সাংবাদিক

যিনি সংবাদ সংগ্রহ করে, লেখেন এবং সকল তথ্য একসাথে মিলিয়ে প্রকাশ করেন

সংবাদদাতা বা সাংবাদিক (বাংলা উচ্চারণ: [সাংবাদিক] (এই শব্দ সম্পর্কেশুনুন)) বিভিন্ন স্থান, ক্ষেত্র, বিষয় ইত্যাদিকে ঘিরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংবাদ সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহপূর্বক সংবাদ কিংবা প্রতিবেদন রচনা করে সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরণ করে থাকেন। পেশাজীবি হিসেবে একজন সাংবাদিকের কাজই হচ্ছে সাংবাদিকতায় সহায়তা করা। বিভিন্ন বয়সের পুরুষ কিংবা নারী সাংবাদিকতাকে অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন পেশারূপে বেছে নিচ্ছেন।

জারা স্টোন সাংবাদিক ও লেখক

তিনি প্রতিবেদক হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে থাকেন। যথাযথ গবেষণালব্ধ তথ্য, লেখনী এবং প্রতিবেদন রচনা করে তিনি গণমাধ্যমে উপস্থাপন করেন। মুদ্রিত মাধ্যমরূপে সংবাদপত্র, সাময়িকী; ইলেকট্রনিক মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশন, রেডিও, প্রামাণ্যচিত্র এবং ডিজিটাল মাধ্যমরূপে অনলাইন সাংবাদিকতায় নিজস্ব সংবাদ প্রচার কিংবা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গীতে নিরপেক্ষভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে থাকেন। একজন প্রতিবেদক তৃণমূল পর্যায় থেকে তথ্যের উৎসমূল অনুসন্ধান করেন, প্রয়োজনে সাক্ষাৎকার পর্ব গ্রহণ করেন, গবেষণায় সংশ্লিষ্ট থাকেন এবং অবশেষে প্রতিবেদন প্রণয়নে অগ্রসর হন। তথ্যের একীকরণ সাংবাদিকের কাজেরই অংশ, যা কখনো কখনো রিপোর্টিং বা প্রতিবেদন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। বৈপরীত্য চিত্র হিসেবে চাকরিরত অবস্থায় প্রবন্ধ রচনা এরই অংশবিশেষ।

সামাজিক মর্যাদাসম্পাদনা

ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার হেনরি ডব্লিউ কলেজ অব জার্নালিজম এন্ড ম্যাস কমিউনিকেশন ১৯৯৭ সাল থেকে সাংবাদিকতা এবং গণযোগাযোগ বিষয়ের স্নাতকধারীদের উপর বার্ষিক জরীপ কার্য পরিচালনা করে আসছে। ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (পুয়ের্তোরিকোসহ) এ বিষয়ের স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন চাকরি হিসেবে ত্রিশ হাজার মার্কিন ডলারের বেতনে সংবাদপত্রশিল্পে প্রবেশ করছে; যা ছিল ২০০৬, ২০০৭ এবং ২০০৮ সালের অনুরূপ।[১]

প্রকারভেদসম্পাদনা

সংবাদকর্মী বা সাংবাদিকগণকে কার্যক্ষেত্রে সংবাদপত্র প্রতিনিধি, টেলিভিশন সংবাদদাতা বা বেতার সাংবাদিক ইত্যাদি বিভিন্ন পর্যায়ে বিভাজন ঘটানো হয়েছে। এছাড়াও, অবস্থানের ভিত্তিতেও নামকরণে বিভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। তন্মধ্যে, স্টাফ রিপোর্টার, প্রতিনিধি, সংবাদদাতা, ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়। তারা প্রত্যেকেই স্ব-স্ব মাধ্যমের জন্য সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে ঘটনাবহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রেরণ করে থাকেন।

নাগরিক সাংবাদিকসম্পাদনা

নাগরিক সাংবাদিক হলো সাধারণ নাগরিকদের উপর ভিত্তি করে "সংবাদ এবং তথ্য সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি, বিশ্লেষণ এবং প্রচার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

চারণ সাংবাদিকসম্পাদনা

মফস্বলে অনেক সাংবাদিক আছেন যারা সত্যি তথ্যটি তুলে ধরার জন্য ঘটনা স্থলে যান এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য মাঠ-ঘাট, গ্রাম্য, জনপদ চষে বেড়ান। সেই সব সাংবাদিকরা চারণ সাংবাদিক [২] নামে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তন্মধ্যে, সত্তরের দশকে মকছুদ আহমেদ [৩], আশির দশকে মোনাজাতউদ্দিন [৪], নব্বই দশকের শেষ দিকে চারণ সাংবাদিক মনোনেশ দাস [৫] উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Lee B. Becker et al. "2009 Annual Survey of Journalism & Mass Communication Graduates ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৩ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে" (August 4, 2010).
  2. "জনপ্রিয়তায় চারণ সাংবাদিক"নয়াদেশ। ২০২১-০১-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-১৬ 
  3. "বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা বলা আমার জীবনের চিরস্মরণীয় অধ্যায় : মকছুদ আহমেদ"বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। ২০২২-০৪-০৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-১৮ 
  4. "মোনাজাতউদ্দিন: সংবাদের পেছনে ছুটে বেড়ানো এক মহাপ্রাণ" দ্য ডেইলি স্টার। ২০২১-১২-২৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-১৮ 
  5. "চারণ সাংবাদিক মনোনেশ দাস"উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ। ২০২২-০২-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-১৮ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

আরও পড়ুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা