বাংলাদেশে গণতন্ত্র

ব্রিটিশরা ১৭০০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়া শাসন করার সময় বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রথম চালু হয় যেখানে বাংলাদেশ উপমহাদেশের প্রথম ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোর মধ্যে ছিলো। তখনই ওয়েস্টমিনিস্টার ব্যবস্থার গণতন্ত্র চালু হয় যা সেই সময়ে ব্রিটেনে প্রচলিত ছিলো। যেহেতু বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে সেহেতু বাংলাদেশ তার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করে; যাইহোক, ১৯৭৫ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থান প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেয়।[১] এটি ১৯৯১ সালে একটি সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিলো।

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের চারটি তারা সংবিধানের চারটি মৌলিক নীতির প্রতিনিধিত্ব করে: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র।

ইতিহাস

সম্পাদনা

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান থেকে সার্বভৌমত্ব অর্জন করে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর একটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।[২] ভারত বিভাজনের পর বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ববঙ্গ) পাকিস্তানের একটি প্রদেশে পরিণত হয়। প্রারম্ভিক যুগের পাকিস্তানে মুসলিম লীগের আধিপত্যের রাজনীতি দেশে উদার গণতন্ত্র আনতে ব্যর্থ হয়েছিলো। ১৯৫৪ সালের পূর্ববঙ্গ আইনসভা নির্বাচনের পর আওয়ামী মুসলিম লীগ পূর্ব পাকিস্তানে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করে। ১৯৫৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ব পাকিস্তানি সরকারকে বরখাস্ত করে। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালের পাকিস্তানি অভ্যুত্থান; ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি জাতীয়তাবাদগণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের উত্থান ঘটে যা ১৯৭১ সালে দেশকে সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামে নিয়ে যায়। ফলে নিজ উৎসে গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের প্রথমদিককার নেতারা আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন যারা একটি পৃথক বাঙালি রাষ্ট্রের প্রচারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলো। আওয়ামী লীগ ১৯৭২ সালের আদেশের অস্থায়ী সংবিধানে বর্ণিত গণতন্ত্রের সংসদীয় ব্যবস্থার বাস্তবায়ন তত্ত্বাবধান করে। এর পরেই ১৯৭২ সালের সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক ৪ নভেম্বর ১৯৭২ তারিখে উত্তীর্ণ হয়।[৩]

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত তিনটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছে: আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলজাতীয় পার্টি। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রথম সরকার গঠন করে। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চে সদ্য প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। গণতন্ত্রের প্রাথমিক বছরগুলোর পর, বঙ্গবন্ধুর শাসন প্রাথমিকভাবে ১৯৭৫ সালে একটি একদলীয় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে সমাজতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হয় যা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রথম পতনের কারণ হয়। সরকার প্রাথমিকভাবে নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করে ও বেশিরভাগ সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাংলাদেশ দুই দশকের স্বৈরাচারী শাসনের অভিজ্ঞতা লাভ করে যার মধ্যে কয়েক দফা সামরিক শাসন অন্তর্ভুক্ত ছিলো। দেশটি ১৯৭৫ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের সম্মুখীন হয়; তবে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর পরে আবারো উন্নীত করা হলেও সামরিক বাহিনী দুর্নীতি ও অনুপযুক্ত শাসন ব্যবহার করে ক্ষমতা দখলের ন্যায্যতা প্রমাণ করে এবং পরবর্তীতে জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি আবদুস সাত্তার কর্তৃক অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী শাসনকে উৎখাত করার জন্য একটি অভ্যুত্থানের পর জেনারেল এইচএম এরশাদ পুনরায় সামরিক আইন ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ১৯৯০ সালে আইন অমান্য ও গণঅভ্যুত্থান, বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সূচনা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিজয়ী হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকার গঠন করেন। গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১ দ্বারা ৬ আগস্ট ১৯৯১ সালে সংসদে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়। কিন্তু মিরপুর (১৯৯৩) ও মাগুরা (১৯৯৪) সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, ঘটনাগুলো জাতীয় পর্যায়ে বিরোধীদের মধ্যে একটি সন্দেহ তৈরি করে যে ক্ষমতাসীন দলের সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে না। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দলের ১৪৭ জন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের ফলে দেশে রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ঘটে। বিএনপি সরকার দাবি উপেক্ষা করে ও কঠোরভাবে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, বেশিরভাগ বিরোধী দল বর্জন করায় নির্বাচনটি আন্তর্জাতিক মান ও বৈধতা হারায়। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের চারদিনের অধিবেশনে ত্রয়োদশ সংশোধনী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচনের সাংবিধানিক বিধান কার্যকর করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিল পাস করা হয় ও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৯৯৬ সালের ১২ জুন তারিখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে সরকার গঠন করে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি ও জামায়াতের আধিপত্যে চারদলীয় জোট আবার খালেদা জিয়ার অধীনে নতুন সরকার গঠন করে। কিন্তু তৎকালীন সরকার প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা বর্ধিত করায় বিরোধীদের মাঝে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরবর্তী প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিরপেক্ষতা বিতর্কিত হয়ে ওঠে। প্রধান উপদেষ্টার কথিত নিয়োগের ভূমিকার ফলে ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের হাতে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন যার ফলে ২০০৬-০৮ বাংলাদেশী রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়, এর ফলে সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমেদের একটি পরোক্ষ সেনা হস্তক্ষেপে একটি সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক ক্ষমতাকে অতিক্রম করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমেদের অধীনে একটি নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে। আহমেদ সরকারের বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের সূচনা, দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের উভয় দলের প্রধানকে গ্রেপ্তার করা, তাদের বিচারের জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিবাচন ও বাক স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিলো। দুই বছর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের সময় ও তফসিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে নবম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠন করে।

কিন্তু ২০০৮ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ অনুভব করতে শুরু করে। ২০১১ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। এরপর সরকার রাজনৈতিক নেতাদের দমন-পীড়ন ও নির্মূল শুরু করে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি।[৪] প্রায় সব প্রধান বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করে ও ফলশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। সেই নির্বাচন বিদেশী পর্যবেক্ষকদের দ্বারাও সমালোচিত হয়।[৫]

৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে, এই নির্বাচনে দলটি ভোট কারচুপি ও অন্যায়ের জন্যও অভিযুক্ত হয়।

সামরিক বাহিনী ও গণতন্ত্র

সম্পাদনা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সামরিক বাহিনীকে দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে ক্রমবর্ধমানভাবে জড়িত হতে দেয়। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃউত্থানের পর থেকে দুটি মেরুকরণ মতাদর্শের অধিকারী প্রধান রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) অস্তিত্ব দুটি আদর্শগতভাবে ভিন্ন পক্ষ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে বেসামরিক অস্থিরতা বৃদ্ধিতে নির্বাক ছিলো, এর ফলে একটি দেশের উচ্চ মেরুকরণ প্রতিষ্ঠা পায়। আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মধ্যকার লড়াই বেসামরিক গোষ্ঠীদের পক্ষপাতদুষ্ট করে তুলে।[৬] বেসামরিক মেরুকরণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোও দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে শত্রুতা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলো কেননা সেনাবাহিনী সমেত বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ক্রমাগত মেরুকরণ ও রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল। সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে বেসামরিক ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ভীত হয়ে পড়ে কারণ জনগণ প্রায়শই সেনাবাহিনীকে পক্ষপাতমূলকভাবে রাজনীতিতে ভূমিকা রাখে বলে মনে করে। ফলস্বরূপ বেসামরিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বেসামরিক ও সশস্ত্র বাহিনী উভয়ই কম আগ্রহী ছিল। এর ফলে যথেষ্ট পরিমাণে বেসামরিক অস্থিরতা দেখা দেয়, যেমনটা ২০০৭ সালে দেখা গিয়েছিল এবং যার কারণে সৈন্যরা ক্রমবর্ধমানভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে আকৃষ্ট হয়েছিলো।[৭]

২০০৯-পরবর্তী যুগে ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের গণতান্ত্রিক যুগে প্রতিষ্ঠিত আইনের অনুরূপ আইন প্রবর্তন করা হয় যা সশস্ত্র বাহিনীর উপর আরও বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে। একজন বেসামরিক নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আবারো রাষ্ট্রপ্রধান হোন। প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তারা কিছু রাজনৈতিক দলে রয়ে গেলেও দলগুলোর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর কোনো কর্তৃত্ব ছিলো না কেননা দলগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে পারিবারিক-মৈত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়ে উঠেছে। বেসামরিক সরকারগুলোও রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব হ্রাস করার প্রবণতা দেখায় ও সামরিক বাহিনীকে আরও বেসামরিক প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের অনুমতি দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেয়। তবে ২০০৯ সাল পরবর্তী রাজনৈতিক যুগে দেখা গেছে যে সামরিক বাহিনী ধারাবাহিকভাবে সরকারে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে ছিলো।[৭]

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ

সম্পাদনা

বাংলাদেশ স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে থাকলেও দেশটির প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি বেশিরভাগ সময় ধরে এর একটি গণতান্ত্রিক সত্তা বজায় ছিলো। জাতিসংঘ দ্বারা নির্ধারিত গণতন্ত্রের মূল নীতিমালার লঙ্ঘন দেখে গণতন্ত্রের অবস্থা বিচার করা যেতে পারে।

মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা

সম্পাদনা

বাংলাদেশ অতীতে তৃণমূল আন্দোলনের অগ্রদূত হিসেবে বিবেচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর রাজনৈতিক মতামত পরিবর্তন করতে হামলার সম্মুখীন পড়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ভোট কারচুপির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যা বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের জন্ম দেয়। অন্যদিকে পুলিশি বর্বরতা ও বিক্ষোভকারীদের উপর হামলার ঘটনা দেখা যায়, যাতে কমপক্ষে ৫০ জন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন চালু করে। যাইহোক, এই আইনের কিছু ধারা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সাব্যস্ত করেছে কেননা অনলাইনে সরকার বিরোধী মন্তব্য প্রকাশ করার জন্য বেসামরিক নাগরিকদের অভিযুক্ত করা হয়েছে এমন বেশ কয়েকটি মামলা প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের ১০০-এর মধ্যে প্রকৃত স্বাধীনতায় ৪৪ তম ছিলো এবং ১০০ টির মধ্যে ০ পেয়ে অত্যন্ত সীমিত প্রকৃত স্বাধীনতার প্রতিনিধিত্ব করে।[৮]

মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম

সম্পাদনা

বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে দেশের র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০১৬ সালে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪৪ তম ছিলো এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ১৪৬, ২০১৯ সালে ১৫০ এবং ২০১৯ সালে ১৫১ হওয়ার ফলে র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে যায়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায় যে মুক্ত সাংবাদিকতার প্রধান অন্তরায় হল বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি মালিক ও রাজনৈতিক প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত গণমাধ্যম, যেগুলো মতামতের বৈচিত্র্যকে বাধা দেয়। ২০১৬ সালে কিছু সাংবাদিক যুক্তি দিয়েছিলেন যে ১৯৯১ সালে বেসামরিক শাসনে দেশে ফিরে আসার পর থেকে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আর সীমাবদ্ধ নেই। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আরও প্রকাশ করেছে যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শারীরিক সহিংসতা ও ফৌজদারি মামলার হুমকি নিয়ে গণমাধ্যম প্রায়ই ভয় পায়।[৯] ২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অবস্থা নিয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করার পর সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে।[১০]

 
ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন

২০১৪ সালে বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোটার দমন, জাল ভোট ও পোলিং বুথ দখলের মতো অনিয়মের অভিযোগ ছিলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর মিত্ররা ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিলো কেননা নির্বাচন তত্ত্বাবধানে তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পূরণ হয়নি। এর ফলে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫৩-এ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে। নির্বাচনী সংস্থাগুলির মতে ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যোগ্য জনসংখ্যার মাত্র ১০% নিজেদের ভোট দিয়েছে।[১১]

তদুপরি ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কারণ তাদের বিশ্বাস ছিলো যে তারা ক্ষমতাসীন দলের প্রতি ক্রমবর্ধমান একতরফা সমর্থন দিচ্ছে। গণমাধ্যমের প্রচার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনগুলো ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ভোটার দমন ও বিরোধী কর্মীদের গ্রেপ্তারের জন্য আওয়ামী লীগের বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ক্ষমতাসীন দল ও এর মিত্ররা ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৮৮ আসনে জয়লাভ করে যা ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দ্বারা অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী নির্বাচনের মতো নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে, এর ফলে সাধারণত ৪৮% এরও কম বিজয়ী আসন নেমে যায়।[১২]

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা

সম্পাদনা

বাংলাদেশের সংবিধান প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগের অনুমতি দেয়। রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আদালতের মামলার উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে এবং সরকারের পক্ষে তগাকা রাজনৈতিকভাবে নিযুক্ত বিচারব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাংলাদেশে একটি বিতর্কিত আলোচনা। ২০১০ সালে ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পর্কিত একটি কমিটি দ্বারা পর্যালোচনা করা ১০,৪৮৯ মামলার মধ্যে ৬৭৮৮টি বাদ দেওয়া হয় কারণ আইন মন্ত্রনালয় মামলাগুলোকে 'রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে আখ্যা দিয়েছিলো।[১৩]

নিম্ন ও উচ্চ আদালতে দুর্নীতি ও ঘুষের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালে জমি দখল কেলেঙ্কারি এবং দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকা ক্ষমতাসীন দলের বেশ কয়েকজন সদস্যদের 'দায়বদ্ধ' করা হয়নি।[১৩]

জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা

সম্পাদনা

আত্মীয়স্বজন, সমর্থক ও বন্ধুদের অনুগ্রহ প্রদানের জন্য ক্ষমতার অবস্থান ব্যবহার করা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের অধিকাংশ নেতার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বড় ধরনের দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।[১৪]

মানবাধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা

সম্পাদনা

বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর রূপ নেয়। ২০০৯ সালে আনুমানিক ১৫৪টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ২০১০ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আরও ১২৭টি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিলো আর এর চেয়ে বড় সংখ্যা প্রত্যাশিত ছিলো।[১৫]

স্থানীয় আইন রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো দ্বারা বন্দী ও শাস্তিপ্রাপ্তদের উপর শারীরিক সহিংসতা বা মানসিক নির্যাতন নিষিদ্ধ করলেও এসব আইন নিয়মিতভাবে ভঙ্গ করা হয় ও কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী কার্যকরভাবে 'অদৃশ্য' হয়ে যায়। ২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদকে আর্থিক দুর্নীতি, কর ফাঁকি ও ঘুষের মতো অভিযোগের জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিলো। তখন বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা বন্দি অবস্থায় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন।[১৫]

২০১৯ সালের গোড়ার দিকে পুলিশের বর্বরতার মতো ঘটনাগুলো স্পষ্ট ছিলো কেননা পুলিশ ৫০,০০০ বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য বলপ্রয়োগ করে, যার ফলে একজন মারা যান ও ৫০ জনের বেশি আহত হোন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

গণতন্ত্রের গুণগত মান

সম্পাদনা

২০০৯ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ভোটারদের ৮০% অংশগ্রহণ করেছিলেন।[১৬] তবে বিপুল পরিমাণ প্রচেষ্টার প্রয়োজনে প্রবেশের উচ্চ বাধার কারণে নাগরিকদের ভোট দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক ধারণার পার্থক্য সীমিত হয়ে পড়ে, যার ফলে জনসংখ্যার একটি ছোট অংশই রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোর ক্ষমতা রাখে। বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্ত রাজনৈতিক শ্রেণীর একটি ক্ষুদ্র অংশ জনগণের সামনে কয়েকটি নতুন নীতির বিকল্প রেখে গেছে। নির্বাচনের পরে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের জন্য জনসাধারণের কাছে জবাবদিহিতার জন্য শুধুমাত্র কয়েকটি পদ্ধতি উপলব্ধ ছিলো। নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যগণ প্রায়ই তাদের ভোটারদের স্বার্থে সেবা করার পরিবর্তে নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নীতির 'চৌকিদার' হয়ে থাকেন। ভোটাররা প্রায়ই অনুভব করেন যে তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কখনও তাদের নির্বাচনী এলাকায় যাননি বা কদাচিৎ পরিদর্শন করেননি। একই ভোটাররা এটাও অনুভব করেছেন যে সংসদে ইতিবাচক সম্পৃক্ততার জন্য এবং সংসদে তাদের কর্ম নিরীক্ষণের জন্য সাংসদ ও তাদের ভোটারদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সদস্যদের অন্য একটি সমীক্ষায় নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে মাত্র ৩৫ জন বিশ্বাস করেছিলেন যে তাদের নির্বাচনী এলাকার কাছে দায়বদ্ধ করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যরাও প্রায়শই তাদের নির্বাচনী এলাকার সমস্ত সমস্যা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, একটি আইনের কারণে তারা যে এলাকা থেকে আসেনি সেই এলাকায় সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব করার অনুমতি দেয়। সংসদ সদস্যরাও তাদের নির্বাচনী এলাকার সমালোচনামূলক সমস্যা সম্পর্কে অবগত নাও হতে পারেন কারণ তারা তাদের এলাকায় না থেকে ঢাকায় থাকেন।[১৭]

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোও প্রায়শই এমনভাবে গঠন করা হয় যাতে দলীয় নেতৃত্ব বংশবাদী থাকে। ফলে রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানরা ভবিষ্যৎ দলের নেতা হবেন বলে আশা করা হয়ে থাকে। দলের নেতৃত্বে বিরল পরিবর্তনের ফলে দলের তরুণ সদস্যদের উচ্চতর পদ লাভের ক্ষমতা কমে যায়, এটি দলীয় নীতির বৈচিত্র্য ও পার্থক্যকেও কমিয়ে দেয়।[১৭]

সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ একটি দলের সদস্যদের একই দলের অন্যান্য দলীয় সদস্যদের দ্বারা আনা নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিতে বাধা দেয়। এটি সংসদ সদস্যদের তাদের নির্বাচনী এলাকার স্বার্থে ভোট দেওয়ার ক্ষমতাও হ্রাস করে, এর ফলে দলের স্বার্থে তারা ভোট দিতে বাধ্য হয়।[১৭]

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. "Bangladesh and its confusion on democracy"bdnews24.com (Opinion) (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৫-০৫-২৩। ২০১৯-০৯-২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০১ 
  2. "A short history of Bangladesh Independence Day"The Independent (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৩-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০১ 
  3. Ahamed, Emajuddin (২০০৪), May, R.J.; Selochan, Viberto, সম্পাদকগণ, "THE MILITARY AND DEMOCRACY IN BANGLADESH", The Military and Democracy in Asia and the Pacific, ANU Press, পৃষ্ঠা 101–118, আইএসবিএন 978-1-920942-01-4, জেস্টোর j.ctt2jbj1g.12 
  4. Riaz, Ali (২০২০-০৯-২১)। "The pathway of democratic backsliding in Bangladesh": 179–197। আইএসএসএন 1351-0347ডিওআই:10.1080/13510347.2020.1818069 
  5. Chowdhury, Syed Tashfin (৭ জানুয়ারি ২০১৪)। "Violent Bangladesh poll 'not credible'"Al Jazeera। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০২২ 
  6. Rashiduzzaman, M. (মার্চ ১৯৯৭)। "Political Unrest and Democracy in Bangladesh": 254–268। জেস্টোর 2645662ডিওআই:10.2307/2645662 
  7. Wolf, Siegfried O. (২০১৩)। "Civil-Military Relations and Democracy in Bangladesh" (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 1556-5068ডিওআই:10.2139/ssrn.2773091 
  8. "World Report 2020: Rights Trends in Bangladesh"Human Rights Watch (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০১-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০২ 
  9. "Caught Between Fear and Repression" (পিডিএফ)Amnesty International। ২০১৮-০১-১৫ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। 
  10. "Signing into eresources, The University of Sydney Library"login.ezproxy1.library.usyd.edu.au। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০১ 
  11. Barry, Ellen (২০১৪-০১-০৬)। "Bangladesh's Governing Party Wins Vote Amid Unrest"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০২ 
  12. Rabbee, Shafquat। "A deeper look at the Bangladesh election"Al Jazeera। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০২ 
  13. Islam, Syful। "Bangladesh: Where The Judiciary Can Be An Obstacle To Justice" (পিডিএফ)Global Integrity। ২০২২-০২-১৫ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। 
  14. Mahmood, Shakeel। "Public procurement and corruption in Bangladesh confronting the challenges and opportunities" 
  15. "State of Human Rights in Bangladesh – South Asia Journal" (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০২ 
  16. "Nearly 80% voter turnout"Dhaka Tribune। ২০১৮-১২-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০২ 
  17. Meisburger, Tim। "Strengthening Democracy in Bangladesh" (পিডিএফ)The Asia Foundation। ২০১৩-০১-২৭ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা।