রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি, রাজনীতিবিদ

রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান[টীকা ১][১][২][৩] (তুর্কী: Recep Tayyip Erdoğan; আ-ধ্ব-ব: [ɾeˈd͡ʒep tajˈjip ˈæɾdo.an]; জন্ম: ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪) হলেন তুরস্কের ১২তম রাষ্ট্রপতি যিনি ২০১৪ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ সালে তিনি একে পার্টি (জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট পার্টি বা একেপি) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার অল্প দিনের মধ্যেই দলটি জনসমর্থনের মাধ্যমে এক নম্বর অবস্থানে চলে আসে। দলটি ১৯৮৪ সালের পর প্রথমবার তুরস্কের ইতিহাসে একদলীয় দল হিসেবে এবং পরপর ৪ বার (২০০২, ২০০৭, ২০১১,২০১৪) সাংসদীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়। রাষ্ট্রপতি হবার পূর্ব পর্যন্ত তিনি ক্ষমতাসীন এই দলের সভাপতি ও প্রধান দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান
Recep Tayyip Erdogan.PNG
রাষ্ট্রপতি
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
২৮ আগস্ট ২০১৪
প্রধানমন্ত্রীবিনালি ইলদিরিম
পূর্বসূরীআবদুল্লাহ গুল
তুরস্কের ২৫তম প্রধানমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১৪ই মার্চ ২০০৩ – ২৮ আগস্ট ২০১৪
রাষ্ট্রপতিআহমেদ নেজদেত সেজার
আব্দুল্লাহ গুল
পূর্বসূরীআবদুল্লাহ গুল
উত্তরসূরীআহমেত দেভাতগলু
জাস্টিস এন্ড ডেভলপমেন্ট পার্টির প্রধান
কাজের মেয়াদ
১৪ আগস্ট ২০০১ – ২৭ আগস্ট ২০১৪
পূর্বসূরীস্বপ্রতিষ্ঠিত
উত্তরসূরীআহমেত দেভাতগলু
ইস্তাম্বুলের হয়ে
সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
২২শে জুলাই ২০০৭ – ২৮ আগস্ট ২০১৪
সংসদীয় এলাকাপ্রথম ইলেক্টোরাল ডিস্ট্রিক
সির্তের হয়ে
সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
৯ মার্চ ২০০৩ – ২২ জুলাই ২০০৭
সংসদীয় এলাকাসির্ত প্রদেশ
ইস্তাম্বুলের মেয়র
কাজের মেয়াদ
২৭ মার্চ ১৯৯৪ – ৬ নভেম্বর ১৯৯৮
পূর্বসূরীনিউরেতিন সোজেন
উত্তরসূরীআলী মুফিত গার্তোনা
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1954-02-26) ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪ (বয়স ৬৭)
ইস্তাম্বুল, তুরস্ক
রাজনৈতিক দলজাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি (২০০১-বর্তমান)
অন্যান্য
রাজনৈতিক দল
জাতীয় স্যালভেশন পার্টি (১৯৮১-এর পূর্বে)
ওয়েলফেয়ার পার্টি (১৯৮৩-১৯৯৮)
ভার্চো পার্টি (১৯৯৮-২০০১)
দাম্পত্য সঙ্গীএমিনি গালবারেন (১৯৭৮-বর্তমান)
সন্তানআহমেত বারান এরদোগান
নেকমিতিন বিলাল
এশরা
সামিয়ে
পিতামাতাআহমদ এরদোয়ান (পিতা)
তানজিলে হানিম (মাতা)
প্রাক্তন শিক্ষার্থীমারমারা বিশ্ববিদ্যালয়
ধর্মসুন্নি ইসলাম
স্বাক্ষর
ওয়েবসাইটতুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের ওয়েবসাইট

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পুর্বেও ২০০৩ সাল হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তুরষ্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং তার পূর্বে ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলের মেয়র হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকারের চুক্তি, বিগত দশবছর ধরে চলাকালীন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও তুর্কি লিরার (তুর্কি মুদ্রা) মুল্য পুনর্নিধারণ, সুদের হার কমানো,অতীতে উসমানীয় শাসনাধীন দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিশ্বমহলে নেতৃস্থানীয় ও সৌহার্দ্যপুর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠাপ্রাপ্তিকে মুল লক্ষ্য রেখে বৈদেশিক নীতি গ্রহণ (নব্য-উসমানবাদ), বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ, প্রভৃতি কারণে বিশ্বমহলে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত।[৪][৫]

এরদোয়ান জর্দানের আম্মান নগরীভিত্তিক রাজকীয় ইসলামি কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্র (Royal Islamic Strategic Studies Centre) কর্তৃক প্রকাশিত সাংবাৎসরিক সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলমান (The 500 Most Influential Muslims) শীর্ষক প্রকাশনাটির ২০১৯ ও ২০২১ সালের সংস্করণগুলিতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলমান হিসেবে চিহ্নিত হন।[৬]

জন্মসম্পাদনা

এরদোয়ান ১৯৫৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের কাছিমপাশা শহরতলীতে আহমদ এরদোয়ান ও তানজিলে হানিম দম্পতির পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আহমদ এরদোয়ান পেশায় একজন জাহাছের ক্যাপ্টেন ছিলেন। পাঁচজন সহোদরের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।

এরদোয়ান তার জন্ম সম্পর্কে বলেন:

আমার আসল এলাকা "রিজে"। তবে আমার জন্ম কাছিমপাশায় ১৯৫৪ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি।

— [৭]

শিক্ষাজীবনসম্পাদনা

তিনি পিয়ালেপাশা শহরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা শুরু করেন এবং ১৯৬৪-১৯৬৫ সালে তিনি এখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং ইমাম হাতিব স্কুলে ভর্তি হন।[৮] ইমাম হাতিব স্কুল থেকে দ্বাদশ শ্রেণী সমাপ্ত করে তিনি আয়্যুব কলেজে ভর্তি হন। ১৯৭৩ সালে তিনি ব্যবসায় শিক্ষা ও অর্থনীতি ইন্সটিটিউটে নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৭ সালে উত্তীর্ণ হয়ে এখানে পড়ালেখা সমাপ্ত করেন।

কর্মজীবনসম্পাদনা

এরদোয়ান পারিবারিক অসচ্ছলতার কারনে তিনি বাজারে সিমিত (একপ্রকার রুটি) বিক্রি করতেন। তিনি এর লভ্যাংশের একাংশ দ্বারা বিদ্যালয়ের বেতন পরিশোধ করতেন।

ফুটবলসম্পাদনা

এরদোয়ান ১৪ বছর বয়সে কাছিমপাশা জামিয়ালতি ক্রীড়া ক্লাবে যোগদান করেন। উক্ত ক্লাবে সাত বছর খেলে তিনি ইস্তাম্বুলের আইইটিটি ফুটবল দলে পেশাজীবী ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দেন এবং একসময় দলের ক্যাপ্টেন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তিতে তিনি জাতীয় যুব ফুটবল ক্লাবে খেলার সুযোগ লাভ করেন। তবে পারিবারিক বিরোধিতার ফলে তিনি আর অগ্রসর হতে পারেননি।[৯]

পাদটীকাসম্পাদনা

  1. এই তুর্কি ব্যক্তিনামটির বাংলা প্রতিবর্ণীকরণে মূল তুর্কি উচ্চারণের সবচেয়ে কাছাকাছি ও সহজবোধ্য বাংলা বানানের নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "তুরষ্কে উদ্ধার তত্পরতা চলছে"। ২৫ অক্টোবর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০২১ 
  2. "জেরুসালেম প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রকে উচিত শিক্ষা দিন: তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান"। ২১ ডিসেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০২১ 
  3. "খাসোগজি হত্যায় যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা"। ২১ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০২১ -এ ব্যবহার করা হয়েছে।
  4. "Growing consumption"Metro Group। ২৪ নভেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১২ 
  5. Nick Tattersall (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "Erdogan's ambition weighs on hopes for new Turkish constitution"। Stratejik Boyut। ১৭ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৩ 
  6. The World's 500 Most Influential People (PDF) (2021 সংস্করণ)। Amman: The Royal Islamic Strategic Studies Centre। ২০১৩। পৃষ্ঠা 66–86। আইএসবিএন 978-9957-635-56-5। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০২০ 
  7. কাদের গুর। ২০০৩। পৃষ্ঠা ১২–১৩। 
  8. কাদের গুর। ২০০৩। পৃষ্ঠা ১৩। 
  9. রেজেপ তায়্যিপ এরদোয়ান ডকুমেন্টারি। ২০১২। 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

মিডিয়া কাভারেজ
রাজনৈতিক দপ্তর
পূর্বসূরী
নিউরেতিন সোজেন
ইস্তানবুলের মেয়র
১৯৯৪–১৯৯৮
উত্তরসূরী
আলি মুফিট গুর্তুনা
পূর্বসূরী
আব্দুল্লাহ গুল
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী
২০০৩–২০১৪
উত্তরসূরী
আহমেট দেভাতগ্লু
তুরস্কের রাষ্ট্রপতি
২০১৪–বর্তমান
নির্ধারিত হয়নি
পার্টির রাজনৈতিক কার্যালয়
নতুন অফিস সভাপতি, জাস্টিস এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি
২০০১–২০১৪
উত্তরসূরী
আহমেদ দেভাতগ্লু