ফ্রেড বারাট

ইংরেজ ক্রিকেটার
(Fred Barratt থেকে পুনর্নির্দেশিত)

ফ্রেড বারাট (ইংরেজি: Fred Barratt; জন্ম: ১২ এপ্রিল, ১৮৯৪ - মৃত্যু: ২৯ জানুয়ারি, ১৯৪৭) নটিংহ্যামশায়ারের অ্যানেস্লে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯২০-এর দশকের শেষদিক থেকে শুরু করে ১৯৩০-এর দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ফ্রেড বারাট
ফ্রেড বারাট.jpg
১৯২৫ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে ফ্রেড বারাট
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামফ্রেড বারাট
জন্ম(১৮৯৪-০৪-১২)১২ এপ্রিল ১৮৯৪
অ্যানেস্লে, নটিংহ্যামশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২৯ জানুয়ারি ১৯৪৭(1947-01-29) (বয়স ৫২)
নটিংহাম, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট
ভূমিকাফাস্ট বোলার, পরবর্তীতে অল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৪৩)
২৭ জুলাই ১৯২৯ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৩০ বনাম নিউজিল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯১৪ - ১৯৩১নটিংহ্যামশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৭১
রানের সংখ্যা ২৮ ৬৪৪৫
ব্যাটিং গড় ৯.৩৩ ১৫.৫৩
১০০/৫০ -/- ২/২৪
সর্বোচ্চ রান ১৭ ১৩৯*
বল করেছে ৭৫০ ৬৪৭৬১
উইকেট ১২২৪
বোলিং গড় ৪৭.০০ ২২.৭২
ইনিংসে ৫ উইকেট - ৬৯
ম্যাচে ১০ উইকেট - ১১
সেরা বোলিং ১/৮ ৮/২৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/- ১৭৫/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩১ জুলাই ২০২০

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-বোলার কিংবা অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন তিনি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

খনি শ্রমিক পরিবারের সন্তান তিনি। ১৯১৪ সাল থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত ফ্রেড বারাটের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ফাস্ট-বোলার ও মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে ফ্রেড বারাটের সবিশেষ পরিচিতি ছিল।

দূর্দান্তভাবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেছিলেন ফ্রেড বারাট। ১৯১৪ সালে লর্ডসে নটিংহ্যামশায়ারের সদস্যরূপে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) বিপক্ষে খেলেন। প্রথম ইনিংসে ৮/৯১ লাভ করেন তিনি।[১] কিন্তু, তার দল ফলো-অনের কবলে পড়ে ১৯৪ রানে পিছিয়ে থাকায় তাকে আর বোলিং করতে হয়নি। এরপর, তিনি তার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় ৫/৫৮ লাভ করেন।[২] ঐ মৌসুম শেষে ২১.৮০ গড়ে ১১৫টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেন তিনি। তন্মধ্যে, দশবার ইনিংসে পাঁচ-উইকেট ও তিনবার খেলায় দশ-উইকেট পান। মৌসুমের শেষদিকে ট্রেন্ট ব্রিজে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ইনিংসে ৮/৭৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে উত্তরণ ঘটান।[৩]

যুদ্ধ পরবর্তী সময়কালসম্পাদনা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে ফ্রেড বারাটের খেলোয়াড়ী জীবন থেকে পরবর্তী চার বছর নষ্ট হয়ে যায়। ১৯১৯ সালে পুণরায় খেলা শুরু হলে উইজডেন তাদের স্মরণিকায় উল্লেখ করে যে, তিনি তার পুরনো খেলার ছন্দ ফিরিয়ে আনতে খুব ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছিলেন।[৪] যুদ্ধের পর তিনি তার পুরনো ছন্দে ফিরে পেতে ধীরলয়ে যাত্রা শুরু করেন। ১৯১৯ সালের সীমিত খেলায় অংশ নিয়ে ৫৮, ১৯২০ সালে ৬৮ ও ১৯২১ সালে ৯১ উইকেট পান।[৫] তবে, ১৯২৩ সালে ১৮.৫৪ গড়ে ১০১ উইকেট লাভ করেন। এছাড়াও, অত্যন্ত দ্রুততার সাথে রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখান।

ঐ মৌসুমগুলোয় তার ব্যাটি গড় গড়পড়তা নিম্নমুখী ছিল। ১৯১৯ সালে ইনিংস প্রতি ১৬ রান তুলেন। ১৯২০ সালের শেষদিক পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত ছিল। এ পর্যায়ে তার ব্যক্তিগত শক্তিমত্তা ও অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী লক্ষ্য করা যায়। ১৯১৯ সালে সাসেক্সের বিপক্ষে নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮২ রান তুলেন। দশম উইকেটে সংগৃহীত ৬০ রানের মধ্যে তার সঙ্গী করেছিলেন মাত্র ১১।[৬] ১৯২১ সালে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে অষ্টম উইকেটে ডজার হোয়াইসলের সাথে জুটি গড়ে ৫০ মিনিটে ১২৯ রান তুলেন। নিজে করেন ৭৯ রান। এরফলে, দলের সংগ্রহ ৬৫/৬ থেকে ২৮৬ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অপ্রত্যাশিতভাবে অর্জিত হয়।[৭][৮]

স্বর্ণালী সময়সম্পাদনা

১৯২২ সালে বোলিংয়ে সেরা ছন্দ খুঁজে পান। ১৬.৩৩ গড়ে ১০৯ উইকেট পান। এ মৌসুমেই তিনি তার সেরা বোলিং গড়ের অধিকারী হন।[৫] খেলোয়াড়ী জীবনের ইনিংসে সেরা বোলিং করেন। উইজডেন কর্তৃপক্ষ গ্ল্যামারগন দলকে অসহায়ত্বের শিকার হিসেবে উল্লেখ করে। তিনি ৮/২৬ পান ও প্রতিপক্ষকে মাত্র ৭৫ মিনিটে ৪৭ রানে গুটিয়ে দিতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন।[৯][১০] ১৯২৩ সালেও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। ১০১ উইকেট পান ও লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে দর্শনীয় ও মারমুখী ভঙ্গীমায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯২ রান তুলেন।[১১][১২]

১৯২৪ থেকে ১৯২৭ সালের মধ্যে ফ্রেড বারাটের খেলার মান কিছুটা দূর্বলমানের ছিল। তাসত্ত্বেও, নটিংহ্যামশায়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে চিত্রিত হয়েছিলেন। ১৯২৫ সালে উইজডেনে তার ধারাবাহিকতার অভাব সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।[১৩] ১৯২৪ ও ১৯২৫ সালে ২০ রানেরও কম গড়ে ৯০ উইকেট করে লাভ করেছিলেন। কিন্তু, ১৯২৬ সালে ৩২ গড়ে মাত্র ৬৬ উইকেট দখল করেন।[৫] ১৯২৭ সালে ২১.১৪ গড়ে ৭৫ উইকেট নিয়ে কিছুটা উত্তরণ ঘটান। এ পর্যায়ে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে আট উইকেট সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। ট্রেন্ট ব্রিজে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৮/৫৩ পান।[১৪] ব্যাটিংয়ের মানও সাধারণ পর্যায়ে চলে যায়। ১৯২৪, ১৯২৫ কিংবা ১৯২৬ সালের কোন মৌসুমেই পঞ্চাশ রান স্পর্শ করতে পারেননি। কেবলমাত্র ১৯২৭ সালে একবার সর্বোচ্চ ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন।[১৫]

অল-রাউন্ডারে উত্তরণসম্পাদনা

১৯২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কঠিন সময় অতিবাহিত করার পর ১৯২৮ সালে প্রকৃতমানের অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে আবির্ভূত করেন। ঐ মৌসুমেই তিনি আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন ও সকলের কাছে বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়ান। সবগুলো খেলায় অংশ নিয়ে ২৫.১৮ গড়ে ১১৪ উইকেট পান ও অপ্রত্যাশিতভাবে ২৯.১৭ গড়ে ১১৬৭ রানের ন্যায় ডাবল লাভ করেন। দ্বিগুণ গড়ের চেয়ে কম হলেও অন্য যে-কোন মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ রান তুলেন।[৫][১৫] উইজডেনে তার আকস্মিক উত্তরণের বিষয়ে বিশ্বেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বেশ ধৈর্য্য সহকারে সঠিক বলকে সঠিক জায়গায় ফেলতে দক্ষতা দেখান। বেশ দ্রুতলয়ে রান সংগ্রহে সজোরে আঘাত করতে পিছুটান ছিল না তার।[১৬]

১৯২৮ সালে ২৯.১৭ গড়ে ১,১৬৭ রান ও ২৫.১৮ গড়ে ১১৪ উইকেট পান। এরফলে, ডাবল লাভের কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৯০৬ সালে জন গানের পর প্রথম নটিংহ্যামশায়ারীয় হিসেবে এ অর্জনের সাথে স্বীয় নামকে জড়ান। সকল ধরনের বোলিংকে তুনোধুনো করে ছাড়েন। ড্রাইভের দিকে সবিশেষ দক্ষতা দেখান।

১৯২৮ সালে ফ্রেড বারাটের খেলোয়াড়ী জীবনে সংগৃহীত দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেন। প্রথমটিতে করেন অপরাজিত ১৩৯ রান। এটিই তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল। কভেন্টিতে ওয়ারউইকশায়ারের বোলারদের বিপক্ষে এ রান তুলেন। ডব্লিউ. ওয়াকারের সাথে পঁচাশি মিনিটে ১৯৬ রানের জুটি গড়েন। মাঠের সীমারেখা ছোট হওয়ায় নিজস্ব শক্তিমত্তা অনুশীলন করার সুযোগ পান। সাতটি ছক্কা ও আঠারোটি চারের মার মারেন ফ্রেড বারাট। ব্যাটিং উপযোগী পিচ ও ছোট মাঠের কারণে বেশ ঊর্ধ্বমূখী রান সংগৃহীত হয় এবং কিছু রেকর্ডের সৃষ্টি হয়। নটিংহ্যামশায়ার ৬৫৬/৩ তুলে ইনিংস ঘোষনা করে। এটিই তৎকালীন স্বল্প উইকেট পতনে বৃহৎ সংগ্রহ হিসেবে পরিগণিত হয়। অংশগ্রহণকৃত পাঁচজন ব্যাটসম্যানের মধ্যে জর্জ গান, উইলিয়াম হোয়াইসল, উইলিস ওয়াকার ও ফ্রেড বারাট - এ চারজন শতরানের ইনিংস খেলেন। বারাটকে অপ্রত্যাশিতভাবে পাঁচ নম্বরে নিয়ে আসা হয়। বারাটের ১৩৯ রানের ইনিংসে সাতটি ছক্কা ও আঠারোটি চারের মার ছিল। উইজডেনের ভাষায়, শক্তিশালী ড্রাইভের অবস্মরণীয় প্রদর্শনী ছিল।[১৭][১৮] বিশাল রান তোলা সত্ত্বেও খেলায় জয় পায়নি নটিংহ্যামশায়ার। প্রতিপক্ষীয় ওয়ারউইকশায়ার দ্বিতীয় দিনের বাদ-বাকী সময় ব্যাটিং করে এবং তৃতীয় ও চূড়ান্ত দিন বৃষ্টির কারণে খেলতে পারেনি।

দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্রেড বারাট তার দ্বিতীয় শতরানের ইনিংস খেলতে সমর্থ হন। এবার তিনি ট্রেন্ট ব্রিজে অতিথি দল গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে পঁচাশি মিনিটে ১১০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ৩০ মিনিটে অর্ধ-শতরান ও ৮৫ মিনিটে শতরান স্পর্শ করেন। উইজডেনে উল্লেখ করা হয় যে, বেশকিছু দূর্দান্ত মারের ইনিংস ছিল। পাঁচটি ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে, তার ইনিংসটি নিখুঁত ছিল না। আটবার আউট থেকে বাঁচেন। তন্মধ্যে, পাঁচবার লং ফিল্ডে রক্ষা পান।[১৯][২০]

১৯২৯ সালেও ১৯২৮ সালের খেলার ধারা অব্যাহত রাখেন। এ পর্যায়ে ১৯০৭ সালের পর নটিংহ্যামশায়ার দল প্রথমবারের মতোও কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে সক্ষমতা দেখায়। ২২.০৫ গড়ে ৮৬০ রান তুলেন তিনি। দুইবার নব্বুইয়ের কোটা স্পর্শ করলেও সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি। বেশ দ্রুতলয়ে রানগুলো আসে। উইজডেনে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি সারের বিপক্ষে ৮০ মিনিটে ৯৪ ও মিডলসেক্সের বিপক্ষে ৭৫ মিনিটে ৯০ রান তুলেন।[২১] হ্যারল্ড লারউডবিল ভোসের সাথে তার বোলিং যে-কোন কাউন্টির বোলিং আক্রমণের চেয়ে সেরা মানের ছিল। সবগুলো খেলায় অংশ নিয়ে ২১.২৪ গড়ে ১২৯ উইকেট পান।[৫][২১]

সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়ে ২৪.২৭ গড়ে ১,১২৬ উইকেট ও ১৫.২৫ গড়ে ৬,৩৪৭ রান তুলেছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ফ্রেড বারাট। ১৯২৯ সালে নিজ দেশে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক টেস্টে অংশগ্রহণের পর ১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী সিরিজের চার টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ২৭ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে অকল্যান্ডে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯২৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ইংল্যান্ড গমনে আসে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট শুরুর পূর্বে হ্যারল্ড লারউড আঘাতগ্রস্ত হলে কাউন্টি অধিনায়ক ও ইংরেজ দলনেতা আর্থার কার তার শূন্যস্থান পূরণার্থে ফ্রেড বারাটকে টেস্ট খেলার জন্যে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় ও দলে অন্তর্ভূক্ত হন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক খেলায় নিজেকে খুবই কম মেলে ধরেন। ২/৩৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন তিনি। অথচ, কম পেসের অধিকারী বোলারদের রাজত্ব ছিল। উভয় ইনিংসে তিনি একটি করে উইকেট পান। তাসত্ত্বেও, ঐ খেলায় স্বাগতিক দল ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভ করে।[২২] সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে তাকে ইংল্যান্ড দলে রাখা হয়নি। নর্দাম্পটনশায়ারের নবি ক্লার্ককে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

নিউজিল্যান্ড গমনসম্পাদনা

১৯২৯-৩০ মৌসুমের শীতকালে নতুন টেস্ট পরিবারভূক্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজনিউজিল্যান্ড সফরে এমসিসি দল দুইটি দল তৈরি করে। উভয় দলেই প্রতিষ্ঠিত টেস্ট ক্রিকেটার ‌এবং অন্যান্য কাউন্টি দলের মানসম্পন্ন শৌখিন খেলোয়াড় ছিল। কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় নিজেদেরকে পুরোপুরি বাদ রাখেন। নিউজিল্যান্ড গমনার্থে ফ্রেড বারাটকে রাখা হয়। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় কয়েকটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিলেও টেস্ট খেলেননি তিনি। উইজডেনে এ প্রসঙ্গে লেখা হয় যে, বল হাতে তার কার্যকারিতা প্রকাশের দিন আসে।[২৩]

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রত্যেকটিতে অংশ নিলেও সফলকাম হননি তিনি। ঐ সিরিজে তিনি মাত্র তিন উইকেট পেয়েছিলেন। কোন ইনিংসেই একটির বেশি উইকেট পাননি। সামগ্রিকভাবে ঐ সিরিজে তার ব্যাটিংয়ের মানও সাম্প্রতিক মানের ছিল না। ১১টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে কোন অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলতে পারেননি।[১৫]

১৯৩০ সালের শীতকালে এ. এইচ. এইচ. জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে বিদেশ গমন করেন। অস্ট্রেলিয়ায় পদার্পণ করে দুইটি খেলায় বেশ ভালোমানের খেলা উপহার দেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলায় নয়টি উইকেট ও ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ইনিংসে পাঁচ-উইকেট পান।[২৪][২৫] খেলায় ৯৩ রান খরচায় ৯ উইকেট নিয়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৩৯ রানের ব্যবধানে দলকে জয় এনে দেন। ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ১০৫ রান খরচায় ৭ উইকেট পান। ডব্লিউ. এইচ. পন্সফোর্ড ও এইচ. এল. হেনরিকে উভয় ইনিংসেই খুব সহজে আউট করেন। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে চারটি টেস্টে অংশ নিলেও তেমন ভূমিকা রাখতে পারেননি।

অবসরসম্পাদনা

১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডে সন্তুষ্টিবিহীন মৌসুম অতিবাহিত করেন বলে উইজডেনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।[২৬] তিনবার পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলে ৫০২ রান তুলেন। ১৯২৯ সালে ১২৯ উইকেট পেলেও এ মৌসুমে মাত্র ৫১ উইকেট পান। উইকেট প্রতি ২১ রানের বিপরীতে ৩১-এর অধিক রান দেন।[৫] এর কারণ হিসেবে উইজডেনে গ্রীষ্মের ভেজা পিচের প্রসঙ্গ আনলেও এ পর্যায়ে তার বয়স ছিল ৩৬ বছর। ১৯৩১ সালের পরের মৌসুমে অবনতির এ ধারা আরও অব্যাহত থাকে। ২১টি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় অংশ নিয়ে ৪১-এর অধিক গড়ে মাত্র ২৪ উইকেট দখল করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ঐ খেলাগুলোয় অংশ নিয়ে মাত্র ৩০৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।[২৭] তাসত্ত্বেও ব্যাটসম্যান হিসেবে শেষ হাসি হাসেন। কেন্টের বিপক্ষে স্যাম স্ট্যাপলসের সাথে জুটি গড়ে অর্ধ-ঘন্টায় ৮২ রান সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে, ফ্রেড বারাট পাঁচটি ছক্কায় ৭২ রান তুলেছিলেন।[২৮][২৯]

আগস্টে, চ্যাম্পিয়নশীপের শেষ খেলায় অংশ নিয়ে শক্ত ব্যাটিংয়ের অধিকারী দলে তিনি এগারো নম্বরে নামেন ও কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন।[৩০] ১৯৩১ মৌসুম শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

মূল্যায়নসম্পাদনা

উইজডেনের ভাষায়, ডানহাতি ফাস্ট-বোলার ছিলেন ফ্রেড বারাট। গতি পথ পরিবর্তন করে পেস সহযোগে বোলিং করতেন তিনি।[১৩] এছাড়াও, নিচেরসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে অতি দ্রুত লয়ে ব্যাটিং করতেন। তবে, ১৯২৮ সালের পর থেকে আকস্মিকভাবে কিছুটা নিজেকে সংযত করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন।

২৯ জানুয়ারি, ১৯৪৭ তারিখে ৫২ বছর বয়সে নটিংহামের নটিংহাম জেনারেল হাসপাতালে ফ্রেড বারাটের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "MCC v Nottinghamshire"। www.cricketarchive.com। ১৯১৪-০৫-০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৭ 
  2. "Nottinghamshire v Sussex"। www.cricketarchive.com। ১৯১৪-০৫-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৭ 
  3. "Nottinghamshire v Leicestershire"। www.cricketarchive.com। ১৯১৪-০৮-২২। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৭ 
  4. "Obituaries"। Wisden Cricketers' Almanack (1948 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 781 
  5. "First-class Bowling in each Season by Fred Barratt"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৭ 
  6. "Sussex v Nottinghamshire"। www.cricketarchive.com। ১৯১৯-০৫-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৭ 
  7. "Hampshire v Nottinghamshire"। www.cricketarchive.com। ১৯২১-০৬-২২। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৭ 
  8. "Hampshire Matches"। Wisden Cricketers' Almanack (1922 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 203 
  9. "Glamorgan v Nottinghamshire"। www.cricketarchive.com। ১৯২২-০৭-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৭ 
  10. "Glamorgan Matches"। Wisden Cricketers' Almanack (1923 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 348 
  11. "Notts Matches"। Wisden Cricketers' Almanack (1924 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 76 
  12. "Nottinghamshire v Leicestershire"। www.cricketarchive.com। ১৯২৩-০৮-১১। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৭ 
  13. "Notts Matches"। Wisden Cricketers' Almanack (1925 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 214 
  14. "Nottinghamshire v Worcestershire"। www.cricketarchive.com। ১৯২৭-০৭-২৭। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৭ 
  15. "First-class Batting and Fielding in each Season by Fred Barratt"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৭ 
  16. "Notts Matches"। Wisden Cricketers' Almanack (1929 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 149 
  17. "Warwickshire Matches"। Wisden Cricketers' Almanack (1929 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 330 
  18. "Warwickshire v Nottinghamshire"। www.cricketarchive.com। ১৯২৮-০৬-২৩। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৮ 
  19. "Notts Matches"। Wisden Cricketers' Almanack (1929 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 160 
  20. "Nottinghamshire v Glamorgan"। www.cricketarchive.com। ১৯২৮-০৭-০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৮ 
  21. "Notts Matches"। Wisden Cricketers' Almanack (1930 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 101–104। 
  22. "England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ১৯২৯-০৭-২৭। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৯ 
  23. "M.C.C. Team in New Zealand and Australia"। Wisden Cricketers' Almanack (1931 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 643 
  24. "South Australia v Marylebone Cricket Club"। www.cricketarchive.com। ১৯২৯-১১-০৮। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৯ 
  25. "Victoria v Marylebone Cricket Club"। www.cricketarchive.com। ১৯২৯-১১-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৯ 
  26. "Notts Matches"। Wisden Cricketers' Almanack (1931 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 172 
  27. "Notts Matches"। Wisden Cricketers' Almanack (1932 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 207 
  28. "Notts Matches"। Wisden Cricketers' Almanack (1932 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 199 
  29. "Nottinghamshire v Kent"। www.cricketarchive.com। ১৯৩১-০৬-২০। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৯ 
  30. "Nottinghamshire v Leicestershire"। www.cricketarchive.com। ১৯৩১-০৮-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৯ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা