়া বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

হাতিয়া
উপজেলা
হাতিয়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
হাতিয়া
হাতিয়া
বাংলাদেশে হাতিয়া উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°২২′১৬″ উত্তর ৯১°৭′৩৬″ পূর্ব / ২২.৩৭১১১° উত্তর ৯১.১২৬৬৭° পূর্ব / 22.37111; 91.12667স্থানাঙ্ক: ২২°২২′১৬″ উত্তর ৯১°৭′৩৬″ পূর্ব / ২২.৩৭১১১° উত্তর ৯১.১২৬৬৭° পূর্ব / 22.37111; 91.12667 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
জেলানোয়াখালী জেলা
সংসদীয় আসন২৭৩ নোয়াখালী-৬
সরকার
 • সংসদ সদস্যআয়েশা ফেরদাউস (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)
আয়তন
 • মোট১,৫০৭.৩৬ বর্গকিমি (৫৮১.৯৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট৫,০০,০০০
 • জনঘনত্ব৩৩০/বর্গকিমি (৮৬০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৬৯%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৩৮৯০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
২০ ৭৫ ৩৬
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

আয়তন ও অবস্থানসম্পাদনা

হাতিয়া উপজেলার আয়তন ১৫০৭.৩৬ বর্গ কিলোমিটার। এটি আয়তনের দিক থেকে নোয়াখালী জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা।[২] এ উপজেলা নোয়াখালী জেলার বেশ কিছু উপকূলীয় ১৯টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। ।[৩]এর এলাকার পরিমাণ ২,১০০ বর্গ কিলোমিটার। এ উপজেলার উত্তরে মেঘনা নদীসুবর্ণচর উপজেলা, উত্তর-পশ্চিমে মেঘনা নদীলক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলা, পশ্চিমে হাতিয়া চ্যানেলভোলা জেলার মনপুরা উপজেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে সন্দ্বীপ চ্যানেলচট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলা অবস্থিত। [৪]

প্রশাসনিক এলাকাসম্পাদনা

হাতিয়া উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে। চর ঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচর ব্যতীত সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম হাতিয়া থানার আওতাধীন এবং ভাসানচরের প্রশাসনিক কার্যক্রম ভাসানচর থানার আওতাধীন।

পৌরসভা:
ইউনিয়নসমূহ:

ইতিহাসসম্পাদনা

 
জেমস রেনেলের ১৭৭৮ সালের মানচিত্রে হাতিয়া

প্রমত্তা মেঘনা আর বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশির প্রচণ্ড দাপটের মুখে হাতিয়ায় প্রকৃতির ভাঙা-গড়ার কারণে এক থেকে দেড়শ’ বছরের পুরনো কোনো নিদর্শন অবশিষ্ট নেই। দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি অনেক গবেষক হাতিয়ার ওপর গবেষণা করেছেন। তাদের মধ্যে সুরেশ চন্দ্র দত্ত কিছু যুক্তি দিয়ে হাতিয়ার বয়স অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন। দক্ষিণবঙ্গের ভূ-ভাগ সৃষ্টির রহস্য নিয়ে তার গবেষণায় তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রতি ১৩৬ থেকে ১৪০ বছর সময়ের মধ্যে এক মাইল স্থলভাগ সৃষ্টি হয় হাতিয়ায়। তার এ তথ্য আমলে নিয়ে হাতিয়ার বর্তমান আয়তনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে হাতিয়ার বয়স সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার বছর বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত হাতিয়ার চৌহদ্দি নিরূপণ করলে দেখা যায়, হাতিয়ার উত্তরে সুধারাম, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে সন্দ্বীপ এবং পশ্চিমে মনপুরা ও তজুমদ্দিন উপজেলা। এক সময় সন্দ্বীপের সঙ্গে হাতিয়ার দূরত্ব ছিল খুবই কম। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই দূরত্ব এখন ৬০ মাইল ছাড়িয়েছে। ক্রমাগত ভাঙনই এ দূরত্ব সৃষ্টি করেছে। হাতিয়ার ভাঙা-গড়ার খেলা চতুর্মুখী দোলায় দোদুল্যমান। উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিক দিয়ে ভাঙছে। আবার দক্ষিণে গড়ছে, পাশাপাশি আবার মূল ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে আশপাশে ছোট-বড় নানান ধরনের চর জেগে উঠছে। ওয়েব স্টার নামের একটি সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮৯০ সাল থেকে হাতিয়ার আদি ভূখণ্ডের উত্তর ভাগের ভাঙন শুরু হয়। বিরাট আয়তনের জমি নদী ও সাগরের ভাঙনে বিলুপ্ত হলেও একই সময় দ্বীপের উত্তর দিকে হাতিয়ার আয়তন ভাঙনের প্রায় ২ থেকে ৫ গুণ হারে বাড়তে শুরু করে। সেই সময় এ অঞ্চলের জেগে ওঠা চরের যে হিসাব পাওয়া যায় তা হলো : ফেনী নদীর মুখে ৫টি, হাতিয়া দ্বীপের সম্প্রসারণ ১৮টি, হাতিয়া চ্যানেলে ৫টি, মেঘনার বুকে ৩টি ও ডাকাতিয়া নদীর মুখে ৩৫টি চর সৃষ্টির প্রক্রিয়া হাতিয়ার মোট আয়তনকে পরিবৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে। ১২০ বছরের ব্যবধানে হিসাব-নিকাশে ঢের পরিবর্তন এসেছে। অনেক চর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, কিছু কিছু আবার ভাঙনের কবলে পড়ে হারিয়ে গেছে। ক্রমাগত ভাঙনের কারণে সঠিক আয়তন নির্ধারণ করা কঠিন হলেও উপজেলা পরিষদের হিসাব মতে হাতিয়ার বর্তমান আয়তন ২১শ’ বর্গকিলোমিটার বলে উল্লেখ আছে। হাতিয়া সম্পর্কে আরও জানতে চাইলে পড়তে পারেন ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা তিলোত্তমা হাতিয়া ও ইতিহাস’ শিরোনামের গ্রন্থটি।

মধ্যযুগের ইতিহাসসম্পাদনা

হাতিয়ার বিভিন্ন সংগঠন থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন, সাবেক উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমীন রচিত 'তিলোত্তমা হাতিয়া : ইতিহাস ও ঐতিহ্য' বই ও দ্বীপের প্রবীণদের কাছ থেকে হাতিয়ার ইতিহাস সম্পর্কে জানা গেছে, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ শতাব্দীর দিকে বঙ্গোপসাগর আর মেঘনার মোহনায় গড়ে ওঠা সবুজে ঘেরা দ্বীপটি মানুষের নজরে আসে। কিংবদন্তি রয়েছে, পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে বার আউলিয়া নামে খ্যাত বারজন আউলিয়া মাছের পিঠে সওয়ার হয়ে বাগদাদ থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে হাতিয়ায় বিশ্রাম নিয়েছিলেন।বিশ্রামকালে সন্দ্বীপ-হাতিয়ার অনেক মানুষ তাদের হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। হজরত সুলতান ইব্রাহীম বলখি মাহীসাওয়ারও মাছের পিঠে চড়ে হাতিয়ায় এসেছিলেন। বিখ্যাত সাধক বায়েজিদ বোস্তামী এবং হজরত শাহ আলী বোগদাদি হাতিয়ায় কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। এর পর থেকে হাতিয়ায় প্রচুর আরব সাধক এসেছিলেন। সর্বশেষ একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের চারশ’ বছর আগে ৭ম শতাব্দীতে কিছু আরব বণিক ধর্ম প্রচারের জন্য সমুদ্রপথে চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় মনোরম এই দ্বীপটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে দ্বীপে কিছুকাল অবস্থান করেন। এসব আরব বণিক ও সাধক দ্বীপে বসবাসরত সাধারণ মানুষদের মাঝে ইসলাম প্রচার করেন।

হাতিয়ার জাতি গোষ্টি নিয়ে তেমন কোন গবেষনা হয়নি ড. মোহাম্মদ আমিন ছাড়া।তিনি বলেছেন হাতিয়ার আদি জাতি গোষ্টি কিরাত।কিন্তু আমার গবেষনা ও নৃতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষন থেকে বলছে হাতিয়ার আদি জাতি গোষ্টি অস্ট্রিক।অস্ট্রালয়েড বা অস্ট্রিক ভাষী জাতি গোষ্টি ষাট হাজার বৎসর বা ১ লক্ষ বৎসর পূর্বে আফ্রিকার যাযাবর ও শিকারী শ্রেনীর মানুষ এডেন ও লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে ক্রমাগত উপকূল বেয়ে দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় বিচরন করে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিচরন করে ছিল।তাই এরা এশিয় অস্ট্রিক জাতি গোষ্টির অন্তভূক্ত।এদের দীর্ঘ মুন্ডু,কৃষ্ণকায় দেহ রয়েছে,এদের চুল সোজা,ঢেউ খেলানো ও ভেড়ার চুলের মত কোঁকড়ানো।মিলেনেশিয়াদের ক্ষেত্রে চুল সোজা।উপমহাদেশে এদের অবস্হান পশ্চিম বঙ্গ হতে পূর্বে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত।প্রস্তর যুগে এরা গাছের ডাল পালা দিয়ে অস্ত্র বানাতো এবং ব্রোঞ্জের ব্যবহার জানতনা বলে এদের সভ্যতার বস্তুগত প্রমান মেলে না।

এরাই উপমহাদেশে প্রথম সভ্যতা ও বসতি স্হাপন করেছিল পরবর্তীতে প্রথম চাষাবাদ ও গুড় তৈরীর কৌশল আয়ত্ত করে ।এরা শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করত কাউকে বিতাড়িত করেনি এবং আর্যদের সাথে সহবস্থান করেছিল।দূর্ঘম জমিকে পতিত জমিতে পরিনত করেছিল এবং বনের পশুকে পোষ মানিয়ে ছিল।নীহারঞ্জন রায়ের মতে সুন্দর বনের মৎস্য শিকারী, ময়মনসিংহ, যশোর ও নিম্ম বঙ্গের কিছু মানুষের মধ্যে কৃষ্ণকায় দেহ,শ্যাম বর্ণ,উণাবৎ কেশের উপস্হিতি অস্ট্রিক জাতির উপস্হিতি প্রমান করে।

উত্তারাধিকার সূত্রে পাওয়া হাতিয়া মানুষের উপরের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে যেমন : চাষাবাদ,ধান চাষ,পশু ও পাখি পালন, মৎস্য শিকার,বসতি ও সভ্যতা স্হাপন এবং গুড় তৈরী ইত্যাদি।দেহ কৃষ্ণকায় ও শ্যাম বর্নের,চুল সোজা,টেউ খেলানো ও কোঁকডানো।

আর্যদের আগমনের পূর্বেই উত্তর-পূর্ব ভারত ছিল মঙ্গোলীয় জাতীর আবাসস্হ,এরাই মূলত কিরাত জাতি হিসেবে পরিচিত।অর্থাৎ এরা মঙ্গোলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তভূক্ত।মহাভারত ও রামায়নের যোগিনীতন্ত্রে কিরাতের দেশকে প্রাগজ্যোতিশপুর বলে আখ্যাহিত করা হয়েছে এবং এরা আসামের গিরিপথ অতিক্রম করে উত্তরে হিমালয়,দক্ষিনে ভারত মহাসাগর,পূর্বে মনিপুর,ত্রিপুরা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জঙ্গলাপূর্ন পাহাড়ের মধ্যে অবস্হান করেছিল।

প্রাগজ্যোতিসপুর পরবর্তীতে কামরুপ রাজ্যে রুপান্তর লাভ করে।রামায়নে কিরাত সম্পর্কে বলা হয়েছে ব্রক্ষপুত্রের তীরে(ময়মনসিংহ) কনক চাপার মত দেহ জাতিই কিরাত।এদের স্হান ও ভাষার মধ্যে চীনা ভাষার প্রভাব রয়েছে।এদের বিভক্তি জাতি গুলো হল রাজবংশী,কোচ,মেচ ও চাকমা।সার্জন জেমস টেইলর মনে করেন এ জাতি কামরুপ রাজ্যর দক্ষিন ও পশ্চিমে বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও যমুনা পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে।ড.সিরাজুল ইসলাম ও জেমস টেইলরকে সমর্থন করেন।উপরে আলোচনা হতে হাতিয়ার মানুষের কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কিরাত নয় অস্ট্রিকই হাতিয়ার আদি জাতি গোষ্টী।।[৬]

ইসলাম প্রচারসম্পাদনা

ইতিহাসে বাংলাদেশে ইসলামের প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রামকে ধরা হলেও হাতিয়াতেই ইসলামের সূত্রপাত হয় বলে বিশ্বাস করেন দ্বীপের মানুষেরা। খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে এখানে একটি বৃহত্তম জামে মসজিদ গড়ে ওঠে। এটিই ছিল হাতিয়ার ঐতিহাসিক প্রথম জামে মসজিদ। নির্মাণের প্রায় ৮০০ বছর পর ১৭০২ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৮ সালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মজিদের নকশায় পুরনো সেই মসজিদের আদলে মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে এখানে আরেকটি মসজিদ গড়ে তোলা হয়। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত মসজিদটি অক্ষত ছিল।

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

মোট জনসংখ্যা ৪,৫২,৪৬৩ জন (প্রায়), পুরুষ ২,২৩,৮৫৩ জন (প্রায়), নারী ২,২৮,৬১০ জন (প্রায়)। জনসংখ্যার ঘনত্ব ৩০০ (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে), জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৩%। মোট ভোটার সংখ্যা ২,১৮,০১৯ জন, পুরুষ ভোটার ১,১০,২০০ জন, মহিলা ভোটার ১,০৭,৮১৯ জন

শিক্ষাসম্পাদনা

হাতিয়া উপজেলার সাক্ষরতার হার ৬৯%।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসম্পাদনা

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২১৬ টি, বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৯ টি, জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় ০৭ টি, মোট উচ্চ বিদ্যালয় ৪৫ টি, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ০৩ টি, মোট কলেজ ০৫টি (বালিকা ১টি), দাখিল মাদ্রাসা ০৮ টি, আলিম মাদ্রাসা ০৩ টি, কামিল মাদ্রাসা ০১ টি। উল্লেখ যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলঃ

  • এ.এম উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৭)
  • জাহাজমারা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৭১)
  • জাহাজমারা ছেরাজুল আলিম মাদ্রাসা
  • এম.সি.এস উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৮)
  • হাতিয়া শহর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • ওছখালী কে.এস.এস. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
  • হাতিয়া ইউনিয়ন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১২ সাল)
  • সুখচর ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়
  • হাতিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসা(১৯১২সাল)
  • হাতিয়া দ্বীপ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
  • চরচেঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা (১৯৪৭)
  • হাতিয়া ডিগ্রি কলেজ
  • প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম মহিলা কলেজ
  • হাতিয়া কমিউনিটি কলেজ (২০০২)
  • হেদায়েত উল্ল্যহ উচ্চ বিদ্যালয়।
  • সুখচর মফিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়

যোগাযোগ ব্যাবস্থাসম্পাদনা

পাকা রাস্তা ১৩০ কি:মি:, আধা-পাকা রাস্তা ৬০ কি:মি:, কাঁচা রাস্তা ৬৮৭ কি:মি, সেতু/কালভার্ট ৩৬৮ টি, নদীর সংখ্যা ০৩ টি, জেলা সদর তথা মূল ভূখন্ডের সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। এছাড়া ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সাথে লঞ্চ, জাহাজের মাধ্যমে নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে।

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বসম্পাদনা

জনপ্রতিনিধিসম্পাদনা

সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[৭] সংসদ সদস্য[৮][৯][১০][১১][১২] রাজনৈতিক দল
২৭৩ নোয়াখালী-৬ হাতিয়া উপজেলা বেগম আয়েশা ফেরদাউস বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

ঐতিহ্যসম্পাদনা

হাতিয়া মহিষ ও গরুর দধির জন্য বিখ্যাত। কথায় আছে - "হাতিয়ার দই, নোয়াখালীর কৈ, স্বন্দ্বীপের ডাব, রামগতির রাব।" এছাড়া রয়েছে জামাই পিঠা নামে খ্যাত "নকশী পিঠা" বা হাতিয়ার ভাষায় পাক্কন পিঠা। পুলি পিঠা, চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা, জালার পিঠা, রস ভোগ, আনতাসা পিঠা, সাইন্না পিঠা, ভরা পিঠা সহ হরেক রকমের পিঠা। নাউর এবং গ্রামীণ কৃষ্টি-সংস্কৃতির বিয়ে এখানে এখনও প্রচলিত। হাতিয়ার দৃষ্টি নন্দন গ্রামীণ বাড়ি এখানেরই ঐতিহ্য। এখানে বাড়ি নির্মানে বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় যা বাংলাদেশের কোথাও দেখা যায়না।এখানে বাড়ি নির্মানে রাস্হার আয়তনমাত্রিক ভাবে নূন্যতম ৪০ শতাংশ জমির দরকার হয়।বাড়ির মাঝখানে একটি দরজা, দরজায় ফুল কিংবা সুপারি গাছের সারি থাকে।বাড়ির মাঝবরাবর ঘর নির্মাণ করা হয়। ঘরের পিছনে পুকুর, ঘরের সামনে উঠানের জায়গা রেখে ফলের বাগান থাকে।পুকুর পাড়ে গাছের বাগান থাকে।।[১৩]

দর্শনীয়স্থানসম্পাদনা

  • নিঝুম দ্বীপ
  • কাজির বাজার।
  • কমলার দিঘী।
  • রহমত বাজার ঘাট।
  • তমরুদ্দি পাথর ঘাট।
  • সূর্যমূখী সি বীচ।
  • দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা পার্ক।
  • সর্ণদ্বীপ সেনানিবাস।
  • আলাদি গ্রাম।
  • টাংকির ঘাট।
  • ভাষান চর।
  • দমার চর।
  • কাটাখালী ম্যানগ্রোভ।
  • কাটাখালী খাল।
  • আমতলী ফরেষ্ট এরিয়া, জাহাজমারা।
  • মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা
  • মোক্তারিয়া ঘাট।
  • নিমতলী সমুদ্র সৈকত,জাহাজমারা

হোটেল ও আবাসনসম্পাদনা

সরকারি ডাক বাংলো,ধানসিঁড়ি,হোটেল সম্রাট, হোটেল সিংগাপুর, হোটেল মোহনা, হোটেল হংকং, হোটেল শেরাটন, হোটেল প্রিন্স।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে হাতিয়া"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই, ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. https://web.archive.org/web/20151208044832/http://www.bbs.gov.bd/WebTestApplication/userfiles/Image/National%20Reports/Union%20Statistics.pdf
  3. মোঃ রিপাজ উদ্দিন। সম্ভাবনাময় হাতিয়া বাংলার সিঙ্গাপুর। পৃষ্ঠা ১১০। 
  4. http://hatia.noakhali.gov.bd/node/515026[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. মোঃ রিপাজ উদ্দিন। সম্ভাবনাময় হাতিয়া বাংলার সিঙ্গাপুর। পৃষ্ঠা ১১২। 
  6. মোঃ রিপাজ উদ্দিন। সম্ভাবনাময় হাতিয়া বাংলার সিঙ্গাপুর। পৃষ্ঠা ২৫। 
  7. "Election Commission Bangladesh - Home page"www.ecs.org.bd 
  8. "বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জানুয়ারি ১, ২০১৯" (PDF)ecs.gov.bdবাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি ২০১৯। ২ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৯ 
  9. "সংসদ নির্বাচন ২০১৮ ফলাফল"বিবিসি বাংলা। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  10. "একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল"প্রথম আলো। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  11. "জয় পেলেন যারা"দৈনিক আমাদের সময়। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  12. "আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক জয়"সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  13. মোঃ রিপাজ উদ্দিন। সম্ভাবনাময় হাতিয়া বাংলার সিঙ্গাপুর। পৃষ্ঠা ১০৫।