মুহাম্মাদ মুরসি

মিশরের ৫ম রাষ্ট্রপতি

মুহাম্মাদ মুরসি ইসা আল-আইয়াত (আরবি: محمد مرسى عيسى العياط‎‎, মিশরীয় আরবি: mæˈħammæd ˈmʊɾsi ˈʕiːsæ l.ʕɑjˈjɑːtˤ, জন্ম: ৮ আগস্ট ১৯৫১ মৃত্যু: ১৭ জুন, ২০১৯) ছিলেন একজন মিশরীয় রাজনীতিবিদ, প্রকৌশলী ও পঞ্চম রাষ্ট্রপতি[১]


মুহাম্মাদ মুরসি
محمد مرسي العياط
Mohamed Morsi-05-2013.jpg
৫ম মিশরের রাষ্ট্রপতি
কাজের মেয়াদ
৩০ জুন ২০১২ – ৩ জুলাই ২০১৩
প্রধানমন্ত্রীকামাল গানজুরি
হেশাম কানদিল
উপরাষ্ট্রপতিমাহমুদ মেক্কি
পূর্বসূরীমুহাম্মেদ হুসেইন তানতায়ি (অন্তর্বর্তীকালীন)
উত্তরসূরীআদলি মনসুর
(অন্তর্বর্তীকালীন)
জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলন এর মহাসচিব
কাজের মেয়াদ
৩০ জুন ২০১২ – ৩০ আগস্ট ২০১৩
পূর্বসূরীমুহাম্মেদ হুসেইন তানতায়ি
উত্তরসূরীমাহমুদ আহমেদিনেজাদ
ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান
কাজের মেয়াদ
৩০ এপ্রিল ২০১১ – ২৪ জুন ২০১২
পূর্বসূরীপদ স্থাপিত
উত্তরসূরীসাদ এল-কাতাতনি
পিপলস অ্যাসেম্বলির সদস্য
কাজের মেয়াদ
১ ডিসেম্বর ২০০০ – ১২ ডিসেম্বর ২০০৫
পূর্বসূরীনোমান গুমা
উত্তরসূরীমাহমুদ আবাজা
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মমুহাম্মাদ মুরসি ইসা আল-আইয়াত
(১৯৫১-০৮-০৮)৮ আগস্ট ১৯৫১
এল আদওয়াহ, শারকিয়া গভর্নরেইট, মিশর রাজ্য
মৃত্যু১৭ জুন ২০১৯(2019-06-17) (বয়স ৬৭)
কায়রো, মিশর
রাজনৈতিক দলফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস
অন্যান্য
রাজনৈতিক দল
মুসলিম ব্রাদারহুড
দাম্পত্য সঙ্গীনাজলা মাহমুদ (বি. ১৯৭৯)
সন্তান
প্রাক্তন শিক্ষার্থীকায়রো বিশ্ববিদ্যালয়
সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
স্বাক্ষর

মুরসি ২০০০ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত মিশরের সংসদে বহাল ছিলেন। এ সময়ে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ২০১১ সালে মুসলিম ব্রাদারহুড ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (এফজেপি) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করলে মুরসী তার চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। মিশরের দুই পর্বের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, যেটি ২০১২ সালের মেজুনে অনুষ্ঠিত হয়, সে নির্বাচনে মুরসী এফজেপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন এবং উভয় পর্বেই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

২৪ জুন, ২০১২ তারিখে মিশরের নির্বাচন কমিশন মুহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারাকের সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিকের বিপরীতে দ্বিতীয় পর্বের ভোটে, যেটি প্রথম পর্বের শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, জয়ী ঘোষণা করে। কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী মুরসী ৫১.৭ শতাংশ এবং আহমেদ শফিক ৪৮.৩ শতাংশ ভোট লাভ করেন।[২]

নির্বাচন কমিশন এই ফলাফল ঘোষণা করার পর মুহুর্তেই মুসলিম ব্রাদারহুড ও এফজেপি আনুষ্ঠানিক ভাবে মুহাম্মাদ মুরসিকে তাদের সকল সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেয় এবং তাকে ‘মিশরের সর্বস্তরের মানুষের রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[৩]

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষাসম্পাদনা

মুহাম্মাদ মুরসি মিশরীয় রাজতন্ত্রের শেষ বছরগুলিতে ৮ আগস্ট ১৯৫১ সালে কায়রোর উত্তরে এল আদওয়াহ গ্রামে উত্তর মিশরের শারক্বিয়া গভর্নরেটে জন্মগ্রহণ করেন। [৪]তার বাবা কৃষক এবং মা ছিলেন একজন গৃহিণী। [৪]তিনি পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিলেন এবং সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে একটি গাধার পিঠে চড়ে তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার কথা তার স্মরণে আছে। [৫]১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের জন্য তিনি কায়রোতে আগমন করেন এবং ১৯৭৫ সালে উচ্চ সম্মানের সাথে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি অর্জন করেন। তিনি রাসায়নিক যুদ্ধ ইউনিটে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত মিশরীয় সেনাবাহিনীতে তার সামরিক সেবা সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় অধ্যয়ন শুরু করেন এবং ১৯৭৮ সালে ধাতব প্রকৌশল বিভাগে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। [৬] [৭]স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর, মুরসি একটি সরকারি বৃত্তি লাভ করেন যা তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করার সুযোগ উন্মোচন করে দেয়। তিনি ১৯৮২ সালে ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের উপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।[৮] [৯]

প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রকৌশল জীবনসম্পাদনা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকালীন মুরসি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত [১০] ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, নর্থরিজে একজন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

মুরসি ১৯৮৫ সালে সিএসইউএন-এ তার চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে মিশরে ফিরে আসেন এবং জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ২০১০ সাল অবধি জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক পদে বহাল ছিলেন। [১১]

রাজনৈতিক জীবনসম্পাদনা

২০০০ সালে মুহাম্মাদ মুরসি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাংগঠনিক ভাবে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য হলেও, নির্বাচনে তাকে ব্রাদারহুডের অন্যান্য নেতাদের মত আইনত স্বতন্ত্র ভাবে লড়তে হয় কারণ হোসনি মুবারাকের শাসনামলে মুসলিম ব্রাদারহুড মিশরের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ছিল। মুরসি ব্রাদারহুডের গুরুত্বপূর্ণ গাইড্যান্স অফিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন, যার পরিণতিতে ২০১১ সালে ব্রাদারহুডের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি গঠনের পর তিনিই দলটির চেয়ারম্যান পদ লাভের জন্য সবচেয়ে সম্ভাব্য ছিলেন।

মিশরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০১২সম্পাদনা

মূলত দলীয় উপনেতা ও রাজনৈতিক প্রধান খাইরাত এল-শাতেরই ছিলেন মুসলিম ব্রাদারহুডের মূল রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী। কিন্তু একটি আদালত প্রচারণা শুরুর আগে শাতের সহ একাধিক প্রার্থীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করলে ব্রাদারহুড বা এফজেপি প্রার্থী হিসেবে মুহাম্মাদ মুরসির নাম উঠে আসে, যিনি মূলত সংগঠনটির দ্বিতীয় মনোনয়ন ছিলেন। পরে এফজেপি মুরসিকে তাদের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করে।[১২]

ব্রাদারহুডের এক দলত্যাগী জনপ্রিয় নেতার অংশগ্রহণ সত্ত্বেও মুহাম্মাদ মুরসি ২৩ মে, ২০১২ এর নির্বাচনে ২৫.৫ শতাংশ ভোট পান, যা ছিল সর্বোচ্চ। প্রথম পর্বের পর মুহাম্মাদ মুরসি এবং আহমেদ শফিক দ্বিতীয় পর্বের চূড়ান্ত ভোটাভুটির জন্য মনোনীত হন।[১৩] দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনের আগে মুহাম্মাদ মুরসি মিশরের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহমেদ শফিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহবান জানান। মুরসির রাজনৈতিক দল আহমেদ শফিককে, যিনি সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান যিনি হোসনি মুবারাকের অধীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ম পালন করেন, ক্ষমতাচ্যুত মুবারাকের রক্ষাকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রচার করে, শফিক নির্বাচিত হলে মিশরের ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসন নতুন জীবন পাবে। [১৪]

৩০ মে, ২০১২ তারিখে মুহাম্মাদ মুরসি মিশরীয় টেলিভিশন উপস্থাপক তাওফিক ওকাশার বিরুদ্ধে একটি মানহানি মামলা করে বলেন, ওকাশা ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে মুরসি ও তার রাজনৈতিক দলের সম্মানহানি করেছে। মিশরীয় গণমাধ্যমের সূত্রমতে, ওকাশা ২৭ মে তারিখে প্রায় তিন ঘণ্টা ব্যাপী একটি টেলিভিশন বক্তব্যে মিশরে ‘ইসলামপন্থীদের হাতে খ্রিষ্টানদের হত্যাকান্ডের’ প্রমাণাদি তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, হত্যাকারীরা কীভাবে দেশ চালাবে।[১৫] উল্লেখ্য, বিতর্কিত প্রমাণাদিগুলোতে ইসলামপন্থী হিসেবে মূলত মুসলিম ব্রাদারহুডকে ইঙ্গিত করা হয়েছিল।[১৬]

২৪ জুন, ২০১২ তারিখে মুরসিকে দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে জয়ী, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।[১৭] এর পরপরই মুরসি মুসলিম ব্রাদারহুড ও ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি থেকে আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি গ্রহণ করেন।[১৮] সেখানে আরও বলা হয়ে থাকে, তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে যোগদান করেন।

আস্থা ও ধর্মমতসম্পাদনা

সরকার পরিবর্তন হচ্ছেসম্পাদনা

মুহাম্মদ মুরসি বলেন, "কোন অস্তিত্বশীল বস্তু সংবিধানের উপরে থাকবে না" তবে সেনাবাহিনীর অবস্থানের জন্য তার দৃষ্টিভঙ্গি বানাননি। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বাজেট সংসদ কর্তৃক তত্ত্বাবধান করা উচিত তবে নির্দিষ্ট এলাকায় গোপনীয়তার প্রয়োজন হবে। তিনি মিশরের সংবিধানকে সম্মান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং স্বাধীনতা ও বিচারপতি পার্টি "জনগণকে বিশ্বাস করতে আমরা চাপ দিচ্ছি না"। তিনি বলেছেন মিশরীয়রা এমন সমাজে বসবাসের চেষ্টা করেছিল যার মধ্যে সকলের সমান অধিকার রয়েছে। তিনি ২০১১ সালের বিপ্লবকে মধ্য প্রাচ্যে একটি "ইসলামিক জাগরণ" হিসাবেও যুক্ত করেছিলেন।

মিশরের রাষ্ট্রপতিসম্পাদনা

মুরসি মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসাবে ২০১২ সালের ৩০ জুন শপথ গ্রহণ করেন। [১৯] ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হোসনি মোবারক পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ার পর মুরসি মিশরের রাষ্ট্রপতির পদে স্থলাভিষিক্ত হন। [২০] [২১]

অভ্যন্তরীণ নীতিমালাসম্পাদনা

মুরসি ২০১২ সালের ১০ জুলাই সংসদ পুনর্বহাল করেন; যা তার এবং আইনসভা ভেঙে দেওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হয়।। [২২]

মুরসি নাগরিক অধিকার ও ইসলামি আইন সংশ্লিষ্ট একটি নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। [২৩]

২০১২ সালের ৩০ জুন কায়রোর তাহরির স্কোয়ারে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায়, মুরসি সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করেন যে তিনি ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা হামলার জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়াওমর আবদেল রহমান সহ অন্যান্য মিশরীয়দের মুক্ত করতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবেন।

[২৪]

পরবর্তীতে ব্রাদারহুডের একজন মুখপাত্র বলেন যে উক্ত বক্তব্য মানবিক কারণে প্রত্যর্পণ করা হয় এবং আদতে মুরসি আবদেল-রহমানকে নির্দোষ সাব্যস্ত করার ইচ্ছা পোষণ করেননি। [২৫]

২০১২ সালের ১০ জুলাই, মুরসি ২০১২ সালের ১৪ জুন মিশরের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত ভেঙে দেওয়া ইসলামপন্থী সংসদকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। মিশরের সরকারী বার্তা সংস্থার মতে, মুরসি ২০১১ সালে নির্বাচিত বিধায়কদের অবিলম্বে ফিরে আসার নির্দেশ দেন, যাদের বেশিরভাগই মুরসির ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি এবং অন্যান্য ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য। [২৬] [২৭] মুরসির একজন মুখপাত্র ঘোষণা করেন যে প্রেসিডেন্ট একজন খ্রিস্টান ও একজন মহিলাকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ করবেন। অবশেষে যদিও মাহমুদ মেক্কি নামক একজন মুসলিম পুরুষকে উক্ত পদে নিযুক্ত করেন। ২২ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মেক্কি পদত্যাগ করেন। [২৮]

কামাল গঞ্জৌরির পদত্যাগের পর, মুরসি হেশাম কান্দিলকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব প্রদান করেন। [২৯] ২ আগস্ট ২০১২ তারিখে কান্দিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। [৩০] মুরসি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত করার সাংবিধানিক বিধানের ব্যাপারেও আপত্তি করেন। [৩১]

 
একটি বৈঠকের সময় রাষ্ট্রপতি মুহাম্মাদ মুরসি (ডানে), সফররত মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব চক হেগেল (মাঝে) এবং জেনারেল আল-সিসি (বামে)। আল-সিসি মুবারক পরবর্তী প্রথম প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসাবে মুরসি কর্তৃক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনিই মুরসিকে অপসারণের অনুমোদন দেন।

২০১২ সালের ১২আগস্ট, মুরসি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মুহাম্মাদ হুসেইন তানতাভি এবং সেনা প্রধান সামি হাফেজ আনানকে পদত্যাগ করতে বলেন। [৩২] তিনি আরও ঘোষণা করেন যে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত করে সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিল (এসসিএএফ) দ্বারা পাস করা সাংবিধানিক সংশোধনী বাতিল করা হবে। [৩৩] মুরসির মুখপাত্র ইয়াসের আলী ঘোষণা করেন যে তানতাভি এবং আনান উভয়েই রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা থাকবেন। মুরসি তৎকালীন সামরিক গোয়েন্দা প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে মিশরের নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন। [৩৪] হোসনি মোবারকের পতনের পর 'এসসিএএফ' এর কর্তৃত্ব বিবেচনা করে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এই পদক্ষেপটিকে একটি "উত্থান" হিসাবে অভিহিত করে। [৩৪] আল জাজিরা এটিকে রাষ্ট্রপতি এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে "ক্ষমতার লড়াই বৃদ্ধি" হিসাবে আখ্যা দেয়। [৩৩] ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট একজন মিশরীয় আইনজীবী মুহাম্মাদ সালেম, মুরসির তানতাওয়ি এবং আনানকে অপসারণের বিষয়ে একটি আইনি আপত্তি দায়ের করেন এই যুক্তিতে যে মুরসি সর্বগ্রাসী শাসন ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন। [৩৫]

মুরসি ১৬ আগস্ট ২০১২ তারিখে আরও দুই উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন। তারা হলেন রাষ্ট্রপতির প্রহরী বাহিনীর কমান্ডার এবং গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পরিচালক মুরাদ মুওয়াফি।

[৩৬]

২০১২ সালের ২৭ আগস্ট, মুরসি ২১ জন উপদেষ্টা এবং সহকারীর নাম ঘোষণা করেন যার মধ্যে তিনজন মহিলা, দু'জন খ্রিস্টান এবং বিপুল সংখ্যক ইসলাম অনুরক্ত ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। [৩৭] তিনি দেশের ২৭টি অঞ্চলে নতুন গভর্নর নিয়োগ করেন। [৩৮]

২০১২ সালের অক্টোবরে, মুরসি সরকার সুয়েজ খাল সংলগ্ন একটি অর্থনৈতিক ও শিল্প কেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা উন্মোচন করে। কাতার থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার তহবিলের প্রতিশ্রুতি স্বরুপ গৃহীত হয়। [৩৯] ইউরোপিয়ান ব্যাংক ফর রিকন্সট্রাকশন অ্যান্ড ডিভলপমেন্ট ১ বিলিয়ন ডলার প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ ভারত সফরকালীন, মুরসি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে সমর্থন প্রত্যাশা করেন। [৪০] প্রকল্পটি মুরসির অধীনে সম্পন্ন না হলেও, তার উত্তরসূরি আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি ২০১৪ সালের আগস্টে সুয়েজ খালের সম্প্রসারণের সাথে সাথে জলপথের একটি সুবিন্যস্ত সংস্করণ পুনরুজ্জীবিত করেন এবং চালু করেন। [৪১]

২০১২ সালের ১৯ অক্টোবর, মুরসি তার প্রথম সরকারী সফরে মিশরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মাতরুহে এল-তেনাইম মসজিদে মিশরীয় ঐক্যের উপর বক্তৃতা দিতে গমন করেন। তার বক্তৃতার অব্যবহিত আগে তিনি সেখানে মোনাজাতে অংশগ্রহণ করে উচ্চস্বরে "আমেন" বলেন। কারণ, স্থানীয় প্রধান ধর্মগুরু ফুতুহ আবদ আল-নবী মনসুর ঘোষণা করেছিলেন, "ইহুদি এবং তাদের সমর্থকদের মোকাবিলা করুন৷ হে আল্লাহ, তাদের ছত্রভঙ্গ করুন, বিচ্ছিন্ন করুন। হে আল্লাহ, তাদের উপর তোমার শক্তি ও মহত্ত্ব প্রদর্শন করুন। আমাদেরকে আপনার সর্বশক্তিমত্তা দেখান, হে প্রভু।" প্রার্থনাগুলি মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয় এবং এমইএমআরআই দ্বারা অনূদিত হয়। মূলত এমইএমআরআই সম্প্রচারটিকে "ইহুদি এবং তাদের সমর্থকদের ধ্বংস করো" শিরোনামে অনুবাদ করে। যদিও পরবর্তীতে তাদের অনুবাদ সংশোধন করা হয়। [৪২] [৪৩]

মুরসি ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর আব্বাশিয়া ক্যাথেড্রালে আয়োজিত কপ্টিক পোপ দ্বিতীয় তাওয়াড্রোসের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগদান করেননি, যদিও সেখানে প্রধানমন্ত্রী হেশাম কান্দিল উপস্থিত ছিলেন। [৪৪]


২০১২ সালের নভেম্বরে প্রদত্ত ঘোষণা

২০১২ সালের ২২ নভেম্বর, মুরসি একটি ঘোষণা জারি করেন যা বিচারিক হস্তক্ষেপ থেকে নতুন সংবিধান প্রণয়নকারী গণপরিষদের কাজকে রক্ষা করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে।কার্যত, এই ঘোষণাটি তার কর্মকে যেকোনো আইনি চ্যালেঞ্জ থেকে মুক্ত রাখে। ফরমানে বলা হয় যে এটি শুধু একটি নতুন সংবিধান অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োগ করা হবে। [৪৫] এই ঘোষণায় মুবারক-যুগে প্রতিবাদকারীদের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের পুনর্বিচারেরও দাবি জানানো হয়। উপরন্তু, উক্ত ঘোষণাটি মুরসিকে বিপ্লব টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দেয়। উদারপন্থী এবং ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি সাংবিধানিক গণপরিষদ থেকে বের হয়ে যায় কারণ তারা বিশ্বাস করেছিল যে এটি কঠোর ইসলামি অনুশীলন আরোপ করবে। অন্যদিকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যরাও মুরসিকে সমর্থন করে। [৪৬]

মোহাম্মদ এলবারাদেই এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন যে মুরসি "সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছেন এবং নিজেকে মিশরের নতুন ফারাও নিযুক্ত করেছেন।" [৪৭] এই পদক্ষেপটি মিশর জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংস কর্মকাণ্ডের দিকে ধাবিত করে। বিক্ষোভকারীরা হোসনি মোবারকের পদত্যাগের আগে বিক্ষোভের স্থান তাহরির স্কোয়ারে তাঁবু টানিয়ে অবস্থান নেয়। বিক্ষোভকারীরা উক্ত ঘোষণাটি প্রত্যাহার এবং গণপরিষদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানায়। তাহরির স্কোয়ারে জড়ো হওয়া লোকেরা ২৭ নভেম্বর একটি বিশাল প্রতিবাদের ডাক দেয়। [৪৮] বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। [৪৯] অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ফ্রিডম হাউসের মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলিও এই ঘোষণাটির নিন্দা করে। [৫০] [৫১] [৫২] [৫৩] মিশরীয় বিচারকদের সর্বোচ্চ সংস্থা এই রায়কে "বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং এর রায়ের উপর নজিরবিহীন আক্রমণ" বলে মন্তব্য করে। [৫৪] হোসনি মোবারক কর্তৃক নিযুক্ত একজন প্রসিকিউটর আবদেল মেগুইদ মাহমুদ ফরমানটিকে "অকার্যকর" ঘোষণা করেন। [৪৫] মুরসি আরও জোর দিয়ে বলেন যে ঘোষণাটি অস্থায়ী এবং তিনি এই ব্যাপারে বিরোধীদের সাথে আলাপ করতে চান। [৫৫] মুরসির বিবৃতি বিচারক বা নাগরিকদের খুশি করতে ব্যর্থ হয়। তারা তার সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে তাহরির স্কোয়ারে বিক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ প্রজ্জ্বলিত করে। [৫৬]

ভাষা পরিবর্তন না করে, মুরসি চার দিনের বিক্ষোভ এবং বেশ কয়েকজন সিনিয়র উপদেষ্টার পদত্যাগের পর ঘোষণাটি সার্বভৌম বিষয়ে সীমাবদ্ধ করতে সম্মত হন। মুরসির মুখপাত্র বলেন, শীর্ষ বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সাথে একটি চুক্তি করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রপতির বেশিরভাগ ক্রিয়াকলাপ আদালতের পর্যালোচনা সাপেক্ষে গৃহীত হবে। তবে গণপরিষদকে তার কাজ শেষ করার আগে আদালতের দ্বারা ভেঙে দেওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য তার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে। প্রেসিডেন্ট মুরসিও সম্মত হন যে নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করা অবধি হোসনি মোবারকের অধীনের প্রাক্তন কর্মকর্তাদের আর কোনো পুনর্বিচার করা হবে না।

২০১২ সালের ১ নভেম্বর গণপরিষদ মুরসির কাছে খসড়া সংবিধান হস্তান্তর করে, যাতে বলা হয় যে ২০১২ সালের ১৫ ডিসেম্বর একটি সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। [৫৭] [৫৮]

২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর, কিছু বিক্ষোভকারী যখন প্রাসাদের চারপাশে পুলিশের বেষ্টনী ভেঙে দেয় এবং সাঁজোয়া বাহনে আরোহণ করে পতাকা নাড়ায় তখন মুরসি তার রাষ্ট্রপতির প্রাসাদ ত্যাগ করেন। [৫৯]

একজন ইসলামপন্থী কর্মকর্তা বলেন যে ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর, মুরসি তার ঘোষণাটি বাতিল করেন যা তার রাষ্ট্রপতির কর্তৃত্ব প্রসারিত করে এবং তার ফরমানগুলির বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা অপসারণ করে। [৬০] [৫৮] [৬১] [৬২] [৬৩] [৬৪] তখনও ১৫ ডিসেম্বরে একটি সাংবিধানিক গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। কনস্টিটিউশন পার্টির জর্জ আইজ্যাক বলেন যে মুরসির ঘোষণা নতুন কিছু দেয়নি। ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট এটিকে মুখ বাঁচানোর চেষ্টা হিসাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ৬ এপ্রিলের আন্দোলন এবং মিশরীয় সাংবাদিক সিন্ডিকেটের জামাল ফাহমি বলেন যে নতুন ঘোষণাটি সংবিধানের খসড়া তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত বিধানসভার মৌলিক সমস্যা সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। [৬০]

পররাষ্ট্র নীতিসম্পাদনা

 
২০১২ সালের জুলাই মাসে মিশরের কায়রোতে মোহাম্মদ মুরসি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
 
২০১৩ সালের মে মাসে মুরসি এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়াতে সাক্ষাৎ করেন।
 
২৫ মে ২০১৩ তারিখে মুরসি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সাথে দেখা করেন।

কর্মীসম্পাদনা

খালেদ আল-কাজ্জাজ ২০১২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মুরসি সরকারের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সচিব ছিলেন। [৬৫]

আরব বিশ্বসম্পাদনা

মুরসির প্রথম সরকারি বিদেশ সফর ছিল ১১ জুলাই ২০১২ সালে সৌদি আরবে। [৬৬] এই সফরের সময়, মুরসি বলেন যে তিনি তেল সমৃদ্ধ রাজতন্ত্রের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে চান, পূর্বে যা মুবারক সরকারের সাথেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। [৬৭]

মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রাখতে তিনি কাতার থেকে শক্তিশালী সমর্থন পান। মুরসি তার নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত ব্রাদারহুডের সদস্য ছিলেন। ২০১২ সালের ১২ আগস্ট মুরসি মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘোষণা করার সাথে সাথে কাতার মিশরকে বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করার ঘোষণা দেয়। ইতোমধ্যে, কাতারের বিনিয়োগকারীরা মিশরীয় অবকাঠামোতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। [৬৮]

একই সময়ে, মুরসি জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ সহ বেশ কয়েকজন আরব নেতার বিরুদ্ধাচারণের সম্মুখীন হন। তিনি মুরসিকে 'অদূরদর্শী', মুসলিম ব্রাদারহুডকে 'একটি মেসোনিক অর্চনা' ও 'ভেড়ার পোশাক পরিহিত নেকড়ে' বলে আখ্যায়িত করেন। [৬৯] মুরসির শাসনামলে, জর্ডান মিশর থেকে রাজনৈতিক ছাড় পাওয়ার প্রয়াসে শত শত মিশরীয় অভিবাসী শ্রমিককে নির্বাসন দেয়। [৭০]

সিরিয়াসম্পাদনা

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বিরোধী শক্তির কট্টর সমর্থক হিসাবে, মুরসি ২০১৩ সালের ১৫ জুন একটি ইসলামপন্থী সমাবেশে যোগ দেন। যেখানে সালাফি ধর্মগুরুরা সিরিয়ায় জিহাদের ডাক দেন এবং বাশার আল-আসাদের সমর্থকদের "কাফের" বলে নিন্দা করেন। [৭১] মুরসি সেই সমাবেশে ঘোষণা করেন যে তার সরকার সিরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে এবং কায়রোতে সিরিয়ার দূতাবাস বন্ধ করেছে। [৭২]

যদিও তিনি মিশরীয়দের স্পষ্টভাবে সিরিয়ার সংঘাতে বিরোধী সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের আহ্বান জানাননি, তবে ১৫ জুনের সমাবেশে মুরসির উপস্থিতি সিরিয়ায় জিহাদের জন্য ইসলামপন্থী ধর্মগুরুদের আহ্বানের জন্য একটি অন্তর্নিহিত অনুমোদন হিসাবে দেখা হয়। [৭১] [৭৩] মিশরীয় বিশ্লেষকরা সমাবেশে যোগদান ও বক্তৃতা করার জন্য মুরসির সমালোচনা করেন যখন সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিল (SCAF) সমাবেশের পরদিন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলে যে এর একমাত্র ভূমিকা মিশরের সীমানা রক্ষা করা। [৭১] ২০১৩ সালের জুনে মুরসি বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের সময়, পরবর্তীতে উক্ত সমাবেশে মুরসির উপস্থিতি দ্বারা প্রকাশিত হয় যে ধর্মনিরপেক্ষ SCAF-এর সিদ্ধান্তের একটি প্রধান কারণ ছিল মুরসি বিরোধী বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকা। [৭১]

মুরসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর ১০০,০০ সিরীয় শরণার্থী মিশরে পৌঁছে। মুরসির নেতৃত্বাধীন সরকার মিশরে বসবাসকারী সিরিয়ান শরণার্থীদেরকে বসবাসের অনুমতি, কর্মসংস্থান খোঁজার ক্ষেত্রে সহায়তা, শরণার্থী শিশুদের রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয়ে নিবন্ধন করা এবং অন্যান্য পাবলিক পরিষেবাগুলি গ্রহণের অনুমতি দিয়ে সহায়তা করে। [৭৪]

ইরানসম্পাদনা

তার শাসনামলে, দীর্ঘ কয়েক বছরের সংঘাতের পর মুরসি ইরানের সাথে সম্পর্ক জোরদার করেন। যদিও তার কর্মকাণ্ডসমূহ মিশরের ভিতরে এবং বাইরে সুন্নি মুসলিম কর্তৃক সমালোচিত হয়। [৭৫]

ফিলিস্তিন ও ইসরাইলসম্পাদনা

২০১২ সালের অক্টোবরে, মুরসি তৎকালীন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজকে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ চিঠি লেখেন।চিঠিটি আদর্শ কূটনৈতিক ভাষা অনুসরণ করে লেখা হয়। মুরসি পেরেসকে "মহান ও সুহৃদ" বলে অভিহিত করেন এবং দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। মুরসি "সর্বোচ্চ সম্মান" জ্ঞাপন করে চিঠিটি সমাপ্ত করেন। জামাল মুহাম্মাদ হেশমত দৃঢ়ভাবে উক্ত চিঠিটি "বানোয়াট" বলে দাবি করে বলেন যে "অতীতে ইহুদিবাদী মিডিয়া মুরসির ভিত্তিহীন বিবৃতি ফাঁস করেছে।" তবে মুরসির মুখপাত্র ইয়াসের আলী মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র আহরামকে বলেন যে চিঠিটি শতভাগ সঠিক। [৭৬] ২০১২ সালের জুলাইয়ে মুরসি একটি বানোয়াট চিঠি খণ্ডন করেন। [৭৭]

মুরসি তার বিজয় ভাষণে বলেন যে তিনি মিশরের সমস্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিকে সম্মান করবেন। যা ইসরায়েলের সাথে মিশরের চুক্তির উল্লেখ বলে মনে করা হয়। [৭৮]

মুরসি সরকার অপারেশন পিলার অফ ডিফেন্সের নিন্দা করে এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়। [৭৯] ২০০৮-০৯ গাজা যুদ্ধে হোসনি মুবারকের হামাসকে শত্রু হিসাবে বিবেচনার সম্পূর্ণ বিপরীতে, গাজা এবং হামাসের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে মুরসি প্রধানমন্ত্রী হেশাম কান্দিলকে গাজায় পাঠান। [৮০] [৮১] [৮২] যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মিশর হামাস ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করে। [৮৩]

ইসরায়েল এবং ইসরায়েলিদের বিষয়ে বিবৃতিসম্পাদনা

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে, ২০১০ সালে মুরসির দেওয়া বিবৃতিগুলি পশ্চিমা মিডিয়াতে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে যখন ১১ জানুয়ারি ফোর্বস ম্যাগাজিনের একটি প্রতিবেদন এটি উপেক্ষা করার জন্য প্রসিদ্ধ গণমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করে। [৮৪]এমইএমআরআই কর্তৃক প্রকাশিত ভিডিয়োগুলিতে, মুরসি ঘোষণা করেন "ফিলিস্তিনের জমিতে ইহুদিবাদীদের কোনো অধিকার নেই। ফিলিস্তিনের মাটিতে তাদের কোনো স্থান নেই। ১৯৪৭-৪৮ সালের আগে তারা লুণ্ঠন করে নিয়েছে এবং এখন তারা যা করছে তা সেই লুণ্ঠনেরই ধারাবাহিকতা। কোনোভাবেই আমরা তাদের সীমানার স্বীকৃতি দিতে পারি না।ফিলিস্তিনের ভূমি ফিলিস্তিনিদের, ইহুদিবাদীদের নয়।" [৮৫]২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে, ইসরায়েলিদের "রক্তচোষা", "যুদ্ধবাজ" এবং "বানর ও শূকরের বংশধর" বলে অভিহিত করে মুরসি বলেন, "এই নিরর্থক [ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি] আলোচনা সময় এবং সুযোগের অপচয়। যেহেতু ফিলিস্তিনি, আরব এবং মুসলিমরা সময় এবং সুযোগ হারায় এবং তারা এর থেকে কিছুই পায় না সেহেতু ইহুদিবাদীরা সময় ক্রয় করে এবং আরও সুযোগ লাভ করে। আমরা দেখতে পাচ্ছি কীভাবে এই স্বপ্ন ভেস্তে গিয়েছে। এই স্বপ্ন সবসময় একটি মায়া বৈকি কিছু ছিলো না। এই [ফিলিস্তিনি] কর্তৃপক্ষ ইহুদিবাদী এবং আমেরিকান শত্রুরা ফিলিস্তিনি জনগণের ইচ্ছা এবং তার স্বার্থের বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করে।" [৮৬] [৮৭] [৮৮] [৮৯] [৯০] [৯১]হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নি মুরসির মন্তব্যকে হেয় করে বলেন যে মার্কিন নীতি কথায় নয় বরং কর্মের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। মুরসি দাবি করেন যে তার মন্তব্য "প্রসঙ্গের বাইরে নেওয়া হয়েছে" এবং পরবর্তীতে জন ম্যাককেইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সাথে তার কথোপকথন প্রকাশ্যে আনা হয়ঃ

"মুরসি প্রতিনিধিদলকে বলেন যে তিনি ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার মুখপাত্র বলেন,"মহামতি মুরসি ইহুদি ধর্ম ও এটির অন্তর্ভুক্তদের মধ্যে পার্থক্য নিরুপণের প্রয়োজনীয়তা এবং অরক্ষিত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংস পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।"[৯০][৯১]

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে জার্মানি সফরের সময়, মুরসি আবারও বলেন যে তার মন্তব্যগুলি প্রেক্ষাপটের বাইরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা হিসাবে নেওয়া হয়েছিলো। সাংবাদিকদের সম্বোধন করে মুরসি বলেন যে "[আমি] ইহুদিবাদ বা ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে নই। আমার মন্তব্য ছিল এমন আচরণ সম্পর্কে যা রক্তপাতের কারণ হয় এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে আমার মন্তব্য ছিল আচার-ব্যবহার, ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান, ক্লাস্টার বোমা এবং নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র দ্বারা হত্যা এবং আগ্রাসন”। মুরসি 'কুরআন মুসলমানদেরকে "সকল ধর্মে বিশ্বাস করতে বলে' উল্লেখ করে আরও বলেন যে "[আমি] ইহুদি বিশ্বাস ও ইহুদি বা খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারি না।" [৯২]

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনসম্পাদনা

আফ্রিকান ইউনিয়নসম্পাদনা

মুরসি ২০১২ সালের ১৫ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত আদ্দিস আবাবায় আফ্রিকান ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করেন। ১৯৯৫ সালের জুনে হোসনি মোবারককে হত্যাচেষ্টার পর ১৭ বছরে মিশরের রাষ্ট্রপতির এটিই প্রথম ইথিওপিয়া সফর। [৯৩] [৯৪]

পরবর্তীতে, ২০১৩ সালের জুনে, মুরসি কর্তৃক আহুত রাজনীতিবিদরা ইথিওপিয়াকে নীল নদের উপনদীতে বাঁধ নির্মাণ থেকে বিরত রাখার জন্য আক্রমণ করার পরামর্শ প্রদান করেন। [৯৫]

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনসম্পাদনা

মুরসি ২০১২ সালে আগস্টের শেষের দিকে তেহরানে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের ১৬তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে মিশর ও ইসরায়েলের মাঝে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে সদস্য দেশগুলির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ ছিল বিধায় সেই সফরে মিশর এবং জোট নিরপেক্ষ গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলির মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। [৯৬]

মুরসি সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে বক্তৃতা করেন এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সিরিয়ান বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। অবশ্য সিরিয়া সম্পর্কে তার মন্তব্য ইরানি গণমাধ্যমে স্পষ্টভাবে ধারণ করা হয়নি। [৯৭] তিনি এই বলে বিতর্কের জন্ম দেন যে দামেস্কের "অত্যাচারী শাসনের" বিরুদ্ধে সিরিয়ার জনগণকে সমর্থন করা একটি "নৈতিক দায়িত্ব"। [৯৮] তার প্রত্যুত্যরে, সিরিয়ার প্রতিনিধিদল ওয়াক আউট করে যখন সিরিয়ার এফএম ওয়ালিদ মুয়াল্লেম মুরসিকে "সিরিয়ার রক্তপাতের জন্য উসকানি দেওয়ার" অভিযোগ করেন। [৯৯]

অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) শীর্ষ সম্মেলনসম্পাদনা

মুরসি কায়রোতে মুসলিম দেশের ৫৭ নেতার উপস্থিতিতে ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেন। উক্ত শীর্ষ সম্মেলনে বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাজনৈতিক উত্তরণের বিষয়ে সিরিয়ার সরকার এবং বিরোধী জোটের মধ্যে একটি "গুরুতর সংলাপের" আহ্বান জানানো হয় । [১০০] [১০১]

মুরসি ওআইসি'র তৎকালীন মহাসচিব একমেলেদ্দিন ইহসানোগ্লুকে 'অর্ডার অফ দ্য নীল' তথা মিশরের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করেন। [১০২]


বৈদেশিক নীতিসম্পাদনা

মুহাম্মাদ মুরসি তার বিজয় ভাষণে ঘোষণা দেন, তিনি মিশরের বর্তমান আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন, প্রত্যক্ষ ভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলবেন এবং ভূরাজনীতিকভাবে ইরানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে মনযোগী হবেন। তিনি সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ও বিদ্রোহীদের সাহায্য করার জন্য বিশ্ববাসীকে আহবান করেন।

ধারণা করা হয়, মূলত ইসরায়েল বিষয়ে মিশরের বৈদেশিক নীতির কোন আমূল পরিবর্তন হবে না, ব্রাদারহুডের সাথে মিশরের সশস্ত্র বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এমন বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই মুরসির মাধ্যমে তাদের হাতে মিশরের রাষ্ট্রক্ষমতার হস্তান্তর সম্ভব হয়েছে।[১০৩]

উৎখাত এবং অপরাধমূলক বিচারসম্পাদনা

 
মুরসি-বিরোধী বিক্ষোভকারীরা কায়রোতে আন্দোলন করছে, ২৮ জুন ২০১৩
 
মুরসি-পন্থী জনসভার সহিংস ছত্রভঙ্গের সময় রাবা আল-আদাবিয়া, ১৪ আগস্ট ২০১৩

৩০ জুন ২০১৩ তারিখে প্রেসিডেন্ট মুরসির পদত্যাগের দাবিতে মিশর জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এই বিক্ষোভ চলাকালীন মুরসির সমর্থকরা রাবা আল-আদাবিয়া স্কোয়ারে একটি অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। [১০৪]

১ জুলাই মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনী ৪৮ ঘণ্টার বিধিনিষেধ জারি করে যা দেশের রাজনৈতিক দলগুলিকে মিশরীয় জনগণের দাবি পূরণের জন্য ৩ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। তন্মধ্যে বিরোধের সমাধান না হলে মিশরীয় সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করার হুমকি প্রদান করে। একই দিনে চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। [১০৫]যার মধ্যে রয়েছেন পর্যটন মন্ত্রী হিশাম জাজু, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আতেফ হেলমি, আইন ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হাতেম বাগাতো এবং পরিবেশ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী খালেদ আবদেল আল।

২ জুলাই, মুরসি মিশরীয় সেনাবাহিনীর ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেন এবং জাতীয় পুনর্মিলন ও রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য তার নিজস্ব পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

৩ জুলাই, আবদুল ফাতাহ আল-সিসি মুরসিকে পদ থেকে অপসারণ করে ভবিষ্যতের জন্য একটি রোড ম্যাপ ঘোষণা করেন এবং সাংবিধানিক আদালতের প্রধান অ্যাডলি মনসুরকে মিশরের অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করেন। [১০৬]

৮ জুলাই, প্রধানমন্ত্রী কান্দিল প্রাথমিকভাবে একটি নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তার পদে বহাল থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে রক্তপাতের প্রতিবাদে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন যখন ৫১ জন বিক্ষোভকারী <i>রিপাবলিকান গার্ড সদর দপ্তরে</i> সামরিক বাহিনীর হাতে নিহত হয়। [১০৭]

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মুরসি দাবি করেন যে ২ জুলাই তাকে অপহরণ করে রিপাবলিকান গার্ডের একটি বাড়িতে নেয়া হয়। তিনি বলেন যে ৫ জুলাই পর্যন্ত সেখানে আটকে রাখার পর জোরপূর্বক তাকে একটি নৌ ঘাঁটিতে স্থানান্তরিত করা হয়; যেখানে তিনি পরবর্তী চার মাস কাটিয়েছিলেন। [১০৮] [১০৯]পরবর্তীতে মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র, কর্নেল আহমেদ আলী, মুরসির সাথে খারাপ আচরণ করা হয়েছে এমন গুজব অস্বীকার করে বলেন যে তাদের লুকানোর কিছু নেই। [১১০]মিশরীয় সেনাবাহিনী পরে ক্যাথরিন অ্যাশটনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক এবং নিরাপত্তা নীতির জন্য ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে মুরসির সাথে দেখা করার অনুমতি প্রদান করে। পরবর্তীতে অ্যাশটন বলেন "মুরসি টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে দেশের সর্বশেষ উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছেন। তাই আমরা সার্বিক পরিস্থিতি ও সম্মুখে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করতে সক্ষম হয়েছি। তার আশেপাশের মানুষ তার যত্ন নেয়।এছাড়াও আমি নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা অবলোকন করেছি।" [১১১] [১১২] [১১৩]এরপরে মুরসি আফ্রিকান ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। [১১০]

বিচারসম্পাদনা

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, মুরসি তার বিরোধীদের হত্যার জন্য প্ররোচনা, হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) সহ বিদেশি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর জন্য গুপ্তচরবৃত্তি সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগের সম্মুখীন হন। বিচার বিভাগকে অবমাননা করা ছাড়াও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পূর্বে ২০১১ সালের বিপ্লব চলাকালীন ওয়াদি এল নাট্রুন কারাগার থেকে অব্যাহতির জন্য কাতারের কাছে নথিপত্র ফাঁস করার কারণেও তিনি অভিযুক্ত হন।[১১৪] [১১৫] [১১৬]

১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে প্রসিকিউটররা মুরসিকে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে বিচারের জন্য অর্পণ করেন। [১১৭]তার বিচারের জন্য ৪ নভেম্বর ২০১৩ তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

[১১৮]

সহিংসতা, বিক্ষোভকারীদের নির্যাতন ও ১০ জন প্রতিপক্ষকে হত্যা করতে তার সমর্থকদের প্ররোচিত করার জন্য মুরসিকে একটি ফৌজদারি আদালতে বিচার করা হয়। প্রসিকিউটরদের তদন্তে জানা যায় যে মুরসি রিপাবলিকান গার্ড এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার বিরোধীদের অবস্থান ভেঙে দিতে বললেও রক্তাক্ত পরিণামের ভয়ে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলো। [১১৭]

১৮ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে প্রসিকিউটর জেনারেল হিশাম বারাকাত "মিশরের ইতিহাসে গুপ্তচরবৃত্তির সবচেয়ে বড় মামলা" শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মুরসিকে ফৌজদারি আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রসিকিউটর জেনারেলের তদন্ত অনুসারে জানা যায়, হিজবুল্লাহ এবং হামাসের সহায়তাপ্রাপ্ত মুসলিম ব্রাদারহুডের আন্তর্জাতিক সংস্থা মিশরের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার কারণ। ব্রাদারহুড মিডিয়া এবং সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য গোপন সুড়ঙ্গের মাধ্যমে জিহাদিদের গাজায় পাঠিয়ে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি করতে এবং এই প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নের জন্য তাদের সিনাইতে পাঠাতে চেয়েছিল। [১১৯]

২৯ জানুয়ারী ২০১৪ তারিখে সারা মিশরে সহিংস বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর জন্য হামাস সহ বিদেশী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সাথে ষড়যন্ত্র করার পরে মুরসি ২০১১ সালের মিশরীয় বিপ্লবের সময় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার অভিযোগে দ্বিতীয়বার বিচারের মুখোমুখি হন। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে বিচারটি এক মাসের জন্য স্থগিত করা হলেও [১২০] মারাত্মক সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে পুনরায় তা শুরু করা হয়।প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষীদের শুনানির জন্য বিচারটি পরের দিন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়, [১২১] এবং তারপরে বারবার স্থগিত করা হয়। [১২২] [১২৩] [১২৪]

২০১৫ সালের এপ্রিলে, আদালত বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন এবং সহিংসতার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রাক্তন এমপি মোহাম্মদ বেলটাগি সহ আরও ১২ জন আসামীসহ মুরসিকে দোষী সাব্যস্ত করে। খুনের অভিযোগ থেকে সকল আসামীকে খালাস দেওয়া হয়। বিচারক মুরসি এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়া অন্যদের ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন। [১২৫]মুরসি গুপ্তচরবৃত্তি, সন্ত্রাসবাদ এবং কারাগার থেকে পলায়নের অভিযোগে পৃথক বিচারের সম্মুখীন হন [১২৬] এবং অন্যান্য আসামীদের সাথে ১৬ মে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। [১২৭]২০১১ সালের জানুয়ারিতে মুরসি এবং অন্যান্য ১০৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মিশরের দণ্ডবিধি অনুসারে, সাজাটি গ্র্যান্ড মুফতির কাছে উল্লেখ করা হয়, যার সম্মতি বা অসম্মতি আইনত বাধ্যতামূলক নয়। [১২৮]

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আদালতের এই প্রক্রিয়াটিকে "অকার্যকর পদ্ধতির উপর প্রতিষ্ঠিত একটি হেঁয়ালিপনা" বলে নিন্দা করে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান মিশরের সমালোচনা করেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে কুটিলতা করার জন্য অভিযুক্ত করে বলেন, "পশ্চিমারা মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে মিশরে মৃত্যুদণ্ডের ধারাবাহিকতা দেখছে।" [১২৯]

২০১৬ সালের জুনে, কাতারকে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁস করে দেওয়ার জন্য মুরসিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মুরসি আল-জাজিরার দুই সাংবাদিকের সাথে এই মামলার আসামী হিসাবে অভিযুক্ত ছিলেন যাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। [১৩০] [১৩১]

২০১৬ সালের নভেম্বরে, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে [১৩২] অন্য পাঁচ মুসলিম ব্রাদারহুড সদস্যের সাথে মুরসির মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে আদালত। একই আদালতে মুরসির বিরুদ্ধে আরো দু'টি অভিযোগ পর্যালোচনা করার কথা ছিল। তা হলো ২০১১ সালের জানুয়ারিতে কারাগারে তার ভূমিকা ও কাতার সরকারকে গোপন তথ্য সরবরাহ করা। [১৩৩]

কারাবরণসম্পাদনা

ক্ষমতাচ্যুতির পর মুরসিকে তারা কারাগারে স্করপিয়ন প্রিজন নামক একটি বিশেষ শাখায় আনা হয়। [১৩৪] [১৩৪] [১৩৫]

ক্রিস্পিন ব্লান্ট, এডওয়ার্ড ফকস ও পল উইলিয়ামস সহ যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য এবং সিনিয়র আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি আটক পর্যালোচনা প্যানেল, মুরসির বন্দিদশা পর্যালোচনা করে। [১৩৫]মুরসির পরিবার এবং অন্যান্যদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থা সম্পর্কে উক্ত প্যানেল উল্লেখ করে যে তিনি ডায়াবেটিসের জন্য অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। তারা মুরসির চিকিৎসাকে 'নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং অবমাননাকর' বলে অভিহিত করে বলেন যে এটি মিশরীয় এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অত্যাচারের চূড়ান্ত সীমারেখা পূরণ করতে পারে।" [১৩৬] [১৩৭]মুরসির ছেলেদের মতে, কারাবাসের পর তার স্বাস্থ্যের ব্যাপক অবনতি হয়। [১৩৮]

মৃত্যুসম্পাদনা

মুরসি ২০১৯ সালের ১৭ জুন  মিসরের একটি আদালতের এজলাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ৬৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন [১৩৯][১৪০][১৪১]

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

মুরসি ১৯৭৯ সালে নাগলা আলী মাহমুদকে বিবাহ করেন। [১৪২]নাগলা আলী মাহমুদ বলেছিলেন যে তিনি নিজেকে "ফার্স্ট লেডি" হিসাবে নয় বরং "মিশরীয় জনসাধারণের প্রথম সেবিকা" হিসাবে উল্লেখ করতে চান। [১৪৩]

মুরসি পাঁচ সন্তানের জনক ছিলেন।[১৪৪] তন্মধ্যে আহমাদ মুহাম্মাদ মুরসি; যিনি সৌদি আরবের একজন চিকিৎসক, শাইমা; যিনি জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন, ওসামা; একজন আইনজীবী, ওমর; যিনি জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতক করেছেন, এবং আবদুল্লাহ, [১৪৫] যিনি ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে গাড়ি চালানোর সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন বলে বলা হয়েছিল। কিন্তু তার আইনজীবীরা ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে বলেছিলেন যে তাকে প্রাণনাশক পদার্থ দিয়ে ইনজেকশন দেওয়ার পরে হত্যা করা হয়।[১৪৬]মুরসির পাঁচ সন্তানের মধ্যে দু'জনের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ায় এবং তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। [১৪৭]মুরসির তিনজন নাতি-নাতনি রয়েছে। [১৪৫]তার তৃতীয় পুত্র ওমর স্নাতক হওয়ার ছয় মাস পর একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'হোল্ডিং কোম্পানি ফর এয়ারপোর্টে' নিযুক্ত হন। [১৪৮]তবে, মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে অনেক গুজব প্রচারিত হওয়ার কারণে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। [১৪৯] [১৫০]

রাষ্ট্রীয় সফরে থাকাকালীন, মুরসিকে ১৮ মার্চ ২০১৩ তারিখে গোটা বিশ্বে সম্প্রীতি এবং মুসলিম দেশসমূহের মাঝে বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার কারণে শান্তি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি (NUST) দ্বারা সম্মানসূচক ডক্টরেট (পিএইচডি) প্রদান করা হয়। [১৫১] [১৫২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Muslim Brotherhood's candidate and first president after Mobarak"। ২৭ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১২ 
  2. "Muslim Brotherhood candidate Morsi wins Egyptian presidential election"। Fox News.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০১২ 
  3. "شورى الإخوان" يسمي مرسي رئيسًا لـ"الحرية والعدالة". إخوان اون لاين، 2011-4-30. وصل لهذا المسار في 1 مايو 2011.
  4. "Profile: Egyptian presidential frontrunner Mohamed Mursi"Asharq Alawsat। ২৫ মে ২০১২। ২০ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০১৩ 
  5. "Muhammad Morsi: An ordinary man"The Economist। ৩০ জুন ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১২ 
  6. "Who is Mohamed Morsi? – Presidential elections news – Presidential elections 2012 – Ahram Online"ahram.org.eg 
  7. CNN Library (২৮ ডিসেম্বর ২০১২)। "Mohamed Morsy Fast Facts"CNN 
  8. David Matthews (১৯ জুলাই ২০১২)। "Academic-turned-politician aims to fix engine of state"The Times of Higher Education। ১৩ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  9. Driggs, Alexis (২৬ জুন ২০১২)। "Egyptians elect USC alumnus"Daily Trojan। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  10. Mertz, Ed (২৫ জুন ২০১২)। "Egyptian President-Elect Has Ties To USC, CSUN"। KNX (CBS News)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০১৩ 
  11. Katherine Jane O'Neill (১২ এপ্রিল ২০১৩)। "How Morsi's English 'destroyed' his US students"Saudi Gazette। ১ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  12. "Egypt Brotherhood candidate: army wants to retain power"Al-Akhbar। ১৮ এপ্রিল ২০১২। ২১ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১২ 
  13. Hiel, Betsy (২০ মে ২০১২)। "Muslim Brotherhood's rhetoric reveals intent in Egypt"TribLIVE। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১২ 
  14. "Egypt's Islamists seek 'grand coalition' with liberals, minorities"The Hindu। ৩০ মে ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১২  Authors list-এ |প্রথমাংশ1= এর |শেষাংশ1= নেই (সাহায্য)
  15. "Morsy demands Okasha be banned from TV"Egypt Independent। ৩০ মে ২০১২। ৩১ মে ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১২ 
  16. Sterling: Gauging Muslims' ability to leave their faith ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ জুন ২০১২ তারিখে retrieved 10 June 2012
  17. http://www.bbc.co.uk/news/world-18571580
  18. Yasmine Fathi (২৪ জুন ২০১২)। "Brotherhood campaigners elated as Mursi is named Egypt's next president"। Al Ahram। 
  19. "Mohamed Morsi sworn in as Egypt's first popularly-elected president"। CNN। ৩০ জুন ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০১২ 
  20. Conal Urquhart (৩০ জুন ২০১২)। "Mohamed Morsi sworn in as Egyptian president"The Guardian। London। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১২ 
  21. Hamza Hendawi (১৬ জুন ২০১২)। "Egypt votes for president to succeed Mubarak"। Associated Press। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১২ 
  22. Hamid, Shadi (৭ জুন ২০১২)। "Brother Number One"Foreign Policy। ৩০ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১২ 
  23. Fleishman, Jeffrey (২৫ জানুয়ারি ২০১২)। "Egypt's Mohammed Morsi moves into Mubarak's presidential office, meets with military"Toronto Star। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  24. "Egypt's Morsi at Tahrir Square: Power of the people is above all"Haaretz। Reuters and Associated Press। ২৯ জুন ২০১২। ১৩ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  25. David D. Kirkpatrich (২৯ জুন ২০১২)। "Egypt's New Leader Takes Oath, Promising to Work for Release of Jailed Terrorist"The New York Times। ১৩ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  26. Hendrix, Steve; Londoño, Ernesto (৮ জুলাই ২০১২)। "Egypt's Morsi makes bid to reinstate Islamist parliament"The Washington Post। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১২ 
  27. Watson, Ivan (১০ জুলাই ২০১২)। "Egyptian parliament to convene in defiance of generals"। CNN। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  28. "Vice president quits as Egypt votes on constitution"Reuters। ২২ ডিসেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১২ 
  29. "Egypt's Morsi names new prime minister"। Al Jazeera। ২৪ জুলাই ২০১২। ১২ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  30. Wahba, Abdel Latif; El-Tablawy, Tarek (২ আগস্ট ২০১২)। "Egypt's New Government Prepares to Take Helm of Nation"। Bloomberg L.P.। ১২ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  31. "Egyptian President Morsi Rejects Previous Limits on Presidential Power"। PBS। ১৩ আগস্ট ২০১২। ১৪ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  32. "Egypt leader Mursi orders army chief Tantawi to resign"BBC News। ১২ আগস্ট ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  33. "Egypt's president asserts authority over army"। Al Jazeera। ১২ আগস্ট ২০১২। ১২ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  34. Kareem Fahim (১২ আগস্ট ২০১২)। "Egyptian Leader Ousts Military Chief"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  35. Elyan, Tamim (১৪ আগস্ট ২০১২)। "Egypt's Mursi faces lawsuit over removal of power curbs"Reuters। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  36. Iqbal, Farhan (১৬ আগস্ট ২০১২)। "President Morsi fires Egypt's Intelligence Chief over Sinai unrest"Al Arabiya। Cairo। ৯ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০১২ 
  37. Michael, Maggie। "Egypt President names mainly Islamist adviser team"। Associated Press। ২৫ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ আগস্ট ২০১২ 
  38. Mazel, Zvi (২৩ আগস্ট ২০১২)। "Analysis: Brotherhood taking total control of Egypt"The Jerusalem Post। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১২ 
  39. "Egypt sees revenue in Suez Canal corridor project"Reuters। ১০ অক্টোবর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০১৪ 
  40. "Egypt President Morsi wants India to join Suez Canal corridor project"। India TV। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০১৪ 
  41. "New Suez Canal project proposed by Egypt to boost trade"। Cairo News.Net। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০১৪ 
  42. "In Public Prayer Morsi Appeals to Allah to 'Deal with the Jews' (Video)"Jewish Press। ২২ অক্টোবর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১২ 
  43. "Al-Ahram: The Jews Caught a Fat Fish with Morsi's Hate Video"Jewish Press। ২৫ অক্টোবর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১২ 
  44. Kumar, Anugrah (১৯ নভেম্বর ২০১২)। "Egypt's New Coptic Pope Enthroned in President Morsi's Absence"CP World। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৩ 
  45. Kirkpatrick, David (২৪ নভেম্বর ২০১২)। "Morsi Urged to Retract Edict to Bypass Judges"The New York Times। ২৫ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০১২ 
  46. "Rallies for, against Egypt president's new powers"ABC News। Associated Press। ২৩ নভেম্বর ২০১২। ২৫ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১২ 
  47. Birnbaum, Michael (২২ নভেম্বর ২০১২)। "Egypt's President Morsi takes sweeping new powers"The Washington Post। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১২ 
  48. "Egypt unrest: Anti-Mursi protests intensify"BBC News। ২৪ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০১২ 
  49. Kareem Fahim; David Kirkpatrick (২৩ নভেম্বর ২০১২)। "Clashes Break Out After Morsi Seizes New Power in Egypt"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  50. "Tea and tear gas in Tahrir Square"। Amnesty International। ১৯ নভেম্বর ২০১২। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০২২ 
  51. "Egypt: President Morsi changes to the constitution trample rule of law"। Amnesty International। ৩০ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  52. "Denounces Morsi Power-Grab in Egypt"। Freedom House। ১১ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০২২ 
  53. "Egypt: Morsy Decree Undermines Rule of Law"। Human Rights Watch। ২৬ নভেম্বর ২০১২। 
  54. Batrawy, Aya (২৪ নভেম্বর ২০১২)। "Egypt's top judges slam president's new powers"Associated Press। ২৫ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০১২ 
  55. "Egypt's president calls for dialogue after disputed charter passed, proclaims new republic" 
  56. Bradley, Matt; Dagher, Sam (২৮ নভেম্বর ২০১২)। "Cairo Impasse Raises Economic Alarms"The Wall Street Journal। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১২ 
  57. "Egypt to hold December referendum on new constitution"BBC News। ১ ডিসেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  58. "Morsi's decree cancelled, constitution referendum to take place on time"। Ahram Online। ৯ ডিসেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১২ 
  59. Saleh, Yasmine; Awad, Marwa (৪ ডিসেম্বর ২০১২)। "Egypt's Mursi leaves palace as police battle protesters"Reuters। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১২ 
  60. "Egypt's Mursi annuls controversial decree, opposition says not enough"Al Arabiya। ৯ ডিসেম্বর ২০১২। ৯ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১২The two issues – the decree and the referendum – were at the heart of anti-Mursi protests that have rocked Egypt in the past two weeks. 
  61. McCrummen, Stephanie (৮ ডিসেম্বর ২০১২)। "Egypt's Morsi annuls most of contested decree, stays firm on Dec. 15 referendum"The Washington Post। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১২ 
  62. Kirkpatrick, David D. (২৮ ডিসেম্বর ২০১২)। "Backing Off Added Powers, Egypt's Leader Presses Vote"The New York Times। Egypt। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১২ 
  63. "Egypt's Morsi rescinds controversial decree"। Al Jazeera। ৯ ডিসেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১২ 
  64. "Egypt crisis: Morsi offers concession in decree annulment"BBC News। ৯ ডিসেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১২ 
  65. al-Qazzaz, Khaled, "Why Is the World Silent?", op-ed, New York Times, 27 June 2014. Retrieved 28 June 2014.
  66. Ezzat, Dina (১৮ জুলাই ২০১২)। "Destination Riyadh"। ৩০ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০১৩ 
  67. "Morsy to seek closer ties with Saudi Arabia"The Hindu। Chennai, India। ১১ জুলাই ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  68. Theodoulou, Michael. Islamists' jubilant but some are wary of Morsi The National. 12 June 2012.
  69. Kirkpatrick, David D. (১৮ মার্চ ২০১৩)। "Jordan's King Finds Fault With Everyone Concerned"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ১২ মে ২০২০ 
  70. Tsourapas, Gerasimos (২০১৮)। "Labor Migrants as Political Leverage: Migration Interdependence and Coercion in the Mediterranean": 383–395। আইএসএসএন 0020-8833ডিওআই:10.1093/isq/sqx088  
  71. "Morsi role at Syria rally seen as a tipping point for Egypt army"The Irish Times। ২ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৩ 
  72. Perry, Tom (১৫ জুন ২০১৩)। "Mursi cuts Egypt's Syria ties, backs no-fly zone"Reuters। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  73. "Egypt seen to give nod toward jihadis on Syria"Salon। ১৭ জুন ২০১৩। ১৬ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৩ 
  74. Qabbani, Abdulhamid (২ সেপ্টেম্বর ২০১৩)। "Smuggling Syrian refugees out of Egypt"Al Jazeera। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০১৯ 
  75. "Egypt and Iran: Pious politics"The Economist। ৪ মে ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  76. "Morsi's office confirms warm letter to Peres is authentic"The Times of Israel। ১৮ অক্টোবর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১২ 
  77. Ilan Ben Zion; Elhanan Miller (৩১ জুলাই ২০১২)। "Morsi denies sending friendly letter to Peres"The Times of Israel। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১২ 
  78. Tzvi Ben Gedalyahu (২৫ জুন ২০১২)। "Cairo Gov't Conceived in Violence, Bred in Chaos"। Arutz Sheva। ১৩ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  79. Peter Beaumont (১৪ নভেম্বর ২০১২)। "Egypt condemns Israeli air strikes in Gaza and demands ceasefire"The Guardian। London। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০১২ 
  80. "Israel Hits Hamas PM's Office, Readies Troops"The Wall Street Journal। ১৭ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১২ 
  81. "Egypt PM to visit Gaza on Friday"। Agence France-Presse। ১৭ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১২ 
  82. Nisman, Daniel (১৯ নভেম্বর ২০১২)। "Why Morsi Could Be the Gaza Conflict's Biggest Loser"The Huffington Post। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১২ 
  83. "Cease-fire reached in Gaza conflict"। CNN। ২১ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১২ 
  84. Behar, Richard (১১ জানুয়ারি ২০১৩)। "News Flash: Jews Are 'Apes And Pigs.' So Why Is Egypt's Morsi The Elephant In America's Newsrooms?"Forbes। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  85. "Egypt's Morsi, in 2010 interviews posted online, called Zionists 'bloodsuckers' and descendants of pigs, urged to sever all ties with Israel"The Times of Israel। ৪ জানুয়ারি ২০১৩। 
  86. "Morsi in 2010: No to Negotiations with the Blood-Sucking, Warmongering "Descendants of Apes and Pigs"; Calls to Boycott U.S. Products"Memri TV 
  87. "Morsi called Israelis 'descendants of apes and pigs' in 2010 video"HaaretzJTA। ৪ জানুয়ারি ২০১৩। 
  88. "Morsi: No peace with descendants of apes and pigs"The Jerusalem Post। ৪ জানুয়ারি ২০১৩। 
  89. Kirkpatrick, David D. (১৫ জানুয়ারি ২০১৩)। "Morsi's Slurs Against Jews Stir Concern"The New York Times 
  90. "McCain chides Egypt's Morsi over remarks on Jews" 
  91. "Mohamed Morsi Comments On Jews 'Taken Out Of Context', Says Egypt Spokesman"The Huffington Post। ১৬ জানুয়ারি ২০১৩। ১৮ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৩ 
  92. "Offensive remarks about Jews were taken out of context, Egypt's president insists during Germany visit"National Post। Associated Press। ৩০ জানুয়ারি ২০১৩। 
  93. Hamza Hendawi (১৫ জুলাই ২০১২)। "Egypt's Morsi in Ethiopia for AU summit"Yahoo NewsAssociated Press। ১২ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  94. TURNER, CRAIG (২৭ জুন ১৯৯৫)। "Egypt's Leader Survives Assassination Attempt : Africa: Muslim extremists suspected in attack on Mubarak's motorcade in Ethiopia. President is unharmed."Los Angeles Times 
  95. Egyptian politicians caught in on-air Ethiopia dam gaffe Retrieved 4 June 2013
  96. "Egypt President to Visit Iran"The Daily Beast। ১৮ আগস্ট ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০১২ 
  97. "Morsi Claims against Syrian Government"Parsine (ফার্সি ভাষায়)। ৩১ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১২ 
  98. "Morsi criticises Syria at Tehran Meeting"। ৩০ আগস্ট ২০১২। 
  99. "Syrian delegates walk out after Morsi slams Assad"France 24Reuters। ৩০ আগস্ট ২০১২। 
  100. "Islamic summit backs Mali government, omits France"Ahram Online। Reuters। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৩ 
  101. Saleh, Yasmine (৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "Islamic summit urges dialogue on Syria transition"Reuters। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৩ 
  102. "Egypt: Morsy Awards OIC Chief Grand Sash of Nile"All Africa। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০২১ 
  103. Ben Gedalyahu, Tzvi. "Mursi Vows to Preserve International Agreements" Israel National News, 25 June 2012.
  104. Umar Farooq (৩০ জুন ২০১৩)। "Seeking New Leadership, Millions of Egyptians Take to the Streets"The Atlantic 
  105. Abdelaziz, Salma (১ জুলাই ২০১৩)। "Egyptian military issues warning over protests"CNN। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১৩ 
  106. Coup topples Egypt's Morsy; supporters reportedly rounded up – CNN.com. Edition.cnn.com. Retrieved on 14 August 2013.
  107. "Egypt PM Qandil addresses resignation to Morsi, slams military coup"The Journal of Turkish Weekly। ৯ জুলাই ২০১৩। ১৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  108. "Profile: Morsi Kidnapped"The Jerusalem Post। ১৩ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  109. Goyette, Braden (১৩ নভেম্বর ২০১৩)। "Morsi Claims He Was Kidnapped Before Ousting"Huffington Post 
  110. "Egypt Army Hiding Morsi In Secret Location, Extreme Measures Taken To Keep Detention Site Hidden"Huffington Post। ৩১ জুলাই ২০১৩। 
  111. "Catherine Ashton Meets With Mohammed Morsi, Says Egypt's Ex-President Doing Well"Huffington Post। ৩০ জুলাই ২০১৩। 
  112. "Ousted Egypt leader Morsi in good health, says EU's Ashton"BBC News। ৩০ জুলাই ২০১৩। 
  113. "EU's Catherine Ashton meets with Mohammed Morsi: 'He is well'"The Washington Times 
  114. "Egypt starts Morsi trial for leaking documents to Qatar"Ahram Online। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  115. "Morsi Charges (Arabic)"। ২২ ডিসেম্বর ২০১৩। ১২ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  116. Sadek, George (এপ্রিল ২০১৪)। "Egypt: Pending Charges Against Mohammed Morsi" (PDF)gpo.govLaw Library of Congress। ১২ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  117. El Deeb, Sarah (১ সেপ্টেম্বর ২০১৩)। "Egypt's Morsi to be tried for inciting violence"USA Today। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  118. "Egypt sets November trial date for Morsi"। Al Jazeera। ১০ অক্টোবর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  119. Abdallah, Abdel (১৮ ডিসেম্বর ২০১৩)। "Prosecutor General orders Morsi tried for espionage along with Brotherhood leaders"Daily News Egypt 
  120. Kingsley, Patrick (২৮ জানুয়ারি ২০১৪)। "Mohamed Morsi defiant in face of jailbreak and conspiracy charges"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  121. Louisa Loveluck (৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪)। "Egypt's interim leader says end to 'pharaoh presidents' as Morsi trial resumes"The Daily Telegraph। London। ১২ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  122. "Egypt's Morsi trial adjourned to March 1"Yahoo News। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  123. "Egypt's Morsi trial adjourned to May 17"APA। ৭ মে ২০১৪। ৫ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০১৪ 
  124. Aaron Rose (১৯ মে ২০১৪)। "Morsi prison break trial resumes"Daily News Egypt 
  125. Bill Chappell (২১ এপ্রিল ২০১৫)। "Egypt's Former President Morsi Sentenced To 20 Years In Prison"। National Public Radio। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০১৫ 
  126. Jared Malsin; Owen Bowcott (২১ এপ্রিল ২০১৫)। "Egypt's former president Mohamed Morsi sentenced to 20 years in prison"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  127. "Mohammed Morsi, Egypt's ousted president, sentenced to death"The Times of India। ১৬ মে ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  128. "Update: Morsi, Badie sentenced to death in "prison break case""। The Cairo Post। ১৬ মে ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মে ২০১৫ 
  129. "Mohamed Morsi death sentence condemned as politically-motivated 'charade' by supporters and rights groups". The Independent. 16 May 2015
  130. "Mohammed Morsi: Egypt's former president given life in spying case"BBC News। ১৮ জুন ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১৬ 
  131. Hendawi, Hamza (১৮ জুন ২০১৬)। "Egyptian court sentences 2 Al-Jazeera employees to death"। Associated Press। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  132. "Mohamed Morsi life sentence quashed by Egypt court"Middle East Eye। ২২ নভেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  133. "Mohammed Morsi death sentence overturned"BBC। ১৫ নভেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৬ 
  134. Samy Magdy (১৭ জুন ২০১৯)। https://web.archive.org/web/20190617164116/https://time.com/5608435/egypt-mohammed-morsi-dies/। ১৭ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১৯  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  135. "Detention Review Panel"Detention Review Panel 
  136. Morsi facing early death in inhuman prison conditions, British MPs say, Dania Akkad, 28 March 2018, middleeasteye.net
  137. Sick former president Mohamed Morsi ‘faces death in prison’, Bel Trew, 28 March 2018 The Times
  138. "Police detain former president's youngest son"Washington Post। ১১ অক্টোবর ২০১৮। 
  139. "Egypt's ousted president Morsi dies during trial" (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৬-১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  140. "Egypt's ousted president Morsi dies during trial" (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৬-১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৯ 
  141. "Egypt's ex-President Mohamed Morsi dies after court appearance"www.aljazeera.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৯ 
  142. Mayy El Sheikh (২৭ জুন ২০১২)। "Egypt's Everywoman Finds Her Place is In The Presidential Palace"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১২ 
  143. Aya Batrawy (২৮ জুন ২০১২)। "Morsi's wife prefers 'first servant' to first lady"The Globe and Mail। Toronto। ২ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১২ 
  144. "Egyptian president's son is Saudi-based urologist"Asharq Alawsat। ২৬ জুন ২০১২। ৯ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০১৩ 
  145. "Son of Egypt's President-elect Mursi to resume medical career in Saudi Arabia"Al Arabiya। ২৭ জুন ২০১২। ২৪ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  146. "Egypt: Lawyers say Morsi's son killed by 'lethal substance'"Al Jazeera। ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। 
  147. Tom Perry (২৪ জুন ২০১২)। "Newsmaker: Egypt's Morsy goes from prisoner to president"Reuters। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১২ 
  148. "No competition"Al Ahram। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  149. "Omar Morsi criticised for rejecting job"। The Voice of Russia। ৭ এপ্রিল ২০১৩। ২৯ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  150. "Omar Morsi rejects the job"। Boswtol। ৭ এপ্রিল ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  151. "NUST awards honourary doctorate degree to Egyptian President Mohamed Morsi"। ১৮ মার্চ ২০১৩। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০১৩ 
  152. "Morsi gets an honourary doctorate"। ১৮ মার্চ ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০১৩ 
রাজনৈতিক দপ্তর
পূর্বসূরী
সংগঠন ও পদের উৎপত্তি
চেয়ারম্যান
ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি

২০১১-২০১২
উত্তরসূরী
ঘোষিতব্য
পূর্বসূরী
হোসনি মুবারাক
মিশরের রাষ্ট্রপতি
২০১২
উত্তরসূরী
পদে আসীন
পূর্বসূরী
মোহামেদ হুসেইন তানতায়ুই
মহাসচিব
নন-অ্যালাইনড মুভমেন্ট

২০১২
উত্তরসূরী
পদে আসীন