জন গান

ইংরেজ ক্রিকেটার

জন রিচমন্ড গান (ইংরেজি: John Gunn; জন্ম: ১৯ জুলাই, ১৮৭৬ - মৃত্যু: ২১ আগস্ট, ১৯৬৩) নটিংহ্যামশায়ারের হাকনল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।[১] ১৯০১ থেকে ১৯০৫ সময়কালে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

জন গান
John Richmond Gunn c1904.jpg
আনুমানিক ১৯০৪ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে জন রিচমন্ড গান
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজন রিচমন্ড গান
জন্ম(১৮৭৬-০৭-১৯)১৯ জুলাই ১৮৭৬
হাকনল, নটিংহ্যামশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২১ আগস্ট ১৯৬৩(1963-08-21) (বয়স ৮৭)
বাসফোর্ড, নটিংহ্যামশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
সম্পর্কজর্জ গান (ভ্রাতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৩২)
১৩ ডিসেম্বর ১৯০১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট২৯ মে ১৯০৫ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫৩৫
রানের সংখ্যা ৮৫ ২৪৫৫৭
ব্যাটিং গড় ১০.৬২ ৩৩.১৮
১০০/৫০ -/- ৪০/১২৯
সর্বোচ্চ রান ২৪ ২৯৪
বল করেছে ৯৯৯ ৬৮২৬৯
উইকেট ১৮ ১২৪২
বোলিং গড় ২১.৫০ ২৪.৫২
ইনিংসে ৫ উইকেট ৮২
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৭
সেরা বোলিং ৫/৭৬ ৮/৬৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/- ২৪৭/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৯ মার্চ ২০১৯

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন জন গান

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

মাত্র বিশ বছর বয়সে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। পরের বছর নিজস্ব তৃতীয় প্রথম-শ্রেণীর খেলায় ফিলাডেলফিয়ানের বিপক্ষে মনোরম ১০৭ রানের ইনিংস খেলার পর ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে নিজস্ব চতুর্থ খেলায় দশ উইকেট পান। নটিংহ্যামশায়ারের দূর্বল বোলিং আক্রমণে উইলিয়াম অ্যাটওয়েলকে সহায়তায় অগ্রসর হলেও ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে খেলার পর দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। তবে, ১৮৯৮ সালে বিস্ময়করভাবে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে তার বোলিং সবকিছুকেই ছাঁপিয়ে যায়।

১৮৯৯ সালে উইলিয়াম অ্যাটওয়েলের বোলিংও দূর্বলতর হতে থাকে। ফলে জন গান নটিংহ্যামশায়ারের প্রধান বোলারে পরিণত হন। অবশ্য মৌসুমের শেষদিকে তারও বোলিং একই কাতারে চলে আসে। ১৯০০ সালে তিনি ও টমাস ওয়াসের বোলিং বেশ শক্তিশালীরূপ ধারণ করে। ১৮৯০-এর দশকে উভয়ে দূর্দান্ত খেলেন। ওভালে প্লেয়ার্সের সদস্যরূপে জেন্টলম্যানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলায় এগারো উইকেট পান। ব্যাটসম্যান হিসেবেও সম্যক ভূমিকা রাখেন। ছয়বার পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস উপহার দেন। পরের মৌসুমে প্রথমবারের মতো সহস্রাধিক রান তুলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন ৮৭ রান। এছাড়াও, বল হাতে বেশ ভালো করেন। ঐ সময়ে জন গান বামহাতি মিডিয়াম পেস বোলার হিসেবে খেলতেন। তখন তার বলগুলো অফের দিকে থেকে লেগের দিকে বাঁক খেতো। কিন্তু, পোতানো উইকেটে উইলফ্রেড রোডস, কলিন ব্লাইদ, জনি ব্রিগস কিংবা স্যাম হারগ্রিভের ন্যায় ব্যাটসম্যানের কাছে বেশ নাজেহাল হতে হতো।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ছয়টিমাত্র টেস্ট খেলার সৌভাগ্য হয় তার। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯০১ তারিখে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে জন গানের। ঘরোয়া ক্রিকেটে তেমন ভালো না খেললেও ১৯০১-০২ মৌসুমের অ্যাশেজ সফরের জন্যে ইয়র্কশায়ার কর্তৃপক্ষ উইলফ্রেড রোডসকে মানা করলে তাকে মনোনীত করা হয়।

ঐ সফরে তেমন সফলতা পাননি ও ১৯০২ সালে ব্যাট কিংবা অল্প কিছু খেলা বাদে বল হাতে তেমন সফলতা পাননি। পরের বছর তার বোলিং আরও ধীরগতিতে চলে আসে। তাসত্ত্বেও, চমৎকার মৌসুম পাড় করেন। জর্জ হার্স্টের পর দ্বিতীয় সেরা অল-রাউন্ডার ছিলেন। এ পর্যায়ে ট্রেন্ট ব্রিজে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে মনোমুগ্ধকর ২৯৪ রানে ইনিংস খেলেন। নিজস্ব তৃতীয় খেলায় সেঞ্চুরি করার পর এটিই প্রথম ছিল।

স্বর্ণালী অধ্যায়সম্পাদনা

বোলার হিসেবে দুই খেলায় সারেএসেক্সের বিপক্ষে আগস্ট ব্যাংক হলিডের সপ্তাহে ২৮ উইকেট পেয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯০৪ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন।[২] কিন্তু, পরের তিন বছর ১৯০৩ সালের ন্যায় স্বাভাবিক খেলা প্রদর্শন করতে পারেননি জন গান। তবে, ১৯০৫ সালে উপযুক্ত পিচে এসেক্সের বিপক্ষে সুন্দর বোলিংশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। ১৯০৬ সালে আবারও বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তন করেন। আরও ধীরগতিসম্পন্ন বোলিং করলেও খুব কমই সফলতা পেয়েছিলেন।

১৯০৭ সালে নটিংহ্যামশায়ারের বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু, জন গানের জন্য হীত বিপরীত ছিল। থমাস ওয়াস ও আলবার্ট হলাম কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা অধিক সময় ধরে বোলিং করতে থাকেন। ১৭ খেলায় জন গান মাত্র ২৮১ ওভার বোলিং করতে পেরেছিলেন। কেবলমাত্র এসেক্স ও সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষেই তিনি স্বাভাবিকভাবে বোলিংয়ে সক্ষম ছিলেন। ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও একই ধারা বহমান ছিল। কনিষ্ঠ ভ্রাতা জর্জ গানের ব্যাটিংয়ে তিনি ম্লান হয়ে পড়েন। সাসেক্সের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকালেও সহস্রাধিক রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি জন গান।

অবসরসম্পাদনা

অপ্রত্যাশিতভাবে ১৯০৭ সালে অনুশীলনীর ঘাটতি থাকায় পরের দুই বছরেও এর প্রভাব পড়ে। অধিকন্তু, ১৯০৯ সালে অনিয়মিত বোলারে পরিণত হন। ১৯০৮ সালে ৪০ গড়ে মাত্র ৪২ উইকেট পান। ১৯০৯ সালে ব্যাটিংয়েও একই ধারা চলে আসে। ১৯১১ সালের গ্রীষ্মের দহনে ব্যাটসম্যান হিসেবে ছন্দে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেন। কিন্তু, খুব কমই বোলিং করতে তাকে দেখা যেতো ও বেশ ব্যয়বহুল ছিল। তাসত্ত্বেও, ১৯২০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত দলের প্রধান শক্তি ছিলেন। ১৯১১, ১৯১৩, ১৯১৪, ১৯১৯ ও ১৯২০ সালে ৪০ ঊর্ধ্ব গড়ে ব্যাটিং করেন। এ সময়ে দলের অসাধারণ ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছিলেন জন গান। কিন্তু, ১৯২৫ সালে কয়েকটি খেলায় অংশগ্রহণের পর জন গানকে নটিংহ্যামশায়ার দলের বাইরে রাখা হয়। এরপর ১৯৩২ সালে ছাপ্পান্ন বছর বয়সে স্যার জুলিয়ান কান একাদশের বিপক্ষে একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

তৎকালীন সময়ের জনপ্রিয় ব্যাটসম্যান উইলিয়াম গানের ভ্রাতৃস্পুত্র ছিলেন তিনি। এছাড়াও, কনিষ্ঠ ভ্রাতা জর্জ গান ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২১ আগস্ট, ১৯৬৩ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের বাসফোর্ড এলাকায় ৮৭ বছর বয়সে জন গানের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. [১] ESPNcricinfo, ESPN, সংগ্রহের তারিখ: ২১ নভেম্বর, ২০১৮
  2. "Wisden's Five Cricketers of the Year"ESPNcricinfoESPN। ২৩ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৫ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা