জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার

বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান
(জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার, চরফ্যাশন থেকে পুনর্নির্দেশিত)

জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার ( Jacob Watch Tower) বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ জেলা ভোলার চরফ্যাশন শহরে অবস্থিত একটি ওয়াচ টাওয়ার। মূলত পর্যটকদের জন্য নির্মিত এটি একটি দর্শনীয় স্থান। এ টাওয়ার থেকে চারপাশের ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।[১] এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার।

জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার
জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার

চরফ্যাশন শহরে অবস্থিত জ্যাকব টাওয়ার

তথ্য
অবস্থান চর ফ্যাশন, ভোলা, বাংলাদেশ
বর্তমান অবস্থা সম্পূর্ণ
নির্মিত ২০১৭
প্রবেশ ১৬ই জানুয়ারি ২০১৮
ব্যবহার পর্যবেক্ষণ টাওয়ার
উচ্চতা
অ্যান্টেনা/চুড়া ২২৫ ফুট
তলসংখ্যা ১৬
ব্যয় ২০ কোটি
প্রতিষ্ঠানসমূহ
স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন
ব্যবস্থাপনা চরফ্যাশন পৌরসভা

অবস্থানসম্পাদনা

ভোলা জেলা শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘেঁষে উপজেলা শহর চরফ্যাশনে ওয়াচ টাওয়ারটি অবস্থিত।[২]

নামকরণসম্পাদনা

নির্মাণের শুরুতে এর নাম জ্যাকব টাওয়ার ছিলো না। ১৮ মে, ২০১৭ তারিখে নির্মাণাধীন টাওয়ার পরিদর্শনে যান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। নির্মাণশৈলী আর নান্দনিক সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে তিনি এর নাম দেন জ্যাকব টাওয়ার।[৩]

নির্মাণ ও গঠনসম্পাদনা

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই টাওয়ার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পুরো কাজ শেষ হতে সময় লাগে প্রায় ৫ বছর। বাংলাদেশ সরকারের বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের একান্ত চেষ্টা ও শ্রমে এই টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। টাওয়ার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। এর উচ্চতা ২২৫ ফুট। ১ একর জমিতে টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে চরফ্যাশন পৌরসভা। টাওয়ারটির নকশা করেছেন স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন। মাটির ৭৫ ফুট নিচ থেকে ঢালাই-পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর সম্পূর্ণ ইস্পাত নির্মিত এই টাওয়ার ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করতে পারে। ভূমির উপর থেকে টাওয়ারের ওপরে অবস্থিত গম্ভুজ আকৃতির ওয়াচ পয়েন্ট পর্যন্ত চারদিকে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর রয়েছে ৫ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্ছ কাঁচ। এর চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি রয়েছে ক্যাপসুল লিফট। টাওয়ার চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতার বাইনোকুলার। এর সাহায্যে পর্যটকরা দূরবর্তী স্থান দেখতে পারবেন।[৪]

পর্যটনসম্পাদনা

জ্যাকব টাওয়ারের শীর্ষ থেকে আশেপাশে প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দেখা যায়। দূরের স্থান স্পষ্ট ভাবে দেখার জন্য বাইনোকুলারের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে থেকে দেখা যাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল চর কুকরি-মুকরি, তারুয়া সৈকত, স্বপ্নদ্বীপ মনপুরার চর পিয়াল, হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ আর বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল জলরাশি। এখানে প্রবেশের জন্য ১০০ টাকার মূল্যে টিকিট কিনতে হয়।[৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "জ্যাকব টাওয়ার ঘিরে এ যেন পর্যটন মেলা"কালের কন্ঠ। ২০১৮-০৮-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-০১ 
  2. "ভোলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বাধুনিক জ্যাকব টাওয়ারের উদ্বোধন আজ | banglatribune.com"বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-০১ 
  3. "পর্যটন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে চরফ্যাশন জ্যাকব টাওয়ার"Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-০১ 
  4. "খুলে দেওয়া হচ্ছে জ্যাকব টাওয়ার, প্রবেশ ফি ১০০০ টাকা"Amadershomoy Online। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-০১ 
  5. "পর্যটনে নতুন দিগন্ত জ্যাকব টাওয়ার: রাষ্ট্রপতি"Dhakatimes News। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-০১