বাংলাদেশের জনমিতি

বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) উপাত্ত অনুযায়ী ১৬ কোটি ৫৭ লাখ[৩]। এটি বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ। এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১১১৬ জন, যা সারা পৃথিবীতে সর্বোচ্চ (কিছু দ্বীপ ও নগর রাষ্ট্র বাদে)। এখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৩%[২] । বাংলাদেশে নারী ও পুরুষের অনুপাত ১০২:১০০[২]। দেশের অধিকাংশ মানুষ শিশু ও তরুণ বয়সী (০–২৫ বছর বয়সীরা মোট জনসংখ্যার ৬০%, ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা মাত্র ৬%)। এখানকার পুরুষ ও মহিলাদের গড় আয়ু ৭২.৩ বছর।[৪] জাতিগতভাবে বাংলাদেশের ৯৮% মানুষ বাঙালি। বাকি ২% মানুষ বিহারী বংশদ্ভুত, অথবা বিভিন্ন উপজাতির সদস্য। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ১৩টি উপজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে চাকমা উপজাতি প্রধান। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরের উপজাতি গুলোর মধ্যে গারোসাঁওতাল উল্লেখযোগ্য। দেশের ৯৮% মানুষের মাতৃভাষা বাংলা, যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা। সরকারী কাজ কর্মে ইংরেজিও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে ১৯৮৭ সাল হতে কেবল বৈদেশিক যোগাযোগ ছাড়া অন্যান্য সরকারি কর্মকান্ডে বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মবিশ্বাস ইসলাম (৯০.৪%)।[৫] এরপরেই রয়েছে হিন্দু ধর্ম(৮.৫%), বৌদ্ধ (০.৬%), খ্রীস্টান (০.৩%) এবং অন্যান্য (০.১%)।[৬]।'মোট জনগোষ্ঠীর ২১.৪% শহরে বাস করে, বাকি ৭৮.৬% গ্রামাঞ্চলের অধিবাসী। সরকারী ও বেসরকারী উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফলে দারিদ্র বিমোচন ও জনসাস্থ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক দৈনিক মাত্র ১ মার্কিন ডলার আয় করে (২০০৫)।[৭] আর্সেনিক জনিত বিষক্রিয়া বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা। [৮] এছাড়া বাংলাদেশে ম্যালেরিয়াডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। 2017 এর পরে এরোগ আর দেখা য়ায় না বলেই চলে। ২০০৫ সালের হিসাবে বাংলাদেশে স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৪১%।[৯]ইউনিসেফের ২০০৪ সালের হিসাবে পুরুষদের মধ্যে স্বাক্ষরতার হার ৫০% এবং নারীদের মধ্যে ৩১%।[১০] তবে সরকারের নেয়া নানা কর্মসূচীর ফলে দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে। এর মধ্যে ১৯৯৩ সালে শুরু হওয়া শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী সবচেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছে।[১১] এছাড়া মেয়েদের শিক্ষার জন্য প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে বৃত্তি প্রদান কর্মসূচী নারীশিক্ষাকে এগিয়ে নিচ্ছে।[১২]

বাংলাদেশের জনমিতি
Bangladesch Bevölkerungsdichte 2011.svg
বাংলাদেশের জেলা ভিত্তিক জনসংখ্যার ঘনত্ব
জনসংখ্যা: ১৬৫,৫৭০,০০০ (২০১৯ প্রাক্কলন[১]) (৮ম)
বৃদ্ধিহার: ১.৩৩% (২০১৮ প্রাক্কলন[২]) (১০৫তম)
জন্মহার: ১৮.৩ জন্ম/১,০০০ জনে (২০১৮ প্রাক্কলন)
মৃত্যুহার: ৫.০ মৃত্যু/১,০০০ জনে (২০১৮ প্রাক্কলন)
গড় আয়ু: ৭২.৩ বছর (২০১৮ প্রাক্কলন)
–পুরুষ: ৭০.৮ বছর (২০১৮ প্রাক্কলন)
–মহিলা: ৭৩.৮ বছর (২০১৮ প্রাক্কলন)
গর্ভহার: ২.০৫ শিশুজন্ম/নারী (২০১৮ প্রাক্কলন) (৯৮তম)
শিশুমৃত্যু হার: ২২ মৃত্যু/১,০০০ জন্মে (২০১৮ প্রাক্কলন)
বয়স গঠন:
০-১৪ বছর: ২৭.২৯% (পুরুষ ২২,১৩৫,৩৪৯/মহিলা ২১,৩৭৩,৪৭০) (২০১৮ প্রাক্কলন)
১৫-৬৪ বছর: ৬৬.৩% (পুরুষ ৫১,৫২২,১২৯/মহিলা ৫৪,১৮৪,৯৬৩) (২০১৮ প্রাক্কলন)
৬৫-তদুর্ধ্ব: ৬.৪২% (পুরুষ ৪,৮৪৪,৬১২/মহিলা ৫,৩৯২,৪৭৮) (২০১৮ প্রাক্কলন)
লিঙ্গানুপাত:
জন্মকালে: ১.০৪ পুরুষ/মহিলা (২০১৮ প্রাক্কলন)
অনুর্ধ্ব ১৫: ১.০৪ পুরুষ/মহিলা (২০১৮ প্রাক্কলন)
১৫-৬৪ বছর: ০.৯৭ পুরুষ/মহিলা (২০১৮ প্রাক্কলন)
৬৫-তদুর্ধ্ব: ০.৯০ পুরুষ/মহিলা (২০১৮ প্রাক্কলন)
জাতীয়তা:
প্রধান জাতিগোষ্ঠী: ৯৮% বাঙালি, ২% অন্যান্য
ভাষা:
সরকারি: বাংলা

জনসংখ্যাসম্পাদনা

বাংলাদেশ বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম জনবহুল দেশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৯ সালের উপাত্ত অনুযায়ী যা ১৬ কোটি ৫৭ লাখ[৩]

আদমশুমারিসম্পাদনা

 
বাংলাদেশের জনসংখ্যার পিরামিড।

স্বাক্ষরতা[৩]সম্পাদনা

জনসংখ্যার ধর্মভিত্তিক বিভাজনসম্পাদনা


তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. http://bbs.portal.gov.bd/sites/default/files/files/bbs.portal.gov.bd/page/6a40a397_6ef7_48a3_80b3_78b8d1223e3f/SVRS_Report_2018_29-05-2019%28Final%29.pdf
  2. Bangladesh Sample Vital Statistics 2018 (PDF)। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। ২০১৯। পৃষ্ঠা ৩১। আইএসবিএন 978-984-34-6845-1 
  3. Report On Bangladesh Sample Vital Statistics 2018 (PDF)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। ২০১৯। পৃষ্ঠা ২৯। আইএসবিএন 978-984-34-6845-1 
  4. "ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক"। The World Factbook। ১৩ জানুয়ারী ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারী ২০২০ 
  5. http://www.pewforum.org/2011/01/27/table-muslim-population-by-country/
  6. http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2012-09-22/news/291536
  7. "Congressional Budget Justification - FY 2005"USAID। ২৮ জুলাই ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০০৬ 
  8. Nickson, R (১৯৯৮)। "Arsenic poisoning of Bangladesh groundwater"। Nature (6700): 338।  অজানা প্যারামিটার |coauthors= উপেক্ষা করা হয়েছে (|author= ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে) (সাহায্য)
  9. "2005 Human Development Report"UNDP। ৩১ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০০৬ 
  10. UNICEF: Bangladesh Statistics
  11. Ahmed, A (২০০২)। The food for education program in Bangladesh: An evaluation of its impact on educational attainment and food security, FCND DP No. 138। International Food Policy Research Institute।  অজানা প্যারামিটার |coauthors= উপেক্ষা করা হয়েছে (|author= ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে) (সাহায্য)
  12. Khandker, S (২০০৩)। Subsidy to Promote Girls’ Secondary Education: the Female Stipend Program in Bangladesh। World Bank, Washington, DC।  অজানা প্যারামিটার |coauthors= উপেক্ষা করা হয়েছে (|author= ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে) (সাহায্য)

আরও দেখুনসম্পাদনা