আমিন খান

বাংলাদেশী অভিনেতা

আমিন খান (জন্ম: ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২) একজন বাংলাদেশী অভিনেতা। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানা অন্তর্ভুক্ত মৌতলা ইউনিয়নের এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ফুল নেবো না অশ্রু নেবো, স্বপ্নের নায়ক, বীর সন্তান, বাংলার কমান্ডো, হৃদয় আমার , হীরা চুনি পান্না, পিতার আসন, হৃদয়ের বন্ধন ইত্যাদি। চলচ্চিত্র জীবনে এখন পর্যন্ত তিনি ১৬০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি শাবনাজ, শাবনূর, মৌসুমী, পপি, পূর্ণিমা, চম্পা, শিল্পী, ঋতুপর্ণা, শাহনাজ, একা, সিমলা, মনিকা বেদী, সাহারা, নিপুণ, অপু বিশ্বাসসহ সব নায়িকাদের সাথে কাজ করেছেন।

আমিন খান
জন্ম
আমিনুল ইসলাম খান স্বপন

(1972-12-24) ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বয়স ৪৭)
খুলনা, বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশি
পেশাচিত্রনায়ক
কার্যকাল১৯৯০–বর্তমান
উল্লেখযোগ্য কর্ম
দুই ভাইয়ে যুদ্ধ,লাল দরিয়া,ও আমার দেশের মাটি, হৃদয়ের বন্ধন, হৃদয় আমার, তোমার আমার প্রেম প্রভৃতি
উচ্চতা৬ ফু ০ ইঞ্চি (১.৮৩ মি)
দাম্পত্য সঙ্গীস্নিগ্ধা খান
আত্মীয়আমিত হাসান

অভিনয় জীবনসম্পাদনা

নব্বইয়ের দশকে এফডিসির “নতুন মুখের সন্ধানে” প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। ১৯৯৩ সালে প্রথম তিনি “অবুঝ দুটি মন” চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন মোহাম্মদ হোসেন। স্বপ্নের নায়ক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় কিছুটা কমিয়ে দিলেও নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করছেন তিনি।[১] ২০১৬ সালে তিনি সর্বশেষ “এক জবানের জমিদার হেরে গেলেন এবার” নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।[২]

ক্যারিয়ারের ১ম সিনেমা অবুঝ দুটি মন ও ২য় সিনেমা দুনিয়ার বাদশাহ সুপারহিট ব্যবসা করলে আমিন খানকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, এ দুই সিনেমায় তার নায়িকা ছিল চাঁদনী ও শাবনূর। অ্যাকশন সিনেমায় সফল হওয়ায় নির্মাতারা রোমান্টিক সিনেমার পাশাপাশি অ্যাকশন সিনেমায়ও তাকে চুক্তিবদ্ধ করাতে থাকেন। ৯০ দশকের মাঝামাঝিতে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে সালমান, সানীর পাশাপাশি আমিন খানও নিজেকে চেনাতে সক্ষম হন। তার অভিনীত হৃদয় আমার, জনম জনম- ব্যবসা সফল ও জনপ্রিয় হয়। সালমান শাহ এর অসমাপ্ত সিনেমা স্বপ্নের নায়ক-এ অভিনয় করে প্রশংসিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৮/৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তোমার আমার প্রেম, সাগরিকা, লাভ ইন থাইল্যান্ড সিনেমাগুলোও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। অপরদিকে অ্যাকশন নায়ক হিসেবে বীর সন্তান, বাংলার কমান্ডো, শয়তান মানুষ, জনতার বাদশাহ, বিশ্বনেত্রী এ সিনেমাগুলোও তার ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের ব্যবসা সফল ও আলোচিত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

২০০০-০৬ সাল আমিন খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফলতার বছর। এ বছরগুলোতে আমিন খান অভিনীত প্রায় ৯০টি সিনেমা মুক্তি পায়। যার মধ্যে মুখোমুখি, নয়া কসাই, ফুল নেবো না অশ্রু নেবো, টোকাই থেকে হিরো, হীরা চুনি পান্না, জীবনের গ্যারান্টি নাই, মাস্তান নাম্বার ওয়ান, মাঝির ছেলে ব্যারিস্টার, পিতার আসন-সহ অনেক সিনেমা সুপারহিট ব্যবসা সফল হয়। এছাড়া আজ গায়ে হলুদ, জ্যান্ত কবর,তোমার জন্য ভালোবাসা, কাটা রাইফেল, হৃদয়ের বন্ধন, বিপদজনক, কঠিন বাস্তব, পুলিশ অফিসার, লাল দরিয়া, স্ত্রীর মর্যাদা, ঠেকাও মাস্তান, স্ত্রী কেন শত্রু, দোস্ত আমার সিনেমাগুলোও উল্লেখযোগ্য। ২০০৭ ও এর পরবর্তী সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে বধূবরণ, জীবনের চেয়ে দামী, চাকরের প্রেম, জমিদার বাড়ীর মেয়ে, সমাধি, স্বামী আমার বেহেশত, মা বড় না বউ বড়, পৃথিবী টাকার গোলাম, আমার স্বপ্ন আমার অহংকার, গরীবের মন অনেক বড়, ও আমার দেশের মাটি, মায়ের চোখ, লোভে পাপ পাপে মৃত্যু সিনেমাগুলো দর্শকপ্রিয়তা পায়।

১৯৯৮ সালে টিভি নাটকে অভিনয়ের দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১২ সাল থেকে বেশ কিছু টিভি নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয় করছেন। ভূ-চিত্র (বিন্দু), মন আমার (নওশীন), তুমি মানে তোমার চলে যাওয়া (অপর্ণা), ওশেন ব্লু (শশী), জামাই ধরা (মেহজাবিন), নিষ্কৃতি (অহনা), ডিসকাউণ্ট ইমরান (বাঁধন), সময়ের ভালোবাসা অসময়ে কেন বাসো (নওশীন), মন দরিয়ার মাঝি (প্রসূনআজাদ), লাভ স্পিড (পপি) অন্যতম।


পারিবারিক জীবনসম্পাদনা

১৯৯৮ সালে আমিন খান স্নিগ্ধা খানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্ত্রী-দুই ছেলে নিয়ে তিনি উত্তরায় থাকেন।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা