প্রধান মেনু খুলুন
Portrait of James Rennell (1799)

মেজর জেমস রেনেল (ডিসেম্বর ৩, ১৭৪২ - মার্চ ২৯, ১৮৩০) একজন ব্রিটিশ ভূবিদ, ভূগোলবিদ, নৌ-প্রকৌশী ,ঐতিহাসিক এনং মহাসমুদ্রবিদ্যার জনক ছিলেন।

বাংলায় জেমস রেনেলসম্পাদনা

৬ মে,১৭৬৪ সালে কলকাতার গভর্নর হেনরী ভ্যান্সিটার্ট জেমস রেনেলকে নদীয়া জেলার উত্তর সীমানাবর্তী জলঙ্গি নদীর মাথা হইতে পূর্বদিকে ঢাকা পর্যন্ত গঙ্গাপদ্মার দক্ষিণ তীর তথা অববাহিকাবর্তী নদীনালা জরিপের লক্ষ্যে জরিপকার বা আমিন নিযুক্ত করেন।এই জরিপের অংশস্বরূপ গভর্নরে নিযুক্ত গোয়েন্দা কর্মচারি জেমস রেনেল ১৭৬৪ সালের ৭ই মে তারিখ হইতে তাঁহার রোজনামচা বা দিনলিপি লিখিতে শুরু করেন। সেই দিনলিপি ১৯১০ সালে কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটি তৎকালীন ‘ভারতবর্ষের ভূতাত্ত্বিক জরীপ’(Geological Survey of India) নামক সংস্থার সদস্য টি. এইচ. ডি. লা টুশ (T. H. D. La Touche) সম্পাদনয় এই দিনলিপি প্রকাশ করেন। টি. এইচ. ডি. লা টুশের মতে ১৭৬৪ সাল হইতে ১৭৬৭ সালের মধ্যে গঙ্গা ও ব্রহ্মপূত্র নদীর জরিপ চলার সময় পরাধীন বঙ্গদেশের গভর্নরদের গোয়েন্দা হিসাবে জেমস রেনেল এই বিবরণী লিখেছিলেন। লা টুশ সম্পাদিত রেনেলের রোজনামচায় তিনটি খন্ড আছে। প্রথমখন্ড ১৭৬৪ সালের মে হইতে ১৭৬৫ সনের মে পর্যন্ত বিস্তৃত। দ্বিতীয়খন্ড ১৭৬৫ সালের মে হইতে ১৭৬৬ সালের জানুয়ারি। আর তৃতীয়খন্ড ১৭৬৬ সনের জানুয়ারি হইতে ১৭৬৭ সনে মার্চ অবধি।১৭৬৭ সালে তাঁহাকে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মহা আমিন বা সার্ভেয়ার জেনারেল নিয়োগ করা হয়। ১৭৬৪ সাল হইতে ১৭৭৭ - সর্বমোট তের বছর তিনি বঙ্গদেশের ব্রিটিশ জরীপকাজে নিযুক্ত ছিলেন। মহা আমিনের প্রধান কার্যালয় বসিত পূর্ব বাংলার ঢাকা শহরে। বাংলার সাধারণ মানুষের মধ্যে ইংরেজ বিরোধী সংগ্রাম তখন চলছিল। ইংরেজরা এই সংগ্রামকে ফকির বিদ্রোহ বলত।১৭৭৬ সালে ভূটানের সীমান্ত ও কুচবিহার সীমান্তে এই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকাকালে তিনি ফকির মজনু শাহ এর অনুসারী একদল বিদ্রোহী কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। সম্ভবত এই ঘটনাই ১৭৭১ সালে ফকির বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গে এক অভিযানে নেতৃত্ব দানে রেনেলকে তাড়িত করেছিল। এই আঘাত থেকে তিনি কখনও পুরাপুরি সেরে উঠেন নি। জানা যায় যে এই আঘাতের কারণেই অল্পবয়সে তিনি অবসর গ্রহণে বাধ্য হয়েছিলেন। ১৭৭৬ সালের ৫ এপ্রিল তাঁহার মেজর পদে উন্নতি হয়। গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস তাঁহাকে বার্ষিক ৬০০ পাউন্ডের ভাতা মন্জুরি প্রদান করিয়াছিলেন। তখন ভারতে ব্রিটিশ শাসনে সহায়তা করিবার নিমিত্ত প্রতিষ্ঠিত “ইস্ট ইন্ডিয়া হাউস” নামক দপ্তরে কাজ করিতেন জেমস রেনেল।[১]

বঙ্গীয় জরিপ ও মানচিত্রসম্পাদনা

রেনেলের লেখার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করার যোগ্য বিবেচিত হইয়াছে ১৭৭৯ সালে প্রকাশিত Bengal Atlas বা বঙ্গদেশের মানচিত্র । ১৭৮৩ সনে তিনি ‘ভারতবর্ষের খসড়া মানচিত্র’ প্রকাশ করেন। ১৮০০ সালে প্রকাশিত হয় Geographical System of Herodotus বা ‘এরোদোতসের ভূগোলজগত’। তাঁহার আরেকটি উল্লেখ্য বই Comparative Geography of Western Asia বা ‘এশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের তুলনাভিত্তিক ভূগোল’ ।

মানচিত্র প্রকাশসম্পাদনা

 
Map of the currents in Atlantic and Indian ocean around Africa, created by James Rennell in 1799. Amazing is the accuracy of the marine currents and winds in contrast to the nearly phantasylike depiction of the inner parts of Africa (unknown to the Europeans until 1877).

শেষ জীবনসম্পাদনা

১৭৭৭ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।জীবনের বাকি ৫৩ বছর তিনি লন্ডন শহরেই কাটাইয়াছিলেন। শেষ বয়সে জেমস রেনেল সমুদ্রস্রোত বিষয়ে গবেষণা করিয়া আপন খ্যাতির বৃদ্ধি সাধন করেন। তাঁহাকে ওসানোগ্রাফি বা মহাসমুদ্রবিদ্যার পিতা বলিয়াও ডাকিবার রীতি ইংরেজরা চালু করিয়াছিলেন। তাঁহার এন্তেকালান্তে মোতাবেক ১৮৩২ সালে তদীয় কন্যার সম্পাদনায় Currents of the Atlantic Ocean বা ‘অতলান্তিক মহাসমুদ্রের স্রোতধারা’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ১৭৮১ সালে তিনি ইংলন্ডের রাজকীয় সমিতির সদস্য মনোনীত হইয়াছিলেন। মার্চ ২৯, ১৮৩০ সালে লন্ডন শহরে তিনি পরলোক গমন করেন এবং ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবিতে তাকে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; DNB নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি

বহিঃসংযোগসম্পাদনা