বাংলাদেশের রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতি ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দেশটির জন্মের ইতিহাস, বিদ্যমান সরকার ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং মানুষের রাজনীতিমনস্কতা কেন্দ্র করে আবর্তিত। ১৯৭১ এ অস্থায়ী সরকার গঠন এবং অস্থায়ী সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কমপক্ষে পাঁচবার পরিবর্তিত হয়েছ। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতির। এই পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে সরকারের প্রধান ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। বহুদলীয় গণতন্ত্র পদ্ধতিতে এখানে জনগণের সরাসরি ভোটে জাতীয় সংসদের সদস্যরা নির্বাচিত হন। নির্বাহী (executive) ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত। আইন প্রণয়ন করা হয় জাতীয় সংসদেবাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালে প্রণীত হয়, এবং এখন পর্যন্ত এতে ১৭ টি সংশোধনী যোগ করা হয়েছে।[১][২] বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে সেনা শাসন এবং সেনা প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করেছে। ইসলামী শক্তি এবং জঙ্গীবাদী শক্তীর উত্থানো কখনো কখনো বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রভাবান্বিত করেছে। রাজনীতির লক্ষ্য গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং জনকল্যাণ। সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার রাজনীতিতে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত রাজনীতি সচেতন। তারা সকল রূপ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশে বহুসংখ্যক রাজনৈতিক দল রয়েছে যার মধ্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগবিএনপি প্রধান দুটি রাজনৈতিক শক্তি। বিএনপি দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সহ বেশ কিছু ইসলামপন্থীজাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে মৈত্রী সম্পর্ক স্থাপন করেছে, অপরদিকে আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যগতভাবে বামপন্থীধর্মনিরপেক্ষ দলসমূহের সঙ্গে সমান্তরালভাবে সংযুক্ত রয়েছে। এরপর, তৃতীয় শক্তিটি হলো জাতীয় পার্টি যা এরশাদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ বর্তমানে তিক্ত আকার ধারণ করেছে এবং প্রতিনিয়ত আন্দোলন, সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ডের জন্ম দিয়ে চলেছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকে ছাত্র রাজনীতিও বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী উত্তরাধিকার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। প্রায় সকল দলেরই অত্যন্ত সক্রিয় নিজস্ব ছাত্র সংগঠনের শাখা রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদেরকেও সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা দুর্নীতিপরায়ণ হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ বেশ হতাশ।

বাংলাদেশের রাজনীতি
আইনসভা
নামজাতীয় সংসদ
ধরনএককক্ষবিশিষ্ট

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রসম্পাদনা

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হবার পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পরিবারতন্ত্র।[৩] এদেরকে সাধারণত এমন পরিবার হিসাবে চিহ্নিত করা হয় যারা একটি দল, জাতীয় সরকার বা জাতীয় রাজনৈতিক বিশিষ্টতার অন্যান্য পদে তাদের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। এই জাতীয় রাজবংশের সদস্যরা সাধারণত নিজেদের কঠোরভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেন না বরং তাদের ব্যবসা ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত ক্রিয়াকলাপে অংশ নিতে দেখা গেছে। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের ধারণা রাজনীতিবিদদের উত্তরসূরীদের কঠোর পরিশ্রম করতে নিরুৎসাহিত করে এবং পরিবারতন্ত্রকে উৎসাহিত করতে পারে। রাজপরিবারের রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা রয়েছে, সেটি হলো তাদের পূর্বসূরির জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক সংযোগ নেই এমন ব্যক্তিদের থেকে ভোটে জেতার উচ্চ সম্ভাবনা। রাজবংশীয় রাজনীতিবিদদের সাধারণত শিক্ষাগত দক্ষতাও কম থাকে, কারণ তাদের অবস্থান (সামাজিক, রাজনৈতিক) আমলাতান্ত্রিক বা একাডেমিক যোগ্যতার চেয়ে রাজবংশীয় সংযোগগুলোর উপর বেশী নির্ভর করে। বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা, প্রায় একচেটিয়াভাবে উচ্চবর্গ থেকে আসা, তাদের নিজস্ব অর্পিত অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষার জন্য স্বাভাবিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট, যা সুদের সমস্যার দ্বন্দ্ব উপস্থাপন করে।

বাংলাদেশী রাজনীতি দুইটি পরিবারের মধ্যে তিক্ত দ্বন্দ্ব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। জিয়াউর রহমানের বিধবা স্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৮১ সাল থেকে ৩৭ বছর যাবত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে আছেন। আর শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। তারা "ব্যাটলিং বেগমস" নামে পরিচিত;[৪] এই দুই মহিলা তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দলীয় পরিচয় উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশ শাসন করে আসছেন।[৫][৬]

পরিবারতন্ত্র বাংলাদেশী সমাজের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উপর যে প্রভাব পড়েছে তা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। পরিবারতন্ত্রের প্রতি জনগণের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং রাজবংশীয় ক্রিয়াকলাপ এবং দুর্নীতির মধ্যে সংযোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এমন কোনও আইন নেই যা বাংলাদেশে রাজনৈতিক রাজবংশের উপস্থিতি সীমাবদ্ধ করবে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Nasim swipes at Khaleda"bdnews24.com। জুলাই ১৮, ২০১১। ১৯ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১১ 
  2. Constitutional amendments, বাংলাপিডিয়া হতে।
  3. "Pamphlet" (PDF)www.cmi.no 
  4. Alam, Julhas (৫ জানুয়ারি ২০১৪)। "Fear for Bangladesh as 'Begums' fight forfuture power"Daily Express। London। 
  5. "Women and property rights: Who owns Bangladesh?"The Economist (Blog)। ২১ আগস্ট ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  6. Torild, Skard (২০১৪)। Women of power: Half a century of female presidents and prime ministers worldwide। Policy Press। পৃষ্ঠা 135–। আইএসবিএন 978-1-4473-1578-0 

আরও দেখুনসম্পাদনা