ভোলা জেলা

বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের একটি জেলা

ভোলা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এর পূর্বের নাম দক্ষিণ শাহবাজপুর।[২]

ভোলা
জেলা
বাংলাদেশে ভোলা জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে ভোলা জেলার অবস্থান
ভোলা বরিশাল বিভাগ-এ অবস্থিত
ভোলা
ভোলা
ভোলা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ভোলা
ভোলা
বাংলাদেশে ভোলা জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°১০′৪২.৭১″ উত্তর ৯০°৪২′৩৬.৩৭″ পূর্ব / ২২.১৭৮৫৩০৬° উত্তর ৯০.৭১০১০২৮° পূর্ব / 22.1785306; 90.7101028স্থানাঙ্ক: ২২°১০′৪২.৭১″ উত্তর ৯০°৪২′৩৬.৩৭″ পূর্ব / ২২.১৭৮৫৩০৬° উত্তর ৯০.৭১০১০২৮° পূর্ব / 22.1785306; 90.7101028 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগবরিশাল বিভাগ
আয়তন
 • মোট৩,৪০৩.৪৮ বর্গকিমি (১,৩১৪.০৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট১৭,৭৬,৭৯৫
 • জনঘনত্ব৫২০/বর্গকিমি (১,৪০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৪৩.২%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
১০ ০৯
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

নামকরণের ইতিহাসসম্পাদনা

ভোলার নামকরণের পেছনে স্থানীয়ভাবে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। ভোলা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বেতুয়া নামক খালটি এখনকার মত অপ্রশস্ত ছিলনা। একসময় এটা পরিচিত ছিল বেতুয়া নদী নামে। খেয়া নৌকার সাহায্যে নদীতে পারাপার চলত। থুব বুড়ো এক মাঝি খেয়া নৌকার নৌকার সাহায্যে লোকজনকে পারাপারের কাজ করতো। তার নাম ছিল ভোলা গাজি পাটনি। আজকের যোগীর ঘোলের কাছেই তার আস্তানা ছিল। এই ভোলা গাজির নামানুসারেই একসময় নামকরণ হয় ভোলা। [৩]

অবস্থান ও আয়তনসম্পাদনা

 
জেমস রেনেলের ১৭৭৮ সালের মানচিত্রে দক্ষিণ শাহবাজপুর দ্বীপ যা বর্তমানে ভোলা

বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা। জেলা প্রশাসন যাকে কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ বলে ঘোষণা করে। ভোলা জেলার উত্তরে বরিশাল জেলামেঘনা নদী, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে নোয়াখালীলক্ষ্মীপুর জেলামেঘনা নদী এবং পশ্চিমে বরিশালপটুয়াখালী জেলাতেঁতুলিয়া নদী। এর মোট আয়তন ৩৪০৩.৪৮ বর্গকিলোমিটার।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহসম্পাদনা

ভোলা জেলা ৭টি উপজেলা, ১০টি থানা, ৫টি পৌরসভা, ৭০টি ইউনিয়ন ও ৪টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।

উপজেলাসমূহসম্পাদনা

ভোলা জেলায় মোট ৭টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হল:

ক্রম নং উপজেলা আয়তন
(বর্গ কিলোমিটারে)
প্রশাসনিক থানা আওতাধীন এলাকাসমূহ
০১ চরফ্যাশন ১১০৬.৩১ চরফ্যাশন পৌরসভা (১টি): চরফ্যাশন
ইউনিয়ন (৭টি): ওসমানগঞ্জ, আছলামপুর, চর মাদ্রাজ, জিন্নাগড়, আমিনাবাদ, আব্দুল্লাহপুর এবং ওমরপুর
দক্ষিণ আইচা ইউনিয়ন (৪টি): চর মানিকা, কুকরী মুকরী, নজরুলনগর এবং ঢালচর
দুলারহাট ইউনিয়ন (৫টি): নীলকমল, নুরাবাদ, মুজিবনগর, আবুবকরপুর এবং আহম্মদপুর
শশীভূষণ ইউনিয়ন (৫টি): চর কলমী, হাজারীগঞ্জ, রসুলপুর, এওয়াজপুর এবং জাহানপুর
০২ তজুমদ্দিন ৫১২.৯২ তজুমদ্দিন ইউনিয়ন (৫টি): বড় মলংচড়া, সোনাপুর, চাঁদপুর, চাঁচড়া এবং শম্ভুপুর
০৩ দৌলতখান ৩১৬.৯৯ দৌলতখান পৌরসভা (১টি): দৌলতখান
ইউনিয়ন (৯টি): মদনপুর, মেদুয়া, চর পাতা, উত্তর জয়নগর, দক্ষিণ জয়নগর, চর খলিফা, সৈয়দপুর, হাজীপুর এবং ভবানীপুর
০৪ বোরহানউদ্দিন ২৮৪.৬৬ বোরহানউদ্দিন পৌরসভা (১টি): বোরহানউদ্দিন
ইউনিয়ন (৯টি): গংগাপুর, সাচড়া, দেউলা, কাচিয়া, হাসাননগর, টবগী, পক্ষিয়া, বড় মানিকা এবং কুতুবা
০৫ ভোলা সদর ৪১৩.১৬ ভোলা সদর পৌরসভা (১টি): ভোলা
ইউনিয়ন (১৩টি): রাজাপুর, ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা, কাচিয়া, বাপ্তা, ধনিয়া, শিবপুর, আলীনগর, চর সামাইয়া, ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া, উত্তর দিঘলদী এবং দক্ষিণ দিঘলদী
০৬ মনপুরা ৩৭৩.১৮ মনপুরা ইউনিয়ন (৪টি): মনপুরা, হাজিরহাট, সাকুচিয়া উত্তর এবং সাকুচিয়া দক্ষিণ
০৭ লালমোহন ৩৯৬.২৫ লালমোহন পৌরসভা (১টি): লালমোহন
ইউনিয়ন (৯টি): বদরপুর, কালমা, ধলী গৌরনগর, চর ভূতা, লালমোহন, ফরাজগঞ্জ, পশ্চিম চর উমেদ, রমাগঞ্জ এবং লর্ড হার্ডিঞ্জ

সংসদীয় আসনসম্পাদনা

সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[৪] সংসদ সদস্য[৫][৬][৭][৮][৯] রাজনৈতিক দল
১১৫ ভোলা-১ ভোলা সদর উপজেলা তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
১১৬ ভোলা-২ দৌলতখান উপজেলা এবং বোরহানউদ্দিন উপজেলা আলী আজম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
১১৭ ভোলা-৩ তজুমদ্দিন উপজেলা এবং লালমোহন উপজেলা নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
১১৮ ভোলা-৪ চরফ্যাশন উপজেলা এবং মনপুরা উপজেলা আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভোলা জেলার মোট জনসংখ্যা ১৭,৭৬,৭৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮,৮৪,০৬৯ জন এবং মহিলা ৮,৯২,৭২৬ জন। মোট পরিবার ৩,৭২,৭২৩টি।[১০]

চিত্তাকর্ষক স্থানসম্পাদনা

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বসম্পাদনা

যোগাযোগ ব্যবস্থাসম্পাদনা

ভোলা শহর ঢাকা থেকে নদী পথে দূরত্ব ১৯৫ কি.মি.। সড়কপথে বরিশাল হয়ে দূরত্ব ২৪৭ কি.মি. এবং লক্ষীপুর হয়ে দূরত্ব ২৪০কি.মি.।ভোলার সাথে অন্য কোন জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই।অন্য জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যাবস্থা সচল রাখার জন্য ভোলাবাসীকে লঞ্চ,স্পিড বোট এবং ফেরীর উপর নির্ভর করতে হয়।

বিবিধসম্পাদনা

দেশের দক্ষিণে বঙ্গপোসাগর এবং দেশের সর্ব বৃহৎ নদী মেঘনার কুল ঘেসে অবস্থিত একটি জেলা। যার সাথে কোনো জেলার সড়ক যোগাযোগ পথ নেই। প্রশ্ন উঠতে পারে "তাহলে ভোলা কি চর ?" না, ভোলা কোন চর নয়।

দেশের সর্ব বৃহৎ দ্বীপ ভোলা এবং শুধু দ্বীপ নয় ভোলা দেশের সুসজ্জিত একটি জেলা।

ভোলা দেশের একমাত্র জেলা যে জেলার কোনো আঞ্চলিক ভাষা নেই। ভোলার মানুষ সব ধরনের ভাষায় সহজেই কথা বলতে পারে। ভোলা'ই দেশের একমাত্র জেলা যে জেলার মানুষ সবচেয়ে অতিথি পরায়ণ।

দেশের সিংহ ভাগ ইলিশের চাহিদা মেটাতে ভোলা থেকেই সরবরাহ করা হয় রুপালি ইলিশ,জাতীয় গ্রিডের ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ভোলা থেকেই। গ্রিডে নতুন সরবরাহ ২২৫ মেগাওয়াট শক্তি সম্পন্ন বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে ভোলায়। আছে দেশের ১২ তম সরকারি পলিটেকনিক ভোলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট।দক্ষিণ বাঙলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীট ভোলা সরকারি কলেজ। দেশের প্রায় অর্ধ ভাগ গ্যাস সরবরাহ করা হয় ভোলা থেকে।

ভোলার বিখ্যাত মহিষের দুধের টক দধি বিখ্যাত। সুপারি এবং মিষ্টির জন্য বিখ্যাত ভোলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য "কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ"খেতাবটি এই জেলার দখলেই। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ার ভোলার দ্বীপে।

নদী পথে শান্তির বাহন বিলাশবহুল লঞ্চ গুলো ভোলার মানুষের গর্ব।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (জুন, ২০১৪)। "Population Census 2011 (Barisal & Chittagong)" (PDF)। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০১৪  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. জেলা, ভোলা। "এক নজরে ভোলা জেলা"ভোলা জেলা। ২৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১৬ 
  3. http://www.bhola.gov.bd
  4. "Election Commission Bangladesh - Home page"www.ecs.org.bd 
  5. "বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জানুয়ারি ১, ২০১৯" (PDF)ecs.gov.bdবাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি ২০১৯। ২ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৯ 
  6. "সংসদ নির্বাচন ২০১৮ ফলাফল"বিবিসি বাংলা। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  7. "একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল"প্রথম আলো। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  8. "জয় পেলেন যারা"দৈনিক আমাদের সময়। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  9. "আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক জয়"সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  10. "ইউনিয়ন পরিসংখ্যান সংক্রান্ত জাতীয় তথ্য" (PDF)web.archive.org। Wayback Machine। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৯ 

[১]

বহিঃসংযোগসম্পাদনা


  1. "প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-০৭