প্রধান মেনু খুলুন

এডি বার্লো

দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার

এডগার "এডি" জন বার্লো (ইংরেজি: Edgar "Eddie" John Barlow; জন্ম: ১২ আগস্ট, ১৯৪০ - মৃত্যু: ৩০ ডিসেম্বর, ২০০৫) দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সভাল প্রদেশের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথিতযশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পক্ষে তিনি অল-রাউন্ডারের ভূমিকা পালন করতেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও ডানহাতি মিডিয়াম পেসার ছিলেন তিনি। ১৯৬০-এর দশকে বেশ রান করেছেন ও নিয়মিতভাবে উইকেট লাভকারী বোলার ছিলেন এডি বার্লো

এডি বার্লো
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামএডগার জন বার্লো
জন্ম(১৯৪০-০৮-১২)১২ আগস্ট ১৯৪০
প্রিটোরিয়া, ট্রান্সভাল প্রদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা
মৃত্যু৩০ ডিসেম্বর ২০০৫(2005-12-30) (বয়স ৬৫)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি ব্যাটসম্যান
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম পেস
ভূমিকাকোচ
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩০ ২৮৩
রানের সংখ্যা ২,৫১৬ ১৮২১২
ব্যাটিং গড় ৪৫.৭৪ ৩৯.১৬
১০০/৫০ ৬/১৫ ৪৩/৮৬
সর্বোচ্চ রান ২০১ ২১৭
বল করেছে ৩০২১ ৩১৯৩০
উইকেট ৪০ ৫৭১
বোলিং গড় ৩৪.০৫ ২৪.১৪
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৬
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/৮৫ ৭/২৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩৫/- ৩৩৫/-
উৎস: ক্রিকইনফো, ২৫ আগস্ট ২০১৭

১৯৬২ সালে ছয়জন বর্ষসেরা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারের একজন হিসেবে মনোনীত হন। এডি বার্লো'র ডাক নাম ছিল বান্টারনিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের এক প্রান্ত তাঁর নামে রাখা হলেও পরবর্তীকালে প্রতিপক্ষীয় ক্লাব দলগুলো আপত্তি জানালে তা স্থগিত রাখা হয়। এডি বার্লো ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[১] তাঁর পরিকল্পনায় পরের বছরই দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে টেস্ট মর্যাদার অধিকারী হয়।

পরিচ্ছেদসমূহ

খেলোয়াড়ী জীবনসম্পাদনা

বার্লো দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পক্ষ হয়ে ৩০টি টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৩-৬৪ সালে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে তিনি অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ সিরিজে তিনি অ্যাডিলেডে দ্বি-শতকসহ ৬০৩ রান করেন।

১৯৬৪-৬৫ সালে নিউল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।[২] ইংলিশ বোলার ফ্রেড টিটমাসের বোলিংয়ের সময় গালি অঞ্চলে পিটার পারফিট বল লুফে নিলেও ব্যাট-প্যাডের সংস্পর্শ ঘটার অজুহাতে রক্ষা পান। সর্বোপরি সিরিজটিতে তেমন কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মেজাজ লক্ষ্য করা যায়নি। বার্লো শতক পেলেও তা ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে স্বীকৃত পায়নি; কিন্তু অল্প কিছুক্ষণ পরেই টনি পিথে অর্ধ-শতক পেলে ইংলিশ খেলোয়াড়গণ বাহ্বা দেন। মূলতঃ তাঁর আচরণই এর প্রধান কারণ ছিল চলে ধারণা করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় পত্রিকাগুলো ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভঙ্গীমায় লেখে।

১৯৭০ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্ব একাদশের পক্ষ হয়ে পাঁচ খেলার সিরিজে অংশগ্রহণ করেন তিনি। তন্মধ্যে, হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ খেলায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি তৎকালীন ১৭তম হ্যাট্রিক করেন। পাঁচ বলে প্রথম তিন উইকেটসহ চারজন ব্যাটসম্যানকে আউট করেন।[৩] শুরুতে এ খেলাগুলোকে টেস্ট ম্যাচ হিসেবে গণ্য করা হলেও পরবর্তীকালে এ মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।[৪] প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে ৭ উইকেট সংগ্রহ তাঁর সেরা বোলিং পরিসংখ্যান হতে পারত এবং খেলায় তিনি ১৪২ রানে ১২ উইকেট লাভ করেছিলেন, যা টেস্টে তাঁর একমাত্র ১০ উইকেট প্রাপ্তি ছিল।[৫]

বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের পরিচালনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটারদের জন্য নতুন যুগের সুচনা হয়। বার্লোও প্রতিযোগিতার মেয়াদকালীন ১৯৭৭-৭৮ ও ১৯৭৮-৭৯ উভয় মৌসুমে খেলার জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ হন। তিনি ডব্লিউএসসি ক্যাভেলিয়ার্স দলের পক্ষ হয়ে অনেকগুলো অননুমোদিত সুপার টেস্ট খেলায় অধিনায়কত্ব করেছিলেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Barlow becoming coach of Bangladesh in 1999"। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০১৩ 
  2. the incident in the third Test at Newlands in 1964-65.
  3. "England v Rest Of The World, 1970 – 4th match"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১২ 
  4. "July 2000 – The best of the best?"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১২ 
  5. England v Rest of the World at Leeds, 1970

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা


পূর্বসূরী:
গর্ডন গ্রীনিজ
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ
১৯৯৯-২০০১
উত্তরসূরী:
ট্রেভর চ্যাপেল
পূর্বসূরী
বব টেলর
ডার্বিশায়ার ক্রিকেট অধিনায়কগণ
১৯৭৬-৭৮
উত্তরসূরী
জিওফ মিলার