প্রধান মেনু খুলুন

মাটির ময়না

তারেক মাসুদ পরিচালিত ২০০২-এর চলচ্চিত্র

মাটির ময়না ২০০২ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বাংলাদেশী ফিচার চলচ্চিত্র। এটি ২০০২ সালের বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনা করেছেন তারেক মাসুদ। প্রযোজক করেছেন ক্যাথরিন মাসুদ। অভিনয়ে ছিলেন, নুরুল ইসলাম বাবলু, রাসেল ফরাজী, রোকেয়া প্রাচী, শোয়েব ইসলাম, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লামিসা রিমঝিম প্রমুখ।

মাটির ময়না
চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পোস্টার
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পোস্টার
পরিচালকতারেক মাসুদ
প্রযোজকক্যাথরিন মাসুদ
রচয়িতা
  • তারেক মাসুদ
  • ক্যাথরিন মাসুদ
চিত্রনাট্যকার
  • তারেক মাসুদ
  • ক্যাথরিন মাসুদ
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারমৌসুমী ভৌমিক
চিত্রগ্রাহকসুধীর পাল্‌সানে
সম্পাদকক্যাথরিন মাসুদ
প্রযোজনা
কোম্পানি
পরিবেশক
মুক্তি২০০২
দৈর্ঘ্য৯৮ মিনিট
ভাষাবাংলা

চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানের উদ্বেগের পটভূমিতে তারেক মাসুদের ছেলেবেলার মাদ্রাসা জীবনের অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে। পুরো চলচ্চিত্র জুড়ে ঐতিহাসিক ঘটনার উদ্ধৃতি থাকলেও সেগুলো একটি কিশোরের মানবিক অভিজ্ঞতায় প্রকাশিত হয়েছে। মাদ্রাসায় তার শিক্ষক, সহপাঠীদের আচরণ আর পরিবারের সদস্যদের সাথে তার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রটির কাহিনী এগিয়ে গিয়েছে।[১]

প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে বহিষ্কারাদেশ বাতিল হবার পর এপ্রিল ১৬, ২০০৫ সালে লেজার ভিশন কর্তৃক চলচ্চিত্রটির ভিসিডি এবং ডিভিডি সংস্করণ মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে "শ্রেষ্ঠ বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র" বিভাগে একাডেমি পুরস্কার প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বাংলাদেশের মনোনয়ন লাভ করে।

কাহিনিসংক্ষেপসম্পাদনা

ষাটের দশকের উত্তাল সময়ের প্রেক্ষাপট হতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগের সময়ের একটি পরিবার কিভাবে যুদ্ধ ও ধর্মের কারণে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় তার গল্প নিয়ে তৈরি এ চলচ্চিত্র। পরিচালকের নিজের ছোটবেলার কাহিনীর জীবনের উপর ভিত্তি করে এ ছবির কাহিনী গড়ে উঠেছে। অত্যন্ত ধার্মিক বাবা কাজী সাহেব তার ছোট্ট ছেলে আনুকে পড়াশোনার জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেন। দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি আনুর মাদ্রাসাতেও চরম ও মধ্যপন্থী মতবাদের বিকাশ ঘটতে থাকে। বিভক্তির এই একই চিত্র দেখা যায় গোঁড়া ধার্মিক কাজী ও তার স্বাধীনচেতা স্ত্রী আয়েশার মধ্যে । ধর্মীয় উদারতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র এবং ইসলামের দুর্বোধ্যতা এ সব কিছু মিলিয়ে মাটির ময়না জাগতিক দ্বন্দ্বের একটি দৃশ্যমান প্রতিকৃতি।

অভিনয়েসম্পাদনা

তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদের মতে, চলচ্চিত্রটির প্রায় পুরোটুকু স্থানীয় অ-পেশাদার পরিবেশে ও স্থানীয় শব্দগ্রহণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফিতে বাংলাদেশের আকর্ষণীয় ঋতু বৈচিত্র্য ও উতসবের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

  • নুরুল ইসলাম বাবলু – আনু
  • রাসেল ফরাজী – মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন, আনুর বন্ধু
  • রোকেয়া প্রাচী – আয়েশা, আনুর মা
  • শোয়েব ইসলাম – মিলন, আনুর চাচা
  • জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় – কাজী, আনুর বাবা
  • লামিসা রিমঝিম – আসমা, আনুর ছোট বোন
  • মঈন আহমেদ – ইবরাহিম, মাদ্রাসার শিক্ষক
  • মোহাম্মদ মোসলেমউদ্দিন – মাদ্রাসার প্রধানশিক্ষক
  • শাহ্ আলম দেওয়ান – করিম মাঝি
  • আবদুল করিম – হালিম মিয়া

কলা কুশলীসম্পাদনা

  • পরিচালনা - তারেক মাসুদ
  • প্রযোজনা - ক্যাথরিন মাসুদ
  • চিত্রনাট্য - তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ
  • প্রধান সিনেমাটোগ্রাফী - সুধীর পালসনে
  • অতিরিক্ত সিনেমাটোগ্রাফী - মাকসুদুল বারী, রঞ্জন পালিত
  • সম্পাদনা - ক্যাথরিন মাসুদ
  • শব্দ গ্রহণ - ইন্দ্রজিত নিয়োগী
  • শিল্প নির্দেশনা - কাজী রকিব, সিলভেইন নাহমিয়াস, তরুণ ঘোষ
  • সঙ্গীত পরিচালক - মৌসুমী ভৌমিক
  • শব্দ সংযোগ - রতন পাল

সম্মাননা ও পুরস্কারসম্পাদনা

 
চিন্তামগ্ন আনু
  • ফিপরেস্কি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস্ এওয়ার্ড, কান চলচ্চিত্র উৎসব, ২০০২;
  • সেরা চলচ্চিত্র ও ২ টি অন্য পুরস্কার, কারাফিল্ম উৎসব, পাকিস্তান ২০০৩;
  • সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা পরিচালক, চ্যানেল আই চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০০৩;
  • সেরা চলচ্চিত্র ও ৫ টি অন্যান্য পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি, ২০০৩;
  • বিদেশী ভাষার অস্কার পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশের প্রথম মনোনীত চলচ্চিত্র;
  • ফরাসি সরকারের সাউথ ফান্ড কর্তৃক স্ক্রিপ্ট (চিত্রনাট্য) এওয়ার্ড।

বিতর্ক ও সেন্সরশিপসম্পাদনা

মাটির ময়না বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে কান চলচ্চিত্র উৎসবএর জন্য নির্বাচিত হয় এবং ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট বিভাগের সূচনা চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সময় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড মনে করে ছবিটি বাংলাদেশে প্রদর্শনের জন্য অতিরিক্ত স্পর্শকাতর। তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে মামলা করেন এবং তাদের সপক্ষে সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়। ফলে, ২০০২ সালের শেষের দিকে চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশে প্রদর্শিত হবার অনুমতি লাভ করে।

ডিভিডিসম্পাদনা

মাটির ময়নার ডিভিডি লেজার ভিশন থেকে প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল। এতে দু’ঘণ্টার অতিরিক্ত তথ্যচিত্র যোগ হয়েছে যাতে দৃশ্যধারণ, সাক্ষাৎকার ও দর্শকদের মতামত স্থান পেয়েছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম ইণ্টারএ্যাকটেড ডিভিডি হিসেবে বিবেচিত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "The Story of 'Matir Moina'"ctmasud.site.aplus.net। ctmasud। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ২৬, ২০১৫ 

আরও পড়ুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা